এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11]     এই পাতায় আছে280--310


           বিষয় : ঐতিহ্যমন্ডিত বাংলা চটি সিরিজ
          বিভাগ : বই
          বিষয়টি শুরু করেছেন : sumeru
          IP Address : 117.99.47.91          Date:29 Jan 2010 -- 01:25 PM




Name:  বাবুরাম সাপুড়ে          

IP Address : 69.92.145.181 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 10:12 AM

নব্বইয়ে ক্রিকেটের কথা এলে হিরো কাপ আসবে, ৯৬ এ বিশ্বকাপের কথা আসবে...... এবং ক্রিকেট বেটিং আসবে......


Name:  h          

IP Address : 212.142.90.16 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 10:15 AM

ঃ-)


Name:  dc          

IP Address : 132.164.230.17 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 10:17 AM

ঠিক ঠিক। হিরো কাপ আর বেটিং লিখতে গিয়েও মিস করলাম, সেই সাথে আজ্জুর ফিল্ডিং আর রিস্ট ফ্লিক। আর ২০১২ বিশ্বকাপও, ধোনির সেই ফাইনালে ছক্কা। অবশ্য তদ্দিনে বড়ো হয়ে গেছি, পাবে বসে তুমুল সেলিব্রেট করেছিলাম।


Name:  h          

IP Address : 212.142.90.16 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 10:29 AM

আমার কাছেও অনেকে শাক্যর বই চেয়েছে। আমি বেশি করেই অর্ডার করেছি। আশা করা যায় পুজো পুজো গন্ধর সঙ্গে এই বইয়ের স্মৃতি কিসু লোকের থাকবে ;-)


Name:  pi          

IP Address : 11.39.57.46 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 10:35 AM

ঃ)


Name:  avi          

IP Address : 233.191.52.59 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 11:59 AM

নব্বইয়ের দশক মানে তো আমাদের বেড়ে ওঠার দশক। ছিয়ানব্বইয়ের বিশ্বকাপ, শারজা টরন্টো, সৌরভ গাঙ্গুলী, তার আগে সূর্যগ্রহণ, গণেশ, টেলিভিশন, টেলিফোন, স্কুল, খেলা, বন্ধুত্ব সব মিলিয়েই নব্বই। কলকাতায় এসে বইটা নেব, ডিটেলস তো এখানে পেয়ে গেলাম।


Name:  দেবব্রত           

IP Address : 212.142.76.211 (*)          Date:09 Oct 2016 -- 01:48 PM

বইটা হাতে এসেছিল প্রকাশের পূর্বেই । না আমাকে বইটার কোন রিভিউ করতে দেওয়া হয়েছে বলে নয় , ট্রাক থেকে বিদেশী সাবানের পেটি নামানোর সময় ফাটা পেটি থেকে যেমন এক আধটা দামি সাবান কুলি কামিনদের হাতে আসে প্রায় সেই পন্থায় । লুকিয়ে গন্ধ নিলাম -স্মার্ট ,স্লিম ,ঝকঝকে ছাপা । স্মৃতি মেদুর ,একটু ধূসর ,পালিশ ফিকে হয়ে আসা ফার্নিচারের মত প্রচ্ছদ । লেখকের ভাষার সাথে তাল মেলানো ভূমিকা আর মন কেমন করা সব লেখা । আমাদের মত কুলি কামিনদের কাছে এ বড় মোলায়েম স্বাদ -দামি ডার্ক চকলেটের মত , কখন যে গলে যায় এই ভয়ে সাবধানে পড়ব একটু একটু করে ।

পাতা উল্টাতে গিয়ে একটা ছোট্ট হোঁচট খাইনি যে তা নয় যথা বিশেষ একজনের নামে "সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত '' কিসের আবার কপিরাইট ?




Name:  Robu          

IP Address : 11.39.37.112 (*)          Date:11 Oct 2016 -- 09:07 AM

শাক্য-র হাত থেকে সরাসরি নেবার ইচ্ছে মনে হয় পূর্ণ হবে না। কলেজস্ট্রীটদতকম থেকে নিয়ে নেবো।
কিন্তু রুবানশপে আছে কি? তাহলে আরো ভাল হত।


Name:  pi          

IP Address : 233.231.43.220 (*)          Date:30 Nov 2016 -- 07:54 AM

হ্যাঁ, রুবানশপে গুরুর সব বইই আছে।

এছাড়াও, এখন থেকে যাদবপুরে স্টাডি ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে, কাফে কবীরাতে।
যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডের পাশে, চারু মেডিকাল হলের পাশের গলি। আপাততঃ অনুষ্ঠান প্রচারে আর ধনঞ্জয়ের ফাঁসি আছে। শিগ্গিরি বাকি বইও চলে আসছে।





Name:  অভিষেক          

IP Address : 69.90.53.198 (*)          Date:30 Nov 2016 -- 12:02 PM

ধনঞ্জয়ের বিচার পদ্ধতি এবং ফাঁসি নিয়ে গুরুচণ্ডালীর প্রকাশিত বইটা পড়ার সুযোগ হোল এই হপ্তায়। কলেজ স্ট্রীটে যথেষ্ট চাহিদা আছে দেখলাম বইটার এবং তার সবটা নেহাত রগরগে কুৎসা ঘাঁটার ইচ্ছাজনিত নয় কাজেই এখানে গবেষক-লেখকদের এবং প্রকাশক হিসেবে গুরুচন্ডালীর সুনামের একটা ইঙ্গিত পেয়েই যাওয়া যায়।
তিনজন গবেষকদের কথা শুরুতেই বলে রাখি।এককথায় বলতে গেলে অবিশ্বাস্য,দুরন্ত এবং অকল্পনীয় এই কাজ। দুর্দান্ত পর্যবেক্ষণশক্তি, নির্মোহ বিচারপদ্ধতি এবং পক্ষপাতহীন বিশ্লেষণ প্রতি লাইনের পরতে পরতে খুঁজে পাবেন প্রতিটা পাঠক। অন্যায় না করে সাজা পাওয়া মানুষটার প্রতি লেখকদের মমত্ববোধ ও ব্যর্থ বিচারপদ্ধতির তির্যক আলোচনা ছাপিয়ে ক্ষমতার বৃত্তের একদম ভেতরে বসে থাকা মানুষদের নিজেদের মধ্যে বিনা আয়াসে গড়ে ওঠা সেতুবন্ধন প্রক্রিয়াকে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা এবং চূড়ান্ত ভাবে সফল হয়েছেন।
গবেষকদের মেধা ,বোধ , মানবতা এবং নিজেদেরকে নিজেদের কাজের থেকে দূরে রেখে কাজ করতে পারাই সম্ভবত এইরকম বাস্তব এবং জ্যান্ত সময়ের দলিল করতে পারার চাবিকাঠি। অব্যাক্তিগত করে উঠতে পারার মধ্যেই হয়ত ব্যাক্তিগত কাজের সাফল্য লুকিয়ে থাকে।
লেখার ব্যাপারে কিছু বলি – সবার আগে লেখকরা ঘটনার অবস্থান এবং সীমানাগুলো নির্ধারণ করেছেন। বলতে গেলে দরকারি পরিধির চারপাশে বৃত্ত এঁকে পাঠকদের বুঝতে সুবিধে করে দিয়েছেন তথ্যের যথাযথ প্রকাশে। দরকারে ব্যাবহার করেছেন সারণি,চিত্র এবং ফুটনোট। তারপরে যত বই এগিয়েছে আস্তে আস্তে বৃত্তটাকে ছোটো করে এনেছেন যুক্তি এবং সম্ভাব্যতার নিয়ম মেনে। অতিরেকহীন ভাবে। বইয়ের শেষের সংযোজনগুলোর মাধ্যমে পাঠকদেরকেও ডেকে নিয়েছেন নিজেদের পাশে , সমান তথ্য জানার সুযোগ করে নিজেদের বিশ্লেষণযাত্রার সঙ্গী করে নিয়েছেন পাঠকদের। এখানেই দূরত্ব মুছে গেছে পাঠকদের আর তাঁদের মধ্যে।
ছোট একটা তথ্য জানাতে ইচ্ছা করছে। ফুটনোটের কথা বলেছি। বইটার সংযোজনগুলো বাদ দিলে ২১২ পাতা আছে। তার মধ্যে ১৩০-১৫১ পাতা হোল ১৪ এবং ১৫ পরিচ্ছেদ যেখানে সম্ভাব্য ঘটনার যথাযথ নির্মাণ করা হয়েছে কালপঞ্জী মেনে। কাজেই এই কুড়ি পাতা বাদ দিলে প্রায় ১৯০ পাতা থাকে তথ্য পরিবেশনের। সাকুল্যে ৫৭৪খানা ফুটনোট পাবেন এই প্রায় ১৯০ পাতায়। গড়ে তিনটে ফুটনোট প্রতি পাতায়। অন্য কিছু নয় লেখকদের পরিবেশনায় যত্নের আন্দাজ দিতে এটা বললাম।
পরিচ্ছেদ ভাগ করেছেন তাঁরা , পাঠকদের শ্বাস নেওয়ার সুবিধে করতে নয় , বিশ্লেষণ ধারার প্রতি ধাপকে সম্মান করেই। এতে দুর্দান্ত আকার নিয়েছে বইটা। প্রকাশকদের অনুরোধ করব ১৪ নম্বর পরিচ্ছেদ যেখানে লেখকরা সম্ভাব্য ঘটনার কালপঞ্জি সাজাচ্ছেন সেখানে বক্রহরফগুলো(সম্ভাবনা কিন্তু যেগুলো এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি সঠিকভাবে) যেন আরও কোনভাবে চিহ্নিত করে তোলার কথা ভাবেন (আন্ডারলাইন ?)। মাঝে মাঝে বক্রতা বুঝতে একটু অসুবিধে হয়েছে।
সমাজের সিদ্ধান্তকারি গুরুবাবা হিসেবে যুগে যুগে ক্ষমতার হাত বদল হতে হতে আধুনিক রাষ্ট্রে তা এসেছে আদালত নামক এক শক্তির কাছে। এবারে এই লেখা চিহ্নিত করে তুলেছে যে এই শক্তি আদতেই নির্মোহ নয়। সমাজের বেশ কিছু শাখা-প্রশাখা যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে সম্ভব এই আধুনিক বিচার প্রক্রিয়ার ওপর। মিডিয়া সমাজের দর্পণ তবে তাও নিরপেক্ষ নয়। ক্ষমতার সুতোর হাতেই নাচে সমাজের শ্বাসপ্রশ্বাস,চাহিদা ,কণ্ঠস্বর, হিংস্রতা, এবং বোধ। এবং সবচেয়ে বড় কথা হোল যে সমাজের ক্ষমতাশালী মানুষদের মধ্যে একটা অদৃশ্য সেতুবন্ধন ,নিজেদের অজান্তেই যা হয়ে যায়। কাউকে ঘুষ দিয়ে দলভারি করার প্রয়োজন পড়ে না। আপনা আপনিই সব খুঁটি সব গর্তে বসে যায়। এবং দোষী জানতেও পারেনা কেন ,কোথায় , কি করে সে সাজা পাচ্ছে। কাফকার ট্রায়াল সত্যি সত্যি মনে পড়ে যায়। প্রকাশকগোষ্ঠির সৈকতবাবুকে আন্তরিক ধন্যবাদ জোসেফ কের কথা ভূমিকায় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে।
এইটাই হয়ত ক্ষমতার প্রতিটি নির্মাণের আনুষঙ্গিকতা । ভেবে দেখলে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার কথা। ১৯৯০-২০০৪এর মধ্যে মিডিয়া ছিল নামেমাত্র এবং চব্বিশঘন্টা ব্যাপী নয়। তাতেও যদি ধনঞ্জয়ের বিচারের আগেই সাজা ঠিক হয়ে যায় আর বাকি সব উত্তর মেলানোর জন্যে উল্টোদিকের আঁককষা তাহলে ভেবে নিন আজকে ২০১৬ তে বা সামনে ২০২৬এ কি হবে বা হতে চলেছে।
এ লেখা এই জায়গা থেকেই কালজয়ী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দ্যাখায়। ধনঞ্জয়,হেতাল,পারেখ পরিবার, তাদের প্রতিবেশী, ধনঞ্জয়ের গ্রামের ভাই-বোন-স্ত্রী ,মরে যাওয়া বাবা-মা এবং উকিল,বিচারক,সাক্ষী,পুলিশ,ডাক্তার-করোনার,সমাজ এবং তদানীন্তন সরকার পক্ষের অবস্থান – এই সবকিছু ছাপিয়ে উঠে আসে প্রতিটি মানুষের দায়িত্ববোধ এবং জেগে থাকার দরকারি কথা।
গুরুচণ্ডালী এর আগেও বেশ কিছু অসাধারণ সংকলন বই ছেপেছেন।বাংলার নব্য প্রকাশনায় তাঁরা কলার তোলার দাবী করতেই পারেন। তাঁদের কাছে আমাদের মতন সাধারণ পাঠকদের চাহিদা বেড়েছে এবং আরও বাড়বে। অন্য যৌনতা এবং এই বইটার অন্ত্যত ইংরাজি অনুবাদ করার কথা ভাবতে অনুরোধ করব। মিডিয়া এবং শাসকের ক্ষমতার পাল্লা ২০০৪ এর পড়ে বহুগুণ বেড়েছে সমাজকে প্রভাবিত করে নিজ কূপের অন্তরে প্রবাহিত করতে । এই বছরের যুদ্ধের চাহিদা এবং যোগান নিয়ে এই দেশের অবস্থা আমাদের অজানা নয়। অজানা নয় আন্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে সমগ্র জাতির জনমত দেখিয়ে দেওয়ার নির্লজ্জ এবং মূর্খ তরঙ্গে জনগণের ভেসে যাওয়াও। সেখানে এই অনুবাদকর্ম গবেষক-লেখকদের কাজটার মূল দর্শন ছড়িয়ে দিতে কতটা প্রয়োজনীয় সেটা বলে বোঝাতে হবেনা।

শেষে লেখা থেকেই ২টো উদ্ধৃতি দিলাম। আশা করব প্রকাশকরা কিছু মনে করবেন না।

প্রথমটায় লেখকদের তির্যক রসবোধ খেয়াল করুন-

>> পারেখদের বাড়ির নিচে একটা জেনারেটর ঘর ছিল। ধনঞ্জয় কিন্তু সেখানে থাকত না। সে থাকত মনোরমা স্কুলে যা এই বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে। ধনঞ্জয় এই জেনারেটর ঘরে থাকত এটা প্রমাণ করতে পারলে তার খুনের পরপরেই পালানোটা জোরালো করে প্রতিপন্ন করা যায়।

“ হেতালের মা-বাবার পর সাক্ষ্য দিতে গিয়ে X1 আর X2 ও বলে যে ধনঞ্জয় জেনারেটর ঘরে থাকত। সিকিউরিটি এজেন্সির মালিক Y সেই সরকারি কাহিনীই সমর্থন করেন , তবে একটু অন্যভাবে। সব দিক বাঁচিয়ে তিনি বলেন, ধনঞ্জয় বিশ্রাম করত আনন্দ অ্যাপার্টমেন্টের জেনারেটর ঘরে আর X1 থাকত চক্রবেড়িয়া রোডের মনোরমা স্কুলে”।
ধনঞ্জয় কোথায় থাকত আর X1 কোথায় বিশ্রাম করত সে-কথা অবশ্য তিনি ভেঙ্গে বলেন নি। ”

দ্বিতীয়টা নিয়ে কিছু বলব না –

>> উপসংহারে

“ তার(ধনঞ্জয়) একমাত্র জোর ছিল সে নির্দোষ। শুধু এইটুকুর জোরে এতগুলো বড় বড় তরফের ইচ্ছার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ধনঞ্জয়ের সাধ্যে কুলোয়নি। নিরাপত্তা সংস্থা,পুলিশ, প্রসিকিউশান,আসামীর উকিল,আদালত- এরা সবাই একই সমাজের অংশ যার অস্থিমজ্জায় আছে নিরাপদে থেকে জীবনকে বইবার সংস্কার। প্রতিদিন যে-ভাবে যে কাজ যে স্বার্থে তারা বাঁধা গতে করে চলে, এক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয় নি।
... ধনঞ্জয়দের এরা চেনে না , তাই সম্ভব-অসম্ভবের স্বাভাবিক ধারণা ধনঞ্জয়ের বেলায় কাজে লাগায় নি”
...............
দেবাশিষবাবু,প্রবালবাবু,পরমেশবাবু এবং গুরুচন্ডালীকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা ।।

পুঃ WIKI তে ধনঞ্জয়ের পাতায় এই বই এবং তিন গবেষকদের কথা তুলেছি। ইংরাজি ভালো লিখতে পারিনা। প্রকাশনাগোষ্ঠী এবং লেখকদের অনুরোধ করব পরিমার্জন এবং পরিবর্ধন করে দেবেন wikiর পাতায়, সময় হলে আর কি। বৃহত্তর পাঠক সমাজ ইংরাজি অনুবাদের অপেক্ষায় রয়েছে- আর একবার জানালাম।


Name:  pi          

IP Address : 233.176.96.233 (*)          Date:04 Dec 2016 -- 01:41 PM

শিলিগুড়িতে উত্তরবংগ মেলায় মল্লার-অভিযানের ২৫ নং স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া যাবে শিলিগুড়ির দোকানে, মেলার পরেও।



Name:  pi          

IP Address : 233.176.60.175 (*)          Date:04 Dec 2016 -- 03:31 PM

--------------------------------------------------------------
গুরুর প্রাপ্তিস্থলের আপডেটঃ

http://www.collegestreet.net/index.php?route=product/publisher/info&pu
blisher_id=54


অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে রুবানশপেও ।
এছাড়াও, পাওয়া যাচ্ছে কলেজ স্ট্রীটে দেজ , দে বুক স্টোর, ধ্যানবিন্দু, অভিযান, বইচিত্র, ক্যাম্পে আর উবুদশের ঘরে। পাওয়া যাচ্ছে উল্টোডাঙ্গায় সুনীলদার স্টলে, রাসবিহারীতে কল্যাণদার স্টলে, যাদবপুরে এইট বিতে কাফে কবীরা ও এইট বির গেটের স্টলে। শিগগিরি চলে আসবে উত্তরে অশোকগড়ে ইচ্ছেডানায় আর উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়িতে ইকনমিক বুক স্টল ও আরো কিছু দোকানে। আসছে বিভিন্ন স্টেশনের স্টলগুলিতেও।
কোথাও না পেলে আমাদের একটু জানান। এখানে জানালেই হবে। আর আসা যাওয়ার পথে কোন জায়গা পড়লে, একটু যদি খোঁজ নিয়ে দেখেন, পাওয়া যাচ্ছে কিনা, তাহলে খুব ভাল হয়। কারণ বই অনেক সময় ডিস্প্লে হয়না, অনেক সময় দোকানে ফুরিয়ে যায় বা দোকানের কেউ হয়তো জানেননা বলে লোকজন ফিরে যান। আমরা জানতেও পারিনা। অনেকে তো আছেন, যাতায়াতের পথে একটু টুকটাক খোঁজ নিলে ও দিলে বইগুলো ঠিকঠাক অনেকের কাছে পৌঁছতে পারে। এই আর কি।


----------------------------------------------------------------


Name:  গুরুচণ্ডা৯          

IP Address : 176.62.53.94 (*)          Date:21 Dec 2016 -- 09:15 AM

'কামান বেবি'। আসলে কাম অন বেবি। বুড়ি সৌদামিনীর মনে হয় অনেকদিন আগে, তখনও চাঁদে মানুষ যায়নি, তখন এক সাহেব কালো ঘোড়ার ওপর থেকে তাকে ডাক দিয়েছিল -- কামান বেবি। তাকে টফি দিতে চেয়েছিল। আসলে এটা তাতু সরকারের জীবনচরিতও হতে পারে, আবার কাটামুন্ডের কথা বলার রহস্যভেদ ও একজন শব্দকুড়ানো ছেলের পয়মাল হওয়ার ইতিহাসও হতে পারে। সেখান থেকে এক টুকরো।
"...দোকানের সামনে গিয়ে দেখল সামনে একটা বেঞ্চ পাতা রয়েছে। বেঞ্চের ওপর তিনটে ঝুড়ি। ঝুড়ি ভেতরে চপ, বেগুনি আর পেঁয়াজি। দোকানের ভেতরে একপাশে উনুন জ্বলছে। কড়াই-এ গরম তেল। ঝাঁজরিহাতা দিয়ে একজন গরম পেঁয়াজি ভেজে ঝুড়িতে রাখছে। লোকটার ঠোঁটের এক পাশে জ্বলন্ত বিড়ি। কপালে খুব বড় টিপ, চুড়োখোঁপা চুল, লালশাড়িপরা একটা বউ কাগজে মুড়ে ভেতরে বেঞ্চেবসা লোকদের হাতে সেগুলো দিয়ে আসছে। ভেতরের লোকগুলো খুব জোরে জোরে কথা বলছিল। হঠাৎ শুনলে মনে হয় খুব ঝগড়া হচ্ছে বুঝি, কিন্তু মাঝে মাঝেই হাসি শুনলে বোঝা যায় মজার কোনও গল্প হচ্ছে।
অ্যাই, এখানে কী চাই তোর ? বউটা তাকে দেখেই বিচ্ছিরিভাবে জিজ্ঞেস করল। ভেতরের লোকগুলো চুপ করে গেল। একজন উঁকি মেরে তাকে দেখল।
জল খাব এক গ্লাস।
জল খাওয়ার আর জায়গা পেলি না। দাঁড়া, ওখানেই দাঁড়া।
নারানি, দেখেশুনে দিস। ভুল করে খোকাবাবুকে গরমজল দিস না আবার। ধক সামলাতে পারবে না।
নারানির জলে আর আগের মত ধক নেই। নারানিরও বয়েস হচ্ছে, ওর জলেরও ধক কমে যাচ্ছে। এদিকে রেট বেড়েই যাচ্ছে। সামনেও মারছে, পেছনেও মারছে।
সবাই একসঙ্গে হেসে উঠল। উনুনের পাশের লোকটা দু’আঙুলে বিড়ির গোড়াটা চেপে ধরে খুব জোরে একটা টান দিল। তারপর সামনে ছুঁড়ে ফেলল। হক্ক হক্ক করে অনেক বার কাশল। একদলা কফ পাশের কাঁচা নর্দমায় নির্ভুল ভাবে ফেলল। সে তাকিয়ে দেখল বিড়িটা নিভে গেছে। কিন্তু লোকগুলোর কথা সে কিছুই বুঝতে পারছিল না।
তো যা না হারামি, যেখানে কচিদোকানি আছে, সেখানে গিয়ে ঝেড়ে আয়। আমার ঘরের মেয়েগুলোর জন্য চাদরে মুখ ঢেকে আসিস কেন। সেখানে গিয়ে গিলে আয়। তারপর হাসপাতালে গিয়ে মর। বেইমান। এই তোর জল খাওয়া হয়নি ? হা করে কী শুনছিস ?
খোকাবাবু, এবার তাহলে বাড়ির দিকে হাঁটো। এখানে বায়ু একটু ওপরে ঘুরছে। আরেট্টু লম্বা হও, তখন এসো। নারানিমাসি তোমাকে কোলে তুলে বড় বড় কত কিছু খেতে দেবে"।

প্রকাশিতব্য উপন্যাস, বিপুল দাসের 'কামান বেবি'।
এই ২৪ তারিখ। যাদবপুর এইট বিতে কাফে কবীরায়। সাড়ে তিনটে থেকে।
সবার নেমন্তন্ন।


https://s23.postimg.org/tp56jbsij/poster2_kb.jpg



Name:  গুরুচণ্ডা৯          

IP Address : 52.110.178.163 (*)          Date:21 Dec 2016 -- 06:06 PM

".... আমাদের প্রথম রেকর্ডিং মনে পড়ে গেল। কলকাতার হদ্দ দক্ষিণ নাকতলা থেকে চরম উত্তর দমদমে এইচএমভি স্টুডিওতে যেতে ট্যাক্সি আর ট্রাফিকেই আধা দিন কেটে গেল। পথে রঞ্জনদা আর আমি নেমে গেলাম এন্টালির কাছে, কারণ আমাদের একটা কিবোর্ড ভাড়া করার কথা। কিবোর্ড দাদার কাছে গেলে বললেন দাদাকে সঙ্গে না নিলে কিবোর্ড পাওয়া যাবে না সুতরাং গামছা হাতে নিয়ে বললেন অপেক্ষা করুন “একটু চ্যান টা ছেড়ে আসি”। এদিকে মণিদা, বুলাদা, বাপিদা, ভানুদা, আর এব্রাহাম স্টুডিওতে চলে গিয়ে আমাদের প্রতীক্ষায়। যাহোক অনেক দেরিতে কিবোর্ড ও দাদাকে নিয়ে এইচ এম ভি স্টুডিওতে পৌঁছে দেখি ওখানে অন্য “চ্যানের” ঝরনা আরো দেরি করতে চলেছে। অনেক সময় কাটলো মাইক অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে। আমরা যত বলি যে প্রতিটি যন্ত্র যেন গলার মতো সমান গুরুত্ব পায় – স্টুডিও দাদারা তত আমাদের বুঝিয়ে দেন ওনারা কত বড় বড় শিল্পীদের রেকর্ডিং করেছেন, সুতরাং আমাদের মতো ছোট মাছদের রেকর্ডিং করাটা কোনো ব্যাপারই নয়। শেষে তাড়াহুড়ো করে সিঙ্গেল টেকে সব রেকর্ডিং। সত্যি কথা হলো মহীনের তিনটে রেকর্ডেই এক আপোষ করা আওয়াজ। এ দুঃখ আমার এখনও যায়নি। কলকাতা দূরদর্শন থেকে আরম্ভ করে স্টার থিয়েটার পর্যন্ত সব অনুষ্ঠানেই ভুগতাম মহীনের সাব-অপটিমাল মার খাওয়া আওয়াজে – গলা ছাড়া সব যন্ত্রগুলোকে শোনা যেত শর্ট ওয়েভ রেডিও-র মতো মাঝেসাজে। মনে হতো এস্টাব্লিশমেন্টরা কেমন আমাদের মার খাওয়া আওয়াজে আরো মেরে ফেলছে। এখন ভাবি এখানে কোনো ষড়যন্ত্রের ব্যাপার ছিল কিনা, কে জানে। ...."


রচনাঃ "মেট্রো স্টেশনের নাম ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’"
লেখকঃ বিশ্বনাথ (বিশু) চট্টোপাধ্যায়

বইঃ অ(ন)ন্য মহীন (১)

দ্বিতীয় সংস্করণ



Name:  sumeru          

IP Address : 124.29.227.181 (*)          Date:22 Dec 2016 -- 12:37 AM

বাহ বাহ। এই বই এগিয়ে চলুক। শুভেচ্ছা।


Name:  ranjan roy          

IP Address : 176.62.53.94 (*)          Date:22 Dec 2016 -- 12:18 PM

দুটো বইই তৎক্ষণাৎ খাবলে তুলে নিয়ে ঝোলায় পোরার মত।

পাই,
কবীরায় এই বইটাও কি ২৪শে পাওয়া যাবে?


Name:  pi          

IP Address : 52.110.165.225 (*)          Date:22 Dec 2016 -- 12:30 PM

সব বইই থাকবে।


Name:  গুরুচণ্ডা৯           

IP Address : 176.62.53.94 (*)          Date:22 Dec 2016 -- 02:02 PM

'...আমি লাফ দিয়ে উঠে বাইরে যেতে চাইছি আর পশুপতি আমায় জাপটে ধরে অন্যদের চিৎকার করে বলছে দরজা বন্ধ করে দিতে। আমি জানালার দিকে ছুটে গেলাম, এক ঝলক দেখতে পেলাম চার-পাঁচ জন ওয়ার্ডার দেবুকে মাটিতে ছ্যাঁচ্‌ড়াতে ছ্যাঁচ্‌ড়াতে হাসপাতালের দিকে নিয়ে গেল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আরও পাঁচ-ছ জন ওয়ার্ডার পরিতোষকে টানতে টানতে নিয়ে এল আমাদের ওয়ার্ডের সামনের শান বাঁধানো জায়গাটায়। দুজন পরিতোষের হাত আর পা টান করে ধরে রইলো আর বাকিরা খুব মোটা লাঠি দিয়ে পরিতোষের উপর রুটি বেলার মত করে বেলতে লাগল। আমাদের চোখের সামনে পরিতোষ একটা কেঁপে কেঁপে ওঠা মাংসপিণ্ড হয়ে গেল। কতক্ষণ ধরে জানিনা তবে পরিতোষ যতক্ষণ একটুও কাঁপছিল সারা জেল জুড়ে শরীরের সব শক্তি দিয়ে আমদের অসহায়তা ক্রোধ হয়ে ফেটে পড়ছিল - শহিদ পরিতোষের প্রতিটি রক্তবিন্দুর বদলা চাই।..


কারাগার, বধ্যভূমি ও স্মৃতিকথকতা
কল্লোল

তৃতীয় সংস্করণ



Name:  গুরুচণ্ডা৯           

IP Address : 176.62.53.94 (*)          Date:22 Dec 2016 -- 10:10 PM

আগরতলা বইমেলায় অক্ষরের বইঘরের স্টলে গুরুর বইপত্তর আছে। চলবে সামনের হপ্তাতেও ।


Name:  গুরুচণ্ডা৯           

IP Address : 176.62.53.94 (*)          Date:22 Dec 2016 -- 11:33 PM

শিলিগুড়ি, বর্ধমান মেলার সাথে সাথে সাথে আরো কিছু মেলায় গুরু থাকছে। সামনের হপ্তায় তিনসুকিয়ার মেলাতেও, বইঘরের সাথে।


Name:   সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়           

IP Address : 176.62.53.94 (*)          Date:24 Dec 2016 -- 06:51 AM

আসুন ক্যাফে কবীরায়। বইমেলাও তো ঘনিয়ে এল প্রায়।


https://www.youtube.com/watch?v=_BDQeVc6QHk


Name:   গুরুচন্ডালি           

IP Address : 127.194.0.195 (*)          Date:01 Jan 2017 -- 11:43 AM

পুরুষ এবং নারীর একমাত্রিক যৌন আখ্যানের আড়ালে অজস্র দৃশ্যের জন্ম হয়। জন্ম হয় পাওয়া, অপ্রাপ্তি,নিঃসঙ্গতা এবং বেদনার। "আমার যৌনতা"র এই দ্বিতীয় সংস্করণে আরও বড়ো আকারে নিজেদের এসব অভিজ্ঞতা, অনুভূতির কথা লিখেছেন এইসব মানুষরা, যাঁরা “স্ট্রেট” নন।'

দ্বিতীয় সংস্করণ, শেষের পথে।


https://s27.postimg.org/im4tu24er/amar_jounata.jpg

প্রচ্ছদঃ সায়ন কর ভৌমিক


Name:   গুরুচন্ডালি           

IP Address : 127.194.0.195 (*)          Date:01 Jan 2017 -- 12:22 PM

অ(ন)ন্য মহীন (১) এ দেবজ্যোতি মিশ্রের লেখা থেকে কিছু অংশ ঃ

'সত্তরের দশক এক আগুন লাগার দশক। আগুনে পুড়ে যাওয়া, স্বপ্ন ছাই হয়ে যাওয়ার দশক। সত্তরের দশক, সেই আগুনে পুড়ে যা ছাই হলনা, যা সোনা হয়ে উঠল, সেই কবিতার দশক, যেখানে আমরা পরপর পাই কবিদের -- জয় গোস্বামী, শ্যামলকান্তি দাস, মৃদুল দাশগুপ্ত, সুব্রত সরকার, গৌতম চৌধুরি, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সত্তর লিটল ম্যাগাজিনের বেড়ে ওঠার দশক। সেই দশকেই খাঁটি সোনা বেরিয়ে এসেছিল আগুনে পুড়ে। সেই এক বিশেষ সময়ে সোনা হয়ে ওঠার স্বপ্ন হবার দেখিয়েছিল যা, তা হল নতুন গান, তাজা গান, জ্যান্ত গান। সময়ের গান, সময়কে পেরিয়ে যাবার গান।
সত্তর পেরিয়ে আজ ২০১৫। কিন্তু সেই সমস্ত গান শুধু স্মৃতির মনিকোঠায় জায়গা নিয়েই নিশ্চিন্তে থেকে গেছে তা নয়। বরং কোনো নতুন কবির লেখনীতে কিংবা আজ যাঁরা গাইছেন, তরুণ প্রজন্ম, তাদের মূল অনুপ্রেরণা হয়েই থেকে গেছে সেসব। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, মহীনের গানের উত্তরাধিকার নিয়েই চলছে আজ সব কিছু। আর সেই মহীনের মোহিনী বাঁশিটি বাজিয়েছিল যে, সে যেন বিটলসের জন লেনন। হ্যাঁ, বিটলসে জন লেনন দর্শনের জায়গা থেকে যে জায়গা নিয়েছিলেন, মহীনের ক্ষেত্রেও গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকাও ছিল সেরকম।
কিন্তু আজ মহীন যে প্রবাদপ্রতিম মহীরুহ, সত্তরের দশকেই সে নিজের সেরকম জায়গা করে নিতে পেরেছিল বললে ভুল হবে। সত্তরে তাকে সহ্য করতে হয়েছে আগুনের দহন, পুড়ে সোনা হবার যন্ত্রণা। আসলে সৃষ্টির সবচেয়ে বড়ো যুদ্ধ নিজের সময়ের সঙ্গে, আর সময় বড়ো নিষ্ঠুর সমকালীনের সাথে। তাই পুড়ে যা সোনা হয়ে উঠছে ক্রমশ, তাকে নিয়েই ‘ছাইভস্ম কী হচ্ছে সব’ বলে তুমুল কলরব তুলেছিল সমসাময়িকতাই। আবার মজা হল, সেই বহমান সময়ই কোনো এক ভবিষ্যতের প্রান্তে দাঁড়িয়ে সমকালীনতার নিষ্ঠুরতার হাত থেকে কোমল হাতে তুলে এনেছিল তাকে। এইসব গানই তাই সময়কে ছাপিয়ে যেতে পারে, বিদীর্ণ করে চলে যেতে পারে, তৈরি করতে পারে প্রকৃত উত্তরাধিকার।


সত্তরের দশকে, তখন সাতাত্তরই বোধহয়। আমি প্রথম মহীনের গান শুনলাম আমার বন্ধু বরুণ এবং মহারাজ, এদের কাছে, যারা আত্মীয়তা এবং বন্ধুত্বের সূত্রে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। তখন সদ্য আমার ভায়োলিনবেলা, অনেক পরিশ্রম করে বাবা এবং গুরুদের কাছে শিখছি। জীবনের সেই শুরুর দিনগুলোয় এরাই আমাকে প্রথম দিয়েছিল সেই মোহিনী মন্ত্র, যা আজ অনুভব করি, আরও উদার, আরও আলোয় বুকের ভিতর ধুকপুক করে -- ভালোলাগার কামরাগুলো পেরিয়ে সে এখন আরও উত্তেজনাময়, আরও জীবন্ত। ইতিহাসের ইট দিয়ে গাঁথা প্রত্নতত্ত্ব নয়, সমকালীনতার সুর দিয়ে মহীন আমাকে ছুঁয়েছিল। জীবন উজ্জীবনের গল্পে আমাদেরকেও দোসর করেছিল। আজকের সুখস্মৃতি নয়, সেই সময়ই আমি তাদের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যেতাম, বিস্মিত হতাম। কী ছিল বয়স, তখন তো আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে রয়েছে সলিল চৌধুরির গান । কিন্তু কী ছিল গানে, যা বলল, উত্তরাধিকার যাই থাকুক এই নতুনকে বুকে জড়িয়ে নাও। পতঙ্গরা যেভাবে আগুনের দিকে ধায়, সেভাবে ছুটে গিয়েছিলাম্ আমরা। ওদের রিহার্সালে যেতাম প্রায়ই। কী অদ্ভুত রিহার্সাল করত ওরা, আমাদের তার সঙ্গে কোনো পরিচয় ছিলনা। কী অদ্ভুত জায়গায় ঘটেছে সেসব কান্ডকারখানা। সদর স্ট্রিটের এক গাড়িবারান্দায় তুমুল রিহার্সাল চলছে বিসর্জনের (হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন)। ছুটে গিয়েছি বন্ধুরা। আমি মহরাজ, বিতান, বুবু। আমরা কীরকম ভাবে পিছু নিতাম ওদের কনসার্টে। গিয়ে যেন মনে হত, এই তো, এই তো আমাদের গান। এইভাবেই তো ভাবতে চাই। কিন্তু বয়সে আমরা অনেক ছোটো। এখন দেখলে বুঝতে পারি, আসলে সামগ্রিকভাবে তখন নির্মানের পথ পেরিয়ে এক পুনর্বিন্যাস চলছিল। মহীন তখন শুধু গান নয়, তাদের সমস্ত আর্টফর্ম নিয়ে কাজ করছে। ভাবছে কীকরে জীবনকে ছোঁয়া যায়, কীকরে জীবনের কথা বলা যায়। ক্লাসিকসকে নিয়ে কীকরে, তার মূলকে রেখে ফর্মকে ভাঙা যায়। নাটক, সিনেমা, গান সমস্ত কিছুকে নিয়ে তাদের সেই সময়ের যে কাজ, তা আজ এক বিরাট বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। বলাবাহুল্য, বটবৃক্ষের দায়িত্ব আছে অনেক, সবকিছুকে ছায়া দেবার। সে কখনও কোনো তুচ্ছতাকে দেখে না। তার দায় নেই ছোটোখাটো বালখিল্য তুচ্ছতা, ত্রুটিকে দেখার। তাচ্ছিল্যের বিনিময়েও সে দেয় আদর, ভালোবাসা। প্রশ্রয় দেয় ছেলেমানুষী উক্তিকে। তাদেরকেও সে অকাতরে ছায়া দেয়, যারা তার পিতৃত্বকে অস্বীকার করছে।
এসব পরের কথা, কিন্তু সেদিন, সেই শুরুর দিনে মহীনের ছোট্টো চারাগাছের মধ্যেই কিন্তু দেখা গিয়েছিল এই বটবৃক্ষের চিহ্ন। সেই ছোটো চারাটির মধ্যে নিহিত ছিল সেই সবকিছু যা একদিন রূপকথার গল্পকে ছাপিয়ে যাবে, বড়ো রাস্তার্ মোড়ে হাত ধরে দাঁড় করাবে গানকে, চেনাবে ইতিহাসকে। আমাদের নগরজীবনের সঙ্গীত, যা আছে আমাদের্ ধ্রুপদী ঘরানায়, যা আছে উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে ইউরোপের সঙ্গীতের ছায়ায়, যা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আমাদের প্রাপ্তি, যে প্রাপ্তি আমাদের সলিল চৌধুরির হাত দিয়ে, তাকে বিনির্মানের মধ্য দিয়ে আবার নতুন ভাবে মানুষের গান করে, মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে, নতুন ভাষায় তাকে প্রকাশ করার সাহসের মধ্য দিয়ে।
একটু খোলসা করে বলি। গান আবহমান। গানে কোনো দেশ নেই। যেমন পাখির কোনো দেশ নেই। গানেরও তেমন থাকেনা। সে সমস্ত বাধা পেরিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরে গান হাত ধরে গানের, গান গানের চোখ মুছিয়ে দেয়, গান গানকে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে। তদের গল্প হয়। তারা ঘর বাঁধে। সেখন থেকে আবার গানের জন্ম হয়। এই তো আদি অনন্ত কাল ধরে চলেছে পৃথিবীতে। গানের এই অনন্ত পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে সত্তরের দশক বাংলাকে কী দিল? দিল গানের ভিতর বেঁচে থাকার, গানের ভিতর জীবনকে উজ্জাপনের মন্ত্র। চল্লিশের দশকে কল্লোলের উচ্চকিত ঘোষণায়, জীবনানন্দ, বিষ্ণু দে,বুদ্ধদেব বসুর মতো কবিদের উদ্ধত পদচারণায়, যে কবিতা তৎকালীন গানের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল, এই সত্তরে দশক সেই পৃথিবীর কবিদের ছায়া পড়ল গানে। গানের ভাষায়, গানের প্রকাশে আমরা শুনতে পেলাম নতুন হারমনি, নতুন অ্যারেঞ্জমেন্ট, এবং শুধু আর বাংলা নয়, শুধু ইউরোপিয়ান্ ক্লাসিকস নয়, গানের গা বেয়ে এঁকে বেঁকে চলল, গানে এসে ঢুকল রক, ব্লুজ, জ্যাজ, কান্ট্রি -- ফ্লেমিংকো আর লাতিনোর পৃথিবী মিলে মিশে গেল। নিপুণ ভাবে গৌতম চট্টোপাধ্যায় এই সব কিছুকে গাঁথলেন নিজস্ব ঘরানায়, মহীন ঘরানায়(অবশ্যই তাঁর সঙ্গী সাথীদের কুর্নিশ করতে হয়, কারণ এই নেতৃত্বকে তাঁরা শিরোধার্য করেছিলেন)। বাংলা গান আরও প্রবল হল প্রখর ও তীব্র হল। নস্টালজিক না হয়েও কীভাবে সারা পৃথিবীর ঋণ স্বীকার করা যায়, কিকরে স্মৃতিমেদুরতাহীন পিতৃতর্পণ করা যায়, মহীন দেখাল তার ‘হায় ভালবাসি’ গানটিতে। ‘ভালোবাসি পিকাসো বুনুয়েল দান্তে/ বিটলস ডিলান আর বেটোফেন শুনতে/রবিশংকর আর আলি আকবর শুনে/ভালোবাসি ভোরে কুয়াশায় ঘরে ফিরতে’ -- পাঠক মার্জনা করবেন, এ তর্পণ এমন গভীর এক তর্পণ, ভারতীয় সঙ্গীতে সারা পৃথিবীর প্রবাহকে গ্রহণ করার যে ক্ষমতা, তা আর কারো গানে, কোনো তর্পণে উচ্চারিত হয়নি। এই সুরে যে হারমনি বেজে উঠল আমি একজন সলিল শিষ্য, সলিল অনুরাগী হয়েও বলতে পারি, এই হারমনি স্ট্রাকচার কিন্তু আমাদের ধারায় ছিলনা। আমরা সকলেই বিপ্লবের উত্তরাধিকারী। কোনো বৈপ্লবিক কর্মকান্ড না ঘটলে আমরা তার উত্তরাধিকারী হয়ে উঠতে পারিনা। সাতের দশক গানের্ জগতে পশ্চিমে যা ঘটেছিল, তা সমস্ত কিছু নিজস্ব হয়ে ওঠার দাবী রাখল মহীনের গানে। এই হারমনি, এর গঠন, এই অ্যারেঞ্জমেন্টের গঠন, আজকে যদি বলি, এর দেশ কোথায়? মহীনের গান শুনে এর একটি দেশ নির্ধারণ করা কঠিন। এ গান কখনও লালনের পায়ে মাথা ছুঁইয়েছে। অ্যাবে রোড পার করছে বিটলসের যে চার যুবক, রাস্তা পার হয়ে কোনো এক ভবিষ্যতের মোড়ে তারাও যেন কখনও ছায়ার মতো এসে হাত ধরেছে মহীনের। এভাবেই লম্বা দৌড়ের ব্যাটন আসছে পরের প্রজন্মের হাতে, মহীনও যে দৌড়ের অংশীদার। ‘বাঁশি তোমায় দিয়ে যাব কাহার হাতে?’ রবীন্দ্রগানের এ প্রশ্নের উত্তরেই যেন একসময় মহীনের বাঁশিও চলে আসবে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। অনুজদের দিয়ে যেতে পারার মধ্যে যে অনাবিল আনন্দ, মহীনও তার অংশীদার। সে দুহাতে নিয়েছে পৃথিবী থেকে, আর অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে সারির পরের মানুষগুলিকে। এ এক দূরপাল্লার যাত্রাপথ, লিগাসিকে স্বীকার করে, এবং অস্বীকারের মধ্যেও মূলসুরটিকে বজায় রেখে, যা নিয়েছি দিয়ে যেতে হবে এখানে।
হায় ভালোবাসি গানটির সুর শুনলে আমরা সলিলের উত্তরাধিকার চিনতে পারি এর হার্মনিক প্রগ্রেশানে। প্রথম কটি পংক্তির সুররচনায় পাওয়া যায় সলিলের এক মিউজিকাল কোট। এবং তার পরেই গানটি নিজস্ব দাপট ও স্বাক্ষর সহ ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘যখন দেখি ওরা কাজ করে/মাঠে বন্দরে’র নিজস্বতায়। এই নিজস্বতাই গণচেতনা ও গণআন্দোলনের গাথাকে দেয় নিজসময়ের উত্তাপ। কোনোরকম বিভ্রান্তির অবকাশ না রাখার জন্য এখানে বলা দরকার, যে, গণচেতনা মহীনের একার বিষয় নয়, যেমন নয় একা সলিল চৌধুরির। সলিল এই গণচেতনার উত্তরাধিকার পেয়েছেন নজরুলের কাছ থেকে, মহীন যেমন পায় সলিলের থেকে। এবং একই সঙ্গে সে সরে আসে সলিল থেকেও, কারণ, পৃথিবীর সমস্ত বিপ্লবের উত্তরাধিকার সহ সে নিজস্ব সময়ের ছাপ আলাদা করে রাখে, কথায় ও সুরে। আরও স্পষ্ট করে বললে, গণচেতনা, গণবিপ্লব বিশ্বের নানা চিন্তার মধ্যে আছে, যেমন আছে সলিলের মধ্যে তেমনই মহীনের গানেও। মানবমুক্তির কথা, মানবচেতনার কথা, শ্রমজীবন, মুক্তির কথা বলা আছে মহীনের গানেও, কিন্তু তার প্রকরণ আলাদা। ‘হেই সামালো’ থেকে, ‘ঢেউ উঠছে কারা টুটছে’ থেকে সরে এসেছে সে। যখন সে বলছে ‘সুদিন কাছে এসো’, তখন তার মধ্যে এক গভীর অনুশোচনা দেখা যায়, যে, এখনও আনতে পারিনি সুদিন। এই সুরটি সলিলে অনুপস্থিত।
এই সুরের মধ্যে এক ধরণের ল্যামেন্ট আছে। সে শুধু বিপ্লবের কথাই বলেনা, এক ধরণের বিলাপগাথাও গেয়ে যায়। তীব্র বিষণ্ণতার সঙ্গে গণচেতনাকে সে জড়িয়ে দেয় সুরে, উত্তরসূরী হয়ে ওঠে জীবনানন্দীয় গাঢ় বেদনারও। জীবনানন্দের কবিতার মর্মে যে বেদনার অক্ষরগুলি থাকে তা সুর হয়ে ওঠে গানে, অক্ষরের মর্মবেদনা যেন স্বরলিপিতে ধরা পড়ে মহীন সঙ্গীতে। বিপ্লব না আসার যন্ত্রণা, বহুবছরের অপেক্ষা, সময়ের বৃষ্টির মতো এসে পড়ে গানে। ‘সুদিন কাছে এসো’ আর বিপ্লবের গান থাকেনা, এই আকুতি বিরহের আকুতিতে পরিণত হয়, বিপ্লব আর প্রেম এখানে এখানে একাকার হয়ে যায়।
সুধী পাঠক জানেন, এই গানটির আগে এক অনন্য ভায়োলিন প্রিলুড বাজানো আছে। এ এক এমন কম্পোজিশন যার হাত মুষ্টিবদ্ধ, কিন্তু চোখ দিয়ে দরদরিয়ে ঝরে জল। আমি একজন ভায়োলিনিস্ট হয়ে, নিজের শোনা এবং জানার ভিত্তিতে একথা বলতে পারি, যে, ভারতবর্ষ থেকে উঠে আসা গানে আমি এইরকম কম্পোজিশন কখনও কোনোদিন শুনিনি। এই ভায়োলিনের সুরে কী ছিল?...'




Name:   গুরুচন্ডালি           

IP Address : 233.176.2.168 (*)          Date:09 Jan 2017 -- 09:29 AM

তৃতীয় সংস্করণ আগের বইমেলাতেই শেষ হয়ে গেছিল।

এই বইমেলায় আসতে চলেছে চতুর্থ সংস্করণ। সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাম্বার।

'হাম্বা কী?
আমরা পন্ডিতদের সম্মান করি, আঁতেলদের ভয় পাই, পুলিশকে স্যার বলি, ঝাঁকড়াচুলো ব্যান্ডবাদক আর ক্যাটখুকিদের ফাটবাজি দেখে কুঁকড়ে যাই। আমরা লেখালিখি বলতে মাস্টারের নোটবই বুঝি, আইন বলতে পুলিশের ধাতানি। আমরা উড়ালপুলকে উন্নয়ন বলি, মার্কসবাদকে প্রগতি। আঁতলামি বলতে গোদার বুঝি আর (সুইট ইংলিশে) হাউ-আর-ইউ-ডুয়িং বলাকে স্মার্টনেস। আমাদের যাপন মানে চর্বিত চর্বন। জীবন মানে মেগা-সিরিয়াল। পরিশীলন মানে গরু রচনা।
এই পরিশীলন নামক গরু রচনার বিরুদ্ধে গরুদের এক নিজস্ব বিদ্রোহের বুলি হল হাম্বা। হাম্বা একই সঙ্গে নিপীড়িতজনের দীর্ঘশ্বাস এবং হৃদয়হীন জগতের হৃদয়। একই সঙ্গে অভব্যতা ও আকাটপনা। হাম্বা বিদ্রোহের এক গোপন কোড। আত্মাহীন অবস্থার আত্মা, জনতার আফিম।
গরু রচনা আমাদের ভবিতব্য হলেও হাম্বাই আমাদের ভিত্তি। হাম্বা সর্বশক্তিমান, কারণ ইহা হাম্বা।
হাম্বা কেন?
এই বইকে কেউ ভুলেও ফুক্কুড়ি ভাববেন না। এটি আসলে একটি গম্ভীর প্রবন্ধ সংকলন। এর প্রতিটি লেখাতেই হাইভোল্টেজ ফিলসফি আছে। লেখাগুলিও এলোপাথাড়ি সাজানো হয়নি। একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই বেছে নেওয়া হয়েহে এই চারটি লেখা। প্রথম লেখা কঞ্চটিতে পাবেন গরু রচনার উদাহরণ, যা আমাদের ভবিতব্য। ক্রমশ, খেয়াল করলে এদের মধ্যে দূরাগত হাম্বাধ্বনিও একটু একটু করে স্পষ্ট হবে। আর শেষ লেখাটিতে এসে খুঁজে পাবেন গরু রচনার মধ্যে হাম্বাকে, ভবিতব্যের মধ্যে ভিত্তিকে গুঁজে দেবার তাত্ত্বিক প্রকল্প। দেখবেন, গরু রচনা ও হাম্বার মধ্যের পার্থক্য ক্রমশই কমে আসছে।
লোকে যতই ভাট বলুক, এ সবই সিরিয়াস তত্ত্বকথা। এই বই আসলে গরু রচনার মধ্যে অপরিশীলিত হাম্বাধ্বনিকে গুঁজে দেবার সুচিন্তিত ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট। জাবর-কাটায় ব্যস্ত কোনো তরুণী গবেষিকা, সমাজবিদ্যা মুখস্থরত কোনো কলুর বলদ, সুট-কোট-টাই পরে ঘানি-টেনে-যাওয়া কোনো ঘ্যামা এক্সিকিউটিভ এই বইখানি পড়ে কোনো এক বসন্ত বিকেলে পড়ন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে আপনমনে হাম্বা বলে ওঠার সাহস সঞ্চয় করতে পারবেন, আশা এরকমই।
'


Name:   গুরুচন্ডালি           

IP Address : 233.176.105.224 (*)          Date:10 Jan 2017 -- 02:54 AM

'এখানে একটা কনফিউশন তৈরি হতে পারে, যে, ন্যানো প্রসঙ্গে বারবার ১৯৯৬ সালের কথা আসছে কেন। ন্যানো তো ২০০৬ সালের কারবার, বিশুদ্ধ নিউজ চ্যানেল সিদ্ধান্ত মতে যখন সিঙ্গুরের ইতিহাসের সূচনা হল। সিঙ্গুর বাজার থেকে মাইল দুই দূরে শুরু হল যুগান্তকারী টাটা কারখানার কাজ। টাই পরা কর্পোরেট জেন্টলমেনদেরকে ঝাঁটা ও জুতো নিয়ে তাড়া করল বিক্ষুব্ধ কৃষককুল। পরবর্তী দুইবছরে কড়ক্কড় বাজ পড়িল, কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি হইল, বঙ্গের ভাগ্যাকাশে লোডশেডিং হল, একযোগে শুরু হল শিল্পবিপ্লব এবং কৃষকবিদ্রোহ। কৃষি থেকে শিল্প হল, টিভিচ্যানেল ফুলে কলাগাছ হল, রাজায়-রাজায় জোরদার পাঞ্জা লড়াই শেষে ঘুড়ি উড়ল বাঙালিটোলায়, বেড়াবেড়ি-বাজেমেলিয়া-গোপালনগর-ছআনি-রতনপুর ইত্যাদি অশ্রুতপূর্ব বিচিত্র নামে ভরে গেল জগৎ চরাচর, চ্যানেলে চ্যানেলে দেখা গেল লাল-নীল ন্যানো গাড়ি আর বেচারাম মান্নার মুখ। কলকাত্তাইয়া আঁতেলদের মতে, এই হল সিঙ্গুরের ইতিহাসের সূচনাবিন্দু। বিগ ব্যাং। প্রথম আদি তব সৃষ্টি। ইহার পূর্বে ছিল অন্ধকার। মধ্যযুগ। অবাঙ্‌মানসগোচর ইতিহাসহীনতা। ব্ল্যাকহোল ও সিঙ্গুলারিটি। এইসব।
পরিষ্কার বলে রাখা ভালো, এসব মূলত কলকাত্তাইয়া আঁতেলদের কনফিউশন। যাঁরা সমাজবিজ্ঞানী ও বিদেশফেরত, টিভিতে মুখ দেখান ও একে অপরের সঙ্গে ঝাড়পিট করেন, কলেজে ও ইউনিভার্সিটিতে দেদার লেকচার দেন, কিন্তু ইতিহাসের কিস্যু জানেননা তাঁরাই এই কনফিউশনের জনক। এই মেনলি নিজভূমে-পরবাসী স্পিসিসের জন্য ঝট করে জানিয়ে দেওয়া যাক, যে, ওসব শহুরে গুজবের এই লেখায় কোনো জায়গা নেই। ওসব আতুপুতু আদিখ্যেতা জানতে হলে খবরের কাগজ পড়ুন গে। এদিকে আসবেননা। এ হল লিমিটেড এডিশন ঠাকুরমার ঝুলি, বিশুদ্ধ ন্যানোপুরাণ, সিঙ্গুরবাসীদের জন্য লিখিত সিঙ্গুরবাসী বরদাচরণ রচিত সিঙ্গুরের ভূমিপুত্রের ইতিহাস, এ খাঁটি দিশি মাল টাগরায় জোর থাকলে তবেই খাওয়া যাবে।'


শারদীয়া প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়েছিল, এবার বইমেলায় বই আকারে আসতে চলেছে।


Name:   গুরুচন্ডালি           

IP Address : 233.176.18.99 (*)          Date:11 Jan 2017 -- 10:55 AM

এ সেই ১৯৯৬ সালের মে মাসের কথা, যখন কথা নেই বার্তা নেই, দুম করে ন্যানো আবিষ্কার হয়ে গেল। আবিষ্কারটা ওই সময়ে হবার কথাই ছিলনা, কারণ উচ্চফলনশীল শাকসব্জি যেমত রবিশস্য সাধারণত শীতে ফলে। কিন্তু শীত হোক বা গ্রীষ্ম, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ন্যানো আবিষ্কার ১৯৯৬ সালের কথা। কলেজ ইউনিভার্সিটির পণ্ডিত, টিভি চ্যানেলের পার্ট-টাইম পাল্টিবাজ, রঙচঙে সিরিয়াল থেকে দুম করে গাড়ি বিশেষজ্ঞ হয়ে যাওয়া অভিনেতারা, যাঁদের ধারণা ন্যানো ২০০৬ সালের কেচ্ছা, নিঃসন্দেহে সবাই পরীক্ষায় গোল্লা।


https://s27.postimg.org/9cl8xl6ir/nano3png.png


Name:  pi          

IP Address : 174.100.177.10 (*)          Date:19 Jan 2017 -- 03:50 PM

ফেবুস্মৃতি ভাসিয়ে নিয়ে এল। ২০১২ র লিটল ম্যাগ মেলায়। ছাপা গুরু তখন গুটিগুটি হাঁটছে। নেট থেকে কেন ছাপা পত্রিকা, বাংলা প্রকাশনার সমস্যা ইত্যাদি প্রভৃতি নিয়ে সৈকতদার, ঐ যাকে বলে বক্তৃতা। যারা শোনেনি আগে, তাদের জন্য।


https://www.youtube.com/watch?v=SchJ1gpEIl4


Name:  সৌভিক          

IP Address : 57.15.18.35 (*)          Date:19 Jan 2017 -- 10:24 PM

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাণ্ডবদাহন সেই সময়ের আখ্যান যখন বইমেলা পুড়ে যায়। দেরিদা কোলকাতায় আসেন, বক্তৃতা দেন। মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান কারণ ইহা বিজ্ঞান দেওয়ালে লেখা হয়, কিন্তু যারা লেখে তারাই মানে না। সোভিয়েত ভেঙে যায়, ধারা পালটায় মাও সে তুং এর চিন। কারো কারো মনে হয় মার্কসবাদ ধরতে পারছে না আজকের ওয়ার্ল্ড অর্ডারকে, বুঝতে হবে উত্তর আধুনিকতার টুলগুলি দিয়ে। কারো কারো এত আশা ভরসাও নেই। এক মহাদর্শনের প্রস্থান হয়েছে, মঞ্চে আর কোনও মহা শক্তিধর আবির্ভূত হতে পারে নি মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে। ইতস্তত তাই কথন আর বয়ানের ফাঁক খুঁজে ফেরা। বুনোটকে ফাঁসিয়ে যাওয়া।
আবার এই একই সময়ে বিপ্লবী মন ঘুরে দাঁড়াতে চায়। বলে যায় পোস্ট মর্ডানিজম ইজ দ্য কালচারাল লজিক অব লেট ক্যাপিটালিজম। বিপ্লব যদি নাই বা আগামী ক্ষণের বাস্তব হয়, তবু সাবভার্সন জরুর সম্ভব। দেওয়াল গেঁথে হুন আটকায় চিন আর দেয়ালতত্ত্বের কাল্পনিক মৌতাতে আখ্যান জমিয়ে তোলেন সৈকত। বিপ্লবী পার্টির তাত্ত্বিক বিশ্বস্ত সেনানীকুল নিয়ে দেরিদার মঞ্চকে ব্যবহার করে নেবেন বলেই প্ল্যান সাজান আর তারপর বিশ্বের লাইমলাইট তো নেহাৎ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু প্ল্যান ভেস্তে যায়। ডাক্তার জেকিল আর মিস্টার হাইড, প্রগতিশীল বিপ্লবী আর প্রতিক্রিয়াশীল নেশাখোর যে পরস্পরের মধ্যে ঘনসন্নিবিষ্ট। নেশার জগৎ তত্ত্বের জগৎ অ্যাক্টিভিজম বিপ্লবের স্বপ্ন আর স্বপ্নের টুকরো হয়ে যাওয়ার সময়টা সৈকতের অনতি দীর্ঘ আখ্যানে ধরা রইলো, যাকে অনেকেই নিজের চারপাশের আর চিন্তাধারার আখ্যান বলে চিনে নিতে পারবেন।


Name:   গুরুচন্ডালি           

IP Address : 192.66.16.191 (*)          Date:20 Jan 2017 -- 12:12 AM


https://s27.postimg.org/583bj275f/9_rup_colour_name_all_2.jpg


Name:  অভিষেক          

IP Address : 52.110.148.169 (*)          Date:20 Jan 2017 -- 12:50 AM

কাঠপাতার ঘর, আগান কথা-বাগান কথা--> কুলদা রায়

সম্প্রতি এই বাঙালি লেখকের আশ্চর্য মায়াময় বাংলা গদ্যকথনের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। লেখক জন্মসূত্রে আজকের বাংলাদেশী হলেও বেশ কিছু দিন ধরে কর্মসূত্রে আমেরিকাবাসী। ওয়েবজিনের পাঠকদের কাছে ওনার লেখাপত্তর হয়ত সুপরিচিতও। কিন্তু আমার সাথে পরিচয় ছিল না। কেন যে এতদিন ছিল না ? সেটা একটু আপসোসও তৈরি করছে বটে...
লিটিল ম্যাগাজিন মেলা থেকে লেখকের একটা বই হাতে এসেছে -কলকাতার গুরুচন্ডালী প্রকাশনার- কাঠ পাতার ঘর,আগান কথা-বাগান কথা।

৪১টা ছোটো ছোটো কারুমিতি দুই মলাটের মধ্যে। শৈল্পিক ঐশ্বর্য বা লেখনশক্তির ব্যাপ্তি নিয়ে কিছুই বলতে চাইনা। এই জাতের লেখা থেকে তাহলে সমস্ত জ্যোৎস্নারস -সমস্ত রামধনু প্রজাপতির থিরথির কাঁপন- সমস্ত জোনাকির নরম আলো- লেখকের সমস্ত শ্বাস প্রশ্বাস হারিয়ে যাবে। দু চার কথায় জানাই বরং কী পেলাম এই বইয়ে যে সময় করে এতটা লিখতে হচ্ছে।
এ যেন টুকরো টুকরো করে কিছু স্মৃতিকথার টানায় আর সময়ের পোড়েনে বোনা এক দরবেশের মিঠা রঙের আলখাল্লা। বাঙলার প্রাচীন প্রকৃতির নিজে হাতে পাতা শীতলপাটিতে বসে সেই সব কথা শুনে আসার অভিজ্ঞতা ঠিক যেন পরিবারের প্রাচীন কুলমাতার কাছে প্রদীপশিখায় ছায়াময় রাতে শোনা অরূপকথার তুলো ভাসিয়ে দেওয়ার মতন।
ফুল-গাছ-নদী-বক-সারস-মাঠ-ধান-হাওর-বিল-মানুষ-কুকুর-বেড়াল-পাখী-দাদু-ঠাকুমা-পিসি-কাকা-বাবা-মা-ভাই-দাদা-মেয়ের কথা। পরীদের -পাগলের - শিউলি ফুল-হিজল গাছের- ছাতিম পাতার কথা। ফজরের নামাজ -মুছি পাটালি - মহালয়ার স্তোত্র- পাক পাক হাঁস - উচ্ছেদে ভ্রষ্ট হওয়া এক পরিবারের ভুলে যাওয়া কিছু শ্বাস- জয় বাংলার ডাক - তোরঙ্গে থাকা রাজার তলোয়ারের কথা। আজিমা - পুড়ে যাওয়া দুই ছেলের মা- না খোলা এক ছাতা - যশোর রোডের কথা। এক শান্ত একান্নবর্তী নমঃশূদ্র পরিবারের মায়ার বন্ধনে থাকা মানুষদের আশকথা পাশকথা বিশেষ।
চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ যে কিছু পরিচিত গ্রন্থের কথা মনে পড়েছে ,এই বই পড়ে সেগুলোর মধ্যে সবার প্রিয়তম হোল ছিন্নপত্রাবলী আর রূপসী বাংলা। কিছুটা মিহির সেনগুপ্তের বিষাদবৃক্ষও। কিছুটা মনে পড়ে অবন ঠাকুর,লীলা মজুমদার, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের কথাও। তবে কুলদা ছবি আঁকেন একদম নিজস্ব তুলি দিয়েই।
রঙ্গে-রূপে-রসে সেখানে এসে দাঁড়ায় বাংলার নদী-ব্রতকথা-পাঁচালির নরম আবহমান আলোরকণারা। বয়ে চলা বাংলার নদীর শীতল জলের ছিটে লাগে পাঠকের তপ্ত কপালে। এগুলো যেন আলাদা আলাদা গল্প নয়। এও যেন ছিন্ন পত্রাবলীর মতন লেখা চিঠির সুরে আত্মকথন। মহাকালকেই উদ্দেশ্য করে বলা, তবে পাঠকের দিকে তাকিয়ে।
লেখকের কথাগুলো পড়ে পৌঁছে যাওয়া যায় আজকের বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের গ্রামে সেই সত্তরের শুরুর দিকে। হাত মেলানো যায় দুর্গাদিদি ডাকা পাখী-কাঠবেড়ালী-বৃক্ষ-ভুলু কুকুর-পাকপাক হাঁস- নদী ছুঁয়ে থাকা হিজলের ডালের অস্তিত্বে। লেখকের কন্যার স্বননে "মানুত" উচ্চারণ এবং প্রবাসে থেকে "বাবাবাড়ি" যাওয়ার দরকার চিনিয়ে দেয় উপমহাদেশের শেষ সত্তর বছরের বাস্তব চিত্রটাও। পৃথিবীজোড়া ডায়াস্পোরা আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে লেখক নিজেও একজন। বাংলাদেশের নদীর ছলছলাত্‌- হাওয়ায় দোলা ধানের শীষের হুহু ডাক, নিউইয়র্কের বিত্ত - বৈভব এবং আরাম ছাপিয়েও লেখকের বোধ এবং সত্তাকে ছাড়বেনা তা উনিও গভীর ভাবে বোঝেন। সন্তানদেরও আদর করে বোঝান। লেখা পড়েই বললাম।
কুলদা রায়ের আরও আরও লেখা পড়তে আগ্রহী হয়ে থাকলাম। GALPOPATH.COMএ আছেও বেশ কিছু। কুলদার প্রথম গ্রন্থের প্রকাশক হয়ে বাঙ্গালী পাঠকের ধন্যবাদ জানবেন গুরুচন্ডালী প্রকাশনা।

২০১৭ কোলকাতা বইমেলায় মিলবে -- ১৮২ নম্বর স্টলে।


Name:  pi          

IP Address : 192.66.180.159 (*)          Date:21 Jan 2017 -- 11:32 AM

কুলদা রায় লিখেছেন,

বাংলা ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে? এই প্রশ্নটি করেছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তখন সবে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী, এক কোটি মানুষ পশ্চিমবঙ্গের শরণার্থী শিবির থেকে ফিরেছে স্বাধীন বাংলাদেশে। নকশাল বাড়ি জিন্দাবাদ বলতে বলতে চারু মজুমদার ঢলে পড়েছেন-- পশ্চিমবঙ্গে জারী হয়েছে জরুরী পরিস্থিতি।
দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে মরতে মরতে আট কোটি মানুষ বিস্মিত হয়ে দেখছে ঢাকায় সামরিক শাসন নেমে এসেছে। দণ্ডকারণ্য থেকে পালিয়ে এসেছে নিরন্ন হাজার হাজার মানুষ মরিচঝাপিতে। তারা গুলি খেতে খেতে বুঝতে পারছে, যে তুলসীগাছটিকে রাতারাতি ফেলে রেখেই তারা দেশ ছেড়েছিলেন ১৯৪৭, ১৯৫০, ১৯৫৪, অথবা ১৯৬৪ সালের এক তরফা দাঙ্গায়, সেই ছেড়ে আসা তুলসীগাছটিকে আবার উপড়ে ফেলা হচ্ছে নোয়াখালিতে, খুলনায়, বরিশালে, রাজশাহীতে। সেখানে লাগানো হচ্ছে তাজা করবীগাছ। এইগাছে ভয়ানক বিষফল ধরে। সেই গাছটিকে পুষ্টি দিচ্ছে কিছু ধর্মান্ধ মানুষ। সিঙ্গুরে নতুন করে ভূমিচ্যুত হয়ে হাহাকার করছে তাদেরই উত্তর পুরুষ। আর সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা নামের একটি তের বছরের মেয়ের মা কাঁদতে কাঁদতে হাত জোড় করে বলছে, দোহাই বাবারা, আমার মেয়েটি ছোটো। তোমরা এক একজন এসো।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তখন নড়ে চড়ে উঠেছেন। বুঝতে পারছেন মস্কোতে বৃষ্টি থেমে গেছে। বার্লিনের দেওয়ালটি ধ্বসে যাচ্ছে। তার নিজের বাম পাটি কাটা গেছে। সেই কাটা পায়ের শূন্য জায়গাটিতে একটি লাল বই দিয়ে হাওয়া করতে করতে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে বলে উঠছেন, তার কাটা পায়ে মশা কামড়াচ্ছে।
ঠিক এইখানে এসে ঢাকায় লাশ পড়ছে শাহবাগের মুক্তমনা রাজিব হায়দার শোভন অথবা বিজ্ঞানমনস্ক ভিজিত রায়ের। ইন্টারনেটে সেই রক্ত দেখে কলকাতার উপকণ্ঠে একটি অবোধ শিশু মেয়ে উদ্ভান্ত হয়ে তার বাবা সাদিক হোসেনকে জিজ্ঞেস করছে, বাবা, ওই লাল রঙ কী? ওই লাল কী?
সাদিক হোসেন মেয়েটির চোখ দুহাত দিয়ে বন্ধ করতে করতে জবাব দিচ্ছেন, টমেটো কেচাপ। টক টকে লাল টমেটো কেচাপ।
ঠিক তখনি বুঝতে পারা যায়, না, বাংলা ছোটোগল্প মারা যায়নি। প্রতিদিনই নতুন নতুন করে ছোটো গল্পের জন্ম হচ্ছে মানুষের হাতে। হয়ে উঠেছে মানবিক দলিল।
এই লেখক মানুষদের লেখা নিয়ে রচিত নির্বাচিত গল্পপাঠ ক্রাউন সাইজে ছাপা হয়ে আসছে কলকাতা বইমেলায়। দু মলা্টে ৮৫টি তাজা গল্প, আর ৮৫ টি গল্পকারের গল্পভুবন। এই ৮৫টি গলভুবনগুলো বইটিকে করে তুলেছে আর্ট অফ ফিকশন। এই নির্বাচিত গল্পপাঠ সে অর্থে লেখকদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বই।
www.galpopath.com গল্পপাঠ ওয়েব ম্যাগাজিনের নির্বাচিত গল্পপাঠ সংকলনটি প্রকাশ করেছে ওয়েব সাইট গুরুচণ্ডা৯



এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11]     এই পাতায় আছে280--310