এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2]     এই পাতায় আছে7--37


           বিষয় : দেশভাগঃ ফিরে দেখা(দ্বিতীয় পর্ব)
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :I
          IP Address : 57.15.9.41 (*)          Date:26 Oct 2017 -- 10:02 PM




Name:   Indranil Ghosh Dastidar           

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:29 Oct 2017 -- 09:07 PM

১৯২২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি চৌরিচৌরা-র ঘটনা ঘটল। যুক্ত প্রদেশের চৌরিচৌরায় আনুমানিক আড়াই হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন থানা ঘেরাও করতে। পুলিশ শুন্যে গুলি ছুঁড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জনতা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। প্রত্যুত্তরে পুলিশ সরাসরি জনতার দিকে গুলি ছোঁড়ে। তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা যান, বেশ কিছু মানুষ আহত হন। উত্তেজিত মানুষ পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে থানা ঘিরে ফেলে সেটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ২৩ জন পুলিশ কর্মী জ্যান্ত পুড়ে মারা যান।

গান্ধির কাছে এই ঘটনার খবর এসে পৌঁছলে তিনি মর্মাহত হয়ে পড়েন। জালিয়নওয়ালাবাগ-পরবর্তী সময়ের মতই আবারও তাঁর মনে হয়, অসহযোগ আন্দোলনের আহ্বায়ক ও প্রধান নেতা হিসেবে তিনি এই হিংসাত্মক ঘটনার জন্য দায়ী। তিনি অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করার ডাক দেন; ৫ দিনের জন্য অনশনের মাধ্যমে 'চিত্তশুদ্ধি'র ঘোষণা করেন। অবশ্য ব্রিটিশ সরকার তাতে বিন্দুমাত্র নরম হওয়ার লক্ষণ দেখায় নি। সরকার গান্ধিকে গ্রেপ্তার করে; আদালতে তাঁর ৬ বছরের জন্য কারাদন্ডের বিধান হয়, যদিও ২ বছর বাদে তাঁকে ভগ্ন-স্বাস্থ্যের কারণে মুক্তি দেওয়া হবে।

গান্ধির এই ঘোষণা কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের মধ্যে অসম্ভব হতাশার জন্ম দেয়। তাঁদের মনে হয়েছিল লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যাঁরা গান্ধির ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে স্রেফ স্বাধীনতার জন্য পথে নেমেছেন, এটা তাঁদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।

সবচেয়ে ক্ষিপ্ত হন খিলাফত আন্দোলনের নেতা ও কর্মীরা। তাঁরা নিজেদের প্রতারিত মনে করেছিলেন। প্রয়োজনের সময় গান্ধি তাঁদের আবেগ ও দাবীকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে দ্বিধা করেন নি, আবার যখন তাঁর মনে হয়েছে, তিনি নিজের ইচ্ছেমত সেই আন্দোলন প্রত্যাহার করতেও দেরী করেন নি। আলি ভাইয়েরা গান্ধির এই অহিংসার প্রতি অবসেশন-এর কড়া সমালোচনা করেন । খিলাফত নেতা মৌলানা আব্দুল বারি বলেন - "আমার মনে হয় গান্ধিজি যেন একজন পঙ্গু মানুষ, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাঁর বশে নেই, কিন্তু মস্তিষ্ক এখনো সজাগ।তাঁর (ভবিষ্যৎ) সাফল্য সম্বন্ধে আমার সন্দেহ আছে, কেননা তিনি এখনো তাঁর (অহিংস) আন্দোলনে খুব একটা সাফল্য লাভ করতে পারেন নি..একটা সর্বব্যপী অবসাদ চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে।"

এর আগেই ১৯২১ সালে মালাবার উপকূলে খিলাফত আন্দোলনের অংশ হিসেবে হিংসাত্মক মোপলা বিদ্রোহ ঘটে গেছে, যা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলন হিসেবে কিন্তু পরবর্তীতে অভিমুখ বদলে হিন্দু-বিরোধী দাঙ্গায় পরিণত হয়। মোপলা আন্দোলনের ফলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে বেশ ভালোরকম চিড় ধরেছিল (যদিও গান্ধি আপ্রাণ চেষ্টা করেন সেটি মেরামত করবার); এবারের অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার সেই ঐক্যের মৃত্যুঘন্টা বাজিয়ে দিল।

ব্রিটিশ সরকারের খুশি হবার সঙ্গত কারণ ছিল। যুক্ত প্রদেশের গভর্নর হারকোর্ট বাটলার মন্তব্য করলেন হিন্দু-মুসলিম ঐক্য মৃত্যুশয্যায় শুয়ে। এই মৃত্যু সুনিশ্চিত করতে ভাইসরয় লর্ড রিডিং একটি কৌশলী চাল দিলেন; লন্ডনে টেলিগ্রাম করে তিনি ব্রিটিশ সরকারকে অনুরোধ করলেন যেন তুরস্কের সুলতানের সঙ্গে Treaty of Sevres কে পুনর্বিবেচনা করে দেখা হয়। অন্যদিকে সরকারের প্ররোচনায় স্টেটসম্যান পত্রিকায় খবর ছাপানো হল আন্দোলনের নাম করে তহবিল তছরুপ করেছেন খিলাফত নেতা আলি ভ্রাতৃদ্বয়।

কিছুদিন পরে এল সেই খবর-তুরস্কের নতুন নেতা কামাল আতাতুর্ক ক্ষমতা দখল করেছেন। তুরস্কের তৎকালীন সুলতানকে আসনচ্যুত করা হল। রাজতন্ত্রের ক্ষমতা যথাসম্ভব সীমিত করা হল।

সেই সাথে ভারতবর্ষে খিলাফত আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতাও ফুরিয়ে এল।

শুরু হল ১৯২২-পরবর্তী ভারতবর্ষের নতুন অধ্যায়। হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের সাময়িক ঐক্যের দিন ফুরিয়ে গিয়ে শুরু হল এক বিদ্বেষময় অধ্যায়, যা আর কোনোদিন শুধরোবে না। অবস্থা ক্রমেই খারাপ থেকে খারাপতর হবে।



Name:   0           

IP Address : 120.227.90.183 (*)          Date:30 Oct 2017 -- 01:41 PM

পড়ছি। ব্লগে আগের পর্বগুলোও।
লেখার টানেই যা পড়ি, নইলে এই বহুচর্চিত ঘাঁটা ব্যাপার আর তেমন টানে না :-(
মনে হয় ... এমন কলমে যদি এর চাইতে আরেকটা উপন্যাস কি অন্তত একটা বড়গল্পও লিখে ফেলতেন!


Name:  I          

IP Address : 57.15.4.17 (*)          Date:30 Oct 2017 -- 11:51 PM

জয়া চ্যাটার্জির একটা বই আছে Bengal divided :Hindu communalism and partition । বইটার সফ্ট কপি কারো কাছে হবে? বড্ড দাম।


Name:  Du          

IP Address : 182.58.105.112 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 02:41 AM

রক্তপাত বন্ধ করা নিয়ে অবসেসড গান্ধীজী জীবনের শেষদিকে গবীর অসহায়তায় বুঝতে পেরেছিলেন কত রক্ত তার জাতিকে, তার দেশকে দিতে হবে এর ফলে।


Name:  T          

IP Address : 165.69.191.249 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 09:27 AM

ক্যাপিটাল আই, জয়া চ্যাটার্জির বইটির সফট কপি রয়েচে। অবশ্যই পাঠাতে পারি। এই আই ডি তে মেইল ঠুকে দিন। btitas অ্যাট ntu.edu.sg


Name:  I          

IP Address : 57.15.4.17 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 09:30 AM

ধন্যবাদ টি।


Name:  dc          

IP Address : 132.174.182.53 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 10:59 AM

I, এখান থেকেও বইটি ডাউনলোড করতে পারেনঃ

http://gen.lib.rus.ec/search.php?req=Bengal+divided&lg_topic=libgen&op
en=0&view=simple&res=25&phrase=0&column=def


এটা বই পাইরেটদের সাইট, যতো পারবেন এই ধরনের সাইটগুলোর লিংক শেয়ার করবেন। শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং।


Name:  de          

IP Address : 24.139.119.171 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 03:26 PM

ভালো হচ্ছে -


Name:   Indranil Ghosh Dastidar           

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 07:36 PM

dc, নেট-পুলুশ ধরবে না তো?


Name:  dc          

IP Address : 132.174.182.53 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 08:13 PM

সেটা আবার কি বস্তু?


Name:  h          

IP Address : 117.77.76.89 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 12:14 AM

রেফারেন্স না দেওয়ার সিদ্ধান্তটা কি ডেলিবারেট?


Name:  I          

IP Address : 57.15.3.169 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 05:14 PM

একদম শেষে দেবো।


Name:  de          

IP Address : 69.185.236.52 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 05:36 PM

বড়াই - যাবতীয় স্টাডি বুক বরাবর এখান থেকে নামাই আর সাই-ফাই থেকে জার্নাল পেপার - সারা দুনিয়ার লোকে এখান থেকেই নামায় - কারো কখনো প্রবলেম হয়েচে বলে শুনিনি। মাঝে ইন্ডিয়াতে সাইটটা খুলছিলো না -


Name:  h          

IP Address : 117.77.106.18 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 07:55 PM

ওকে। দ্যাখ তোর দুটো চ্যালে'ণ্জ, এক হলো বহু চ্চি ত বিষয় কেও যখন আঅডেমিয়ার বাইরে আলোচনা করা হোচ্ছে , রাজনৈতিক প্রচারে, দাঙ্গা কাতাতে কজে লাগানো হোচ্ছে তখন নিজের নতো নে জা পারে বোলছে আবার ফ্যাক্ট বেস্ড আকাডেমিক হিস্টরি তে আকাদেমিয়ার বাইরের লোকের অ্যাকাএস নেই। দুটোর মধ্যে ব্যাপারে আনতে পারে সেশে ভালো চাওয়া সেন্সিবল ন্যারেটিভ সেক্ষেত্রে, তোকে সোর্স ইউসেজ এর ব্যাপারটা গুরুত্ত্ব দিতে হোবে আবার জেনেরাল রিডেবিলিটি কমালে হবে না তাই পরে বিব্লিওগ্রফি ভালো আইডিয়া ফুট নোটের বদলে কিন্তু তাহলে তোকে অন্তত এক্টা ইনলাইন ইন্ডেক্সিঙ্গ করতে হবে এবোঙ্গ সুব্জে্তিভে কম্নেট থেকে বিরত থাকতে হবে। যিন্ন রেগে কাই এই কমেন্টে সোর্স লাগবে। Kআরন তুই মেম্ব লিখ ছিশ না। জদিও মানসিক স্তাত ইতিহাস ইত্যাদি আজ্কাল হয়েছে কিন্ফু বড় চরিত্র দের পারলাম ইকুতেশন দিয়ে আমাদের দেশে হুস্টরি লেখা হয় বিশেষত রাজবীরিতে রেফার হয় সেটা থেকে বিরত না থাকলে ফোর গ্রহণ্জোগ্য তা কোমবে। এক্টু ভেবে দেখিশ। দার্মী কাজে হাত দিতেছিশ সাফল্য চাই বলে বোললাম


Name:  I          

IP Address : 57.15.5.162 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 08:06 PM

যদিও তোমার টাইপিংএর গোলমালের জন্য পুরো বক্তব্যটা বুঝতে পারলাম না(একটু মাইরি যত্ন করে টাইপিং করো),তবে এসেন্সটা বুঝলাম মনে হলো।উপদেশটা ভালো লাগলো। ঠিকই বলেছো। এবার থেকে বরং ফুটনোটই ব্যবহার করব।যদিও তাতে রিডেবিলিটি একটু মার খাবে,কিন্তু ব্যাপারটা আমার ক্ষেত্রে সহজ হবে।
আর রেগে কাঁই জাতীয় কিছু লিখেছি বলে মনে পড়ছে না।যাহোক আরো বেশি অবজেক্টিভ হওয়ার কথা মাথায় রাখবো।এবং যদ্দুর পারি রেফারেন্স।


Name:  I          

IP Address : 57.15.5.162 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 08:22 PM

দে,তালে খুশি হয়ে আরেকটা বই নামাই।
ঃ)


Name:  h          

IP Address : 117.77.106.18 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 08:58 PM

অনুবাদ করে দিলাম।

--ওকে। দ্যাখ তোর দুটো চ্যালে'ণ্জ, এক হলো বহু চর্চিত ত বিষয় কেও যখন আকাডেমিয়ার বাইরে আলোচনা করা হোচ্ছে , রাজনৈতিক প্রচারে, দাঙ্গা করাতে কজে লাগানো হোচ্ছে তখন নিজের মত যে যা পারে বোলছে, এটা ফ্যাসিস্ট দের বড় শক্তি, আবার ফ্যাক্ট বেসড হিস্টরি তে আকাদেমিয়ার বাইরের লোকের অ্যাকসেস নেই। ছাত্র আন্দোলন জোরদার হলে, অবশ্য পাবলিক ডিসকোর্সে গবেষণার জিনিস পত্র জোটে। তার মধ্যে আছে রাম ছাগল ন্যাশনালিজম। আয়েশা জালাল এর বই আমাদের দেশে কেউ পড়বে না, আবার সুমিত সরকার রাম গুহ জয়া চ্যাটার্জি পাকিস্তান বাংলাদেশে র মেনস্ট্রীমে নেই। শেয়ার্ড হিস্টরি তো রে বাবা।

এই সমস্ত ব্যাপারে ব্যালন্স আনতে পারে দেশের ভালো চাওয়া সেন্সিবল নন স্পেশালিস্ট ন্যারেটিভ। এটাই মিঠুন ভৌমিক অ্যাটেম্প্ট করছে, অনেকেই করছে। কানহাইয়া রা ও করচে, বড় চ্যানেল গুলো করছে অন্য অ্যাংগল থেকে, দিস ফাইট ইজ দ্য মেন ফাইট, বিকজ উই আর সর্টিং আঔআর ফাউন্ডেশনাল স্টোরি অফ দ্য রিপাবলিক অ্যাট আ টাইম হোয়েন উই মাইট অ্যাজ ওয়েল লুজ ইট।

সেক্ষেত্রে, তোকে সোর্স ইউসেজ এর ব্যাপারটা গুরুত্ত্ব দিতে হবে আবার জেনেরাল রিডেবিলিটি কমালে হবে না তাই পরে বিব্লিওগ্রফি ভালো আইডিয়া ফুট নোটের বদলে কিন্তু তাহলে তোকে অন্তত এক্টা ইনলাইন ইন্ডেক্সিঙ্গ করতে হবে।
এ ব্যাপারে রয় পোর্টার হল ভালো স্ট্যান্ডার্ড, আবা প্রকাশিত ইতিহাস গ্রন্থমালা ভালো স্ট্যান্ডার্ড। ওখানে প্রফেসনাল হিস্টরিয়ান রা লিখছেন, তোর দায়িত্ত্ব বেশি, কারণ তোর উদ্দেশ্য হল আমরা বোকাচোদারা যাতে সেন্সিবলি ভাবতে শিখি। ঐতিহাসিকের লেখা ইতিহাস বই দেখে পালিয়ে না যাই।

এবোঙ্গ সাবজেক্টিভ কমেন্ট থেকে বিরত থাকতে হবে। রেগে কাই তুই বলিশ নি, আমার এই বাক্য টায় সিরিয়াস আপত্তি আছে।

"অনেকে মনে করেন, মতের তফাতের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিত্বের সংঘাতও জিন্নার কংগ্রেস ত্যাগের অন্যতম কারণ। উচ্চাকাঙ্খী এই রাজনীতিবিদ হয়তো ততদিনে বুঝতে পেরে গেছেন, এক আকাশে যেমন দুই সূর্যের সহাবস্থান সম্ভব নয়, এক কংগ্রেসে তেমনি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি ও মহম্মদ আলি জিন্না- এই দুই প্রখর গুজরাটীর একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়।"


পারসোনালিটি ক্ল্যাশ কে গুরুত্ত্ব দিয়ে এই পার্টের ইতিহাস অনেক লেখা হয়েছে। সেটা রে বাড়ায়ে তোর কি লাভ।

মানসিকতার ইতিহাস ইত্যাদি আজকাল হয়েছে, কিন্ফু বড় চরিত্র দের পারসোনাল ইকুয়েশন দিয়ে আমাদের দেশে হিস্টরি লেখা হয় বিশেষত রাজবীরিতে রেফার হয় সেটা থেকে বিরত না থাকলে তোর গ্রহণযোগ্যতা কমবে। এক্টু ভেবে দেখিশ। দার্মী কাজে হাত দিতেছিশ সাফল্য চাই বলে বোললাম।

ইন্ফ্যাক্ট সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য দের থেকে তোর দায় বেশি, তোকে হয়তো দাঙ্গাও থামাতে হবে, পোলারাইজেশন আটকাতে হবে, শুধু তাই না, বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসে আগ্রহ মানুষের ফেরাতে হবে। অথচ আকাদেমিক হওয়া চলবে না, তাঁদের ক্রেডিবিলিটি পুনরুদ্ধার এও তোকে সাহায্য করতে হবে। ব্যক্তিগত না, জঁর টার এটাই মেন দায়িত্ত।

তাই সাবধানে। এবং সোর্স সহ। অল্প ফুটনোট, কিছু রিডিং লিস্ট, এবং, একটু ডিতেল্ড বিবলিওগ্রাফি, ফর এনিথিং দ্যাট ইজ সোর্স্ড, পারলে প্রইমারি সোর্স , না পারলেও চলবে, তবে পাকিস্তান বাংলাদেশের নতুন রাইটিং রেফার করলে তুই যে যুদ্ধ থামানোর কাজটা চাইছিশ, সেটায় সুবিধে হবে।

অনেক বড় কথা বলেছি, অধিকার না থাক সত্ত্বেও, কিন্তু চাই এমন বই লেখ, যাতে লোকে তিন জেনারেশন পড়ে। বারা ভালো বই নেই।


Name:  পাই          

IP Address : 24.139.209.3 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 09:04 PM

যিন্ন রেগে কাই বোলে তো ?

এদিকে এটা জানা ছিল না। বেশ অবাক হলাম। বিশেষ করে ইহুদীদেরকে দেওয়া উপদেশে।

'আহত-নিহত মানুষদের তিনি শহীদের সম্মান দিতে অস্বীকার করলেন ; বললেন, তাঁদের উচিৎ ছিল পালাবার চেষ্টা না করে শান্তভাবে মৃত্যুবরণ করা। গান্ধির এইধরনের মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছিল হলোকস্টে মৃত ইহুদীদের ক্ষেত্রেও। জার্মান ইহুদিদের তিনি উপদেশ দিয়েছিলেন হিটলারের সরাসরি বিরুদ্ধতা না করে জার্মান মারণযন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করে দলে দলে প্রাণ বিসর্জন দিতে।'


Name:  I          

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 11:20 PM

পাই, হ্যাঁ।
সোর্স Alex Von Tunzelmann, Indian Summer : The Secret History of the End of an Empire(Pocket Books,2008), p.49।

প্রথম অংশটির প্রাইমারি সোর্স S.R . Singh, 'Gandhi and the Jallianwala Bagh Tragedy: A turning point in the Indian Nationalist Movement', V. N Datta & S. Settar, eds.,Jallinwala Bagh Massacre (Pragati Publications, Delhi,2000),pp.196-9।

দ্বিতীয়টির প্রাইমারি সোর্স Louis Fischer, Life of Mahatma Gandhi,p. 374।

গান্ধি সম্বন্ধে Tunzelmann বেশ কস্টিক। "Gandhi's position on non-violence was absolute...He did not believe that women should resist rape, but preferred that they should 'defeat' their assailants by remaining passive and silent(Kendal, India and the British,p.329)....He advised the British to give up fight against Hitler and Mussolini:Let them take possession of your beautiful island...allow yourself,man , woman and child, to be slaughtered,but you will refuse to owe allegiance to them(Collected Works of Mahatma Gandhi, vol 72, p.230)"-Indian Summer, p. 107


Name:  h          

IP Address : 117.77.106.18 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 11:23 PM

লাইক বাটন।


Name:  h          

IP Address : 117.77.106.18 (*)          Date:02 Nov 2017 -- 02:02 AM

এই বইটা আমি পড়ি নি। কিন্তু এই বইটার রিভু বলছে পার্সোনালিটিন্কে বেশি গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়েছে , মুশ্কিল হল জেনেরাল পোপুলর হুস্টরি বলতে তাই বোঝনো হয়, কার ন এটাতে নন ফিক্শন হলেও ন্যারেটিভ বানাতে সুবিধে হয় , এই ধর দুই প্রখর গুজরাটি এই এক্স প্রেসন নরমালি আসবে না, তোর অপিনিয়ন কে প্রভাবিত না করে বলতে চাই ইতিহাস কে এমনকি ক্রান্রিকারী সময় কেও পার্সোনালিটু ইসু হিসেবে দেখলে তোর জেনেরাল রিডিঙ্গ পাবলিকের যে বাইনাঅরি ধারণা ব্যজ্তুত্ত্ব সম্পর্কে সেটা বদলাবে কিনা এবঙ্গ জেনেরাল কমিউনাল মোবিলাইজেশন কমবে কিনা। এবার একটা কথা আছে এটা ইতিহাস চর্চ ঘতনার ব্যাপার। এবোঙ্গ দেয়াঅরফোর তোর ইচ্ছা। সম্প্রতি একটা বইয়ের রিভু পোর্লম, তাতে একটা বড় বাড়ি তার ৫০০ ফ্ল্যাটের লোকের কেচ্ছা নিয়ে লেখা হয়েছে ১৯৩০স ১৯৫০স মস্কো র এইবার এই দিয়ে রাশিয়াঅন সোভিয়েত পেতেওনেজ সিঅটেম বোঝা র ্গেঅহ্হ্টা করা হয়েছে সেটা একটা অথরিটারিয়ান ক্ষমতা সীন শক্তির অয়্ণালিসিস হতে পারে তোর পক্ষে জবে কিনা এটা প্রেরোগেটিভ।


Name:  h          

IP Address : 117.77.106.18 (*)          Date:02 Nov 2017 -- 02:02 AM

এই বইটা আমি পড়ি নি। কিন্তু এই বইটার রিভু বলছে পার্সোনালিটিন্কে বেশি গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়েছে , মুশ্কিল হল জেনেরাল পোপুলর হুস্টরি বলতে তাই বোঝনো হয়, কার ন এটাতে নন ফিক্শন হলেও ন্যারেটিভ বানাতে সুবিধে হয় , এই ধর দুই প্রখর গুজরাটি এই এক্স প্রেসন নরমালি আসবে না, তোর অপিনিয়ন কে প্রভাবিত না করে বলতে চাই ইতিহাস কে এমনকি ক্রান্রিকারী সময় কেও পার্সোনালিটু ইসু হিসেবে দেখলে তোর জেনেরাল রিডিঙ্গ পাবলিকের যে বাইনাঅরি ধারণা ব্যজ্তুত্ত্ব সম্পর্কে সেটা বদলাবে কিনা এবঙ্গ জেনেরাল কমিউনাল মোবিলাইজেশন কমবে কিনা। এবার একটা কথা আছে এটা ইতিহাস চর্চ ঘতনার ব্যাপার। এবোঙ্গ দেয়াঅরফোর তোর ইচ্ছা। সম্প্রতি একটা বইয়ের রিভু পোর্লম, তাতে একটা বড় বাড়ি তার ৫০০ ফ্ল্যাটের লোকের কেচ্ছা নিয়ে লেখা হয়েছে ১৯৩০স ১৯৫০স মস্কো র এইবার এই দিয়ে রাশিয়াঅন সোভিয়েত পেতেওনেজ সিঅটেম বোঝা র ্গেঅহ্হ্টা করা হয়েছে সেটা একটা অথরিটারিয়ান ক্ষমতা সীন শক্তির অয়্ণালিসিস হতে পারে তোর পক্ষে জবে কিনা এটা প্রেরোগেটিভ।


Name:  h          

IP Address : 117.77.106.18 (*)          Date:02 Nov 2017 -- 02:10 AM

বহুত বিরক্ত করেছি সরি। আর করব না।


Name:  I          

IP Address : 57.15.12.71 (*)          Date:05 Nov 2017 -- 01:16 AM

বিষফোঁড়ার মত ভারতবর্ষের গায়ে ফুটে ফুটে বেরোতে লাগল অগণিত ছোট-বড় দাঙ্গা। মূলতঃ পাঞ্জাব, বাংলা, যুক্ত প্রদেশে।১৯২৩ সালে হল ১১টি দাঙ্গা, ২৪-এ ১৮টি, ২৫এ ১৬টি, ২৬- এ ৩৫ টি, ২৭ সালে ৪০ টি। এই বিদ্বেষের আবহের মধ্যে ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীর দিন মারাঠী দেশস্থ ব্রাহ্মণ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা করলেন (প্রসঙ্গতঃ, ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টিরও জন্ম ঐ একই বছরের ডিসেম্বর মাসে)। একদা কংগ্রেস-কর্মী হেডগেওয়ার শুরু থেকেই হিন্দুত্বের ছত্রছায়ায় ছিলেন; তাঁর মেন্টর ছিলেন যুগপৎ কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভার নেতা বি এস মুঞ্জে। ১৯২৩ সালে প্রকাশিত সাভারকরের 'হিন্দুত্বঃ হিন্দু কে?" বইটি পড়ে এবং রত্নগিরি জেলে সাভারকরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হেডগেওয়ারের হিন্দুত্ববাদী আদর্শ আরো হার্ডলাইনড হয় ও ফলস্বরূপ তৈরী হয় হিন্দু প্যারামিলিটারি সংগঠন আর এস এস , যা কালে কালে প্রভাব-প্রতিপত্তিতে তার অগ্রজ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভাকেও ছাপিয়ে যাবে।

এই সুবাদে হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সম্বন্ধে কিছু কথা সেরে রাখা যেতে পারে।

১৯ শতকে ব্রিটিশ আধিপত্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতবর্ষে নব্য-হিন্দুত্ববাদের জন্ম হয়[1]। এই জন্মস্থানটি ছিল বাংলা-ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম বসতি।উঁচু জাত ও উচ্চবিত্ত বাঙালী 'ভদ্রলোক শ্রেণী' (প্রায়শঃ জমিদার ও মহাজন) ব্রিটিশ শিক্ষার সুযোগ নিয়ে একটি বাঙালী বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের জন্ম দেন। এঁরা ব্রিটিশ তথা ইউরোপীয় সভ্যতার প্রতি অনুগত, আবার সনাতন ভারতীয় ঐতিহ্য যে এই প্রবল সভ্যতার ঢেউয়ে ভেসে যেতে পারে, সে বিষয়েও সম্যক অভিহিত। এই দ্বৈত চেতনা থেকেই হিন্দুধর্মের সংস্কার ('রিফর্ম')-এর প্রয়াস শুরু, যার হোতা রাজা রামমোহন রায়। এবং কালে কালে এই রিফর্ম-প্রয়াস হাত বদল হয়ে চলে যাবে হিন্দু-পুনর্জাগরণবাদীদের দখলে, যার প্রবক্তা আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী। এই গুজরাটী ব্রাহ্মণ ১৮৭৩ সালে কলকাতায় এসে কেশবচন্দ্র সেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভবিষ্যতে তিনি রাজা রামমোহন রায় ও কেশব সেনের উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাবেন, কিন্তু কিছুটা অন্য অভিমুখে। ব্রাহ্ম সমাজের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈদিক স্বর্ণযুগের 'ধর্মীয়' গরিমার প্রচার। দয়ানন্দ দাবী করেন প্রাচীন ভারতের মহত্ব ও গরিমা শুধুমাত্র 'ধর্মীয়' নয়, তা একইসঙ্গে 'সাংস্কৃতিক' ও 'সামাজিক'ও বটে[2]। দয়ানন্দের এই হিন্দু পুনর্জাগরণবাদ ('রিভাইভালিজম') সেই সঙ্গে এক 'অপর'-এর নির্মাণেও সহায়্ক হয়ে উঠবে। প্রাথমিকভাবে সেই 'অপর' হল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ( ও ব্রিটিশ মিশনারী কার্যকলাপ), যাকে তিনি হিন্দু সভ্যতার পক্ষে বিপজ্জনক মনে করেছিলেন। হিন্দুদের , বিশেষতঃ অচ্ছ্যুতদের (দয়ানন্দ হিন্দুধর্মের জাতিভেদ প্রথা অস্বীকার করেন নি, কিন্তু তিনি এর এক নতুনতর ব্যাখ্যা দেন; তাঁর মতে জাতিভেদ বংশগত নয়, তা আসলে যোগ্যতাভিত্তিক এক শ্রমবিভাজন, যা সমাজের পক্ষে জরুরি) খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত করার খ্রীষ্টান মিশনারি প্রক্রিয়াটিকে প্রতিরোধ করবার জন্য তিনি 'পুনর্ধর্মান্তরকরণ' এর এক রিচ্যুয়াল শুরু করেন-প্রাচীন হিন্দু টেক্সটে যার কোনো অনুমোদন নেই । এই রিচ্যুয়ালটির নাম দেন তিনি 'শুদ্ধি'-যেটি অবশ্য একটি প্রাচীন প্রথা , উঁচু জাতের হিন্দু পাপকাজ করলে যে পাপস্খালন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সে/তারা সামাজিক সম্মান ও অনুমোদন ফিরে পেত। যদিও মুলতঃ ধর্মান্তরিত খ্রীষ্টানদের হিন্দুধর্মের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার জন্যই এই আন্দোলনের সূচনা, কিন্তু দয়ানন্দের জীবদ্দশাতেই, এবং তাঁর মৃত্যুর পর আরো বেশী করে শুদ্ধি আন্দোলনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে মুসলিম ও শিখরা[3]। ইসলাম ধর্মের প্রতি স্বয়ং দয়ানন্দের মনোভাব বেশ বিরূপ ছিল; তিনি ইসলামকে 'যুদ্ধবাদী' ও 'ইমমর‌্যাল' মনে করতেন। যে ঈশ্বর ধর্মে র নামে 'কাফির'দের ঘৃণা করতে শেখান, পশুবলি'র বিধান দেন-তাঁর প্রতি তাঁর কোনো অনুমোদন ছিল না[4]। সেই সঙ্গে অবশ্য এ কথাও বলা উচিৎ,শুধুমাত্র ইসলাম নয়, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ,জৈন ও শিখ ধর্মও তাঁর সমালোচনা এড়ায় নি।

১৮৭৫ সালে দয়ানন্দ আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠা করেন পাঞ্জাবে। পাঞ্জাবের তৎকালীন হিন্দু এলিট-যাঁরা ছিলেন উঁচু জাতের ক্ষত্রী ও বানিয়া-তাঁরা সাগ্রহে সমাজকে গ্রহণ করলেন। তার একটি কারণ আর্য সমাজে ব্রাহ্মণপ্রাধান্যের অস্বীকৃতি, যা অব্রাহ্মণ ক্ষত্রী ও বানিয়াদের পক্ষে সুখবর। অপর একটি কারণ অবশ্যই মুসলিমদের তুলনায় পাঞ্জাবে হিন্দুসমাজের সংখ্যাগত দুর্বলতা [5]। হিন্দু ধনী ব্যবসায়ী ও মহাজনদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রাধান্য কমে আসবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের এই সংখ্যালঘু- নিরাপত্তাহীনতাও ক্রমে বেড়ে চলবে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ দমনে পাঞ্জাবের অবদানের কথা মাথায় রেখে ব্রিটিশ শাসক পাঞ্জাবীদের (মূলতঃ শিখ ও মুসলিম) পুরস্কৃত করবে মার্শাল রেসের অভিধা দিয়ে। এই মার্শাল রেসকে টিকিয়ে রাখবার জন্য সরকারের দরকার পড়বে পাঞ্জাবের কৃষি-ব্যবস্থার উন্নয়ন, কেননা ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঞ্জাবি রিক্রুট অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষক পরিবারের সন্তান। এই উদ্দেশ্যে পাঞ্জাবে সেচ -ব্যবস্থার উন্নতিতে সরকার মন দেবে এবং ১৯০০ সালে প্রবর্তন করবে বিতর্কিত Punjab Land Alientaion Actএর। পাঞ্জাবের গ্রামাঞ্চলে হিন্দু ব্যবসায়ী ও মহাজন সম্প্রদায় সেসময় এতটাই ক্ষমতাবান ছিলেন, যে প্রায়শঃ সঙ্গতিহীন কৃষক (অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুসলমান) তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া ধার শোধ করতে না পেরে জমিজমা তাঁদের কাছে বেচে দিতে বাধ্য হতেন। এই অবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন এই বিলটি প্রণয়ন করেন, যার বলে agricultural tribe এর হাত থেকে non-agricultural Tribeএর সদস্যদের কাছে জমিজমা হস্তান্তর রদ হল। বলা বাহুল্য হিন্দু মহাজন-ব্যবসায়ী ও উকিলরা পরের সম্প্রদায়্ভুক্ত ছিলেন। উল্লেখনীয় যে, ১৯০৭ সালে এই অ্যাক্ট-এর একটি অ্যামেন্ডমেন্ট প্রণয়নের প্রচেষ্টাই আরো দু বছর পরে ১৯০৯ সালে পাঞ্জাব হিন্দুসভার জন্ম দেবে[6]।

১৯০৬ সালে মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠা পাঞ্জাবী হিন্দু এলিটদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধকে উসকে দেয়। তাঁদের উষ্মা আরো বাড়িয়ে ১৯০৯ সালে লর্ড মিন্টো আগা খান ও সম্প্রদায়কে প্রতিশ্রুত পৃথক মুসলিম ইলেকটোরেটের ব্যবস্থা করেন মর্লে-মিন্টো সংস্কারের মাধ্যমে। সেই বছরেই পাঞ্জাব জুড়ে হিন্দু সভার নানা শাখার প্রতিষ্ঠা হয় আর্য সমাজীদের চেষ্টায়; এঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুখ হলেন লালা লাজপত রাই , শাদী লাল ও রায়বাহাদুর লাল চাঁদ (যিনি observer ছদ্মনামের আড়ালে "পাঞ্জাবী" সংবাদপত্রে একের পর এক চিঠি লিখে যাবেন পাঞ্জাবী হিন্দু মধ্য-উচ্চবিত্তের দুর্দশার বিষয়ে এবং অন্য নানাবিধ কারণের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসকেও দায়ী করবেন )[7]। লাহোরে পাঞ্জাব হিন্দুসভার প্রথম প্রাদেশিক সম্মেলনে পৌরোহিত্য করেন আরেক কংগ্রেসী মদন মোহন মালব্য। সভা জানায়, তারা কোনো "সাম্প্রদায়িক সংগঠন" নয়, তবে "সমগ্র হিন্দু সমাজ"এর স্বার্থরক্ষাই তাদের উদ্দেশ্য। প্রথম সম্মেলন থেকেই হিন্দু-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় এবং জাতীয় কংগ্রেসের সমালোচনা করা হয় হিন্দু স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে না পারার জন্য [8]।

শুরুর দিকে আর্য সমাজীরা নিজেদের 'হিন্দু' বলে স্বীকার না করলেও এইসব বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁরা বাধ্য হন নিজেদের হিন্দু ধর্মের মূল স্রোতের অংশ হিসেবে ঘোষণা করতে; সেই সঙ্গে বাধ্য হন হিন্দুসমাজের আরো রক্ষণশীল অংশটির সঙ্গে (সনাতনী হিন্দু যাঁরা আর্য সমাজের ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধিতা, পৌত্তলিকতাবিরোধিতা, অচ্ছ্যুতদের হিন্দুসমাজের অংশ বলে স্বীকার করা এইসব কারণে আর্য সমাজীদের পছন্দ করতেন না) হাত মেলাতে । সনাতনী হিন্দুদের মূল প্রতিপত্তির জায়গা ছিল যুক্ত প্রদেশ। এঁদের নেতা মদন মোহন মালব্যের প্রভাবে যুক্ত প্রদেশে হিন্দুসভার পত্তন হয়। পরবর্তী বছরগুলিতে এরকম আরো হিন্দুসভা ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও(বিহার, বাংলা, সেন্ট্রাল প্রভিন্স, বম্বে প্রেসিডেন্সি ইত্যাদি) প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং সবক'টি সংগঠনকে এক ছাতার তলায় আনবার জন্য ১৯১৫ সালে হরিদ্বারের কুম্ভ মেলায় একটি জাতীয় সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়। সেই সম্মেলনে একটি জাতীয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় সর্বদেশক হিন্দুসভা ( যা পরে বদলে হবে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা)। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী। তিনি ঘোষণা করেন, এই সংগঠন ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকবে। সম্মেলনে উপস্থিত থাকেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি ও আর্যসমাজ নেতা স্বামী শ্রদ্ধানন্দ এবং উভয়েই এই সংগঠনের সাফল্য কামনা করেন, যদিও স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ব্রিটিশ-আনুগত্যের প্রশ্নে হিন্দু মহাসভার সমালোচনা করেন[9]।

শুরুর দিনগুলিতে হিন্দু মহাসভা একটি পৃথক দল হিসেবে কাজ না করে কংগ্রেসের মধ্যে একটি প্রেসার গ্রুপ হিসেবে টিকে থাকার মধ্যেই নিজেদের সীমিত রেখেছিল[10]।যদিও সে কাজেও তারা তেমন সাফল্য পায় নি; তার কারণ সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার ছাড়াও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মনোভাব নিয়ে আর্য সমাজী ও সনাতনীদের বিরোধ। আর্য সমাজীরা ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনে উৎসুক ছিল, যা ছিল সনাতন ধর্মীয়দের আপত্তির অন্যতম কারণ।

হিন্দু মহাসভার পালে নতুন করে হাওয়া লাগে বিশের দশকের শুরুতে; খিলাফৎ আন্দোলনের অবসান ও দেশ জুড়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার আবহে। এই সময় থেকেই হিন্দু মহাসভা একটি বিপজ্জনক "অপর"-এর সাপেক্ষে ক্রমেই নিজেদের দৃঢ়ভাবে সংগঠিত করবে -সে "অপর" হল "ভারতীয় মুসলমান"; খ্রীষ্টান মিশনারি কিম্বা ব্রিটিশ ব্যুরোক্র্যাট নয় [11]। বস্তুতঃ বিশের দশক জুড়ে সভায় সাভারকরের প্রতিপত্তি বাড়তে থাকবে এবং হিন্দু মহাসভা ক্রমেই ব্রিটিশ-সমর্থন ও মুসলিম-বিরোধিতার প্রশ্নে আরো কট্টর অবস্থান নিতে থাকবে। ভবিষ্যতে হিন্দু মহাসভার সদস্যরা কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন শুধু নয়, তাঁরা সযত্নে কংগ্রেস- পরিচালিত জাতীয় আন্দোলনগুলি থেকে সব রকমের সংস্রবও বাঁচিয়ে চলবেন। যদিও আশ্চর্যজনক ভাবে তাঁরা ১৯৩৯ সালে প্রাদেশিক আইনসভায় সিন্ধ এবং উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে মুসলিম লিগের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে কোনো ছুৎমার্গ দেখাবেন না। স্বাধীনতাপূর্ব ক্ষমতা-হস্তান্তর পর্বে এই হিন্দু মহাসভাই দেশভাগের কট্টর সমর্থক হয়ে দাঁড়াবে। বস্তুতঃ ভারতীয় উপমহাদেশে দেশভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা সবার প্রথমে বলবেন হিন্দু মহাসভা নেতা লালা লাজপত রাই সেই ১৯২৫ সালে (১৯২৫ সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করেন ও ১৯২৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করেন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ইস্যুতে; যদিও তার পরের বছর আবার তিনি কংগ্রেসে ফিরে আসেন); দ্বিজাতিতত্বের জন্মেরও ৫ বছর আগে। ১৯২৪ সালে কোহটের দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পাঞ্জাবকে মুসলিম ও অমুসলিম দুই ভাগে ভাগ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন; এবং বলেন 'Unity cannot be purchased at the cost of Hindu rights'[12]।


Notes:
1.Hindu Nationalism - A Reader: edited by Christophe Jaffrelot,Prineton University Press,2007 vol.,p.6
2.ibid, p.9
3.K. Jones, ‘Ham Hindu Nahin: Arya–Sikh Relations, 1877–1905’, Journal of Asian Studies, vol. 32, no. 3, May 1973.
4. Saraswati, Dayanand (1875). "An Examination Of The Doctrine Of Islam". Satyarth Prakash (The Light of Truth). Varanasi, India: Star Press. pp. 672–683. Retrieved 2 April 2012.
5.Hindu Nationalism - A Reader: edited by Christophe Jaffrelot,Prineton University Press,2007 vol.,p.10.
6.Neeti Nair: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011. p.13.
7. Lajpat Rai, A History of the Arya Samaj (Bombay: Orient Longman, 1967).
8.Bapu, Prabhu (2013). Hindu Mahasabha in Colonial North India, 1915-1930: Constructing Nation and History. Routledge. ISBN 0415671655.
9.ibid
10.R. Gordon, ‘The Hindu Mahasabha and the Indian National Congress 1915 to 1926’, Modern Asian Studies, vol. 9, no. 2, 1975.
11. Hindu Nationalism - A Reader: edited by Christophe Jaffrelot,Prineton University Press,2007 vol.,p.13.
12.Neeti Nair: Changing Homelands-Hindu Politics and the Partition of India. Permanent Black,2011. p.77-81.


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.249 (*)          Date:05 Nov 2017 -- 01:51 PM

পড়ছি।


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.249 (*)          Date:05 Nov 2017 -- 01:51 PM

পড়ছি।


Name:  I          

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:06 Nov 2017 -- 01:05 AM

হিন্দুত্ব তথা হিন্দুরাষ্ট্রের একটি পরিষ্কার রূপরেখা আমরা প্রথম দেখতে পাবো বিনায়ক দামোদর সাভারকরের লেখাতে। মারাঠী চিতপাবন ব্রাহ্মণ- বংশীয়[1] এই নেতা ব্রিটিশ-বিরোধী চরমপন্থী আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯১০ সালে ফ্রান্সের মার্সেই থেকে গ্রেপ্তার হন। তাঁকে ৫০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্দামানে দ্বীপান্তরিত করা হয়। সেলুলার জেলে থাকাকালীন তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ৪ বার ক্ষমাভিক্ষা চেয়ে পিটিশন পাঠান। নিজেকে ব্রিটিশ সরকারের prodigal son হিসেবে বর্ণনা করে তিনি আশা প্রকাশ করেন তাঁকে parental doors of the Government-এর কাছে ফিরবার সুযোগ দেওয়া হবে। বলেন "Moreover, my conversion to the constitutional line would bring back all those misled young men in India and abroad who were once looking up to me as their guide. I am ready to serve the government in any capacity they like, for as my conversion is conscientious so I hope my future conduct would be. By keeping me in jail, nothing can be got in comparison to what would be otherwise." [2] অবশেষে ১৯২১ সালে তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে প্রথমে আন্দামান থেকে মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলে স্থানান্তরিত করে এবং ১৯২৪ সালে মুক্তি দেয়। মুক্তির শর্তটি ছিল তিনি রত্নগিরি জেলা ত্যাগ করতে পারবেন না এবং আগামী ৫ বছর কোনোরকম রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হতে পারবেন না। ঐতিহাসিক বিপান চন্দ্র মনে করেন , জেল থেকে বেরিয়ে সাভারকর সে শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন; আর কোনোদিন তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী কাজকর্মে অংশ নেবেন না।

রত্নগিরি জেলে থাকাকালীনই সাভারকর তাঁর হিন্দুত্ববাদী ধারণাকে রূপ দেন "হিন্দুত্বঃ হিন্দু কে?" বইতে। হিন্দু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বইটির গুরুত্ব প্রবল।স্বঘোষিত নাস্তিক সাভারকর দাবী করেন 'হিন্দুধর্ম' হিন্দুত্ববাদের একটি অংশমাত্র, ধর্ম ছাড়াও হিন্দুত্ববাদ ও হিন্দুরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি নির্ণায়ক রয়েছে। হিন্দুরাষ্ট্রের সর্বপ্রথম নির্ণায়ক হল পবিত্র আর্যাবর্ত্যের ভৌগোলিক সীমা (সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশ-সাভারকর যাকে অভিহিত করবেন "অখণ্ড ভারত" বলে)। দ্বিতীয় নির্ণায়কটি হল জাতি- সাভারকরের মতে হিন্দু জাতি সেই বৈদিক পিতৃপিতামহের বংশধর, যাঁরা এই আর্যভূমিতে সুপ্রাচীনকাল ধরে বসবাস করতেন। অপর একটি নির্ণায়ক হল ভাষা-যা হিন্দুত্ববাদের অপর একটি স্তম্ভ। সেই ভাষা হল সংস্কৃত ও হিন্দি। সহজভাবে বললে সাভারকরের হিন্দু জাতীয়বাদ হল-'হিন্দু, হিন্দি, হিন্দুস্তান'-ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও পবিত্র ভৌগোলিক সীমার একটি সমাহার।[3]।

সাভারকরের মতে হিন্দুত্বই হল ভারতীয়ত্বর সার। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণই হল প্রকৃত ভারতীয়; কেবলমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলেই নয়, তারা এই আর্যাবর্তের প্রাচীনতম বাসিন্দা এবং সাভারকর নির্মিত 'হিন্দুত্ব'র অন্যান্য যোগ্যতাও একমাত্র তারাই পূরণ করতে পারে। বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখরাও হিন্দুত্বের এই প্রকল্পের অংশ। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিম বা খ্রীষ্টান জনগোষ্ঠী নয়, কেননা তারা বহিরাগত ও অ-ভারতীয়। তাদের অব্শ্যই ভারতীয় তথা হিন্দু সংস্কৃতিকে মেনে চলতে হবে। ব্যক্তিগত পরিসরে তারা তাদের নিজস্ব ঈশ্বরের উপাসনা ও নিজ নিজ রিচ্যুয়াল পালন করতে পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে তারা অবশ্যই হিন্দু প্রতীকসমূহ ('সিম্বল') মেনে চলতে বাধ্য। মুসলিমদের প্রতি সাভারকরের বিদ্বেষ ছিল দৃঢ়; তিনি তাঁদের ফিফ্থ কলামনিস্ট মনে করতেন, যাদের আনুগত্য শুধুমাত্র মক্কা ও ইস্তাম্বুলের প্রতি। সংখ্যালঘু হলেও তারা তাদের প্যান-ইসলামিজম ও আগ্রাসী সংগঠনের কারণে হিন্দুত্বের পক্ষে বিপজ্জনক, এই ছিল সাভারকরের মত ।[4] । মুসলিমদের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনে নিযুক্তির তিনি বিরোধী ছিলেন ; অস্ত্র কারখানায় মুসলিম মালিকানা ও নিয়োগ নিষিদ্ধ করবার দাবী করেছিলেন তিনি।

হিন্দুত্বের এই নির্মাণকে শক্তিশালী করতে সাভারকর জাতিভেদ-প্রথা ও অস্পৃশ্যতাকে সমালোচনা করেন। আর্য সমাজের পুনর্ধর্মান্তরকরণের প্রক্রিয়াটিকেও তিনি গ্রহণ করেন। তিনি নিজে বেশ কিছু ধর্মান্তরিত হিন্দুকে পুনর্ধর্মান্তরিত করেন।

সাভারকরের বিভিন্ন বক্তৃতা ও লেখালিখিতে জার্মান নাজিদলের প্রতি সুস্পষ্ট অনুরাগ দেখতে পাওয়া যায়। তিনি প্রায়শঃ জার্মানীর সংখ্যাগরিষ্ঠ জার্মান ও সংখ্যালঘু ইহুদিদের সঙ্গে ভারতের হিন্দু ও মুসলিমদের তুলনা করতেন। ১৯৩৮ সালে তিনি লেখেন "if we Hindus in India grow stronger in time, these Moslem friends of the league type will have to play the part of German Jews." এবং বলেন যে ভারতবর্ষ "must be a Hindu land, reserved for Hindus".[5]

সাভারকরের এই সংখ্যালঘু-নীতি ও ফ্যাসিবাদী ঝোঁককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন আর এস এস-এর দ্বিতীয় সরসংঘচালক মাধব সদাশিব গোলওয়ালকর। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত We or our Nationhood Defined বইতে তিনি হিটলারের নেতৃত্বে সেমিটিক জাতির পার্জিংয়ের প্রশংসা করবেন এবং বলবেন যে জাতি নির্মাণের এটি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ যা থেকে 'হিন্দুস্তান' শিক্ষালাভ করে উপকৃত হতে পারে। বলবেন ঃ "From this stand point, sanctioned by the experience of shrewd old nations, the foreign races in Hindusthan must either adopt the Hindu culture and language, must learn to respect and hold in reverence Hindu religion, must entertain no idea but those of the glorification of the Hindu race and culture, i.e., of the Hindu nation and must lose their separate existence to merge in the Hindu race, or may stay in the country, wholly subordinated to the Hindu Nation, claiming nothing, deserving no privileges, far less any preferential treatment not even citizen’s rights. .... We are an old nation:let us deal, as old nations ought to and do deal, with the foreign races who have chosen to live in our country.[6] ।

Notes:
1. মারাঠী চিতপাবন ব্রাহ্মণরা পেশোয়াদের বংশধর। এঁরা নিজেদের একইসঙ্গে পুরোহিত ও যোদ্ধা জাতি বলে মনে করতেন। ব্রিটিশ শাসনের সূচনায় মারাঠী তথা ভারতীয় রাজনীতিতে এঁদের প্রাধান্য খর্ব হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের চরমপন্থী ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বেশ কিছু নেতা এই চিতপাবন ব্রাহ্মণদের মধ্য থেকে উঠে এসেছেন। এঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন বাল গঙ্গাধর তিলক। এবং অবশ্যই বিনায়ক দামোদর সাভারকর। সাভারকরের মধ্যে এঁদের অনেকেই হিন্দু তথা পেশোয়া মারাঠী পুনরুজ্জীবনবাদের সম্ভাবনা দেখতে পান এবং সাভারকরের নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনে যোগদান করেন। উল্লেখযোগ্য, গান্ধি-হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন চিতপাবন ব্রাহ্মণ। সেই সঙ্গে
অবশ্য একথাও উল্লেখ করা উচিৎ, গান্ধি ও জিন্না উভয়ের রাজনৈতিক গুরু গোপালকৃষ্ণ গোখলে,গান্ধিবাদী বিনোবা ভাবে, সমাজসংস্কারক ও নারীবাদী পন্ডিতা রমাবাই ছিলেন চিতপাবন ব্রাহ্মণ বংশীয়।
2.Savarkar had begged the British for mercy". Times of India. Times of India. May 3, 2002. Retrieved May 29, 2015.
3.Hindu Nationalism - A Reader: edited by Christophe Jaffrelot,Prineton University Press,2007 vol.,p.15.
4. ibid p.16.
5.Griffin, Roger (2012), Terrorist's Creed: Fanatical Violence and the Human Need for Meaning, Palgrave Macmillan, pp. 120–121, ISBN 978-0-230-24129-9.
6.M.S. Golwalkar, We or Our Nationhood Defined (Nagpur: Bharat Publications, 1939), p. 47-48।






Name:  aranya          

IP Address : 172.118.16.5 (*)          Date:06 Nov 2017 -- 04:47 AM

পড়ছি। ভাল লাগছে


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.9.171 (*)          Date:11 Nov 2017 -- 05:34 PM

আজ আসছে তো?


Name:  Du          

IP Address : 57.184.42.117 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 09:48 PM

আমিও আশা করে এসেছিলাম


Name:  I          

IP Address : 53.239.82.6 (*)          Date:16 Nov 2017 -- 11:45 PM

সাভারকর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির তাত্বিক ভিত্তি তৈরী করে দিয়েছিলেন; এর সাংগঠনিক ভিতটি তৈরী করলেন হেডগেওয়ার। ১৯২৫ সালে আর এস এস তৈরীতে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বি এস মুঞ্জে, এল ভি পরাঞ্জপে, বি বি থোলকার ও গনেশ সাভারকর (শেষোক্তজন বিনায়ক দামোদর সাভারকারের দাদা )। ১৯২০ সালের নাগপুর কংগ্রেস সম্মেলনের সময় হেডগেওয়ার ও পরাঞ্জপে 'ভারত স্বয়ংসেবক মণ্ডল' নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার সদস্যদের কাজ ছিল সম্মেলনের ব্যবস্থাপনা ও দেখভাল করা। এই সংগঠনের ইউনিফর্মই আর এস এস ইউনিফর্ম হিসেবে গ্রহণ করা হল- কালো টুপি, খাকি শার্ট (পরবর্তীকালে সাদা) ও খাকি হাফপ্যান্ট। সদস্যদের লাঠি খেলা, ছোরা-ছুরি ও বল্লমচালনা শেখানোর বন্দোবস্ত করা হল। হিন্দু রাষ্ট্র ও হিন্দু জাতীয় নেতাদের গৌরবগাথা সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য তাঁদের বৌদ্ধিক শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। শিবাজীর ভাগোয়া ঝান্ডা সংগঠনের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হল। সদস্যদের সামাজিক দয়িত্ব হল হিন্দু মেলা-উৎসবে পুন্যার্থীদের দেখভাল করা; মসজিদের সামনে দিয়ে হিন্দু ধর্মীয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করা ও ঝামেলাঝঞ্ঝাট বাঁধলে প্রত্যাঘাত করা [1]

সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হেডগেওয়ার গ্রামে -মফঃস্বলে আর এস এস শাখা প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করলেন। শাখাগুলির দায়িত্বে থাকবেন একদল প্রচারক। কমিউনিষ্ট পার্টির হোলটাইমারদের মতই এই প্রচারকরা হবেন আর এস এসের সর্বসময়ের কর্মী, সংঘের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। এই প্রচারক এবং স্বয়ংসেবকরা (স্বেচ্ছাসেবী) প্রথমে সংঘকে নাগপুরে, পরে মহারাষ্ট্র জুড়ে এবং পরবর্তীকালে ভারত জুড়ে ছড়িয়ে দেবেন। ৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সময়ে আর এস এস-এর স্বয়ংসেবকদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৬ লাখ।[2]

বিশের দশকের দাঙ্গার আবহে আর এস এস-এর প্রতিষ্ঠা। হেডগেওয়ারের অবশ্য বেশ কিছু আগে থেকেই কংগ্রেসী রাজনীতির প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছিল। হিন্দু স্বার্থ রক্ষা, বিশেষ করে গোরক্ষা কংগ্রেসের অ্যাজেন্ডায় না থাকাটা হেডগেওয়ারের মত আরো অনেক তিলকপন্থীদের কখনোই তেমন পছন্দ হয় নি।[3] অসহযোগ আন্দোলনকে খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা এঁদের উষ্মা আরো বাড়িয়ে দেয়। এঁদের মনে হয়েছিল খিলাফৎ আন্দোলন চরিত্রগত ভাবে প্যান-ইসলামিস্ট ও আরব-তুর্কীস্তানের প্রতি মুসলিম -আনুগত্যের পরিষ্কার উদাহরণ। ভারতীয় মুসলিমরা যে গোষ্ঠী হিসেবে ভারতরাষ্ট্রের প্রতি অনুগত নয়, খিলাফৎ আন্দোলনকে এঁরা তার প্রমাণ হিসেবে হাজির করলেন, আন্দোলনটির সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অনুষঙ্গ সম্বন্ধে সুবিধেমত নীরব থাকলেন।

এতদসত্বেও কেন হেডগেওয়ার অসহযোগ-খিলাফৎ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, সেটা বলা মুশকিল। আর এস এস-এর একটি প্রচার-পুস্তিকা উদ্ধৃত করি ঃ ‘Doctorji disapproved of Gandhiji’s policy of launching the non-co-operation movement with Khilafat as its major plank. The Khilafat agitation aiming to restore the Caliphate in Turkey, Doctorji argued, would only breed extra-territorial religious fanaticism among the Muslims here. But he was not the one to stand aloof as a passive spectator during a national struggle merely because it did not come up to his expectations on all points.’[4] আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। মনে রাখতে হবে, তখনো অবধি তিনি কিন্তু কংগ্রেস সদস্য।

১৯২২ সালে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর অবশ্য হেডগেওয়ার আর কংগ্রেসের দিকে ফিরে তাকাবেন না। হিন্দু-মুসলিম ঐক্যসাধনের জন্য গান্ধির প্রচেষ্টাকে তিনি সমালোচনা করবেন এবং জাতীয়তাবাদকে বুঝবেন হিন্দুরাষ্ট্র স্থাপনার আন্দোলন হিসেবে। বলবেন ঃ‘As a result of the non-cooperation movement of Mahatma Gandhi the enthusiasm in the country was cooling down and the evils in social life which that movement generated were menacingly raising their head . . . . The yavana-snakes [i.e. Muslims] reared on the milk of non-cooperation were provoking riots in the nation with their poisonous hissing.’[5] ১৯২৩-এর নাগপুর দাঙ্গার বিদ্বেষ হেডগেওয়ারের হিন্দুত্ববাদকে আরো শাণিত করে। এই সময়েই তিনি বিনায়ক দামোদর সাভারকরের "হিন্দুত্ব" বইটি পড়েন। এবং অবশেষে ১৯২৫ সালে আর এস এস প্রতিষ্ঠা।

আর এস এস এর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ভূমিকা নিয়ে সংঘ পরিবার মুখর হলেও প্রকৃত সত্য এই যে সংগঠন হিসেবে আর এস এস সযত্নে ব্রিটিশ-বিরোধিতা তাদের অ্যাজেন্ডা থেকে বাদ দিয়ে রেখেছিল। এ কথার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে হেডগেওয়ার-পরবর্তী সরসংঘচালক গোলওয়ালকরের মন্তব্যে। ব্রিটিশ বিরোধিতাকে তিনি রেঅ্তিওনর‌্য দৃষ্টিভঙ্গি বলে বর্ণনা করে বলেন-'Anti-Britishism(sic.) was equated with patriotism and nationalism. This reactionary view has had disastrous effects upon the entire course of the freedom movement, its leaders and the common people.’[6] ব্রিটিশ-বিরোধিতার বিপরীতে আর এস এস -এর কাজ হবে হিন্দুত্ববাদ প্রচার ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণকে নতুন করে শারীরিক বলে বলীয়ান করা।[7] ১৯২৯ সালের লাহোর সম্মেলনে কংগ্রেস পূর্ন স্বরাজ-এর ডাক দেয় এবং আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি দেশ জুড়ে তেরঙ্গা ঝাণ্ডা উত্তোলন ও স্বাধীনতা দিবস পালনের আহ্বান জানায়। হেডগেওয়ারের নেতৃত্বে আর এস এস দিনটিকে পালন করে সংগঠনের প্রতীক ভাগোয়া ঝাণ্ডা উত্তোলন করে ও 'স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ' প্রচার করে।[8] (পরবর্তীকালেও আর এস এস -এর এই তেরঙ্গা-বিরোধিতা অব্যহত থাকবে-গোলওয়ালকরের স্বাধীনতা-পরবর্তী বক্তৃতায় যার প্রমাণ মেলে।) ১৯৩০ সালেই গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেস লবণ-আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলে হেডগেওয়ার জানালেন সংগঠন হিসেবে আর এস এস এই আন্দোলনে যোগদান করবে না; যদিও ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর এস এস কর্মী আন্দোলনে যোগদান করতে পারেন। হেডগেওয়ার স্বয়ং এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন; অবশ্য তার কারণটি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণটি জেনে নেওয়া যাক হেডগেওয়ারের জীবনীকারের লেখা থেকে-‘Dr Saheb had the confidence that with a freedom-loving, self-sacrificing and reputed group of people inside with him there,he would discuss the Sangh with them and win them over for its work...Doctor Saheb did not let the work of the Sangh get away from his mind (aankhon se aujhal nahin hone diya) even for a moment during his imprisonment. He established close links with all the leaders and activists [of the Congress] who were in prison, made them understand the work of the Sangh and obtained from them promise of cooperation in work for the future. [9]’ অর্থাৎ সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতি কোনো আনুগত্য থেকে নয়, হেডগেওয়ার জেলে গেছিলেন কেবলমাত্র দল ভাঙাতে। ১৯৩৪ সাল নাগাদ এই সব অন্তর্ঘাতকারীদের প্রতি কংগ্রেসের নজর ফেরে এবং কংগ্রেসে সদস্যদের একইসাথে আর এস এস , হিন্দু মহাসভা কিম্বা মুসলিম লিগের সদস্যপদ গ্রহণ বন্ধ করা হয়।

হেডগেওয়ারের পরবর্তী সরসংঘচালক গোলওয়ালকরও এই ব্রিটিশ-আনুগত্যের লাইন থেকে সরেন নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন তিনি ব্রিটিশ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া যাবতীয় বিধিনিষেধ বাধ্য ছাত্রের মত মেনে চলেন; এমনকি সাময়িকভাবে আর এস এস-এর সামরিক শাখাটি বন্ধ রাখেন ।[10] ১৯৪০ সালে সরকারকে আর এস এস জানাবে - "it had no intentions of offending against the orders of the Government". [11] ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন থেকেও তারা দূরে থাকবে। বিনিময়ে সরকার তাদের অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ চালিয়ে যেতে অবাধ অনুমতি দেবে।

এর বিপ্রতীপে আর এস এস সেই কাজটি চালিয়ে যাবে, যার জন্য তাদের জন্ম। তা হল 'হিন্দু আত্মরক্ষা' ও 'মুসলিম আগ্রাসন' প্রতিরোধ। ১৯২৭ সালে নাগপুরে গণেশ পূজার একটি মিছিল ঢাক বাজাতে বাজাতে মসজিদের সামনে দিয়ে যাবে; হেডগেওয়ার সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন। লক্ষ্মীপূজার দিন এরকম একটি মিছিল নাগপুরের মহল এলাকার মসজিদের সামনে এলে মুসলিমরা বাধা দেয়। বিকেলের দিকে একদল মুসলিম স্থানীয় হিন্দু মহল্লা আক্রমণ করতে আসে। আর এস এস কর্মীরা তৈরীই ছিল; মুসলিম দলটিকে তারা পিটিয়ে তাড়ায়। তিন দিন ধরে দাঙ্গা চলে; অবশেষে সেনা নামিয়ে তা থামাতে হয়। ১৯২৭-এর এই নাগপুর দাঙ্গার পর থেকেই হিন্দুসমাজে আর এস এস -এর মর্যাদা ও প্রতিপত্তির বেশ বাড়বাড়ন্ত হয় ।[12]

Notes
1.Jaffrelot, Christophe (1996), The Hindu Nationalist Movement and Indian Politics, C. Hurst & Co. Publishers, ISBN 978-1850653011 pp 33-39.
2. J.A. Curran, Militant Hinduism in Indian Politics—A Study of the RSS (N.P.: Institute of Pacific Relations, 1951).
3.Andersen, Walter. “The Rashtriya Swayamsevak Sangh: I: Early Concerns.” Economic and Political Weekly, vol. 7, no. 11, 1972, pp. 589–597. JSTOR,JSTOR,www.jstor.org/stable/4361126.
4.H.V. Seshadri (ed.), Dr Hedgewar the Epoch Maker (Bangalore: Sahitya Sindhu,
1981), p. 50.
5.Tapan Basu, Pradip Dutta, Sumit Sarkar, Tanika Sarkar and Sanbudh Sen, Khaki Shorts, Saffron Flags (Hyderabad/New Delhi: Orient Longman, 1993), p. 14.
6.M.S. Golwalkar, Bunch of Thoughts (Bangalore: Sahitya Sindhu Prakashana, 1996),
p. 138.
7.Jaffrelot, Christophe (2010). Religion, Caste, and Politics in India. Primus Books. p. 46. ISBN 9789380607047.
8.Shamsul Islam, RSS and the Raj, Religion, Power and Violence: Expression of Politics in Contemporary Times, Ed. Ram Puniyani , Sage Publication ,1 June 2005 edition, p. 141.
9.C.P. Bhishikar, Sangh-viraksh Ke Beej: Dr Keshav Rao Hedgewar (New Delhi: Suruchi
Prakashan, 1994), p. 9.
10. Andersen, Walter K.; Damle, Shridhar D. (1987), The Brotherhood in Saffron: The Rashtriya Swayamsevak Sangh and Hindu Revivalism, Delhi: Vistaar Publications.
11. Sumit Sarkar (2005). Beyond Nationalist Frames: Relocating Postmodernism, Hindutva, History. Permanent Black. pp. 258–. ISBN 978-81-7824-086-2.
12.Tapan Basu, Pradip Dutta, Sumit Sarkar, Tanika Sarkar and Sanbudh Sen, Khaki Shorts, Saffron Flags (Hyderabad/New Delhi: Orient Longman, 1993)pp. 19-20.

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2]     এই পাতায় আছে7--37