এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--20


           বিষয় : ইসলামোফোবিয়া - ইতিহাস থেকে বর্তমানে
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : সিকি
          IP Address : 132.177.128.177 (*)          Date:18 Aug 2015 -- 08:29 AM




Name:   সিকি           

IP Address : 132.177.128.177 (*)          Date:18 Aug 2015 -- 08:30 AM

Comment from তাপস on 14 August 2015 09:46:55 IST
অদ্ভুত হয়ত নয়, তবু আশ্চর্য লাগে, কী ভাবে বেড়ে চলেছে ইস্লামোফোবিয়া! কত রকম প্রকরণ তার, কত নানা রঙের মুখ এবং মুখোশ! স্বীকার করতেও ডর হয়! মুখ ফিরিয়ে থাকি বিদ্বেষী মনন দেখলে। চিনতে চাই না। আজ আবার লেখার মনে হল, আসলে এই উপমহাদেশে হিন্দু মুসলমান কখনওই ভাই ভাই শান্তির নীড়ের মতন ছিল না। সম্প্রদায়গত ভেদ তাদের লড়িয়েছে, বা লড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে খাস উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। কাজে লাগানো হয়েছেও বলা যেতে পারে। সে অন্য কথা। কিন্তু এই বিভেদের আর সংঘাতের ইতিহাস ভুলে গিয়ে, কিছু রূপকথা পরিবেশন করলেই, উপমহাদেশের নাগরিক মন থেকে ভেদাচার আটকানো যাবেনা। যায় যে নি, সে তো নিত্য প্রতীয়মান হচ্ছে। যথা এখানেও।

Comment from সিকি on 14 August 2015 10:01:04 IST
প্রশ্নটাই সেখানে। কেন? কেন শিখোফোবিয়া, বৌদ্ধফোবিয়া জৈনফোবিয়া সেভাবে তৈরি হল না? কেন ইসলামোফোবিয়া পারসিস্ট করে গেল, ভারতে, ভারতের বাইরে? কেন লোকে ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসকে এক করে দেখছে - ক্রিশ্চিয়ানিটি বা অন্য ধর্মের সাথে এক করে দেখতে পারছে না?

Comment from তাপস on 14 August 2015 10:11:27 IST
সিকি, ইসলামের সাথে সন্ত্রাসকে এক করে দেখানোর ফেনোমেনা সাম্প্রতিক। ভেদের ব্যাপারটা আরো পুরোন। সেই যখন নাকি, রেলপথ আসেনি উপমহাদেশে, চাষ, মাছধরা, এইসব ছিল জীবিকা, সেই সময়ে। আমি তখনকার কথা বলতে চেয়েছি।

Comment from Sakyajit Bhattacharya on 14 August 2015 10:19:04 IST
তার কারণ ক্রিশ্চিয়ানিটির মতন ইসলাম-ও এক্সপ্যানশনিস্ট। হিন্দুত্ববাদ বা বৌদ্ধ ধর্ম-র সেই তাগিদ ছিল না মনে হয়। ফলে সংঘাত তো লাগবেই। ক্রুশেডের ইতিহাসে অবশ্য দেখেছি অন্য ফ্যাক্টর-ও ছিল। বাইজান্টাইন এবং/আর গোটা ইস্তানবুলীয় সভ্যতার বাজার ধরার হিসেব নিকেশ।

তবে একটা কথা মাথায় রাখুন। আপনি না চাইলেও আপনার মধ্যে সেক্সিজম, কাস্টিজম, ইস্লামোফোবিয়া ঢুকে যাবেই। কয়েক হাজার বছরের জমানো বিদ্বেষ আপনি চাইলেই মুছে দিতে পারেন না। তাই সেলফ ডিনায়াল মোডে থাকবেন না। কখনো অস্বীকার করবেন না যে আপনিও রেসিস্ট, সেক্সিস্ট, ক্লাসিস্ট, কাস্টিস্ট এবং ইস্লামোফোবিক। যদি নিজের ভেতরের অন্ধকার কাটাতে হয় তাহলে ডিনায়াল মোড থেকে বেরনো আগে দরকার। নাহলে আপনি জানবেন-ও না কখন আপনি ঠিক সেগুলোই হয়ে গেছেন যেগুলোকে আপনি ঘেণ্ণা করেন।

ওপরের কথাগুলো ভারত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দেশকে ভালবাসুন, কিন্তু স্বাধীনতাকামী ভূখন্ডগুলোর অ্যাসিপিরেশন যেভাবে গায়ের জোরে দাবিয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো নিয়ে ডিনায়াল মোডে থাকবেন না।

মনে রাখবেন, আপনি যখন স্বপ্নে বিভোর, কোল্ড ক্রীম তখন আপনার ত্বকের গভীরে কাজ করে। আপনি যখন সুপ্ত অচেতন শোষক কীট আপনার সর্বাংগ কুরে কুরে খেয়ে ফেলে। আমরা যখন আকাশের আনন্দে মগ্ন ফ্যাসীজম তখন নিঃশব্দে প্রবেশ করে

Comment from সিকি on 14 August 2015 10:39:22 IST
উফ, সবকিছুকেই এক্সট্রিমে নিয়ে গিয়ে না ভাবলে চলে না।

দেখুন, আমি ইসলামোফোবিক বটে, অস্বীকার করি না, সেটা সত্যি, কিন্তু একমাত্র সত্যি নয়। আমি ধর্মফোবিক। ধর্মে আমি নিরাসক্ত নই - ধর্মাচরণ জিনিসটাতেই আমার অপরিসীম অস্বস্তি এবং অপছন্দ আছে, ইসলাম তার একটা পার্ট। সমস্ত ধর্মতেই আমার সমান অভক্তি - সেই পয়েন্ট থেকে ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা চালাচ্ছি। স্বপ্নে টপ্নে বিভোর নই।

Comment from Sakyajit Bhattacharya on 14 August 2015 10:41:55 IST
আম্মার মনে হয় সমস্যাটা হল আমাদের রাষ্ট্রনির্মিতির কনসেপ্ট পুরো খাপে খাপ ইউরোপীয়ান যুক্তিবাদের মডেল ফলো করে এসেছে। সেই মডেলে, যদি থমাস ক্রমওইয়েলের রাষ্ট্রচিন্তা দেখি, বা ফ্রেঞ্চ রেভলিউশনের পর নতুন রাষ্ট্রীয় কন্সেপ্ট, বা মাতসিনির দেশপ্রেম এবং জাতীয় সংহতি, সেখানে ক্ষণ্ডের থেকে পূর্ণ বেশি ইম্পর্টান্ট। সেটের কল্যাণের জন্য সাবসেটকে স্যাক্রিফাইস করতে হবে, যার দার্শনিক কাঠামোটাও নিউটনিয়ান/দেকার্তিয়ান মেকানিক্স/যুক্তিবিদ্যা থেকে আসছে। ভারতরাষ্ট্রের নির্মাতারা প্রবলভাবে ইউরোপীয়ান বিপ্লব, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র এসব চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন। সমগ্রের স্বার্থে অংশকে দাবিয়ে রাখা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল বলে মনে হয় না। কিন্তু সমস্যাটা হল, স্বাধীন বাজারের যে অর্থনীতি এনলাইটেনমেন্টের শুদ্ধ যুক্তিকে প্রমাণ করেছে, সেই অর্থনীতিই যুক্তির শুদ্ধতাকে ধ্বংস করেছে। ধনতন্ত্রের নিজস্ব নিয়মেই এনলাইতেনমেন্ট রূপান্তরিত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদে আর আমাদের মতন তৃতীয় বিশ্বে সেই সাম্ম্রাজ্যবাদ প্রকাশ পাচ্ছে বড় রাষ্ট্রের দাদাগিরিতে। কলোনীতে যে যুক্তির শৃংখলায় সাম্রাজ্যবাদী লুন্ঠন সমর্থিত হয় সেই যুক্তির শৃংখলাতেই একসময় ফ্যাসীজম-ও ভিন্ডিকেটেড হয়ে যায়। যে যুক্তিতে ব্ল্যাক-পীপলদের সাদা সাম্রাজ্যের সামনে নতজানু করে রাখা হয় সেই এক-ই যুক্তিতে ইহুদীদের নির্বিচারে আউশভিৎশেও পাঠানো যায়। তাই এটা কোনো অবাক হবার ব্যাপার আর নয় যে কয়েক দশকের উপেক্ষা আর খণ্ডীকরণের পর ভারতকে আবার প্লেবিসাইটের কথা ভাবতে হয় ২০১০-এর পরপরেই যখন এজ অফ রীজনের সীমাবদ্ধতা ধরা পড়ে গেছে, গণি লোনের ভূত সাউথ ব্লককে তাড়া করে বেড়াচ্ছে

Comment from Sakyajit Bhattacharya on 14 August 2015 10:50:51 IST
হুঁ, কিন্তু এই ধর্ম নিয়ে অস্বস্তি-অ কিন্তু এথিজমের নামে ব্যবহৃত হতে পারে নিউ-কন দের হাতে।

যাজ্ঞে, এই নিয়ে আমি বলার কেউ নই। আমি মাকু এবং জামাতের অ্যালায়েন্সের পক্ষে। যেখানে যেমনভাবে পারা যায় হিন্দুত্ববাদীদের কাঠি করাটাই কাজ বলে মনে করি। ফলে আমার কথাবার্তা বায়াসড হতে বাধ্য

Comment from শিবাংশু on 14 August 2015 13:44:48 IST
তাপস, সিকি,

ইসলামোফোবিয়া ব্যাপারটা কিন্তু এদেশে সাহেবরা আনেনি। বহুদিন ধরেই তিতিবিরক্ত হচ্ছিলুম সাম্প্রতিক কালে হঠাৎ এর বেড়ে যাওয়া অন্ধকার নিয়ে। লক্ষ লোক লক্ষভাবে নিজেদের কথা বলেছেন, বলে আসছেন গত একশো বছরের উপর। বস্তুতঃ ১৯০৫ সাল থেকেই। কিন্তু কোনও রকম অ্যাজেন্ডাহীন বক্তব্য খুব কমই বলা হয়েছে। শতকরা নিরানব্বইটি মন্তব্যই উচিতার্থে বলা। তা মানবতার শর্তে, প্রতিক্রিয়াশীলতার শর্তে বা দ্বান্দ্বিকতার শর্তে, যেভাবেই হোকনা কেন, তা পড়তে বা লিখতে যতোটা ইতিবাচী, কার্যক্ষেত্রে তা নয়।
------------------------------------
সম্প্রতি পিছোতে পিছোতে শিকড় খুঁজতে গিয়ে প্রায় প্রাকমধ্যযুগ থেকে এদেশের ইতিহাস পড়ছি বিশদে, নানা লোকের জবানিতে। এতো জটিল প্রকরণ নিয়ে সংক্ষিপ্ত, সাধারণীকৃত মন্তব্য দেওয়া খুব বিপজ্জনক। তবে এখনও পর্যন্ত যা পড়ছি বা বুঝছি তা'তে এটা স্পষ্ট যে বিচ্ছিন্নতার বীজ প্রথম থেকেই এতো গভীরভাবে পোঁতা হয়েছিলো যে তার প্রতিক্রিয়া থেকে গত এক হাজার বছরেও আমরা নিস্তার পাইনি। মানবতাবাদিরা শুরু করেন ইরানের সুফিবাদী উদার ইসলামের ভাবনা দিয়ে। আরব বণিকদের হাত ধরে যা এদেশে আসা ইসলামের প্রথম পদচিহ্ন, কেরলে ও কাশ্মীরে। যেখানে দেখি কেরলের রাজা নিজে উদ্যোগ নিয়ে তাঁর সভাসদদের বলছেন খ্রিস্টিয় ও ইসলামি দর্শন এবং লোকাচার অভ্যাস করতে। কাশ্মীরেও জয়নাল আবেদিনের কিম্বদন্তী অতি বিশ্রুত। কিন্তু খাইবার পেরিয়ে তুর্কিস্তান বা মঙ্গোলিয়া থেকে আসা লুটেরা, ঘাতক ও ধর্ষকদের রাজধর্মকে এদেশের পুরোনো লোকজন অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখেছে। তার উপর এই সব শাসকও চিরকাল তুর্কি ও 'হিন্দু'দের মধ্যে ব্যবধানটি যাতে অলঙ্ঘ্য থাকে তার প্রতি সচেতন ছিলেন। মূর্তিপূজকদের গায়ের জোরে মূর্তিবিনাশক বানানোর জন্য যে বিপুল উদ্যম নেওয়া হয়েছিলো তার একটা গভীর নেতিবাচক প্রভাব সংখ্যাগুরু জনতার সাইকিতে চিরস্থায়ী হয়ে বসে গেছে। যে উদ্যমটি মিশরে বা ইরানে সফল হয়েছিলো, ভারতবর্ষে তা হয়নি। কারণ ভারতবর্ষ একটি মহাদেশ, সর্ব অর্থে। এদেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি, উভয় ধর্মসম্প্রদায়েরই, এই ইতিহাসটিকেই প্ররোচনার মূল হিসেবে প্রতিষ্টা করতে চায়।
-----------------------------------
তবে যে ঘটনাক্রমটি সব চেয়ে অধিক তাৎপর্য বহন করে তা হলো বর্ণাশ্রমরীতির উপর নির্ভরশীল এদেশের অর্থনীতিতে যখন জোর আঘাত আসে নিম্নবর্গীয় জনগণের ইসলামের শরণ নেবার প্রশ্নে। বহিরাগত মুসলিম শাসকদের ধর্মীয়ভিত্তিতে অধিকার বৈষম্যের অবিচারটি হয়তো সয়ে গিয়েছিলো অনেকদূর। কিন্তু নিম্নবর্গের স্বদেশীয়দের মোটামুটি স্বেচ্ছায় ইসলামিকরণের প্রক্রিয়াটি সংখ্যাগুরু সনাতনধর্মীয়দের কাছে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে এসেছে।
------------------------------------
আমরা, ওরা'র সম্প্রদায়কেন্দ্রিক বিভাজন অতি দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে আমাদের অবচেতনে। গভীরভাবেই রয়েছে। শহুরে, শিক্ষিত, তথাকথিত উদার মানুষজন ( যাদের মধ্যে আমরা পড়ি) সচেতন যুক্তির বর্মের আড়াল নিয়ে যুদ্ধ করতে চাইছি। কিন্তু বিপুলভাবে সংখ্যাগুরু জনতার অবচেতন সাইকি'র সঙ্গে কার্যকরী ভাবে লড়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব মনে হয় কখনও কখ্নও। তার উপর যদি রাজশক্তি যদি এই পাওয়ার অফ ডার্কনেসকে মহিমান্বিত করে, তবে তো কথাই নেই।

Comment from de on 14 August 2015 13:53:24 IST
হিন্দুফোবিয়া কি একেবারেই নেই? মুসলিমদের তরফে?

বর্ণাশ্রম নিয়ে শিবাংশুদা লিখলেন বলে এই লিংকটা এখানেও দিলাম -

http://www.anandabazar.com/supplementary/sahisomachar/which-15th-augus
t-will-bring-independence-for-tortured-hariyana-dalit-families-who-fle
d-to-delhi-1.191152#


আজকের যুগে দাঁড়িয়েও এতো জন দলিতকে এইভাবে শুধু বেঁচে থাকার জন্য ধর্ম পরিবর্তন করতে হচ্ছে - কতো বড় লজ্জার বিষয় এটা!

Comment from খ্যা খ্যা খ্যা খ্যা on 14 August 2015 13:53:31 IST
যে নিজে হিন্দুত্ববাদীদের কাঠি করাটাকে কাজ বলে মনে করে সে আবার অন্যদের জ্ঞান দেয় ইসলামোফোবিয়া নিয়ে। পুরো চমচম কেস।

Comment from শিবাংশু on 14 August 2015 14:04:46 IST
de,

'হিন্দুফোবিয়া' আছে তো। বহুদিন ধরেই আছে। বহাদুর শাহ জাফরের রঙ্গুনযাত্রা থেকেই তার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। আপাতভাবে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টিই তো হয়েছে 'হিন্দুফোবিয়া'র জন্য। অন্ততঃ সে দেশের জাতির পিতাদের বক্তব্য তো সেরকমই ছিলো। ইংরেজ শুধু হাওয়া দিয়েছে সেই আগুনে।

Comment from lcm on 14 August 2015 14:41:16 IST
যাক, শিবাংশু সব বলে দিয়েছে - "...এটা স্পষ্ট যে বিচ্ছিন্নতার বীজ প্রথম থেকেই এতো গভীরভাবে পোঁতা হয়েছিলো যে তার প্রতিক্রিয়া থেকে গত এক হাজার বছরেও আমরা নিস্তার পাইনি..."
অর্থাৎ, হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা চারাগাছ নয়...

Comment from শিবাংশু on 14 August 2015 16:18:47 IST
lcm,

ভারতবর্ষ সম্পর্কে 'সব' বলে দেওয়া তো কৃষ্ণদ্বৈপায়নের দ্বারাও হয়নি। আমি তো কোন ছার। আর ভারতবর্ষের ইতিহাসে কিছুই হঠাৎ গজিয়ে উঠতে দেখিনি। অতি স্লো মোশন ইতিহাস আমাদের। :-)

Comment from Arpan on 14 August 2015 16:36:36 IST
শিবাংশুদা, বাহাদুর শাহ জাফরের রেঙ্গুনে নির্বাসন কীভাবে হিন্দুফোবিয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল জানতে আগ্রহী।

আমি ভাবতাম ঔপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত হিন্দু (উঃ ও উঃমঃ) জনগোষ্ঠীর প্রিভিলেজড ক্লাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা থেকে হিন্দুফোবিয়া জন্ম নেয় ও ধীরে ধীরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে তার বিকাশ হয়।

Comment from তাপস on 14 August 2015 17:57:59 IST
আমি তো এরকম মনে করি না, যে ইংরেজ ইস্লামোফোবিয়া ছড়িয়েছে বা এনেছে।

Comment from শিবাংশু on 14 August 2015 19:34:15 IST
অর্পণ,

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন থেকেই এদেশীয় অশরাফ মুসলিমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। শেষ চেষ্টা সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থ হবার ফলে এটা নিশ্চিত হয়ে যায় এদেশে মুসলিম শাসকের দিন শেষ হয়েছে। দেশীয় মুসলিম নৃপতিদের মধ্যে হায়দরাবাদের নিজাম এবং জুনাগড়ের নওয়াব আগে থেকেই ইংরেজের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তাই তাঁরা নিরাপদ থেকে গেলেন। কিন্তু বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের মুসলিম নৃপতিরা ইংরেজের হাতে অত্যন্ত অবমাননার শিকার হলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে মুসলিমরা এদেশে চিরকালই লঘু ছিলেন। ইংরেজ আমলে গরিমার দিক দিয়েও লঘু হয়ে গেলেন। এই সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে নানা রকম ভাবে সুরক্ষার অভাব দেখা দিতে শুরু করে। নতুন রাজার আমলে সংখ্যাগুরু 'হিন্দু'রা দ্রুত ইংরিজি শিক্ষা ও য়ুরোপীয় মডেলে 'নবজাগরণে'র সুযোগটি আত্তীকরণ করেন। কিন্তু অশরাফ মুসলিম'রা ভাবতে থাকেন ভুঁইফোড় ফিরিঙ্গি শিক্ষার থেকে তাঁদের নিজস্ব শিক্ষা সংস্কৃতি অনেক উঁচু স্তরের। তাই যৎসামান্য ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মুসলিমরা ব্যতিরেকে বাকিরা ফিরিঙ্গিদের শিক্ষাব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করলেন। এইখান থেকেই এদেশের জাতীয় মূলস্রোত থেকে তাঁরা দূরত্ব অনুভব করতে শুরু করেন। এ ছাড়াও অশরাফশ্রেণী নিজের সন্তানদের দুধেভাতে রেখে ফিরিঙ্গি শিক্ষা দিয়ে বড়ো করলেন আর নিম্নবর্গের মুসলিমদের সাবেক হাদিস-শরিয়তি ব্যবস্থার মধ্যে বদ্ধ করে রেখে দিলেন। 'হিন্দু'রা সব মুসলিমকেই অত্যাচারী তুর্কিদের উত্তরসূরি ভেবে দূরে থাকতো। যদিও সত্যটি ছিলো একেবারে অন্যরকম। আর অশরাফ মুসলিমদের প্ররোচনায় নিম্নবর্গের মুসলিমরা ভাবতে ভালোবাসতো তাদের শিকড় রয়েছে আরবে বা তুর্কিস্তানে। মামুদ ঘজনির প্রেতাত্মা যে তাঁদের পূর্বসূরি নয় এই কথাটা বলার মতো চারিত্র্য এক আধজন 'মুসলিম' ছাড়া এদেশে আর কারো ছিলোনা। সব সময় তাঁদের বোঝানো হতো বদমাশ ফিরিঙ্গি বনিয়াদের জালিয়াতির ফলে মুসলিমরা এদেশে রাজত্ব হারিয়েছে। অতএব তাদের কোনও কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। এই মানসিকতার জন্যই অপদার্থ সিরাজও মহান রাজা হিসেবে স্বীকৃত হয়ে যায়। ঊনবিংশ শতকে 'হিন্দু'দের নানা রোল মডেল তৈরি হয়ে যায়। তাঁদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও দিশাটি ভবিষ্যতের দিকে ছিলো। মুসলিমরা এই সুযোগ নিতে পারেননি। তাঁরা ইংরিজি ইশকুল থেকে মুখ ফিরিয়ে মদ্রাসার 'পুণ্য' শিক্ষাকে ধরে রেখে দিলেন। এদেশে 'ইসলামফোবিয়া' আগে থেকেই ছিলো। এবার 'হিন্দুফোবিয়া'র ভাইরাস বাড়তে লাগলো বন্ধহীনভাবে। এক আধটা জলালুদ্দিন আকবর বা রাজা রামমোহন কোনও কাজে আসলেন না।


তাপস,
আমারও ধারণা 'ইসলামোফোবিয়া'র জন্য ইংরেজ দায়ী নয়। কারণ তারা আসা অবধি দেখছে এদেশে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস। প্রায় জঙ্গি পর্যায়ে বিরোধিতা রয়েছে। পলাশির যুদ্ধটা তো হয়েই ছিলো 'হিন্দু' বণিক ও সামন্তশ্রেণী এবং মুসলিম শাসকদের মধ্যে। নয়তো ক্লাইভের ক্ষমতা কি ঐ যৎসামান্য যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে সিরাজ'কে মাৎ দেয়।


Comment from 0 on 14 August 2015 22:33:19 IST
শিবাংশুদা লিখেছেন, "...অশরাফ মুসলিম'রা ভাবতে থাকেন ভুঁইফোড় ফিরিঙ্গি শিক্ষার থেকে তাঁদের নিজস্ব শিক্ষা সংস্কৃতি অনেক উঁচু স্তরের..."

একটা প্রশ্ন আছে, শিবাংশুদার জন্যে।

এরকম ভাবতে থাকার মূল কারণ কি?
নীচের উদ্ধৃতি কি সম্ভাব্য কারণের মধ্যে পড়ে?

"...বদমাশ ফিরিঙ্গি বনিয়াদের জালিয়াতির ফলে মুসলিমরা এদেশে রাজত্ব হারিয়েছে। অতএব তাদের কোনও কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।..."

Comment from নির on 14 August 2015 23:10:29 IST
আজকের বাঙালীদের সাধারণ মানসিকতা দেখে তখনকার মুসলিমদের মনোভাব কিছুটা অনুভব করা যায়। রাজ্য-রাজধানী গেলেও অতীত গৌরবের মোহে অাছন্ন থাকা ও বর্তমানকে সন্দেহ করা, তাকে খারাপ বলে দাগিয়ে দিয়ে থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করা-এটাই দেখা যায়।


Comment from শিবাংশু on 15 August 2015 00:27:37 IST
'0',

""...বদমাশ ফিরিঙ্গি বনিয়াদের জালিয়াতির ফলে মুসলিমরা এদেশে রাজত্ব হারিয়েছে। অতএব তাদের কোনও কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।..."।

এটা আপাতভাবে একটা প্রত্যক্ষ কারণ বলা যেতে পারে। কিন্তু মুসলিমদের ফিরিঙ্গিদের প্রতি ঘৃণা'র একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। প্রাক ইসলামিক কাল থেকেই ইরান বা আরব সভ্যতার গরিমা যখন প্রায় আকাশ ছোঁয়া, পশ্চিম য়ুরোপে তখনও কোনও সভ্যতার জন্মই হয়নি। যতোটুকু রোমানদের হাত ধরে এসেছিলো, ততোটুকুই তাদের সম্বল। পরবর্তীকালে সেমিটিক ধর্মগুলির মধ্যে ইসলাম আধুনিকতম এবং তার অনুগামিরা অন্য সম্প্রদায়গুলির থেকে সর্বক্ষেত্রে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ ছিলেন। ইসলামি সভ্যতার প্রতি য়ুরোপের সদ্যোজাত আত্মপরিচয়ের সন্ধানী লোকজনের ঈর্ষা বেশ প্রকট ছিলো। য়ুরোপের খ্রিস্টিয়রা ইসলামি সভ্যতার থেকে যতো গ্রহণ করেছে, মুসলিমরা তার ভগ্নাংশও কখনও য়ুরোপ থেকে ধার করার প্রয়োজন বোধ করেননি। সঙ্গত কারণেই ইসলামি সভ্যতার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম য়ুরোপীয় সভ্যতাকে মুসলিমরা ভুঁইফোড় মনে করতেন। তার পর ক্রুসেডের সময় ধর্মধ্বজার রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটি স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়ে যায়। মুসলিম সভ্যতার এই সুদিন য়ুরোপে শিল্পবিপ্লব হওয়া পর্যন্ত টিকে ছিলো। কিন্তু অষ্টাদশ শতক থেকে ইতিহাসের চাকা ঘুরে যায় এবং ইসলামি সভ্যতার ক্ষমতার পতন হতে শুরু করে। হিন্দুস্তান ছিলো মুসলিম ক্ষমতার আলোকস্তম্ভ। সেখানেও যখন পটপরিবর্তন হয়ে গেলো, সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য তা ছিলো চূড়ান্ত আঘাত। প্রায় এক হাজার বছর ধরে পৃথিবীর ইতিহাসের নিয়ন্তা ইসলামি শাসন যখন শেষ হয়ে গেলো, তখন ইসলামি দুনিয়ার বৃহদংশ এক ধরণের ডিনায়ল মোডে চলে যায়। এই অবনমন তাঁরা বরদাস্ত করতে পারছিলেন না। তার পর তৈমুর, চেঙ্গিজের শেষ উত্তরাধিকারীর নিজের ভূমিতে খাক-এ-সুপুর্দ হবার জন্য সাড়ে তিনহাত জমিও যখন ইংরেজ কেড়ে নিলো, তখন ফিরিঙ্গিদের সঙ্গে কোনও রকম বোঝাপড়ার শেষ সেতুটিও ধ্বসে পড়লো। এই সময় সংখ্যাগুরু হিন্দুরা ইংরেজ সভ্যতার পুণ্যফলটি আত্মসাৎ করার জন্য অতি মাত্রায় ব্যাকুল, মুসলিমরা ফিরিঙ্গিদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করার প্ররোচনায় প্রতিবাদ হিসেবে সময়ের অনিবার্য স্রোতকে অস্বীকার করার ভুলটি করে ফেললেন। নিজস্ব উম্মার যে সব মানুষকে তাঁরা সেই সময় পরিত্রাতা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের দূরদৃষ্টি ছিলোনা। আরবসভ্যতা যে সমন্বয়ের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সারা বিশ্বে রাজত্ব করেছিলো, সেই শক্তির ছিটেফোঁটাও তখন আর বেঁচে নেই তাঁদের মধ্যে। কেবলই আরো বিচ্ছিন্নতার মধ্যে স্বস্তি খুঁজে যাওয়া তাঁদের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ালো। এতে কারুরই লাভ হলোনা। অলক্ষ্যে ভবিষ্যতের বিনাশের বীজ রোপিত হয়ে গেলো।

Comment from I on 15 August 2015 10:47:24 IST
শিবাংশুদা,এনকোর!

Comment from Arpan on 15 August 2015 16:21:10 IST
শিবাংশুদা, অনেক ধন্যযোগ। ইস্লামিক দুনিয়ার আরেক তাজ, অটোমান সাম্রাজ্যও ঐ একই সময়ে হীনবল হতে শুরু করে। এমন সময়ে যখন ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি এবং ফ্রান্সের মত নব্য ইওরোপিয়ান শক্তিগুলি দুনিয়া জুড়ে নতুন ইতিহাস রচনা করতে চলেছে। অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরে ভারতে এর বিরোধিতা করে খিলাফৎ আন্দোলনও শুরু হয়েছিল যদ্দূর মনে পড়ে, যার প্রভাব ভারতেও পড়েছিল।

আয়রনির ব্যপার মুঘল সাম্রাজ্যের তুলনায় অটোমান শাসকেরা অনেক প্রোগ্রেসিভ ছিলেন। ইওরোপের কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ার জন্যই হয়ত। যে কারণে কামাল আতার্তুকের অটোমান পরবর্তী তুরস্কে সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠা করার সাহস দেখিয়েছিলেন।

Comment from sswarnendu on 15 August 2015 16:59:56 IST
শিবাংশুদার মন্তব্যগুলো ভীষণ ভাল লাগল ...

Comment from Sakyajit Bhattacharya on 15 August 2015 17:44:35 IST
শিবাংশুদা, অসাধারণ !

Comment from শিবাংশু on 15 August 2015 22:30:59 IST
অর্পণ,

ওটোমান সভ্যতা প্রমাণ করে ইসলাম মানে যুক্তিরহিত, অসহিষ্ণু থিওলজি বা পশ্চাৎপর মধ্যযুগীয় মূল্যবোধে ওতোপ্রোত কোনও অচলায়তন নয়। তুমি ঠিকই ধরেছো ভৌগলিকভাবে য়ুরোপের কাছাকাছি হবার জন্যই হয়তো আমরা ইসলামের এই মডেলটি পেয়েছি। লক্ষ্য করার বিষয় ওটোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গৌরবের কাল ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে মহান সুলেমানের রাজত্বপর্ব। এই সময়ই বাড়ির পাশে মূলত ইতালি ও একটু দূরে ইংল্যান্ড, জর্মনি, ফরাসিদেশে য়ুরোপীয় রেনেশাঁসের পরম্পরা শুরু হয়ে গেছে। রেনেশাঁসের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো আবেগের উপর যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের চিন্তার জগতের এই আমূল পরিবর্তিত পরিপ্রেক্ষিতটি ওটোমান সংস্কৃতিকেও বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। এরই চূড়ান্ত স্ফূরন ঘটে কমাল আতাতুর্কের আমলে প্রস্তাবিত সাবেক, পশ্চাৎমুখী, তথাকথিত 'শুদ্ধ' উপজাতিক ইসলামিক কুসংস্কারগুলিকে আপাদমস্তক পরিবর্তনের কার্যবিধিকে সফল করে তোলায়। এটা প্রমাণ করেছে ইসলামের দায়রার মধ্যে থেকেও বাকি পৃথিবীর সঙ্গে সমানতালে যুক্তিবুদ্ধির আবহে বিকশিত হওয়া যায়।
------------------------------------
এই যে গত প্রায় একশো বছর ধরে আমরা দেখছি সারা বিশ্বে, মূলতঃ মধ্য এসিয়া, দক্ষিণপূর্ব এসিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার ইসলামি যাপন মানেই হয় অভিযোগকারী বা অভিযুক্ত। সারা পৃথিবীর অপর সভ্যতাগুলি যখন নিজেদের ভালোমন্দ সবকিছু নিয়ে অন্যদের সঙ্গে বিনিময়, ব্যপ্তির উদ্যমে সতত ক্রিয়াশীল, তথাকথিত ইসলামি মনন নিজেকে আরো বেশি গুটিয়ে নিচ্ছে। চতুর্দিকে ষড়যন্ত্র, সন্দেহের বাতাবরণ অনুভব করছে, পারসিকিউশন কমপ্লেক্স আকাশছোঁয়া। অন্ধ মোল্লাতন্ত্রের বোলবালা। যাবতীয় 'জিহাদ' মুক্তবুদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওটোমান ইসলামি মডেলে এটা নেহাৎ ব্যতিক্রম।
------------------------------
আমাকে সব চেয়ে বেশি ভাবায় আজকের বৃহত্তম ইসলামি দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি। তাঁরা সরকারিভাবে এবং মননবিশ্বে সেক্যুলার। তাঁদের ইসলামি মূল্যবোধ কোনও অচলায়তন নয়। বরং তা স্থানিকতা ও আন্তর্জাতিকতাকে আত্মসাৎ করে ক্রমশঃ বিবর্তিত হতে থাকে। সমাজে নারীর স্থান, যা যেকোনও সমাজের সামগ্রিকভাবে যুক্তি ও মূল্যবোধের সূচক, রীতিমতো উপরে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষ বনাম নারীর অনুপাত ভারতবর্ষে যেখানে ৩৪, পাকিস্তানে ৩০, সেখানে ৬১( সংগঠিত ক্ষেত্রে অবশ্য অনেকটাই কম)। হ্যাঁ, আমি ইন্দোনেসিয়ার কথা বলছি। যেখানে মানুষের যাপনে আজকের এই অস্থির সময়েও মহম্মদ ও রাম সহাবস্থান করেন হাজার প্ররোচনা সত্ত্বেও। শতকরা ৮৭ ভাগ মুসলিম প্রধান দেশেও ( যাঁদের মধ্যে আবার ৯৯ ভাগ তথাকথিত 'গোঁড়া' সুন্নি সম্প্রদায়), ছয়টি সরকার স্বীকৃত ধর্মবিশ্বাস রয়েছে। কোনও 'ইসলামি' আইনব্যবস্থা নেই। সবার জন্য একই সিভিল কোড কার্যকরী করা হয়। যখন খোদ তুরস্কে মৌলবাদী প্রবণতা ঊর্ধমুখী, ইন্দোনেসিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সচেতনভাবে এই প্রবণতাটিকে প্রতিরোধ করার প্রয়াস পাচ্ছেন। যদিও আগের চেয়ে এই মূহুর্তে আপাতভাবে মোল্লাতন্ত্রের উপস্থিতি বেড়েছে, কিন্তু তবু ইসলামের উজ্জ্বল দিকগুলি তাঁরা এখনও ধরে রেখেছেন। সারা পৃথিবীর কাছে এটা একটা শিক্ষার সূত্র হতে পারে।

Comment from দ on 15 August 2015 22:46:09 IST
শিবাংশুর কাছে একটা পূর্ণ প্রবন্ধের দাবী জানালাম। দরকার হলে কয়েক পর্বে রেফারেন্সসহ লিখুন।


Comment from Abhyu on 15 August 2015 23:33:56 IST
খুবই ভালো লেখা, শিবাংশুদা। আমিও বলছি এগুলোকে গুছিয়ে নিয়ে আলাদা করে একটা প্রবন্ধ লিখুন।

Comment from sswarnndu on 16 August 2015 02:25:21 IST
শিবাংশুদা,
"তুমি ঠিকই ধরেছো ভৌগলিকভাবে য়ুরোপের কাছাকাছি হবার জন্যই হয়তো আমরা ইসলামের এই মডেলটি পেয়েছি।" --- এইটা কি একটু ইউরোসেন্ট্রিক দেখা হয়ে গেল না? এটা ঠিকই যে " লক্ষ্য করার বিষয় ওটোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গৌরবের কাল ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে মহান সুলেমানের রাজত্বপর্ব। এই সময়ই বাড়ির পাশে মূলত ইতালি ও একটু দূরে ইংল্যান্ড, জর্মনি, ফরাসিদেশে য়ুরোপীয় রেনেশাঁসের পরম্পরা শুরু হয়ে গেছে।"----- কিন্তু প্রভাবটা কি শুধুই ইউরোপ থেকে ইসলামিক দুনিয়ায়? তার আগের ইউরোপের ইতিহাস কি ঠিক উল্টো জিনিসটা দেখাচ্ছে না?

অষ্টম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী , এই পুরো সময়কালে ইউরোপের ক্রিশ্চিয়ান দুনিয়ার থেকে ইসলামিক দুনিয়া বহুগুণ বেশী লিবারাল, সভ্য ও ...
রেনেসাঁ র আগের ইউরোপখন্ডেই সবচেয়ে উজ্জ্বল সভ্যতা একাদশ শতাব্দীর আইবেরিয়ান পেনিনসুলার
আল-আন্দালুস... আরব সভ্যতার সংস্পর্শে না এলে রেনেসাঁ ইউরোপে আদৌ আসার পরিস্থিতি তৈরি হত কিনা সেটা একেবারে বাতিল করার মত প্রশ্ন কি?

Comment from sswarnndu on 16 August 2015 02:27:27 IST
ইসলামের এই মডেল কিন্তু ওটোমান সাম্রাজ্যেই প্রথম এমন নয় বলেই তো মনে হয়।

Comment from শিবাংশু on 16 August 2015 17:05:19 IST
স্বর্ণেন্দু,

"....অষ্টম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী , এই পুরো সময়কালে ইউরোপের ক্রিশ্চিয়ান দুনিয়ার থেকে ইসলামিক দুনিয়া বহুগুণ বেশী লিবারাল, সভ্য ও ..."

এইখানটি থেকেই শুরু করা যায়। হিস্পানি পেনিনসুলায় আরবরা যখন প্রথম আসে ৬৫২ সালে, তখনও তারা বস্তুতঃ মরুভূমির উপজাতি মাত্র। কিছু আরব, কিছু বর্বর উপজাতি। মহম্মদ গত হয়েছিলেন ৬৩২ সালে। কুড়ি বছরের মধ্যে তাদের ভিতর ইসলামি চৈতন্যটি সেভাবে বিকশিত হতে পারেনি, যাকে ইসলামি সভ্যতা বলা যায়। ৭১১ সালে উমায়দ'রা এসে প্রথম বড়োসড়ো বিজয়ের স্বাদ পায়। তাদের এই বিজয়ভূমির মধ্যে এসে গিয়েছিলো স্পেন ও পর্তুগাল । বাস্ক, নাভারা ইত্যাদি স্থান পাহাড়ের ওপারে ছিলো বলে তখনও সেখানে আরবরা পৌঁছোতে পারেনি। আরব'রা দেশটার নাম দেয় আল আন্দালুস। দশম শতাব্দীর মধ্যে আল আন্দালুসে মুসলিম প্রভাব গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। খ্রিস্টিয় উপজাতিরা কিন্তু নেহাৎ বসে ছিলোনা। আস্তুরিয়ার ভিজিগথ হিরো পেলাজিয়স ৭২২ সালে বিখ্যাত কোভাডোঙ্গার যুদ্ধে মূরদের তাড়িয়ে দেন। যাকে লা রিকনকুইস্টা বলা হয়। মূর ও খ্রিস্টিয় হিস্পানিদের মধ্যে আক্রমণ, প্রতিআক্রমণ চলতেই থাকে। মূরদের তইফা শাসন দুর্বল হয়ে যায়। ত্রয়োদশ শতকের মাঝামাঝি গ্রানাদা ছাড়া কোথাও আর মুসলিম শাসন চোখে পড়েনা। পঞ্চদশ শতকের মধ্যে লা রিকনকুইস্টা শেষ হয়ে যায় এবং আরবীভাষী য়ুরোপীয়রা পশ্চিমের মূলস্রোতে ইসলামি সভ্যতার শ্রেষ্ঠ অবদানগুলিকে যোগ করার কাজ শুরু করেন।
----------------------------
এবার একটু তাকাই ইসলামি সভ্যতার উৎসমুখে। ৬৩২ সালে পয়গম্বরের জীবনাবসানের পর প্রথম খলিফা হ'ন আবু বকর। তার পর খলিফা ওমর। ওমরের পর উথমান (উসমান)। চতুর্থ খলিফা আলি। ক্ষমতাদখলের লড়াই ক্রমশঃ প্রগাঢ় হয়ে ওঠে। আবু বকর ছাড়া বাকিরা আততায়ীদের হাতে প্রাণ হারান। ৬৬১ সালে পঞ্চম খলিফা হ'ন আলিবিরোধী সিরিয়ার শাসক মুয়াও'ইয়া । ততোদিনে আরব সাম্রাজ্য বিশাল আকার ধারণ করেছে। তখনও পর্যন্ত আরবরা ছিলো একান্তভাবে বিকেন্দ্রিত মরুবাসী ভ্রাম্যমান যোদ্ধাগোষ্ঠী এবং বণিকশ্রেণী। কোনও কেন্দ্রিত রাজশাসনের অভিজ্ঞতা তাদের ছিলোনা। প্রশাসন চলতো উপজাতিক গণতন্ত্রের নিজস্ব নিয়মে। খলিফা মুয়াও'ইয়ার সামনে চ্যালেঞ্জ ছিলো একটি বড়ো রাজত্বের শাসনব্যবস্থার সূচনা করার। যেহেতু আরবদুনিয়ায় সেরকম কোন মডেল ছিলোনা, তিনি বাইজ্যান্টাইন ও ইরানি মডেলটিকে যোগবিয়োগ করে একটা স্বীকারযোগ্য আকার দেবার প্রয়াস করলেন। এর ফলে ইসলাম সম্প্রসারণের জন্য 'উমায়দ' নামে একটা সংহত রাজশক্তির গঠন হলো বটে, কিন্তু উত্তরাধিকার ভিত্তিক রাজতন্ত্র এসে সাবেক আরবি ইসলামি গণতন্ত্রের শক্তিটিকে বিনাশ করে দিলো। ফলশ্রুতি মুয়াও'ইয়ার পুত্র য়জিদের 'রাজ্যাভিষেক'। খলিফা হবার পর য়জিদ সব আরব গোষ্ঠীপতিদের আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ করলো। কিন্তু পয়গম্বরের নাতি হুসেন ইবন আলি এবং প্রথম খলিফা আবু বকরের নাতি অবদুল্লাহ ইবন জুবেইর শপথ নিতে অস্বীকার করলেন। তার পরে ক্ষমতাদখলের লড়াই এবং ইসলামি দুনিয়ার প্রথম ভাগাভাগি হয়ে যাওয়া। আরব মূলভূমিতে নব্বই বছর ধরে সুন্নি উমায়দ রাজ শেষ হয়ে গেলো ৭৫০ সালে আবুল আব্বাসের শিয়া বাহিনীর আক্রমণে। আব্বাসিদ রাজত্ব এসে ইসলামের দায়িত্ব নিলো। আব্বাসিদরা ছিলো উমায়দদের থেকেও অধিক ক্ষমতার কেন্দ্রায়নে বিশ্বাসী। যেকোন প্রতিরোধ নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দিয়ে চরম শক্তিমান রাজতন্ত্রের ধ্বজাধারী। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগের ঐতিহ্য এই সময় থেকেই শুরু হতে দেখি। খলিফা আলি'র প্রচারিত ইসলামি প্রেমধর্মকে, যা সুফিদর্শনের পূর্বসূরি, প্রত্যাখ্যান করে অস্ত্রের শক্তিতে ইসলাম'কে প্রতিষ্ঠা করার যে বর্বর প্রক্রিয়া, সেটা এই সময় থেকেই পুরোমাত্রায় শুরু করা হয়। যেন তেন প্রকারেণ অবিশ্বাসীদের ইসলামে বিশ্বাসী করে তোলা যে একটা শ্রেষ্ঠ পুণ্যকর্ম, সেই মতবাদটি আব্বাসিদদের সময় থেকেই প্রচারিত ও প্রযুক্ত হতে শুরু করে। এমনকি ইসলামের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দর্শনগুলি, যারা এই চরমপন্থী উদ্যমের বিরোধিতা করে এসেছে, তাদেরকেও ঘৃণা ও হিংসা সহকারে গুঁড়িয়ে দেবার আহ্বান ইসলামি মূল স্রোতের অংশ হয়ে যায়।
-----------------------------------------
অষ্টম শতক থেকে পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশের কারণগুলিতে ইসলামের রাজনীতি প্রসূত বিক্রম ততোটা কাজ করেনি, যতোটা করেছে বেশ কিছু বিরাট মাপের মানুষের কর্মশক্তি ও মনীষার মেলবন্ধন। মধ্যযুগের ইসলামি জ্ঞানতাপস, শিল্পী, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, চিন্তানায়কদের সমবেত সাধনায় গড়ে ওঠে অন্য সভ্যতার জন্য ঈর্ষাজনক সমৃদ্ধ সেরিব্রাল ঐতিহ্য। জ্ঞান শুভবুদ্ধির জনক, শুভবুদ্ধি থেকে আসে উদারতা এবং তাঁদের উদারতার শ্রেয় ইসলামকে দিতেই হবে। কারণ সে সময়ের আধুনিকতম ধর্মীয় দর্শন ইসলাম তাঁদের অনুপ্রেরিত ও উদ্বুদ্ধ করেছিলো। ইসলামের অন্তর্নিহিত উদারতা থেকেই তাঁরা সারা বিশ্বের মননসঞ্জাত শ্রেষ্ঠ ফসলগুলিকে আত্তীকরণ করে আরবসভ্যতাকে সমৃদ্ধির শীর্ষে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে তৎকালীন, অর্থাৎ য়ুরোপীয় পরিভাষায় 'লা রিকনকুইস্টা' পর্বে, ইসলামের রাজনৈতিক গা-জোয়ারি সেই মনীষার বিকাশের পথে কতোটা সহায়ক হয়েছিলো, এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। সেকালে ইসলামের কিছু প্রচারক হয়তো ভেবেছিলেন অস্ত্রের বলে সারা পৃথিবীতে এই ধর্মের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে পারা যাবে। কিন্তু এই অসহিষ্ণু বলপ্রয়োগের মৌলবাদী ক্রমপর্যায়টি বিশ্বের অন্য সব সভ্যতাই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে প্রথম থেকে। যদিও খ্রিস্টিয় উপনিবেশবাদীরা এসিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বহুদেশে একই রকম লুঠতরাজ, হত্যালীলা করে এসেছে বহুবার, কিন্তু সেটা সরাসরি লুটেরার লোভের প্রকাশ। ধর্মবিশ্বাসকে প্রত্যক্ষ অপহ্নবের কারণ বলে তুলে ধরা হয়নি। ধর্মবিশ্বাসকে শিখন্ডী করে যে হনন-ঐতিহ্যকে গরিমান্বিত করা হয়েছিলো তার সব চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি হলো, আজ ইসলামের যাবতীয় গরিমাময় ঐতিহ্যকেও বাকি পৃথিবী বৃহত্তর মৌলবাদের অংশ হিসেবে ত্যজ্য করতে চায়। এই মূঢ় সাধারণীকরণটি শুধু যে বিপজ্জনক তাই নয়, সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য তার ফল সর্বনাশা হতে পারে।
-----------------------------

Comment from dd on 16 August 2015 19:55:05 IST
শিবাংশুর এই পোস্টগুলো একত্তর করে একটা আলাদা টই খুললে ভালো হোতো।

Comment from কল্লোল on 16 August 2015 23:20:42 IST
অ্যারেই কয় পেলেদোনা। শিবাংশু তোমারে সেলাম।
এটা আলাদা টই হোক। শিবাংশু লিখুক।

Comment from শিবাংশু on 16 August 2015 23:23:15 IST
আমারও মনে হচ্ছে, আগে পরে আরো কিছু বলার বাকি থেকে যাচ্ছে। আমাদের এই অন্তর্লীন ঘৃণার দানব'কে থামানোর জন্য একটা বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান অত্যন্ত জরুরি। মাঠে নেমে কাজ করার এলেম অর্জন করতে পারিনি। চেষ্টা হয়তো করেছি, কিন্তু পারিনি। কীবোর্ডে লাফাঝাঁপা করা ছাড়া এখন আর কোনও বিকল্প নেই। অন্ততঃ সেটাই থাকুক।

তবে যাঁরা পড়েছেন বা পড়ছেন, তাঁদের মনে যদি কোনও প্রশ্ন, ভিন্ন দৃষ্টিকোণের অবকাশ থাকে, তবে এখানে লিখলে সেটা নিয়েও চিন্তার অবসর পাওয়া যাবে। উপরের বিচ্ছিন্ন মন্তব্যগুলোকে গ্রন্থিত করে এবং আরো কিছু চিন্তাভাবনাসহ কয়েকদিন পর একটা পৃথক লেখায় কোথাও পৌঁছোবার প্রয়াস পাবো।

সবাইকে ধন্যবাদ।

Comment from de on 17 August 2015 14:34:33 IST
এব্যাপারে আপনি একটা বিশদ লেখা লিখুন শিবাংশুদা - অনেক কিছু জানার আছে আপনার থেকে -

Comment from a on 17 August 2015 14:55:31 IST
শিবাংশুর লেখা যথাযথ হচ্ছে। আরো লিখুন। খৃশ্চানিটি, ইসলাম, হিন্দুইজম প্রত্যেক ধর্মের হিংসার ইতিহাস ঘৃণার ইতিহাস আছে। আবার তিনটি ধর্মেরই অনেক সাংস্কৃতিক অবদান আছে। এই ইতিহাস তুলে আনুন। এই টই বা রিভিউ যিনি শুরু করেছেন তাদের মতো একচোখো লোকেদের এই লেখাগুলো পড়া দরকার। একদিকে যেমন হিন্দু ধর্মের লজ্জাজনক দিকগুলো তুলে ধরলে বিজেপিওলারা লাফায় আরেকদিকে এরকম কয়েকজন আছে যারা ইসলামি মৌলবাদ আর বাংলাদেশে ব্লগার হত্যার প্রতিবাদ করলে ইসলামোফোবিয়ার গন্ধ খুঁজে পায়। আইসিস নাকি ধনতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, এরকম সুযোগসন্ধানি কথা হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয়। আসলে এরা আর বিজেপি একে অপরের পরিপূরক। এদের ঘৃণার ব্যবসা বন্ধ করার জন্য শিবাংশুর বিস্তারিত লেখা জরুরি।

Comment from শিবাংশু on 17 August 2015 21:38:10 IST
একটু বিপন্ন বোধ করছি। বিষয়টি আমার কাছে অতি সিরিয়স। বস্তুতঃ আমার দাঁড়াবার জায়গা বলাই ভালো। অনুমানভিত্তিক সাজানো কথা লিখবার ধৃষ্টতা একেবারে করতে পারবো না। গোটা পনেরো বই এই মূহুর্তে ডেস্কে নামিয়েছি। আরো নামাতে হবে এবং 'পড়তে' হবে। কে না জানে পড়তে গেলে সময় লাগে।

সময়, আমার সময়....

Comment from 0 on 17 August 2015 22:58:44 IST
থ্যাংক্‌স্‌ শিবাংশুদা। সরি, একটু দেরী হলো। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর যেমন পেলাম, তেমনি সেগুলো পড়তে পড়তে আরো কিছু প্রশ্ন মনে এসে গেল।

মধ্যযুগের খুব অল্প কয়েকজন আরব মনীষীর নাম জানি যাদের কথা সেই স্কুলপাঠ্যে পড়েছিলাম।
আলগরিৎমি - যার বই 'আল জাবর'এর জন্যে তাকে 'ফাদার অফ্‌ অ্যালজেব্রা' বলা হয়। দশমিক পদ্ধতি ইউরোপে প্রচলিত করেন। অ্যালগরিদ্‌ম্‌ শব্দটাও ওনার নাম থেকে। তারপর আলফার্গোনাস্‌ এবং আলবুটেনাস্‌ দুই অ্যাস্ট্রনমিস্ট্‌ গণিতজ্ঞ - যাদের নামে চাঁদের দুটো গহ্বর আছে। তারপর দার্শনিক আলফার্বিয়াস্‌ - যাকে 'সেকেন্ড্‌ মাস্টার আফ্‌টার অ্যারিস্টটল' বলা হয়। তারপর দার্শনিক আবেরোস্‌ - যাকে 'ফাদার অফ্‌ ওয়েস্টার্ন সেকুলার থট্‌স্‌' বলা হয়। উনি বিখ্যাত স্টোন্‌ প্যারাডক্সের স্রষ্টা। এছাড়া ভারতে আসা আলবিরুণী, ইবন বতুতা, মন্ত্রী আবুল ফজল। আর তো কারুর নাম সেভাবে জানিনা :-(

কিন্তু যে প্রশ্নটা আসছে, সেটা হলো যে, এদের মধ্যে অনেকেই বইয়ে লিখে গেছেন যে তাদের জ্ঞান-তথ্যের সোর্স ছিল ভারত। আলগরিৎমি তার বইয়ে দশমিক আর বীজগণিতের তথ্যের সোর্স্‌ হিসেবে এদেশের কথা লিখেছেন। এছাড়া আবেরোস্‌ এবং আলফার্বিয়াস্‌ দুই দার্শনিক গ্রীসের প্লেটো-অ্যারিস্টটলের কথা লিখে গেছেন। তাহলে ত্রাদের লেখাগুলো মৌলিক হলো না তো। তাই না?
অবশ্য পশ্চিম-রোমের ধ্বংসের পরে জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


Comment from শিবাংশু on 17 August 2015 23:42:51 IST
'o'

আবুল ফজল আরবি ন'ন। পুরো ভারতীয়। রাজস্থানের নগৌরের লোক।

আরবী বিজ্ঞানসাধক খুঁজতে গেলে বাঁশবনে ডোম কানা হয়ে যাবে। এতো আছেন। তবে তাঁদের এই সাধনা ততোটা 'মৌলিক' নয়, যতোটা সামন্বয়িক। বীজগণিত বা শূন্যের আদি ধারণা ভারতীয়। আরবীরা তাকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তেমনি ট্রিগনোমেট্রি। গ্রিকরা শুরু করেছিলো, আরবে সমৃদ্ধ হয়েছিলো। অ্যালকেমি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও গবেষণাগুলি আরবে ঠিক উদ্ভূত হয়নি, পরিণত হয়েছিলো। তাতে অবশ্য তাঁদের কৃতিত্ব কিছু কম হয়ে যায়না।

সে কথাটাই আমি বলতে চেয়েছি। কোনও একদিন ইসলামি সভ্যতা পৃথিবীর সমস্ত শ্রেষ্ঠ মননকে দু'হাতে গ্রহণ করে, তাকে আরো সমৃদ্ধ করে দশ হাতে বহুজন হিতায় বিলিয়ে দিয়েছিলো। সেই উদার, ব্যাপক ইসলামি গরিমা আজ কেন খুঁজে পাইনা?

তবে সব চেয়ে বড়ো যে দুটি নাম আপনার ছেড়ে গিয়েছে তাঁরা হলেন, আল-ঘজালি এবং ইবন সেনা (অভিসিনা)। আল-ঘজালি'কে পয়গম্বর মহম্মদের পর সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ইসলামি অধিনায়ক বলে মনে করা হয়। যদিও জন্মসূত্রে তিনি ইরানি, কিন্তু সাধনা ছিলো আরবে। তিনি একাধারে ছিলেন শুদ্ধতাবাদী মুসলমান, আবার একই সঙ্গে সুফি পরম্পরার একজন আদি পুরুষ। সেলজুক সুলতান গিয়াসুদ্দিন মহম্মদের থেকে পাওয়া মদিনায় গিয়ে সাধনা করার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন । কারণ তিনি বুঝেছিলেন ঐ রণদুর্মদ ইসলামি আবহে তাঁর প্রচারিত ইসলামি প্রেমধর্মের কোনও স্থান নেই।


Comment from ranjan roy on 18 August 2015 01:04:03 IST
যতদূর মনে পড়ছে আমাদের প্রিয় একজন বাঙালী সেকুলার মুসলিম সৈয়দ মুজতবা আলী আল -গজ্জালির দর্শনের উপরই ডক্টরেট থিসিস লিখেছিলেন।
আমি a র বক্তব্যের সঙ্গে ও দময়ন্তীর সঙ্গে একমত।
শিবাংশুর চমৎকার লেখায় বিশ্বাসের জায়গা পাচ্ছি, এখনই সব নষ্ট হয়ে যায় নি!


Name:  SS          

IP Address : 106.241.224.159 (*)          Date:18 Aug 2015 -- 08:55 AM

২০১৩ সালে Pew রিসার্চ সেন্টার ইসলামিক দেশের একটা পোলিং পাবলিশ করে। প্রায় দু বছর ধরে ডেটা কালেক্শান করা হয়েছিল। শিবাংশু বিশেষ ভাবে ইন্দোনেশিয়ার কথা লিখেছেন। কিন্তু এই পোলিং বলছে ইন্দোনেশিয়ার ৭২% মুসলিম দেশে শারিয়াকে অফিশিয়াল ল হিসাবে সমর্থন করেন। এই রকম ডেমোক্রেসি, উইমেনস রাইট ইত্যাদি নিয়ে মতামত দেখলে ইন্দোনেশিয়ার উপর খুব একটা ভরসা করা যাচ্ছে না।
উৎসাহীরা এই লিংকে গিয়ে পুরো সার্ভে রেসাল্ট, প্রশ্ন ইতাদি দেখতে পারেন।

http://www.pewforum.org/2013/04/30/the-worlds-muslims-religion-politic
s-society-overview/



Name:  lcm          

IP Address : 118.91.116.131 (*)          Date:18 Aug 2015 -- 09:12 AM

ইসলামোফোবিয়া নিয়ে একটা কনফারেন্স হয় প্রতি বছর, International Conference on the study of Islamophobia - এ বছর হয়েছে বার্কলে-তে।
এদের ওয়েব সাইটে কিছু পেপার আছে -
http://www.islamophobiaconf.com/
http://www.islamophobiaconf.com/publications.html


Name:   সিকি           

IP Address : 116.201.146.220 (*)          Date:19 Aug 2015 -- 03:50 PM

শিবাংশুদা কি আর লিখবে না?


Name:  sswarnendu          

IP Address : 198.154.74.31 (*)          Date:19 Aug 2015 -- 04:43 PM

সিকির প্রশ্ন আমারও ...
থেমে গেলে হবে না শিবাংশুদা, প্রশ্ন জমিয়ে রেখেছি যে!


Name:   শিবাংশু           

IP Address : 127.214.108.222 (*)          Date:19 Aug 2015 -- 09:10 PM

ইয়ে, মানে পাইদিদি আদেশ করেছেন একটা প্রবন্ধ লিখতে এই সব নিয়ে। তাই কিঞ্চিৎ ল্যাখাপড়া করতে হচ্ছে। আপনাদের প্রশ্নগুলো যদি এখানে রেখে দেন, তবে তবে খুব ভালো হয়। :-)


Name:  ranjan roy          

IP Address : 192.69.150.184 (*)          Date:20 Aug 2015 -- 12:18 AM

শিবাংশু,
অনেক বড় কাজ হবে, আপনি এর অধিকারী ব্যক্তি। আগে বঢ়িয়ে, আমাদের সবার শুভেচ্ছা রইল। হয়ত আপনি পড়েছেন , তবু বলব মাহমুদ মামদানির "গুড মুসলিম ব্যাড মুসলিম" বইটার কথা। আমার দাঁত ফোটাতে একটু কষ্ট হয়েছে, আপনি পারবেন।


Name:   শিবাংশু           

IP Address : 127.197.234.52 (*)          Date:20 Aug 2015 -- 01:43 PM

রঞ্জন,
২০১৫ সালে ইসলাম নিয়ে ভাবতে গেলে মাহমুদ মামদানি অবশ্যপাঠ্য। ইসলামি সংস্কৃতিকে স্যামচাচার রাজনীতির চশমা দিয়ে ব্যাখ্যা করার যে সহজতম পন্থা হান্টিংটন সাহেব থেকে মহোদয় বুশ সবাই নিয়েছিলেন এবং দেখতে পাই এই মূহুর্তে পৃথিবীর সম্পন্নতম রাষ্ট্রগুলি সেই মতবাদের সঙ্গে সহমত, সেটাকে তাঁদের দূরদৃষ্টির অভাব ছাড়া কিছু বলা যায়না। ভারতীয় সভ্যতা ও ইসলামি সভ্যতার যে জটিল অসরলরৈখিক বিবর্তন পদ্ধতি রয়েছে সেটা ফিরিঙ্গিদের সরলরৈখিক কার্যকারণ সম্পর্কের দুয়ে দুয়ে চার দিয়ে ব্যাখ্যা করাটা বিপজ্জনক। মামদানি এই ব্যাপারটি নিয়েই বলে আসছেন এবং বিশেষ করে ২০০১ থেকে তাঁকে জঙ্গি এবং জিঙ্গো'ইস্টিক পশ্চিমি ইতিহাস ব্যাখ্যাকে প্রতিরোধ করার জন্য সমানে কলম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমাদের ইতিহাসেও একটা সময় এসেছিলো, যখন আমাদের ক্রান্তদর্শী কবির মনে হয়েছিলো ইংরেজদের মধ্যে ভালো ও মন্দ দু ধরণের লোকই আছেন। কিন্তু অচিরেই তাঁর ভুল ভেঙেছিলো। এক্ষেত্রে পশ্চিমি সরলরৈখিক বিচারের পরাকাষ্ঠা হলেন জর্জ বুশ। হয় তুমি আমার সঙ্গে, নয় তুমি আমার শত্রু। ফ্যাসিবাদের এইটাই মূল সমস্যা। শুভবোধকে স্পেস দিতে তারা কখনও প্রস্তুত নয়। 'মৌল'বাদের এর থেকে বড়ো নিদর্শন আর কী হতে পারে। ভারতীয় হিসেবে আমরা ইতিহাসকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে রাজি নই। যদিও ঋষি দীনানাথ জাতীয় যে সব প্রাণী এখন সরকারিভাবে আমাদের পথপ্রদর্শক, তাঁরা ঘোষিতভাবে যাবতীয় পশ্চিমি ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তাঁদের বক্তব্য ফ্যাসিবাদ নিষিক্ত। আমরা মনে করি তাঁদের ঐতিহ্যে ভারতবর্ষ নেই।

এদেশে তুর্কি ও দেশীয় জনতার মধ্যে অবিশ্বাস বা ঘৃণার ইতিহাসকে অস্বীকার করাটা মূঢ়তা। কিন্তু তাকেই পারস্পরিক সম্পর্কের শেষ কথা মনে করাটা আরো বড়ো মূঢ়তা। যুদ্ধটা এই মানসিকতার বিরুদ্ধেই।





Name:  শঙ্খ          

IP Address : 127.194.255.41 (*)          Date:22 Aug 2015 -- 12:55 AM

শিবাংশুদা, খুব ভালো লাগছে পড়তে... আরেকটু বিশদে হলে বড্ড ভালো হত।


Name:   0           

IP Address : 132.163.5.242 (*)          Date:25 Aug 2015 -- 06:02 PM

আবারও সরি, শিবাংশুদা। রেগুলার না আসার জন্যে আপনার উত্তরের পোস্ট্‌টা দেখিনি। সময় ও ধৈর্য ধ'রে ডিটেলে লিখুন। অপেক্ষায় রইলাম।


Name:  abp          

IP Address : 24.96.39.143 (*)          Date:08 Mar 2016 -- 12:21 PM

http://www.anandabazar.com/international/horrible-rape-game-taharush-h
as-entered-into-europe-from-arab-dgtl-1.326537#



Name:  xyz          

IP Address : 53.252.141.224 (*)          Date:11 Mar 2016 -- 01:43 AM


upore thak ei toi-ta


Name:   Sakyajit Bhattacharya           

IP Address : 233.223.142.19 (*)          Date:07 Aug 2016 -- 12:26 PM

শিবাংশুদা, আপনার দেওয়া কিছু কিছু তথ্য কি অন্য একটি লেখায় ব্যবহার করতে পারি? আপনার নাম সমেত সূত্র-স্বীকার করা থাকবে, বলাই বাহুল্য। আপনাকে একটি কপি পাঠিয়ে দেখিয়ে নেব, যদি আপনি চান।






Name:  ~L~          

IP Address : 127.194.198.249 (*)          Date:07 Aug 2016 -- 12:29 PM

শাক্য কি "আরেকরকম"-এ ছাপা লেখাটা এখানে দিয়ে রাখবে পুরোটা?


Name:   Sakyajit Bhattacharya           

IP Address : 233.223.142.19 (*)          Date:07 Aug 2016 -- 12:33 PM

সফট কপি নেই। হাতে লিখেছিলাম। ওদের বলে দেখব যদি কোনওভাবে দিতে পারে


Name:  ~L~          

IP Address : 127.194.198.249 (*)          Date:07 Aug 2016 -- 12:36 PM

ওরা পিডিএফ দিলেও হবে, সেটারই লিংক দিও। পেজমেকার ফাইল দিয়ে তো আর লাভ হবে না। অনেকটা লিখেছো। বিতর্ক আছে।


Name:   Sakyajit Bhattacharya           

IP Address : 233.223.142.19 (*)          Date:07 Aug 2016 -- 12:38 PM

ওটারই একটা এক্সটেন্ডেড ভার্শন পরের সংখ্যার জন্য লিখছি। শিবাংশুদার কিছু কিছু তথ্য সেই কারণে দিতে চাইছিলাম ওখানে। ভাবছি, পুরোটা নামিয়ে, দুখানা লেখার পিডিএফ এখানে রেখে একসাথে বিতর্ক চালানো যাবে। নাহলে এক জায়গায় একটু, আবার অন্য থ্রেডে আরেকটু, এভাবে করলে বড্ড ছড়িয়ে যায়


Name:  d          

IP Address : 144.159.168.72 (*)          Date:30 Aug 2016 -- 02:13 PM

এখানেই থাক

http://www.anandabazar.com/editorial/let-discuss-with-all-mohammedan-1
.466929#



Name:   শিবাংশু           

IP Address : 113.210.253.50 (*)          Date:31 Aug 2016 -- 10:07 AM

শাক্যজিৎ,
আপনার 07 Aug 2016 -- 12:26 PM, ডাকটি সময়ে দেখতে পাইনি। নিশ্চয় ব্যবহার করতে পারেন।


Name:  Rit          

IP Address : 213.110.242.20 (*)          Date:31 Aug 2016 -- 03:12 PM

চমৎকার টই। ইওরোপ, অটোমান, ইরান বা ভারত নিয়ে তবু কিছু জানা আছে। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস ভূগোল কিস্যু জানি না। এদিকটাই একটু আলো পেলে বেশ হত। ইন্দোনেশিয়ার দু এক্জনের সাথে আলাপ হয়েছিল এক সময়। কিন্তু দেশটাকে খুব একটা জানতে পারিনি।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--20