আপনার মতামত         




কয়েকটি কবিতা


সোমনাথ রায়



 
  চা

চা যখন খেয়েই-ছি, থ্যাংক ইউ বলাই দস্তুর
এভাবেই পরম্পরা মেনে নিয়ে ক্রিয়া ও বস্তু-র
ভাঁড় ভেঙে হেঁটে গেছি, ঝাঁঝরির ফাঁকে পোড়া মাটি
স্নিকারে জলের দাগ, অথবা সে বৃষ্টির ছাঁট-ই
এলো মেঘে-ঢাকা শীতে,ছাতা-খোলা, তাকানোও মানা?
অথচ গলির মোড়ে -কালভার্টে হলো চেনা-জানা;
ক্রমশ: কথাও হলো, রাখা হলো কোনও প্রতিবাদ,
সেই কবে চা খেয়েছি, জিভে আজও গাঢ় বিস্বাদ!






 







  গুলাল

বিষের অঘোরে থাকে ফুলশয্যা, অগ্নির রাত
যেমন জ্বলেছে কোনও গৃহস্থালী, ধানের সঞ্চয়
নিবিড় নীলাভ রাতে উল্কা ঝরলে দেখো, ভয়ে-
বাঁশঝাড়ে, তালশাখে ডানা মেলে আবার আগুন
আকাশে ভীষণ ছিল মৃতস্বপ্ন,কুয়াশা-শিহর
নিংড়ে দিচ্ছে ঐ চোখেমুখে দহনের খনি
সব হারিয়েছে যা যা কাছে ছিলো, যা যা ছিলো দূরে-
সিঁড়ির নিগড়ে শুয়ে অসহ্য সীসা-যন্ত্রনা
এখানে আবির খেলা, এই তো দোলের পূর্ণিমা
বৃন্দাবনের পথে:খুনী-প্রেম,ভ্রাতৃহত্যা- সব-ই
পরিচয় পেয়ে গ্যাছে, বুলেট আর বিষমাখা ছুরি
তখনও ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি
 
   




বাজে সময়ের বন্ধু

বাজে সময়ের বন্ধু, তুমি যা চাইবে তাই দেবো
এই শহরে তোমায় দেবো বড়দিনের রাত
নদীর ধারের আনন্দ আর পুজোর সংবাদ
মুক্ত বিহগ ডাক-
তার আকাশজোড়া সকাল ছিলো, সন্ধ্যে ঘরে ফেরা
সূর্য-লাগা নতুন পাতায় সবুজ মুকুলেরা
তোমার-ই জন্যে সাজিয়ে রাখলাম-
বাজে সময়ের বন্ধু, আমার মনখারাপের ঘরে
স্বপ্ন দেখে ফেলি যখন অঝোর বৃষ্টি পড়ে,
গন্ধরাজের থোকা রইলো বুকশেল্ফের তাকে
বৃষ্টিশেষের ভোরে আমার গ্রামান্তরে হাঁটা
তোমায় দিলাম শুকনো চোখে হাসিমুখের টা-টা।
 




















 




















   




২৫-শে বৈশাখ

প্রেমের স্মরণে রাখা সেই সব ক্ষতচিহ্ন,জানো?
ব্লেডে কাটা উপশিরা; মেট্রোয় আচমকা ঝাঁপ
সিলিং-এ যে দড়ি ঝোলে- সহবাস শেষে
প্রতিশ্রুতি অনর্থক বুঝে;
অনন্তর তুমি জানো, অনন্তের সে সন্ধানখানি
যখন রাজার সিটে হিটলার আর মুসোলিনি-
ধনঞ্জয় বৈরাগী বাঁশি নিয়ে সমুদ্রের দিকে
খ্রিষ্ট ও সাম্যের নামে দলে দলে ক্রীতদাস বেচে
মানুষ কোথায় তবে, কোন ব্যাংকে বিশ্বাস রাখে-
পাপ তো করিনা আমি, পাপাত্মা পাপ-ও সম্ভবি
তবু থাকে নচিকেতা, কারও কারও জ্ঞানের গভীরে, আর,
বাকিদের হা-পিত্যেশ- মরণের কালটিতে যদি
রাজার চিঠিটি আসে, কিম্বা সে নক্ষত্রের থেকে
যদি কোনও আলো আসে- জনতার আফিমের মতো -
তাই সেইসব ক্ষত
তারা এখনো লালন করে, প্রেমের শরণে; আর,
ক্ষতের অসীমে চেয়ে দ্যাখে-
বেদনায় পুলক লেগেছে
পুলকিত যে শরীর বহুতল থেকে ঝাঁপ দিলো
নেশার মতন সে-ও কোনও গান আঁকড়াতে চায়।
আবহ চিত্রণ: রোচিষ্ণু সান্যাল