আপনার মতামত         


বৈকালী
শিউলি মুখোপাধ্যায়

১।
কখনো বিকেল হলে চোখ ভরে জল এসে যায়,
টুকরো মেঘের দল পুরোনো সে রূপকথা জানে,
আয়নায় তোমাকে দেখি, তুমিও বুড়িয়ে গেছ কত,
এখনও কি মনে পড়ে কখনো-সখনো?

দুপাশে গাছের দল মাথা নাড়ে এলোমেলো কত,
আমার গাড়ির কাঁচে টোকা দেয় ভিখারি বালক,
সেই ভাবে জীবনের দরজায় দিয়ে যাই টোকা,
আমাকে ভিখারি করে তুমি আর কতটুকু পেলে?

আমার সুখের দিনে অনেক পায়রা উড়েছিল,
অনেক বেড়াল-বিয়ে, হাজার আতসবাজি আলো,
এখন বিকেল শেষে তানপুরা হাতে বসে থাকা।
মাঝে মাঝে চোখে জল ভরে আসা ভালো, খুব ভালো


২।
প্রিয় কবিতা, জলছবি,ঘুমের ওষুধের বড়ি,
দৌড়ে যাওয়া কাঁচ দেওয়াল, 'সবটুকু ভালোবাসা
তোমায় ঘিরে' ক্যাসেট ঢাকা, কেরোসিন তেলের
নীল শিখা। গড়িয়ার মোড়ে দুটো মিনি,
আর হারিয়ে যেতে গিয়ে পথ ভুলে
আবার ফিরে আসা, দুটো টাকা পেলে
এক টাকার ফুল অবশ্যই... কিন্তু
এক টাকার লটারিও হয়। সামান্য বৃষ্টি
হয়ে গেলে পথ ঘাট, পুজোর বাজারে
ম্যানিকুইনের মানুষী অভিলাষ, মাসের শুরু
তাই ম্যাটিনি শোএর ভিড় ভাঙছে। এ
রকম ভাবে হাঁটতে হাঁটতে,ধোঁয়া উঠছে
কতকালের শ্যাওলা-বারান্দার তোলা উনুনে,
যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত বাস স্টপ ছাড়িয়ে
গেলেই অবশিষ্ট ট্রাম পিছু ডাকবে, দাদা
নেবেন নাকি, সমস্ত মাল দশ টাকা দশ
টাকা। তবু দশ টাকাও অত্যন্ত বেশি
আর এখনও দুটো পাতিলেবু কেনা হয় নি, মাংস
কিনব ভাবলে পকেটও অবাক হয়ে পড়ে, আর

কাকেরা সমস্ত হট্টগোলে নাক গলায়...
তবুও কেন যেন গাছেরা রোদ মেখে হাসছে।
আর বারে বারে ফিরে আসছ নীল
শার্ট পরা যুবক এখনও তুমি...

৩।
যেতে যেতে একদিন থেমে যাবো
হাত ধরে কিংবা
না ধরেই।
হাত ধরা কোনদিন হাতে-ধরা হয়ে যায় যদি
তার থেকে হাত-ছাড়া হয়ে থেকো।
বিকেল শেষের কোনো ছন্নছাড়া পাখি
আমায় হঠাৎই মনে পড়াবে তোমাকে।
যেমন প্রত্যুষের রোদ
প্রত্যহের, তবু যেন প্রত্যহের নয়
তোমায় কেমন মনে পড়াবে আমায়।
থেমে যাবো এই ভেবে,
তারপরে যাওয়া হোক,
না-যাওয়াও হোক

দূর থেকে দূরে শুধু ব্যপ্ত হোক
থেমে যাওয়া
চিরমুহূর্তটি।


৪।
ভিড়ের মাঝে নয়, হাটের মাঝে নয়,
একলা কোন নির্জনে,
পলক ভরে চাওয়া, মিটলো সব পাওয়া,
জীবন ভরে ছিল মনে।
অনেক দিন পরে হিসেব মেটাবার
সময় খুলে দেখি পাতা,
শূণ্য সব কিছু, নিরাভরণ মনে
একটি জুঁই ফুল গাঁথা...