গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--19


           বিষয় : সহজ পাঠের গপ্পো আর বিলু রাক্ষস
          বিভাগ : সিনেমা
          শুরু করেছেন : Anirban Maity
          IP Address : 113.220.210.76 (*)          Date:11 Sep 2017 -- 10:40 AM




Name:   Anirban Maity           

IP Address : 113.220.210.76 (*)          Date:11 Sep 2017 -- 10:41 AM

আজ দিন দশেক হল বিলু রাক্ষস পর্দায় আছে, সহজ পাঠের গপ্পো দুদিন হল যাত্রা শুরু করেছে। গত একবছর ধরে আমি এই ছবিদুটো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে আসছি। আজ সময় এসেছে কিছু কথা বলার। আমাদের ক্ষমতা খুব সীমিত আমরা চেষ্টা করব, হ্যাঁ আবারও করব নিপাট বাংলা ছবি, বাংলার ছবিকে মানুষের সামনে আনার। কিন্তু সেই চেষ্টায় দর্শকের পাশাপাশি সিনেমা ব্যবসায়ীদের ও সমান উদ্যোগী হতে হবে। আমাদের স্টারকাস্ট হীন সিনেমা, হলগুলি রাখতে চায় না। ডিস্ট্রিবিউটর দায় নিতে চায় না। টিভি চ্যানেলগুলো প্রোমোট করতে চায় না। এমনকি স্যাটেলাইট রাইট বেচতে গেলেও দাম পাওয়া যায় না। আমরা মাখমল বাফ, হেনিকি, মাজিদি, পানাহি দেখে আহাউহু করব আর আফসোস করব আমাদের দেশে এমন ছবি কেন হয় না? কিন্তু কেউ যদি সেই চেষ্টা করে তাকে কোনভাবে সহায়তাও করব না দুটো পাশাপাশি হয় কি করে?

এটা যে শুধু ব্যবসায়ীরা করছেন তাও নয়। নন্দন কর্তৃপক্ষ অবধি সহজ পাঠের গপ্পোকে জায়গা দিতে চান নি। বিলুকে কোনক্রমে নন্দন দুই দিয়েছেন। ফলাফল দেখুন বিলু রোজ হাউজফুল যাচ্ছে। আমরা কোন করুণা চাইছি না। আমাদের জমি আমরা ঠিক বানিয়ে নেবই। এটা আমাদের জেদ, আমাদের লড়াই। আজকে যে নন্দন আমাদের কে ফিরিয়ে দিচ্ছে, যে চ্যানেল বলছে স্টার না থাকলে লাইভ করব না অথবা যে ডিস্ট্রিবিউটর নাক সিঁটকাচ্ছেন তাদের কাছে আমাদের চ্যালেঞ্জ রইল বাংলা সিনেমার জন্য একদিন এই মানস মুকুল বা ইন্দ্রাশিসদা, অয়নদা, প্রদীপ্ত বা মিকিদাদের মত পরিচালকদের কাছেই হাত পাততে হবে। আপাতত আপনারা পরীক্ষিত বাজার নিয়ে আটকে থাকুন। নতুন সিনেমার ঝড়ে সেই বাজার আমরা ভাঙব, ভাঙবই। কারণ দূরদৃষ্টিহীন ব্যক্তি কখনো সফল ব্যবসায়ী হতে পারে না। বড়জোর ফোড়ে হতে পারে। আর ফোড়েদের দম হবে না ঝড় আটকানোর।


Name:  কল্লোল          

IP Address : 233.227.56.107 (*)          Date:11 Sep 2017 -- 12:29 PM

দুটোই দেখবো টিকিট কেটে। কিন্তু এই মাধ্যমটি প্ৰচণ্ড খরচ সাপেক্ষ। খরচ শুধু নন্দন ২ দিয়ে উঠবে কি? হল মালিকেরা জায়গা দেবে না। সেটাই স্বাভাবিক। ছবি হিট হলেও দেবে না। প্রদীপ্তের ইন্টারভিউ মনে পড়ছে। ওকে বারবার ডিসট্রিবিউটাররা বলছে , এত কম বাজেটে ছবি বানাবেন না। ওদের কায়েমি স্বারথে টান পড়ে।


Name:  mila          

IP Address : 22.5.49.74 (*)          Date:11 Sep 2017 -- 11:19 PM

netflix/databazar media erokom kono platform e asbe?


Name:  কল্লোল          

IP Address : 233.227.27.241 (*)          Date:12 Sep 2017 -- 09:15 AM

এইটা ভাবা দরকার। ভাবা দরকার আন্দোলন হিসাবে। বিকল্প দেখানোর ব্যবস্থা। এক সময় ফিল্ম ক্লাব আন্দোলন এটা করেছে। এখন তো সেগুলোরই টিঁকে থাকা দায়।
যেভাবে অঙ্গনমঞ্চের নটকদলগুলো নাটক করে বেড়ায় সেভাবে কিছু ভাবা যায়? শোএর পর গামছা পেতে টাকা তোলা।
একই সাথে খুব ছোট ফিল্ম। এক, দুই, পাঁচ মিনিটের। যার খরচ খুবই কম। সেগুলো একসাথে দেখানো যেতে পারে কি?



Name:  প্রতিভা          

IP Address : 37.5.133.191 (*)          Date:12 Sep 2017 -- 11:15 AM

সহজ পাঠের গপ্পো : পরিচালক, মানসমুকুল পাল।

সিনেমাটা কাল দেখতে গেছিলাম এইকথা শুনে যে নন্দন প্রেক্ষাগৃহে দেখাবার যোগ্য ছবি এটি নয়।

কার্ণিভ্যালে বিকেলের শোতে অর্ধেকের বেশি সীট ভর্তি দেখে একটু অবাক তাই। এরপরে দেখা দুই ভাইয়ের মাছধরা, বৃষ্টিতে ভেজা, মায়ের হাতের উত্তমমধ্যম, আস্ত ডিমের উল্লাস, তাল কুড়োনো, হরেক খুনসুটি আর সেই হাহাকার যা মিশে যায় হরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে।
সারল্যমাখা মুখদুটোর অনেক অনুভূতি আমি ছুঁতে পারি। কারণ পেটে ছুরি চালানো দারিদ্র্য না থাকলেও অনেকটা এইরকম ছোটবেলাই কাটিয়ে এসেছে আমার প্রজন্ম। কোথাও নেমন্তন্ন হলে বেসরম খুশি, না হলে সে কি হতাশা ! যেন জীবনটাই শেষ।
এখন তো সমস্যা প্রাচুর্যের। জাঁক দেখানো নিমন্ত্রণ, যতো না ভালো খাবার আর আনন্দের হাতছানি, তার থেকে ঢের বেশি স্ট্যাটাস, সেলিব্রেটি সহযোগে সেল্ফি। সেখানে দাঁড়িয়ে ছোটুর কান্না বুঝবে কিনা শহুরে কৈশোর জানা নেই, কিন্তু তার ট্যাটু আর মাঝরাতের জন্মদিনের বাইরেও যে পড়ে আছে একটা বিরাট খোলামেলা পৃথিবী, যেখানে স্কুলছুটের কান্না মোছাবার কেউ হামেশা হাজির থাকে না, এই বোধ তার মাথার ভেতর ঢুকে পড়বে নিশ্চিত।
না, সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ ইত্যাদির কথা বলছি না। আমি সিনেফাইল বা সমালোচক কোনটাই নই। বাস্তববাদী হব ভাবি, তাই হাহাকার মেশা হরিনামেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। ভুল ভাঙলো কাশফুলের ঘেরাটোপে শুয়ে থাকা দুভাইয়ের কথা শুনে। তারা জানে এবং জানেই সব আবার ঠিক হয়ে যাবে, তাই কে কাকে সবচাইতে বেশি ভালবাসে এটা বুঝে নেবার সঠিক সময় এটাই, যখন মাথার ওপর বকের ডানায় ভাসতে থাকে ওদের ছোট ছোট স্বপ্ন আর আশা, জীবনের অগুন্তি সহজপাঠ। ক্যামেরাও অনেকক্ষণ ধরে রাখে সেই উড়ান।

অভিনয় এ ছবির সম্পদ। দুই শিশু আর তাদের মায়ের তো কথাই নেই, ছোট দু এক আঁচড়ের চরিত্রগুলোও অনবদ্য।
স্বপ্নদৃশ্যগুলি অসম্ভব যত্ন দিয়ে তৈরি আর দুই পর্বের দুই ক্ল্যাইমাক্সও ধরা রয়েছে তাতে। দুটোরই মনস্তাত্ত্বিক ধার খুব বেশি। প্রথমটির পর গোপাল হঠাতই বড় হয়ে যায়, দ্বিতীয়টির পর নিমন্ত্রণ-নিশ্চিত-করতে-চাওয়া ছোটু কষ্টের nadir ছুঁয়ে ফেলে অন্যদের ডাকাডাকিতেও পাত পাততে যায় না।

এইরকম নির্মেদ, ত্রুটিহীন ছবিতে ছেলের জ্বরতপ্ত কপালে রাখা মায়ের হাতে ম্যানিকিওরড নখ বেমানান। অনেকে সত্যজিতের প্রভাব নিয়ে বলছিলেন। কিন্তু তাকে আত্মস্থ করেই অনন্য হয়ে উঠেছে সহজপাঠের গপ্পো।

ছবিটি দেখার পর বুঝলাম যে কোন কারণেই হোক তারকাখচিত নন্দন প্রেক্ষাগৃহই এই সরল সৌন্দর্যকে ধারণের অযোগ্য।


Name:  PT          

IP Address : 213.110.242.5 (*)          Date:12 Sep 2017 -- 11:35 AM


https://www.youtube.com/watch?v=K7G1xe-Ugn4


Name:  জারিফা          

IP Address : 125.118.217.178 (*)          Date:14 Sep 2017 -- 08:48 AM

সহজ পাঠের গপ্পো
পরিচালনা : মানস মুকুল পাল
অভিনয় : সামিউল আলম, নূর ইসলাম, স্নেহা বিশ্বাস
----------------------------------------------------------------------

স্কুলপাঠ্য ছিল সে গল্প। তাল নবমী। পড়তে পড়তে যে কখন হারিয়ে গেছি সে বর্ষামেদুর ভরা গ্রামে, কোন সে বিমর্ষ দুপুরে বর্ষাফোঁটায় খিদের গন্ধ, জমছে, আরো ফোঁটায় ফোঁটায় ভারী হয়ে তারপর ধুয়ে ধুয়ে গড়াচ্ছে ভয়, আশঙ্কায় সবশেষে রাগে তারপর হতাশায়...একটা আশা বেশ ছাতা ধরে তঞ্চক সেজেছিল, প্রতিটা প্রহর ফুরিয়ে নিয়ম মেনে প্রণিধানযোগ্য হয়ে উঠতে উঠতে কেউ হঠাৎ ছাতাটা কেড়ে নিল বিশ্বাসঘাতকতায়...সেই যে অশান্তিগুঁড়োতে ক্ষমতায়নের জাহির , সেই যে আশার স্তুপে পড়া জ্বলন্ত আগুন আর চোখের কষে খিদে মিশে যাওয়া দুঃখের গা ঘেঁষাঘেঁষি : সে পড়ে কত দিন কত রাত হাপুস কেঁদেছি, ইয়ত্তা নেই।

সেই গল্প এবার হাজির পর্দায়। পরিচালক মানস মুকুল পাল বিভূতিভূষণের "৩ পাতার গল্পটিকে ৬৫ পাতার স্ক্রিপ্ট" এর মাধ্যমে শুধু সিনেমাটিকে সনাতন হাঁড়িতে রেখেই সরে যাননি, অভিনয়, চিত্রনাট্য - সবকিছুর এক আশ্চর্য আনুপাতিক মিশেলে, প্রতিটা মুহূর্তের ফ্রেমবন্দি, কথোপকথনে তাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। সিনেমা দেখতে দেখতে ঘোর আঁকড়ে ধরে মন্ত্রমুগ্ধে, স্নায়ুতন্ত্র জুড়ে কী সেই শিহরণ, কী সেই আবেগের ঝনঝনানি ! এখানেই পরিচালকের মুন্সিয়ানা। এমন অমোঘ একাত্মতা, গল্পের পাতা ছেড়ে উঠিয়ে এনেছেন পর্দায়, অনাবিল অনায়াসে।
এও তো বর্ষার গল্প, কিছুদিন আগের বন্যায় গলা অব্দি ডুবে থাকা-আধা খেতে পাওয়া কিংবা না পাওয়া ছেলেমেয়েগুলোর মুখের স্মৃতি ঘষা খায় যেন, মনে পড়ায় আবার এ সিনেমাপ্রশ্বাসে।

গল্পের দুই শিশুশিল্পী ইতিমধ্যেই জাতীয় পুরস্কার বিজেতা। সামিউল - নূরের 'না-অভিনয়' এই ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ। গ্রাম্য টানে তাদের কথোপকথন, পাড়াগেঁয়ে পুকুর আর সবজেটে ফ্রেমে ধরা তাদের আবেগ-স্নেহ-হতাশা-সারল্য সময় পেরিয়ে একটা আস্ত সচিত্র উপন্যাসের জন্ম দেয় যেন। বাবার মৃত্যু সংবাদে রেলাইনের দৃশ্যটি সত্যজিতের অপু-দুর্গার কথা মনে পড়ালেও তা পুরোই গোপালের এক লহমায় বড় হয়ে যাওয়া লগ্নের সাবলাইমেটেড ডাইভারজেন্সের কঠিন পাঠ দেয় দর্শককে। মায়ের চরিত্রে স্নেহার অভিনয় মন ছুঁতে বাধ্য।

ছবির শুরুতে দূরের আজানের শব্দ থেকে ক্যামেরা রোল হয় দুই নিষ্পাপ শিশুর সারল্যমাখা মুখে: পুকুর পাড়ে দাদা-ভাইয়ের মাছ ধরার দৃশ্যে সূচনা যে স্নেহকাহিনীর, পরিসমাপ্তিতে সেই অস্ফুট কথাগুলোই কাশবনে শুয়ে তারা ভাগ করে নেয় ভালোবাসার দাবিতে। চন্দ্রদীপ গোস্বামী ও ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের আবহ সঙ্গীত যোগ্য সঙ্গত দেয় এ ছবিতে , নীরবতা-দূরের গ্রাম থেকে আসা আওয়াজ-পাখির ডাক, সব মিলিয়ে এক একটি দৃশ্য গুণিনের বাণের মতো দর্শককে বিদ্ধ করে, ভিকেরিয়াস ইমেজারি গুণে।
এ ছবির বিশেষত্ব, ভাষা। ছবিতে এক অণুপলের জন্যও মনে হয়না কারো কথা দেখনদারির তাগিদে 'আরোপিত'। জামা কাপড়ে দারিদ্র্যের ছাপ - ভারী জল বালতি ভরে নিয়ে এসে ছোটুর হাতে দাগ- লরির ধাক্কায় ভ্যানচালক শয্যাশায়ী বাবার উঠোনে রাখা দুমড়ানো চাকার ভ্যান, প্রতিটা খুঁটিনাটিই যেন অক্ষরের পাশাপাশি কমা-কোলন- র এর ফুটকি বিহীন রেফ এর নজরদারির মতো যত্ন নিয়ে ক্যামেরাবন্দী করেছেন পরিচালক।
ছোটুর যে সারল্য, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে ভগবানকে বলে দু' আঙুলের একটাকে মায়ের বেছে নেওয়ার আবেগে সহজ : হ্যাঁ বলা আঙুল ধরলে নেমন্তন্ন পাবে নইলে নয়, সেই সারল্য বাস্তবের ধাক্কায় এলোমেলো হয়ে যায়, কান্নার গোঙানিতে মিশে যায় আর্তরব। 'সহজ পাঠ' পায় সে।

তাই আশা রাখি এমন ছবি বারবার হোক। চারপাশের সাধারণ মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পড়ে থাকা, গুটিয়ে থাকা আত্মার মুখছবি দেখার সুযোগ পাক আমাদের মতো দর্শকরা।


Name:  রোবু          

IP Address : 213.132.214.87 (*)          Date:14 Sep 2017 -- 11:04 AM

কালকে দেখেছি সহজপাঠের গল্প। ভালো লেগেছে।


Name:  তির্যক          

IP Address : 122.110.27.74 (*)          Date:18 Sep 2017 -- 03:57 PM

পর পর দু'দিন এইসময়ের দু'টো মাস্টারপিস ফিল্ম দেখে ফেললাম। এবং দু'টোই বাংলা। না, আমি ফিলিম বোদ্ধা নই, সে যোগ‍্যতাও আমার নেই। তবে পোকা বলা যেতে পারে। একা একা গান শোনা, বই ইত্যাদি পড়া, ফোটো তোলার চেষ্টার মতোই... কাউকে সঙ্গে না পেলেও অনেক সিনেমা একা একাই দেখে ফেলি (এবং আমার ধারণা, বেশ করি 😊)। তাই এটা এক পাতি ফিল্ম পোকার ফিল্ম দেখার তাৎক্ষনিক মতামত মাত্র।
প্রথমে 'সহজপাঠের গপ্পো'। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'তালনবমী' গল্পটা আগে পড়েছি পড়িয়েছি। ভেতরটা ছুঁয়ে যাওয়া ছোট্ট গল্প। তার প্রেক্ষাপট তৈরি ক'রে কাহিনীকে সবদিকে ঠিকঠাক বিস্তৃত ক'রে একটা গোটা ফিল্মের উপযোগী ক'রে তোলাটাই প্রথম চ‍্যালেঞ্জ ছিল। এবং দারুণভাবে সেটা উৎরেছেন। এরপর ফিল্মায়ন। স্ক্রিপ্ট। শুরু থেকে শেষ ক‍্যামেরা তো হিরো। গ্রামবাংলার প্রকৃতি মানুষ জীবন যাপন তার সামন্তী সমাজের নির্মম বৈষম্য ইত্যাদি সবকিছু নিপুণ সিনেমাটোগ্রাফিতে ভীষণ জ‍্যান্ত আর বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। সম্পাদনা ভাল। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ভাল, বিশেষত শেষের বাঁশিটা। নন-অ‍্যাকটরদের কাস্টিং করা এবং তাদের দিয়ে এত ভাল অভিনয় করানো, ভাবা যায় না। গোপাল আর ছোটুর অবয়বে ওরা হয়তো স্মৃতিতে পাকা জায়গা ক'রে নিল। আরও অনেক ভাললাগা বাদ পড়ে গেল লিখতে। সিনেমাটা আবার দেখলে লেখার ইচ্ছে থাকল। তবে কয়েকটা জায়গায় খুব সামান্য হলেও খটকা রইল। খটকা ১- ছোটুর স্বপ্নে পোলাওটা ওভাবে না দেখালে হত না? মানুষ যা বাস্তবে দেখে সেটাই স্বপ্নে দেখে‌। যে কখনও পোলাও চোখে দেখেনি সে একদম ঠিকঠাকভাবে কীভাবে দেখবে? খটকা ২- জন্মাষ্টমীর প্রসাদ হিসেবে অন‍্য মিষ্টি থাকলেও তালের বড়া মালপোয়া ইত‍্যাদি বাদ গেল কেন? খটকা ৩- অভিনয়ে দু'এক জায়গায় একটু আড়ষ্টতা, যেমন গোপাল যেখানে ছোটুকে মারতে যাচ্ছে বিনা পয়সায় তাল দিয়ে এসেছে ব'লে আর ওদের মা থামিয়ে ঘরে নিয়ে যায়। খটকা ৪- কয়েকটা লার্জ ফ্রেমে যেখানে ক‍্যারেকটার দূরে আছে, কথার শব্দ কম হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু শব্দহীন কেন? অথচ সাবটাইটেল আসছে! জানি না এটা সিনেমা হলের সাউন্ড সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা কিনা? তবে খটকাগুলো খুবই সামান্য,এবং এগুলোর জন্য ফিল্মের ভাললাগাটা কোনোভাবেই একটুও টাল খায় না।
পরের ফিল্মটা নিয়ে পরের পোস্টে আসছি, ঠিকহ‍্যায় দর্শকগণ?😊


Name:  তির্যক          

IP Address : 122.110.27.74 (*)          Date:18 Sep 2017 -- 04:00 PM

সোদপুরের পদ্মা সিনেমা হলে 'সহজপাঠের গপ্পো' দেখার পরের দিন নন্দন ২। 'বিলু রাক্ষস'। এটা-ওটা অ‍্যাড আর বেখাপ্পা হিন্দি উচ্চারণের জনগণমন গিলতে গিলতে শুরু হয়ে গেল এইসময়ের আরেকটি মাস্টারপিস মুভি। এক পাহাড়ি সবুজ ক‍্যানভাসের স্থির নিসর্গে মিলেমিশে একটি কিশোর অবয়বের অস্থির খোঁজ। প্রকৃতির নৈঃশব্দ সেই কিশোর গলার শব্দকে যেন আশ্রয় দিচ্ছে! ফিল্মটি যেন তার মাপকাঠি নিজেই তৈরি ক'রে নেয় তার প্রথম দৃশ্যেই। এরপর নাগরিক প্রেক্ষাপটে দৃশ‍্যের পর দৃশ‍্যের জন্ম। দৃশ‍্যরাই কাহিনীর কথকঠাকুর হয়ে ওঠে। দর্শক আস্তে আস্তে ঢুকে পড়ে এক কর্পোরেট চাকুরের পেশা নেশাসহ ব‍্যক্তিগত আলো-অন্ধকারে‌। বেশ কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারা যায়, ফিল্মটার লেখক পরিচালক সিনেমাটোগ্রাফার সম্পাদক অভিনেতাসহ গোটা টিম এক দারুণ ষড়যন্ত্রের আয়োজন করেছেন দর্শকের জন্য! আজ্ঞে হ্যাঁ, 'বিলু রাক্ষস' আপনারই গল্প! সামাজিক আর্থিক মনস্তাত্বিক ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি সব মাপকাঠি তে যদিও আপনি আর বিলুতে অনেক ফারাক। তবুও বিলুকে নিজের ভেতর খুঁজে পাবেনই। আপনার স্মৃতি আর বর্তমানের ভেতরপথে যে জটিল যাতায়াত, আপনার যৌনতার দ্বিচারিতা, অসাফল‍্যের হতাশার স্বান্তনা খুঁজতে অন‍্যকে দোষারোপ, আপনার এই কর্পোরেট-অধ‍্যূষিত এইসময় আর আটপৌরে ক্ষয়িষ্ণু সেইসময়ের মধ্যের টাগ অফ ওয়ার আর খুঁজে খুঁজে হয়রান নিজস্ব পরিসরটুকু ইত্যাদি ইত্যাদি এবং ইত্যাদির হালহদিশ কীভাবে জেনে ও জানান দিয়ে যায় এই ফিল্ম? ষড়যন্ত্র না? অতীত আর বর্তমানের মতোই বাস্তব আর পরাবাস্তবতার মধ্যে এক অদৃশ্য করিডর রেখে দেয় এ ছবির চিত্রনাট্য। আর ক‍্যামেরা-কথকঠাকুর অনায়াসে যাতায়াত করে। ছবি যত এগোয় 'রাক্ষস' তার অস্তিত্ব জানাতে থাকে। পুরনো বনেদি বসতবাড়ির আধিভৌতিক পরিবেশে মনের জটিল স্তরগুলো প্রতীকের মতো দেখা দিয়ে যেতে থাকে।
এবারের এক পুজোসংখ‍্যায় শ্রীজাতর একটা উপন্যাস পড়েছি ক'দিন আগে। ছবিকর ভ‍্যানগখকে নিয়ে যে সাররিয়াল(বা সুররিয়াল) ইন্টারপ্রিটেশন, শেষের দিকের কিছু দৃশ্য সে কথা মনে করায় খানিকটা হলেও। যদিও উপন্যাসটার তুলনায় ফিল্মটা অনেক কম উচ্চকিত। যাইহোক, আরও অনেক কিছু হয়তো বলা যায় এ ছবি নিয়ে। কিন্তু 'ফিল্ম‍্যাটিক ষড়যন্ত্রের শিকার' হয়ে এমন ঘোরের মধ্যে রয়েছি দেখার পর থেকে যে এর বেশি কিছু ভাবতে পারছি না।
যাইহোক, নির্দিষ্ট কোনও নাম না ক'রে 'বিলু রাক্ষস'এর গোটা টিমকে বলছি, এরকম 'ফিল্ম‍্যাটিক ষড়যন্ত্রে'র শিকার হতে আবারও চাই । বারবার চাই। 😊


Name:  Du          

IP Address : 182.58.105.253 (*)          Date:20 Sep 2017 -- 12:14 AM

তীর্যক আর বাকিদের ধন্যবাদ রিভিউ দিয়ে মন ভরানোর জন্য। দেখার ইচ্ছে আরো বাড়লো আর যাকে পেরেছি দেখতেও বলেছি দেশে।


Name:  কল্লোল          

IP Address : 233.227.54.174 (*)          Date:20 Sep 2017 -- 09:39 AM

সহজ পাঠের গপ্পো।
বিভুতিভূষণের তালনবমী, পড়েছি কি না মনে নেই। সিনেমাটা ঐ গল্পকে ভিত্তি করে জানার পর, ইচ্ছে করেই পড়িনি। এবার পড়বো।
সিনেমটি এককথায় দুর্দান্ত।
অনেকদিন পর গ্রাম বাংলা এতো মায়া এতো সূক্ষ্ম অনুভুতি নিয়ে ধরা। এখনো এমন সব দৃশ্যের জন্ম হয়, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। দেখতে দেখতে খুব স্বাভাবিক কারনে পথের পাঁচালী মনে আসছিলো। কিন্তু কি আশ্চর্য কখনো মনে তুলনা আসে নি।
তির্য্কের সাথে নানা বিষয়ে একমত, তাই সেসব নিয়ে লিখলাম না। কিন্তু ক্যামেরা আর শব্দ পরিকল্পনা নিয়ে না লিখে পারলাম না।গ্রাম বাংলাকে শব্দ দিয়ে ধরার ক্ষেত্রে ফিল্মটি সাংঘাতিক ভালো কাজ করেছে। লংশটগুলো একদম উড়িয়ে নিয়ে যায়। গোপাল আর ছোটুকে মনে তো থাকবেই, মনে থাকবে ওদের মাকে (ভদ্রমহিলার নাম কি?)। একমাত্র স্বপ্ন দৃশ্যটি কিঞ্চিত উচ্চকিত, তার দায় পরিচালকের, ওনার নয় হয়তো।
তবে খুব ভালো লেগেছে পরিচালকের ছোট ছোট ভাবনা। ছোটুকে কুয়োঁর পাড়ে উঁকি দিতে দেখে মহিলার সাবধান করে দেওয়া, বৃষ্টির মধ্যে ছোটুর তাল কুড়োতে যাওয়ার সময় লাঙ্গল দিয়ে ফেরা মানুষটির উদ্বেগ, বাজারে দরদাম সত্ত্বেও ক্রেতাটির গোপালের ইস্কুলে না যাওয়া নিয়ে অনুযোগ - অদ্ভুত মানবিকতার ছোঁয়ায় গোটা ফিল্মটি স্নিগ্ধ হয়ে আছে। মানুষতো আসলে এমনই।
শেষটুকুতে ঋত্বিকের প্রভাব আসতে আসতেও আসেনি। একেবারেই নিজের মতো।
ধন্যবাদ মানসমুকুল।



Name:  রোবু          

IP Address : 213.132.214.88 (*)          Date:20 Sep 2017 -- 11:02 AM

কল্লোলদার সঙ্গে একমত।


Name:  de          

IP Address : 24.139.119.175 (*)          Date:20 Sep 2017 -- 11:41 AM

মুম্বইতে আসেনি ঃ((


Name:  i          

IP Address : 147.157.8.253 (*)          Date:22 Sep 2017 -- 07:39 AM

সেদিন গান শুনছিলাম বিলু রাক্ষসের-
পুরো সিনেমাটা কবে দেখতে পাবো কে জানে-

আর এই তির্যক গুরুর পুরোনো তির্যক নন।আমি ভেবেছিলাম তিনি-ই। কী কান্ড।


Name:  nabagata          

IP Address : 24.139.222.72 (*)          Date:25 Sep 2017 -- 10:08 AM

সহজ পাঠের গপ্পো দেখে এক্ষনো ঘোর কাটে নি । আসা যাওয়া র মাঝে (লেবর অফ লাভ ) এর পর আরেকটা বাংলা সিনেমা যা ক্যামেরা র কুশলী ব্যবহার মুগ্ধ করলো। অভিনয় পরিচালনা সব কিছুই এতো আসাধারণ


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.215 (*)          Date:25 Sep 2017 -- 08:51 PM

কলকাতাতে কি শুধু যশোর রোড ডায়মন্ড প্লাজাতে চলছে? পরশু দেখব ভাবছিলাম।


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.215 (*)          Date:25 Sep 2017 -- 08:51 PM

কলকাতাতে কি শুধু যশোর রোড ডায়মন্ড প্লাজাতে চলছে? পরশু দেখব ভাবছিলাম।


Name:  গবু          

IP Address : 57.15.10.215 (*)          Date:25 Sep 2017 -- 08:51 PM

কলকাতাতে কি শুধু যশোর রোড ডায়মন্ড প্লাজাতে চলছে? পরশু দেখব ভাবছিলাম।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--19