এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : আসামে রবীন্দ্রজয়ন্তী বিতর্ক
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :পার্থপ্রতিম মৈত্র
          IP Address : 55.250.245.37 (*)          Date:10 May 2017 -- 08:26 AM




Name:  পার্থপ্রতিম মৈত্র          

IP Address : 55.250.245.37 (*)          Date:10 May 2017 -- 09:15 AM



আসামে রবীন্দ্রজয়ন্তী বিতর্ক
এখনও পর্যন্ত যাঁদের অনুমতি পাওয়া গেছে তাঁদের পোষ্ট কমেন্টের সংকলন

Debashis Aich: শিলচর থেকে প্রকাশিত “দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ”, একটি আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছিল। সাংবাদিক রাহুল দেব আমার তরুণ বন্ধু। আশঙ্কার কারণ, অসম শিক্ষা দফতর যে আকাদেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করেছে, সেখানে বিদ্যালয়গুলিতে রবীন্দ্রজয়ন্তী'র কোনো উল্লেখ নেই। বরাক উপত্যকায় এই দিনটি বিদ্যালয় ছুটি থাকে ও রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয়ে এসেছে। বর্তমান সর্বা সরকার সেই প্রথা ভঙ্গ করেছে। এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির আবেদন গ্রাহ্য হয়নি।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের নির্দেশিকা পালন না করে, রবীন্দ্রজয়ন্তী চিরাচরিত ভাবে পালন করলে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে কি না।
বরাকের বাঙালি বহু বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণের স্বীকার। মাতৃভাষার স্বীকৃতির জন্য তাদের বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। শহিদ হতে হয়েছে। ফলত, সিঁদুরে মেঘ দেখলে সে ডরাবেই। এছাড়া আপনারা জানেন কি না জানি না, সর্বানন্দ সোণওয়ালের বাঙালি বিদ্বেষী হিসাবে কুখ্যাতি রয়েছে। পাশাপাশি, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে হিন্দুত্ববাদীদের মনোভাব আজ আর আমাদের অজানা নয়।
সংবাদপত্রে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। অতি উৎসাহী কেউ কেউ ট্রোল করে, অসম সরকার 'ফতোয়া' জারি করেছে, রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করা যাবে না। যা সর্বৈব মিথ্যা।
চাপে পড়েই সরকার অন্য কথা বলছে। কিন্ত, বরাক উপত্যকায় বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে কি?


Partha Pratim Moitra রাহুল দেব প্রশ্ন দুটো। এক, পশ্চিমবঙ্গেও তো রাভাজয়ন্তী বা রূপকোঙর জয়ন্তী পালন হয়না। স্কুল ছুটি দেবার দায়িত্ব হিমন্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সময় কেন মনে হয়নি যে এরকমটা হতে পারে? দুই, বাঙালী অধ্যুষিত এলাকার স্কুলে রবীন্দ্রজয়ন্তী করলে যদি সামান্য শাস্তিও হয়, তা মেনে নেওয়া হবে না কেন ? কেন সব প্রতিবাদ মিডিয়াই করবে, আর রবীন্দ্রভক্তরা ভোট দিয়ে বিজেপিকে, হিমন্ত বিশ্বশর্মার দলকে জিতিয়ে আনবে? তখন তারা হিন্দু হয়েছিল, এখন তারা হঠাৎ বাঙালী হচ্ছে। রিপোর্টটাতে এটা ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা যে সরকারী নির্দেশিকায় এটা কী বলা আছে যে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন শাস্তিযোগ্য? না রাভাজয়ন্তী ইত্যাদি পালন না করাটা শাস্তিযোগ্য ?

Pradipkumar Paul রাহুল জানে আর রাম জানে। এটা পড়ে কী বোঝা গেল রাহুল জানে। রাহুল দেব প্লীজ ইনফরম আস।

Dilip Ghosh তোমার প্রশ্নগুলোয় খুশী হলাম পার্থ

Debashis Aich জরুরি প্রশ্ন করেছিস পার্থ। লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়ার ছাত্র ও কর্মজীবনের, এমনকী সাহিত্য জীবনের এক বড় অংশ কেটেছিল, এই কলকাতায় ও বাংলায়। বিবাহ হয়েছিল ঠাকুর পরিবারে। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতনির সঙ্গে। এই শহরে বসে চন্দ্রকুমার আগরওয়ালা ও তিনি 'জোনাকী' নামে এক অসমীয়া মাসিক পত্রিকা শুরু করেছিলে। অসমীয়া ভাষা ও সংস্কতির উন্নতিতে অসমীয়া ভাষা উন্নতিসাধিনী সভা' এই কলকাতা শহরে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আমরা এ কথা মনে রাখিনি। জানি না সর্বানন্দ বা হিমন্ত বিশ্বশর্মারা মনে রেখেছেন কি না!

Dilip Ghosh সেই নাতনি এখনো জনপ্রিয়। "আমিষ ও নিরামিষ রান্না" - র লেখিকা প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী। বইটার বহু এডিশন হয়েছে এতাবৎ।
Partha Pratim Moitra চন্দ্রকুমার আগরওয়ালার সঙ্গে রূপকোঁয়র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার কি কোনও সম্পর্ক ছিল?

Debashis Aich চন্দ্রকুমার আগরওয়ালার ভাইপো ছিলেন জ্যোতিপ্রসাদ।

Rahul Biswadip Bhattacharjee মৈত্র মহাশয়, আমি দুঃখিত যে আমাকে মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে, তুমি আর প্রদীপ পাল এক নও, তাই প্রদীপ খুব সহজবোধ্য কারণে বর্তমান আসাম সরকারের অনেক কার্যকলাপ বুঝতে না পারলেও, তুমি হঠাৎ বিষ্ণুপ্রসাদ বা জ্যোতিপ্রসাদের সাথে রবিবাবার তুলনা করবে এটা প্রার্থিত নয় । ওঁকে আমি সেদিন থেকেই বাবা ডাকি যবে থেকে বুঝতে পারলাম এই যে ভাষায় ভাবপ্রকাশ করছি এটা তাঁরই অনুগ্রহ ।
এই কাগজগুলো আমি পড়িনা, কিন্তু সঙ্গিনী রেখে থাকেন তাঁর বাস্তবিক কারণ বশতঃ, দুপুরে গিয়ে মন দিয়ে পড়ে দেখলাম, এতে অবোধ্য কিছুই নেই, খুব সুন্দর, গোছানো রিপোর্টিং, সরকারী নির্দেশিকায় রবি ঠাকুরের নাম গন্ধ নেই এবং ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়, শিলচরের বিধায়ক কাম উপাধক্ষ্য সমেত সমস্ত সরকারি কর্তাব্যক্তিদের অনেক আগেই জানানো হয়েছে এই অসঙ্গতির ব্যাপারে।
হ্যাঁ, এটা ঘটনা যে, ঐ মহামানবটিকে বিশ্বকবি বানিয়েছে বাঙালীরাই, ইউ.এন.ও নয়। এটাও ঘটনা যে বিষয়টা অন্য ভারতীয় ভাষাভাষীদের অসূয়া মুক্ত নয় । চাকরীসূত্রে আমার এক পরম শ্রদ্ধেয় দাদার মুখে শুনেছিলাম উৎকল বচন, “রবীন্দ্রনাথো কোণে কবি থিলা ? মাঙ্কোড়ো থিলা । কবি থিলা বটে উৎকলোমণি গোপোবোন্ধু দাসো”। মাঙ্কোড়ো মানে বানর । তাই অনতিভবিষ্যতে গুয়াহাটির রবীন্দ্রভবনের নাম কোন “চ্যাং ব্যাং ভবন” হওয়া বিচিত্র কিছু নয় ।
তাই বোঝা যাচ্ছে এটা সরাসরি সুপরিকল্পিত বদমায়েশী ছাড়া কিছুই নয় । ধরনটা প্রাচীন এবং সরল, লাগিয়ে। এছাড়া জাত্যাভিমান তো আছেই, “কেলা বঙ্গালী, এনেকা মারিছু, তুই কি করিবি ?” বর্তমান সরকারে বাঙালী পরিচয় দেওয়া যে জীব গুলো আছে, তাঁদের বক্তব্য তো জানা যাচ্ছে না, জানা যাবে বলে মনেও হয় না । কিন্তু ঐ ব্যক্তিটি হিন্দুই ছিলেন বোধহয়, পৈতেও রাখতেন শুনেছিলাম ।
শেষ কথা এই যে, পাক সরকারও অধুনা বাংলাদেশে তাঁকে নিষিদ্ধ করেছিলো সরাসরি, এঁরা ঘুরিয়ে করলেও ফলাফল এক হবে না তার গ্যারান্টি তো পার্থ মৈত্র বা রাহুল আরুয়া দিতে পারবে না । রাহুল দেব যেহেতু আমার সাথে সম্পর্ক রাখেন না, পরমকে ট্যাগ করছি আমার রিঅ্যাকশনটা জানিয়ে দেবার অনুরোধ সহ এবং মনে করিয়ে দিতে যে এটা কোন বন্ধু কৃত্য নয়, গুরুনিন্দার প্রতিক্রিয়া মাত্র ।

Partha Pratim Moitra এটা কিন্তু আমার ওপর অবিচার হলো রাহুল বিশ্বদীপ। বিষ্ণুরাভা বা জ্যোতিপ্রসাদের সাথে রবিঠাকুরের তুলনা করার মত মূর্খ আমি নই। প্রশ্নটা তো কবিকৃতির নয়। জন্মদিনে ছুটির প্রশ্নে। আমার ছেলের স্কুলে কাল রবীন্দ্রজয়ন্তীর ছুটি নেই। বিশ্বভারতী আগেই ছুটি হয়ে যায়। আমি রাহুলকে প্রশ্ন করেছিলাম এটা ঠিক বোঝা যাচ্ছেনা যে সরকারী নির্দেশিকায় কী বলা আছে? রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন শাস্তিযোগ্য? না রাভাজয়ন্তী ইত্যাদি পালন না করাটা শাস্তিযোগ্য? ভাষা সমস্যা অতীব জটিল। বরাকে এটি তার প্রস্তাবনা হতে পারে।

Rahul Biswadip Bhattacharjee তোমাকে মূর্খ ভাবা আমার ক্ষমতার বাইরে, যদি তাই বুঝিয়ে থাকি তাহলে ক্ষমাপ্রার্থী । তুমি বোধহয় লক্ষ্য করোনি যে, সরকারি নির্দেশিকায় ঐ দুজনের জন্মদিন পালনের নির্দেশ আছে, ব্যাস, রবিঠাকুরের কোন উল্লেখই নেই । তার মানে এই ই দাঁড়ায় যে সেদিন যথারীতি পঠন পাঠন করতে হবে, আর যদি পঠন পাঠন না করা হয় (আর পাঁচটা দিনের মতোই) তাহলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে । এই মোদ্দা কথা । মানে ৯ই মে বলে কোনো বিশেষ দিন বর্তমান আসাম সরকারের শিক্ষাবিভাগের নির্দেশিকায় নেই, পরিস্কার । এখন সেদিন যদি কেউ তার বাবার শ্রাদ্ধ করতে চায় স্কুলে, করুক গে, কিন্তু করতে হলে নিজ দায়িত্বে করতে হবে ।

Param Bhattacharjee আমি জানি না রাহুল দেবের রিপোর্ট এর হেডলাইন এবং অন্তর্বস্তুর মধ্যে 'ঈশ্বরের পা'-এর ভূমিকা রয়েছে কিনা। দীর্ঘদিন সংবাদপত্র করণিক কর্মে যুক্ত থাকার সুবাদে এ সত্য জানি যে শিরোনাম অনেক সময় যেমন শিরোস্ত্রাণ হয়ে বসে কখনও আবার শিরোঃপীড়া হয়েও দাঁড়ায়।তবে যাই হয় এটা সংবাদ দুনিয়ার নিয়ম মেনেই হয়। অনেক সময় অসহিষ্ণু শাসকদের গোঁয়ার শক্ত ঘাড়টি নরম করতেও সংবাদ বা শিরোনাম সময়োচিত ভূমিকা পালন করে থাকে।আমাদের ধারণা রাহুল দেবের রিপোর্ট সঠিক। আর হেডলাইনটি যে (শাস্তি প্রসঙ্গ) অনেকাংশে সঙ্গত আজকের দৈনিক যুগশঙ্খের সংবাদে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিক হরেন হাজরিকা পরিষ্কার জানাচ্ছেন,সরকারি তালিকায় রবীন্দ্র জয়ন্তী অবজারভেশন ডে হিসেবে না থাকায় দিবসটির দিন দুপুর ১২ টার পরই উদযাপন করতে হবে। --- এটাই বক্তব্যের সার। অর্থাৎ তালিকায় নেই যেহেতু সেক্ষেত্রে প্রাইম টাইমে নয়, ১২টার পর করতে হবে।আর তা যদি অমান্য করা হয় তবে রাজ্য শিক্ষা কতৃপক্ষ জামাই আদর করবে বলে তো মনে হয় না।- সংবাদপত্র প্রশ্নাকারে আশঙ্কার খাঁড়া ঝুলিয়ে আসামের আক্রান্ত পর্যূদস্ত একটি জনগোষ্ঠীর বিবেকের প্রতিনিধিত্ব করেছে বলেই আমাদের মনে হয়েছে।
আসামে বাঙালি একটি পরীক্ষিত এবং চর্বিত নিপীড়িত জনগোষ্ঠী। কলকাতায় বা ভুবনেশ্বরে রবীন্দ্রনাথ বা সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে লাচিত বরফুকন বা বিষ্ণু রাভার সরকারি জন্মদিন নিয়ে ভাবা যেতে পারে।আমরা যারা আসামের হতভাগা ঘরপোড়া বাঙালি সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই । আমাদের আত্ম অধিকার অর্জনে বরাক উপত্যকা শহিদ সুদেষ্ণা সমেত পঞ্চদশ ভাষা শহিদের উপত্যকা। এছাড়া অগুণতি আহত পরাহত অপমানিত। উপর্যুপরি ডি ভোটার,ডিটেনশন ক্যাম্প। আমাদের বন্ধু প্রদীপ কুমার পালের নামে মিথ্যা বিদেশি নোটিশ ধরিয়ে দেওয়ার পর সেই তো তাঁকে প্রমান সমেত হাজিরা দিয়ে 'ভারতীয়' প্রমান করতে হয়েছে যে কিনা গত দুই দশক থেকে এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, স্থানীয় বিধায়কের অনুজ ভ্রাতা এবং প্রতিস্রোত সাময়িকীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং একজন শিল্পী এবং লোক সংগীতানুষ্ঠানের সংগঠক শিল্পী মানুষ। আসামে কোন শ্রেণিভুক্ত বাঙালির নামে সহসা পুলিশের বিদেশি নোটিশ আসতে পারে এ শুধু তার একটি নমুনা পেশ করা হল জ্ঞাতার্থে। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে সমতা বা ক্ষমতার ভিত্তিতে বিদগ্ধজনের জন্মদিন পালন হোক। আদার (অপর অর্থেও) ব্যাপারী হিসেবে আমরা আসাম সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে আড় চোখে দেখতে অভ্যস্ত। এটা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে ওতোপ্রতো সম্পৃক্ত হয়ে আছে। অ্যাকাদেমিক কাউন্সিলের তালিকায় নেই মানে আমাদের জন্য এর আরেক নিঃশব্দ সংহার প্রক্রিয়া শুরু হতেই পারে।অতএব এখনই রুখে দাঁড়াও। জোট বাঁধো,তৈরি হও,যতটা যেমন পারো। এমন নয় যে বছরে তিরিশবার শ্যামাশাপমোচন আর রবীন্দ্র সংকীর্তন আমাদের বাঙালির বদলে মানুষে রূপান্তরিত করছে। একেবারেই নয়। কিন্তু এই যাপন উদযাপনগুলো আমাদের অস্তিত্ব এবং অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি নয়, আমাদের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন। এক লাইন রবীন্দ্রনাথ না পড়ে না বুঝে আমরা রবীন্দ্রজয়ন্তীকে অস্তিত্বের স্বার্থে উদযাপন করি। উনিশ একুশকেও আনুষ্ঠানিক করে তুলি --- আমাদের বিবর্ণ অস্তিত্বের এ দুখিনি বর্ণার্ঢ্য রূপ আত্মিক বিবেচনায় কম উপভোগ্য নয়।
সাময়িক প্রসঙ্গ দৈনিক এবং সাংবাদিক রাহুল দেবকে শহিদ উপত্যকার বড়াইল কুর্নিশ।

Partha Pratim Moitra বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং স্যোশাল মিডিয়ায় কিন্তু সাংবাদিকটির প্রতি খিস্তি বর্ষণও সমানে চলছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে এর পর যে আর কথা চলেনা সে কথাও বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক রাহুল দেবের কোনও বক্তব্য কি জানা যেতে পারে?


Rahul Dev সঙ্গে সংযোজিত দৈনিক যুগশঙ্খ সংবাদপত্রের ক্লিপিংসটা গতকালের। সাময়িক প্রসঙ্গে খবরটা বেরোনোর পর কাছাড় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিকের বক্তব্য । আজ অনেক বিদ্যায়তনে রবীন্দ্র জয়ন্তী হয়েছে দু একটি ক্লাসের পর। যদিও মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষ্ বলেছেন রবীন্দ্র জয়ন্তী করতে কোনো বাধা নেই।

Param Bhattacharjee এইটে আমাদের অস্তিত্ব প্রতিরোধের রাজনৈতিক অবস্থান। কুর্দ রা যেমন প্রতিরোধে নববর্ষ বা নিও রোজ পালন করেন অত্যাচার নিপীড়নের মুখে, এ হলো তারই বন্ধু বৎসল এক সংস্করণ। আমাদের এই রাজনীতি এত স্পষ্ট, এতই অন্তরে অকুতো, যে তার সামান্য দৃপ্ত প্রকাশ তাবৎ ক্যাজুয়াল বিনোদনের চর্চাকে অল্প সময়ের জন্য হলেও আত্মবীক্ষণে নিষ্ঠ করে। আমাদের এই নীরব প্রতিরোধের, নিয়ত পরাজয়ের মুখে ধ্বস্ত রাজনৈতিক অবস্থানের এমনই দার্ঢ্য, যে বৌদ্ধিক প্রতিযোগী বা বিজয়ী বা দৃষ্টি আকর্ষণকারী আত্মমগ্ন ভোগী সন্ন্যাসীর দল তার স্বীকৃতি দিলেন কি দিলেন না তাতে আমাদের এই রাজনীতি চর্চার কিস্যুটি যায় আসে না।
সাময়িক প্রসঙ্গের রাহুল দেবের করা এই রিপোর্ট বিধানসভার মেঝেকম্প তুলেছে। কংগ্রেস কমলাক্ষরা কাজে লাগানোর মতো একটি বিষয় পেয়েছেন সাময়িক প্রসঙ্গের এই রিপোর্টের সুবাদে। মুখ্যমন্ত্রীও কথা বলেছেন।আজকের বরাক আসামের দৈনিকগুলো পড়ে দেখা যেতে পারে। আজ রবীন্দ্র জয়ন্তী। বাঙালি তার প্রতিরোধের ঢাল টিতে শান দিল এই রিপোর্টের মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ ঠারেঠোরে আমাদের বোঝাতে চেয়েছেন ,ভয় দেখাতে চেয়েছেন যে এ ধরনের রিপোর্ট অসমিয়া-বাঙালি বিভেদ তৈরি করবে।আমরা জানি যে এই সন্দেহ ছড়ানেওলারাই বিভেদকামী। অধিকার প্রতিষ্ঠার আওয়াজ সকল জনগোষ্ঠীর অধিকারের সপক্ষে সওয়াল করে। বিভেদ ছড়ায় না। এই রিপোর্ট বিভেদ ছড়ায়নি। একেবারে সঠিক সময়ে সুপার অ্যাঙ্কর মর্যাদায় পরিবেশিত হয়েছে।
Partha Pratim Moitra দুই রাহুল এবং পরম কাউকেই আমার অবস্থানটা বোঝাতে পারছি না। রবিঠাকুরে আমার কোনও অ্যাপ্যাথি নেই। দৈনিক রবীন্দ্র চর্চায় অনেক বাঙালীর থেকে আমি অনেক এগিয়ে। দ্বিতীয়ত বিজেপি সরকারে আমার অ্যাপ্যাথি আছে। বঙাল খেদা আন্দোলনের তাত্বিক এবং প্রায়োগিক নেতাদের নিয়ে আমার অ্যাপ্যাথি আছে। সর্বানন্দ সোনোয়াল বা হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের প্রতি আমার অ্যাপ্যাথি আছে। প্রশ্ন ছিল এরা এখন থেকে এই করবে এটা ভাবতে না পারা তো মূর্খতা। আজ রবি ঠাকুর তো কাল ....। আরও একটা প্রশ্ন। বাঙালীরা জীবনানন্দ দাশ বা বিষ্ণু দে র নাম শুনেছেন বা মনে রেখেছেন তো? সুভাষ মুখুজ্জে বা বীরেন্দ্র চাটুজ্জে? ধরে নেওয়া যাক রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করলেই শাস্তির খাঁড়া নামবে। সেক্ষেত্রে কী হবে?প্রতিবাদের অবধারিত ফল শাস্তি কি মেনে নেবেন বরাকবাসী? না কি প্রতিবাদের দায়িত্ব রাহুল দেব বা কমলাক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে টিভিতে রবীন্দ্রজয়ন্তী দেখবেন? বাঙালী বিরোধী গোষ্ঠিকে ক্ষমতায় আনবো আর আশা করবো তারা রবিবন্দনায় গদগদ হবে এ কেমন আশা?

Rahul Biswadip Bhattacharjee পূর্ব পশ্চিম দুই বাংলার কথা ছেড়ে দিই, এমনকি ঝাড়খণ্ডের বা কর্ণাটকের বাঙালীর সাথেও আসামের বাঙালীর তফাৎ আছে, ওদের এন.আর.সি করতে হয় না । সেদিন এক সহকর্মী যখন বিজ্ঞাপন দিলেন যে তিনি দেশপ্রেমিক, আমার জিজ্ঞাস্য ছিলো, কোন দেশ ? কোন দেশের প্রেমিক ? উনি বল্লেন ভারত । আমি বল্লাম এটা কি স্থির হয়ে গেছে যে আপনি বাংলাদেশী নন, ভারতীয় ? এন.আর.সি পেয়ে গেছেন অথবা আধার কার্ড, নাগরিকত্বের কোন অভিজ্ঞান ? (আসামে আধার কার্ড হয় না)। আগে দেশ ঠিক হোক, তবে না দেশপ্রেমিক ।
তাই, আমাদের, আসামের বাঙালীদের কাছে রবীন্দ্রনাথ এক কবি নন, মহামানবও নন, এক প্রত্নচিহ্ন, টোটেম, একটা সিম্বল, লড়াই এর জয় পতাকা, পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৫০ থেকে ৭০ এর দিনগুলির মতোই – এ লড়াই আমাদের আজন্ম লড়াই, এতে কে ক’টা কবিতা জানে না জানে, কোন সান্যাল ঠেকায় পড়ে পুজো করলো না করলো তাতে কিস্যু যায় আসে না । এতে কোন দল সরকারে আছে না আছে তাতেও কিছু আসে যায় না, আমাদের ললাট লিখন লড়াই এর, এতো লড়তেই হবে ।
আমরা এই অপমান সইবো না ।

Param Bhattacharjee নিজের ঘাড়টি ধরে একটি কথাই বলবো-- অবজেক্টিভিটি এবং বেসিক পলিটিক্স থেকে একচুলও নড়েছিস তো আস্থা হারিয়েছিস। কী কথা, কী নিয়ে আলোচনা, তাতে নিবিড় অন্যত্র কোনো বিলাস নয়। আসামে কংগ্রেস কে দিনের পর দিন জয়ী করে বাঙালি লাথির পর লাথি খেয়েছে। বিজেপি শাসকদের জিতিয়ে নতুন স্বাদের লাথি খেয়ে চলেছে। -- বিবিধ লাথি প্রতিরোধে বিনীত দুর্বিনীত প্রত্যাঘাতের নমুনা আলোচ্য রিপোর্টের মধ্য দিয়ে একটা দিশা পেয়েছে যার অনেকগুলো স্তর। এটাই আমাদের প্রতিরোধের পলিটিক্স। আসামের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর অধিকার রাজনীতির কথা , তার নানা জটিলতার কথা গুরুচণ্ডালী গোষ্ঠীর বিশাল সংখ্যক বন্ধুদের চিন্তাস্তরে সংযোজিত হতে পারায় আমাদের মনোবল অনেকটা দৃঢ় হয়। শিলচর থেকে প্রকাশিত সাময়িক প্রসঙ্গ দৈনিকে প্রকাশিত রাহুল দেবের আলোচ্য রিপোর্টটি পোস্ট করার ফলেই আসামের আধিপত্যের রাজনীতি এবং তার প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক বন্ধুদের জন্য যথাসম্ভব প্রকাশিত হয়েছে।

Partha Pratim Moitra সায়ন ভট্টাচার্য একটি কমেন্টের অনুবাদ দাঁড়ায়, “ স্কুল শিক্ষকেরা রবীন্দ্রজয়ন্তীর জন্য ক্লাস বাতিল না করে ক্লাস করালেই তো মঙ্গল। সেক্সপীয়ার বা ওয়াল্ট হুইটম্যান, বা পুশকিনের দেশে তাদের জন্মদিনে তো ছুটি থাকেনা।”সারা পৃথিবীর সঙ্গে আসামের প্রেক্ষাপট মেলাতে গেলে একটু ভুল হয়ে যেতে পারে সায়ন। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় সারাবছর রবীন্দ্রনাথকে হতচ্ছেদ্দা করে পঁচিশে বৈশাখ ফোকটে ছুটির দিনের মোচ্ছব করার জন্য শাস্তির খাঁড়া নামাই উচিৎ। আজ কোলকাতার অনেক স্কুলে রবীন্দ্রজয়ন্তীর ছুটি হয়নি, রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন হয়নি, আমার ছেলের স্কুলেও হয়নি, ক্লাস হয়েছে। তাতে কোন আলোড়নই হয়নি। কিন্তু বরাক অন্য ক্ষেত্র। সেখানে হলিডে লিস্ট থেকে রবীন্দ্রনাথের নাম বাদ যাওয়া অন্য বিপদ সম্ভাবনার দ্যোতক। ক্লাসিকাল লজিক প্যাটার্ন দিয়ে এই ওভার সেনসিটিভিটি বোঝা সম্ভব নয়। ১৯৮৬ সালের কুখ্যাত সেবা-সার্কুলারেও বাংলা ভাষার উল্লেখ ছিল না। কিন্তু অসমীয়া ভাষা মাধ্যমকে কম্পালসারি করা হয়েছিল। তার জেরে বিষ্ফোরক হয়ে উঠেছিল উপত্যকা। আজও তাই হয়েছে। আসামের বাঙালীদের জানার চেষ্টা করলেই বোঝা যায় কেন কোনও কোনও ক্ষেত্রে রজ্জুতে সর্পভ্রম স্বাভাবিক। কিন্তু সর্প তে রজ্জুভ্রম হলে বিপদ বাড়তেই থাকবে।





এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1