এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : ইতিহাসবিদ সতীশ চন্দ্র
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :সৌভিক
          IP Address : 59.203.248.24 (*)          Date:15 Oct 2017 -- 08:53 PM




Name:  সৌভিক          

IP Address : 59.203.248.24 (*)          Date:15 Oct 2017 -- 08:53 PM

চলে গেলেন মধ্যযুগের ভারত ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার সতীশ চন্দ্র।

অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতবর্ষের ওপর সতীশচন্দ্র বেশ কিছু কাজ করেছেন যা একেবারেই অভিনব। ১৯৮৬ সালে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে বেরিয়েছিল অষ্টাদশ শতকের ভারতের অর্থনীতি এবং তাতে মারাঠা জাঠ শিখ আফগানদের অবদান নিয়ে এক গুরূত্বপূর্ণ কাজ। পরের বছর ১৯৮৭ তে বেরোয় সমগ্র মধ্যযুগের ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে করা তার কাজ।
১৯৯৩ তে বাবরি মসজিদ ভাঙা, রামমন্দির আন্দোলনের সেই তীব্র পর্বে বেরোল মুঘলদের ধর্মনীতি সম্পর্কে নতুন তথ্যের আলোতে দেখা সতীশ চন্দ্রের কাজ। মুঘলদের রাজপুত নীতি ও দাক্ষিণাত্য নীতি এখানে বিশ্লেষিত হল ও আগে ঐতিহাসিকেরা বিচার করেন নি, এমন অনেক দিককে এখানে তিনি তুলে আনলেন। বেশ কিছু বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে যদুনাথ সরকার এর কাজের সঙ্গে একটি বিশ্লেষণী তর্ক তিনি হাজির করলেন এখানে। মধ্যযুগের ভারতে ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কটি তিনি আবার ফিরে দেখলেন ১৯৯৬ তে প্রকাশিত তাঁর বইতে, তুললেন ইতিহাসচর্চার দর্শন নিয়ে কিছু আলোকসম্পাতী প্রশ্ন।
এরপর ১৯৯৭ তে প্রকাশিত হল তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ দুইখণ্ডে লেখা মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস। মধ্যযুগের ভারত বা মিডাইভাল ইন্ডিয়া একদিকে এই বিষয়ের ওপর এক সর্বাঙ্গীন পাঠ্যগ্রন্থ আবার অন্যদিকে পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনবাদী সীমা অতিক্রম করে প্রশ্ন উশকে দেওয়া ও ভাবনার অজস্র চিহ্ন রেখে যাওয়ার মতো উপাদান সমৃদ্ধ।
সতীশচন্দ্র জায়গিরদারী বন্টন ও সেইসূত্রে মুঘল দরবারের রাজনীতির যে তথ্যসমৃদ্ধ বিশ্লেষণ করেছেন তা এইক্ষেত্রে মাইলফলক। ১৯৯৮ তে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে সতীশ চন্দ্র দেখিয়েছেন আওরঙ্গজীবের মৃত্যু পরবর্তী তিন দশকে মুঘল দরবারের রাজনীতি কীভাবে জায়গীরদারী বন্টনের প্রশ্নটি দ্বারা গভীরভাবে আবর্তিত হয়েছে।
ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য সম্পর্কে একগুচ্ছ প্রবন্ধ প্রকাশিত হল ২০০৮ এ। আজকের ভারতের নির্দিষ্ট প্রেক্ষিতে এই বইটি বহুত্ববাদের জন্য সংগ্রামরত মানুষের এক বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠার উপাদান সমৃদ্ধ। সতীশ চন্দ্র চলে গেলেন। আমাদের দায়িত্ব রইলো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বহুত্ববাদের লড়াইকে শক্তিশালী করার।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1