আপনার মতামত         




কয়েকটি কবিতা


অর্পণ চৌধুরী



 
 











যক্ষ

এইখানে ধূসর পাঠে মগ্ন ছিল নষ্ট দেবতা
সন্তানের হাত ধরেছে সে পিচ্ছিল পৃথিবীতে
মায়াময় প্রতিবিম্বটি ফেরে তার পিছন পিছন
প্রাকৃত সংলাপ লিখে গেছে অস্থির বালকে -

জলজ্যোৎস্না তুমি কি ওদের আশ্রয় দিয়েছ?







 

দিনলিপি, সন্ত্রস্ত

গতিশীল নাবিকের মত তোমার অস্তিত্ব, জিজ্ঞাসাহীন
অবধ্য উপনিবেশ গড়ো ও ভাঙ্গো, খালি করে ফেরো
অলীক জন্মান্তরের হাতনকশা যত।

তবু ফিরে আসো এইখানে বারবার, আমাকে জড়িয়ে রাখো
ছোট্ট আঙ্গুলে। নীলচে ডিমের আবরণ খুলে দেখে নিই আমি
এলানো বিকেলের নিজস্ব ফটোগ্রাফ, জীবনের সব সান্ধ্য আড্ডায়
ছড়ানো ছেটানো যারা, ঘামে ভেজা শার্টের পকেটে উঁকি মারে,
অন্যমনস্ক একটি মালগাড়ি যাত্রা শুরু করে উল্টোপথে
এই স্তব্ধ পানকৌড়ি দুপুরে, আলোর অবসন্ন বর্মে ঘিরে যখন
আমি, একাকী সান্ত্রী, দিঙনির্ণয় করি এই অবধ্য উপনিবেশে
সারি সারি কবন্ধ মানুষের নিভৃত ছায়াকুঠুরিতে
খেলে বেড়াচ্ছে এখন গোপনে অভিমানী প্রজাপতিরা -

ওগো দুর্জয় প্রেমিক, তোমার যাবার পথ হল তৈরি।

 






 









অনুস্বর

নিরালম্ব জ্যামিতিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে গিয়ে ভাবি
কিছু শব্দ কিছু খেলনা হারিয়ে গেল যারা কাচের ওপাশে
তেতলার বাবুইয়ের বাসা আর শস্যের ভেতর জমা ঘাম
সুখী টিলার ওপারের অসুখী সূর্যোদয়, বুলেটের শিস
কবিতার ভিতরে যেমন আরো কিছু অগ্রন্থিত ফাটল।

আবহ চিত্রণ: রোচিষ্ণু সান্যাল