বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5]     এই পাতায় আছে103--133


           বিষয় : দেশভাগঃ ফিরে দেখা(দ্বিতীয় পর্ব)
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :I
          IP Address : 57.15.9.41 (*)          Date:26 Oct 2017 -- 10:02 PM




Name:  pi          

IP Address : 2345.110.674512.224 (*)          Date:15 Aug 2018 -- 07:51 AM

সেসময় মেয়েদের ভোটাধিকার পাওয়া নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত হবে? এর জন্য চাপ ছিল কিনা, থাকলে কাদের থেকে? ইন্গ্ল্যান্ডে ত অরো অনেক আগে এসে গে্ঘিল, এখানে এনিয়েও দেরি কেন?


Name:  I          

IP Address : 7845.15.457812.91 (*)          Date:15 Aug 2018 -- 12:33 PM

The Women's Indian Association founded by Margaret Cousins and her colleagues in 1917 demanded women's franchise and eligibility to the legislature on the same basis as men. The WIA launched a vigorous campaign and was supported by the Indian National Congress and the Muslim League. The Montagu-Chelmsford Reforms left the question of women's suffrage to be decided by the provincial legislatures. Madras was the first province to grant votes to women and between 1921 and 1930 one by one the provinces extended the franchise to women and allowed them to stand as legisalative candidates.

In the years 1928–1937, there were debates on the terms under which women's franchise should be expanded. The British Government supported reservation of seats for women, separate electorates and continued but expanded franchise qualifications. Most of the leaders of the women's movement opposed separate electorates and reservation of seats for women and demanded adult franchise.

The demand of the women's movement for equal political rights and women's active participation in the freedom struggle led the Indian National Congress at its Karachi session in 1931 to pledge gender equality before the law and universal adult franchise. This pledge was honoured in the Constitution of free India.




Name:  I          

IP Address : 7845.15.015612.160 (*)          Date:15 Aug 2018 -- 12:36 PM

http://journals.sagepub.com/home/ihr


Name:  I          

IP Address : 7845.15.2345.192 (*)          Date:19 Aug 2018 -- 02:17 AM

১৯৩৪ সালে কংগ্রেসের মধ্যে সোশ্যালিস্ট ও অন্যান্য বামপন্থীরা মিলিত হয়ে 'কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি' গঠন করেন। নেহরু কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে এই গোষ্ঠীতে যোগদান করেন নি, তবে এঁদের মতাদর্শের প্রতি নেহরুর সমর্থন ছিল। '৩৭ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জয়ী হলে সরকার গঠন-এই ইস্যুতে কংগ্রেসে দ্বিমত দেখা দেয়। নেহরু ও সোশ্যালিষ্টরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের হাতের পুতুল হয়ে মন্ত্রীসভায় যোগ দিতে চান নি। কিন্তু গান্ধির আশীর্বাদপুষ্ট বল্লভভাই প্যাটেল ও রাজেন্দ্রপ্রসাদ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লাইন-কে জিতিয়ে আনেন। তা না না করে আটটি প্রদেশে কংগ্রেস সরকারেও আসে, এমন কি আসামে পর্যন্ত , যেখানে তারা একক বৃহত্তম দল হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি গিয়ে উঠতে পারে নি। নির্বাচনী ফলাফলের অঙ্ক একইরকম হওয়া সত্তেও বাংলা যে কেন বাদ গেল তা আগেই বলেছি।

'৩৭ থেকে '৩৯ ভারতের ইতিহাসে অপেক্ষাকৃত শান্তির সময়। '৩৯ সালে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতেই অবশ্য পরিস্থিতি পাল্টে গেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ না ঘটলে গোটা পৃথিবীর মতই ভারতেও রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা খাতে বইতে পারত। হয়তো দেশভাগ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হত। ইয়ান ট্যালবটের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও '৩৭-'৩৯ এর মধ্যে মুসলিম-মাইনরিটি প্রদেশে মুসলিমদের মধ্যে কংগ্রেসশাসনের অভিজ্ঞতা -এই ঘটনাদ্বয় এবং জিন্নার এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা-এইসব না হলে পাকিস্তান তৈরী হত না। (1)

নির্বাচনে অভুতপূর্ব সাফল্য কংগ্রেসের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ১৯৩৭ সালে নেহরু দলের পক্ষ থেকে কে. এম আশরফের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন ভারতীয় মুসলিমদের সঙ্গে কংগ্রেসের জনসংযোগ বাড়ানোর। সে সব পরিকল্পনা অচিরেই পরিত্যক্ত হল। ভারতীয় মুসলিমদের টেকন ফর গ্রান্টেড ধরে নেওয়া হল। নেহরু বিশ্বাসই করতেন না অর্থনৈতিক ইস্যু ছাড়া আর কোনো ইস্যু , বিশেষতঃ ধর্মীয় ইস্যু ভারতীয় জনমনে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারে। যদিও '৩৭ সালে মুসলিমদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে ভেবে 'বন্দে মাতরম' গানটির শেষ কয়েকটি স্তবক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। (2) তবে কংগ্রেসের ভেতরকার হিন্দুত্ববাদী নেতারা মুসলিমদের এতটা মাথায় তোলার পক্ষপাতী ছিলেন না।

জিন্না এদিকে হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন না। মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচার শুরু হল কংগ্রেসের 'হিন্দু পক্ষপাত' নিয়ে। যুক্ত প্রদেশে গো-সংরক্ষণ, উর্দুর পরিবর্তে হিন্দিকে সরকারী ভাষা হিসেবে চালু করা -এই ইস্যুগুলি লিগের প্রচারে আরো ধুয়ো দিল। ১৯৩৮ সালে লিগ 'পীরপুর কমিটি' গঠন করল মুসলিমদের ওপর কংগ্রেস শাসনের 'অত্যাচার' খতিয়ে দেখবার জন্য। বিহারেও এক বছর পরে অনুরূপ একটি কমিটি (শরিফ কমিটি)তৈরী হল। সে সব কমিটির রিপোর্টে কংগ্রেসী 'অত্যাচার'কে প্রবল ফুলিয়েফাঁপিয়ে দেখানো হল। সত্যি-মিথ্যা'র এই অপূর্ব ককটেল কিন্তু মুসলিম জনমানসে বেশ প্রভাব ফেলেছিল।(3)

১৯৩৮ সালেই জিন্না তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ব্রাবোর্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করবার আশ্বাস দিলেন। বিনিময়ে সরকারকে মুসলিম লিগকেই ভারতীয় মুসলিমদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু '৩৭ সালের নির্বাচনে মুসলিম লিগের এমনই দুরবস্থা হয়েছে, যে তাদের আর গ্রাহ্যের মধ্যে না আনলেও চলে। ব্রাবোর্ণ জিন্নাকে পাত্তা দিলেন না। ব্রিটিশ প্রশাসনের নেকনজরে আসবার জন্য জিন্নাকে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। (4)

স্বল্পমেয়াদী এই শান্তি অবশ্যই ছিল ঝড় উঠবার আগের আপাত শান্তি। মুসলিম মৌলবাদীদের সঙ্গে হিন্দু মৌলবাদীদের আস্ফালনও তাল দিয়ে বেড়ে উঠছিল। ১৯৩৭ সালে সাভারকর তাঁর নিজস্ব দ্বিজাতিতত্ত নিয়ে হাজির হবেন (আগেই উল্লিখিত)। এক বছর পরে চরমপন্থার দিকে আরো এগিয়ে গিয়ে তিনি ঘোষণা করবেন : “the Hindus are the nation in India – in Hindusthan, and the Moslem minority a community." (5)

এই সেই সময় যখন কংগ্রেসের সঙ্গে ভারতীয় পুঁজিবাদীদের মধুচন্দ্রিমা শুরু হবে। স্বভাবতই দু বছরের এই কংগ্রেসী শাসনকালে কৃষক-মজুর ও দলিতদের মধ্যে কংগ্রেসের প্রতি বিরুদ্ধতা বাড়তে থাকবে। বামপন্থী আন্দোলন জনপ্রিয় হতে শুরু করে। বম্বে, যুক্ত প্রদেশ ও বাংলায় জঙ্গী শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়। কংগ্রেস সরকারগুলি ক্রমশঃই শ্রমিক-বিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করে। ১৯৩৮ সালে বম্বে সরকার ধর্মঘট ও লক-আউট বন্ধ করবার উদ্দেশ্যে 'ট্রেডার্স ডিসপুট অ্যাক্ট' বিলটি পেশ করে। শ্রমিকরা এর বিরোধিতায় রাস্তায় নেমে আসেন। সুভাষ চন্দ্র বসু পর্যন্ত দলীয় লাইনের বিপক্ষে গিয়ে শ্রমিকদের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করেন।
(6)

এই সেই সময় যখন গান্ধি ও সুভাষের মধ্যে তিক্ত ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। চরমপন্থী সুভাষকে গান্ধি কখনোই তেমন পছন্দ করতেন না। ১৯৩৯ সালে গান্ধি-মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে হারিয়ে সুভাষ কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন (গান্ধির প্রথম পছন্দ ছিলেন নেহরু, কিন্তু নেহরু রাজী হন নি। তিনি মৌলানা আজাদের নাম প্রস্তাব করেন, যদিও আজাদ প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন।) কিন্তু সুভাষের পথ ছিল কাঁটা- বিছানো। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে তখনো গান্ধির সমর্থকরাই দলে ভারী। পদে পদে খটাখটি লাগতে থাকায় সুভাষ অবশেষে ১৯৩৯ এর মে মাসে পদত্যাগ করেন। তার ২ বছর পরেই তাঁর 'মহানিষ্ক্রমণ'-ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কাবুল ও মস্কো হয়ে জার্মানি পৌঁছনো।

Notes
1.Ian Talbot and Gurharpal Singh, The Partition of India,Cambridge University Press, p.32
2.http://www.historydiscussion.net/essay/indian-polity-1939-1945-during-the-period-of-second-world-war/2089.
3.Ian Talbot and Gurharpal Singh, The Partition of India,Cambridge University Press, p.33.
4. Tunzelmann, Indian Summer, Pocket Books, ed. 2008, pp.104.
5. https://thewire.in/history/a-short-history-of-the-rss-and-bjps-double-
standard-on-sedition.

6.https://www.marxists.org/history/international/comintern/sections/britain/periodicals/labour_monthly/1939/01/x01.htm








Name:  I          

IP Address : 7845.15.453412.151 (*)          Date:26 Aug 2018 -- 02:09 AM

১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। ৩রা সেপ্টেম্বর ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। সেই দিনই রাত সাড়ে আটটার সময় ভারতের ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো তাঁর সিমলার গভর্নর হাউস থেকে অল ইণ্ডিয়া রেডিও'র মাধ্যমে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন এবং যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা জারি করলেন। এই ঘোষণাটি ছিল সম্পূর্ণই একতরফা, কারণ লিনলিথগো এই ঘোষণার আগে ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন মনে করেন নি। পক্ষান্তরে অন্য চারটি ব্রিটিশ কলোনি -অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড , কানাডা ও দক্ষিন আফ্রিকায় কিন্তু নিজ নিজ পার্লামেন্টে আলোচনা ও সম্মতি আদায়ের পরেই সেসব দেশের ব্রিটিশ প্রশাসন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। স্বভাবতঃই জাতীয় নেতারা এতে অপমানিত বোধ করেছিলেন। পরের দিন, অর্থাৎ ৪ঠা সেপ্টেম্বর লিনলিথগো জিন্না ও গান্ধিকে ডেকে পাঠালেন তাঁদের প্রতিক্রিয়া যাচাই করবার জন্য। জিন্না ব্রিটেনকে সাহায্য করবার জন্য মুখিয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁর কিছু শর্ত ছিল। তাদের মধ্যে প্রধান শর্তটিই হল মুসলিম লিগকে ভারতের মুসলিমদের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতা হস্তান্তর অথবা সংবিধান প্রণয়নের মত ইস্যুতে মুসলিম লিগের সম্মতি ছাড়া এগোনো চলবে না।

পক্ষান্তরে গান্ধি নীতিগতভাবে বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনকে সাহায্য করতে রাজি ছিলেন, যদিও অহিংসায় বিশ্বাসী 'মহাত্মা' ইতিমধ্যে ব্রিটিশপক্ষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকেই বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন-'Let them take possession of your beautiful island.... allow yourself,man , woman and child, to be slaughtered,but you will refuse to owe allegiance to them.'(1) কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারাও নীতিগতভাবে রাজিই ছিলেন, বিশেষতঃ জওহরলাল নেহরু , যিনি ফ্যাসিবাদকে ভারতবর্ষ তথা গোটা বিশ্বের পয়লা নম্বর শত্রু বলে ভাবতেন ['Hitler and Japan must go to hell.. I shall fight them to the end...'] (2) কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় সৈনিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ভারতের লবডঙ্কা প্রাপ্তির তিক্ত অভিজ্ঞতা তাঁরা ভোলেন নি। জাতীয় কংগ্রেস সবিস্ময়ে জানতে চাইল একটি অগণতান্ত্রিকভাবে শাসিত পরাধীন জাতি কিভাবে বিশ্বের 'গণতন্ত্র রক্ষা'র লড়াইয়ে সামিল হতে পারে। ১৪ই সেপ্টেম্বর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ব্রিটিশ-যুদ্ধে ভারতের অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে অবিলম্বে ভারতরাষ্ট্রের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী জানালেন।

মাসাধিককাল পরে ১৮ই অক্টোবর লিনলিথগো তাঁর প্রতিক্রিয়া জানালেন। কংগ্রেসকে একটি 'হিন্দু' সংগঠন বলে বর্ণনা করে তিনি পক্ষান্তরে মুসলিম লিগকে মুসলিমদের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে মেনেই নিলেন।(3) . জানালেন, পূর্ণ স্বাধীনতা দূরস্থান, ব্রিটিশ সরকার ভারতকে বড়জোর ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস-এর মর্যাদা দিতে পারে, এবং তা-ও নিকট ভবিষ্যতে নয়। জিন্না ও মুসলিম লিগের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ভালোই এগিয়েছিল। ৪ঠা সেপ্টেম্বরই লিগ নেতা মহম্মদ জাফরুল্লা খান যুদ্ধে ব্রিটিশপক্ষকে সাহায্য করবার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছিলেন। পাঞ্জাব, বাংলা ও সিন্ধের অকংগ্রেসী প্রাদেশিক সরকারগুলিও পিছিয়ে ছিল না।(4) মুসলিম লিগ, পাঞ্জাবের ইউনিয়নিস্ট নেতারা ও ভারতীয় রাজাদের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে লিনলিথগো কংগ্রেসকে আমল না দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। বিশেষ করে স্বাধীন ভারতের দাবী মঞ্জুর করা তখন লন্ডন ও নয়া দিল্লি উভয়ের কাছেই বিপজ্জনক ঠেকছিল, কেননা জাপান ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে এবং নতুন ভারত সরকার তৈরী হলে তারা যে জাপানী পক্ষ নেবে না, সে বিষয়ে ব্রিটেন মোটেও নিশ্চিত ছিল না।

লিনলিথগো মুসলিম লিগকে আশ্বস্ত করে জানালেন-"It was unthinkable that we should proceed to plan afresh, or to modify in any respect any important part of India's constitution without again taking counsel with those who have in the recent past been so closely associated on alike task with His majesty's Government.(5)। জিন্নার আশা অবশেষে পূর্ণ হল, লিগ ও কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারের কাছে সমান মর্যাদা পেল। লিনলিথগো পরে বলবেন, সেসময় কংগ্রেসের দাবীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জিন্না তাঁকে প্রভূত সাহায্য করেছিলেন এবং সেজন্য তিনি জিন্নার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন। (6). পরের বছর অগাস্ট মাসে জিন্নাকে আরো খুশী করে লিনলিথগো পরিষ্কার জানিয়ে দেবেন, ব্রিটেন এমন কারো হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না, যাদের কর্তৃত্ব ভারতের 'large and powerful elements' (পড়ুন মুসলিম লিগ) মেনে নেবে না।(7)

ভাইসরয়ের জবাবে অসন্তুষ্ট কংগ্রেস প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় আইনসভা থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিল। ২২শে ডিসেম্বর পদত্যাগের দিন চূড়ান্ত হল। গান্ধি অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধী ছিলেন, কেননা তাঁর মনে হয়েছিল এতে ব্রিটিশ সরকার ও মুসলিম লিগের সুবিধে করে দেওয়া হবে ।(8) অনেকের মতে লিনলিথগো ইচ্ছাকৃতভাবেই কংগ্রেস নেতৃবৃন্দকে অপমান করেছিলেন এবং তাঁর গোপন অভিসন্ধি ছিল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করা; স্বভাবতঃই তিনি বেশ খুশী হলেন। (9)

বলাই বাহুল্য , সব চেয়ে বেশী খুশী হলেন জিন্না। ২২শে ডিসেম্বরকে তিনি (কংগ্রেসের অপশাসন থেকে) 'মুক্তি দিবস' (Day of Deliverence) হিসাবে পালন করবার ডাক দিলেন ভারতীয় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে। আবুল কালাম আজাদ এর তীব্র সমালোচনা করলেন। গান্ধি এবং নেহরু জিন্নাকে অনুরোধ জানালেন সাম্প্রদায়িকতায় ইন্ধন না জুগিয়ে আলোচনার টেবিলে এসে কংগ্রেসের মুসলিম বিরোধিতার ইস্যুটি কেস বাই কেস খতিয়ে দেখতে। জিন্না অটল রইলেন।

এরপর এল ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে মুসলিম লিগের সেই বিখ্যাত অধিবেশন, যেখানে জিন্না তাঁর দ্বিজাতিতত্ত ও পাকিস্তান-এর দাবী ঘোষণা করবেন। আয়েষা জালাল ( এবং আরো কেউ কেউ) অবশ্য মনে করেন, জিন্নার এই পাকিস্তান-এর দাবী ছিল নিছকই একটি 'বার্গেনিং কাউন্টার'। মনে রাখতে হবে মুসলিম লিগ এর জন্ম ও তার মূল ভিত্তি ছিল মুসলিম-মাইনরিটি এলাকাগুলিতে ( মূলতঃ যুক্ত প্রদেশ)। হঠাৎ করে মুসলিম মেজরিটি প্রদেশগুলি নিয়ে পাকিস্তান গঠনের পরিকল্পনা হত মুসলিম লিগের রাজনৈতিক জন্মভূমি ও তার মানুষদের প্রতি বিশ্বাসঘাত।দ্শ কোটি মুসলমানের 'একমাত্র প্রতিনিধি' মুসলিম লিগ কেনই বা পাকিস্তানের বাইরের বিশাল সংখ্যক মুসলিমদের (বম্বে, যুক্ত প্রদেশ, বিহার ইত্যাদি এলাকার) ওপর তাদের দাবী ছেড়ে দিতে যাবে? আসলেই কি জিন্না কায়মনোবাক্যে পাকিস্তান চেয়েছিলেন? বিশেষ করে যেখানে লাহোর প্রস্তাবের কয়েক মাস আগেই তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ভারতের ভবিষ্যত যে সংবিধান রচিত হতে চলেছে, তাতে যেন উভয় নেশনেরই (হিন্দু ও মুসলিম) সরকারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় ('.... two nations who must share the governance of their common mothreland')(10) সম্ভবতঃ জিন্নার লক্ষ্য ছিল এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম জনগণকে এক তাঁবুর তলায় সংঘবদ্ধ করা; মুসলিম লিগকে এমন একটি উচ্চ্তায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে ভবিষ্যতে ব্রিটিশ রাজ অথবা কংগ্রেস কেউই লিগকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না।আসলেই তিনি চেয়েছিলেন একটি ফেডারেল ভারতীয় কনফেডারেশন, যেখানে কেন্দ্রীয় আইনসভায় মুসলিম লিগের যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এবং মুসলিম-মেজরিটি প্রদেশগুলিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিনিময়ে তিনি মুসলিম -মাইনরিটি প্রদেশগুলিতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। জিন্নার কাছের মানুষ লিগ নেতা চুন্দ্রিগর, রিফর্মস কমিশনার হডসনকে ১৯৪০-এর এপ্রিল মাসে বলবেন লাহোর প্রস্তাবের উদ্দেশ্য আসলে ভারতকে বিভক্ত করা নয়, স্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের একটি বিকল্প ব্যবস্থা তুলে ধরা, যেখানে সংখ্যালঘুদেরও যথেষ্ট ক্ষমতা থাকবে। পরের বছর নভেম্বর মাসে জিন্না স্বয়ং তাঁর অনুগত নবাব মহম্মদ ইসমাইল খানকে একটি চিঠি লিখে জানাবেন, এই সব কথা তিনি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চান না, কেননা বর্তমান পরিস্থিতিতে লোকে ভুল বুঝবে; এবং আশা প্রকাশ করেন যে হডসন ঠিকই বুঝবেন জিন্না আসলে কী চাইছেন। (11)।

অর্থাৎ জিন্না একটি বিপজ্জনক খেলা খেলছিলেন। তিনি জানতেন, তিনি মুখে যা চাইছেন(অর্থাৎ দেশভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টি), কংগ্রেস কিছুতেই তাতে সম্মত হবে না। তখন তিনি আস্তিন থেকে তাঁর আসল তাস বের করবেন-ফেডারেল ভারতে একটি শক্তিশালী মুসলিম ক্ষমতা-কেন্দ্রের দাবী। কিন্তু এখানেই জিন্নার চালে ভুল হয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস যে দেশভাগ মেনে নেবে তা তিনি ভাবতে পারেন নি।
ব্রিটিশদের কাছেও জিন্নার গেম-প্ল্যানটি দুর্বোধ্য ছিল না।১৯৪৭ সালের ২৮শে মার্চ ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল ব্রিটিশ ক্যাবিনেটকে জানাবেন-'...although he [Jinnah] would continue to press for pakistan in the widest sense, he no doubt recognized that there was no chance of securing this.' শুধু এই বলেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না ওয়াভেল; এর বিপদের দিকটিও তিনি জানাচ্ছেন- যে, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে 'where it was impossible for him to go back on his public statement.' (12)

জিন্না খুব সম্ভবতঃ ১৯৩৯ সালে প্যালেস্টাইন নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্রটি পড়ে উজ্জীবিত হয়েছিলেন (বলে রাখা দরকার, প্যালেস্টাইনের ঘটনাক্রম সম্বন্ধে
তৎকালীন ভারতীয় নেতারা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন)। লন্ডনে আরব-ইহুদী আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার এই শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করে। ব্রিটেন জানায় আগামী দশ বছরের মধ্যে একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য, যেখানে আরব ও ইহুদী উভয়পক্ষই সরকারে অংশগ্রহণ করবে এবং উভয়েরই স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। বার্নি স্পানারের মতে ,এমনটা হওয়া খুবই সম্ভব যে হিন্দু-মুসলিম সমস্যার সমাধানে উৎসুক জিন্নার মনে প্যালেস্টাইন-এর প্রস্তাবিত সমাধানটি বেশ মনে ধরেছিল। (13)

Notes
1.Alex Von Tunzelmann, Indian Summer, Pocket books,2008 ed, pp.107.
2.Ibid,pp. 109.
3.Talbot,pp.34
4.Out Break of the Second World War and Attitude of the All India Muslim League-Parveen Usmani,www.iosrjournals.org.
5.Burney White Spunner, Partition,Simon and Schuster UK Ltd. ed. 2017, pp.93
6.Ibid,pp. 93
7.H. V. Hodson, The Great Divide: Britain-India-Pakistan (London, Hutchinson,1969),pp.84-5
8.Wolpert, Stanley (2001). Gandhi's Passion: The Life and Legacy of Mahatma Gandhi. Oxford University Press. pp. 192–193. ISBN 0-19-515634-X. Retrieved 2007-12-04.
9.Bandhyopadhyay, Sekhara (2004). From Plassey to Partition: A History of Modern India. India: Orient Longman. p. 412. ISBN 81-250-2596-0. Retrieved 2007-12-04.
10.Jalal, p.57.
11.https://www.frontline.in/static/html/fl1826/18260810.htm- A. G. Noorani, The Partition of India
12.White-Spunner, Partition,pp. 94
13.Ibid, pp. 95












Name:   সিকি           

IP Address : 670112.215.1245.234 (*)          Date:26 Aug 2018 -- 02:10 PM

পড়ছি।


Name:  গবু          

IP Address : 2345.110.894512.133 (*)          Date:26 Aug 2018 -- 06:40 PM

ছোট কিস্তি হলেও, এলো তো। পড়ছি।

এবং লেখার সঙ্গে সঙ্গে রেফারেন্স দেওয়া খুব ভালো লাগছে।


Name:  I          

IP Address : 7845.15.122312.3 (*)          Date:26 Aug 2018 -- 09:20 PM

দাঁড়ান, ১৮ তারিখের পর থেকে হাত খুলে লিখবো। মানে , সেই বাসনা মনে আছে আর কি।তারপর বাকিটা ভগমানের লীলা।


Name:  সিকি          

IP Address : 894512.168.0145.123 (*)          Date:27 Aug 2018 -- 09:13 AM

এইখানে, ইন্দোদাদা, একটু লেম্যানের মতন করে বুঝিয়ে দেবে, পূর্ণ স্বরাজ বা স্বাধীনতা আর ডমিনিয়ন স্টেটাসের মধ্যে তফাৎ কী কী? মানে একটা ইংরেজি আর একটা বাংলা ফ্রেজের মধ্যে তুলনা করা একটু সমস্যা হচ্ছে।


Name:  b          

IP Address : 562312.20.2389.164 (*)          Date:27 Aug 2018 -- 09:26 AM

পূর্ণ স্বরাজঃ এখনকার অবস্তা।
ডমিনিয়নঃ যেমতি কানাডা/অস্ট্রেলিয়া/ নিউ জিল্যান্ড ১৯০০দশকের শেষে।
রাণীকে নমো করে, নিজেদের ইলেকশন করে নিজেরা নিজেদের পলিসি ফলো করা। রাণীর প্রতিনিধি হিসেবে গবর্ণর জেনেরাল থাকবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অবশ্য রাণীভক্তি কমে গেছে।


Name:  I          

IP Address : 7845.15.3423.93 (*)          Date:27 Aug 2018 -- 01:42 PM

একদম। অটোনমাস সরকার থাকবে কিন্তু রাণীর প্রজা হয়ে থাকতে হবে। ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল সরকারের মাথার ওপর থাকবেন।কিন্তু তাঁর ক্ষমতা কী হবে সেকথা পষ্টো করে কোথাও বলা নেই।


Name:  I          

IP Address : 7845.15.90078.1 (*)          Date:27 Aug 2018 -- 01:49 PM

অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে এখনো ব্রিটেনের রাণী মনোনীত করেন।অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীই তাঁকে সিলেক্ট করেন। কিন্তু খাতায় কলমে তিনি রাণীর প্রতিনিধি।১৯৭৫ সালে সেসময়কার গভর্নর জেনারেল অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ডিজল্ভ করে দিয়েছিলেন।


Name:  সিকি          

IP Address : 894512.168.0145.123 (*)          Date:27 Aug 2018 -- 04:13 PM

ওকে। বুঝিনু।


Name:  অর্জুন অভিষেক           

IP Address : 341212.21.0178.43 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 01:09 AM


এই আলোচনার প্রেক্ষিতে কিছু সামান্য সংযোজন। মাউন্টব্যাটেনের আগে ভাইসরয় ছিলেন ভিসকাউন্ট ওয়াভেল। ওয়াভেলের সঙ্গে কংগ্রেস দলের সম্পর্ক ছিল খারাপ। তিনি গান্ধী ও নেহেরুকে পছন্দ করতেন এবং তার অনেক কাছের ছিল মহম্মদ আলী জিন্না এবং মুসলিম লিগ। এই নিয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলির সঙ্গে তার সমস্যা শুরু হয়। ওয়াভেল পদত্যাগ করবেন বলে সিধান্তে আসছিলেন এবং ঠিক তখনই তাকে অ্যাটলি সরিয়ে দিয়ে বর্মা মাউন্টব্যাটেনকে নিয়ে আসেন।

দেশভাগ যখন অবধারিত তখন মাউন্টব্যাটেন জিন্নাকে জানান যে পঞ্জাব ও বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা যাবেনা। উত্তরে জিন্না বলে ওঠেন ' আপনি এ দেশে নতুন এসেছেন, আপনি জানেন না, বুঝছেন না, পঞ্জাব ও বাংলা দুটি জাতের নাম। একজন আগে পঞ্জাবী ও বাঙালী, তারপর হিন্দু বা মুসলমান।'

জিন্নার মতে ছিল দেশভাবে যদি বাংলা ও পঞ্জাব পাকিস্তানে পরে তাহলে দুটিতে ভাগ না করে সম্পূর্ণ যেন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নইলে ভয়াবহ রক্তপাত ও chaos অবশ্যম্ভাবি।

মাউন্টব্যাটেন জিন্নাকে জানিয়েছিলেন ' ইউ আর রাইট। একজন মানুষ হিন্দু বা মুসলমান হবার আগে শুধু সে পঞ্জাবী বা বাঙালিই নয়, সে সবার আগে ভারতীয়। আপনি নিজে যে যুক্তি দিলেন তাতে ত ভারতেকে অখণ্ড রাখার পক্ষেই যুক্তি।'

অকাট্য যুক্তি।

দুঁদে ব্যারিস্টার জিন্নাও চুপ মেরে যান ও মিনমিন করে বলে ওঠেন ' তার মানে আপনি আমায় পোকায় খাওয়া পাকিস্তান দেবেনই।'


মাউন্টব্যাটেনে জানান ' আমি আপনাকে পোকায় খাওয়া পাকিস্তান নিতে বলছি না একবারও। আমি তো ভারত অখণ্ড রাখতেই বলছি।'







Name:  অর্জুন অভিষেক           

IP Address : 341212.21.0178.43 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 01:55 AM


I র তথ্যসমৃদ্ধ বিশ্লেষণী লেখাটা খুবই ভাল লাগছে।

কিন্তু এখানে হয়ত কিছু বলতে ইচ্ছে করছে।

I র 19 august এর লেখায় 'জিন্না এদিকে হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন না। মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচার শুরু হল কংগ্রেসের 'হিন্দু পক্ষপাত' নিয়ে।'

ব্যাপার হল মুসলিম লীগ ও জিন্না synonymous হয়ে গেছিল। ১৯০৬ থেকে '৪৭ পর্যন্ত জিন্না ছাড়া আর কোনো নেতা কোনোরকম প্রভাব ফেলতে পারেনি। মাঝে মাঝে দু একটা নাম উঠে এসেছে মাত্র।

তাই মাউন্টব্যাটনের দেওয়া 'পোকায় কাটা' পাকিস্তানেই তাকে শেষমেশ রাজী হতেই হয়। আর এটা বোধহয় এখন সবাই জানে যে জিন্না ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তার ইংল্যান্ডের চিকিৎসক তাকে জানিয়ে দিয়েছিল যে তার আয়ু খুব বেশী হলে আর ৭-৮ মাস। তাই ভিতরে পাকিস্তান নিয়ে তার অস্থিরতাও প্রবল ছিল। তিনি যদি এটা বাস্তবায়িত করে না যেতে পারেন তাহলে মুসলীম লিগের কাছে 'পাকিস্তান' স্বপ্নই থাকে যাবে। মুসলীগের নেতাদের জিন্না নিজেও বিশেষ ধর্তব্যের মধ্যে ফেলতেন না।

লিয়াকত আলী খান জিন্নার উপস্থিতিতে চেয়ারে হেলান দিয়েও বসতে সাহস করতেন না, আর জিন্নার কোনো প্রশ্নের উত্তর বা কথার সায়ে দিতে বলে উঠতেন ' ইয়েস, কায়েদ-ই-আজম'।

তার এই একমেবাদ্বিতীয়ম ইমেজ সম্পর্কে খুব সচেতন ছিলেন।

এই বিষয়ে একটা গল্প আছে। এক মুসলিম যুবক জিন্নার কাছে চাকরীর সাহায্য চাইতে গিয়ে বলে যে সে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় জিন্নাকে সাহায্য করেছিল। উত্তরে জিন্না তাকে জানান, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় তাকে সাহাজ্য করেছে এমন তার নিজেরই জানা নেই। তিনি একটি টাইপ রাইটারের সাহায্যে তার পাকিস্তান দাবী বাস্তবে পরিণত করেছেন।




Name:  .          

IP Address : 342312.242.234523.16 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 10:22 AM

শেষ দুটি লেখাই হোয়াট্স্যাপের তাই সত্যতা জানা নেই।I এর লেখার মান আলাদা।


Name:  Tim          

IP Address : 89900.228.0167.253 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 11:24 AM

এগুলো হোয়াটস্যাপের ?

যাই হোক, এই শেষ দুটো পোস্টে যেসব স্টেটমেন্ট (বা অ্যানেকডোট) আছে সেগুলোর রেফারেন্স কী?


Name:  I          

IP Address : 7845.15.013412.209 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 01:30 PM

যদ্দুর জানি জিন্না টিবিতে ভুগছিলেন।ক্যান্সার নয়।



Name:  অর্জুন অভিষেক           

IP Address : 127812.79.56900.202 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 01:35 PM


@. ওয়াটসঅ্যাপ থেকে নয়। আমি ওয়াটসঅ্যাপের ফরওয়ার্ড পড়িনা, কোনো আলোচনায় এসব include করা ত কল্পনার বাইরে।

আমার দুটি পোস্টের সোর্স হল বিশিষ্ট সাংবাদিক শংকর ঘোষের 'হস্তান্তর' বইয়ের প্রথম খণ্ড। আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত।

শংকর ঘোষের এই লেখা 'দেশ' পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে ১৯৯৮- ২০০০ অবদি প্রকাশিত হয়েছিল।

মোট তিনটে খণ্ড।

দুটো খণ্ড আমার সংগ্রহে আছে।

রেফারেন্স হিসেবে প্রথম খণ্ডের পাতাও উল্লেখ করে দিলাম।

১৫- ২০


Name:  অর্জুন অভিষেক           

IP Address : 127812.79.56900.202 (*)          Date:29 Aug 2018 -- 01:41 PM


. বই তিনটে পড়ে দেখবেন।

typos প্রথম পোস্টে ৩য় বাক্যে হবে 'তিনি গান্ধী ও নেহেরুকে পছন্দ করতেন না'

এবং ৪র্থ 'বর্মা থেকে মাউন্টব্যাটেনকে নিয়ে আসেন।'



Name:  I          

IP Address : 7845.15.124512.58 (*)          Date:02 Sep 2018 -- 01:55 AM

১৯৪০ এর মে মাসে ব্রিটেনে কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টির জোট সরকার ক্ষমতায় এল। প্রধানমন্ত্রী হলেন চার্চিল, উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাট্লী। পরের মাসেই ফ্রান্সের পতন হল। বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটেনের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছল।গান্ধি ঘোষণা করলেন-"আমরা ব্রিটেনের ধ্বংসের বিনিময়ে ভারতের স্বাধীনতা চাই না।"(1) জাতীয় কংগ্রেস একটু নরম হয়ে ব্রিটেনকে যুদ্ধে সহযোগিতার প্রস্তাব পাঠালো। শর্ত হিসেবে ভারতের শাসনক্ষমতা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অগাস্ট মাসে লর্ড লিনলিথগো এর উত্তর দিলেন। জানালেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। তবে তিনি ভাইসরয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে আরো বেশী ভারতীয় সদস্য নিতে রাজী আছেন এবং একটি যুদ্ধকালীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে সম্মত আছেন; যুদ্ধশেষে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের একটি প্রতিনিধিদলের হাতে ভারতের ভবিষ্যত সংবিধান রচনার দায়িত্ব তুলে দিতেও রাজী হয়েছে।অর্থাৎ ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের আশ্বাসের রকমফের। সেইসঙ্গে মুসলিমদের আশ্বস্ত করা হল, ক্ষমতা কেন্দ্রে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত থাকবে।কংগ্রেসের আধিপত্য তাঁদের মেনে নিতে হবে না।(2)

নাকের বদলে এহেন নরুণ পেয়ে স্বভাবতঃই জাতীয় কংগ্রেস খুশী হল না। ওয়ার্ধা সম্মেলনে লিনলিথগোর এই অগাস্ট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হল। চরমপন্থীরা দেশ জুড়ে আইন অমান্য শুরু করবার প্রস্তাব দিলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথা বিচার করে সে প্রাস্তাব খারিজ করা হল। সরকারকে বেশী বিব্রত না করার উদ্দেশ্যে গান্ধি 'একক সত্যাগ্রহ'র ডাক দিলেন। প্রথম সত্যাগ্রহী নির্বাচিত হলেন বিনোবা ভাবে; দ্বিতীয়জন জওহরলাল নেহরু। এক এক করে আরো ২৫ হাজার সত্যাগ্রহী 'ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়া' আইন অমান্য করে জেলে গেলেন। কিন্তু এই না-ঘরকা-না ঘাটকা আন্দোলন দেশে তেমন সাড়া ফেলল না। বিব্রত গান্ধি ডিসেম্বর মাসে একক সত্যাগ্রহ আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন।

পক্ষান্তরে মুসলিম লিগও যে তেমন খুশী হল, এমনটা নয়।প্রস্তাবে পাকিস্তানের দাবীর প্রতি কোনো স্পষ্ট সমর্থন না থাকায় লিগও এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল।

১৯৪১- এ আমেরিকা ও জাপান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল। লন্ডন ও নয়া দিল্লির সরকারের শিরঃপীড়ার দুটি নতুন কারণ তৈরী হল। এক তো যে কোনো সময়ে জাপানের ভারত আক্রমণের ভীতি। দ্বিতীয়তঃ যুদ্ধের ছোট শরিক হিসেবে বড় শরিক আমেরিকার সাহায্যমুখাপেক্ষী হয়ে থাকা ও বিনিময়ে
ব্রিটেনের এশীয় কলোনিনীতি বিষয়ে আমেরিকার তেতো পরামর্শ (অনেক ক্ষেত্রে যা আদেশের সামিল) সোনামুখ করে গিলতে বাধ্য হওয়া।

এরপর এল '৪২এর ১৫ই ফেব্রুয়ারির সেই ভয়ংকর দিন। 'অপরাজেয়' সিঙ্গাপুরের পতন হল। সিঙ্গাপুরের তটরেখা ধরে বসানো কংক্রীটে গাঁথা বিশাল বিশাল সমুদ্রমুখী কামানগুলি থেকে একটিও গোলা বর্ষিত হল না; জাপানীরা পেছন থেকে এসে স্থলভূমি দিয়ে ব্রিটিশ সৈন্যকে কুপোকাত করল। একটাও গুলি না ছুঁড়ে কর্নেল হান্ট তাঁর ৬০০০০ সৈন্যের বিশাল ভারতীয় বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন।ব্রিটিশ সিংহের মানমর্যাদা বুঝি ধূলায় গড়াগড়ি যায়।

এতদিন ভারতীয় রাজনীতিকদের দাবীদাওয়া নিয়ে চার্চিলের খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু সিঙ্গাপুরের পতন জাপানকে ভারতের দরজা অবধি নিয়ে এল। ওয়ার কাউন্সিলের মাথারা চার্চিলকে জানালেন-"If the Japanese adopt a bold policy, we are in real danger of losing our Indian empire-with incalculable consequences to the future conduct of the war." (3) ভারতীয় এম্পায়ার ছিল বৃদ্ধের দুর্বলতম স্থান। ভারত হারানোর আশংকায় চার্চিল নড়েচড়ে বসলেন। ভারতের জাতীয় আন্দোলনের প্রতি তাঁর প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাবের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের চাপও তাঁর ওপরে কম ছিল না। লেবার নেতা অ্যাটলী তাঁকে স্পস্টাস্পস্টি জানালেন, তাঁর এই মনোভাব মোটেই "widely shared" নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট চার্চিলের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন ভারতকে দ্রুত স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য। (আটলান্টিক চার্টার তৈরীর সময় চার্চিলের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌যুদ্ধ -"I can’t believe that we can fight a war against fascist slavery, and at the same time not work to free people all over the world from a backward colonial policy" অথবা দু বছর পরে কাসাব্লাঙ্কা সম্মেলনে তাঁর ঘোষণা ‘"India should be made a commonwealth at once. After a certain number of years – five perhaps, or ten – she should be able to choose whether she wants to remain in the Empire or have complete independence’’ স্মর্তব্য।) (4) মুখে 'সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা'র কথা বললেও আমেরিকার এতে দুটি স্বার্থ ছিল। প্রথমটি আশু-ভারতকে বেস করে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত চিয়াং কাইশেককে রশদ যোগানো। দ্বিতীয়টি অবশ্যই দূরের ভাবনা-স্বাধীন ভারত তথা অন্যান্য ডিকলোনাইজড দেশে বাণিজ্যবিস্তার ও কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের সাপেক্ষে ভূরাজনৈতিক (geopolitical ) প্রাধান্য গড়ে তোলা।

সে যাই হোক, সিঙ্গাপুর পতনের তিন সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই চার্চিল লেবার এম পি সার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসকে দিল্লি পাঠালেন ভারতীয় রাজনীতিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে, যাতে যুদ্ধে ভারত থেকে আরো বেশী সংখ্যক সেনা ও রসদ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

Notes
1.http://www.historydiscussion.net/essay/indian-polity-1939-1945-during-the-period-of-second-world-war/2089.
2.Radhey Shyam Chaurasia (2002). History of Modern India, 1707 A. D. to 2000 A. Atlantic Publishers. pp. 281-283.
3.Chiefs of Staff Committee,1April,1942. Cited in Thorne, Allies of a kind, pp.233-4.
4.https://www.thequint.com/news/world/franklin-roosevelt-role-in-india-independence-british-rule-churchill.


Name:  গবু          

IP Address : 2345.110.125612.232 (*)          Date:04 Sep 2018 -- 08:21 AM

পড়ছি।


Name:  I          

IP Address : 7845.15.013412.144 (*)          Date:11 Sep 2018 -- 11:42 PM

তুলে রাখলাম। নইলে খুঁজে পেতে অসুবিধে হয়।


Name:   সিকি           

IP Address : 670112.215.1245.234 (*)          Date:13 Sep 2018 -- 07:27 PM

আমিও আরেকবার তুলে রাখলাম। উইকেন্ড আসছে কিনা।


Name:  অর্জুন অভিষেক           

IP Address : 342323.223.894512.5 (*)          Date:15 Sep 2018 -- 01:24 AM


এই সমৃদ্ধ লেখাটায় Choudhry Rahmat Ali র কথা জানতে চাই। যিনি ছাত্র থাকাকালীন কেমব্রিজ শহরের হাম্বারটোন রোডের একটি বাড়িতে প্রথম 'PAKSTAN' শব্দটা সৃষ্টি করেন।

Subcontinent র Muslim দের জন্যে একটি separate state র দাবীর earliest proponent বলা হয় তাকে । জিন্না প্রথমে ওকে বিশেষ পাত্তা দেননি যদিও। পরে তার দেওয়া নামটিই আলাদা রাষ্ট্রের জন্যে বরাদ্দ হয়।


Name:  এলেবেলে          

IP Address : 230123.142.9001212.143 (*)          Date:15 Sep 2018 -- 09:17 AM

@অর্জুন অভিষেক, আপনি হয়তো খেয়াল করেননি কিন্তু লেখক এই ব্যাপারটা গত ২৯ জুলাই লিখেছেন (৩এর পাতায় পাবেন) ---

এর তিন বছর পর ১৯৩৩ সালে আর এক পাঞ্জাবী মুসলিম চৌধরী রহমৎ আলি কেম্ব্রিজে একটি প্যাম্ফলেট প্রকাশ করবেন-"Now or Never; Are We to Live or Perish Forever?" সেই প্রচারপুস্তিকায় উত্তর ভারতের পাঁচটি প্রদেশ নিয়ে একটি পৃথক মুসলিম হোমল্যান্ডের দাবী জানানো হয়। পাঞ্জাব, আফগান প্রদেশ (উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ),কাশ্মীর, সিন্ধ ও বালুচিস্তান-এর প্রথম চারটির আদ্যক্ষর ও বালুচিস্তানের 'স্তান' নিয়ে এর নাম দেওয়া হয় 'পাকস্তান'। পরবর্তীকালে উচ্চারণের সুবিধার জন্য রহমৎ আলি একে ঈষৎ বদলে করেন 'পাকিস্তান'(9)। শব্দটি যে নিছকই অ্যাক্রোনিম নয়, উর্দু ও ফারসীতে এর যে একটি অন্তর্নিহিত অর্থ রয়েছে, "পাকিস্তান" নামের জনক রহমৎ আলি তা-ও বুঝিয়ে বলেন-'It means the land of the Paks – the spiritually pure and clean.'(10)

পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩৪ সালে রহমৎ আলি ও তাঁর বন্ধুরা জিন্নার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পাকিস্তানের দাবীকে সমর্থনের অনুরোধ জানান। জিন্না তাঁদের কিঞ্চিৎ আশাহত করেই বলেন-"My dear boys, don't be in a hurry; let the waters flow and they will find their own level"(11)। বস্তুত জিন্না কেন, সেইসময় কোনো মুসলিম নেতাই হয়তো ভারতীয় মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা হয়ে একটি পৃথক মুসলিম হোমল্যান্ডের দাবী জানানোর মত র‌্যাডিক্যাল অবস্থানে গিয়ে পৌঁছন নি। ১৯৩৩ সালের অগাস্ট মাসে একটি মুসলিম প্রতিনিধিদল ভারতীয় সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত একটি পার্লামেন্টারি কমিটির কাছে গিয়ে বলে আসেন-'পাকিস্তানের দাবী কাল্পনিক ও অবাস্তব'(12) । অনেক ঐতিহাসিকের মতে, যে ইকবাল ১৯৩০ সালে উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাজ্য দাবী করেছিলেন, তিনিও খুব সম্ভবতঃ দেশভাগ চান নি। আসলে তিনি যা চেয়েছিলেন, তা হল ভারতীয় ফেডারেশনের মধ্যে একটি পৃথক স্বশাসিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ(13),(14),(15),(16)। জিন্না তো আরো বছর দশেক কংগ্রেসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা-দর কষাকষি চালিয়ে যাবেন ও অবশেষে ১৯৪০ সালে লাহোর বক্তৃতায় দ্বিজাতিতত্বের প্রতি তাঁর সমর্থন সুস্পষ্টভাবে জানাবেন। (যদিও আয়েষা জালাল মনে করেন জিন্না মন থেকে কখনোই পাকিস্তান চান নি; কংগ্রেসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা রাস্তা বেরোবে বলে তাঁর বিশ্বাস ছিল। পাকিস্তানের দাবী ছিল তাঁর কাছে দর কষাকষির একটি অস্ত্রমাত্র)।



Name:  অর্জুন অভিষেক           

IP Address : 341212.21.0178.1 (*)          Date:15 Sep 2018 -- 10:13 PM


@ এলেবেলে, ধন্যবাদ, আপনার সুচিন্তিত সংযোজনের জন্যে।

আমার মোবাইল ফোনে জানিনা কেন, সব কটা পাতা খোলেনা। পাতার নম্বর গুলো দেখতে পারছি, কিন্তু ক্লিক করলে খুলছেনা।

ল্যাপটপ থেকে লগ-ইন করে দেখতে হবে।

আবারো ধন্যবাদ।

Choudhry Rahmat Ali? নিয়ে একজন একটি বইও লিখেছেন। গুরিন্দর চাড্ডার একটা ডকুমেন্টরিতে তার ইন্টার্ভিউ আছে।



Name:   সিকি           

IP Address : 670112.215.1245.234 (*)          Date:16 Sep 2018 -- 08:00 PM

ইন্দোদাদাআআআআ, এই উইকেন্ডে হল নি?


Name:  I          

IP Address : 7845.15.235612.227 (*)          Date:17 Sep 2018 -- 12:02 AM

ছেলে পেটাচ্ছিলাম।সামনের হপ্তা থেকে একটু রেগুলার হওয়ার চেষ্টা করবো।ছেলের পরীক্ষা কাল শেষ হবে।


Name:  I          

IP Address : 7845.15.786712.207 (*)          Date:20 Sep 2018 -- 11:39 PM

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ক্রীপস মিশন নিয়ে লেখার আগে লীগের পাকিস্তান-চিন্তা নিয়ে কিছু সংযোজন ঃ

৩৮-৩৯ সাল নাগাদ হিন্দু আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মুসলিম লীগ বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে।জাফরুল হাসান ও হুসেন কাদরীর আলিগড় প্রকল্পে প্রস্তাব দেওয়া হয় চারটি স্বাধীন রাষ্ট্রের-পাকিস্তান, বাংলা, হায়দরাবাদ ও হিন্দুস্তান। অন্যান্য প্রকল্পগুলিতে অবশ্য দেশভাগের কথা ভাবা হয় নি। ভাবা হয়েছিল একটি আলগা ভারতীয় মহাসঙ্ঘের মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত কয়েকটি মুসলিম ব্লকের কথা । যেমন পাঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী সিকন্দর হায়াৎ খানের আনীত প্রস্তাবে ছিল একটি ত্রিস্তরীয় কাঠামোর ভাবনা। স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশগুলিকে সাতটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে; প্রতিটি অঞ্চলের থাকবে নিজস্ব আইনসভা।কেন্দ্রের হাতে থাকবে শুধু প্রতিরক্ষা, বিদেশদপ্তর, সীমাশুল্ক ইত্যাদি কয়েকটি জরুরী বিষয়। এ যেন ১৯৪৬-এর ক্যাবিনেট মিশনেরই ভাবনা, আরো বছর সাতেক আগে ভেবে ফেলা।

এইসব বিকল্প অনুসন্ধানের পেছনে যে ব্রিটিশ সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত ছিল, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভাইসরয় লিনলিথগো ও ভারত সচিব জেটল্যান্ডের কাগজপত্র সেই দিকেই অঙুলিনির্দেশ করে। (1) ৬ই ফেব্রুয়ারি , লাহোর প্রস্তাবের ৬ সপ্তাহ আগে জিন্নাকে লিনলিথগো বলেন-"যদি তিনি ও তাঁর বন্ধুরা চান যে মুসলমানদের বিষয়টি যুক্তরাজ্যে হেলায় হারিয়ে যাবে না,তাহলে সত্যিই যা না হলেই নয় তা হল অদূর ভবিষ্যতে তাঁদের নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।"(2) ১২ই মার্চ,১৯৪০ লিনলিথগো জেটল্যান্ডকে লেখেন-" আমার নির্দেশে জাফরুল্লা (মুহাম্মদ জাফরুল্লা খান, মুসলিম লীগ নেতা ও লাহোর প্রস্তাবের খসড়া-প্রস্তুতকারী-লেখক) দুটি ডোমিনিয়ন রাষ্ট্রর বিষয় নিয়ে একটি স্মারকলিপি তৈরী করেছেন...।" (3)

১৯৪০ এর লাহোর প্রস্তাবটি ছিল অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক। সম্ভবতঃ এটি ছিল ইচ্ছাকৃত। প্রস্তাবে মুসলিমদের জন্য 'কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্র' ('States') গঠনের কথা বলা হয়। জিন্না পরে বলেন যে আসলে একটিই রাষ্ট্রের কথা বলতে চাওয়া হয়েছে, 'States' শব্দটি ছাপার ভুল।(4) পাকিস্তান রাষ্ট্রের (অথবা স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট) ধারণা তখনো জিন্না ও তাঁর দলের কাছে সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি, অতএব দর-কষাকষির সব রকম রাস্তা খোলা রাখতেই এই ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা, এই ভাবনা নেহাত অযৌক্তিক নয়।

Notes
1.আধুনিক ভারতঃ সুমিত সরকার, কে পি বাগচি অ্যান্ড কোম্পানী, ১৯৬০, পৃ ৩২৬।
2.Uma Kaura, Muslims and Indian Nationalism, pp. 149.
3.Facts are Facts: The Untold Story of India's Partition, Wali Khan, p.29.
4.যুক্ত বাংলার শেষ অধ্যায়, কালিপদ বিশ্বাস, পৃ ২২১-২।



Name:  Du          

IP Address : 7845.184.1256.215 (*)          Date:21 Sep 2018 -- 06:37 AM

একটা দেশ যে ভেঙে যেতে পারে বিশ্বযুদ্ধের আগে কেউ আদৌ ভাবতে পারত কিনা কে জানে!

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5]     এই পাতায় আছে103--133