এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : জাগরী দেবী ও দঙ্গল
          বিভাগ : সিনেমা
          শুরু করেছেন : Shovan Naskar
          IP Address : 178.235.205.35 (*)          Date:02 Jan 2017 -- 08:44 AM




Name:   Shovan Naskar           

IP Address : 178.235.205.35 (*)          Date:02 Jan 2017 -- 08:45 AM

যাই বলুন না কেউ বাঙালি জাতির একখান ইয়ে মানে এলেম আছে মাইরি। হাজার হোক একটা খুঁত খুজে ফেলতে পারলেই ব্যাস ! ফেবুতে হাজার লাইকের ছড়াছড়ি। কেউ কেউ আবার "গুরুদেব" বলে ষষ্ঠাঙ্গে 'ফেবুপেন্নাম' ঠেকিয়ে যায়। আর এই কাজে আমরা যে সিদ্ধহস্ত সন্দেহ নেই। খুঁত না পেলে নারীবাদ-পুরুষবাদ ঢুকিয়ে দাও। ভাল কিছু দেখলেই কুকুরের আগে গন্ধ নাকে লাগে বড্ড বেশি।
বছর পচ্চিশ-ত্রিশ বছর আগে একখান সিনেমা বেড়িয়েছিল। মতী নন্দীর কোনি। রাজ্য সরকারের একখান ট্যাগ ছিল। তারওপর সৌমিত্তির এর সিনেমা! মতী নন্দীর লেখা! আহা! বাঙালি গদ গদ। বুদ্ধিমানরা বলল, আহা সাহিত্য তো! ভাল হবেই। আমরাই সেরা সিনেমা বানাই।
তারপর তা নিয়ে কত আদিখ্যেতা চলেই যাচ্ছে এখনো। এর মধ্যে সারা ভারতে কোথায় কি সিনেমা হচ্ছে জানি না হঠাৎ আমির খান নামক এক পাপিষ্ঠ একখান সিনেমা বানালেন দঙ্গল। সারা ভারত খুঁজেও যখন কোন খুঁত পেল না তখন বাঙালি বলল, রোসো আমি আসিতেছি। জাগরী দেবী কাগজে লিখে ফেললেন, আমি ইহার ভিতরে পুরুষতন্ত্র দেখিতেছি। কেউ কেউ ফেবুতে ঝড় তুলে বলল, আমি এর মধ্যে শৈশব চুরি দেখিতেছি। সবাই 'ফেবুপেন্নাম' করলে!
তারা বেমালুম ভুলে মেরে দিলে কোনি যখন জল থেকে উঠে আসত ক্ষিদ্দা তখন ঢিল ছুড়ে মারত। লাঠি দিয়ে খোঁচা দিত। সেটা কোন তন্ত্র ছিল? আমাদের সময় শিক্ষকরা সুযোগ পেলেই কিল চড় দিত। তাই আমরা এক একখান জানোয়ার তৈরি হয়েছি। এখন সব দেব-দেবী তৈরি হচ্ছে। বেশ বেশ।
শৈশব নাকি চুরি করেছে মহাবীর। জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে কুস্তি। যে আমির থ্রি ইডিয়টস, তারে জমিন পর বানিয়েছে সে এত বোকা! আমার মনে হয় তারা হলে নয় বাড়িতে মোবাইলে দঙ্গল দেখেছে পি ডিভিভি রিপে। মহাবীর কখনই মেয়েদের ওপর চাপাননি। বাইরে মারপিট করে আসার পর বুঝেছিলেন মেয়েরা কুস্তির যোগ্য। রাত্রে মেয়ের পা টিপে দিয়েছিলেন। কোচ আর পিতার দুটো দায়িত্বও পালন করেছিলেন। বৌয়ের কাছ থেকে একবছর চেয়ে নিয়েছিলেন। এমন নয় যে না পারলেও জোর করে শেখাবেন। পরে মেয়েরা নিজে থেকেই কুস্তিতে নেমে যায়। বাবা জোর করেনি। শৈশব রক্ষা করতে যদি বলত বাবা ঘুম থেকে আটটায় ওঠো তো গীতা-ববিতার আর নাম শোনা যেত না।
মহাবীর ছিলেন গ্রামের মানুষ। সাধারণ কেরানী। সে যে বিদ্যাসাগর বিবেকানন্দ হবে এটা কি হতে পারে? তা সত্ত্বেও শৈশব চুরি করেননি বরং ১৪ বছরে মেয়েকে বিয়ে হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন। এখন মাথার চুল কাটাকে কেউ যদি শৈশব নষ্ট করা বোঝায় তো কিছুই বলার নেই।
যারা খুঁত ধরতে ব্যস্ত তারা আগে কোন বিখ্যাত স্পোর্টসম্যানের জীবনী পড়ে আসুন। স্পোর্টস মুভি গুলো দেখুন। দেখবেন দশ বছর থেকেই কঠোর অনুশীলন নে নিজেকে তৈরি করেছেন। শচীন কত্ত ছোট থেকেই দাদা আর রমাকান্তের কাছে পরিশ্রম করতেন। নিষ্ঠা পরিশ্রম দিয়ে স্পোর্টসম্যান তৈরি হয়। পড়াশুনো তো সবাই করছে।
একটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একটা মেয়েকে যে এইভাবে তুলে ধরল তাকেই আজ বাঙালিরা খুঁত ধরতে ব্যস্ত। ভাবা যায়! বাঙালি বলেই সম্ভব! জাগরীদেবী আবার নারীবাদের ধোঁয়া তুলেছেন। হয়ত উনি মহাবীরের মত চার পাঁচটা স্পোর্টসম্যান বানিয়েছেন শৈশব রক্ষা করে। তাই বলতেই পারেন।
সব শেষে একটা গল্প বলি । বি এড করছিলাম যখন তখন একটা ছেলের সাথে আলাপ হয়। খুব মেধাবী, শান্ত নম্র। জীবনে সে শুধু শিক্ষক হতে চায়। অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সে পড়াশোনা, হোমওয়ার্ক করত। পড়ানোর নিয়ম কানুন পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে চলত। ঘটনাক্রমে ওর আর আমার প্রাকটিস টিচিং পড়ল এক স্কুলেই। প্রথম কদিন ঠিকই ছিল। একদিন পড়াতে গিয়ে দেখি পাশের ক্লাস থেকে খুব আওয়াজ হচ্ছে। গিয়ে দেখি। দুটো ছেলেকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে দুটো কে ঠ্যাঙাচ্ছে। পরে দেখা হলে বলল, ধুর নিয়মের গুষ্ঠির তুষ্ঠি। কঠোর শাসনের বিকল্প নেই।
#শোভনস

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1