গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : পদবী , বদল এবং....যত্ত ঝামেলা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :swati
          IP Address : 127.223.219.53 (*)          Date:15 Apr 2017 -- 03:22 PM




Name:  swati          

IP Address : 127.194.44.40 (*)          Date:15 Apr 2017 -- 11:00 PM

নরেন্দ্র মোদি এক মন্তব্য করেছেন.কাগজে পড়লাম, তিনি দাবী করেছেন, এখন থেকে আর মেয়েদের বিয়ের পরে পাসপোর্টে পদবী বদল বাধ্যতামূলক নয়. এবং যখারীতি তাই নিয়ে সোরগোল শুরু হয়েছে. একদল বলছেন এরকম কোন নিয়ম কোনকালেই ছিল না, তাহলে উনি আর নতুন কি বললেন? আর একদল এককাঠি এগিয়ে মোদিজি কে ভারতীয় মেয়েদের পরিত্রাতা হিসেবে দেখছে. .... যত সবার মতামত পরছি, কেমন যেন কোখাও মেয়ে হিসেবে একটা টান ধরছে. তাই একটু লিখতে ইচ্ছে হল.

আমার পারিবারিক চৌহদ্দীতে যত মেয়ে চোখে পড়ে, সবাই বেশ স্বামীর পদবীতেই খুশি. তাই আমারও সেটাই হওয়া উচিত ছিল হয়তো. কিন্তু বাদ সাধলেন ড্যফনে দ্যু মারিয়ার. ক্লাস সেভেনে বা এইটে ঠিক মনে নেই, হাতে এসেছিল রেবেকা. গোটা বইটা পড়ে ওঁর চরিত্র গড়ে তোলা, লেখার মুন্সিয়ানা সব কিছুর উপরে মনে ধরল রেবেকার স্টাইলাইজ নাম লেখা. তারপর অনেক মকসো করে একটা কায়দা করে বেঁকিয়ে R লেখা রপ্ত করলাম. পদবীর প্রথম অক্ষর. তারপর তাই জুড়ে তৈরী হল একটি কায়দার সই. .... বিয়ের পরে যখন প্রথম পদবী বদলের কথা হল, আমার প্রথম আপত্তি হল এখানেই. সেই কিশোরীবেলার থেকে চেষ্টা করে করে এতদিনে যাকে আয়ত্ত্ব করেছি, তাকে এককথায় বাদ দিয়ে দিতে হবে? শুধু বিয়ে করছি বলে?

না ক্ষোভ পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঠিক না। কারণ বেশ ভাল করে জানতাম , আমিও আমার বাবার পদবীই নিয়ে চলি, মোটেই মার টা ব্যবহার করি না. ... আর তাছাড়া পদবীর কোন একসময়ে হয়তো কোন যৌক্তিকতা ছিল, যখন পদবী মানুষের সামাজিক অবস্থান নির্নয় করতো. আজকে আর তার আর যৌক্তিকতা আমি তো দেখি না।

তাই আমার আপত্তিটা একটু ভিন্ন ছিল। আমার যাবতীয় মাসলমেমরি এতদিনে যা তৈরী হয়েছে নিজের নাম একভাবে বলে, একভাবে সই করে, কানে শোনার যে অভ্যস্ত আরাম, তাকে শুধু আমাকেই ছাড়তে হবে কেন? বিয়ে করে তো কোন অপরাধ করি নি যে আমাকেই আমার কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে? উত্তরটা আজো খুঁজছি....

প্রাকটিক্যাল যে সমস্যাটা অর্থাৎ বিবাহ নামক পদ্মপাতায় জল বিষয়টি, যিনি আজ আছেন তো কাল নাই সে ভাবনাটাও মুখে না বললেও মনের কোণে কি আর ছিল না? তবে অনেক কিছু মনে ভাহলেও মুখে বলতে নেই।

ক্রমে ক্রমে আর একটু বয়সে ছোট মেয়েদের সঙ্গে যখন আলাপ হল, দেখলাম কলকাতা শহরে বিয়ের পরে পদবী না বদলানটা চালু হয়ে গেছে. কিন্তু কেমন যেন সন্দেহ হয়, সে শুধুই সমাজের উপরের দিকে. নীচের দিকে কি আজো সেটা সচল হয়েছে? তাহলে আজো গ্রামের দিকের সদ্য বিয়ে হওয়া তরুণীকে ( নাকি কিশোরীই বলব) নাম লিখতে বললে একবার লিখে ফেলে আবার জিভ কেটে পদবী পালটাতে হয় কেন?

সত্যি কথা বলতে কি আমার অভিজ্ঞতায় বলে এই যে পদবী নিয়ে মাসল ফোলান এতে শাসনযন্ত্রের কোনই অংশ নেই, বিলকুল নেই. পুরোটাই সামাজিক. ... আর সমস্যা শুধু যে পারিবারিক বৃত্তে তা তো নয়. চাকরীর মত ফর্মাল . জায়গাতেও মানুষ নির্দিষ্ট আইনের অভাবে নিজের মত করে নিয়ম তৈরী করে নেয়. এবং সেই নিজস্ব interpretation ই যত গোল বাধায়।

এই পটভূমিকাতেই মোদির এই কথাটা আমাকে আশান্বিত করেছে। মফস্বল শহরের কোন ছেলের বাবা হয়ত কাগজে খবরটা পড়ে গিন্নিকে ডেকে শোনাবেন, কি সব হচ্ছে যে আজকাল! ...তারপর ছেলের বিয়ে দিয়ে বৌ আনবেন ঘরে. বৌ যখন বিএ পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে যাবে, তখন যদি মুখ ফুটে বলে ওঠে, আমি কিন্তু আগের পদবীই লিখব, তখন অন্তত তাকে নিচে কাঁটা উপরে কাঁটা দিয়ে পুঁতে দেবার হুকুম হবে না, সবাই "আজকালকার মেয়েদের যত নষ্টামো" বলে গজর গজর করেই ক্ষান্ত দেবেন. সরকারই তো লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলছে ...তার জন্যেই তো এতটা বাড়তে পারে ওরা ...

আইন , সে তো চিরকালই তামাশা মাত্র..


Name:  s          

IP Address : 60.158.182.25 (*)          Date:17 Apr 2017 -- 06:04 AM

বাহ। সুন্দর।


Name:  swati          

IP Address : 113.197.80.8 (*)          Date:17 Apr 2017 -- 11:56 PM

ধন্যবাদ.

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3