আপনার মতামত         



কয়েকটি কবিতা

বিজয় সিংহ


কবিতা লেখার আগের ৬ মাস


মৃত্যু, আমিও যাপন করেছি নিশিরাত
মৃত্যু, এদেরো রাত্রিরা মরে রোজ রোজ
মৃত্যু, রাত্রি ঝরলে কি হয় বলছি
মাথায় একটা লাইন ঘুরছে, লিখেনি?


মৃত্যু, নিশীথ রাত্রিরই কোনো ডাকনাম?
মৃত্যু, নিশীথে এলোচুল নিয়ে ছোটো বউ
চাঁদ হয়, হয়ে উঠলেই তুমি লিখে নাও
আর্নলিভ নেব, নিয়ে যাব দীঘা চাঁদিপুর

মৃত্যু আমার বাবাও তোমার বিষয়েই
বেনামী লিরিক লিখেছেন কত, পড়োনি?
মৃত্যু, তবুও তাঁকে কি ছেড়েছে? সারাক্ষণ
জলপাই দেওয়া মা'র চোখে বিষ ঢেলে যাও

মৃত্যু, আজকে জন্মদিনের ভোর ভোর
মৃত্যুজাতক এই আমি হয়ে উঠেছি
আমার তো শুধু বাতাসেরা আছে, ডানা নেই
তবু নুলো এই শহরের মুখ কাঁপলেই

মৃত্যু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ঢেউহীন
আগুনের লোল, আমি আগুনেরও ছোটোভাই
গিলছি আগুন, স্পষ্ট দেখছি মেইনস্ট্রীম
একা তড়পায়, সক্রেটিসের কাটগ্লাস

সাবাড় করব? মাথায় একটা কবিতার
লাইন আসছে ...... তার আগে সেটা লিখেনি?



ইহকাল পরকাল


সেসব ছিল মিথের সফর, বংশী ওষ্ঠে; এখন মিথ্যে
মন যমুনায় ঢেউ দিলে কেউ, দিলে, দিব্য মরেই যাব

ক্রান্তি তখন জলস্তম্ভ তৈরী করত নিশীথ শিসে
এখন আমিই লেনিন, লেকিন ছলছলাচ্ছি ভুতের মায়ায়

আগে ভাবতাম সব কবিতাই ব্রহ্ম সৃষ্ট, কবিই ব্রহ্মা
এখন ব্রহ্ম অন্ডে দোলা, দোদুল দুলছি, ম্যাজিক রিয়েল

আপনিই মশাই বদলে যাচ্ছি, বদলে যাচ্ছি, ভীষণ ছি ছি
আগে অন্তর বাইরে ডাকত, এখন বাহির অন্ধ্রপ্রদেশ

অন্ধের অন্তরে তিনটি বৃক্ষ, বৃক্ষে রজ্জুবদ্ধ
ধর্মের ষাঁড়, নিশুত রাস্তা চাঁদকে ছুঁলেই আমিও সটান

ঘুমিয়ে পড়ছি, ঘুমের মধ্যে নীল কেমেস্ট্রি উল্টে ধরলে
সোপ অপেরার স্ক্রিপ্ট উড়ে যায়, অক্ষর ভাসে তুরন্ত্‌ হাওয়ায়

আপনিই মশাই বদলে যাচ্ছি, উড়ছি হাওয়ায় বেহুঁশ, ছি ছি
দিনের শেষে ঘুমের দেশে নিজেই গিলছি মাস নিজের

মাসে বিষের রংও লাগছে, ধ্বস নেমেছে আধ্যাত্মিকে
জন্মদিনেই মৃত্যু আসলে ... আহ্‌ কত যে জন্মেছিলাম


জাতক


চাঁদ ছিল না ঝোপের মাথায়, নদী সড়ক পৃষ্ঠভূমি
      বরং ছিল রুক্ষ
আমরা তারই সত্যজাতক, পাটকাঠি হাত এবং পেটে
      দারুণ বুভুক্ষু

সুরের আগুন নিভন্ত প্রায়, আঁচ লাগত তবুও গায়
      বিমূর্ত আট দশক
শেষ বিকেলের জর্জ বিশ্বাস হঠাৎ হারমোনি খুললে
      চোখ মুছত লুকোনো সব শোক

চাঁদ ছিল না চাঁদের মধ্যে নীল ধাবাতে রাতের জিভে
      পাশা খেলত তারা
পুরোনো সব নষ্ট আত্মা ডুবে থাকত অন্ধকারে
      স্পর্শলোভী আশায়

চাঁদ আসলে চাঁদের গর্ভে একটু একটু তখন বাড়ছে
      অক্ষয়সংঘের পাশেই
শান্তিকল্যানের শহর পুষে রাখলে ভুতুড়ে জ্বর
      ছন্দ কাঁপত কঠোর সন্ন্যাসে

আমরা তো সব লাজুক মহুল, মানুষই নয় প্রেতচ্ছায়ায়
      ঝরেছি নি:সাড়ে
একটু একটু নিয়ন জ্বলছে আলোকবর্ষে, অসংসারের
      মৃত্যু কাঁপছে মহুল ফুলের ভারে



আচ্ছন্ন


ভাস্কর চক্রবর্তী, মৃত্যু ও আমি গত জুনে
কবেকার পুরানো জাহাজে গিয়ে, যার খোল রানিরং,
মৃত পশুদের নাভি করোটিতে ঘষে
জ্বেলেছি বিদ্যুৎ, তার আগুনের কনা
      চমকে ছিটকে এসে পড়েছে নিশায়

আমি, মৃত্যু ও ভাস্কর চক্রবর্তী কতবার
অর্ধডোবা জাহাজের মাস্তুলে রেখেছি মৃত
      দেবীদের ডানা
অর্ধদেশী কবিদের বাজখাওয়া না-দৃষ্টিতে
যতক্ষণ না ঝাপসা হয়েছে তীরভূমি
রক্ত অশ্রুজল যত উন্মাদ আরক, ওফ্‌,
বানিয়েছি; দেবতার জিহ্বা তত লম্বা হয়েছে, শয়তানও
দীর্ঘতম অন্তর্দেশী পাঠিয়েছে নাম লিখে
      পুরোনো অঘ্রানে

অসঙ্গত জলযান ডুবে গেল। গেলে মিশ্রকলায়
      যতিতে
নক্ষত্রের সব চোখ গলে গেলে, মেয়েদলও
       গেয়েছিল গীতি