বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রাষ্ট্র-অতি রাষ্ট্র, নাগরিক-অনাগরিক, ফ্যাতাড়ুরা এবং ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বিদ্যাসাগরঃ একটি কষ্টকল্পিত মনোলগ

জয়ন্ত ভট্টাচার্য

বিভিন্ন সময়-চিহ্নের স্থায়ী ছাপ নিয়ে যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং একক ব্যক্তির একক ভোটাধিকার চালু হলো সেগুলো মূলত সমাজের উপরের স্তরের ক্ষমতা চিহ্ন। এরকম এক ঐতিহাসিকতায় প্রধানত কৃষিসম্পর্কে আবদ্ধ শতকরা ৮০ ভাগ মানুষকে নিয়ে গড়ে ওঠা নতুন ভারতীয় জাতি-রাষ্ট্রে মডার্নিটি বা আধুনিকতা প্রকৃত অর্থে engrafted হয়ে যায়, ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক পরিবর্তন ও গতিশীলতার (social and historical dynamics) নিয়মে জন্ম নেয় না। রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যক্তি-সমাজ-কৌম-রাষ্ট্র-নাগরিকতার যে সম্পর্ক নতুন করে রচিত হয় ১৯৪৭ পরবর্তী ভারতবর্ষে তা প্রায়-সম্পূর্ণ ব্রিটিশ রাজনৈতিক সংবিধানের ধারায় তৈরি হওয়া। বিশেষ করে আমরা যদি দুটি বিষয় একবার স্মরণ করে নিতে পারি – (১) ভারতের উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ স্বয়ং গান্ধী তাঁর নিজের জীবনের ক্ষেত্রে একাধিকবার দুটি passion-এর কথা বলেছেন। প্রথমটি হল ব্রিটিশ সংবিধান (Pax Britannica-ও বটে) এবং দ্বিতীয়টি নার্সিং বা শুশ্রুষা। (২) প্রধানত শিল্প বিপ্লবোত্তর ইউরোপে সমাজ এবং কৌমের ধারণা খসে গেছে প্রায় ৩০০ বছর জুড়ে। নাগরিক ও রাষ্ট্রের মাঝে সরাসরি সম্পর্ক – অধিকার এবং কর্তব্যের বাঁধনে, cash nexus-এর প্রবল উপস্থিতিতে। এখানে মধ্যস্থতাকারী কোন সামাজিক পরিসর নেই, যা আছে তা নাগরিক পরিসর বা সিভিল স্পেস। ডেমোক্রাসির স্বর্ণযুগে কিংবা সামাজিক পরিসরের সবল, জোরালো উপস্থিতির সময় আধুনিকতা নির্মিত নাগরিকতার ভাষ্য ছাড়াও আরও অনেক স্বর, কণ্ঠ, আত্মপ্রকাশ করে – indiscernible থেকে discernible হয়ে ওঠে, invisibility থেকে visibility-র স্তরে উঠে আসে।

আরও পড়ুন...

উচ্চশিক্ষার অধিকার ও সুব্বির লড়াই

অনিকেত পথিক

এই ঘটনা আমাদের অনেকগুলো ব্যর্থতাকে দেখিয়ে দেয়, কিছু বিশ্বাসের মূলে আঘাত করে। প্রথমতঃ আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থার ব্যর্থতা। একজন নিরপরাধ তরুণ, সে প্রচলিত ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রেখেছিল, এক বছর ধরে কষ্ট-অপমান-উদ্বেগ সহ্য করেছিল এই বিশ্বাসে যে তার বিশ্বস্ততাই তাকে রক্ষা করবে। করল না। শেষ অবধি তাকে আইনের আশ্রয় নিতে হল। দ্বিতীয়তঃ মানুষ যত শিক্ষিতই হোক পরশ্রীকাতরতা তার যাবতীয় জ্ঞানের গরিমা, তার মানবিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দিতে পারে আর তৃতীয়তঃ আমরা যতই বড়াই করি যে মেধাই আমাদের একমাত্র মাপকাঠি, আসলে জন্ম-ধর্ম-জাতি-লিঙ্গ অনেক পরিচয়ই আমাদের কাছে গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুন...

অন্য ভোট (পর্ব ৪) - এক বৃদ্ধ ও কয়েকজন তরুণ

মৌসুমী বিলকিস

অন্য ভোটঃ শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ-'পরে যারা কাজ করে

আরও পড়ুন...

ফাগো তাঁতীর ভোট

প্রতিভা সরকার

লাশটা বেগুসরাইয়ের ফাগো তাঁতীর, বুড়ো হলেও যার আজাদির তৃষ্ণা মরেনি। বরং পরাধীন সারা জীবনের গ্লানি মোচনের জন্য সে এবার বেছে নিয়েছিল কানহাইয়া কুমারের প্রতি আনুগত্য। সারা নির্বাচন তরুণ নেতার জন্য চষে বেড়িয়েছে গোটা বেগুসরাই। পাগলের মতো গলা মিলিয়েছে আজাদির গানে আর ভোটের দিন সবার আগে আঙুলে দাগ নিয়ে মাতিহানি ভোট কেন্দ্রের বাইরে এসে উল্লাসে ফেটে পড়েছে -- হাম লেকে রহেঙ্গে আজাদি।

ঘাতকের চোখ তাকে অনুসরণ করছিল প্রচার পর্ব থেকেই। ফাগু তাঁতীর লিডার বনবার শখ হয়েছে তো খুব - তো দেখ নতিজা। ঘর থেকে তুলে নিয়ে গেল বাহুবলীরা, পারলো তোর কানাহাইয়া তোকে বাঁচাতে ? ঘরে ফিরল কাটাছেঁড়া করা প্রায় নাঙ্গা লাশ। ডুকরে কাঁদতেও ভয় পায় বালবাচ্চা বৌ।

আরও পড়ুন...

Tags :

রাত কত হইল? উত্তর মেলে না...

শুভাশিস মৈত্র

যতদিন না স্টেট ফান্ডিং চালু হচ্ছে, সিপিএমের এটা একটা অনেক দিনের দাবি, ততদিন ভোটে কোটি কোটি টাকা খরচ না করতে পারলে লড়াই করাই অসম্ভব। বিজেপির হাতে যত টাকা, মায়াবতী, অখিলেশ, চন্দ্রবাবুদের হাতে যত অর্থবল, তৃণমূলের তার সিকি অংশও নেই। সিপিএম নেতা গৌতম দেব অভিযোগ করেছিলেন, ২০১১-র ভোটে তৃণমূলের ফান্ডে চিটফান্ডের টাকা ঢুকেছিল। হয়তো ঢুকেছিল, কিন্তু তা আজও প্রমাণ হয়নি। ২০১৪তেই তৃণমূলের হাতে টাকা যথেষ্ট কম ছিল। বিজেপি তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ দখলের পরিকল্পনা করে। এবং তারা জানত, মমতাই প্রধান বাধা। দলেরই একজন টাকা দিয়ে নিয়োগ করে এক এজেন্সিকে। যার ফল আমরা দেখেছিলাম, পাঁচ লক্ষ টাকা করে নিচ্ছেন একেক জন নেতা।

আরও পড়ুন...

অন্য ভোট (পর্ব ৩) -- আকাশে ছড়ানো মেঘের কাছাকাছি দেখা যায় তোমাদের বাড়ি

মৌসুমী বিলকিস

সাত সকালেই চড়া রোদ। গুমোট হয়ে আছে বাতাস। ঘাম মুছে শেষ করা যাচ্ছে না। ক্ষণে ক্ষণে চশমার কাচে জমছে বাষ্প। মাথায় গামছা চাপিয়ে ছাতা ছাড়াই বেরিয়ে পড়েছি। ঘুরছি মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের কয়েকটা গ্রামে। কোথায় বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে, কোথায় পাওয়া যাবে নির্মাণ শ্রমিকদের, খোঁজ নিচ্ছি লোকজনের কাছে।   

এই জেলার নির্মাণ শ্রমিকের বেশিরভাগই পরিযায়ী। কাজ করতে যান ভিন রাজ্যে। মূলত কেরলে। ভিন রাজ্যের যে কোনও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হন এঁরাও। প্রবল বন্যায় কেরল ভেসে গেলে হাহাকার পড়ে যায় মুর্শিদাবাদের ঘরে ঘরে। কখনও বা ঘরে ফেরে শ্রমিকের কফিনবন্দী লাশ। কলকাতায় উড়ালপুল ভাঙলে চাপা পড়েন এই জেলার নির্মাণ শ্রমিকরাই। কোনও পরিসংখ্যান না থাকাই কখনও কখনও খুঁজে পাওয়া যায় না অনেক শ্রমিককে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন এভাবেই এগিয়ে চলে।

আরও পড়ুন...

উচ্চশিক্ষার অধিকার ও সুব্বির লড়াই

অনিকেত পথিক

গল্পটা একজন উজ্জ্বল যুবকের, অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ে যিনি কানপুর আই আই টি-র মত প্রথম সারির একটা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে পেরেছিলেন। কিন্তু গল্পটা শুধু তাঁর সাফল্যের নয়, চাকরী পাবার পর সহকর্মীদের তরফ থেকে তিনি যে অহেতুক শত্রুতার শিকার হয়েছিলেন, আর যেরকম শান্তভাবে অথচ দৃষ্টান্তমূলক দৃঢ়তার সঙ্গে তার মোকাবিলা করেছিলেন এটা আসলে সেই গল্প। মানুষের চরিত্র ও নীতিবোধ যে কতখানি ভঙ্গুর হতে পারে, পরশ্রীকাতরতা যে মানুষের নিজস্ব আচরণ কিভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে সেটা চাক্ষুষ করার জন্যও গল্পটা সকলের জানা দরকার।

আরও পড়ুন...

দু'টি কবিতা

জগন্নাথদেব মণ্ডল

জগন্নাথদেব মণ্ডলের দু'টি কবিতা

আরও পড়ুন...

ক্লিশিতে শান্ত দিন (কোয়ায়েট্‌ ডেইজ ইন ক্লিশি) - পর্ব - ১

হেনরি মিলার :: ভাষান্তর : অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

সেই দিনটাও ছিল বর্ষারই দিন, শেষবিকেলের দিক। কাফে ওয়েপলারে এক নবাগতাকে লক্ষ করলাম। আমি বেরিয়েছিলাম কেনাকাটা করতে, আমার হাত ভর্তি হয়ে আছে বই আর কিছু ফোনোগ্রাফ রেকর্ডে। সেদিন নিশ্চয়ই আমেরিকা থেকে একটা অপ্রত্যাশিত অর্থপ্রাপ্তি ঘটেছিল যার ফলে কেনাকাটা যা করেছি তারপরেও কয়েকশো ফ্রাঙ্ক তখনও আমার পকেটে। আমি বসে আছি ওই এক্সচেঞ্জের জায়গাটায়, ক্ষুধাময় এক মহিলামহল পরিবেষ্টিত হয়ে; ক্রমাগত খুঁচিয়ে যাওয়া বেশ্যার দল আর যা কিছু আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছে সেসবে আমার কোনও প্রতিবন্ধকতাই হচ্ছিল না, কারণ আমার চোখ তখন একনজরে তাক করে আছে মোহসঞ্চারী ওই নবাগতা সুন্দরীর দিকে, যে অনেকটা তফাতে কাফের দূরবর্তী কোণে বসে আছে। তাকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় সুন্দরী এক যুবতি বলেই মনে হল যে তার প্রেমিকের সাথে দেখা করবে বলে এসেছে এবং নির্ধারিত সময়ের অনেকটা আগেই চলে এসেছে।

আরও পড়ুন...

এই লোকসভা নির্বাচন কি শেষ নির্বাচন?

সুমন সেনগুপ্ত

ভারতের নির্বাচন চলছে। ৩ দফা হয়ে গেছে আরও ৪ দফা বাকি আছে। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না ভারতের নির্বাচন কি পদ্ধতিতে হয়। ভারতের নির্বাচন হয় এফপিটিপি বা ফার্স্ট পাস্ট দা পোস্ট পদ্ধতিতে। অনেকেই ভাবছেন এটা আবার কি বিষয়? সহজ করে বললে এই শব্দটার মানে দাঁড়ায় এই পদ্ধতিতে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশী ভোট পাবেন তাঁকেই জয়ী হিসেবে মান্য করতে হবে ভোটারদের। সে যদি কোনও ভোটার তাঁকে ভোট নাও দেন তাও। এই পদ্ধতিতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ভোট হয়। দেখা গেছে যে যে সব দেশ বিভিন্ন সময়ে ইংরেজদের কলোনি ছিল যেমন কানাডা, সুদান, কেনিয়া , ভারত এবং অন্যান্যরা এখনো এই পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পদ্ধতিতে অসুবিধা কোথায় এবং এর সঙ্গে ইভিএমের কি সম্পর্ক?

আরও পড়ুন...

সব মা মা নয়, কেউ কেউ মা

স্বাতী রায়

যেহেতু ২০১৭ সালে মায়ানমারে সেনাবাহিনীর অত্যাচার চরমে উঠেছিল, তাই গত বছরের মাঝামাঝি রিফিউজি ক্যাম্পে শিশু-জন্মের ঢল নেমেছিল। তখনই ইউনাইটেড নেশন জানিয়েছিলেন যে প্রতি দিনে প্রায় ৬০টি করে শিশুর জন্ম হচ্ছে। এই শিশুদের অধিকাংশই জন্মায় সরকারী বা বেসরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সীমানার বাইরে। গ্রাম্য দাই-এর হাতে জন্ম। জন্মের পরে এদের কোন রেজিস্ট্রেসন হয় না। তাই সরকারী ভাবে এরা অদৃশ্য – কোন সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সুযোগ এদের কাছে আকাশের চাঁদ। উদবাস্তু শিবিরের পানীয় জল, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবস্থা যেমন, তাতে এই শিশুগুলির সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা কতটা সেটা বেশ চিন্তার। শিশুমৃত্যুর হার বোঝার চেষ্টাও বাতুলতা কারণ সরকারী হিসেবে শিশুগুলি স্রেফ নেই।

আরও পড়ুন...

রাজনীতি ও যৌনকর্মী

প্রতিভা সরকার

আদিম এই পেশাটিতে ঠেলে দেবার পেছনে যদিও দারিদ্র, বিশ্বাসঘাতকতা, ঘর বাঁধবার দুস্তর স্বপ্ন, যা মরিয়াও মরে না-- এইগুলি এবং হিউম্যান ট্রাফিকিং প্রায় একশ পার্সেন্ট দায়ী, তবু কাঁচা পয়সার প্রাবল্য একটা বড় ব্যাপার। অনেক মেয়েই সেই লোভ কাটিয়ে উঠতে পারেনা। আর পুনর্বাসনের নামে তার সামনে যেসব প্রকল্প রাখা হয়, সেগুলোর অবস্থা অতি করুণ। দিনে দশ বার ঘন্টা সেলাই মেশিন চালিয়ে বা বিড়ি বেঁধে সে মাসিক যা ইনকাম করবে সোনাগাছিতে একদিনে তার বহুগুণ বেশি করবে। এই খানে ছোট্ট একটি তথ্য। একজন জনপ্রিয় যৌনকর্মী দিনে গড়ে প্রায় কুড়ি জন খদ্দেরের সন্তুষ্টি বিধান করে। এদের প্রায় প্রত্যেকের টাকায় তার আত্মীয় স্বজন প্রতিপালিত হয়। যেন সব লেডি দস্যু রত্নাকরের জীবনকাহিনী। পাপের ভাগ নয়, টাকার ভাগ চাই।

আরও পড়ুন...

অন্য ভোট (পর্ব ২) -- টানা রিক্সা ও তাঁহাদের কথা

মৌসুমী বিলকিস

কলেজস্ট্রিটের এক ফুটপাথে থাকেন কয়েকজন টানা রিক্সা চালক। ফুটপাথেই তাঁদের সংসার। ফুটপাথের এক কোণে মাটির তোলা উনুন। ফুটপাথ লাগোয়া বাড়ির প্রবেশ দরজার পাশেই বড় স্টিলের ট্রাঙ্কের মধ্যে তাঁদের যাবতীয় জিনিসপত্র; হাড়িপাতিল থেকে জামাকাপড়। কর্পোরেশনের টাইম কলে স্নান করা, কাপড় কাচা, বাসন ধোয়া। ফুটপাথে দাঁড়িয়েই জামাকাপড় বদলে নেওয়া। ফুটপাথের ওপর টাঙানো দড়িতে শুকোয় তাঁদের পোশাক। পার্ক করা টানা রিক্সায় রোদ এসে পড়েছে। তাতেও শুকোতে দেওয়া কয়েকটা ছোট জামাকাপড়। মহেশ্বরী প্রসাদ (৪৫) এখানেই থাকেন। সাত বছর কলকাতায় আছেন। গ্রামের মানুষদের সঙ্গে সতেরো/আঠেরো বছর বয়সে শহরে আসেন। প্রথমে মুটেগিরি করতেন। একশ কেজি, আশি কেজির বোঝা বইতেন। শেষে টানা রিক্সা চালানোই পেশা হিসেবে নেন।

আরও পড়ুন...

প্রতি-আক্রমণকারী

সুমন মান্না

লোকটা মরে ফর গেল না তো! অজ্ঞান হয়ে গেছে নাকি? কপালের কাছটা তো অনেকটা কেটে গেছে, হলদে হ্যালোজেন আলোয় রক্তের দাগ কালো দেখাচ্ছে। আশেপাশে কেউ দেখেছে নাকি? এদিকে তো আবার সব জায়গাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা বসান। কিন্তু দোষ তো লোকটারই, সেটাও নিশ্চয় বোঝা যাবে ক্যামেরায় – আর ওর কাছে অস্ত্র ছিল – ওইত, একটা ছ’ইঞ্চি মাপের ছুরি –নাকি একেই ভোজালি বলে?

আরও পড়ুন...

ঘাম ঝরানো সৃষ্টি: নলিনী বেরার শবর চরিত

কুমার রাণা

নলিনী উপন্যাস জুড়ে এরকম অসংখ্য চরিত্র- মানুষের যন্ত্রণা, হাসি, আনন্দ, দুঃখ, বেদনা, সর্বোপরি মানবীয় দ্বন্দ্ব, স্ব-বিরোধিতা নিয়ে জীবন্ত উঠে আসে। চরিত্রগুলোকে দেখা যায়, ছোঁয়া যায়, তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়। সাতশো চল্লিশ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি হয়ে ওঠে একটি যাত্রা যেখানে পাঠক হয়ে ওঠেন লোধা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জনসমুদায়গুলির নানান বহুত্বময়তার সঙ্গী। বন-নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে কৃষি মজুরে পরিণত হওয়া, তার ভিতরকার জটিল রাষ্ট্রীয় ও দলীয় রাজনীতি, পঞ্চায়েত, পুলিশ, পার্টি, কাঠ-ব্যবসা,সব মিলিয়ে যে সমাজ পরিবর্তন তার ফাঁকে ফাঁকে নলিনী আবিষ্কার করেন ঐতিহাসিকতা – -সংহিতা থেকে নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব, ভূগোল থেকে লোকসাহিত্য, নানা ভান্ডার থেকে উপাদান সংগ্রহ করে উপন্যাসের পরিধিকে বিস্তৃত করেন সেই অসীমে যেখানে পৌঁছাতে পারে শুধু চলমান মানবিকতা। মাটি, কাঁকর, কাদা; ভুড়রু, কেঁদ, মহুয়া; সাপ, পাখি,গুগলি; চুরি, সুদখোরী, ভালবাসা; দয়া, নিষ্ঠুরতা, পাপ; সব মিলেমিশে গড়ে ওঠে এক বহমান ইতিহাস, যার কেন্দ্রে থাকে মানুষ, যার হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে প্রকৃতি – শত আঘাতেও যে মানুষ বেঁচে থাকে, এগিয়ে যায়, শত আক্রমণেও যে প্রকৃতি ডালপালা মেলে জড়িয়ে ধরে তার আদরের মানুষকে।

আরও পড়ুন...

অ্যান্ড দা ডে ইজ সেভড বাই করিমন বিবি

অলোকপর্ণা

চোয়াল শক্ত করে বড় মেয়ে অফিসের ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পায়ে ফটক পার করে যায়। কোর্টের নোটিশের সাকার অস্তিত্ব সে গ্রাহ্য করে না। করিমন বিবি জানে, তার পিছু পিছু টমিটা, যতটা টমির পৃথিবী, ততটা পর্যন্ত যাবে। সাক্রোশে করিমন বিবি শসায় আরেকটা কামড় বসায়। এবার তার ঠোঁটের কষ বেয়ে শসার অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। টের পায় ছোটোটা সুশীতল বুরহানি গ্লাস নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে কিছুটা দূরে। করিমন বিবি তার দিকে না ফিরেই বলে, “ভিতরে চল।”

আরও পড়ুন...