আপনার মতামত         




কয়েকটি কবিতা


সুমন মান্না



 
 

যাত্রা

কথা ছিলো সব নেওয়া যাবে একটাই বাক্সতে
ধার দেনা আলোচাল যার যেটুক আছে এই যাত্রা
মাটির রাত্রি ধরে তেষ্টা চুমুক দেয় আলগোছে
অনিমেষ কীট তবু রচনা করতে থাকে ভাবসৌধ
তার জ্যামিতিক ছাঁদে একা চাঁদবুড়ি এঁটো আলো
হাতে ঘরে আসে সে না হয় আমরা চলে যাবো বলে।
আজকে আকাশ থাক চমকানো সেদিনের মত
নিভে যেতে থাক রাত প্রতি শ্বাসে অল্প অল্প করে।

তবে তাই লিখে যাই চুম্বকে ঝিনুকগন্ধ রোদ
কাজটাজ সেরে জিরোয় নিকোনো দাওয়াতে একা
জাহাজের ছবি আঁকা খামে নোনাজল শব শোধবোধ
খুচরো শব্দ কিছু ভান্ডারে অবশিষ্ট আছে। যাও তাকে
পারো যদি ডেকে নিও ভোরে, শস্য কেটে চলে গেলে
সে তেপান্তরে আরো এক মানবজন্ম সিঞ্চন করে যাই।
 
  তারপর শুধু একা

ভিড়ভাট্টার মধ্যে খেয়া লাগে পাড়ে,আলগোছে ছুঁড়ে দেওয়া কাছি
অনেকের কাছে থেকে একটু একটু চাঁদা করে ভরসা নিয়ে অন্য হাতে
বাঁধা পড়ে থাকে। পারানি নিয়ে হাসিঠাট্টা,
এ ওকে জল ছুঁড়ে দিতে গিয়ে
কানামাছি ঘুরে মরে আকাশে পাতালে আজকাল।

এখনো বর্ষা নামেনি ঘোলা হয়নিকো জল পরনের জামাটামা
ভিজে চ্যাটচ্যাটে - হাঁক পাড়ে থেকে থেকে "ছাড়ো নাও'
বেলাবেলি না পৌঁছলে ফিরে যেতে হবে না আজকে
বৃষ্টি কিন্তু হবেই- ভাসিয়ে, দেখে নিও-
এইসবই রোজ দেখে যায় দিনকাল। তারপর সব একা।







 



শালপাতা আর ঘাস

সেসব দিনে কুড়িয়ে খেতাম শালপাতা আর ঘাসের গন্ধ
ওমনি মাদল বাজতো বলে ক্লাস পালাতো সাঙ্গোপাঙ্গো
চমকে গেলে অ্যাটেন্ডেন্সে ফাঁক পড়েছে দু-এক সিকি
বাসস্টপে যেই ধূপ কিনেছি অর্ধেকটা শুধুই মাটি।

আরেকটা দিন অন্যরকম সকাল থেকে শুধুই বৃষ্টি
(পড়ছিলো, তার কাজ ছিল না আমার মতোই অনাছিষ্টি)
যার যা ছিল সব ভাসালো বাকীটুকুর হাঁসফাঁসানি
আবার অমন করছ কেন লালচে আভা আর থামেনি।

সেসব ছবি দুমড়ে মুচড়ে সাইজ করে কাটিয়ে নেওয়া
চিনতে পারবে? অট্টালিকা, থাকতো সেদিন পাতায় ছাওয়া।
আবার নেওয়া ফিরিয়ে দেওয়া অন্যরকম আরেক স্কুলে
ভর্তি হচ্ছে শালপাতা আর ঘাসের সঙ্গে খেলবে বলে।

  রিজেক্ট মাল

লোকটাকে দেখতাম আসতে যেতে বৃষ্টি কিম্বা রোদ্দুরের দিনে
পাহাড়ে হাঁটাহাঁটি করতে করতে - মুখ চোখ মনে নেই আজ
রোজ দেখতাম কিনা তাও জানা নেই - তবে বেমানান দামি
রঙচঙে জ্যাকেট আর কলারের ছেঁড়া অংশটা মনে থাকে
সেলাই তো করে নিতে পারতো সে - সস্তায় মিলে যাওয়া সওদার

তাহলে কি আজ খবরের কাগজে আবার দেখতাম সেই ছেঁড়া কলারের
জ্যাকেট - মুখ দেখা যায় নি আজকেও গলায় গভীর ক্ষত - সস্তায় পেয়ে যাওয়া।

 
আবহ চিত্রণ: রোচিষ্ণু সান্যাল