বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

সোমনাথ রায়

ক) ঐতিহাসিক ভুল

আমরা যে পরিমন্ডলে বড়ো হয়েছি, সেখানে এমন একটি দল আছে, যাকে আমরা বেশ কিছুদিন গিলতেও পারি না এবং ওগড়াতেও পারিনা। সেই দলটি ঐতিহাসিক ভুল করে থাকে। প্রধানমন্ত্রিত্ব বিতর্ক থেকে নাগেরবাজার প্যাক্ট বিভিন্ন নিদর্শন তার। তবে দলের মাথারা আত্মসমালোচনা করেন। নিজের সমালোচনা নিজে করার একটা সুবিধের দিক হল তাঁদের অন্যের সমালোচনা স্বীকার  করতে হয় না। ফলে এই দলটির ব্যাপারে আমাদের আর কিছু তেমন এখন বিশেষ লিখে লাভ নেই। তাও শুরুতে গণেশপুজোর মতন রাখা রইল। বাকি উপাচারে এতদাধিপতয়ে শ্রীবিষ্ণবের মতন ফুল দেব মাঝে মাঝে।

খ) সংঘ নাকি সংগঠন

যেহেতু আলোচনা পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আর এই বক্তব্য লোকসভা ভোটের শোকসভায় পাঠের জন্য পাঠানো হচ্ছে, ফলতঃ সুরতহালে কী এল জানতে চাইব বৈ কী! প্রথমে দেখার এই ১৮র ৪২ কি সংঘের কেরামতিতে হতে পারে? সংঘ পরিবার, হিন্দুত্ববাদী এই গোষ্ঠীটি বাংলায় বহুবছর ক্রিয়াশীল, বাকি ভারতের মতন। তবে মধ্যিখানে বাম আন্দোলনের ঘনঘটায় এদের টার্গেট অডিয়েন্স অন্য রেখায় প্রতিসৃত হয়েছিল। কিন্তু কলকাতাকেন্দ্রিকতা থেকে অফ ফোকাস বিভিন্ন অংশে গোকুলে বেড়েছে অবশ্যই। আর, দুম করে ভোটে জেতার থেকে বেশি কিছু তাদের লক্ষ্য থাকায় সামাজিক কাজকর্মে অংশীদার হওয়ার কাজ চালিয়ে গেছে। বিশ্বায়নের আগে আমরা মণিমেলা দেখেছি, বিজ্ঞান জাঠা দেখেছি, এমন কী পাড়ার ক্লাবগুলোর সক্রিয়তা দেখেছি। এখন সেই জায়গায় পোটেনশিয়াল অর্গানাইজাররা অর্কুট-ফেসবুক-টিন্ডার-হোয়াটস অ্যাপ করেন। ফলে সামাজিক পরিসরে সংগঠন ডুবে গেছে, সংঘের আলো উজ্জ্বল হয়েছে। হালে সরস্বতী বিদ্যামন্দির লোকের চোখে টোখে পড়ছে, কিন্তু সক্রিয়তা এক মাত্রায় বহুবছর ধরে থেকেছে। এই দিয়ে ভোটে জেতার সবটা হয়েছে মনে হয় না, কিন্তু কিছুটা হয় নি এমন নিশ্চয়ই নয়। সঙ্ঘারামে নিশ্চিতভাবে সংগঠনের ভিতপুজো হয়েছে। তাহলে বাকি থাকে সংগঠন। একটি সংগঠন ভালো চললে তার ভোট বাড়ে। বিশেষতঃ নতুন খেলতে নামা দল জেতে আর পুরোনো দল হারে ডিফেন্স-মিডফিল্ড-ফরওয়ার্ডের অর্গানাইজেশনের তারতম্য ঘটিয়েই। তার মানে ২ থেকে ১৮য় হেভি অফেন্স। ৩৪ থেকে ২২ এ ডিফেন্স ঝুলেছে, যতই ভোটভাগ বাড়ুক টাড়ুক না কেন। বল পজেশন তখনই কাজের যখন তা গোলে বাড়ে।  মনে রাখা দরকার, আমরা ২৩৫, ওরা ৩০ এর ভোটেও ৩৫% এর বেশি ভোট ওদের ভাগে ছিল।  ভোটকে সিটে পরিণত করার মধ্যে সাংগঠনিক কেরামতি থাকে।

সিপিএমের ভাগে ২ থেকে শূন্য নিয়ে বেশি কিছু বলব না। তবে প্রকৃতি শূন্যস্থান পূরণ করে বলে শিশুবিজ্ঞানে লেখা ছিল। এটুকু খেয়াল করা অবশ্য যেতেই পারে যে ২০০৯এ বামশক্তি যে ১৬টি আসনে জিতেছিল, তার ১১টি এবার বিজেপির ভাগে পড়েছে। উল্টোদিকে দেখি  ২০০৯এ পাওয়া আসন, যা বিজেপি তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে ২০১৯এ, তা হল হুগলি, ব্যারাকপুর, বনগাঁ আর রানাঘাট। এর মধ্যে ব্যারাকপুর আসনটা দ্রষ্টব্য, সেখানে তৃণমূলের সংগঠনের মূল লোকটি বিজেপিতে গিয়ে জিতেছেন। বনগাঁ আর রানাঘাটে নাগরিকত্ব বিলের ইস্যু ছিল, যা নিয়ে আমরা পরের পর্বগুলিতে আলোচনা করছি। ফলে বিজেপির ভোট এবং আসন দুইই বেড়ে যাওয়া, স্থানীয় সরকারে ক্ষমতাসীন দলের নাকের ডগা থেকে মার্জিনাল ভোটে একাধিক লোকসভা আসন বের করা, প্রার্থী প্রচার করতে পারেন নি, এমন জায়গাতেও ফল উলটে দেওয়া- এইসবই সাংগঠনিক কৃতিত্ব হিসেবে দেখা উচিত।

গ) আইটি সেলের ভাইটি

তিনি আমাদের হোয়্যাটস অ্যাপ করে গেছেন। আমরা প্রথমে পড়ি নি, তারপর খুলে দেখেছি মমতা ব্যানার্জির কার্টুন, তারপর স্কুলমেটদের গ্রুপে ফরওয়ার্ড করেছি। তারপর একদিন ট্রেনের তাসের আড্ডায় বিশরপাড়ার রবি বলেছে মেটিয়াবুরুজে অপহরণ নিয়ে একটা হেভি প্রতিবেদন এসেছে, সব কাগজ চেপে যাচ্ছে। বলেছি ফরওয়ার্ড করে দে তো। এই ভাবে বিছন থেকে দই জমেছে। কিছুক্ষণ আগে, আমার অফিসের এক সুইপার দেখলাম আরেকজনকে তার ফোন থেকে রাজনৈতিক খবর পড়ে শোনাচ্ছেন। দ্বিতীয়জনের কাছে স্মার্টফোন নেই মনে হল। তো হোয়াটস অ্যাপের ফরওয়ার্ড আমরা কাকে পাঠাচ্ছি আর কার থেকেই বা পাচ্ছি? কার থেকে নয়? পিসতুতো দিদি-সহকর্মী-মুদির দোকানমেট-স্কুলের বন্ধু ইত্যাদি, প্রভৃতি। আমাদের চেনা লোকজনই এগুলো পাঠাচ্ছে, যাদের রাজনৈতিক আনুগত্য-টত্যও নেই, মিডিয়াওলাদের মতন খবর বেচে খাবার জোটানোর দায় নেই। টিভিতে এক বিশেষ-অজ্ঞ এসে গাঁক গাঁক করে বলে গ্যালো- এন আর সি হওয়ায় নাকি আসামে হিন্দুরাই ক্যাম্পে ঢুকছে, তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সে নিশ্চয়ই তৃণমূলের কমিটিতে আছে, আমি হোয়াটস অ্যাপ পেয়েছি সীমান্ত থেকে যে সব লস্কররা ঢুকে আশেপাশের বস্তিতে থাকছে, এন আর সি হলে তাদের চুন চুনকে তিহার জেলে পোড়া হবে। আমার ভায়রা আমাকে পাঠিয়েছে, সে তৃণমূল বা বিজেপি নয় বরং বামমনস্ক। এইভাবে সাইবার স্পেসে, আমাদের নিজস্ব আলাপচারিতায় এমন এক সংগঠন গড়ে উঠেছে যেখানে নম্বর দিলে বিজেপি ৯৫ তৃণমূল -২০ আর মমতা ব্যানার্জির মিম বানিয়ে সিপিএম সেখানেও বিজেপির খাতায় বাকি ৫ নম্বর উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, কথা হল হোয়াটস অ্যাপ কার থেকে পাই? কাকে পাঠাই? আইটির ভাইটি কে বা কারা আমি জানিনা, কিন্তু তাঁর কাজ ভাইরাল হয়ে আমার কাছে আসে আমার চেনাশুনো লোকের থেকেই, পাঠাই ও তাদেরকেই। চেনাশুনো লোক আমাদের জন্য তারাই যাদের সাথে দেখাশোনা হয়। আশেপাশের লোক, এই শহর বা গঞ্জের, নইলে ট্রেনে একটা দুটো স্টেশন, বাসে কুড়ি মিনিট দূরে থাকে এরকম। ফলে এক ভৌগোলিক পরিসরে এই সাইবার স্পেস ক্রিয়ারত থাকে। হোয়্যাটস অ্যাপের সাংগঠনিক ক্ষমতাও ভৌগোলিক। মাটিতে চলা সংগঠন তার কর্মীদের হাত ধরে বুথ-ওয়ার্ড-পঞ্চায়েত-ব্লক ধরে গড়ে ওঠে, শক্তিশালী হয়, শক্তি ক্ষয়ও করে। মেসেঞ্জার-হোয়্যাটস অ্যাপের স্মার্ট সংগঠন, স্থানীয় কর্মীর ভূমি ঊর্ধ্বে ভোটের প্রচার চালিয়ে গেছে সেই ভৌগোলিক পরিসরেই, মূলতঃ।

ঘ) ভৌগোলিক ঠিক


চিত্র ১- বিধানসভা ভিত্তিক এগিয়ে থাকার হিসেব (লাল- বিজেপি, নীল- তৃণমূল)

চিত্র ১ -এ রাজ্যের লোকসভা ভোটের ফল রাখা রইল।  একটু অন্যরকম দেখাচ্ছে, তার মূল কারণ বিধানসভা কেন্দ্রে কে এগিয়ে সেই হিসেব ধরে এই ম্যাপপয়েন্টিং করা হয়েছে। এছাড়া কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা বা  কংগ্রেস সিগিনিফিকেন্ট এই এলাকাগুলি আমরা ম্যাপে সাদা রেখে গেছি ধরিনি ( নির্দিষ্ট করে- মালদার দুটো লোকসভা আর বহরমপুর), আর মূল ম্যাপে গা ঘেঁষাঘেঁষি ব্যারাকপুর আর হুগলি কেন্দ্রের বিধানসভাগুলি ভালো করে বোঝা যাচ্ছিল না (এই অঞ্চল জনগনত্বে পৃথিবীর সামনের সারিতে)। মোটের ওপর নীল রঙে তৃণমূলের জেতা আর লাল রঙে বিজেপির জেতা বিধানসভা দেওয়া আছে। যেটা দেখার, উত্তরবঙ্গে দুটো আর দক্ষিণবঙ্গে দুটো নীল প্যাচ ছাড়া, বাকি সমস্ত লাল বা নীল দাগ দলাবেঁধে আছে , মানে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধরে হয় টানা বিজেপি এগিয়ে, নতুবা তৃণমূল। এই চারটে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জায়গা নিয়ে আমরা পরে কথা বলব।

কিন্তু মূল ট্রেন্ড যেটা বিজেপি যেখানে এগোচ্ছে সেখানে আশেপাশের বেশ বড়ো অঞ্চল ধরে বিজেপি এগোচ্ছে, অঞ্চলগুলো এত বড়ো যে তার মধ্যে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠী শহর-গ্রাম ইত্যাদি পড়ছে, মানে ধরুন দেড়খানা বা তিনখানা জেলা ধরে একটা বিজেপি জেতা পরিসর। আবার তৃণমূলও তাই। এই জেতার পরিসরটা একাধিক লোকসভাকে কাটছে। ধরুন ব্যারাকপুরের মধ্যে আমডাঙা তৃণমূল এগিয়ে তার পাশে খড়দা, অশোকনগর, বারাসত অন্য লোকসভাতে হলেও তৃণমূল জিতছে। দমদম আর বারাসতের দুটো বিজেপি বিধানসভা যথাক্রমে রাজারহাট গোপালপুর আর বিধাননগর- গায়ে গায়ে। আবার ঘাটালের ডেবরাতে বিজেপি এগিয়ে তার পাশেই তো পাঁশকুড়া পশ্চিম আর মেদিনীপুর বিজেপির থাকছে। এই ধারাটা গোটা রাজ্য জুড়েই প্রায়। এর উত্তর অধীর চৌধুরীর পকেট দিয়ে হয়। সেখানে কংগ্রেসের খুব ভালো ভোট সব বিধানসভায়, সাতটার চারটেতে এগিয়ে, বাকিগুলোতেও এত ভালো যে কংগ্রেসের ভোট বলে মনেই হয় না, আর তার কারণ কংগ্রেসের অসাধারণ সংগঠন আছে ঐ অঞ্চলে। অধীরবাবুর নিজস্ব সংগঠন। অর্থাৎ, সংগঠন, যা অঞ্চল ভেদে শক্তিশালী হয়, তা যেখানে প্রতিপক্ষের তুলনায় মজবুত, সেখানে মোদি হাওয়া, সারদা দুর্নীতি, টাকা খাটানো সব তুচ্ছ করে জয় এনেছে। নইলে পুরো দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জুড়ে তৃণমূল সব বিধানসভায় এগিয়ে, আর সারদায় ক্ষতি তো ঐ জেলাতে প্রচুর। দক্ষিণ চব্বিশে তৃণমূলের এমন সংগঠন যে ডিএ পেকমিশন ব্যর্থতার পরেও ডায়মন্ড হারবারে পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূল এগিয়ে থাকে! তৃণমূল যেখানে ভালো রকম পিছিয়ে সেখানে ১০ বছর আগের ভোটেও সেই অবস্থায় ছিল। বাঁকুড়ায় ২০০৯এ ৩৬% ভোট ছিল, মেদিনীপুরে ৪২%। এখনও কিমাশ্চর্য তাই হয়ে গেছে। অনুরূপ হিসেব বালুরঘাট, বিষ্ণুপুর কিম্বা আসানসোলেও। বামপন্থীদের সংগঠন প্রবলতর ছিল ২০০৯-এ (তখন ভাঙন শুরু হয়ে গেছে), এখন একদমই অনুরূপ প্রাবল্য বিজেপির। তৃণমূলের সংগঠন যেখানে ২০১১র পরে গড়ে উঠেছে সেখানে সেখানে সেটি দুর্বল এবং বিজেপি সম্ভবতঃ পূর্বতন শক্তিশালী অন্য একটি সংগঠনের কাঠামো ধরে এগিয়েছে। ফলে সেখানে তৃণমূলের ভোট ২০০৯-এর হিসেবে প্রায় আটকে আছে এবং বিজেপির ভোট ২০০৯-এ বামদলের ভোটের সমান হয়ে গেছে। আর, আগে যা বলেছি, ২০০৯-এ বামশক্তির জেতা লোকসভা আসনের ১৫র ১১ টিতে এবার বিজেপি জিতেছে। বাকি ৪টি আসন যা তৃণমূল এবার পেয়েছে সেগুলি হল- আরামবাগ (১০০০+ ভোটে কোনও ক্রমে জেতা), পূর্ববর্ধমান, ঘাটাল ও বোলপুর।  তৃণমূলের সংগঠন বীরভূমে অনুব্রত মন্ডলের হাতে শক্তিশালী হয়েছে। ঘাটালে নির্ণায়ক হয়েছে কেশপুর বিধানসভা, ৭৮০০০ ভোটে এগিয়ে দিয়ে। কেশপুরে তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে আমরা গত দুদশক ধরে শুনে আসছি। তাছাড়া সংগঠন তো শুধু একটা ব্লকে আটকে থাকে না, আশেপাশের ব্লকেও ছড়ায়। তাই, আশেপাশের বিধানসভাতেও যথাক্রমে লাল বা নীল রঙ ধরছে।

এই যে বিন্যাসটা, যেখানে তৃণমূল এগিয়ে সেটা এবং তার আশেপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নীল আর যেখানে বিজেপি এগিয়ে, আশেপাশের অঞ্চল লাল, যাদের জ্যামিতির পরিভাষায় হয়ত বা ম্যানিফোল্ড হিসেবে দেখা যাবে, সেটা এই নির্বাচনের মূল ধারা। একটা মাপক হিসেবে এখানে ভোটে জেতাকে ধরা হয়েছে, শুধু জেতা হারা দিয়ে অবশ্য সবটা ব্যাখ্যা হয় না। কিন্তু, লক্ষ্যণীয় বিষয় যেখানে একটি ম্যানিফোল্ডের সীমানা আর আরেকটি শুরু, তার কাছাকাছি দিয়ে একদলের ভোট শেয়ার কমে আসছে আরেকজনের বাড়ছে এরকম। অর্থাৎ একটা ভূমিগত বিন্যাসের ধারা মেনে ভোট ভাগ হচ্ছে, বিশেষতঃ বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যে। লোকসভা কেন্দ্রের বদলে বিধানসভা কেন্দ্রের নিরিখে ম্যাপ দেওয়া এইটা বুঝতেই যে এই ম্যানিফোল্ড-গুলি স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তির হেরফেরে ভোটের ফলাফলের পরিণতির ইংগিতই দিচ্ছে। আমাদের হাতে বুথ ভিত্তিক তথ্য নেই, কেউ পেলে করে দেখতে পারেন সেইখানেও এই বিন্যাস দেখা যাচ্ছে কী না!

ঙ) মিথ-মিথ্যে-মিথোজীবিতা

বলা হচ্ছে এস সি ও এস টি রা তৃণমূলের দিক থেকে সরে গেছে। আমরা মালদা মুর্শিদাবাদ বাদে ৬৪টির মত এস সি সংরক্ষিত বিধানসসভা দেখলাম, তার ৩১টিতে তৃণমূল এগিয়ে।  যে এস সি বিধানসভাগুলি বনগাঁ রানাঘাট বা আলিপুরদুয়ারে গায়ে গায়ে লেগে আছে, সেইগুলির প্রায় সবকটিতেই বিজেপি এগিয়ে। তার আশেপাশের অসংরক্ষিত বিধানসভার ট্রেন্ড রঙ ও কিন্তু অনুরূপ। আবার যে সংরক্ষিত আসনগুলি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায়, তার সবগুলিতে তৃণমূল এগিয়ে। অর্থাৎ তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষের আধিক্য সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলিতে আলাদা করে ফলের তারতম্য ঘটাচ্ছে না, এবং সারা বাংলা জুড়ে তপশিলি জাতির আলাদা করে বিজেপিকে বেছে নেওয়ার সাধারণ কোনও রীতি এই ভোটে উঠে আসেনি। তবে, একথা অনস্বীকার্য যে রাণাঘাট আর বনগাঁয় বেশিরভাগ বিধানসভাই তপশিলি সংরক্ষিত। এবং গত দুটি লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে বিপুল সমর্থনের পরে এইখানকার মানুষ এবার বিপুলভাবে বিজেপির সঙ্গে গিয়েছেন। তার পিছনে একটা বড় ফ্যাক্টর অবশ্যই নাগরিকত্ব বিলের প্রতিশ্রুতি। আসামের এর আর সি-র উদাহরণ হাতের সামনে থাকলেও সেখানে বিজেপির প্রচারকে কাউন্টার করতে পারে নি বাকি দলগুলি। এছাড়াও আগে আলোচনা করা সংগঠনের শক্তির তারতম্যের ব্যাপারটা এসেই যাবে। রাণাঘাটের কৃষ্ণগঞ্জে একটি বিধানসভা উপনির্বাচন হয়েছিল এইবারই। সেখানে পূর্বের তৃণমূল এম এল এ-কে হত্যা করা হয়, সন্দেহের তীর বিজেপির দিকে থাকে। প্রায় সমস্ত প্রিসিডেন্স সরিয়ে রেখে সেই আসনে বিজেপি জেতে! দলিত এম এল এ হত্যা যেখানে জাতীয় রাজনীতিতে নির্ধারক পয়েন্ট হতে পারত, সেখানে সেই আসনের উপনির্বাচনেই সেই এম এল এ-র দল হেরে যায়, এ সাংগঠনিক বিচ্যুতি ছাড়া হতেই পারে না।

যাই হোক, আমাদের চিত্র-১ এ চারটে পকেট আছে, যা তৃণমূলের দিকে থাকা বিধানসভা, চারদিক থেকে বিজেপি দিয়ে ঘেরা। উত্তরবঙ্গে সিতাই ও রাজগঞ্জ, দুটোই এস সি। দক্ষিণে মানবাজার ও বিনপুর, দুটিই এস টি। এর কাছাকাছি দুটো বিজেপির জেতা এস টি বিধানসভা রায়পুর ও রানিবাঁধ, যেখানে তৃণমূলের পিছিয়ে থাকা এবং সিপিএমের প্রাপ্ত ভোটের হিসেব মিলে যায়।

এবার, তপশিলি উপজাতি সংরক্ষিত সিটের হিসেব যদি দেখি- ১৫ টির ৩ টি তৃণমূল পেয়েছে। অর্থাৎ এখানে একটা শক্তিশালী ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে যে তপশিলি উপজাতির মানুষজন বিজেপিকে বেছে নিচ্ছেন। তবে এর মধ্যে লক্ষ্যণীয়, ঐ পূর্বোল্লিখিত দুটি পকেট বাদ দিয়ে আর যে এস টি আসনে  তৃণমূল এগিয়েছে, সেই সন্দেশখালির আশেপাশের সব আসনই কিন্তু তৃণমূলের। আবার বাঁকুড়া-পশ্চিম মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রামের এস টি আসনগুলির আশেপাশে সব আসন প্রায় বিজেপির। তবে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে তপশিলি উপজাতির মানুষ তো আর শুধু সংশ্লিষ্ট বিধানসভাতেই থাকেন না, আশেপাশে ছড়িয়ে থাকেন আর তাঁদের ভোট অঞ্চলের অন্যান্য বিধানসভাতেও প্রভাব ফেলেছে।

এইখানে একটা মিথোজীবিতার তত্ত্ব আনা যায়। মানুষ একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রদায়, পেশা ব্যতিরেকে একে অন্যের সঙ্গে আদানপ্রদান করে। আমার প্রতিবেশী কী ভাবছে, বাজারের সবজিওলা কী বলছেন, ছেলের গৃহশিক্ষক কী চাইছেন এইসব আমার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। আর, এই হাইপোথিসিসকে আমরা রাখছি আরেকটা হাইপোথিসিসের প্রতিতুলনায়। সেটা হল যে- মুসলিম ভোট প্রায় সর্বাংশে তৃণমূলে গেছে এবং সেইটাই তৃণমূলকে যেটুকু অক্সিজেন দেওয়ার দিয়েছে। বাংলার মুসলিম জনশতাংশ সবচেয়ে বেশি, দুটি জেলায়- মালদা আর মুর্শিদাবাদ। জনবসতির ৫০% এর বেশি মুসলমান। তার মধ্যে মালদায় একটিও আসন তৃণমূল পায় নি, মুর্শিদাবাদে তিনটির দুটি আসন পেয়েছে। আরও একটি মুসলিম সংখ্যাগুরু জেলা উত্তর দিনাজপুর। এখানে মুসলিম ৪৯% এর বেশি। এই জেলার ৯টি বিধানসভার ৫ টিতে তৃণমূল এগিয়ে, চারটিতে বিজেপি। এবং কোনও আসনেই ৪৯% এর কাছাকাছি ভোট তৃণমূলের নেই বরং কয়েকটি আসনে কংগ্রেস-সিপিএম ভালো ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ, মুসলিমরা সংখ্যাগুরু এমন অঞ্চলে তৃণমূলকে তাঁরা সম্প্রদায় বেঁধে ভোট দিয়েছেন এরকম মোটেই নয়। এরপরে যে দুটি জেলায় মুসলিম বসতি বেশি, মানে ১/৩ এর বেশি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা এবং বীরভূম, দুটিতেই লোকসভার সব আসন তৃণমূলের, বিধানসভার প্রায় সব আসনও। দক্ষিণ চব্বিশের প্রায় সমস্ত বিধানসভায় ৫০% এর বেশি ভোট তৃণমূলের, কোথাও কোথাও তা ৭০-৮০ ছুঁয়েছে। এর মধ্যে তপশিলি জাতি অধ্যুষিত বিশাল এলাকাও রয়েছে। সিপিএম কংগ্রেসের ভোট অনেক কম, এস ইউ সি আইয়ের গড় যে দুটি কেন্দ্র, সেখানে উল্লেখযোগ্য ভাবে বিজেপির ভোট বেশ কিছুটা বেশি। বীরভূমেরও বহু কেন্দ্রে ৫০%এর বেশি ভোট তৃণমূলের। অর্থাৎ এই সমস্ত কেন্দ্রে ভোটের সোজা ধর্মীয় বিভাজন হয় নি, মুসলিম ভোট তৃণমূল আর হিন্দু ভোট বিজেপি এমন ভাবে ভোট ভাঙে নি। বরং উলটো ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে সেখানে ২০-২৫% মুসলমান, যেমন বর্ধমান হাওড়ার বিধানসভাগুলি, তার অনেকগুলিতে তৃণমূলের ভোট বেশ ভালো এসেছে, ৫০%এর কাছাকাছি। আবার উত্তরবঙ্গে ঐধরণের মুসলমান বিন্যাসে তৃণমূলের ভোট অত ভালো হয়ও নি। উত্তর চব্বিশ ও নদীয়ায় মিশ্র ফল, বিভিন্ন অঞ্চলে। এর মধ্যে যেখানে তৃণমূলের ভোট ভালো, সেখানে তপশিলিপ্রধান আসনেও তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে। আবার সেটা হচ্ছে না বলে উত্তর চব্বিশ পরগণা ও নদীয়ার কিছু এলাকায় ফল ততটা ভালো হচ্ছে না। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০% মুসলিম, সেখানে একটি আসন তৃণমূল পাচ্ছে। একদমই পাচ্ছে না বাঁকুড়া পুরুলিয়া দার্জিলিং এ, সেখানে মুসলিম জনশতাংশ দশের নিচে।

বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা মুসলিমদের কাছে ভালো নয়, এখন অবধি এটা প্রতিষ্ঠিত। ফলে মুসলিম ভোট বিজেপির বিরুদ্ধেই যাওয়ার সম্ভাবনা। যে অঞ্চলে মুসলিমরা সংখ্যাগুরু, তাঁরা একাধিক দলকে বিজেপির বিরুদ্ধে বেছে নিচ্ছেন। যে অঞ্চলে সংখ্যালঘু কিন্তু উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আছেন, সেখানে সম্ভবতঃ তৃণমূলকে বেছে নিচ্ছেন এবং মুসলিমদের বিজেপিজনিত আশংকা একভাবে তাঁদের প্রতিবেশী হিন্দুকে প্রভাবিত করছে, তাঁদের ভোট একতরফা বিজেপিতে যাচ্ছে না। বরং তৃণমূল আরও কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছে। তপশিলি জাতির ভোটেও সেই প্রভাব আসছে। ব্যতিক্রম মতুয়া অঞ্চলগুলি, সেখানে নাগরিকত্ব ইস্যুতে তপশিলি ভোট একধারে বিজেপিতে গিয়েছে, হিন্দু-মুসলিম মিথোজীবিতার তত্ত্ব টেঁকে নি। যেখানে মুসলিম নেই, সেখানে বিজেপির মুসলিম-বিরোধিতার অভিযোগ তার ভোট হিন্দুদের কাছেও কমায় নি, কারণ হিন্দু জনগণ প্রতিবেশীর সহমর্মী হতে পারে নি।

এর উল্টোদিকে আসছে তৃণমূলের মুসলিম তোষণ, ইমামভাতা প্রভৃতি 'পশ্চাদপট' জনগণের মধ্যে তার ভোট বাড়িয়েছে, কদিন বাদে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হবে রাজ্যে। মুসলিম ধর্মীয় রাজনৈতিক দল এসে এই ভোট নিয়ে তৃণমূলকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেবে এই সব বক্তব্য। বিজেপির পাশাপাশি বাম-লিবারেলরাও যার প্রচারে নেমেছেন। কমরেড নরেন্দ্র মোদী তো বলেইছেন, মানুষ দুধরণের- যাঁরা ওনাকে সমর্থন করেছেন আর যাঁরা ওনাকে সমর্থন করবেন। কিন্তু ধর্মীয় ভোট বিভাজনের জনপ্রিয় হয়ে ওঠা তত্ত্ব ১০-৩৫% মুসলিম জনবহুল এলাকায় বহুলাংশে তৃণমূলের ৫০% বা তার বেশি ভোটের হিসেব মেলায় না। হিন্দু-মুসমিল সম্পর্ককে শুধুমাত্র বৈরিতার আলোয় দেখলে হিসেবে অনেকটা ফাঁক থেকে যাবে।

চ) নটেগাছ

নোটের গাছি ছাগলে খেয়েছিল কিন্তু তা সত্তেও দেশব্যাপী বিরোধী হাতে পেনসিলও প্রায় রইল না। আরবান এলিট নোটাবিপ্লবীরাও উড়ে গেলেন মোদি হাওয়ায় আর গ্রামে বন্দরে তো কথাই নেই। পশ্চিমবঙ্গে আরও অনেক কিছুর সাথে ঝামরে পরল সেই হাওয়া। কিছু রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টালো। একমাত্র যে সব জায়গায় (দাগ দিয়ে আবার বলা, জায়গা, অঞ্চল, ভৌগোলিক বিভাজন) তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী, হাওয়া বাঁক নিল সেখানে এসে। চলে গেল সেইসব জায়গায়, যেখানে তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী নয়, নতুন এবং বামপন্থীদের সংগঠন যেখানে কদিন আগেও শক্তিশালী ছিল। এর পাশাপাশি এল সংঘের হাতে গড়ে ওঠে বিজেপির সংগঠন, যা আদিবাসী অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিজেপির সংগঠন সম্ভবতঃ বাম সংগঠনের জীর্ণানি বাসাংসিতে পুনঃ প্রাণিত হল। এই লেখাটির সংশোধনপর্বে বন্ধুরা বললেন তৃণমূলের দুর্নীতি, অগণতন্ত্র, বিরোধীদের উপর অত্যাচার এই বিষয়গুলি পর্যালোচনা করতে। কিন্তু, আমরা দেখতে পাচ্ছি, সারদা উপদ্রুত দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় একাধারে তৃণমূল জিতছে, অনুব্রত মন্ডলের পাঁচনবাড়ির হুমকি সত্তেও বীরভূমে জিতছে, আবার উন্নয়ন হয়েছে লোকে মেনে নিলেও ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়ায় হারছে। মুকুল রায়ের হাত ধরে মমতার সরকারের থেকে অধিক উন্নয়ন হবে, সৌমিত্র খাঁ বা অর্জুন সিংহ দল বদলানোয় তাঁদের পারফরমেন্স পালটে যাবে, এ মনে হয় সাধারণ ভোটাররা বিশ্বাস করেন না। তবে যেখানে বিজেপির সংগঠন বেশি সক্রিয় হয়েছে সেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমত ভোটবাক্সে পড়ার বন্দোবস্ত করা গেছে। অন্যত্র, যেখানে তৃণমূল শক্তিশালী, স্থানীয় মানূষের অভাব অভিযোগকে ভোটে নির্ণায়ক হতে দেয় নি। এ কথা অনস্বীকার্য, ছোট স্তরের নেতার দুর্নীতি অত্যাচার সারদা বা রাফালের থেকে কম প্রভাব ফেলে না মানুষের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে, কিন্তু সংগঠনের স্ট্রাকচারটি ক্রিয়াশীল থাকলে, সেইগুলিকে অ্যাড্রেস করা বা তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ হয়ে যায়।

তাই, ধর্ম নয়, মতাদর্শ নয়, উন্নয়নও নয়,  ম্যাচ শেষে দেখা গেল জিতল সংগঠনই, কারণ ভোট হয়ে যায় না, ভোট করানো হয়- যুদ্ধের মতনই।

ছ) কী করিতে হইবে

আমাদের কথা কেউ শোনে না। তাও এত কিছু লেখার পর একটু উপদেশ-সার ও লিখে যাই। এমনিই তৃণমূলকে আজকাল সকলেই বলে যাচ্ছে কী কী করা উচিত। আমরা বরং বলব, তৃণমূলের কী করিতে হইবে না! যেটা ২০০৯ এ সিপিএম করেছিল, সেইটা না করলেই মনে হয় হবে। স্থানীয় স্তরে সংগঠনকে ধরে রাখা আর মজবুত করা ছাড়া আর খুব কিছু করার নেই। আত্মসমালোচনার বদলে অন্যের সমালোচনা বিচার করে সেই অনুসারে কাজ করা, স্থানীয় রাজনীতির সুবিধা ভেবে রাজ্য রাজনীতি চালানো, ইত্যাদি। সব দোষ নিচুতলার কর্মীদের একাংশের নামে না চালিয়ে, নিচুতলার কর্মীদের পাশে উঁচুতলার দাঁড়ানো। কিছু নেতা বিজেপিতে যাবে, কিছু জেলেও হয়তো বা যাবে। কিন্তু অঞ্চল ধরে রাখার কাজে সরকারের সাহায্য এক্সটেন্ড করতেই হবে, অন্ততঃ ২০২১ অবধি। একচুয়ালি  মমতা ব্যানার্জি সরকারের বদলে পার্টিতে মন বেশি দিলে ভালোই হবে। ভোট শুধু সরকারি প্রকল্প দিয়ে আসে না। ডিএ মাইনর ইস্যু, তবে সরকারি চাকরিতে, স্কুল কলেজে নিয়োগ দরকার। সংগঠনের সার ওখানে জমে।

আর বিজেপিকে? ২০০৯ এর পর তৃণমূল যা করেছিল, তাই। লোকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প ইত্যাদি পাওয়ানো। বাংলা থেকে মন্ত্রী। বুদ্ধিজীবীদের চাকরি দেওয়া থাকলে কিছু উটকো ঝামেলা কম হয়, সেইসব।

আমাদের? গ্যালারি আসলে খেলারই অঙ্গ। ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট কাটিয়ে খোরাক নিন। সব কিছুই আসলে ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন। আর, নাহলে মাঠে নেমে ইস্যুভিত্তিক লড়াই করুন, কিম্বা আইটি সেলের মতন ব্যক্তিগত মেসেজ ভাইরাল করার উপায় করুন। আমার মতন আত্মপ্রসাদ পেতে চাইলে আলাদা কথা, নতুবা ফেসবুকে বেশি লিখবেন না, ও কেউ সিরিয়াসলি নেয় না।



5795 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19]   এই পাতায় আছে 81 -- 100
Avatar: sei

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

খাগড়াগড় থেকে রওনা হয়ে বিপ্লব কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস পর্যন্ত পৌঁছেছিল বিশিষ্ট প্রতিবাদী হালদার মহাশয়ের সৌজন্যে।তারপর কি হইলো জানে শ্যামলাল।
Avatar: sm

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

এই হালদার টি কে?
Avatar: sei

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

আই এস আই এর প্রাক্তন ছাত্র।একসময় ইউক্যাল ডেভিস এ ছিলেন।বিশিষ্ট প্রতিবাদী।
Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

বলেছিলাম আর আসব না কিন্তু 'কৃতি মানুষদের রাজনৈতিক বোধের' (এলেবেলে যদিও 'কৃতি' নয়) প্রসঙ্গটা দেখে এই লিংকটা রেখে গেলাম। এলেবেলে যেহেতু এই টইতে চার নম্বর পাতায় এসে ঢোকে তাই ওটাই থাকল। আগ্রহীরা আগুপিছু করে বাকি মন্তব্যগুলো পড়ে নেবেন। ওখানে "Buddhadeb Bhattacharjee is as guilty as Narendra Modi. On the other hand, Mamata’s secular credential are perfect."-এর থেকে কিঞ্চিৎ বেশিই এই অধম লিখেছিল। বেশ কিছু প্রশ্নও করেছিল। উত্তর? মেলে নাই! কৃতি মানুষদের রাজনৈতিক বোধের কারণেই কি? হবে বোধ হয়!!

http://www.guruchandali.com/blog/2016/09/04/1472933780006.html?comment
Page=4#comments


Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

রাত কত হল? উত্তর মেলে না। অবিশ্যি তার আগে প্রশ্নটা খুব স্বচ্ছভাবে করার প্রয়োজন।

রাতের খবর বলছে যে মায়াবতী অখিলেশ গাঁটবন্ধন শেষ কেননা পুরো যাদব ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে ট্রান্সফার হয়নি। অর্থাত কিনা যাদবের ভোট মাধবে গিয়েছে। কিন্তু এই যাওয়াটা যেহেতু বামের ভোট রামের মত শিহরণ জাগানো ঘটনা নয় তাই এটা নিয়ে আলোচনা হবে না।
Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

রাত কত হল? উত্তর মেলে না। অবিশ্যি তার আগে প্রশ্নটা খুব স্বচ্ছভাবে করার প্রয়োজন।

প্রশ্নগুলো ('টা' নয়) খুব স্বচ্ছভাবেই করা হয়েছিল। সেখানে ২০০৭-বুদ্ধ-মমতা সবই ছিল। নিজে তো দেখি লিংক সাঁটান একধারসে, অক্লান্তভাবে। তো অন্যের সাঁটানো লিংক পড়েন না নাকি পড়ার প্রয়োজন বোধ করেন না?একটু পড়ে নিয়ে তিন বছর বাদে যদি উত্তরগুলো দ্যান। ওখানে ন্যানো-বুদ্ধ-মমতা সব আছে। আপনার বড্ড প্রিয় বিষয়!
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

তক্কে ফেরার জন্য ধন্যবাদ! এই গানটি আপনাকে উপহার দিলাম।

https://www.youtube.com/watch?v=opwhbv4TuJk
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

06 September 2016 22:58:52 IST 11.39.38.30 (*) #
এটাতে কোন প্রশ্ন নেই তো!!
Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

পিটি, ৬ নম্বর পাতায় আছে।

দেখুন আমি এমনিতে কেটে উঠি না টই থেকে। কিন্তু কেউ যদি নিজেকে বিশাল কেউকেটা ভেবে তাঁর সঙ্গে ইনিয়ে-বিনিয়ে বিনিময় না করতে পারলে আমার জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে টাইপের কলার তোলা মানসিকতায় ভোগেন তো আমি সেসব জায়গা থেকে কেটে উঠি। আপনি কোনও দিন আমার সঙ্গে ওই আচরণ করেননি বলেই ফিরে এসেছি। আবার ওইরকম বিরক্তি উৎপাদন হলেই কেটে উঠব। সিম্পল।
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

আমি কেউ নই। আর কেটা তো নইই। ঐজন্যেই কে যেন আপনাকে বলেছিল পিটিকে ইগ্নোর করতে।
তবে আপনি যে আমাকেও উত্তরদাতাদের মধ্যে ধরেছিলেন তা জেনে আমি আপ্লুত, অভিভূত।
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

১। সব কিছুই যখন ঠিকঠাক ছিল তো নিরুপম সেন ‘there was no possibility of altering the land map’ –এর গোঁ ধরে থাকলেন না কেন ?

এটার উত্তর নিরুপমবাবু আর বুদ্ধবাবু দিতে পরবেন।

২। হঠাৎ গোপাল গান্ধীর চরণে প্রণিপাত করতে হল কেন ?

“প্রণিপাত” শব্দচয়্ন আপনার। সেরকম কিছু হয়্নি। একজন কন্সটিট্যুশনাল হেডের কাছে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে যাওয়া হয়েছিল সমাধানের আশায়। কে না জানত গোপালবাবু বেশ ভাল রকমের বাম-বিরোধী ব্যক্তিত্ব।

৩। ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের নেত্রীটিকে তো মাননীয় সাংসদ প্রদর্শিত রাস্তায় চুলের মুঠি ধরে কালীঘাটে পাঠানো যেত । তা না করে প্রথমে ধর্না আন্দোলনের নৌটঙ্কিবাজি সহ্য করা এবং পরে রাজভবনে তাঁকে ডাকা হল কেন ?

এই সময়্টা খুব যুক্তিবাদী ছিলনা। এরকম কিছু করলে হিংসা আরো বাড়ত বলেই মনে হয়। আনেক নৌট্ঙকিবাজই ইতিহাসে জানা আছে যারা পরে ক্ষমতারোহন করেছে।

৪। “After two rounds of discussion between chief minister Buddhadeb Bhattcharjee and Trinamool Congress chairperson Mamata Banerjee, the government late on Sunday evening agreed to return land to some 2,200 farmers who had not sold their land willingly for the project and have not collected compensation.” যে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক নিয়ে সিপিয়েমের ব্যঙ্গের অন্ত ছিলনা তারা হঠাৎ ২২০০ অনিচ্ছুক চাষির কথা মেনে নিল কেন ?

সমাধান সূত্র খুঁজে কারখানাটা হওয়াটাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে হয়।

৫। ২২০০ চাষি গড়ে মোটামুটি ১০-১১ কাঠা জমি দিলে জমির পরিমাণ ৪০০ একর হয় । সেটা খোদ সরকার মেনে নিচ্ছে আর মমতা সেই একই পরিমাণ জমি ফেরত চাইলে তা কারখানা বিরোধী হবে কেন ?

এই হিসেবটা বোধহয় সমাপতন মাত্র। ৪০০ একরের অনেক মালিককেই খুঁজে পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে সব চাইতে নির্ভরযোগ্য তথ্য অরুণাভ ঘোষের কাছে আছে।

৬। ‘মমতা সমাধান সূত্র হিসেবে কারখানার উল্টোদিকের জমিতে অ্যান্সিলারি ইউনিট সরানোর প্রস্তাব দেন’ । সেটা মেনে নিয়ে তো কারখানা করা যেত, সেটা হল না কেন ?

এটা নিয়ে স্টার আনন্দে একটা মজাদার শো হয়েছিল।। সেখানে তিনোপ্রিয় শাঁওলী মিত্র গাড়ির কারখানার এক্ষপার্ট হয়ে এসেছিলেন। হাইওয়ের তলা দিয়ে টানেল করে গাড়ির যন্ত্রাংশ এদিক ওদিক নেওয়া অথবা অন্য কে যেন অল্প জমিতে বহুতল গাড়ির কারখানার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে আমার এক্ষ মাইনাস ৯৯৯। কিন্তু তিনোরা কেন কোন গাড়ি এক্ষপার্টকে হাজির করতে পারেনি তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়। য্তদূর মনে আছে সুদীপ ব্যানার্জী একটি সর্বদলীয় কমিটিতে থেকে ঐ জমির পরিমাণ নিয়ে আগে সম্মতি পত্রে সই করেছিলেন (লিং পাচ্ছিনা)।

৭। রাজভবনে সিধান্ত হয় — “The government has taken the decision to respond to the demands of those farmers who have not received compensation, by means of land to be provided ‘maximum’ within the project area and the rest in adjacent area as early as possible”. প্রোজেক্ট এরিয়া থেকে যে ম্যাক্সিমাম জমি ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সে জমি তো কারও না কারও নামে বরাদ্দ হত । তারা কোথায় যেত ? সেক্ষেত্রে মমতা কী এমন ফালতু প্রস্তাব দিয়েছিলেন ?

এতদিনে বুঝেছেন আশা করি যে যেকোন ভাবেই কারখানাটা হতে না দেওয়াটাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল। আবিশ্যি সেই সময়ে তিনো ও অতিবদ অতিবামেরা কে কাকে ব্যবহার করছিল সেট বলা মুশকিল। তাই এই প্রসঙ্গে বহুবার দেওয়া লিংটা আরেকবার দিই।
Why is Mamata Banerjee so inflexible in her opposition to the Tata project? If one answer lies in her playing opposition politics, another has to do with the 21 groups which have jumped onto her stage...........
.......... “Even if Mamata Banerjee opts out of the agitation, we will continue it,”
http://expressindia.indianexpress.com/karnatakapoll08/story_page.php?i
d=356805
সিঙ্গুরের ব্যাপারটা ঈশপবাবু আগেই জানতেন। এইজন্যে ছাগলের পিঠে চড়ে শেয়ালের কুয়ো থেকে উঠে আসার গপ্পটা লিখেছিলেন। তবে আমার বিশ্বাস অতিবদ অতিবামেরা প্রথমে নিজেদের শিয়াল ভেবেছিল কিন্তু তারা জানত না যে তারা আসলে ছাগল। (সেই থেকেই রাজনীতির আলোচনায় ঐ অবলা প্রাণিটি আমার লিং-এ ঘুরে ঘুরে আসে)।

৮। ‘ম্যাক্সিমাম’ শব্দটা নিয়ে এত জলঘোলা করা হল কেন ? ঠিক কতটা জমি কারখানা থেকে দেওয়া যাবে তা স্পষ্ট করে বলা হল না কেন ?
৯। রবি ভট্চাযরা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যে রিপোর্ট পেশ করলেন তাকে পাত্তা দেওয়া হল না কেন ?
১০। আপনি আমাকে ডাকবেন, নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করিয়ে নেবেন এবং তারপর কাঁচকলা দেখাবেন আর আমি এক্কাদোক্কা খেলব ?

৮-১০ঃ ঐ ৭ নম্বর উত্তর। (এক্চুয়ালি সিঙ্গুর প্র্সঙ্গে উচ্চারিত সব প্রশ্নের ঐ একটাই উত্তর হয়ঃ কারখানাটা হতে না দেওয়াটাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল।)

১১। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যদি এতই সদিচ্ছা ছিল তো সেটা ২০০৮ এর সেপ্টেম্বরে না দিয়ে দু’বছর আগে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যেত । টাটারা চলে যাওয়ার দিন পনেরো আগে এ দরদ উথলে উঠল কেন ?

সেটাও বলা মুস্কিল আমার পক্ষে। তাহলে অবশ্যই কন্স্পিরেসি থিওরির অবতারণা করতে হয়। যার কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। কিন্তু একটি প্রস্তাব ছিল প্রিয়রঞ্জনের। তাতে বোধহয় ক্ষতিপূরণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেত (লিং পাচ্ছিনা)। কিন্তু সিঙ্গুরের সব প্রশ্নের উত্তর যখন একটাই তখন অন্যকিছুর পেছনে সময় ব্যয় করার কোন মানে হয়না।

তবে আপনার শব্দচয়ন, বাক্যগঠন ও প্রশ্নসৃজন দেখে মনে হচ্ছে যে আপনি তিনো নেতৃত্বের মধ্যে সিঙ্গুরের চষীদের স্বার্থরক্ষর একটা ভাবনা-চিন্তা দেখতে পেয়েছেন। (আমার বোঝার ভুল হলে এই লাইনটা বাদ)। আমার প্রথম থেকেই মনে হয়েছে যে তিনোরা সিঙ্গুরকে শুধুমাত্র ক্ষমতারোহনের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করেছে। তাই এতদিন পরেও আমার মত বদলানোর বা পালটি খাওয়ার কোন কারণ ঘটেনি।

(বাপরে! হেঁপ্যে গিয়েছি!!)

Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

বালাই ষাট! হাঁপাবেন কেন? তাও আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে!

আর যাতে কষ্ট করে লিংক না পড়তে হয় তাই ওই টইতে শেষ মন্তব্যটা আগে কপি-পেস্ট করে দিই। তারপরে ব্যক্তিগত কথা বলব দু-চারটে।

14 September 2016 21:47:38 IST 11.39.39.196 (*) #
আজ্ঞে না, মৃতপ্রায় টইকে বাঁচিয়ে বা ভাসিয়ে তোলার তেমন ইচ্ছা নেই । তবে হাজার হাজার হাজরা ... থুড়ি চাকরির টোপ বা স্বপ্ন দেখানো গুজরাতের অবস্থাটা কী হয়েছিল দেখা যাক — “… the state government in Gujarat would lend Rs. 97,500 million virtually interest free (at the interest rate of Re 1 per Rs 1,000) repayable over 20 years. Public land worth Rs 11,000 million would be handed over to them free of any stamp duty and other transfer charges. Payment for the land was to be made in 8 installments at 8% interest. Many knowledgeable people … have claimed that the Modi government incurred a loss of Rs 180,000 million in its effort to attract the Tata-Nano project worth Rs 150,00 million to Rs 200,000 million”. কী কী শর্তে টাটাদের জমি দেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেই নিরুপম সেন বেদজ্ঞ ঋষির মত নিমীলিত নেত্রে ‘ট্রেড সিক্রেট’ এই কারণেই বলতেন নাকি ? ওঁর দলেরই একদা মন্ত্রী অশোক মিত্র এ ব্যাপারে ৮৫০ কোটির ঘাপলা না কীসব উল্টোপাল্টা যেন বলেছিলেন না ?

সিঙ্গুর ছেড়ে যাবার সময় টাটা বলেন (নাকি লেখেন?) “Unfortunately, the confrontation by Trinamool Congress led by Mamata Bannerjee and supported by vested interests and certain political parties, opposing the acquisition of land by the state government, have caused serious disruptions to the progress of the Nano plant”. আগের প্যারাটা পড়লে গন্ধটা খুব সন্দেহজনক মনে হচ্ছেনা ?

এহ বাহ্য ! ওঁর প্রশ্ন — “Would they (people and youth of WB) like to support the present government of Buddhadeb Bhattacharjee to build a prosperous state with the rule of law, modern infrastructure and industrial growth, or would they like to see the state consumed by a destructive political environment of confrontation, agitation, violence and lawlessness?” কিষেণজির মমতা-বন্দনা এর পরে না ? আর এই সব বলার কিছুদিন বাদেই উনি ওঁর বহুপ্রার্থিত গুড এম-কে পেয়ে গিয়েছিলেন না ? আর টাটা স্টিলের এম ডি না কে যেন সদ্য মিউনিখে গিয়ে মমতার হয়ে দাঁত কেলিয়ে এলেন না ? আর হর্ষ নেওটিয়া এবং সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এখন পাল্টি খেয়েছেন না ? আর ...

আসলে বয়সের কারণে সব কিছু ছাতা মনেও থাকে না !!!

এইবারে আমার নিপাট ব্যক্তিগত কথা শুনুন। আমি তিনোকে কোনও দিন বিজেপির থেকে আলাদা ভাবিনি। ২০০৭এর সিঙ্গুরের পর যা-ও বা একটু সিপিএমে ভাব ছিল, তা নন্দীগ্রামের পর পুরো চটকে যায়। তার পর থেকে নিয়ম করে আমি প্রতিটা ভোট পরিচালনা করতে চলে যাই কিন্তু পোস্টাল ব্যালট-ফ্যালটের ধারই ধারি না। পঞ্চায়েতে আমার ভোট নেই কাজেই সমস্যাও নেই। পুরসভার ভোট আছে কিন্তু ভোটের ডিউটি থাকে না। সেখানে কী পদ্ধতি অবলম্বন করি সে আর বিশদে না-ই বললাম। দিনহাটায় যারা নিজেদের লোকের ওপর গুলি চালায় তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি আমার নেই নেই এবং নেই।
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

দেখুন ভাই এত বড় বড় মাপের মানুষ নিয়ে আপনি বক্তব্য রাখছেন যাদের ছায়ার আগাও আমি মাড়াইনি কোনদিন। কাজেই তাদের মধ্যে কি মিনিময় হয়েছিল তা নিয়ে কোন কথা বলা আমার নির্বুদ্ধিতা হবে। আর তক্ক যেহেতু কাগজ পড়ে, তাতে কোন অংশটা রিপোর্টেড হচ্ছে আর কোনটা হচ্ছে না এটা আমার আজকাল আর বোধগম্য হয় না।

" কী কী শর্তে টাটাদের জমি দেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেই নিরুপম সেন বেদজ্ঞ ঋষির মত নিমীলিত নেত্রে ‘ট্রেড সিক্রেট’ এই কারণেই বলতেন নাকি "
সেটাতো তিনোরা ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করে দেবে বলেছিল। তো আমি এখনো প্রতিক্ষায় আছি।

আর নন্দীগ্রামে সত্যি কি হয়েছিল সেটা কে জানে? সিবিআই-কে তদন্ত করতে না দেওয়ার কারণে আমি মোটামুটি একটা সিদ্ধান্তে এসেছি যে ঐ তদন্তের ফলে যাদের হাতে হাতকড়া পড়ত তারা আসলে তিনোদের তল্পিবাহক ছিল।

নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কতজন পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে সেটা তো পোটমর্টম হলেই ধরা যায়। সে খবরটাই বা কোথায় পাওয়া যায় আজকাল ?
Avatar: ভ্যাবাচ্যাকা

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

যারা 'জয়শ্রীরাম' নয় 'জয় মাকালী' পব হিন্দু বাঙালির সংস্কৃতি বলে হাহুতাশ করছিলেন অতঃপর তাদের জন্যে -
https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/bjp-tweaks-bengal-slo
gan-adds-maa-kali/articleshow/69659355.cms



Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

পিটি

'সেটাতো তিনোরা ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করে দেবে বলেছিল। তো আমি এখনো প্রতিক্ষায় আছি।' তিনোরা অপদার্থ সে নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই। কিন্তু যে শর্তের লোভে টাটা বুদ্ধবাবুর পিঠে ছুরি মেরে সানন্দে পালান তা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়, হতে পারে না। সিঙ্গুর তবুও চলছিল, বিধানসভা ভাঙচুরের পরেও, কিন্তু নন্দীগ্রাম কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়। নন্দীগ্রাম এবং দিনহাটায় পুলিশের গুলিতে যদি একজনও মারা যান, আমি সেটাকেও সমর্থন করি না।

এইবারে আলিমুদ্দিনকে গড় করা কমরেডদের জন্য সীতারাম ইয়েচুরির স্টেটমেন্টটা এখানে রেখে গেলাম। আলো ক্রমে আসিতেছে বলেছিলাম। তা পূর্ণ হল। জানি তবুও মায়া রহিয়া যাইবে।

https://www.anandabazar.com/state/cpm-sounds-alarm-bell-on-bjp-1.10016
57


Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

"কিন্তু যে শর্তের লোভে টাটা বুদ্ধবাবুর পিঠে ছুরি মেরে সানন্দে পালান তা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়, হতে পারে না।"

আমার ধারণা সরকারের সঙ্গে যে কোন কম্পানির এই জাতীয় চুক্তি হয়েই থাকে-অন্ততঃ ভারতীয় আইন ব্যব্স্থায়। তিনোদের অপদার্থ বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তারা আইনতঃ বাধ্য ছিল চুক্তি অপ্রকাশিত রাখতে। অথবা চুক্তিতে এমন কিছুই ছিল না যেটা তারা রাজনৈতিক ফয়দা তোলার কাজে ব্যবহার করতে পারত।

এই কি সেই চুক্তি? এতে তো দেখছি টাটারা ৬৫০ একর পেয়েছিলঃ
"Out of this (997.11 acres), ......645.67 acres will be leased to TML ...... while an area admeasuring 290 acres will be leased to the vendors to this Automobile Project approved by TML (ancillary and component manufacturing units), 14.33 acres will be handed over by WBIDC to WBSEB only for construction of 220/132/33 KV substation and the balance admeasuring 47.11 acres will be used by WBIDC for rehabilitation activities ......
https://www.wbidc.com/images/pdf/Agreement%20between%20TML,%20WBIDC%20
and%20Government%20of%20West%20Bengal.pdf


"সীতারাম ইয়েচুরির স্টেটমেন্টটা এখানে রেখে গেলাম"
বিজেপি ঘোষিত রাজনৈতিক শত্রু। কিন্তু ভোটাররা নিজেদের আলিমুদ্দিনে বেঁধে রাখেনি। আর এখ্ন দখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিসের খবর চাউর হওয়াতে বোঝা যাচ্ছে যে তিনোদের অত্যাচারটা কোন পর্যায়ে গিয়েছিল।

কিন্তু আমরা তো নেতাই কান্ড সমর্থন করিনা। করি কি? তাহলে সাধারণ মানুষ নিজের বাঁচার রাস্তা বার করে নিলে, অগনতান্ত্রিক শাসন ব্যব্স্থায় হয় নেতাই নয় বাম ভোট রামে জাতীয় ঘটনাই ঘটবে।

** ভুল মানে করবেন না দয়া করে। নেতাই-এর সময়ে নন্দীগ্রাম অঞ্চলে সম্পূর্ণ অগনতান্ত্রিক অব্যব্স্থা চালু ছিল। সেটা বাম সরকারের ব্যর্থতা হলেও সত্যি।
Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

পিটি

আপনি বড্ড একা হয়ে গেছেন টইটায়। আর কেউ লিখছেন-টিখছেনও না। বেটার এটাকে ছেড়ে দেওয়া। তবুও বলি 'while an area admeasuring 290 acres will be leased to the vendors to this Automobile Project approved by TML (ancillary and component manufacturing units)' অংশটায় আমার আপত্তি আছে। একটা কোম্পানি নাফা করতে আসছে রাজ্যে, দানছত্র খুলতে আসছে না। সে কেন ডিকটেট করবে তার নাফা বাড়ানোর জন্য সহায়ক অ্যান্সিলিয়ারি ইউনিটে কারা থাকবে এবং কতটা জমি তাদের দিতে হবে? যদি দিতেও হয় তর্কের খাতিরে, তবে তা তিন-ফসলি জমিই কেন? সারা দুনিয়ায় মানে সিঙ্গুরেরই আশেপাশে আর জমি ছিল না? একেবারে প্রোজেক্ট এরিয়াতেই লাগবে? বিশেষত বাংলায় ঘনবসতির কথাটা ভাবাই হবে না? এ কি সানন্দের ঊষর জমি নাকি? মামদোবাজি?

তিনো প্রকাশ করবে বলেছিল, করেনি। তার ধান্দা মিটে গেছে। বামেরা তো তা প্রকাশ করতে পারত। এত ঢাকঢাক গুড়গুড়ের দরকার কী? করে ফেলুক।
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

আমি বরাবরই একা। স্রোতের উল্টোদিকে যাই তাই একা হওয়াটা স্বাভাবিক। দেখেন না যারা তাপসী ,মালিকের জন্য অশ্রু-সমুদ্র বইয়ে দিয়েছিল তাদের ঐ মামলার ফলাফল সম্পর্কে বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই?

"বামেরা তো তা প্রকাশ করতে পারত"-হয়্ত।কিন্তু যতদূর মনে পড়ছে টাটারা কোর্টে গিয়ে তিনোদের চুক্তি প্রকাশের ইচ্ছা আটকে দিয়েছিল। তাই আমার বিশ্বাস বামেরাও পারত না।

"তবে তা তিন-ফসলি জমিই কেন? সারা দুনিয়ায় মানে সিঙ্গুরেরই আশেপাশে আর জমি ছিল না? " এর সঠিক উত্তর আমার জানা নেই। তবে কট্টর বাম-বিরোধী কয়েকজন ইন্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি যে কলকাতা থেকে দূরত্ব এক্ষেত্রে একটা বড় বিষয় ছিল।

ন্যানোবিরোধীদের একটা প্রিয় জায়গা ছিল ঊষর খর্গপূর। আপনি ২০০৬-এর আগে কখনো খর্গপুর থেকে গাড়ীতে কলকাতা গিয়েছেন? বিশেষতঃ রাতে-৯ টার কাছাকাছি সময়ে? তাহলে আলোচনাটা করা যায়।

২০০১-এ ট্রেনে KGP-HWH পৌনে তিন ঘন্টায় যাওয়া যেত। ২০১৯-এ সেটা সাড়ে-তিন থেকে চার যা খুশী লাগতে পারে। আগ বাড়িয়ে এসব বলে দিলাম কেননা এই দূরত্ব নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। আর HWH-গামী এক্ষপ্রেস ট্রেনগুলো (বেশীর ভাগই)-১-২ ঘন্টা যা খুশী সময়ে আসে।

আর নরক-কুন্ড হাওড়া সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভাল।
Avatar: এলেবেলে

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

আজ সারাদিনে এত টাইপ করেছি যে আঙুলে ব্যথা করছে! আমার অ্যাপও নেই, ল্যাপও নেই। পাতি ডেস্কটপে খটখট। তবুও লোকটা যেহেতু আপনি এবং আই আই টি-র অধ্যাপক তাই ব্যথা হজম করেই বলি অ্যান্সিলিয়ারি ইউনিটের জন্য পতিত জমি চেষ্টা করলেই বার করা যেত। সিঙ্গুরের আশেপাশেই। দূরত্বের ব্যাপারটা মাথায় রেখেই। সেটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি।

এই যে 'টাটারা কোর্টে গিয়ে তিনোদের চুক্তি প্রকাশের ইচ্ছা আটকে' দিল এর ভেতরেই ঘাপলাটা লুকিয়ে আছে। আমার এখনও ধারণা (কারণ লিংক নেই) টাটার বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই শেষ অবধি কারখানাটা হয়নি। তিনোর ঘাড়ে বন্দুক রেখে সে বেটার অপশন পেয়ে পালিয়েছে। তিনো এটাকে ব্যবহার করেছে তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পূরণ করতে। আর জনগণের চোখে 'ভিলেন' হয়ে গেছেন বুদ্ধবাবু। কিচ্ছু বলতে পারেননি মুখ ফুটে। শিল্পপতির বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে তাই আমার আর কোনও মোহ অবশিষ্ট নেই।
Avatar: PT

Re: ভোট পর্যালোচনা- ২০১৯, পশ্চিমবঙ্গ

কোন শিল্পপতির প্রতিই আমার কোন মোহ নেই। মোহ আছে বড় কারখানা ও কেমিকাল হাবের প্রতি। কেননা পব-তে বিপুল সংখ্যক ছেলে-মেয়ে কেমিস্ট্রি নিয়ে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়। বিপুল সংখ্যক, (বিশেষতঃ মেয়েরা) bio-related বিষয়ে নিয়েও পড়া-শুনো করে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তাদের জন্য পব-র গোটাটাই ঊষর ক্ষেত্র। আমার এই তক্কে ঝাঁপানোর প্রধানতম কারণ ছিল এটাই-রাজনীতি দ্বিতীয় স্থানে ছিল।

তবে আমি স্থিরনিশ্চিত যে টাটাকে তাড়ানোর চাইতেও বামেদের উৎখাত করাটাই পাখির চোখ ছিল রামধনু জোটের। নানারকমের রাজনৈতিক প্রত্যাশার সমাপতনে ব্যাপারটিকে রূপ দেওয়া হয়। ফেবুতে একটি ছবিতে দেখলাম লকেট দিদি বড়দির অনশন মঞ্চে আলো করে উপস্থিত। তিনি এখন ভোটে জিতে সিঙ্গুরে কারখানার দাবী জানাচ্ছেন।

সম্প্রতি নয়ডা যাওয়ার পথে ৩ কিমি লম্বা মায়াকানন দেখলাম বাইরে থেকে। ঐ বিপুল পরিমাণ জমিতে গুচ্ছের পাথরের হাতি দিয়ে সাজাতে নাকি ৪০,০০০ কোটি সরকারি টাকা খরচা হয়েছিল। কোন মেধা , কোন রাজনাথ, কোন অগ্নিবেশ সেখানে ধর্ণা দিয়েছিলেন বলে তো মনে করতে পারিনা। কেন?
(আমারও "অ্যাপ নেই, ল্যাপও নেই। পাতি ডেস্কটপে খটখট।")

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19]   এই পাতায় আছে 81 -- 100


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন