এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : শুধু কলকাতা নয়, এদেশের হিন্দুরাও যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হোক তা চায়নি!
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :রাজু
          IP Address : 72.210.129.246 (*)          Date:09 Oct 2017 -- 09:37 PM




Name:  রাজু          

IP Address : 72.210.129.246 (*)          Date:09 Oct 2017 -- 09:38 PM

শুধু কলকাতা নয়, এদেশের হিন্দুরাও যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হোক তা চায়নি!
-----
১৯০৬ সালের বঙ্গভঙ্গ ও তদপরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে আমাদের দেশের গতানুগতিক ইতিহাসগুলোতে বর্ণিত রয়েছে যে, কলকাতার হিন্দুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল। আসলে কথাটা আরেকটু খোলাসা করে বললে বলা যায়, বাংলার সমস্ত হিন্দুরাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল, হোক তার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে কিংবা এদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট কিংবা অন্য যে কোন শহরে।

কারণ ব্রিটিশ আমল পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলার হিন্দুদের কেন্দ্র ছিল কলকাতা। কলকাতা মূলত একটি কৃত্রিম শহর, যে শহরটি ব্রিটিশ খ্রিস্টান আর তাদের সহযোগী বঙ্গীয় হিন্দুরা মিলে কতগুলো গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছিল। এর কারণ, হিন্দু ও খ্রিস্টানরা ক্ষমতা পেয়ে মুসলিম শাসনের সমস্ত চিহ্ন মুছে দিতে চেয়েছিল। এ লক্ষ্যে তারা মুসলিম শাসনকালীন যেসব মূল সমৃদ্ধ শহর, তথা ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, চট্টগ্রাম এগুলোকে একপাশে ঠেলে দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন করে নিজেদের একটি অঞ্চল তৈরী করতে চেয়েছিল, যা পূর্ববর্তী মুসলিম শাসনের প্রতিনিধিত্ব করবে না।

ফলশ্রুতিতে যখন ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দিল, তখন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে জন্মগ্রহণকারী হিন্দুরা প্রত্যেকে ঘোষণা দিল, তারা বঙ্গভঙ্গ চায় না, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চায় না। বঙ্গভঙ্গ ও তৎপরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে যারা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা হলেন নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব সাইয়্যিদ নওয়াব আলী চৌধুরী। একবার সাইয়্যিদ নওয়াব আলী চৌধুরীর কিশোরগঞ্জে আগমনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য রীতিমতো ঘরে ঘরে অস্ত্র মজুদ করা শুরু করেছিল।

কিশোরগঞ্জে জন্ম নেয়া প্রাবন্ধিক নীরদ সি চৌধুরী তার আত্মজীবনীতে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছে-
Trunkfuls of pistols and ammunition had been passed from house to house; swords, spears, and even bows and arrows had been collected in large quantities. Every hindu house would have been defended by men practiced in arms, and blood would have flowed had there been a clash.
(তথ্যসূত্র: দ্য অটোবায়োগ্রাফি অফ অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান, নীরদ সি চৌধুরী, পৃষ্ঠা ২৭৬)

কিশোরগঞ্জের হিন্দুরা ঘরে ঘরে ট্রাঙ্কভর্তি বন্দুক, পিস্তল, তরবারি, বল্লম মজুদ করা শুরু করেছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে তা রদ করা তথা নিজের জন্মভূমির উন্নতিকে স্তব্ধ করে দেয়া। পরবর্তীতে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে আসল, তখন এদেশের সিলেটে জন্ম নেয়া উগ্র হিন্দু নেতা বিপিনচন্দ্র পাল বক্তব্য দিল-
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অশিক্ষিত ও কৃষক বহুল পূর্ববঙ্গের শিক্ষাদান কার্যে ব্যাপৃত থাকতে হবে; পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণের শিক্ষানীতি ও মেধার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকবে না।” (ঢাকা প্রকাশ, ১১ ও ১৮ই ফেব্রুয়ারি- ১৯১২)

এদেশের হিন্দুদের প্রবল বিরোধিতার মোকাবিলা করে ঢাবি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে। এর পর প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বা রাবি, ১৯৫৩ সালে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে, জাহাঙ্গীরনগর ১৯৭০ সালে। অর্থাৎ সাতচল্লিশের আগে এদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত আর কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং না হওয়ার মূল কারণটাই হচ্ছে বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে কলকাতাকে আপন মনে করা হিন্দুদের বিরোধিতা।

উল্লেখ্য, এটি মানুষের স্বাভাবিক স্বভাব যে, সে তার জন্মস্থানের উন্নতি চায়। ক্ষমতা পেলে কিংবা টাকা হাতে আসলে প্রত্যেকেই তার জন্মস্থানে মাদ্রাসা-মসজিদ থেকে শুরু করে কল-কারখানা, অবকাঠামো তৈরী করে। বিএনপি আমলে এদেশে বগুড়ার উন্নতি হয়েছে, আওয়ামী আমলে হয়েছে টুঙ্গিপাড়ার, জাতীয় পার্টির আমলে এদেশে রংপুরের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু হিন্দুদের বিষয়টি উল্টো। এ অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী হিন্দুরা যখন ব্রিটিশআমলে ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল, তখন তারা এই অঞ্চলের উন্নতির পরিবর্তে এদেশের ধনসম্পদ জোঁকের মতো টেনে নিয়ে কলকাতার উন্নতি করেছিল।

পরিশেষে বলতে হয়, এদেশের হিন্দুরা যখন দেশ ছেড়ে কলকাতায় গমন করে, তখন তার কারণ হিসেবে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’কে খাড়া করা হয়। আরে ইডিয়েট! হিন্দুরা কি আজকে থেকে কলকাতায় যাচ্ছে? জন্মভূমির বিরোধিতা করে কলকাতাকে তারা আপন করে নিয়েছে ২৫০ বছর আগে পলাশীর প্রান্তরে তাদের ইংরেজ প্রভুদের বিজয়ের পরেই।

ফলশ্রুতিতে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সব হিন্দুদের আদি নিবাসই হচ্ছে এই বাংলাদেশের কোন না কোন অঞ্চল। বর্তমানে এদেশের মিডিয়াতে কলকাতার হিন্দুরা যখন বাংলাদেশকে দাদার বাড়ি, মামার বাড়ি বলে বক্তব্য দেয়, তখন বাংলাদেশের মুসলমানরা বোকার মতো ঐসব ক্যালকেশিয়ানদের সাথে কেঁদে বুক ভাসায়। কারণ তারা ইতিহাস জানে না। তারা জানে না যে, বাংলাদেশে জন্ম নেয়া ঐসব দেশদ্রোহী হিন্দুদের কারণেই ব্রিটিশআমলের ২০০ বছর ধরে আমাদের এই বাংলাদেশটাকে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল।


Name:  b          

IP Address : 59.35.14.98 (*)          Date:09 Oct 2017 -- 11:02 PM

দেশদ্রোহী হিন্দু মানে যারা মীরজাফরের ডেকে আনা প্রভুদের বিদায় করেছিল তো ? খুবই অন্যায় কাজ সন্দেহ নেই | খাগড়াগড়ে এদের দোজখের রাস্তা বানানো হয়েছে |


Name:  b          

IP Address : 24.139.196.6 (*)          Date:11 Oct 2017 -- 10:18 AM

আচ্ছা ইয়ে, আমি এখানে b নামে লিখি। উপরে ৯ অক্টোবর ১১ঃ০২ অন্য একজন।

চাইলে বি১,বি২ এসবে ল্যাখতে পারেন। কি জ্বালা রে ভাই। নিক গিয়েছে চুরি।



এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3