আপনার মতামত         


হরিকৃষ্ণের বার্ণিকে বিবর্ত্তনে ডারউইন সাহেবের ভূমিকা
শিবব্রত রায়

একবার গুরুর পাতায় বার্ণিকের গপ্পো লিখেছিলাম। তাতে অনেক বার্ণিক ভক্ত ভারী উল্লসিত হয়েছিলেন। নবারুণের হাতে পড়লে বার্ণিকেরও ফ্যাতাড়ুদের মত বাংলাসাহিত্যের একটি আর্কিটাইপে পরিণত হবার গুণাবলী ছিল। কিন্তু সব শালা আজকাল হাল্লাক স্বার্থপর। নিজের ট্রেডমার্ক ছেড়ে ভগমানের ছিষ্টিকে প্রায়োরিটি দেবে, সে বান্দা গদাধর চাটুজ্জের পরে আর জম্মায় নি। সুশীল এবং জ্ঞানবান পাঠক খেয়াল করবেন, আমি এখেনে গদাধরকে এট্টু ঠেস দিলুম। নরেন দত্তের পিআর প্রচেষ্টা আর মা কালীর এস্টাবলিশমেন্ট বিনা এই মুক্ত হট্টে করে খাওয়া ওনার ক্ষমতায় ছিল নি। তাই এই গলাকাটা কম্পিটিশনের বাজারে নিজের রেভিনিউ মা কালীর আর লরেনের সঙ্গে ভাগ করে নিইছিলেন। সত্তি কইতে কি, আমি এখেনে পাঠককেও একটু ঠেস দিলুম। সুশীল ও জ্ঞানবান একই সাথে কইলে কাঁঠালের আমসত্ত্ব কওয়া হয়, ও প্লেটোর চেয়ারের ন্যায় পাঠকের অস্তিত্ত্ব অসম্ভব হয়। কিন্তু পাঠক এক্‌জিস্ট করে না মেনে নিলে যেহেতু আমি আমাকেই ঠেস দেই, সুতরাং সে প্রচেষ্টায় ক্ষান্ত দিলাম। জ্ঞানবান পাঠক (এইবারে ঠেস নাই) চেষ্টা করে দেখবেন এই জঞ্জীর কতদূর টেনে নিয়ে গেলে তাহা অ্যাবসার্ডে রিডিউসড হয়।

জন্মকালে বার্ণিকের নাম ছিল হরিকৃষ্ণ। জন্মকালে কথাটি বলা ঠিক হয় না, কেন না সঠিক জন্মকালের সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞার অভাব। জল ভাঙ্গা থেকে নাড়ী কাটা পর্য্যন্ত যে কোন সময়কেই জন্মক্ষণ বলা যেতে পারে। অম্বুবাচীর বিকেলে বার্ণিকের উপুষী ঠাকুমা আঁতুড়ঘরের কোনায় আসন্নপ্রসবা বৌমার পিত্রালয় নিয়ে খিল্লি করতে করতে ছেলে পর হয়ে যাবার খোঁয়াড়ি ভাঙছিলেন আর বৌমা দাঁতে দাঁত চেপে শাশুড়ীর মুখাগ্নির দিনক্ষণ নির্ধারণ করছিলেন। এমন সময় কালো দাইয়ের সন্দেহ হওয়ায় সে বৌমাকে পরীক্ষা করে দেখতে পায় আধখানা ছেলে মায়ের শরীর থেকে উঁকি মারছে। যদিও বাঙালি জাতির প্রোক্র্যাস্টিনেটর হিসেবে খ্যাতি আছে, তবুও এরূপ উদাহরণ বিরল। চমকিত কালো দ্রুত অ্যাকশনের প্রয়োজন উপলব্ধি করে ও নিজেকে কড়া গুড়াখুর ধক থেকে টেনে বের করার জন্য 'হরেকেষ্ট, হরেকেষ্ট' আরাবে দৈবী সাহায্য রিকুইজিশন করে। অল্প সময়ের মধ্যেই বার্ণিক স্থিতাবস্থা পারটার্বড হওয়ায় প্রবল স্লোগানে নিজের প্রতিবাদ রেজিস্টার করে। কালো ক্লায়েন্টের পুত্র জন্মের মধ্যে আসন্ন বখশিসের গন্ধ পায় ও ছেলের জোরালো গলার দিকে উপস্থিত জনমন্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোকার নামের জন্য আর্জি জানায়। সন্ধ্যাবেলা অবগাহন স্নানের সম্ভাবনায় বিরক্ত বুড়ী শাশুড়ী এমন আদিখ্যেতায় ভারী বিরক্ত হয়। বুড়ী স্থির করে যেহেতু ঠাকুমার চাইতে ধাত্রীমাতার সোহাগ অধিক, সুতরাং দাইয়ের ঈষ্টদেবতার নামে এই সন্তানের নাম হরিকৃষ্ণ থাকুক। কালো বুড়ীর যুক্তিজালের মধ্যে প্রাপ্য বখশিস জড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখতে পায় ও প্রতিবাদে বিরত থাকে। প্রসবের ক্লান্তিতে বধূমাতার নীরবতা সম্মতি বলে গৃহীত হয়। পরে অন্নপ্রাশনের সময়ে ছেলের মুখে ভাত দিতে বসে দশ বছরের মাতুল ক্ষীণ আপত্তি জানালে বার্ণিকের পিতা শ্যালককে জানান যে তার দিদি সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় উপস্থিত ছিলেন। এখন স্ট্যাটুট অফ লিমিটেশন পার হয়ে গেছে। আর শ্যালক বা তার দিদির মতামতের চেয়ে এই ভিটেতে ম্যাট্রিয়ার্কের মতামতের গুরুত্ব অধিক। শ্যালক তার আজন্ম কন্ডিশনিং-এর প্রভাবে স্থির করে গুরুজনদের মুখে মুখে তর্ক করা ভাল নয়। পুনশ্চ সন্তান জামাইবাবুর। পাঁঠা কাটার দিক নির্ধারণের অধিকার ও সন্তানের নাম স্থির করার অধিকার যেহেতু মালিকেই বর্তায়, নিজ জুরিসডিকশনের বাহিরে পদক্ষেপ অবাঞ্ছনীয় ও বিপজ্জনক। শাশুড়ী ছেলে-বউয়ের গত রাত্রির ঝগড়া সম্পর্কে অবহিত না থাকায় ছেলের ব্যাবহারে গৃহদেবতার কৃপা সম্বন্ধে নিশ্চিত হয় ও হাসিমুখে বৌমাকে হরেকেষ্টকে কোলে নিতে অনুরোধ করে। বার্ণিকের মা ভাবে ছেলে যেহেতু তার বাবার পদবী লিখবে, সেহেতু নামের ভাল মন্দের দায় তাদের ঘাড়েই বর্তায়। ছেলের আখাম্বা কুচ্ছিৎ নামের জন্য শ্বশুর-বংশের, বিশেষত: স্বামীর বংশের ভোগান্তির সম্ভাবনায় সন্তুষ্ট মা ছেলের বন্ধুদের কাছে হাসির পাত্র হবার সম্ভাবনা ওভারলুক করে। এইভাবে, সকলের সম্মতিতে, বা উইদাউট এনি এক্সপ্রেসড ডিসেন্ট, বার্ণিক হরিকৃষ্ণ নামে জীবন আরম্ভ করে।

এই সমস্ত ঘটনা, যদিচ তুশ্চু, বার্ণিকের জীবনপ্রভাতে একটি কৃষ্ণমেঘের উদয় ঘটায়। সকালবেলাই দিবসের পূর্বাভাস দেয়, এমন কথা বাজারে চালু আছে। পাঠক দেখবেন, বার্ণিকের জীবন এই মতের সমর্থনে একটি চমৎকার অ্যানেকডোট। প্রবাদ আছে কাঁচের ঘরে বাস করে অন্যের দিকে ঢেলা মারা বিপজ্জনক। কিন্তু সে কথা যে দেশে ঢেলার অভাব সেই সব দেশেই সত্য, কেন না ঢেলা ছুঁড়লে নিশপিশ করা হাতের কাছে ঢেলা জুটিয়ে দেওয়া হয়। বঙ্গভূমে, বিশেষত: রাঢ়ভূমে, নিয়মিত খরার জন্য ঢেলার অভাব ঘটে না। সুতরাং, সেই দেশে স্ফটিকগৃহবাসীদের জন্য ভিন্ন নিয়ম। ঢেলা নিক্ষেপে ঢেলার সহজলভ্যতার কোন হেরফের ঘটেনা, বরং অন্য লক্ষ্যের দিকে লক্ষ্যভেদপটীয়ানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। নিক্ষিপ্ত ঢেলার সংখ্যা দুই বা ততোধিক লক্ষ্যের মধ্যে বিভক্ত হইলে মূল লক্ষ্যের বিদ্ধ হইবার সম্ভাবনা লক্ষ্যসংখ্যার সমানুপাতে হ্রাস পায়, এ কথা সম্ভাবনা গনিতের প্রথম সূত্রে সহজেই সিদ্ধ হয়। পুনশ্চ, যে শিশ্‌মহলের বাসিন্দারা নিয়মিত ঢেলা ছোঁড়ে, তাহাদের ঢেলা খাইবার সম্ভাবনা হ্রাস পায়, ও না করিলে ঐ সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং ঢেলানিক্ষেপকারীরাই ক্রমশ: নিজেদের যোগ্য প্রমান করিয়া জীবনসংগ্রামে উদ্বর্তীত হয়। এই সমস্ত তত্ত্ব যদিও বালকদের অধিগম্য হয় না, তথাপি অ্যাডাপ্টেশনের তাগিদে বালকের দল ঢেলানিক্ষেপনৈপুন্য সহজেই আয়ত্ত করে। বার্ণিক, যে কিনা জীবনের এই পর্য্যায়ে হরিকৃষ্ণ নামেই পরিচিত, তাকে দিয়ে এই সব তত্ত্বকথার উদাহরণ দেওয়া যায়।

বার্ণিকের মা চিররুগ্না এবং ঠাকুমা নাতির ক্রন্দনশান্তির চাইতে পাড়ার গুজব সংগ্রহ ও বিস্তারে ব্যস্ত থাকাটাই পছন্দ করতেন। অন্যদিকে, কালো দাইয়ের নাতিটি পাঁচ বছরেই বেশ ডাগর হয়ে ওঠায় তার অভিভাবকেরা স্থির করে রামুর বসিয়া খাইবার দিন গিয়াছে। দুই পক্ষের অভিভাবকদের কিঞ্চিৎ দর কষাকষির পর রামুকে বার্ণিকের দেখাশোনার কাজে নিযুক্ত করা হয়। কাজের প্রথম দিনেই রামুর পরনের গামছার গন্ধে ঠাক্‌মাবুড়ী ভারী বিরক্ত হয় ও বার্ণিকের বাবার কাছে রামুর প্যান্টালুনের বাজেট অ্যালোকেশনের দাবী পেশ করে। পুত্রের জন্য এমত ব্যয়বৃদ্ধি পিতার মন:পুত হয় না, কিন্তু সামান্য কারণে দাম্পত্য কলহে মাতার মূল্যবান সহায়তা লাভে বঞ্চিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। খানিকক্ষণ কানের ফুটোতে পেন্সিল চালানোর পরে বিরক্ত পিতার এপিফানি ঘটে ও নিজের যে পুরনো লুঙ্গিটি ঘর মোছার ন্যাতা করার জন্য বার্ণিকের মা চেয়ে নিয়েছিল সেটি রামুকে অ্যালোকেট করার জন্য মাকে অথরাইজ করা হয়। পাঠক লক্ষ্য করবেন বার্ণিকের পিতা ডিভাইড অ্যান্ড কংকার-এ, যাকে অধুনা মার্কিনী রাজনীতিতে ট্রায়াঙ্গুলেশন বলা হয়, বেশ পোক্ত। নিজ জননী ও বার্ণিক জননীকে বিরুদ্ধ শিবিরে বিভক্ত রাখা ও নিরপেক্ষ স্বাচ্ছন্দে ঘনঘন শিবির বদল বার্ণিকপিতার গার্হস্থ্য পলিসির হলমার্ক। সম্ভবত: জিনের ক্রসওভারের চক্করে এই অতীব প্রয়োজনীয় গুনটি বার্ণিকের হাতছাড়া হয় ও তার ফলে কার কাঠি কি করে সামলাতে হয়, পড়ুন কান্ডজ্ঞান, সেই বোধের অভাব বার্ণিকের জীবনে প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

একটি প্রমান সাইজের লুঙ্গি সামলান রামুর পক্ষে সহজ ছিল না। আবার গামছা থেকে একটা গোটা সবুজ লুঙ্গি রামুর কাছে বোনাস আর প্রোমোশন একসঙ্গে পাওয়ার মত উত্তেজক ব্যাপার। আর কে না জানে, অন্যের ঈর্ষা উদ্রেক করতে না পারলে কোন প্রাপ্তির আনন্দই যথেষ্ট হয় না। পাঁচ বছরের রামু জানে না, কিন্তু সবুজ লুঙ্গি থেকে ট্রোফি ওয়াইফ, যাবতীয় অ্যাকুইজিশনের ইচ্ছা মনের একই গহ্বরে বাস করে। কাজেই বিকেল বেলা হরিকৃষ্ণকে নিয়ে বেড়াতে বেরোনোর আগে রামু দু'ফেরতা করে সবুজ লুঙ্গি পড়ে নেয় ও অপটু হাতে বাঁধা গিট্টুর দিকে এক চোখ রেখে পাড়ার কবাডি খেলার মাঠে গিয়ে দাঁড়ায়।

কাবাডি খেলায় ব্যস্ত ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে সবুজ লুঙ্গির জন্য প্রশংসা আদায় করা কঠিন কাজ। তাই রামু কিছুক্ষণ ধারে দাঁড়িয়ে স্ট্র্যাটেজি ছকে নেয়। প্রশংসা পেতে হলে প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করা দরকার। তাই রামু উচ্চকন্ঠে দুপক্ষের চিয়ার লিডিং সুরু করে। কিন্তু কোন দলই তাকে পাত্তা দেয় না। যে গাদ্দার নিরপেক্ষ ভাবে অন্য পক্ষের ভাল চালের প্রশংসা করে, তাকে কারই বা দরকার। খানিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর রামু তার ট্যাকটিকসের ভুল ধরতে পারে ও যে দলটি জিতছে তাদের দিকে ঢলে পড়ে। সাক্সেস হ্যাজ মেনি প্যারেন্টস। আপাত জয়ী দলটিরও অনেক সমর্থক ছিল। সমর্থক সংখ্যা একটি বারায় তাদের কিছু যায় আসে নি। কাজেই রামু এবার পরাজিতদের দলে যোগ দেয়। কাকতালীয়বৎ, এই সময়ে খেলার মোর ঘুরে যায় ও পূর্বপক্ষের দু'জন ভাল খেলোয়াড় আউট হয়ে যায়। আসন্ন হারের সম্মুখীন হয়ে একটি স্কেপগোটের প্রয়োজন হয় ও একজন জেনুইন সমর্থক সেই সময় দলের সবচেয়ে বড় চেহারার ছেলেটিকে রামুর বিভীষণোচিত আচরণের কথা ইনফর্ম করে। সেই বার্তা দলের হায়ারার্কির স্তরে স্তরে বিস্তৃত হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যেই ক্রুদ্ধ দলনেতা রামুর কাছে এই হাজির হয়ে বাচ্চা মীরজাফরের নাম জানতে চায়। এমবিএ কি জার্নালিজম পাশ না করেও রামু জানে যে কোন পাবলিসিটিই ভাল পাবলিসিটি। সে বুক ফুলিয়ে নিজের নাম ও পেশা জানায়। পাতি মধ্যবিত্তের এই আনক্লেভে একে লুঙ্গি তায় এমত অসংস্কৃত নাম, তদুপরি অনার্য্য পেশা। খেলোয়াড়েরা বোঝে কবাডিতে হারের দু:খ অজস্র খিল্লিতে মেটানো যাবে।

দুই-চারিটি হাসি-ঠাট্টা শোনার পরেই রামুর রিয়েলাইজেশন হয় এইখানে খাপ খোলার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ হয় নি। অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সাথে মানুষ ড্যামেজ ক®¾ট্রালে দড় হয়। রামু এই বয়সেই যথেষ্ট অভিজ্ঞতা জোগাড় করেছে। সে দ্রুত বোঝে এই প্রমোদপ্রবন জনতাকে খিল্লির নূতন উপকরন দিতে না পারলে বিপদ এড়ানো শক্ত। সে এও বোঝে যে তার প্রভুপুত্রের নামটি খিল্লির পক্ষে তার নিজের নামটির চেয়ে সরেস। সুতরাং সবুজ লুঙ্গির কৃতজ্ঞতা কাটিয়ে সে তার টরমেন্টরদের জানায় যে তার কোলের বাচ্চাটির নাম হরেকেষ্ট। জনতা এখন এমন একজনের খোঁজ পেয়েছে যে নিজের শ্রেনীচিহ্ন পরিত্যাগ করে অধ:পতিত শ্রেনীর নামচিহ্ন ধারণ করেছে। সুতরাং তারা বালক হরিকৃষ্ণকে ঘিরে বিদ্রুপে ফেটে পড়ে। কেউ কেউ আঙুলের খোঁচা ও অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের ডিস-অ্যাপ্রুভাল ব্যক্ত করে। বালক হরিকৃষ্ণ পালানোর চেষ্টা করে রামুর কোল থেকে পড়ে যায় ও যারপনাই বেদনা পায়।

এই ঘটনায় বার্ণিকের পরবর্তি জীবনের সারাংশ ধরা পড়ে। বার্ণিক মূলত: মিসফিট। সে মিসফিট হয়েই জন্মেছে, এবং মিসফিট হয়েই তার জীবন কাটবে। সে যতই নিজেকে মানিয়ে চেষ্টা করে, ততই সে আরো বেশী মিসফিট হয়ে যায়। বার্ণিক সেই ঈশপের গল্পের ছাগলের মত। একই কূপে নিপতিত শৃগাল ছাগলের মাথায় পা দিয়ে কূপ থেকে নির্গত হয় ও ছাগলের পরিণতির কথা লিখতে ঈশপ ভুলে যায়। সারা জীবন ধরে মিসফিটত্ত্বের সিম্পটমগুলিকে বার্ণিক তার পার্সিকিউশনের কারন বলে ধরে নেয় ও সেগুলি সারানোর চেষ্টা করে যায়। রামুর কোল থেকে পালানোর চেষ্টায় যে ব্যর্থ প্রচেষ্টার আরম্ভ, তার দীর্ঘ লিস্টিতে বার্ণিক সারা জীবন ধরে যোগ করেছে নাম বদলানো, কবিতা লেখা, অধ্যাপনা, রাজনীতি এমন কি ভালবাসা। সেই অর্থে এই বার্ণিকজীবনী মিসফিটদের জন্য ঈশপের গল্প।

(চলতে পারে)