আপনার মতামত         



পাঁচটি কবিতা

নবারুণ ভট্টাচার্য




ক্লান্ত শহর

বার এর টয়লেটের দেয়ালে
কোন করুণ হোমোসেক্সুয়াল
বা হারিয়ে যাওয়া মেয়ের মোবাইল নম্বর
মনে পড়ে যায় অশ্রুতপূর্ব কোন সোনাটার
স্বরলিপি
কখনও লেখা হবে না
এমন কোনো সনেট


থিয়েটার

হবে লোডশেডিঙে
জ্বলবে লন্ঠন
থাকবে বাঘের মুখোস
বাজবে ঢোলডগর
যারা দেখবে তাদের গা ঘামাতে হবে


সিনেমা

মাছি ও আরশোলাদের দেখা যাবে
মাড়ি দিয়ে ভাত খাচ্ছে - দাঁত নেই
কলকাতার সিনারি দেখালেই
হাত-পায়ের কাটা প্লাস্টার
সেলে দেওয়া কমোড


ভূত

জ্বলছিল একটা রেলের ইঞ্জিনের আলো
চেঁচাচ্ছিলো গোটা দশেক শেয়াল
আকাশেও ছিল আলো, অনেক তারার
একটা আবার পা পিছলে পড়েও গেল খসে
কুয়াশারা এল ঘষা কাচের লেন্স নিয়ে
অবশ্য শব্দ গুলোর তাতে কিছু এলনা গেলনা
তখন আমাকে ছুঁয়ে গেল
যদিও আমার গা ছমছম করে নি
এভাবেই আড়াল থেকে আসে
ফিস ফিস করে ফের আড়ালে চলে যায়


গাজা- প্যালেস্টাইন

খুব দুষ্টু দুটো বাচ্চা
একজনের হাতে সুতোবাঁধা ঘুরপাক
একজনের বেসুরো জলতরঙ্গ
একটা ইয়োইয়ো, একটা ঝুমঝুমি
টিভিতে ঐ দুটো বাচ্চাকে
দেখাচ্ছিল খবরের চ্যানেল
স্টার মুভিজ করে দিলে তুমি
বাচ্চা দুটো তখন দুষ্টুমি করছিলোনা
দুজনেই শুয়েছিল
স্বপ্ন দেখছিল কিনা
বলতে পারা যাবে না
কারণ
দুজনের মাথাই ছিল না