এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : পুরুষতন্ত্রের পুরুষ
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Abhijit Roy Chowdhury
          IP Address : 212.142.93.25 (*)          Date:07 Jan 2017 -- 10:00 PM




Name:   Abhijit Roy Chowdhury           

IP Address : 212.142.93.25 (*)          Date:07 Jan 2017 -- 10:04 PM

পুরুষতন্ত্রের পুরুষ

লেখাটা শুরু করেছিলাম ফেসবুকে নিয়মিত ভাবে ৪টে পার্টে ব্লগে একবারে দিলাম।
পুরুষতন্ত্রে পুরুষ কেন লেখা?
আমি নিজেকে একজন ফেমিনিষ্ট হিসেবে পরিচয় দেই, অনেকসময় অনেকেই সেটা শুনে যে বিশেষ আনন্দ পায়না। সেটাও বেশ লক্ষ্য করি। অনেকের ধারণাই ফেমিনিজম আসলে, মেয়েদের অধিকার এবং পুরুষ-এর বিপরীত একটা “থিওরি” অর্থাৎ আফ্রিকার সিংহদের সুন্দরবনের বাঘের মত কমিয়ে ফেলার একটা ব্যবস্থা। আসলেই কি তাই? এই লেখার উদ্দেশ্য একজন পুরুষ হিসেবে পুরুষতন্ত্রে বেঁচে থাকা কতটা কঠিন। এবং কেন একজন “পুরুষ” হিসেবেই(যদিও আমি সবার আগে মানুষ তাই) আমি একজন ফেমিনিষ্ট।
এই লেখার প্রথম পার্টে আছে, ফেমিনিজম কি? তা নিয়ে একটা সহজ ধারণা। কঠিন করে সবাই কে গুলিয়ে দিলাম না।
দ্বিতীয় পার্টে আছে পুরুষতন্ত্রের পার্টে পুরুষ কিভাবে প্রতিদিন অল্প অল্প করে শেষ হয়ে যায় লিঙ্গের তফাৎ-এ
তৃতীয় পার্টে লিঙ্গ ভিত্তিক ক্রাইমে একজন পুরুষ কে কিভাবে সমাজের মানুষেরা ঠেলে দেয়।
লাষ্ট পার্টে পুরুষ এবং বিবাহ, যেখানে পুরুষকেই টাকা হিসেবে অব্জেক্টিফাই করা হয়।
এবার বরং লেখাটি পড়ুন,

পার্ট-১

“আচ্ছা, নারীবাদ মানেই কি ছোট ছোট জামাকাপড় পরার স্বাধীনতা?”

প্রশ্নটা পাই, একজন শিক্ষিত কলেজ ষ্টুডেন্টের থেকে, তাই আলোচনাটা মনে হল, ইনবক্সে নয় ফেসবুকের দেওয়ালে করি।
নারীবাদ শব্দটা কি? এই বিষয় অধিকাংশ মানুষই বেশ কনফিউজড। একদল নারী মনে করেন এটা পুরুষদের বিরুদ্ধে লড়াই। একদল পুরুষ মনে করেন নারীবাদের জন্য পুরুষদের সমস্যা হচ্ছে, তাদের সিম্প্যাথি দেওয়ার কোন জায়গা নেই। একদল মনে করে নারীবাদ মানে ইকুয়ালিটির লড়াই।
এখানে বলে রাখা ভালো তিনটে ধারণাই ভুল। নারীবাদ আসলে পুরুষতন্ত্রর বিরুদ্ধে একটা চিন্তাভাবনা একটা আইডিওলজি। পুরুষতন্ত্র মানে কিন্তু সমগ্র পুরুষজাতি নয়, তন্ত্র মানে একটা সমাজ ব্যবস্থা। একটা সমাজের কথা যখন বলি তখন তাতে আর নারী-পুরুষ আলাদা করার ব্যাপার থাকেনা। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় প্রতিটা নারী পুরুষতান্ত্রিক যে মনে করে “আমাকে দেখা পাপ” কিংবা “আমি কেন প্রোপস করব?” ইত্যাদি আর প্রতিটা ছেলেও যারা ভাবে “মেয়ে বলে গায়ে হাত দেওয়া উচিৎ না। তাতে আবার সেক্সে বাধা লাগে”

ওপরে ব্যবহার করা দুটো লাইন আক্ষরিক ভাবে শুনলে মনে হয় আমি ষ্টকিং এবং হোম ভাওলেন্স কে সমর্থন করছি। কিন্তু তার মূল উদ্দেশ্য একেবারেই তাই নয় মেয়ে মানে তাকে লুকিয়ে রাখা, আর যেহেতু “পুরুষ”(সুপিওরিটি) তাই মারব না যেখানে ভাবা উচিৎ মানুষ বলে মাড়ব না তফাৎ খুব সুক্ষ্ম, ঠিক ততটাই সুক্ষ্ম ইকুয়ালিটি আর ইকুয়িটির তফাৎ।
ইকুয়ালিটি মানে সমান ভাবে ভাগ করা। আর ইকুয়িটি মানে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করা।
পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইকুয়িটি হচ্ছে লক্ষ্য। আজকে ট্রেনে যেই কারণে লেডিজ কম্পার্টমেন্ট আছে। (আবার শিক্ষা ক্ষেত্রে কাষ্ট সিস্টেম) এখানে পুরুষদের অসুবিধার জন্য লেডিজ কম্পার্টমেন্ট তৈরি হয়না, মহিলাদের সুবিধার জন্য। এখন ইকুয়ালিটি নিয়ে যারা চিন্তিত তারা হয়ত মেয়েদের ফ্রি-তে স্যানিটারি ন্যাপকিন দিলেও তাকে ছেলেদের মধ্য সমান ভাবে ভাগ করতে বলবেন। নাহলে যেখানে লাগানোর দরকার সেখানে লাথি-ফাথি মেরে রক্তাক্ত অবস্থা করে ফেলবেন। ফেলবেন কি?

নারীবাদের কিছু স্তর আছে, ফার্স্ট ওয়েভ। সেকেণ্ড ওয়েভ। থার্ড ওয়েভ।
এইসব নিয়ে না পড়লেও চলবে। শুধু ধরা যাক আপনার একটি যমজ ভাই আছে, এদিকে বাবা আপনার জন্য কেক এনে দিয়েছেন। সেটা দুজনে ভাগ করে খেলে আপনাকে আমি ফেমিনাজি বলে গালাগাল দেব? ব্যাপারটা এতোটাই সহজ।
নারীদের প্রতি আমাদের চিন্তাভাবনা একদিনে বদলাবে না, প্রচুর অসংগতি থাকবে কিন্তু একবার যদি একটা মেয়েকে নিজের যমজ ভেবে দেখেন তাহলেই দেখবেন মানতে সুবিধা হচ্ছে। তাহলে বুঝবেন যদি আপনার যমজ ভাই আর আপনি একটা দৌড়ে একসাথে শেষ করেন। তাহলে আপনার ভাই আপনাকে নকল করছেনা, বরং তার যোগ্যতা আছে। তাই মনে রাখতে হবে নারীবাদ মেয়েদের, পুরুষ করতে চায়না। তাকে মেয়ে হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

এবার আসি, ছোট কাপড়ের প্রসঙ্গে।

মেয়েদের কাপড়, সিগারেট নিয়ে, চাকরী করা নিয়ে সব দিকেই সমস্যা আছে। এখন বুঝতে হবে কোন পয়েন্ট অফ ভিউ তে? যদি মেয়ে হিসেবে প্রবলেম থেকে থাকে এতোদিন তাহলেই যমজ ভাইয়ের কথাটা বলেই দিলাম।
তাহলে থাকে দুই ভাইয়ের করা নিয়ে। এখানে প্রশ্ন আসে হিউম্যান রাইটসের আপনার যদি ছেলেদের নিউডিটি নিয়েওও প্রবলেম হয় এবং যদি দেখেন অধিকাংশ মানুষের প্রবলেম নেই তাহলে একটা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে নিজের চড়কায় তেল দেবেন। যদি না আপনার জামা কেউ টানে।
আমাদের এটা বুঝতে হবে প্রতিটা মানুষের নিজেস্ব পছন্দ থাকতে পারে। আপনি কাফকা পড়ছেন দেখে আমি আপনাকে প্রেসারাইজ করে স্মরনজিৎ পড়াতে পারিনা, আবার উল্টোটাও না।

পরিশেষে বলা যায় নারীবাদের লক্ষ্য কোনদিন ছোট পোশাক পরা নয়। নারীবাদের লক্ষ্য যে যাই করুক যদি সেটা ক্ষতি না করে তাহলে তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আবার কাফকায় ঢুকে পড়ুন।

পার্ট-২

ঘটনা-১
– কিরে কি খবর? কোথায় চাকরী পেলি?
– চাকরী? তা তো করব না। আমি ছবি তুলব
– এটাই পেশা? তুই কি এমন ছবি তুলছিস, যে তা দিয়ে টাকা কামাবি।
– টাকা না কামানো অবধি ষ্ট্রাগল করব, চাকরী করব না।
– সে তোর ইচ্ছে, কিন্তু আজ বাদে কাল বিয়ে করবি বউ বাচ্চা কে কি খাওয়াবি?
– আমি কি অথর্ব মেয়ে বিয়ে করব? যে আমাকে খাইয়ে দিতে হবে?
– তার মানে তুই তোর বউ কে খাওয়াবি না?
– না সে নিজেই যদি পেতে পারে, খাবে। নাহলে বিয়ে করবেনা। আমার টাকা থাকলেও খাওয়াবোনা। আমি তো বাবা হতে বিয়ে করছি না, ভালোবেসে করলে করব। সেও আমাকে ভালোবাসে। তাহলে সে আমায় কেন খাওয়াবেনা?
– এইসব পয়েন্টলেস আর্গুমেন্ট করে কোন লাভ নেই।

—————————
এই কনভার্সেশনটা, কলেজ জীবনের পরপর এক বন্ধুর সাথে হয়। যেহেতু আমি ছেলে, তাই আমাকে নিজের সুপিওরিটি দেখাতে চাকরী করতে হবে। নিজের সামান্য চাহিদার জলাঞ্জলি দিয়ে। হ্যাঁ আমি একজন পুরুষ, আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সুপিরিয়র সেক্স।

————
ঘটনা-২

একছেলে পাড়ার মোড়ে এসে সিনিয়রদের বলছে,
– জানিস। ওই পাড়ার ওই ছেলেটা কি ভুলভাল বাঁড়ায় হাত দিচ্ছে।
– তো কি হয়েছে? মস্তি নিবি তো। চুষিয়ে নিবি।
– ধ্যাত! কি বিচ্ছিরি।
– তুই কি মেয়ে নাকিরে বাল?

——————————-
আমার এক চেনাজানা ছেলের সাথে, তার পাড়ার ছেলেদের কনভার্সেশন। এই অবস্থায় যদি মেয়ে আসত তাহলে হিরো সাজার জন্য অন্য ছেলেগুলো ছেলেটাকে মেরে তক্তাপোষ করে দিতো। কিন্তু এক্ষেত্রে বলবে ছেলে-ছেলের ওখানে হাত দিয়েছে কি আছে আর? সেই ছেলেটিও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষ।
কিন্তু তার নিজের মলেষ্টেশন নিয়ে কম্পলেন করার জায়গা নেই। কারণ সুপিরিয়র কোন দিন মলেষ্ট হয়না।
————————
ঘটনা-৩

– চ্যালেঞ্জটা সোজা তো।
– বাল আমার ইচ্ছে করছেনা।
– ইচ্ছে করছেনা মানে? শালা ছেলে হয়ে ভয় পাচ্ছিস? এই বাড়ির ছাদ থেকে ওই বাড়ির ছাদে লাফাতে মেয়েরাও পারে।
– ভাই আমার ভেতরের সিংহ কে জাগাস না। কি করে ফেলব তার ঠিক নেই।
– তো করে দেখানা শালা।
————————-
এই ছেলেটি বাড়ির ছাদ থেকে নিচে চলে যায়। ছেলেটি সত্যি ভয় পেয়েছিল। ছেলেটি হয়ত বলেও দিতে পারত, মেয়েটা কে ডেকে লাফাতে বল। আমি পারছিনা। কিন্তু পুরুষতন্ত্র, পুরুষ কে যে ভ্রান্ত সুপিওরিটি দিয়েছে। তাতে ক্ষতি হচ্ছে তার নিজেরই। এই ক্ষেত্রে মৃত্যু।
—————————

বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে সেটা আই.আই.টি ছাত্র হোক কিংবা কৃষক
এই পুরুষেরা কেরিয়ার অরিয়েন্ডেড চাপেই কিন্তু সুইসাইড করছে। ভারতে জেণ্ডার রেশিও অনুযায়ী ছেলেদের সুইসাইড করার সংখ্যা মেয়েদের দ্বিগুণ। (পশ্চিমবঙ্গে যদিও সব থেকে বেশী মেয়েদের সুইসাইডের রেকর্ড, অন্য রাজ্যর তুলনায় সুইসাইড করে, মুলত হোম ভাওলেন্স, সেক্সুয়াল এবিউস ইত্যাদির কারণে, প্রোগ্রেসিভ বাঙালীদের জন্য প্রাউড মোমেন্ট)
এই যে প্রেশারাইজেশন চলছে ছেলেদের প্রতি, সেটা তো বন্ধ করা যায়।
বউ-এর সাহায্য নেবনা টাকার ব্যাপারে, বউ কে সাহায্য করব না রান্নাঘরে। দুটোই বেশ শিশুসুলভ ধারণা। আপনি পুরুষ প্রেশারকুকার নন। যে আপনাকে সব চাপ মুখ বুঝে সহ্য করতে হবে।
এখন প্রতিটা মানুষ আলাদা, এটা মানেন তো? তাহলে একটা সংসারে বা একটা সমাজ ব্যবস্থায় কে সুপিরিয়র কে ইনফিরিওর হবে সেটা জেণ্ডার হিসেবে ঠিক করে। ছেলেদের প্রতি এরম চাপ দেওয়া হবে কেন? সুপিরিয়র মানেই একটা দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আপনি নেবেন কিনা সেই স্বাধীনতা কি আপনার আদও আছে? না থাকলে, পুরুষতন্ত্রে পুরুষ স্বাধীন কোথায়?

pp.jpg

পার্ট-৩

রেপ শব্দটাই এরম একটি শব্দ, যেটা উচ্চারণেও মৃত ভারতীয়ও নড়েচড়ে বসে। এই দেশের অধিকাংশ মানুষ রেপ বলতে বোঝে একজন মহিলার প্রতি একজন পার্ভাটের হামলা, মলেষ্টটেশনও তাই। আর রেপের খবর বাইরে এলেই, রেপিষ্টের
যৌনাঙ্গ কেটে দাও, একে ফাঁসি দিয়ে দাও এইসব স্লোগান।

যেহেতু অল মেন আর পটেনশিয়াল রেপিষ্ট। তাই একজন পটেনশিয়াল রেপিষ্ট হিসেবে দেখা যাক ঘটনাগুলো,

প্রথমত রেপ করার সাথে সেক্স করার কোন সম্পর্ক নেই, রেপ মুলত ডমিনেশন, ভয় দেখানো, শাস্তি দেওয়া। এখানে দুটো ব্যাপার,
আমি কাউকে কেন ডমিনেট করতে চাই?
আমাকে কে শিখেয়েছে ভ্যাজাইনাল পেইন দিয়ে ডমিনেট করা যায়?

আমাকে ছোট থেকে শেখানো হয় একটা নারী, একটা পণ্য, একটা অব্জেক্ট তাই বেশী টাইটুই করার জায়গা নেই। করলে বুঝিয়ে দিতে হবে সে মেয়ে এবং আমি ছেলে, পিঁয়াজি আমি মারব শুধু, ও নয়। জীবন বিষয়ক জ্ঞান আমি পেয়েছি বাড়ি থেকে, বন্ধুবান্ধব থেকে। তারা আবার তাদের বাড়ি থেকে।

আর ভ্যাজাইনা আর পেনিজ এই দুটো নিয়ে তৈরি হওয়া আমাদের অন্তত ২কোটি বিকৃত চিন্তাভাবনা। আর হবে নাই বা কেন? পেনিস সাইজ নিয়ে ছেলেরা চিন্তিত নয়? নাকি বুবস সাইজ নিয়ে মেয়েরা নয়? রিপ্রোডাকশন নিয়ে জানতে ভারতীয় ৯০% মানুষ কে ওয়েট করতে হয় পর্ন নিয়ে অর্থাৎ সিনেমা দেখে আমাদের প্রেমিকা হোক আর সেক্স লাইফ তার ধরন ঠিক করি।

আসতেই পারে, তাহলে সিনেমার দোষ আমাকে পোটেনশিয়াল রেপিষ্ট বানাতে?
আমার মনে হয়না, যেমন শাহরুখ খান আমার প্রিয় বলিউড চরিত্র, এদিকে শাহরুখ খান-এর প্রিয় সিনেমা জানতে চাইলে অধিকাংশ মানুষ বলে ডিডিএলজে কিংবা কুচকুচ হোতা হে।
কিন্তু হে-রাম এর জন্য তাকে কেউ মনে রাখেনি।
ফলে ওই দুটো সিনেমা থেকে, শিখেছি মেয়ের সাথে আলাপ করতে তার মুখের কাছে ব্রা ধরে ক্রিপি কথাবার্তা বলো, এবং একজন মেয়ে যতক্ষণ সো কল্ড “মেয়ে”দের মত জামাকাপড় পরছে ততক্ষণ তার প্রেমে পড়া যায়না। তাই KKHH-এ কাজলের প্রেমে শাহরুখ তখনই পরে যখন সে মেয়ে সাজে শাড়ি পরে, কিংবা চুল বড় করে। মেয়েদের সাথে গানের নামে মলেষ্ট করে ভয় দেখাতে হবে, কারণ মেয়েদের “হোটো পে না দিলমে হা হোয়েঙ্গা”।ভয় দেখালেই প্রত্যাখ্যান হ্যাঁ হয়ে যাবে, কি এটাই তো প্রেমে ফেলার নিয়ম?
এই সিনেমাগুলোর কোথায় গণ্ডগোল সেটা আমাকে সেদিনও কেউ শেখায় নি ভবিষ্যৎ-এও না। এবং সেই বয়সে শিক্ষাকেন্দ্র মানে স্কুলে ভারতের উত্তর দিকে রাশিয়া আছে এটা জেনেও আমার মধ্য বিকৃত চিন্তার কোন তফাৎ আসেনি। আমাকে বাড়িতে বাবা-মাও বলেনি এই সিনেমাটার এখানে ভুল কোন মেয়ে কে ব্রা দেখাবি না সেটা বাজে। এদিকে হে-রাম দেখতে আমাকে কেউ বলেনি কারণ ওই সিনেমার আগে A-সাইন ছিল।
এই সহজাত বিশ্বাস কে আমি এতোদিন ধারণ করেছি, তার জন্য আজও শাহরুখ খান কে তার সিনেমাতে সানি লিওনি কে নিতে হয়। কারণ না নিলে পাবলিক তার সিনেমা দেখবেনা। আমির খান কেও দঙ্গলের মত রিয়েলিষ্টিক সিনেমা বানাতেও “ফর্সা” “সুন্দর” মেয়ে কে নিতে হয়। নিজে যেখানে চরিত্রর জন্য বেঢপ চেহারা বানালেও, মহিলা চরিত্র টিকে আসল জীবনের গীতার মত দেখতে লাগে সেরম কাউকে নেওয়া হয়না।

পুরুষতন্ত্রের যে সুপিওরিটি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেই সুপিওরিটি আমাকে কেউ কোনদিন বদলাতে বলেনি। যদি আমি বদলাই আমি বদলেছি কিছু বুদ্ধিমান মানুষের সংস্পর্শে এসে আমি লাকি তাই আমি তাদের সাথে আলাপ করতে পেরেছি। ৯৯% ছেলে পারেনা। তারা তাহলে কি করবে?

আজ কোন ছেলে মুখে ব্রা দেওয়া যায় এই চিন্তাকে মেনে নিয়েছে যখন, তার পরিবার কিংবা তার স্কুলে সেইসব নিয়ে যখন কেউ চিন্তিত নয়। তখন সে মলেষ্ট করলে, তার যৌনাঙ্গ কেটে নেওয়ার দাবী উঠলে। তার পাশের প্রতিটা মানুষ, সেই মানুষগুলোর পাশের মানুষ। সবার যৌনাঙ্গ কেটে নেওয়া হোক।
কারণ একটা মেয়ে মলেষ্ট হলে তার জন্য আমরা সকলেই দায়ী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে।

এটা তো খুব সহজ চিন্তা যে একজন শিশু কে বড় করে মা একজন মহিলা তার মানে বলা যায় তারাই পুরুষতন্ত্রের ধারক।

অতয়েব,
অল মেন আর পোটেশিয়াল রেপিষ্ট, কস দে আর রেইজড ইন দ্যাট ওয়ে বাই ওমেন।

পার্ট-৪

– মা আমি একটা ছেলের সাথে সিরিয়াস সম্পর্কে আছি।
কিংবা তোমার মেয়ের জন্য একটা পাত্র পছন্দ করলাম।

এই ধরনের কনভার্শেসনে প্রথম যেই কথাটা ম্যান্ডেটরি – “ছেলেটা কি করে?” আপনি চাইলেও এখানে বসাতে পারবেন না “তুই ভালো থাকবি তো?” কিংবা “তোকে ভালোবাসবে তো?” অথবা “ছেলেটার চরিত্র ভালো নিশ্চয়ই।”

আমার হবু শ্বশুর শাশুড়ি শুধু এটা জেনেই খুশি হবেন আমি কি করি। আরও প্রফেশনালি বললে কত টাকা কামাই, এটাই আমার আমার প্রধান বিয়ে করার যোগ্যতা।
এখন এরেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে আমি বেকার হলে, আমি সেই লিগে এলিজেবল নইই। চাকরী করলে প্রিলিমিনারি, ব্যবসা করলে সেকেণ্ড রাউণ্ড। সেমি ফাইনাল অবধি মাইনা বনাম লাভ। ফাইনালে NRI গ্রিণ কার্ড বনাম বড় ব্যওসায়ী। মেয়েদের ক্ষেত্রে বড় ব্যবসায়ী হয়না, হলেও তার বিয়ের জন্য বাবা মা কে লাগেনা তাই নন এলিজবল NRI গ্রিন কার্ড হোল্ডার নারীও সেম অবস্থা সেও নন-এলিজিবল।
বাকিটা উলটো বিন্যাসে নামতে পারে ফাইনাল হবে বেকার বনাম কিছু আনসিরিয়াস জব করি(বিয়ের পর বন্ধ) ইত্যাদি।

এখন বোঝাই যাচ্ছে, এরেঞ্জ ম্যারেজ মানেই বাবা-মার ফাইনেশিয়াল হেল্প করতে অক্ষম অতয়েব অন্য কারোর কাছে গচ্ছিত করো। এখানে প্রেম বলে কিছু নেই। টাকার গল্প, এখন শ্বশুর মশাই যদি, তার জন্য কিছু টাকা এককালিন দেন তাহলে তাতে আবার পাপ কি? (খুব সিরিয়াস প্রশ্ন এটা, অনৈতিক ঠেকছে নিজের লিখতেই, তবুও)
এখন কেউ চাইলে তার দোষ নেই, কেউ দেখ তোর মেয়েকে খাওয়াবো সারাজীবন তাই পয়সা নিচ্ছিনা, টাইপের লঙ রান সুপিওরিটি দেখাতে কেউ-কেউ অস্বীকার করলেও। আমি করব না, করব না কারণ আমাকেও টাকার ওপরই মাপা হয়েছে আমি কেমন ছেলে। শ্বশুরকেও টাকার হিসেবে মাপা হল শ্বশুর বাড়ি কেমন।
——————————-

পণ প্রথা, আমার কাছে বেকার-এর কর্ম সংস্থান যোজনা যার জন্য টাকা দিতে হবে।
প্রতিদিন পণ রিলেটেড ঘটনায় ভারতে ২৩জন করে নারী মারা যায় তবুও এটাই তো হচ্ছে। টাকার বদলে টাকা।
ওপরের লেখাটা আমি সমর্থন করিনা, একটা প্রথার অন্যদিক দেখাতেই লেখা।

মনে করুন আপনি যদি আমাকে টাকা না দিয়ে, সেই টাকায় মেয়ের জন্য শিক্ষার্জনে সব টাকা খরচ করতেন, পাত্র-পাত্রীর কলমের জায়গায় মেয়েটার জন্য কর্মসংস্থান নিয়ে বেশী করে ভাবতেন। তাহলে আমি বলতে পারতাম কি? আমি ইঞ্জিনিয়ার আমার রেট এতো? কারণ আপনার মেয়েও তখন তাই। আমার সুপিরিয়র হওয়ার কোন চান্স নেই।
আমার টাকা চাওয়ার কোন মুখ নেই।
কারণ আজ আমি মাইনার বিনিময়। বিছানা, ফ্রিজ, হার্ড ক্যাস এবং আপনার মেয়ে কে কিনে নিলে তাকে আমি একদিন মদ খেয়ে মারতেই পারি, কারণ আপনি বিক্রি করেছেন।
আপনার মেয়ের গায়ে দাগ দেখলে, আপনিও অসহায় বোধ করেন কারণ আপনিও জানেন নিজের গভীরে সন্তানের মধ্য ছেলে-মেয়ে হয়না, শুধু সন্তান হয়।
আপনার ছেলেকে আপনার বউ মারলে, সে বেড়িয়ে আসতে পারে এলিমনি ক্লেম করতে পারে এরম স্বাধীন মেয়ের সাথে বিয়ে দিলেও আপনার ছেলেকে, মার খাওয়ার পর ডিভোর্স কেস করলে টাকা যাতে দিতে না হয় সেটাও তো দেখার বিষয়।

“আমি সংসার সামলাই”- শব্দটার গোঁড়ায় গণ্ডগোল আছে। সংসার শব্দটাই বহুবচনে প্রকাশিত আর আমি একটা একবচন শব্দ। ফলে হয় আমি হবে নাহয় আমাদের সংসার হবে।

পণপ্রথার বিরুদ্ধে, সজাগ হোন। নিজের মেয়েকে স্বাধীন করুন।
শিক্ষা এবং চাকরী এই দুটো প্রধাণ হোক মহিলাদের জন্য। বিয়ে হোক অপশানল। নাহলে মনে রাখবেন দিনে ২৩জন মারা যাচ্ছে। ৯মাস পেটে ধরেননি সেই লিষ্টে ঢোকার জন্য।

কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা নন। একজন গর্বিত পিতা হন। কারণ পিতৃত্ব আপনার পুরুষত্বর অংশ

——————————————————————————————–

পরিশেষে জানতে চাই, আপনি কি পুরুষতন্ত্রের পুরুষ হিসেবে থাকতে চান? নাকি মানুষ হিসেবে একটা সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করতে চান? নারীবাদে নারী আছে বলেই সেটা নারীর জন্য নয় আশা করি এই লেখাটাতেই বোঝাতে পেড়েছি?
তাই আমি একজন গর্বিত নারীবাদী। এবং আমি চাই নারীবাদকেই সমাজ ব্যবস্থার মুখ্য হিসেবে দেখা হোক। ফলে এবার যেখানেই আপনাকে পুরুষ হিসেবে আলাদা করে ভ্রান্ত সুপিওরিটির ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হবে সেখানেই প্রতিবাদ করুন।




Name:  ranjan roy          

IP Address : 24.99.193.176 (*)          Date:08 Jan 2017 -- 01:23 AM

বেশ! যদিও প্রেজেন্টেশনটা কীরকম যেন লাগল!


Name:  cm          

IP Address : 127.247.96.247 (*)          Date:08 Jan 2017 -- 10:50 AM

“ নারীবাদ আসলে পুরুষতন্ত্রর বিরুদ্ধে একটা চিন্তাভাবনা একটা ” এটা একটু বুঝিয়ে বললে ভালো হয়। পুরুষতন্ত্র কোন ইস্যুতে যে অবস্থান নেবে নারীবাদকি আবশ্যিকভাবেই তার বিপরীত অবস্থান নেবে? এটাই কি সংজ্ঞা হিসেবে নিতে পারি?

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3