আপনার মতামত         


সেই শস্য অগণন মানুষের শব ?
যশোধরা রায়চৌধুরী

১।

"One desires freedom as long as one does not possess power. Once one does possess it, one desires to overpower." -Nietzche


একটা আÏéকার লোকগাথা অনেক দিন আগে শুনেছিলাম, এক শিল্পপতির মুখে। গল্পটা উন্নয়ন বিষয়ে, আর সেজন্যেই এই মুহূর্তে হঠাৎ খুব প্রাসωক হয়ে উঠেছে ।

এক মুরগি এবং এক শুয়োরের ভেতরে খুব বন্ধ¥তÆ । মুরগি ও শুয়োর হাঁটছে পথ দিয়ে, আর আলোচনা করছে দেশের ও সমাজের উন্নতির কথা । বলাবলি করছে , সারা দেশের লোক এখন উন্নয়নের চেষ্টায় কতটা আত্মত্যাগ করছে , কত বড় বড় কাজ করছে সবাই, কত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে । মুরগি বলে ওঠে হঠাৎ , চলো বন্ধ¥ , দেশের জন্য, লোকের জন্য আমরাও কিছ¥টা আত্মত্যাগ করি । রোজ সকালে আমরাও কিছ¥টা খাদ্য জ¥গিয়ে দেশের মানুষকে উন্নয়নের কাজে সহায়তা করি । ধরো, আমি রোজ সকালে আমার একটি করে ডিম জনগণকে উৎসর্গ করলাম । ত¥মিও, তোমার এক পাউন্ড মাংস উন্নয়নখাতে বরাদ্দ করলে । কেমন, ভালো বলিনি?
শুয়োর উৎসাহিত হয় । উদ্দীপিত হয় । এ নিয়ে তারা সোৎসাহে আলোচনা করতে থাকে । আরো খানিকটা পথ চলার পর হঠাৎ শুয়োর থেমে যায় মাঝরাস্তায় । মুরগি বলে, কী হল বন্ধ¥ ? শুয়োর বলে, দ্যাখো , ত¥মি যে প্রস্তাবটা দিলে, আমার মনে হচ্ছে এর মধ্যে কোথায় যেন একটা গন্ডগোল আছে ।
মুরগি বলল : কি গন্ডগোল?
শুয়োর বলল, তোমার আত্মত্যাগ আর আমার আত্মত্যাগের মধ্যে কোথায় যেন তফাৎ আছে , মনে হয় না তোমার?
মুরগি বলল, আছে নাকি ?
শুয়োর বলল, আছে বন্ধ¥, আছে । তোমার যে ডিম দেবার কথাটা, সেটাতে কোনো অসু¤বিধে নেই, কারণ রোজ একটা করে ডিম দিলে ত¥মি মরবে না । কিন্ত¥ আমাকে যে কাজটা করতে বললে, ভেবে দেখেছো কি, সেটা করতে গেলে উন্নয়নের ফল পাবার জন্য আমি আর জানেপ্রাণে বেঁচে থাকব না ? আমার আত্মত্যাগ মানে একেবারে অক্কা !

গল্পটা কেন এ মুহূর্তে খুব প্রাসωক, সেটা বোধহয় বুঝিয়ে বলবার অপেক্ষা রাখেনা । তবে এই কলকাতাকেন্দিÊক শহুরে "বুদ্ধি"জীবীদের মহলে যে শুয়োরের চেয়ে মুরগিদেরই রমরমা বেশি, সে কথা ভেবে নিজের দিকে তাকিয়ে ইদানীং কেমন যেন হীনম্মন্যতায় ভ¥গছি । আর শিল্পায়নের …ণকীর্তণ করে আমরা যারা নিজেদের মনকে চোখ ঠারছি , আর আরো বেশি করে নিজেরাই মুর্গি হচ্ছি, তারা বুঝছি তো , যে শুয়োরের বুদ্ধিতেও এই কথাটা ভালো বোঝা যায়, যে নিজে বেঁচে থাকাটা ভাষা, ভাব, তর্ক, বিতর্ক, উন্নয়ন, শিল্পায়ন ইত্যাদির আগে এবং এ…লোর চেয়ে বেশি জরুরি !



২।

"You are telling a poor tiller of the land that his livelihood will disappear and that if you wait for 15 years he might get a job in a new factory. It is not going to be acceptable," -Ashok Mitra

প্রশ্ন…লো পরতে পরতে আসে । এখন , হয়ত মাথা ঠান্ডা করে ভাববার সামান্য অবসর এসেছে । যাঁরা ১৪ তারিখের মর্মান্তিক ঘটনাটা ঘটবার ঠিক পর পর যুক্তিজাল বিন্যাস করছিলেন, তাঁদের আমার কেন অশালীন বলে মনে হয়েছিল , বলেছি কোনো কোনো লেখায় । আসলে মানুষের বেঁচে বর্তে থাকাটা তো তার ভাষা, যুক্তি, কথা, "গণতান্ত্রিক পদ্ধতি", এসবের অনেক আগে জরুরি , তাই, মৃতদেহের স্তূপ সামনে নিয়ে কোনো শান্ত , অথবা শাণিত, আলোচনা করা যায় না ।

এরপর হলদি নদী দিয়ে অনেক জল ( অনেকের মতে, রক্তও ) গড়িয়ে গেছে । কলকাতার জনগণ, যাঁরা টিভি দেখেন ও খবরের কাগজ পড়েন, তাঁরাও এতদিনে নিজের মনের মত করে ভাগাভাগি করে নিতে পেরেছেন দু তিনটে কাগজ, দু তিনটে টিভি চ্যানেল । সংবাদমাধ্যম নামে একটি বস্ত¥র অস্তিতÆ যে গণতন্ত্রে নির্মোহভাবে , ভারসাম্য বজায় রেখে , নির্জলা সত্য প্রচারের জন্য রচিত হয়েছিল, সেটা আমরা ভ¥লেই গেছি । মাধ্যমও এখন একটি প্লেয়ার , রাজ°নতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী । তাই এখন আমপাঠকের , অর্থাৎ জনগণেরই দায় , বেছে বেছে , ঠিক মাধ্যমটি ( পড়¥ন নিজের পছন্দমতো মাধ্যমটি ) থেকে খবর…লো সংগ্রহ করে নেবার। এবং সেই খবরের উপরে কতটা আÙÛ¡ রাখবেন, কতটা অন্ধ বিশ্বাস বা সন্দেহময় বিচারবিবেচনা জারি রাখবেন, ঠিক করার ।

যেমন যে কোন দায়িতÆবান নাগরিকের দায়, উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ক«ষি বনাম শিল্প, এইসব শব্দের নানান অর্থ, নানান ব্যঞ্জনা, বুঝে নেবার। চোখ কান খোলা রেখে জেনে নেবার , আমার ভালো ,আপনার ভালো, ওদের ভালো, তাদের ভালো,কোনটা । এবং সবার ভালো বলে আদৌ কিছ¥ হবে কিনা ।

এটাও বুঝে নিতে হবে যে এখানে দুটো আলাদা বিষয় একজায়গায় এসে মিলেমিশে গেছে :

এক । একটি মানবদরদী , শ্রমিক ও ক«ষকের পার্টি রাষ্টেÊর অন্তভ¥Ñক্ত হলে , তার মুখ কি ভাবে পালটে যায় । এটা কেবলই পশ্চিমব®‰র সমস্যা । এবং সমস্যাটা যে ১৪ মার্চই শুরু হল, তাও নয়, এমনকি, ৬ জানুয়ারি ২০০৭, বা সি‰¥রে ২ ডিসেম্বর, ২০০৬ -এও নয়। বহুদিন ধরেই, পাওয়ার করাপ্টস , অ্যান্ড অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসলিউটলি, বলে সেই অমোঘ বিধিবাক্যকে সত্য করে, ক্যাডারতন্ত্র, সমাজের প্রতি ক্ষেত্রে চারিয়ে গেছে । শুধু শিল্প ও ক«ষির এলাকার বাইরে, সরকারের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি প্রকল্পের টাকা বিলিবন্দোবস্তে, শিক্ষা, স্বাÙÛÉ , সংস্ক«তির প্রতিটি অলিগলিতে । সে কথা ভাবতে আমাদের রুদ্ধশ্বাস লাগলেও আমরা সব ভ¥লে মিঠে কড়া, টক মিষ্টি , সহিংস ও অহিংস, নানারকমের বিচ্ছিন্নতার গল্প কবিতা লিখে দিব্যি ছিলাম। হঠাৎ যেন ১৪ টি শবদেহ আমাদের মধ্যে একটা ভূকম্পন ও বিপর্যয় ঘটিয়ে দিল ।

দুই । ভারতের সমস্ত জায়গায় কেন্দÊ£য় পরিকল্পনা অনুসারে যে সেজ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে , সেই সেজ নীতি আসলে কতখানি বড় ধাক্কা খেল এই ঘটনায় , সেজের বিরুদ্ধে ওড়িশা, হরিয়ানা , ভারতের নানা প্রদেশের দানা বেঁধে ওঠা আন্দোলন…লি কীভাবে নিজেদের রসদ সংগ্রহ করে নিল নন্দীগ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের আন্দোলন ও রক্তক্ষয় থেকে । এখানেই, সমস্যাটি , আর পশ্চিমব®‰র থাকে না। এটা হয়ে ওঠে ভারতের, তথা ত«তীয় বিশ্বের সমস্যা । কারণ চিন, পোল্যান্ড , ফিলিপিনস, কাজাকস্তান, পেরু ও ভারত এখানে একসূত্রে বাঁধা । এখানে প্রশ্ন ওঠে , আমেরিকার আবিষ্ক«ত সেজ-ধারণা , দেশের ভেতরে আর এক দেশ রচনার প্রকল্প , কতখানি কাঙ্ক্ষিত ভারতের জন্য । সেসব আলোচনা করবার জন্য অর্থনীতির মানুষেরা অনেক বেশি যোগ্য । উন্নয়ন, বড় পুঁজিকে নেমন্তন্ন করে ডেকে আনার জন্য আছাড়িপিছাড়ি, এবং স্টÊ¡কচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট-এর বাধ্যতামূলকতা, ভারতের জাতীয় °চতন্যকে কতটা পেড়ে ফেলেছে , কতটাই অপরিবর্তনীয় এই বাজার অর্থনীতির সর্বগ্রাসী অভিমুখ । কোনো রাষ্টÊ এই নয়া অর্থনীতির সামনে অন্য কথা বলে দাঁড়াতে সক্ষম নয় ।

এবং এখানেই গল্পটা ফিরে আসে পশ্চিমব®‰ । কারণ বামপ¿Û£ সরকারকেও শেষ অবধি মেনে নিতে হয় সেই ঐতিহাসিক , অপ্রতিরোধ্য নয়া অর্থনীতির ডিকট্যাট । নিজের মনটাকে সমন্বয় মুখী, নিজের পার্টিটাকে গণতান্ত্রিক ও আদানপ্রদানের উপযুক্ত, বিরোধিতার প্রতি সহনশীল না করেই , যোগ দিতে হয় প্রাইভেট পুঁজির সম্মোহনী রথযাত্রায় । লাফিয়ে পড়তে হয় ব্যান্ড-ওয়াগনে ।



৩।

“Charity begins at home.” – old proverb.

দায় থেকে যায় আরও একটি । নিজের বিবেকের কাছে বিশ্বস্ত থাকবার।

এ মুহূর্তে আমার নিজেরও, আমার সবচেয়ে স্বত:স্ফূর্ত প্রতিবাদটিকেও, কোনো এক জায়গায় বুঝে ও পড়ে নেবার প্রয়োজন আছে । "ঘুমোতে যাবার আগে প্রশ্ন করো, ত¥মি কোন দলে ? - ইদানীং প্রায়শই উচ্চারিত এই কবিতাপংক্তিটি দুভাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে আজ । এক দল বলছে, যারা প্রতিবাদী, তারা হয় মাওবাদী, নয় প্রতিক্রিয়াশীল দক্ষিণপ¿Û£ । এটা পরিচিত রিঅ্যাকশন । ক্ষমতা এভাবেই ভাবে । ইরাক যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধবিরোধীদেরকে জর্জ বুশ বলেছিলেন, "either you are with us , or against us. " আসলে এইভাবে ভাবলে ত«তীয় কোনো বিচার বিবেচনা-সক্ষম কন্ঠস্বরকে খুব সহজেই ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া যায় । যাঁরা যুদ্ধ চান না , তাঁরা সবাই দেশদ্রোহী আখ্যা পান, যেমনটা হয়েছিল চিনযুদ্ধের সময়ে, ৬২ তে ।
কিন্ত¥ অন্য ব্যবহার ? ভেতরের ব্যবহার ? যেখানে নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করে যেতে হয়, আমি কি ধর্মপক্ষে আছি ? না কি অধর্মপক্ষেও .... প্রয়োজনে ....?

তার থেকেও বোধহয় বেশি প্রয়োজন হল, চ¥প করে বসে একট¥ তাকিয়ে দেখবার। কারণ , আমরা যারা নিজেদের বুদ্ধিজীবী মনে করি , তাদের বোধহয় সেইট¥ক¥ বুদ্ধির ইদানীং খুবই অভাব দেখা যাচ্ছে । ইতিহাস ও সময়কে দেখার , বিচার করার , পড়ে নেবার জন্য প্রয়োজনীয় °ধর্যট¥ক¥ও আমাদের যে নেই, বলতে কি, সময়ই নেই এত পরিশ্রম করবার, তার চেয়ে ঢের বেশি …রুতÆপূর্ণ কোন না কোন মঞ্চে উঠে পড়া, কোন না কোন বহি:প্রকাশের মধ্যে নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়া।

এটা বলার যুক্তিটা আসলে নিজেকেই এই কথা…লো বলা। প্রতিমুহূর্তেই নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া যে, আমি যে কথা বলছি, যা কিছ¥ করছি, সে…লো সততা নিয়ে করছি তো ? হাততালি ক¥ড়োবার জন্য করছি না তো ? এই বোধটা খুব জরুরি । আয়নার দিকে তাকানোটা ও এ মুহূর্তে ঠিক ততটাই জরুরি । কারণ আমাদের লড়াই আসলে বাইরের সাথে নয় । লড়াইটা ভেতরের । লড়াইটা অসত্য ও সত্যের । মানবিকতা ও অমানবিকতার । এখানে মানুষের রক্ত নিয়ে কথা হচ্ছে । সন্ত্রাস নিয়ে কথা হচ্ছে । সন্ত্রাস কি শুধু পুলিসের বুলেটে থাকে ? বা পুলিসের পোষাক পরা ক্যাডারের ভেতরে ? পরিবারে, সমাজে, পাড়ায়, মোড়ের মাথায়, সাহিত্য সভায়, মঞ্চে, সন্ত্রাস থাকে না ? প্রতিটি সন্ত্রাসই তো মূলে কোথাও একেবারে এক ? প্রতিটি সন্ত্রাসই তো রক্ত নিয়ে খেলা করে । মানুষকে পশুর মত কাটে ? তাহলে লড়াইটা কোথায় শুরু হয় , সেটা বুঝতে অসু¤বিধে হবার তো কথা নয় ।

যে মানুষ নিজে অসৎ , নিজের জীবন যাপনে, কথায়বার্তায় অসৎ, যে মানুষের কেন্দেÊ কোথাও একটা মিথ্যে ঢ¥কে গেছে, তাকে এই মুহূর্তে যদি পাশেও পাই , নিরন্তর নিজেকে মনে করিয়ে দিতে থাকি, এই সব পাশে থাকার কোন মূল্য নেই । উল্টোদিকে এখন যদি আসে চূড়ান্ত একাকিতÆ, তা বরং হবে ঢের ঢের বেশি জরুরি এক আত্ম সমীক্ষণের মুহূর্ত ।

আমরা ছোটবেলা থেকেই তো রবি ঠাক¥রের ওই গানটি কত রোম্যান্স নিয়ে গেয়েছি , " যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি / ঝড় উঠেছে ওরে এবার ঝড়কে পেলেম সাথি " । আজ হঠাৎ বুঝতে পারছি , কত চূড়ান্ত বেদনা ও তীব্র যন্ত্রণা ভেতরে থাকলে একজন মানুষ জীবনের কোনো মোড়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ অনুভব করেন গানের ওই কথা…লি । যে আ…ণের উপরে হাত একবার রেখেছে , সেই কেবল জানতে পারে , আ…ণে ঝলসে যাওয়ার অনুভূতি কেমন ।

কোনো কোনো প্রাজ্ঞ ও প্রবীণ মানুষ আমার প্রতিবাদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন । কেউ বলেছেন, যদি পারো, এর ভেতর থেকে নিজের সৃষ্টির উপাদান খুঁজে নাও । নীরবে লক্ষ্য করো সমাজ ও রাজনীতির গতি প্রক«তি , কেউ বা বলেছেন । এখন বদলের সময় । এই তো সবে শুরু । যা কিছ¥ ঘটেছে , তার ভেতরে তোমার অংশ খুবই অল্প , তোমার ভূমিকা খুবই নগণ্য , জেনে রেখো , তাঁরা বলেছেন । আসলে ওই যে মানুশ…লি মরতে মরতেও লড়ছে, লড়ল, ওই যে যারা মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, যে মেয়েরা …লিবিদ্ধ ছেলেটিকে ত¥লতে গিয়ে পুলিশের লাঠি কেয়ে সরে গেল , ওদের জোরটা দেখো । এবং বোঝো, এর কোনোকিছ¥ই কিন্ত¥ এমনি এমনি হচ্ছে না । এর সবটাই একটা বিরাট ঘটনার অংশ । সেই বিরাট ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করো , দেখবে , খানিকক্ষণ পরে তোমার মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়বে । ত¥মি সহজে বুঝতে পারবে না । কারণ এটা বোঝার জন্য শ্রম চাই ,অধ্যবসায় চাই ।

এই প্রবীণেরা আমাকে জানিয়েছেন, আমার প্রতিবাদ তাঁদের মন:পুত, কিন্ত¥ তা এই বিশাল গণ আন্দোলনের নিরিখে কিছ¥ই নয় । আর সেই গণ আন্দোলন তো শুরু হয়ে গেছেই । তাকে বুঝে নেওয়াই তো আসল কাজ । কারণ ঘটনাটা ঘটছে মানুষের দ্বারা । মব বা দিশাহীন ভিড়ের দ্বারা নয় । গ্রামের প্রতিটি মানুষ , যাদের অস্তিতÆ এখন প্রশ্ন চিহ্ন আত¥র, যারা এতদিন একটি নির্দিষ্ট পার্টিকে ভোট দিত, তাদের হয়ে মিছিলে যেত, এখন পায়ের তলার মাটি কেড়ে নেবে সেই পার্টিরই লোক, সে কথা ভেবে যারা রুখে দাঁড়াচ্ছে , আর যাদের হাতে মারের পরে মার খেয়েও তাদের বিশ্বাস, যুদ্ধ করার মন, এতট¥ক¥ টলছে না। এরাই আসল জায়গা । এদেরকেই অনুধাবন করো । নিজেকে এই আ…ণের ভেতর দিয়ে হাঁটাও বার বার । নিজেকে এভাবেই বদলে নাও, আর পৌঁছতে চেষ্টা করো কোনো চিরসত্যে । তবেই তো উত্তরণ । নিছক প্রতিবাদের পর কোনো শূন্যতা , দিকভ্রান্ত অশান্ততা, যেন গ্রাস না করে তোমার বুদ্ধিকে ।

এক মুহূর্ত থেমে , চ¥প করে, ভাবছিলাম : এখনো তো আমাদের বন্দরের রোদে, যেসব ফসল নিয়ে উপনীত হয় জাহাজ…লি, " সেই শস্য অগণন মানুষের শব " রয়ে গেল । যার পুষ্টিতে আমরা কমপিউটার খুলে চিঠি লিখি বন্ধ¥দের, খাইদাই, ঘুমোই, রাজনীতি করি ?

এ আসলে একটা মৃত্য¥তন্ত্র । এর সাথে লড়াই তো নন্দীগ্রামের মূক মুখেরাই করবে , কারণ ভাষাহীনতাই বোধ হয় এখন এক মাত্র অÙ» ।
নীরবতা, ভাষাহীনতা, কন্ঠস্বরহীনতার লড়াই তো এই শুরু হল সবাক, ভাষাময়, আইন শৃঙ্খলাময় রাষ্টÊনিয়ত সমাজের স®‰ । নন্দীগ্রাম আমাদের দেখাচ্ছে, দলহীন, মঞ্চহীন, কোন হিলিং টাচ -বিহীন একটি কন্ঠহীনতার কত জোর থাকতে পারে ।