দুটি কবিতা


শাকিলা তুবা


আপনার মতামত         


দুটি কবিতা
শাকিলা তুবা


জেগে আছি

রাতভর ঘুমের ক্লান্তিতে জেগে আছি,
জেগে আছি দুই চোখ,
জেগে আছি চুল,
সূর্যবংশীয় রাজা মান্ধাতার কাল থেকেই
জেগে আছি পরিব্যাপ্ত,
শত্রুকর্তৃক অধিকৃত।
জেগে আছি চিবুকের তিল---

নিতাইগঞ্জের চিত্রাক্ষী বুড়ীর একটি হাত
আকাশে ঠেকেছিল, অপরটি সমুদ্রে-
দুইয়ের মাঝে ভেসে ঘুমিয়েছিলাম একদা,
যেমন ঘুমোয় প্রভুভক্ত কুকুর আশ্লেষে।
এই ঘুমে নখের আঁচড়,
গাল ফুটো করা বাতাস,
ঘুমে অকাতর দু:খ।

এখন রাতের ঘুমে দীর্ঘ রমণ ক্লান্তি
রতি-অতৃপ্তির অবসাদ।
অত:পর, জেগে আছি
ঘুম জাগরণে
লক্ষী পেঁচার মতো জেগে আছি ।


জীবনস্বাতী

আমি আর স্বাতী একই সাথে ঘুমাই, খাইদাই
একই জলে নাকচোখমুখঠোঁট ধুই
স্বাতীর টিপ আমার বুকপকেটে লেগে থাকে
ওর শাড়ি আর আমার পাঞ্জাবী একই দড়িতে শুকায়
স্বাতী আর আমি একসাথে জীবনের পথ চলছি।

খুব ছেলেবেলায় ওর পায়ের চোরাকাঁটা চুষে বের করেছি
বড় হতে হতে ওর ঠোঁটে ডুব দিয়ে মুক্তো খুঁজেছি
এ ওর শরীরের আনাচে কানাচে ঘুরে সুখ চিনেছি
এভাবেই লাল চেলী পরে স্বাতী আমার ঘরের দখল নিয়েছে
তারপর, দুই মাঝি টেনে যাচ্ছি এক নৌকা, একসাথে।

একদিন, ছয়তলা ছাদের কিনারায় দু'জনের হাসাহাসি-গলাগলি
কে বেশী ভালবাসি, কে কম এসবের ফিরিস্তি
জ্যোৎস্নায় পা পিছলে কখন স্বাতী পড়ে যাচ্ছে দেয়ালের ও পাশে
আমার হাতে ওর হাত, স্বাতী ঝুলছে ছয়তলার ছাদে
কারা, কখন টেনে তুলেছে দুই ঝুলন্ত মানুষ, মনে নেই।

সেই থেকে আমি স্বাতীর চিরদিনের প্রেমিক
চারিদিকে গুঞ্জন আর ঈর্ষার চোখ, ফিসফিস, গুজগুজ
"কী করে একটা লোক তার বউকে এত ভালবাসে!'
"নিজের জীবন বাজী রেখে কজন পুরুষ বউয়ের প্রাণ বাঁচায়!'
"সত্যিকারের প্রেমিক বুঝি একেই বলে!'

কেউ জানেনা, আসলে আমি নই, আমি ছেড়েই দিচ্ছিলাম প্রায়
পতনোন্মুখ স্বাতীই আমার হাতটা চেপে ধরে জ্যোৎস্নায় ঝুলছিল প্রাণপণ।




ছবি: মৃগাঙ্কশেখর গাঙ্গুলি