আপনার মতামত         




আরণ্যকের কবিতা


ফার্নান্ডো পেসোয়ার    নির্বাচিত কবিতা থেকে অনুবাদ করেছেন   মিঠুন ভৌমিক



 
  (১)

আসন্ন বসন্তদিনে-
যদি না থাকি, এই পৃথিবীতে,
কালচক্র ঘুরে যাবে, অবিরাম,
ফুলেরা ফুটবে ঠিকই, এতদিন
যেভাবে এসেছে। সবুজের রং,
একটুও ফিকে লাগবেনা,
বাস্তবিক, এখানে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।

তাই বড়ো খুশি হই,
মনে হয় মৃত্যু ভীষণ দীন, সেও খুব অসহায়।

যদি জানতাম, আগামীকালের ভোরে
মুছে যাবো, বসন্ত আসার ঠিক দুদিন আগেই,

সে হবে তীব্র আনন্দময়, কারণ সেটাই বাস্তব,
যা নিখাদ, তাই আমি ভালোবাসি।
যখন যা হওয়ার কথা, যেভাবে হয়
যে কাজের যে ঋতু আদর্শ সময়
তা-ই ভালো।

আমার সমাধি 'পরে নতমস্তকে
প্রার্থনা করে যেতে পারো, দল বেঁধে
আনন্দগানে ভরে দিতে পারো চারদিক,
সবেতেই আমি খুশি।
যখন যা পাওয়ার কথা, যেভাবেই পাই,
সেইটাই চেয়েছিলাম, মনকে বোঝাই।

 
    (২)

আমরা চিরকাল ভেবে এসেছি, দেবদূত
আর অন্য দেবতারা আমাদের প্রভু,
আমরা ওঁদের দাস, ওঁদের কথায় উঠিবসি।
ঠিক যেমন মাঠে চরে বেড়ানো
গবাদি পশুরা ভেবে হয়রান হয়,
বুঝেই ওঠে না মানুষ কোন মন্ত্রবলে,
সবাইকে নাচিয়ে চলে, অনায়াসে।
আমরা জানতেও পারিনা,
অদৃশ্য অঙ্গুলীহেলনে নড়ে সুতো,
খেলা চলে, দেবতার ইচ্ছেবিলাস।













 













(৩)

কবি প্রতারক,
এ কাজে তাঁর জুড়ি মেলা ভার
নিত্যদিনের সুখ-দু:খ-যন্ত্রণা
হিসেবের খাতাটাও ফাঁকিবাজি তাঁর।

যারা ওঁর লেখা পড়েছেন
ওঁর জীবনগতি তাঁদের টানেনা
পাঠকেরা শুধু নিজেদের কথা ভাবে
কলমের ব্যথা তারা জেনেও জানেনা।

 
    (৪)

গোধূলিবেলায় থামে অকেজো এক দিন
যে আশা মুছে গেছে, তাও যেন আজ
আরো ফিকে হয়ে আসে, বিবর্ণ প্রায়
জীবন ঘোলাটে চোখে থমকে দাঁড়ায়
আজকে সে নেশাতুর ক্লান্ত ভিখিরি।

ঘুমঘোরে কাটে অনন্তকাল, অসীম
মহাকাশ পার হয়ে গিয়ে
তুচ্ছ স্বপ্নেরা নিজেকে বোনে,
শব্দ ধাক্কা খায়, সমাজ অচঞ্চল।

যন্ত্রণা আসে যায়, আনন্দও
বারবার ঘুরেফিরে আসে
আজ কেউ আকণ্ঠ পান করে, সুখে,
কাল সে-ই পান করে বিষণ্ন মুখে।

প্রতিদিন আশাপথ দীর্ঘতর হয়
আশা বাড়ে, দুস্তর সেই ব্যবধান।
প্রতিদিন সংশয় বাড়ে,
বেঁচে থাকার মানেই, আশঙ্কাযাপন।

 



































 
    (৫)

প্রত্যাশাহীন, অনিচ্ছুক জীবনযাপন
জীবনকে অস্বীকার করে চলা, প্রতিক্ষণ।
খেলার জিনিষ সব, সরিয়ে রেখে
দৃষ্টিতে নামে ঘুম, পড়ে থাকে একপাশে
সেইসব জিনিষেরা, যেটা যেরকম, বা
যেরকম আদপেই নয়।

অপেক্ষা ক্লান্তিকর, একমনে ভেবে চলা, তাও
বড়ো একঘেয়ে, নির্জনতায় বসে থাকা।
না ভেবেই হেঁটে যাও, অপেক্ষা কোরো না
সেসব আরো-ই তুচ্ছ, খুব ক্ষতিকর।















আবহ চিত্রণ: রোচিষ্ণু সান্যাল