এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2


           বিষয় : দূর শহরেরে কাছ থেকে
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Parvej Khan
          IP Address : 57.11.4.189 (*)          Date:20 Oct 2017 -- 08:18 AM




Name:   Parvej Khan           

IP Address : 57.11.4.189 (*)          Date:20 Oct 2017 -- 08:18 AM

বিলাসপুরি মানসিকতা থেকে বেরোতে পারলাম না(বিলাসপুরের মানুষ বা যাদের নাম বিলাস কাউকেই উদ্দেশ্য করে বলছি না একদমই) তাই ৯ ডায়াল করেই 'আন্না চায়ে কে লিয়ে কিসিকো ভেজ দো না'.. আন্না আসে ২০ টাকা হাতে দিয়ে চা আনতে পাঠিয়ে দেওয়াটাই রোজকার অভ্যাস, রোজ মানে এই এইপ্রদেশে যদ্দিন আছি।সুস্থ সবল দেহ,ইচ্ছে করলেই একটা গোল গলা গেঞ্জি গলিয়ে পাঁচ তলা নেমে মোড় টা থেকে চা খেয়ে আসা যায়,কিন্তু সেই ইচ্ছেটাই বড্ড কম হয়।
আগের দুবার ও এবার নিয়ে এই তিনবার গত তেরো মাসে এলাম এবং প্রত্যেকবার সেই একই রুট, চেনাই ভাল- নেল্লোর নেমে সোজা বাস স্ট্যান্ড, সেখান থেকে ঘন্টা পাঁচের বাস জার্নি করে কাডাপা (এখন নাম বদলে কুডাপা হয়েছে) নিউ বাস স্ট্যান্ড, আর সেখান থেকে অটো করে সোজা বিষ্ণুপ্রিয়া লজ,সেভেন সার্কেল।অটো নামিয়ে দেয় তারপর সবাই টেনে হিঁচড়ে সেই লাগেজ গুলো প্রথমে একতলা,অফিস, ঘরের বন্দোবস্ত করে চাবি আর রিমোট নিয়ে সোজা পাঁচতলা,ঘরে যখন ঢোকা হয় এক এক করে বিভিন্ন সেনসারি অর্গানগুলো খবর পাঠাতে থাকে- 'অনেক বয়েছ বাবা, হাতের মাসলগুলো ব্যথা হয়ে আছে' 'আগের দিন কিন্তু স্নান হয়নি শিগগির স্নানে যাও' পরনে গেঞ্জি টা ততক্ষণে ঘাম আর বডি স্প্রে মেশানো অন্য গন্ধ ছাড়ছে - মানে সেটাও ধুয়ে মেলে ফেলো এই রাত্রির বেলা, তারপর প্রথম রাতের খাবার খেতে বেরুতে হবে আবার।নেমে সামনেই একটু খানি, রাত সাড়ে নটা অবধি খোলা থাকে দোকানটা, প্রত্যেকবার এসে প্রথম রাতের খাবার টা ওখানেই খেতে যেতে হয়,অন্য কোনো উপায় থাকেনা,তারপর মাঝে সাজে এক আধ বার।দেখলেই চিনতে পারে সে দোকানের মালিক, হিন্দিতে জিজ্ঞেস করে 'কবে এলাম' 'কদ্দিন আছি' এসব।চাপাটি ডিমভাজা বা ভাত পাপ্পু(ডাল) দিয়ে খিদে নিবারণ করতে হয়, ভালো না লাগলেও।
যতবার এসেছি প্রতিবার দেখেছি লজের মালিক একই থাকে শুধু কর্মচারীরা পালটে পালটে যায় প্রত্যেকবার।কাডাপা ডিসট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার, নেল্লোর থেকে আসার পথে বাসে বসে,কানে হেডফোন গুজে অঞ্জন বা কবীর সুমনের গান শুনতে শুনতে দেখেছি শুধু পথ চলে যায় তো চলেই যায়, রাস্তার দুদিক ঘেরা শুধু ছোটোখাটো পাহাড়, তাকে ঘিরে অল্প বিস্তর জঙ্গল, অথবা ফাঁকা মাঠ আর মাঠ। ঘরবাড়ি,বাজার ঘাট প্রায় নেই। ঘন্টা দেড় পরে পরে একটা ছোটোখাটো বাজার আসত, সেখানে একটু দাঁড়াত বাসটা তারপর আবার একই।লোকজন যা উঠতে দেখতাম বেশিরভাগ ই মহিলা,এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী,আমাদের এখানকার মতো এত ভীড় না যে ঠেলে ঠেলে শুধুই বাসের পিছনে পাঠাবে। তবে ফাঁকা মাঠ আর ছোটোখাটো পাহাড় গুলো, জানলা দিয়ে আসা হাওয়া আর কানে গান কিন্তু জার্নিটাকে মাত করেই রাখে।
এবারও ব্যতিক্রম নয়, আগেরবার যাদের দেখেছিলাম মালিক বাদ দিয়ে লজে তাদের কেবল একজন, লোকটি কথা বলতে পারেনা।তাই হয়ত একাই টিকে গেছে।প্রথমত আমরা কেউ ই তেলেগু জানিনা, তাই একমাত্র মাধ্যম কাটা,কাটা হিন্দি, ইংরাজি খুব কম জায়গায়।কথা না বলতে বা বুঝতে পারলেও সম্পর্ক হয়ে যায় তার উদাহরণ ওই খাবারের দোকানের সুব্বু।ওখানে কাজ করত।সে আমাদের কিছুই বুঝত না,আমরাও তার কোনো কথা বুঝতাম না তবু তার সাথে অনেক কথা হয়েছিল শেষবার যখন আসি,একদিন অন্য হোটেলে নিয়ে গিয়ে খাইয়েছিলও,বলেছিল রেস্টুরেন্ট নিয়ে যাবে,আমরা কেউ রাজি হইনি,কিন্তু শেষ অবধি সে ছাড়েনি।এবার ও এসেছিল লজে গল্প করতে।কিন্তু লজের এই কথা না বলতে পারা কর্মী টার নাম জানিনা।আমার ঘরের টিভিটা কাজ করছেনা বলে ডাকলাম একদিন, আকার ইঙ্গিতে বলল 'ও ঠিক হবেনা,মালিককে বললেও করবে না' আগেও আমদের দেখেছে,হয়ত চেনার খাতিরেই বলল 'সব ছেড়ে দিয়েছে,যারা ছিল, আমি একা রয়ে গেছি''মালিক মারে,ভাল করে খেতে দেয়না'..
সকালে ওখানে শিঙাড়া চপ এসব বিক্রি হয় নয়ত ইডলি ধোসা, কিন্তু মুখে রুচত না, আমাদের তো ওসব আর সকালে খাওয়ার অভ্যাস নেই।তাই সকালে কি খাওয়া যায়, বিশেষ করে পরীক্ষার দিনগুলো! কি খাওয়া যায়, কি খাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে বার হল রুটি আর মাখন। রুটি সহজলভ্য। মাখন কোথায় পাই, দুজন মিলে বেরিয়ে সবদিক খুঁজলাম, এ বলে এখানে যাও,ও বলে আমূলের কাছে, সে বলে স্টেট ব্যাংকের কাছে, কোথাও না পেয়ে ঘুরতে ঘুরতে একজন একটা ঠিকানা দিল এবং সেটা লজের ঠিক সামনে।'আন্না বাটার হ্যায় ক্যায়া?' উত্তর এল 'ক্যায়সে হো' 'সব আচ্ছা?' পিঠে হাত রাখল, প্রথমে মুখের দিকটায় তাকাইনি, পরে দেখলাম আরে আন্না কে তো আগের দুবার লজে দেখতাম,আমরা চা আনতে বললে ভাল চা এনে দিত।দেখে ভাললাগল। বললাম আন্না আপ ক্যায়সে হো... হিন্দিতেই বলল,তার বাংলা তর্জমা - লজ ছেড়ে দিয়েছি,এটা নিজের দোকান, ওখানে ঠিকমত টাকা দিতনা,বাজে ব্যাবহার করত, ছেড়ে দিয়েছি,এটা এখন নিজের।কাঁহাতক সহ্য করা যায়,নিজের মত স্বাধীন, কারো ভরসায় না,মালিকের শোষণ থেকে মুক্ত, নিজেই নিজের মালিক।পেটে খেলে তবে না পিঠে সয়। ধাক্কা আর সঠিক স্বপ্ন অনেক কিছু এনে দিতে পারে। দেখে খুব খুব ভাল লাগল,অন্যরকম একটা অনুভূতি হল।বাটার পাওয়া গেল না।সেখান থেকে একটা কোল্ডড্রিংকস নিয়েই চলে এলাম।


Name:  aranya          

IP Address : 83.197.98.233 (*)          Date:20 Oct 2017 -- 12:28 PM

ভাল লাগল

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2