এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : বাজে কথা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Sanchayita Biswas
          IP Address : 178.235.195.148 (*)          Date:17 Oct 2017 -- 01:14 AM




Name:   Sanchayita Biswas           

IP Address : 178.235.195.148 (*)          Date:17 Oct 2017 -- 01:15 AM


দমদম জংশন থেকে সন্ধ্যাবেলার ট্রেনে উঠেছি…আমি আর মা।পলতায় যাবো…মামাবাড়ি।হুশ করে ট্রেন এসে দাঁড়ালো।হুড়মুড়িয়ে লোক নামলো।দুদ্দাড় করে উঠে গেলাম ভিড়ের ঠেলায়।উঠে টের পেলাম মা আলাদা হয়ে গেছে ভিড়ের চাপে।মায়ের কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি,"মামন…মামন…।"দেখতে পাচ্ছি না।পাবোই-বা কি করে!আমি তো সবে দশ কি এগারো…পাঁচ ফুট অবধি কি তখনো পৌঁছেছি!?আমি কোনোরকমে সাড়া দিলাম মায়ের ডাকের।মা আমার কন্ঠস্বর আন্দাজ করে ভিড় ঠেলে এগোনোর চেষ্টা করছে।আর আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি!কেন?কারণ প্রথমবার টের পাচ্ছি ফুলপ্যান্ট-শার্টপরা এই লোকেদের থেকে ফ্রকপরা এই আমি একদম আলাদা…নতুবা এতো হাত কেন আমার চারদিকে??!!আমার দমবন্ধ কান্না পাচ্ছে…।মা কিরকম করে আমায় উদ্ধার করেছিলো,সেটা নিতান্তই ধোঁয়াশা আমার স্মৃতিতে।শুধু প্রতিবার জেনারেল কম্পার্টমেন্টে উঠতে বাধ্য হলে সেই সন্ধ্যার স্মৃতি দগদগে হয়ে ওঠে।মনে মনে তৈরী হই যুদ্ধের জন্য…কনুই তাগ করে ব্যাগটাকে মোটামুটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখি…

আজকের এই #me_too পোস্টটা দেখতে দেখতে একজনের কথা মনে এলো।কারণে-অকারণে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরা কিংবা খেলাচ্ছলে বাচ্চাদের হাত নিয়ে তাঁর দুই পায়ের ফাঁকে রাখাটা সেই বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটির অভ্যেস ছিল।আমাদের বাড়িতে তাঁর আগমনবার্তা ঘোষিত হলে,আমি পারদের ভূমিকায় অভিনয় করতাম!আমাদের দশ ফুট বাই বারো ফুটের ঘরগুলোর যে প্রান্তের চেয়ারে উনি বসতেন,তার থেকে সর্বাধিক সরলরৈখিক দূরত্ব আমি সবসময় বজায় রাখতাম।এতো বছর পরে জানতে ইচ্ছে করে তাঁর এই লতানে-রোগটা সেরেছে কিনা!

এম.এ. পড়ার সময় একটা বাড়ির একতলায় পেয়িং গেস্ট থাকতাম কয়েকটি মেয়ে।গোয়াবাগানের দিকে যেতে অন্ধগলির মধ্যে ছোট একটা বাড়ি।গলির সামনেই ঘর।গ্রীষ্মের শুরুতে জানলা খুলে দিয়ে পড়াশুনো করছিল ফোর সিটার রুমের এক দিদি।মাঝরাতে তার বিকট চিৎকারে জেগে উঠলো গোটা বাড়িটা!জানলার বাইরে শিক্ ধরে ঝুলছে উলঙ্গ এক পাগল…নারী দর্শনে তার বিকৃত মস্তিষ্কের উত্তেজনার ফসল ছড়ানো গোটা জানলায়!

সত্যিই,একেক সময় ভাবি,পাগলেও রেহাই দেয় না আমাদের!স্টেশন চত্বরের এক পাগল মেয়েদের সামনে এসে প্যান্ট খুলে দাঁড়িয়ে পড়ে!ভীষণ ব্যস্ত রাস্তায়ও কারা যেন নারী শরীর ছোঁয়ার খেলায় মেতে ওঠে!র্ ্যান্ডম কোনো নম্বরে ফোন করে নারীকন্ঠ পেলে কানের কাছে ফিসফিস করে নোংরা কিছু কথা বলে নেয় কেউ কেউ!যতই বলি,নিজে না চাইলে কেউ তোমাকে অপমান করতে পারবে না…তারপরেও ভীষণ একটা কষ্ট গলায় কাছে দলা পাকিয়ে থাকে…পায়ের তলায় টিকটিকির গু লেগে যাওয়ার মতো ঘিনঘিনে অনুভূতি…পেটপাকানো আঁশটে গন্ধ…!

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1