এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2


           বিষয় : প্রসঙ্গঃ ধনঞ্জয়
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : রৌহিন
          IP Address : 113.214.139.253 (*)          Date:03 Sep 2017 -- 08:58 PM




Name:   রৌহিন           

IP Address : 113.214.139.253 (*)          Date:03 Sep 2017 -- 08:58 PM

অবশেষে আজ নন্দনে দেখে এলাম অরিন্দম শীলের “ধনঞ্জয়”। ছবি নিয়ে দু-চার কথা বলতেই এই টই – কিন্তু দয়া করে কেউ এটাকে রিভিউ ভাববেন না, কারণ স্পষ্ট বলি, আমি মনে করি কোন ছবির রিভিউ করার যোগ্যতা আমার নেই। আমার চলচ্চিত্র নিয়ে কোন পড়াশুনা নেই, অনেক ছবিও দেখিনি। একজন সাধারণ দর্শক হিসাবে যেটুকু মনে হয়েছে সেটুকুই বলব।
প্রথমে অভিনয় নিয়েই বলি। এই ছবির যতগুলো রিভিউ আগে পড়েছি, প্রত্যেকে কৌশিক এবং পরাণের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন – অনির্বাণের অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে। এঁরা প্রত্যেকেই ভালো অভিনেতা এবং এদের অভিনয় আমারও খুবই ভালো লেগেছে বলাই বাহুল্য। কিন্তু মিমির সম্বন্ধে অনেকেই বলেছেন নাকি ঝুলিয়েছে – এখানে দ্বিমত হচ্ছি। আমার মনে হয়েছে মিমির অভিনয় যাথাযথ শুধু নয়, যথেষ্ট কন্ট্রোলড এবং ভাল হয়েছে। আমার তো খুবই ভালো লেগেছে। এবং যার কথা আশ্চর্যজনকভাবে কেউ বলেন নি (অথবা আমার নজর এড়িয়ে গেছে) – সুদীপ্তা। আমার মতে এই ছবিতে সেরা অভিনয়টা সুদীপ্তাই করে গেছেন। তাঁর এক্সপ্রেশন, আবেগের প্রকাশ, ডায়লগ থ্রো – এক কথায় অনবদ্য। ধনঞ্জয়ের ভাইএর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনিও দুর্দান্ত। বরং কৌশিক সেনের অভিনয় আমার একটু হলেও বেশী ম্যানারড মনে হয়েছে – মানে কৌশিক সেন ইমেজটায় কোথাও যেন আটকে গেছেন কৌশিক। কাঞ্চনের অভিনয় ভালো, মীর নিজের ইমেজ থেকে বেরোতে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বেশী সুযোগ ছিল না। ধনঞ্জয়ের স্ত্রীর চরিত্রটি একটু ওভার অ্যাকটিং মনে হয়েছে। ছাতনা থানার ওসি বেশ বাস্তবোচিত কিন্তু সাক্ষী দেবাশীসবাবুর মধ্যে শহুরে ছাপটা নজরে পড়েছে।
এবারে ছবির কন্টেন্ট। কন্টেন্ট অন্ততঃ গুরুচন্ডা৯ বৃত্তে সকলেরই জানা – “আদালত, মিডিয়া, সমাজ এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি” বইটির সূত্রে। দেখার আগ্রহ ছিল পরিচালক সিনেমার খাতিরে কতটা সরেছেন। তবে এক্ষেত্রে মনে হল পরিচালক বইএর পয়েন্টগুলো হুবহু তুলে এনেছেন মোটামুটি – খুব একটা বিক্ষিপ্ত হন নি – যদিও কিছু অতিরিক্ত মিশেলও রয়েছে, কিন্তু সেটা মূল পয়েন্টগুলোকে কন্ট্রাডিক্ট করেনি। ধনঞ্জয়কে কেন নির্দোষ মনে হচ্ছে, কেন এত অ্যানোমালি সত্ত্বেও তিন তিনটি আদালতে (সুপ্রীম কোর্ট সহ) ফাঁসির আদেশ বজায় থাকল, ধনঞ্জয় কেন এতদিন পলাতক থাকল, এসব প্রশ্নগুলির জবাবের প্রশ্নে পরিচালক মোটামুটি বইটির প্রতি সৎ থেকেছেন দেখে ভালো লাগল। শুধু একটা জায়গায় তাল কাটল – যেটা এর আগে কোন একটা রিভিউতেও পড়েছিলাম – তখন মনে হয়েছিল রিভিউয়ার একটু বেশীই কড়া হচ্ছেন বোধ হয় – যেখানে কাফকার “দ্য ট্রায়াল” এর প্রসঙ্গ আসতে কাব্য সিনহা হঠাৎ কাম্যুর “দ্য আউটসাইডার” টেনে আনলেন – কেন তা বোঝা যায় নি – এবং সত্যিই বেশ তাল কাটল বলেই মনে হল। শুধু একটা নেম থ্রো করে দেওয়া হল – আউটসাইডার এর সঙ্গে মিল বলতে শুধু পরাবাস্তব? নাকি কাফকা এসেছেন বলেই কাম্যুকেও আসতেই হবে – যমজ ভাই এর মতন?
একটা বিষয়ের উল্লেখ আলাদা করে করতেই হবে – গ্রাম এবং শহরের পরিবেশের যে কন্ট্রাডিকশন এই ছবির প্রেক্ষাপট হিসাবে উঠে এসেছে, সেটা বাড়তি পাওনা। গ্রাম্য পরিবেশ, গ্রাম্য মানুষের ব্যবহারগুলি তাদের শহুরে কাউন্টারপার্টগুলির পাশে বেশ বিশ্বাসযোগ্যভাবে উঠে এসেছে – এটা হয়তো আসাই উচিৎ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বহু বাংলা ছবিতেই এটা বিশ্বাসযোগ্য থাকে না – গ্রামবাংলা সম্বন্ধে পরিচালক এবং কুশীলবদের অনভিজ্ঞতার, বা বলা ভালো কিছু প্রি-অকুপায়েড ধারণা থাকার কারণেই সম্ভবতঃ। এই প্রি-অকুপেশন থেকে বেরিয়ে হোমওয়ার্কটুকু যথাযথভাবে করার কৃতিত্ব অরিন্দম এবং তাঁর টীমের প্রাপ্য।
ছবির শুরুতে সব চরিত্র কাল্পনিক মার্কা একটি ডিসক্লেমার দেওয়া রয়েছে। আমরা সবাই জানি চরিত্রগুলি কাল্পনিক নয় – কিন্তু সেন্সর বোর্ডের চাপাচাপিতে এটা দিতে হয়েছে এবং মূল বইটির উল্লেখ বা ছবি কোথাও নেই, যদিও কৃতজ্ঞতা স্বীকারে লেখকদের নাম রয়েছে। এটা অনভিপ্রেত কিন্তু সম্ভবতঃ অবশ্যম্ভাবী ছিল। নিদেনপক্ষে এই ডিসক্লেইমারের দৌলতে কলকাতা পুলিশের ফেবু পেজ একটা স্ট্যান্ড খুঁজে পেয়েছেন এবং খুব সুন্দরভাবে বিষয়টি হ্যান্ডল করেছেন। কিছু ধন্যবাদ তাঁদেরও প্রাপ্য বই কি।
বইটি কিন্তু কোন ওয়ার্ক অফ ফিকশন নয়।


Name:  pi          

IP Address : 24.139.221.129 (*)          Date:03 Sep 2017 -- 11:33 PM

সিনেমা এবং মিমি, সুদীপ্তা নিয়ে প্রায় পুরো একমত। আরো একটা পয়েন্ট মনে হয়েছে, লিখছি পরে।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2