এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2


           বিষয় : বাহুবলী রিভিউ
          বিভাগ : সিনেমা
          শুরু করেছেন :দেবাঞ্জলি ভট্টাচার্য
          IP Address : 57.15.8.112 (*)          Date:13 May 2017 -- 07:01 PM




Name:  দেবাঞ্জলি ভট্টাচার্য           

IP Address : 57.15.8.112 (*)          Date:13 May 2017 -- 07:08 PM

বাহুবলীর দ্বিতীয় পর্বটি দেখে এলাম । তা দক্ষিণী সিনেমা মানেই নাতি থেকে অতি একটা বিষয় থেকে থাকে । অতিমানব , অতিরোমাঞ্চিত, অতিনাটকীয় ,অতিপ্রত্যয়ী ,অতিপ্রাকৃত , সর্বোপরি সবরকম উপাদানেরই অতিপ্রাচুর্যে ভরপুর । তবে হয় কি , নায়ক নায়িকাকে দেখতে সুন্দর আর অভিনয় ভাল হলে গল্প যেমনই হোক না ঘুমিয়ে ঘন্টা তিনেকের গোটা সিনেমা দিব্যি দেখে ফেলা যায় । মানে আমি অন্তত সেটা পারি ।

যাইহোক ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভারতীয় সিনেমার জন্য ভারতীয় হিসেবে গর্ব বোধ করি । যা বুঝলাম প্রেম-যুদ্ধ, যুদ্ধ-প্রেম ও ষড়যন্ত্রের গল্প, অভিনয় , অ্যাকশন আর স্পেশাল এফেক্টস , পরিচালনা এবং সর্বোপরি লাগাতার যথার্থ মার্কেটিং এর জন্য এই বিপুল সাফল্য । তায় অমরেন্দ্র বাহুবলীর চরিত্রটি এমনভাবে নির্মিত যার মধ্যে কোন দোষ ত্রুটি নেই। সে দুর্দান্ত বীর , ক্ষুরধার বুদ্ধিমান , প্রজাবৎসল উদার , মাতৃভক্ত আবার দুরন্ত প্রেমিকও । মৃত্যুর সময়ও তার মধ্যে কোন রাগ , হতাশা দেখা যায় না । তবে কাটাপ্পার বাহুবলীকে হত্যার কারণটা দুর্বল লেগেছে । রাজাদেশ পালনের জন্য প্রাণাধিক প্রিয় , অন্ধবিশ্বস্তকে হত্যা করা যায় কি না কে জানে ! আমি আবার কোনকিছু একটা বিষয়ে দেখতে বা ভাবতে শুরু করলে চট করে সেখান থেকে বেরোতে পারি না । তা সিনেমা দেখে বেরিয়ে কর্তার সাথে একটু আলোচনা করার ইচ্ছে হল । প্রসঙ্গত বলে রাখি সিনেমা দেখাকালীন প্রথম পার্টের স্মৃতিবিভ্রম জনিত কারণে অমরেন্দ্র আর মহেন্দ্র বাহুবলীকে গুলিয়ে বাহু পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে ব্যতিব্যস্ত করেছি ।

—“ আচ্ছা দ্যাখো এখানেও সব গন্ডগোলের কারন কিন্তু এই প্রেম ।প্রেমের জন্য লোকে কি না করে । সিংহাসন অবধি ছেড়ে দেয় । ”

—“ হুমম । ”

—“এই শাশুড়ি বৌয়ের ঝগড়াই যত নষ্টের মূল । শাশুড়িকে তো বুঝতে হবে যে ছেলে যতই মা ভক্ত হোক একটা সময় পরে সে বউয়ের হবেই । আর বৌ কেও বুঝতে হবে এই শাশুড়ি তার স্বামীকে কোনদিন মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি এমন ভাবে মানুষ করেছে ।আর সে জীবনে আসার আগে মা-ই যার কাছে সব ছিল । তা শাশুড়ির সঙ্গে এরম ক্যাটক্যাটে কথা না বলে একটু নম্র বিনয়ী আচরণ করলেই তো হত , শাশুড়ি ঠিক ভুলে যেত । আর দেখছে যখন এমন জাঁদরেল শাশুড়ি যার “বচন”- ই রাজ্যের শাসন । নিজের জায়গা থেকে একটু সরে ট্যাক্টফুলি পরিস্থিতি যদি ম্যানেজ করত তাহলে এত কিছু হত না । আর “পঁচিশ বছর বন্দী থাকতে হত না । বলো ?”

— “ হুঁ । ঠিক । ”

—“ আচ্ছা ধরলাম শাশুড়ি মানল না । ছেলেদের নিয়ে একধরণের পজেসিভনেস থাকে তো । এত ভালোবাসে ছেলেকে যখন । তা যখন ওদের তাড়িয়ে দিল রাজপ্রাসাদ থেকে তখন তো বৌ বুদ্ধি দেবে অন্য কিছু করার । কি বৌ !! শুধু যুদ্ধ , আর আত্মসম্মানের জন্য ঝগড়া করতেই শিখেছে । বৌ বললে বাহুবলী ঠিক শুনত । ”

— “ ও । তা অন্য কিছু কি করত ?”
প্রচলিত "হুমম হুঁ " থেকে সরে কর্তার প্রশ্ন ।

—“ এই ধরো বাহুবলী তো এত বড় বীর । অসাধারণ তার সাংগঠনিক ক্ষমতা । নিজের রাজ্যে প্রতি পদে অপদস্থ হচ্ছে দেখে বৌ এর প্রস্তাব দেওয়া উচিৎ ছিল যে তার বাপের বাড়ির রাজ্যে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য গ্রহণ করুক। ছোট রাজ্যের সাহায্য সীমিত পরিসরে হলেও তাকে প্রসারিত করে পরে যুদ্ধের মাধ্যমে হোক বা গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মাহিষ্মতীর ক্ষমতা দখল করা ।”

একবার কর্তার মুখের দিকে তাকিয়ে নিলাম । ব্যাজার মুখে চুপচাপ শুনছে । আবার শুরু করি —

— “আর বাহুবলী এটা করলে অনেকেই তাকে সাহায্য ও সমর্থন করত , যেখানে রাজ্যে তার বিপুল জনপ্রিয়তা । তা না করে নিজেও ষড়যন্ত্রের শিকার হল , আর এত আত্মসম্মানী বৌ ই বা কি অবস্থায় পঁচিশ বছর ধরে জীবন অতিবাহিত করল । সে ছেলে যতই প্রতিশোধ নিক না কেন । সবসময় রাগ , জেদ , আত্মসম্মান দিয়ে জীবন চলে না । তাছাড়া ইতিহাসে এই ধরণের উদাহরণ আছে , এত বড় বীর আর ভালোমানুষের এইভাবে শেষ হয়ে যাওয়া ...."

আরো কিছু বলার আগেই কর্তার প্রত্যুত্তর ভেসে আসে—

—“ আসলে কি জানো বিয়ের পর ছেলেদের জীবন হয় গুগলের অপশনের মতো । “ওকে” আর “ইয়েস” না বললে পরের স্টেপে যাওয়াই যায় না । সে বাহুবলীর ক্ষেত্রেও যা , এই আমার মতো হীনবলীর ক্ষেত্রেও তাই । অগত্যা ....…..”

এখানেই সমাপ্ত ।


Name:  দেবাঞ্জলি ভট্টাচার্য           

IP Address : 57.15.8.112 (*)          Date:13 May 2017 -- 07:08 PM

বাহুবলীর দ্বিতীয় পর্বটি দেখে এলাম । তা দক্ষিণী সিনেমা মানেই নাতি থেকে অতি একটা বিষয় থেকে থাকে । অতিমানব , অতিরোমাঞ্চিত, অতিনাটকীয় ,অতিপ্রত্যয়ী ,অতিপ্রাকৃত , সর্বোপরি সবরকম উপাদানেরই অতিপ্রাচুর্যে ভরপুর । তবে হয় কি , নায়ক নায়িকাকে দেখতে সুন্দর আর অভিনয় ভাল হলে গল্প যেমনই হোক না ঘুমিয়ে ঘন্টা তিনেকের গোটা সিনেমা দিব্যি দেখে ফেলা যায় । মানে আমি অন্তত সেটা পারি ।

যাইহোক ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভারতীয় সিনেমার জন্য ভারতীয় হিসেবে গর্ব বোধ করি । যা বুঝলাম প্রেম-যুদ্ধ, যুদ্ধ-প্রেম ও ষড়যন্ত্রের গল্প, অভিনয় , অ্যাকশন আর স্পেশাল এফেক্টস , পরিচালনা এবং সর্বোপরি লাগাতার যথার্থ মার্কেটিং এর জন্য এই বিপুল সাফল্য । তায় অমরেন্দ্র বাহুবলীর চরিত্রটি এমনভাবে নির্মিত যার মধ্যে কোন দোষ ত্রুটি নেই। সে দুর্দান্ত বীর , ক্ষুরধার বুদ্ধিমান , প্রজাবৎসল উদার , মাতৃভক্ত আবার দুরন্ত প্রেমিকও । মৃত্যুর সময়ও তার মধ্যে কোন রাগ , হতাশা দেখা যায় না । তবে কাটাপ্পার বাহুবলীকে হত্যার কারণটা দুর্বল লেগেছে । রাজাদেশ পালনের জন্য প্রাণাধিক প্রিয় , অন্ধবিশ্বস্তকে হত্যা করা যায় কি না কে জানে ! আমি আবার কোনকিছু একটা বিষয়ে দেখতে বা ভাবতে শুরু করলে চট করে সেখান থেকে বেরোতে পারি না । তা সিনেমা দেখে বেরিয়ে কর্তার সাথে একটু আলোচনা করার ইচ্ছে হল । প্রসঙ্গত বলে রাখি সিনেমা দেখাকালীন প্রথম পার্টের স্মৃতিবিভ্রম জনিত কারণে অমরেন্দ্র আর মহেন্দ্র বাহুবলীকে গুলিয়ে বাহু পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে ব্যতিব্যস্ত করেছি ।

—“ আচ্ছা দ্যাখো এখানেও সব গন্ডগোলের কারন কিন্তু এই প্রেম ।প্রেমের জন্য লোকে কি না করে । সিংহাসন অবধি ছেড়ে দেয় । ”

—“ হুমম । ”

—“এই শাশুড়ি বৌয়ের ঝগড়াই যত নষ্টের মূল । শাশুড়িকে তো বুঝতে হবে যে ছেলে যতই মা ভক্ত হোক একটা সময় পরে সে বউয়ের হবেই । আর বৌ কেও বুঝতে হবে এই শাশুড়ি তার স্বামীকে কোনদিন মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি এমন ভাবে মানুষ করেছে ।আর সে জীবনে আসার আগে মা-ই যার কাছে সব ছিল । তা শাশুড়ির সঙ্গে এরম ক্যাটক্যাটে কথা না বলে একটু নম্র বিনয়ী আচরণ করলেই তো হত , শাশুড়ি ঠিক ভুলে যেত । আর দেখছে যখন এমন জাঁদরেল শাশুড়ি যার “বচন”- ই রাজ্যের শাসন । নিজের জায়গা থেকে একটু সরে ট্যাক্টফুলি পরিস্থিতি যদি ম্যানেজ করত তাহলে এত কিছু হত না । আর “পঁচিশ বছর বন্দী থাকতে হত না । বলো ?”

— “ হুঁ । ঠিক । ”

—“ আচ্ছা ধরলাম শাশুড়ি মানল না । ছেলেদের নিয়ে একধরণের পজেসিভনেস থাকে তো । এত ভালোবাসে ছেলেকে যখন । তা যখন ওদের তাড়িয়ে দিল রাজপ্রাসাদ থেকে তখন তো বৌ বুদ্ধি দেবে অন্য কিছু করার । কি বৌ !! শুধু যুদ্ধ , আর আত্মসম্মানের জন্য ঝগড়া করতেই শিখেছে । বৌ বললে বাহুবলী ঠিক শুনত । ”

— “ ও । তা অন্য কিছু কি করত ?”
প্রচলিত "হুমম হুঁ " থেকে সরে কর্তার প্রশ্ন ।

—“ এই ধরো বাহুবলী তো এত বড় বীর । অসাধারণ তার সাংগঠনিক ক্ষমতা । নিজের রাজ্যে প্রতি পদে অপদস্থ হচ্ছে দেখে বৌ এর প্রস্তাব দেওয়া উচিৎ ছিল যে তার বাপের বাড়ির রাজ্যে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য গ্রহণ করুক। ছোট রাজ্যের সাহায্য সীমিত পরিসরে হলেও তাকে প্রসারিত করে পরে যুদ্ধের মাধ্যমে হোক বা গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মাহিষ্মতীর ক্ষমতা দখল করা ।”

একবার কর্তার মুখের দিকে তাকিয়ে নিলাম । ব্যাজার মুখে চুপচাপ শুনছে । আবার শুরু করি —

— “আর বাহুবলী এটা করলে অনেকেই তাকে সাহায্য ও সমর্থন করত , যেখানে রাজ্যে তার বিপুল জনপ্রিয়তা । তা না করে নিজেও ষড়যন্ত্রের শিকার হল , আর এত আত্মসম্মানী বৌ ই বা কি অবস্থায় পঁচিশ বছর ধরে জীবন অতিবাহিত করল । সে ছেলে যতই প্রতিশোধ নিক না কেন । সবসময় রাগ , জেদ , আত্মসম্মান দিয়ে জীবন চলে না । তাছাড়া ইতিহাসে এই ধরণের উদাহরণ আছে , এত বড় বীর আর ভালোমানুষের এইভাবে শেষ হয়ে যাওয়া ...."

আরো কিছু বলার আগেই কর্তার প্রত্যুত্তর ভেসে আসে—

—“ আসলে কি জানো বিয়ের পর ছেলেদের জীবন হয় গুগলের অপশনের মতো । “ওকে” আর “ইয়েস” না বললে পরের স্টেপে যাওয়াই যায় না । সে বাহুবলীর ক্ষেত্রেও যা , এই আমার মতো হীনবলীর ক্ষেত্রেও তাই । অগত্যা ....…..”

এখানেই সমাপ্ত ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--2