এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3]     এই পাতায় আছে43--73


           বিষয় : ছোটদের জন্য কবিতা ...
          বিভাগ : অন্যান্য
          বিষয়টি শুরু করেছেন : nandini
          IP Address : 59.93.207.174          Date:12 Jul 2011 -- 11:29 PM




Name:  সুকুমার রায়           

IP Address : 128.102.169.50 (*)          Date:18 Feb 2017 -- 11:52 AM

রায় কে


Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.129.181.5 (*)          Date:18 Feb 2017 -- 03:05 PM

গাঁয়ের মাটিতে আছে ভালবাসা
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

এ গাঁয়ের মাটিতে আছে ভালবাসা
আছে যে মাটি মায়ের স্নেহের টান।
গাঁয়ের রাঙা পথে একতারা হাতে
হরিদাস বাউল গাহে বাউলের গান।

এই গাঁয়ের মাটিতে আছে ভালবাসা
মোদের চিত্তে জাগায় নব নব আশা,
এই মাটির বুকে রোজ লাঙল চালায়
সোনার ফসল ফলায় এ গাঁয়ের চাষা।

সবুজের সমারোহ দেখি এই মাটিতে
গাঁয়ের দিঘিতে ফোটে সোনার কমল,
রোজ প্রভাত হলে সবুজ গাছে গাছে
অবিরত করে কলতান বিহগের দল।

এ গাঁয়ে রোজ সকাল হলে সূর্য ওঠে
দিবসের অবসানে সে যে মুখ লুকায়,
সাঁঝের আকাশে চাঁদ ও তারারা হাসে
সারাগাঁয়ে বেজে ওঠে সাঁঝের সানাই।



Name:   লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 113.240.193.229 (*)          Date:20 Feb 2017 -- 05:49 PM

ছোটদের ছড়া (কবিতা)
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
আমড়াগাছে আমড়া ধরে
আম গাছে ধরে আম,
কাঁঠালগাছে ধরে কাঁঠাল,
জাম গাছে ধরে জাম।

চাঁপাগাছে চাঁপাফুল ফোটে
বকুলগাছে ফোটে বকুল,
ফুলের বনে প্রভাতে ফোটে
কত হরেক রকমের ফুল।

বাবলা গাছে ফিঙে নাচে,
কোকিল ডাকে আমের গাছে,
সারি সারি বক উড়ে যায়
অজয় নদীর ঘাটের কাছে।

রাঙা মাটির পথের বাঁকে
গরু বাছুর দাঁড়িয়ে থাকে,
গাঁয়ের বধূ নাইতে আসে
মাটির কলসী লয়ে কাঁখে।

মাঠের শেষে দিগন্তে ঐ
সূর্য লুকায় পাহাড় ঘেঁষে,
পাখিরা সব বাসায় ফেরে
ক্লান্ত হয়ে দিনের শেষে।

নীল আকাশে তারা ফোটে
নদীর জলে জোছনা ঝরে,
চাঁদের আলোক ঝরে পড়ে
আমার মাটির কুটির ঘরে।



Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.129.181.137 (*)          Date:11 Apr 2017 -- 06:40 PM

কাঁকন তলার মাঠ
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
আমার গাঁয়ে
পথের বাঁয়ে
কাঁকন তলার মাঠ,

গ্রাম সীমানায়
ঐ দেখা যায়
তাল পুকুরের ঘাট।

গাঁয়ের চাষী
প্রভাতে আসি
মাঠে লাঙল চালায়,

রোজ সকালে
গাছের ডালে
পাখিরা গান গায়।

মাঠের আলে
রাখাল ছেলে
বাজায় বসে বাঁশি,

মা আমার
মাটি আমার
আমি গাঁকে ভালবাসি।

ঐ যে দূরে
পানাপুকুরে
পানকৌড়িরা আসে,

নীল আকাশে
শঙ্খচিল ভাসে,
লাফায় ফড়িং ঘাসে।

পুকুরঘাটে
সাঁতার কাটে
পাড়ার ছেলের দল,

সবুজ ডাঙায়
চরে বেড়ায়
গরু বাছুর ছাগল।

বিকাল হলে
সূর্য পড়ে ঢলে
সোনালী রোদ ঝরে,

বেলা ডুবে যায়
তপন লুকায়
অজয় নদীর চরে।



Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.129.181.137 (*)          Date:11 Apr 2017 -- 06:41 PM

আমার গাঁয়ে পথের বাঁকে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

প্রভাত হলেই সূর্য ওঠে,
কুসুম কাননে কলি ফোটে,
পাখিরা গায় তরুর শাখে,
আমার গাঁয়ে পথের বাঁকে।

আমার গাঁয়ের পথের বাঁকে,
গরু-বাছুর দাঁড়িয়ে থাকে,
ভোলা মালি ফুলের বাগানে
মাটি কোপাই আপন মনে।

গাঁয়ের ইস্কুলে ছাত্র সব
পাঠ পড়ে করে কলরব।
বেলা চারটে বাজে যখন,
ছুটির ঘন্টা পড়ে তখন।

নদীর কাছে বটের গাছে,
পুরানো শিব মন্দির আছে।
নদীজলে মাঝি বৈঠা বায়,
তরণী নিয়ে ওপারে যায়।

বেলা পড়ে যায় সন্ধ্যা আসে,
তারারা জ্বলে নীল আকাশে।
আঁধার নামে মাটির ঘরে,
জোনাকি জ্বলে গাছের পরে।









Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী           

IP Address : 160.129.181.137 (*)          Date:11 Apr 2017 -- 06:43 PM


নৌকা বাঁধা ঘাটের কাছে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী
নৌকা বাঁধা ঘাটের কাছে,
পাখিরা গায় গাছে গাছে।
গ্রামসীমানায় পথের বাঁকে,
ফিঙে নাচে তরুর শাখে।

বক বসেছে নদীর কূলে
দুধার ভরা কাশের ফুলে।
নদীর কাছে শ্মশান ঘাট,
পথের দুধারে সবুজ মাঠ।

গাঁয়ের ডাঙায় গরু চরে,
সরাণে লাল ধূলো ওড়ে।
তাল খেজুর গাছের সারি,
তারই ছায়ায় মাটির বাড়ি।

অজয় নদীর ঘাটের কাছে,
পুরানো শিব মন্দির আছে।
গাঁয়ের বধূরা কলসী কাঁখে,
ঘাটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে।

গাঁয়ের ছেলেরা গামছা পরে,
নদীর জলে নেমে চান করে।
বেলা পড়ে আসে সন্ধ্যা হয়,
অজয় নদীর ঘাট নির্জন হয়।



















Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী           

IP Address : 160.129.181.137 (*)          Date:11 Apr 2017 -- 06:43 PM

গাছের ছায়ায় মাটির ঘর
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী





গাছের ছায়ায় মাটির ঘর,
গাঁয়ের মানুষ নয়কো পর।
সবাই আমার আপন জন,
গাঁয়ের পথে বাঁশের বন।

গ্রাম ছাড়িয়ে নদীর ঘাট,
দুই পারেতে সবুজ মাঠ।
মাঠের আলে ফিঙে নাচে,
ময়না নাচে ছাতিম গাছে।

এই গাঁ আমার জন্মভূমি,
দিঘির পাশেই জলা জমি।
দিঘির পাড়ে তালের গাছ
গাঁয়ের জেলেরা ধরে মাছ।

শান বাঁধানো দিঘির ঘাটে,
ছেলেরা সব সাঁতার কাটে।
তাল দিঘিতে কালো জল,
জলে ফোটে লাল কমল।

ফুল ফুটেছে বনে বনে
ধায় অলি মধু আহরণে।
গাঁয়ের চাষী করে চাষ,
সুখে থাকে বারো মাস।

গাঁয়ের মাটি স্বর্গ আমার,
সবুজ গাছ পথের দুধার।
গাছে গাছে গাহে পাখি,
কান পেতে শুনতে থাকি।

এ গাঁয়ের মাটি পূণ্যভূমি,
এই গাঁ আমার জন্মভূমি।
মাটিতে ফলে সোনার ধান,
ভরে ওঠে মোদের প্রাণ।















Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.242.72.7 (*)          Date:17 Apr 2017 -- 02:07 PM

এলো নতুন বছর
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী


এলো নতুন বছর আর নতুন দিন,
সকলে প্রীতি আর শুভেচ্ছা নিন।
নববর্ষে আসুক যত নব নব আশা,
সবাকারে জানাই প্রীতি, ভালবাসা।


এলো নতুন বছর ও নতুন সকাল,
একটা বছর পরে আসে নতুন সাল।
পাখি সব গাহে সবুজ তরুর শাখে,
আমের গাছে গাছে কোকিল ডাকে।


নতুন বছর নিয়ে আসে নতুন আশা,
হৃদয়ে পুলক জাগে বাঁধে প্রীতির বাসা।
নববর্ষ করে দিকে দিকে নব আহ্বান,
উল্লাসিত আজি হেরি সবাকার প্রাণ।


নববর্ষের শুভেচ্ছা সবে করিও গ্রহণ,
কবিতায় লিখে কবি ভাণ্ডারী লক্ষ্মণ।



Name:   সিকি           

IP Address : 116.222.182.239 (*)          Date:17 Apr 2017 -- 04:48 PM

আপনি একদিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেনই, এ আমি বলে রাখলাম।


Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী           

IP Address : 160.242.65.227 (*)          Date:27 Apr 2017 -- 08:32 PM

গাঁয়ের মাটিতে জন্ম আমার
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের মাটিতে জন্ম আমার আমি গাঁকে ভালবাসি,
সবুজতরুর শীতল ছায়ায় রাখাল বাজায় বসে বাঁশি।
প্রভাত কালে তরুর শাখে শুনি প্রভাত পাখির গান,
আম-কাঁঠালের বনে বনে শুনি কোকিলের কুহুতান।

হেথা আঙিনায় বসে চা-মুড়ি খায় ছোট এক ছেলে,
সুদূর আকাশে ধবল বলাকা উড়ে দুটি পাখা মেলে।
পায়রার ঝাঁক উড়ে এসে বসে রান্নার ঘরের চালে,
হনুমান এসে ল্যাজটি দুলায় বসে বট গাছের ডালে।

পথের দুধারে কলমীর বনে পচা জলের গন্ধ ভাসে,
গোরু মোষের গা ধোয়াতে সবে কাদাডোবায় আসে।
ক্লান্তপথিক গামছা কাঁধে একা রাঙামটির পথে চলে,
পাড়ার ছেলে সাঁতার কাটে সোনাদিঘির ঘোলা জলে।


বেলা ডুবে যায় সন্ধ্যা আসে দূরে সাঁঝেরসানাই বাজে,
গাঁয়ের মাটি স্বর্গ যে আমার এই বিপুলা বসুন্ধরা মাঝে।



Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.242.65.227 (*)          Date:27 Apr 2017 -- 08:33 PM

জন্মিলে মরিতে হবে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

মানব দেহ পচা দেহ মাটিতে মিশে যায়,
শ্মশানের জ্বলন্ত চিতায় পুড়ে হয় ছাই।
প্রাণহীন মানব দেহে পড়ে থাকে কায়া,
পৃথিবী হতে যায় চলে ছেড়ে সকল মায়া।

শ্মশানের চিতা সবার শেষ বেলার শয়ন,
সবাই কেড়ে নেবে তোমার অঙ্গের বসন।
সোনার দেহ কালি হবে, পুড়ে হবে ছাই,
ভাসে সবাই চোখের জলে করে হায় হায়।

টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ি রইবে সবই পড়ে,
নিয়ে যাবে শ্মশানঘাটে বাঁশেরদোলা পরে।
শ্মশানে হবে ফুলশয্যা বাঁধবে সুখের ঘর,
অন্তিমকালে সবাই সেদিন হয়ে যাবে পর।

ভাগ্যের খাতায় লেখা আছে অবশ্যই মরণ,
জন্মিলে মরিতে হবে একদা জানে সর্বজন।



Name:   লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী           

IP Address : 160.242.65.227 (*)          Date:27 Apr 2017 -- 08:35 PM

স্মৃতির বালুচরে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

স্মৃতির বালুচরে ফোটে বেদনার ফুল,
ঝরে গেছে সব আজি আশার মুকুল।
নয়নের জলে হেথায় নামিল বাদল,
নিশ্বাসে ঝড় বহে আজি ঝঞ্ঝা প্রবল।

জীবননদীর তটে আসে কুলভাঙা ঢেউ,
নয়নে জল ঝরে আঁখিজলে ভাসে কেউ।
পতিহারা সতী কাঁদে নিজপুত্র বিয়োগে,
কেহ কাঁদে ক্ষুধায়, কেহবা ভোগে রোগে।

গোলাপ ঝরে যায়, দেয় আন্তরিক প্রীতি,
মানুষ মরণের পরেও রেখে যায় স্মৃতি।
জীবনের এ ধ্রুব সত্য জন্মিলে মরিতে হয়।
জন্মিলে মরিতে হবে তবে কেন মৃত্যুভয় ?

এজীবন নিশার স্বপন মনে রেখো সর্বজন,
কবিতায় লিখে যায় কবি ভাণ্ডারী লক্ষ্মণ।



Name:   সিকি           

IP Address : 192.69.206.53 (*)          Date:27 Apr 2017 -- 08:39 PM

এই রে! আবার?


Name:  cm          

IP Address : 127.247.98.53 (*)          Date:27 Apr 2017 -- 09:10 PM

বড় ভাল হচ্ছে। নিয়ম করে লিখবেন।


Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.129.183.208 (*)          Date:29 Apr 2017 -- 04:21 PM

এ গাঁয়ের পাশে অজয় নদী
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

এ গাঁয়ের পাশে অজয় নদী অবিরাম বয়ে চলে,
বৈশাখ মাসে পার হয় গাড়ি একহাঁটু নদীজলে।
গ্রামসীমানায় ফকির ডাঙায় গোরু ও বাছুর চরে,
গাঁয়ের মানুষ থাকে সবাই, এ গাঁয়ে মাটির ঘরে।

নয়নদিঘির শীতল জলে পানকৌড়িরা দেয় ডুব,
স্নানের ঘাটে পাড়ার ছেলেরা কাটে সাঁতার খুব।
গাঁয়ের বধূরা কলসী কাঁখে জল নিয়ে যায় ঘরে,
দিঘির পাড়ে ধবল বলাকা বসে ছোট মাছ ধরে।

দিনের শেষে বেলা পড়ে আসে সূর্য ডুবে যায়,
নির্জনগাঁয়ে আঁধার নামে পাখিরা ফেরে বাসায়।
মন্দিরে বাজে পূজোর ঘন্টা সাঁঝের সানাই বাজে,
ফুটে ওঠে সহস্র তারকা নীল আকাশের মাঝে।

চাঁদ তারা হাসে আকাশে জেগে রয় সারা রাত,
রাত কেটে যায় ভোর হয়ে আসে নতুন প্রভাত।



Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.129.183.208 (*)          Date:29 Apr 2017 -- 04:22 PM

বৈশাখের কড়া রোদে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

বৈশাখের কড়া রোদে জল নেই পুকুরে,
খালি গায়ে লোকজন চলে ভর দুপুরে।
আকাশের মাঝখানে লালসূর্যটা জ্বলছে,
বাতাসের কানে বুঝি কিছু কথা বলছে।

দুপুরের কড়া রোদে, নাই কেহ আঙিনায়,
একতারা হাতে নিয়ে বেনু দাস গান গায়।
লাঠি হাতে চলে পথে অন্ধ হরি-হর দাস,
কুকুরেরা ছুটে আসে কাছে এলেই সর্বনাশ।

দুপরের কড়া রোদে কাদা জলে ধরে মাছ
ধবল বলাকা এক দুধারে আছে তালগাছ।
গাঁয়েরবধু জল নিয়ে স্নান করে আসে ঘরে,
ঘটি হাতে শিশু এক আসে তার হাত ধরে।

বৈশাখের কড়া রোদে প্রাণ করে আনচান,
পথে ঘাটে বের হলে কচিডাব কিনে খান।



Name:  বিভাষ কর্মকার          

IP Address : 18.37.230.191 (*)          Date:18 May 2017 -- 11:47 AM

অনেক সুন্দর লাগে তাই বার বার পড়ি,,,,,



Name:  বিভাষ কর্মকার          

IP Address : 18.37.230.191 (*)          Date:18 May 2017 -- 11:47 AM

অনেক সুন্দর লাগে তাই বার বার পড়ি,,,,,



Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 113.240.193.227 (*)          Date:18 May 2017 -- 07:45 PM

গাঁয়ের মাটিতে জন্ম আমার
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের মাটিতে জন্ম আমার,
গাঁয়ের লোক সবাই আপনার,

জন্মভূমি মাটি মা যে আমার।
এই মাতৃভূমি যে মা সবাকার।

আঁকা বাঁকা সরু গলির পথে,
চলে আনাগোনা ভোর হতে।

সকাল হলে লাল সূর্য ওঠে,
ফুলের বাগিচায় ফুল ফোটে।

গাঁয়ের মাটিতে সোনা ফলে,
রাজহাঁস ভাসে দিঘির জলে।

তাল, খেজুর ও সুপারি গাছ,
দিঘিতে জেলেরা ধরে মাছ।

গ্রাম সীমানায় পথের বাঁকে,
শালিক উড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে।

পথের দু-ধারে সবুজ গাছে,
দোয়েল ফিঙেরা বসে নাচে।

নৌকা বাঁধা অজয়নদীর চরে,
ধবল বলাকা বসে মাছ ধরে।

লালশাড়ি পরা ঘোমটা দিয়ে,
গাঁয়ের বধূরা যায় জল নিয়ে।

পড়ে আসে বেলা সূর্য ডোবে,
নদীর পাড় লাল রঙে শোভে।

নির্জন ঘাটে গহন রাত্রি নামে,
ঘুমায় মানুষ সব আমার গ্রামে।



Name:   লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 113.240.193.227 (*)          Date:18 May 2017 -- 07:48 PM

শান্তাবুড়ি ও মিনিবেড়াল
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের মাঝখানে শান্তাবুড়ি খুলেছে চপের দোকান,
ধারে কিছু যাবে না তো কেনা দিতে হবে নগদদাম।
শান্তাবুড়ির দোকানে পাবে ছোলার ঘুগনি আর মুড়ি,
চা, পান ও তেলে ভাজার সাথে পাবে খাস্তা কচুরি।

আপন বলে কেউ নাই তার আছে শুধু একটি বেড়াল,
দোকানের পাশে ঘোরাঘুরি করে খেলে সকালবিকাল।
দুপুর বেলায় শান্তাবুড়ি রোজ যখন ভাত খেতে বসে,
বেড়ালটি তখন দৌড়ে এসে, বসে তারই কাছ ঘেঁষে।

বেচাকেনা সেরে সন্ধ্যাবেলায় প্রদীপখানি জ্বেলে,
করতাল বাজিয়ে শান্তাবুড়ি জয় রাধে রাধে বলে।
তুলসীতলায় বসে যখন শান্তাবুড়ি রাধানাম স্মরে,
মিনি বেড়াল তখন এসে বসে থাকে চুপটি করে।

রাতের আকাশে তারা ওঠে চাঁদের আলোক ঝরে,
সকালে উঠিয়া শান্তাবুড়ি জপে হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে।



Name:   লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 113.240.193.227 (*)          Date:18 May 2017 -- 07:49 PM

শীতল তরুর ছায়ায়
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

শীতল তরুর ছায়ায় ঘেরা ছোট আমাদের গ্রাম,
গাঁয়ের পথে পান্থশালায় পথিকেরা লয় বিশ্রাম।
আঁকা বাঁকা পথ চলেছে গাঁয়ের চারপাশ দিয়ে,
ফেরিওয়ালা হাঁক দিয়ে যায় নাথায় ফেরি নিয়ে।

গাঁয়ের প্রান্তে সবুজ মাঠে গরু ছাগল বেড়ায় চরে,
দিঘির জলে জাল ফেলে জেলেরা রুই মাছ ধরে।
পাড়ার ছেলে সাঁতার কাটে দিঘির শীতল জলে,
কলসী কাঁখে গাঁয়ের বধূরা দ্রুত-পদে ঘরে চলে।

উঠোনে বসে মাটির হাঁড়িতে কিষাণবধূ ভাত রাঁধে,
ছোট শিশুটি আঁখি মোছে শুধু, বসে উচ্চররে কাঁদে।
কুয়ো-তলায় ময়না চড়ুই দুজনেই মনের কথা কয়,
গোয়ালঘরে বলদ দুটোকে শক্তদড়ি দিয়ে বাঁধা হয়।


সাঁঝের বেলায় আঁধার নামে কিষানের মাটির ঘরে,
রাতের বেলা চাঁদের আলোকে জোছনা পড়ে ঝরে।



Name:  -          

IP Address : 147.59.156.28 (*)          Date:19 May 2017 -- 12:58 PM

'জল - অঞ্জলি'


Name:  Atoz          

IP Address : 161.141.85.8 (*)          Date:20 May 2017 -- 05:32 AM

শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধবেন না। ওদের লাগে না বুঝি? দড়ির উপরে সিল্কের ঢাকনা পরিয়ে তারপরে বাঁধতে পারেন।


Name:   লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 160.242.67.155 (*)          Date:20 May 2017 -- 05:33 PM

আমাদের গাঁয়ের পাশে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

আমাদের এ গাঁয়ের পাশে
ছোট এক নদী বয়,
জ্যৈষ্ঠ মাসে অজয় নদে
এক হাঁটু জল হয়।

আমাদের গাঁয়ে সারি সারি
ছোট ছোট মাটির ঘর,
এই গাঁয়ে সতত সুখ-শান্তি
বিরাজ করে নিরন্তর।


আমাদের গাঁয়ে মাঝখানে
জল ভরা ছোট দিঘি,
প্রভাতে রবির কিরণে তার
জল করে ঝিকিমিকি।

আমাদের গাঁয়ে রাঙা পথের
দুধারেতে সবুজ গাছ,
তরুর শাখায় পাখিরা গাহে
শালিকেরা করে নাচ।

গাঁয়ের বধূ জল নিয়ে যায়
মাটির কলসি কাঁখে,
সারি সারি বক উড়ে চলে
অজয় নদীর বাঁকে।

আমাদের গাঁয়ে আঁধার নামে
জোনাকিরা জ্বলে পথে,
চাঁদের আলো ছড়ায় কিরণ
রাতের আকাশ হতে।



Name:  pi          

IP Address : 57.29.133.247 (*)          Date:20 May 2017 -- 10:03 PM

কেউ পিতলের কলসী নেন না ?


Name:  PinguMama          

IP Address : 52.109.131.211 (*)          Date:21 May 2017 -- 06:41 PM

ছোট ছোট বাচ্চারা





ছোট ছোট বাচ্চারা
একদিন বড় হবে
তারপর আবার তাদের
ছোট ছোট বাচ্চা হবে।


সেই ছোট ছোট বাচ্চারা
খেলবে পুতুল নিয়ে
তারপর একদিন তাদের
হয়ে যাবে বিয়ে।

বিয়ে হয়ে গেলেই সবার
ছোট ছোট বাচ্চা হয়
কাল ছিলো ঘর খালি
আজ উঠোনভর্তি বিষ্ময়।

উঠোনভর্তি বাচ্চাদের
ঝোটন ভর্তি বিয়ে
ঠাকুমা দিদিমা পিসতুতো কাকিমা
কুকার মাথায় দিয়ে।

এইভাবে জগত ভরে ওঠে
রঙ্গীন ছোট ছোট বাচ্চায়
পুতুলরা থাকে জুতোর বাক্সে
তাদের বয়েস বাড়ে না হায় ।




Name:   Somnath Roy           

IP Address : 213.110.242.24 (*)          Date:23 May 2017 -- 06:01 PM

মেয়ের জন্যে কয়েকটা বানিয়েছিলাম, সেগুলোর কিছু দিইঃ

(১)
হুড়মুড়িয়ে জোর কদমে যাচ্ছে ঘেঁটু যুদ্ধুতে
যাবার আগে টুক্‌ করে সে বাথরুমে যায় মুখ-ধুতে
সাজছে ঘেঁটু রণপা পরে, লাল মোজা আর নীল জুতো
যুদ্ধে ঘেঁটু অস্ত্র নিল লাটাই চাটাই ঢিল সুতো
বিভিন্ন দেশ জয় করে সে ফিরছে ঘরে- জল ফোটা
কাল সকালে কাগজ দিলে পড়বে সবাই গল্পটা।

(২)
ঘেঁটু রানির এক ঘোড়া
চড়ছে ছাদে দাখ তোরা
ঘেঁটু রানির এক জিনি
আমরা কি তার ব্যাগ চিনি?
ব্যাগের ভেতর টিঙটিঙে
ছোট্ট দুটো শিং কিনে
আনল জিনি ওর ঠেকে
পড়বে ঘোড়া চড়বে কে?
চড়বে ঘেঁটু শিং-ঘোড়া
দেখবে তাকে সিংহরা।

(৩)
পুপুসোনা সোনা পুপু পুপুসোনা কই?
পুপু গ্যাছে মাছ ধরতে সঙ্গে নিয়ে মই
আম পাড়তে গিয়ে পুপু গাছে ফেলে ছিপ
পুপু সাজে পুপুর গালে রঙিন রঙিন টিপ
চাঁদ দেখতে গেল পুপু গগলস চোখে দিয়ে
পুপুর ঘরে বকলস বেঁধে ঘোরে সবুজ টিয়ে
বকলস বেঁধে ঘরে টিয়ে, খাঁচায় থাকে ঘৌ
জার্মানিতে যাবে পুপু শিখতে ঝুমুর ছৌ।




Name:  pi          

IP Address : 57.29.128.130 (*)          Date:24 May 2017 -- 10:07 AM

ভারি সুন্দর লাগল ঘেঁটুরানীর কবিতা।

গগলস পরে চাঁদ দেখতে যাওয়া পুপুর ছড়াটা আরো।


Name:  aranya          

IP Address : 172.118.16.5 (*)          Date:25 May 2017 -- 02:32 AM

খুবই সুন্দর, সোমনাথের ছড়াগুলো।
'বিভিন্ন দেশ জয় করে' -এর বদলে 'নানান দেশ জয় করে' বা 'অনেক দেশ জয় করে' লিখলে ছন্দের দিক থেকে আরেকটু ভাল হবে, মনে হয়


Name:  লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 113.240.193.181 (*)          Date:27 May 2017 -- 05:29 PM

গাঁয়ের মাঝে পথের ধারে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের মাঝে পথের ধারে
বক বসেছে পুকুর পাড়ে।
পদ্ম দিঘির শীতল জলে,
ফোটে কমল সকাল হলে।

সবুজ গাছে পাখির গান,
শুনে জুড়ায় আমার প্রাণ।
আমেরশাখে কোকিল ডাকে,
শালিক ওড়ে পথের বাঁকে।

পদ্ম দিঘির শীতল জলে
গাঁয়ের যত পাড়ার ছেলে
সাবান মাখে স্নানের ঘাটে
সবাই মিলে সাঁতার কাটে।

জ্বলন্ত সূর্য মাথার উপর,
দুপুর বেলা রৌদ্র প্রখর।
গামছা কাঁধে আদুল গায়ে,
বসে পথিক গাছের ছায়ে।

দূর পাহাড়ে বনের ধারে,
মহুলের গাছ সারে সারে।
বনের টিয়া বেড়ায় উড়ে,
মাদল বাজে বাঁশির সুরে।



Name:   লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী          

IP Address : 113.240.193.181 (*)          Date:27 May 2017 -- 05:29 PM

ঝড় উঠেছে নদীর কূলে
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

ঝড় উঠেছে নদীর কূলে
নাইকো কূলে কেউ,
ফুঁসিছে নদী প্রবল বেগে
উপছে পড়িছে ঢেউ।

কালো মেঘে ঐ আঁধার নামে
যায় না কিছুই দেখা,
গরজিছে মেঘ, কাঁপিছে ভূধর
কূলে বসে আছি একা।

কালো মেঘে ঘনায়ে আঁধার
উঠিল দুরন্ত ঝড়।
নদী তটের বিশাল বটের
ডাল ভাঙে মড়মড়।

অশনি-ভরা বিজুলির আভা
ঝলসি উঠিছে মেঘে,
গাঁয়ের পথে গরু-বাছুর সব
ছুটিছে প্রবল বেগে।

ছিঁড়েছে পাল, ভেঙেছে হাল
মাঝি করে হায় হায়,
আমি শুধু একা বসে থাকি
অজয় নদীর কিনারায়।

বৃষ্টি ঝরিছে অঝোর ধারায়
পথে জমে কত জল,
গগনে-গগনে কালিমাখা মেঘ
গরজিছে অবিরল।

আকাশ পারে ঈশান কোণে
ঘুচে যায় কালো মেঘ,
বৃষ্টিসিক্ত এই ধরণীর পরে
থেমে যায় ঝড়ের বেগ।


এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3]     এই পাতায় আছে43--73