আপনার মতামত         


     
কয়েকটি কবিতা
হিন্দোল ভট্টাচার্য

স্মৃতি
-------

তোমার ভিতরে এক ছলনার ভাষা শুনতে পাই
কোথায় যে কতো দূরে আছো ...
আমার জীবন থেকে বহুদূরে ভেসে যায় দুএকটি পালক
যেখানে কোথাও কিছু নেই আমি চলে যাবো সেখানে একদিন
এখন যেটুকু মনে পড়ছে আমি তোমাকে জানাই
আমারো জীবন ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর


লিপি
--------

যাব না বলবো না কিছু যদি রক্ত ছিটকে পড়ে আজ
তাকাবোনা ফেলে আসা সন্ধ্যার ভিতর
যেদিকে কখনো কেউ ফিরেও তাকায়না আমি সেদিকেই যাবো
কখনো তোমার কাছে পাঠাবোনা আমার নি:শ্বাস
কেবল শরীরটুকু পেতে আছি দ্যাখো
যেটুকু বলার ছিল হয়ে গেছে বলা


জকি
------

আমাকে ছুটিয়ে মারে নিয়তি, এক দিকশূন্য রাস্তায় কেবল
আমিও পাগল শুধু সময়ের ডাকে সাড়া দিয়ে
কেশরে গরম হলকা নিয়ে ছুটে যাই
ফলে পুড়তে পুড়তে ছাই মিশে যাই আলোঅন্ধকারে
আমাকে ছুটিয়ে মারে প্রেম, মৃত্যু শিল্পীর সাহস
শিশুর অর্ধেক কথা, অঙ্কুর, কালবৈশাখী মেঘ
দিকহীন, দেওয়ালহীন দুটি হাত ডানা হয়ে যায়


দর্পণ
-------

হারিয়ে ফেলনা তুমি ঐ মুখ নিজের আয়নায়
যে আজ তোমার চোখে
জল, তারও কথা মনে রেখো
হারিয়ে ফেলনা তুমি
পাখির মনের মতো
কোথাও না কোথাও জেগে থেকো

আমার মৃত্যুর দিন

যখন রাত ভাসে গোপন সুরে
আমার মনে
     বাগান ঝরে যায়

বিষাদ তুমি তখন ডেকে ওঠো
হিংসা ছুটে
কামড়ে ধরে পায়ে

আমি কি তার অভিজ্ঞতা জানি?

আসে গভীর মৃত্যু কাতরতা
সহনশীল পাগল শরীরের

চোখে তখন ভোর লেগেছে প্রায় ...



২০০৭
---------
এখন আমার তেমনভাবে কিছুই মনে পড়ছেনা ঠিক
হয়তো মনে পড়ার কথাও নয়
কেবল নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া করে যাচ্ছি
আর একটা অদ্ভুত পোড়া গন্ধে ভরে উঠছে আমার ঘর...
কোথায় আমার দেহ নিজেই জানিনা