আপনার মতামত         


কয়েকটি কবিতা
অর্পণ চৌধুরী

এপ্রিলের অক্ষরমালা

শারীরবৃত্তের ফাঁদে আটকে থাকো তুমি, এপ্রিলের অক্ষরমালা
রমণ চেনাতে গিয়ে করেছ এ যাবৎ যেরূপ গভীর ভণিতার ছল
অথচ গেয়েছি যে গীতিমালা, সুস্পষ্ট, নিবিড় ওই মেঘঘুমে,
উল্লাসে, মগনে, যে মাধ্বী পান করে যাই সারাদিন, মিথনির্মাণকালে,
চিনে রাখি সেসব সম্ভাব্য অঙ্গারচিহ্নের মত, অনুসারী বিস্ময়ে

আমরাই হাওয়ামোরগের দল, খড় ও পালকের, নেমে আসে
বহুদূর মহাদেশের কল্পিত সান্ধ্যস্মৃতি, এই খুলে রাখা চুলে
যদিও নেই কোন প্রসন্ন দৃষ্টির বলয় এইসব বৃক্ষ ব্যতিরেকে
নেই কোন নবীন সাকি, আমাদের জন্য, এই নির্জনতম এপ্রিলে
শহরের সব ব্যস্ত পানশালাগুলি ছেয়ে আছে মরশুমি ছত্রাকে।


ব্যক্তিগত বসন্তদিনের অ্যালবাম



সনক্লিফ রোডের ধারে ডিসকাউন্ট শপ আছে। রাবারের টিউব হাতে মেমবালিকা। ঘামতেলের শিশি। দীর্ঘদিন সমুদ্র অদর্শনের পর অচেনা পুরুষের রোমকূপে নরম দাবদাহ। এখানে পিঠ পেতে রাখো ঢেউয়ে এত ভয় কেন? ঢেউ ছাড়া কি সমুদ্র মানায়?

তবে কি খুব ছোটবেলায় পিছন থেকে কেউ এমন এসেছিল |||



সারি সারি সুতীব্র স্তনাকৃতি পাহাড়। দেবদূতেরা নেমে জল খাবেন এখানে। ইঞ্জিন হাঁপাচ্ছে। কালোকোলো ছেলেমেয়ে। একটার কোলে চেপে আরেকজন। এখান থেকে কাউকে নিয়ে যাবো। আমাদের বারো বাই দশের ড্রয়িংরুমে। অনেক বসন্ত পরে সেখানে ফোন আসবে একটা। অন্য মহাদেশ থেকে। মামুলি কুশল সংবাদ বিনিময় হবে।

সেসব দিনে এ আমাদের গাছের মত ছায়া দেবে।



অনেক পর্যটনের পর আজ আবার লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা হবে। পলেস্তারা খসা দেওয়ালে প্রাচীন চুনকাম। নাকভাঙ্গা মিথুনমূর্তি। এইমত কথা ছিল। লবণ ও সন্ন্যাসী। পাশাপাশি অসুখী রাত গমের মত বাড়ে। বাইরে ফ্যাকাশে চাঁদের আলোয় কারা ঘোরাফেরা করে। দরজায় এসে পা ঠুকে ফোঁস শব্দে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

যূথবদ্ধ তোমার পুরানো প্রেমিকেরা। ওদের দানাপানি দাও।



বড় একটা আলু ইনকারা সমাধি দিত তাদের প্রিয়জনের সাথে। রুশ কৃষকেরা আলুর বীজে হাত দেয়নি অনেকদিন। শেষে রাজার সেনারা গিয়ে তাদের চাষবাসে মন দিতে বাধ্য করল। স্রেফ আলু না খেয়ে আইরিশ জনসংখ্যার অর্ধেক উবে গিয়েছিল। তাও খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। এসব কথা তোমার অজানা নয়।

তবু মহাজাগতিক বস্তুসমূহেরা চিরকাল শ্বাসরোধী মিলনের কথা ভাবে। যেভাবে খাবার প্লেট থেকে আলুর টুকরো ছিটকে গেল তোমার শার্টে। একজন গণিতবিশারদ তাই দেখে বিগব্যাং থিওরি প্রমাণ করতে বসল।



মুখোশ

রঙীন পাসওয়ার্ড চুরি করে জমাচ্ছি পকেটে। বিকেলে ধীরে ধীরে হাটে যাবো জমানো সঞ্চয় নিয়ে। সব বেচেবুচে কিনব ছোট ছোট তালা খোলার চাবি, লাস্ট বাস ছেড়ে যাবার আগে পর্যন্ত লিখব তোমাকে রোদ্দুরদিনের চিঠি, পাতার মুকুট পরে আবার যাবো তোমার সেই হলুদ দেওয়ালের বাড়ির সামনে। একতলার ঘরে ধুলোয় জমে আছে সারি সারি আফ্রিকান যোদ্ধার মুখ। তাতে বহুকাল আগের ঘামের গন্ধ। যেবছর তোমরা পাড়ি জমালে অন্য গোলার্ধের জ্যামিতিতে, আপেলফুলে ভরে ছিল জাহাজের ডেক আর হাওয়ালন্ঠন বানাবার নেশায় ভরে গিয়েছিল সবার অঙ্কের খাতা।



সাঁকো

অবতল স্মৃতির ঘেরে এইখানে শুয়ে থাকি, গত জাহাজডুবির পর,
প্রতিসরিত আলোটির পথ ধরে বশিরেরা আসে,
খাওয়াদাওয়া সারে চুপচাপ,
তার ছোট ছেলেটি না-লেখা পাতার নৌকো বানায়

রাতের বর্ণমালা হিমে ভিজে ক্রমিক ভারী হয়ে উঠলে
আমার শরীরে শীতকামনা জাগে, ফেরানি মাঝিটিকে ডেকে নেই,
মধ্যে মধ্যে তার নাবাল চোখে আলগোছে ভীতি দেখি
যখন অল্প আয়াসে ঘাম গড়ায় তার চিবুক ও গ্রীবায়

নদীপথে বাঁকের কাছে এইসব ভ্রাম্যমাণ রূপকথারা জমে থাকে।
জুয়াড়িরা জানে সে সুলুকসন্ধান।