কিছু কবিতা


লুবণা চর্যা


আপনার মতামত         



কিছু কবিতা
লুবণা চর্যা




ছন্দপতন

যখন আমি বেয়নেটের খে?ঁচায়
তরমুজের মতো রক্তাক্ত এক শিশু ছিলাম
তখন মেঘ আমাকে পিঠে করে
উড়িয়েছিল,
বলেছিল পাখি হতে
তার নাম প্রেম
তার নাম প্রেম

যখন আমি পথের ধারে
ডানা কাটা এক বৃক্ষ ছিলাম
তখন রোদ আমার আয়ুর
শ্যাওলা পড়া ইটগুলো বেছে দিতো
আমার ডালে আত্মহত্যা করতে আসা
রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে দিতো
তার নাম প্রেম
তার নাম প্রেম

যখন আমি মৃত তিমিদের পচে ওঠা দেহে
বিষাক্ত এক সমুদ্র ছিলাম
তখন ...



টাকা, তোমার অভাবে ...

ও আমার সবুজ অক্সিজেন
ও আমার বেঁচে থাকার ঝুমঝুম শব্দ
ও আমার কুয়াশা আর ঠান্ডা আশায়
ভেসে থাকা বাতিঘর
ও আমার শরীরে জড়িয়ে থাকা এক নির্বাক জংলী শীৎকার
ও আমার ক্ষতবিক্ষত প্রেম
ও আমার পায়ের নিচে তপ্ত লোহার ব্রীজ
ও আমার নিরীশ্বর হৃদয়ের নতুন নির্বাচিত ঈশ্বর
ও আমার মহাকাশের কাশ বনে উড়ে বেড়ানো
মাল্টিকালার প্রজাপতি
ও আমার অস্বস্তির ভরা গ্লাসে স্বস্তির বরফকুচি
ও আমার অন্ধক...







ও লেজ কাটা ঘুড়ি,যতো খুশি উড়

কোথায় যে যাই! মাঠভরা লাটিম ঘোরে তোর চোখের জঙ্গলে, আমি চেনাজানা চাঁদ আর কুয়াশার ঘর এখন ইচ্ছে করে ভুলে যাই। যে ঘর অন্ধকার কিন্তু খুব ধোঁয়া ওঠে, নদী থেকে ফেরার পথে একটু থামি সন্ধ্যার ডানা ভাঁজ করে।
যে তুই নিষ্ঠুরতায় হার মানাস কোনো শিকারী পাখিকে, অকারণে আমি ফিরে যাই তারই নিষ্পৃহ অনমনীয়তার দিকে। চিরহরিৎ বনে কল্পনার পাতা কুড়াতেও হঠাৎ ক্লান্ত লাগে। ইমেজের সরাসরি প্রাপ্তি ছাড়া সবকিছু স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে।
কিংবা যখন মৃত ও জীবন্তের পরিবেশে সমন্বয় করে ফেলি আর নিজেকে নিমজ্জিত হতে দেখি নাবিকের ছুঁড়ে দেওয়া ভোঁতা অ্যান্টিকাটারের মতো নীল অতলে, তখনই জিজ্ঞাসার প্রাণবন্ততা হারাই। বহু বহু দূর ছুটে মেঘের দলটা বুঝতে পারে, বাতাসের তাড়না ধারণাটাই আদতে উড়–ক্কু....
তাই রৌদ্রচিলের সাথে বেদনাকথা উজাড় করতে যাই না আর গহীন আকাশে। ধীরে ধীরে বিদেহী জীবাণুরা আমাকে গ্রাস করছে। তাদের প্রিয়পাত্র হই বৈপরীত্যে, উদ্ভট প্রেম-প্রকরণে।
আভপীড়নের কারণেই বেশিদিন যুদ্ধপ্রবন মৎস্য গোত্রে অবস্থান করা হলো না। যদিও গীতা এ সম্পর্কে ভার লাঘব করতে পারে অনেকখানি, তবু ওসব ধুনফুন চাতুর্যে আমার পোষায় না।
সমুদ্র আর আকাশের রং যেখানে একই ব্রাশ দিয়ে ঘষা হয়, আমার ইচ্ছামৃত্যু সে দেয়ালের অভ্যন্তরেই নিরাপত্তা পায়। আমি পারফর্ম করি পারলৌকিক আবেগগুচ্ছের।
শুরু ছাড়া শেষ করা যায় না বলে মানুষেরা প্রত্যেকেই ক্ষুদে ঐতিহাসিক। তারা সৌন্দর্যসচেতন করার জন্য আমার হাতে একটা আয়না এনে দিয়েছে, বিনিময়ে প্রত্যাশা করেছে কিছু মানবিক পারিশ্রমিক। হয়তো এবার জন্মদিনেও আত্মহত্যা করা হবে না!
চূড়ায় চূড়ায় ফুটে থাকা কদম, কৃষ্ণচূড়া, জারুল বা রাধাচড়া আমাকে যে উচ্চতর অনিবার্যতার প্রজ্ঞা দিয়েছে- তা পরাজিত হউক আমি চাই। চলমানতা নৈরাশ্যের ঢেউ দ্যায় বলে আমি নেতিবাচক ভাবনা ভাবি। আমি নেতিবাচক ভাবনা ভাবি বলেই বিয়োগান্তক বৃষ্টির ছড়াছড়ি!
অগ্নিকান্ডে জাহাজ ডুবে গেলে বরপের স্তুপে কালো ছাতার মতো অসংখ্য গম্ভীর ভ্যাম্পায়ার চলে আসে। তারা প্রার্থনা করে তোর আত্মা এবং দেহ। অথচ গভীর অস্বীকৃতি জানালে তুই হতে পারবি তো বিপন্নতামুক্ত।
সূর্যঘড়িতে অ্যালার্ম দিয়ে রেখেছিলাম, রাত ১২ টায় সে আমাকে জন্মদিনের মিউজিক শোনায়। মৃত্যু-তন্ময়তা ভেঙে গেলে শরবনে ছুটি কিছু বাশি তৈরির জন্য। বন্ধুরা এলে সবাইকে একটা করে দেবো। একা থাকার পরিবর্তে সম্মিলিতে মিলে থাকার প্রতীক হচ্ছে বাশি। একাকী নিরবতায় কার সাথে বলো আমি ফাইট করি? সংস্কার করার আগে বিতর্কের হাওয়াই সেতু পর্যবেক্ষণ করা চাই। তাই সেতুতে ওঠার জন্যে স্পোর্টিং কারের ভঙ্গিতে হালকা ও শলাকার আট পা বাড়াই।


পদ - ২

কাছিমের দুধে, কী ভয়ঙ্কর, উপচে
পড়ে ভাঁড়! শোন, তোমার দেহবৃক্ষের
তেতুঁলই যোগ্য খাবার কুমীরটার।
ঘরের মধ্যে চাইলেই আঙ্গিনা আছে,
অবধূতি রে! তথা গভীর মৌন রাতে
কানের ঝুমকো নিয়ে গেলো এক চোরে।
বুড়ো শ্বশুর ঘুমায়, কিন্তু বউয়ের
যে ঘুম নেই। সহজে চোরটা পেয়েছে
যা, চোরেই নিক তা, তাতে বউয়ের কী!
দিনের আলোতে যে কূলবধূ সামান্য
কাকের ভয়ে কাঁপে, রাতে সে ই একাকী
অভয়চিত্তে হাঁটে কামরূপের জন্য!
এমন কাব্য কুক্কুরী পা গাইলো-দেখি,
কোটিতে একজন বুঝলো এই শূন্য।



ছবি: মৃগাঙ্কশেখর গাঙ্গুলি