বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

যুদ্ধের_ধুয়ো_এবং_ধো৺য়া

ডা: স্বস্তিশোভন চৌধুরী


......উনি দিব্যি হেসে উঠলেন। একেবারেই একটা তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন, ঠিক মন্তব্য নয়, প্রশ্ন! তার প্রশ্নের ধরনের দেখে সকলে ইতস্তত: করেও হেসে উঠল। তিনি মজা পেলেন। যে বলেছিল, সে একটা উত্তর দিল আমতা আমতা করে। তিনি আরো এমন একটি মন্তব্য করলেন, সকলে আরো বেশ খানিকটা হেসে উঠলো।

এই "উনি"টি কোনো কমেডিয়ান নন, অনুষ্ঠানটিও কোনো পাড়ার জলসা নয়, যে এমন ছ্যাবলামো অনায়াসে করা যায়! অনুষ্ঠানটি চলছিল দেরাদুনে, ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের বিভিন্ন স্বপ্নের প্রকল্প পেশ করছিল ওনার সামনে। দেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

হ্যাঁ, ঘটনাচক্রে উনি দেশের প্রধানমন্ত্রীও বটে।

যে বিষয়ের উপর প্রকল্পটি পেশ করেছিলেন ছাত্রীটি, সেটি কিন্তু এইরকম হালকা কোনো বিষয় ছিল না। বিষয়টি ছিল ডিসলেক্সিয়া (dyslexia)। এইধরনের সমস্যায় ভোগা ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ প্রতিভার উন্নতিকল্পে একটি প্রকল্প। পেশাগত জীবনে প্রতিনিয়ত এই ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকা ছেলেমেয়েদের অসুবিধা নিয়ে কাজ করতে হয় বলে আরো বেশি করে জানি সমস্যার গভীরতা আর এই ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন কতটা! আর সেখানেই উনি দিব্যি "ছ্যাবলামো" করলেন!!!

একটু বলে নিই ডিসলেক্সিয়া সম্পর্কে। সহজ ভাষায় বললে, এটি লেখাপড়ার একটি এমন সমস্যা যাতে "ভাষা" বুঝতে ও প্রকাশ করতে কিছু অসুবিধা হয়। অনেকে ভাবেন এটি হয়তো "প্রতিবন্ধকতা" বা "অসুস্থতা", কিন্তু আধুনিক গবেষণা সেই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এটি একটি এমনই অসুবিধা, যাতে বুদ্ধির ঔৎকর্ষ-এর কোনো সমস্যা সাধারণভাবে থাকে না। ভাষা বোঝার সমস্যার জন্য পড়তে, বা লিখতে, কিংবা বানান বলতে বা লিখতে কম-বেশি অসুবিধার কারণে প্রথাগত লেখাপড়ায় একটু পিছিয়ে পড়তে হতে পারে। কিন্তু অনেক সময় এদের নির্দিষ্ট কিছু প্রতিভার বিচ্ছুরণ অন্যভাবে হয়ে থাকে। দেশে বিদেশে অনেক বিখ্যাত মানুষের এই ধরনের অসুবিধা ছিল বলে অনুমান করা হয়, বা হালে অনেকে সেটা স্বীকারও করেন। তাতে তাদের বিখ্যাত হওয়ার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন বিশেষ ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কিছু করবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি, বা হয় না।

এই প্রসঙ্গে ছাত্রীটি আমীর খানের নামকরা সিনেমা "তারে জমিন পর" এর 'ঈশান' নামে চরিত্রটির উল্লেখ করেছিল। উনি বলে বসলেন যে এই প্রকল্পে ৪০-৫০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা। উত্তর সদর্থক হলে মুচকি হেসে বললেন যে তাহলে এদের মায়েরা বেশ খুশি হবেন। উদ্দেশ্য যাকেই করা হোক না কেন, এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গঠনমূলক উদ্দেশ্যের অনুষ্ঠানে একটি অতি নিকৃষ্ট মানের রসিকতা বা এককথায় "ভাঁড়ের" মত আচরণ ছাড়া কিছুই নয়।

তা, সব কিছুর মধ্যেই উনি রাজনীতির এইধরনের মোটা দাগের "ভাঁড়ামো" টেনে এনে ্কীভাবে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে চাইছেন, তাই সে নিয়েই রইল একটি ধারাবিবরণী, হয়তো বা একটি "দেশদ্রোহী" আখ্যায়ন।



যুদ্ধটা তো হতে হতেও ঠিক হলনা। যদিও 'মো বাবা' কয়ে দিয়েছেন, "এখন অবধি খালি ট্রেলার হয়েছে, ছবি এখনো বাকি।" তা ভোট ঘোষণা "হয় হয়", এক্ষণে এইসব জোশের কথা না বললে, জনগণ 'কেয়া খায়েগা ??'

এরইমধ্যে আব্বার গিনেস বুকে প্রায় নাম তুলে ১৫০০ কর্মীসভায় একসংগে বেশ কড়া করে বুথ মিটিং সেরে ফেললেন, যুদ্ধ আর দেশপ্রেম একসাথে নিয়ে অল্প করে ধমমো মশলা দিয়ে কিভাবে বেশ "গ্রেট ভাজপা কারি" রাঁধা যায় তার রেসিপি বাতলে দিলেন। তার উপর পড়ল একটু "বিকাশের" গরম মশলা। সেই "গরমা গরম" মশলা বিনি পয়সায় মানে সরকারি পয়সায় সব সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনে দেদার বিলি হল। মিডিয়া হাউস খুশ, ভক্তরাও খুশ!!

হ্যাঁ, যুদ্ধে ফিরে আসি। সেই জঙ্গী ঘাঁটি ধ্বংস আর তাই নিয়ে দাবি, পাল্টা দা্বির কথাতো আছেই। সে গুল্প নিয়ে পরে আসছি।

ওদিকে যা হল, পরেরদিন পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি চালানো শুরু করলো, যেরকম তারা করেই থাকে! ভারত জবাব দিল, যেরকমটা দিয়েই থাকে। "বজ্জাত" কাশ্মিরীদের আবার সীমান্তের গ্রাম থেকে সরাতে হল। পাকিস্তানের দিকেও তাই! এইরকম চলল, বেশ একটা "কার্গিল, কার্গিল" ভাব।

সমঝোতা এক্সপ্রেস বন্ধ হল, দুই তরফেই। পাকিস্তানের বিমানবন্দরগুলো সাধারণ উড়ানের জন্য বন্ধ করা হল, আকাশসীমায় যাত্রীবাহী বিমানের বিচরণ বন্ধ, ফলে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানগুলোকে দেদার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, খরচ বেশি, তাই প্রচুর বিমান বাতিল। ওটুকু কষ্ট তো সইতেই হয়!!
(টাটকা খবর, আজ থেকে সমঝোতা এক্সপ্রেস আবার চালু হচ্ছে। কাল থর এক্সপ্রেস নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়েছে। যদিও যাত্রী সংখ্যা অনেকটা কমেছে। স)

এরইমধ্যে আবার শুরু হল পাল্টা বিমানহানা। পাকিস্তানের। প্রতিরোধও হল, যেমন হয়।

তারপর সাংঘাতিক কান্ড। প্রথমে শোনা গেল, পাকিস্তানের তরফে, দুটো মিগ বিমানকে তারা গুলি করে নামিয়েছে। উল্টোদিকে শোনা গেলো ভারত একটি 'এফ ১৬' বিমানকে 'মিগ ২১ বাইসন' নিয়ে তাড়া করেছে, বিমানটি পালাতে গিয়ে ভেঙে পড়েছে, পাকিস্তানের দিকে। আর একজন ভারতীয় পাইলট নিখোঁজ। পাকিস্তান আবার জানালো, একজন ভারতীয় পাইলটকে তারা আটক করেছে। একটি মিগ বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবিও দেখালো তারা, আর এক ভারতীয় পাইলটের ছবি।

এবারে ভারত জানালো, ওই ভারতীয় পাইলটের নাম 'অভিনন্দন বর্তমান'। এই উইং-কমান্ডার প্রাক্তন এয়ার মার্শাল 'এস বর্তমানের' ছেলে। তিনি একটি 'মিগ ২১ বাইসন' বিমান নিয়ে 'এফ ১৬'-এর মত অত্যাধুনিক বিমানকে তাড়া করে ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে উড়িয়ে দেন। পরে তাঁর বিমানটিও ভেঙে পড়ে, তিনি প্যারাসুট দিয়ে মাটিতে নামেন, কিন্তু পাকিস্তানের মাটিতে। সেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

যাক, কার ক'টি বিমান ভেঙে পড়ল তাই নিয়ে বিতর্ক মিটবে না। কিন্তু, তৎপরবর্তী নাটক যথেষ্ট উচ্চ গ্রামের। কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় পাইলট 'নচিকেতা' যখন পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন, তখনও এরকম হয়েছিল। 'নচিকেতা' আটক ছিলেন আটদিন। সেই হিসাবে অভিনন্দন ভাগ্যবান।

আন্তর্জাতিক চাপের জন্যই হোক, বা ইমরান খানের তীক্ষ্ণ কূটনৈতিক বুদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট আপাত বদান্যতায় হোক, বা ভারতীয় "জোশের" জন্যই হোক, (শেষ মতটাই বেশি প্রচলিত, দেশপ্রেমী ভক্তগণের মুখে, বা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রচারের হাবেভাবে!) উনি মুক্তি পেলেন তিনদিনের মধ্যে। তাই নিয়ে দেশ উত্তাল ছিল পরশু, কালও। মিডিয়াতেও এছাড়া আর কোন খবর মেলা মুস্কিল ছিল। আর এইভাবেই "যুদ্ধ-জয়" প্রায় সম্পূর্ণ হল।

ইতিমধ্যে কাশ্মীরে একটি দুর্ঘটনায় "এম আই" হেলিকপ্টার ভেঙে পরে চারজন সেনা জওয়ান আর একজন সাধারণ নাগরিক মারা গেছেন। জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযানে মারা গেল দুই জঙ্গীর পাশাপাশি পাঁচজন সেনা, আধা- সেনা ও পুলিশবাহিনীর জওয়ান। একজন সাধারণ মানুষও মারা গেলেন গোলাগুলির মধ্যে পরে। ভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, তিনি মারা গেছেন সেনাবাহিনীর প্যালেট গানের গুলিতে, যখন জমা হওয়া "বজ্জাত" কাশ্মীরের লোকজনদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এরা কেউ পাথর ছুড়েছিল বলে অভিযোগ অবশ্য নেই।

আজ আবার সীমান্তে পাকিস্তানের গোলাতে তিনজন সাধারণ নাগরিক মারা গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে, দুজন সেনা আহত। এগুলোকে সব যুদ্ধ বা "যুদ্ধ যুদ্ধ" খেলার 'কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ' বলেই ধরতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আসল বিষয় হল অভিনন্দন, তাকে অভিনন্দিত করার পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক "জোশ" বা প্রচারের প্রয়োজনে নিজের অজান্তেই ব্যবহৃত হয়ে গেলেন, যাচ্ছেন, ব্যবহৃত হয়ে যাচ্ছে দেশের সেনাবাহিনীও।

আর হ্যাঁ, মূল ও আদি বিষয় যেটি ছিল, সেটি ক্রমশই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। মূল সন্ত্রাসবিরোধী বিমান-আক্রমণে আসল ক্ষতি কতটা হল জঙ্গীদের, সেই প্রশ্ন চাপাই পড়ে যাচ্ছে। পড়ে গেলেই ভালো, কারণ প্রাথমিক জোশের আতিশয্যে এদেশের বিভিন্ন মিডিয়া ২০০ থেকে ৪০০ এর মধ্যে একটা কিছু সংখ্যা ভাসিয়ে দিয়েছিল, নিহত জঙ্গীদের হিসাব দিতে গিয়ে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, রয়টার, আমেরিকার ওয়াশিংটন পোস্ট বা নিউইয়র্ক টাইমস, ব্রিটেনের বিবিসি বা গার্ডিয়ান, আরবের আল-জাজিরা এমনকী ইজরায়েলের সংবাদপত্র ও এই পরিমাণ ক্ষতিকে সমর্থন করেনি, বা ক্ষতির পক্ষে কোনো প্রমাণ দাখিল করেনি। দাখিল করেনি ভারতের সরকারও।

আর এত লোক মরে গেল, তাহলে বহু লোক তো আহত হওয়ার কথা, তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা, মৃতদেহগুলিকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা, নিদেনপক্ষে কবর দেওয়ার কথা, কিন্তু কোনো কিছু তৎপরতাই দেখা গেল না। বা হয়ে থাকলেও কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলো না, যাতে আমরা, সাধারণ মানুষ একটু জানতে টানতে পারি!! বরং শুধু গ্রামবাসীদের একজনের আহত হওয়ার ছবিই নানা খোঁজ টোজ করে মিলল। অস্ট্রেলিয়া থেকে আজ আবার খবর মিলল, স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে বোমা বর্ষণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোনো তাতে কোনো জঙ্গী ঘাঁটি বা ওই ধরনের কিছু ধ্বংস হয় নি। বো্মার আঘাতে পাইনগাছ আর কাকের ৃত্যুবরণ আর সেকারণে ভারতের প্রতি পাকিস্তানের 'ইকোটেরিরজম' এর খোরাক নিয়ে ভেসে যাচ্ছে বিদেশি মিডিয়া ও নেট দুনিয়া।

অন্যদিকে আজ আবার এক পত্রিকায় এক অজানা ইতালীয় সাংবাদিককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অন্তত: ৩৫ জন জঙ্গী মারা গেছেন, সঙ্গে দুজন পাকিস্তানী সেনা অফিসার, যারা প্রশিক্ষক হিসেবে ছিল!! এই "কোটি" প্রচারের সংবাদপত্র অবশ্য আগে নির্দিষ্ট করে চারজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী সহ ৩০০- ৩৫০ জনের কথা বলেছিল, একধাক্কায় সংখ্যাটা এক দশমাংশে নেমে আসাটা অনেকটা 'বাঘের লেজের মাপ' গলাখাকারিতে ছোট হওয়ার মত শোনাচ্ছে। শেষে অদৃশ্য না হয়ে যায়, কিম্বা হয়তো ভানুর মত ঘোষণা করে বসবে, "যতই কাশো, আর কমামু না!!"

মুশকিল হয়েছে এই আমার মত সংশয়বাদীদের, যারা কিছু বললেই তকমা পেয়ে যাচ্ছি 'দেশদ্রোহী ভাম সেকু মাকু' ইত্যাদি ্বিশেষণের, এত নাটুকে আয়োজন যাদের আর সহ্য হচ্ছেনা। সহ্য হচ্ছেনা, দেশপ্রেমের জবজবে আবেগে গলা কাঁপিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ আর পাঁচ বছরের "নষ্টামি" ভুলিয়ে এইসব দিয়ে 'ভোট বৈতরণী' পার হওয়ার চেষ্টা। এমন অবস্থা যে বিরোধীরাও তাঁদের নির্দিষ্ট প্রচার ছেড়ে সভায় 'রাফাল' আর 'মিগ' নিয়ে আলোচনা করছেন।

আমাদের নির্দিষ্ট ভাবে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে,
  • নোটবন্দীর সময় নির্দিষ্টভাবে জাল টাকার প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নতুন নোট এলে জঙ্গী তৎপরতা অনেক গুণ কমে যাবে। হল কই!!
  • গত পাঁচবছরে কেন্দ্রীয় সরকারে এবং গত দুবছর কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয় সরকারে থাকার সময়ে জঙ্গী তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছিল। সামরিক, আধা সামরিক, পুলিশ বাহিনীর ও সাধারণ মানুষের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা সবচাইতে বেশী, এই সময় কালে।
পাশাপাশি,
  • কৃষকের, শ্রমিকের, ছোট ব্যবসায়ীর দুর্দশা চরম অবস্থায় পৌঁছেছে এইসময়ে।
  • দুর্নীতি, ব্যাংক তছরুপ ইত্যাদি নানা ঘটনায় সরকারের চূড়ান্ত দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
  • দেশে বেকারত্বের হার গত বছরে সর্বকালীন রেকর্ড করেছে। অথচ কত কোটি যেন চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল!!
  • এবং কালোটাকা! বলা হয়েছিল, বিদেশ থেকে ফেরৎ এনে কত লক্ষ করে যেন একাউন্টে ঢুকবে!! সেতো হলনা (হওয়ার কথাও নয়), উল্টে কালোটাকার নামে নোট বন্দী করে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত নাজেহাল করা হল। এই প্রক্রিয়ায় সুইজারল্যান্ডের কালো তালিকাভুক্ত এক নোট(কারেন্সি) ব্যবসায়ীকে "কালো তালিকার" বাইরে এনে মহীশূরের টাকার প্ল্যান্ট বানানোর বরাত দেওয়ার ফলে সেই কোম্পানির আন্তর্জাতিক শেয়ার মূল্য ৩৫ - ৪০ শতাংশ বেড়েছে কিনা, তাই নিয়ে কোনো অপ্রিয় প্রশ্ন করছি না! শুধু এটুকুই জানা গেছে, ৯৯.৩ শতাংশের বেশি টাকা রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে ফেরৎ এসেছে। অথচ শুধু প্রক্রিয়া চলাকালীন, শতাধিক মানুষ, দেশেরই মানুষ, মারা গেলেন টাকার লাইনে, নিজের টাকা তুলতে গিয়ে। বেশ কিছু ব্যাংককর্মীও মারা গেলেন, সেইসময়ের কাজের চাপে।
  • আর এরই মধ্যে, এখন দেশপ্রেমের দানা ছেটানো প্রধানমন্ত্রীজী পাঁচ বছরের কম সময়ে ৮৫ দেশ ভ্রমণ করে বিশ্বরেকর্ড করলেন।

এইসব কথা এখন বলা বারণ। বাড়ীতে হামলা হতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গালিগালাজ চলতে পারে। গোটা দেশকে দেশপ্রেম আর জাতীয়তাবাদের "আফিম"-এ মজিয়ে রাখার পালা চলছে, আরো মাস দুয়েক এই পালা চলবে। আমরা হা করে খবরের কাগজ আর টিভির পর্দায় ক্ষুধা, তৃষ্ণা ভুলে "আবেগ" গিলবো। গিলতেই হবে, গিলতে বাধ্য করা হবে।



শেষে তাই আবার একবার দাড়ি বুড়োকে স্মরণ করি-
............"দেশকে সাদা ভাবে দেশ বলে জেনে যারা তার সেবা করতে উৎসাহ পায় না, চিৎকার করে মা মা বলে, দেবী বলে মন্ত্র পড়ে, তাদের সেই ভালবাসা দেশের প্রতি তেমন নয়, যতটা নেশার প্রতি।ঘৃণা কখনওই জাতীয়তাবাদের আবশ্যক উপাদান নয়...
জাতিতে-জাতিতে ঘৃণা চলতে থাকলে একটা দেশের ‘ন্যাশনাল স্পিরিট’ই নষ্ট হয়ে যায়...
মানুষের দায় মহামানবের দায়, কোথাও তার সীমা নেই...
দেশের জনতা যখন কোনও রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে যান্ত্রিকতায় ভর করে সংগঠিত হয়, তাকে নেশন বলে...
এই রাজনৈতিক সভ্যতা মন্দিরে লোভের মূর্তি বসায়, আর দেশপ্রেমের নাম করে সেখানে পুজো চড়ায়। কিন্তু নেশনের নাম করে এ ভাবে মানবিকতা ও সভ্যতার রীতি ভাঙা যায় না...
হিরের দামে ঠুনকো কাচ কিনতে আমি নারাজ।” (( "সভ্যতার সংকট"- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর))



ভালো থাকবেন সবাই। দেশপ্রেমের হালকা আঁচে থাকবেন, ধিকিধিকি আগুনে না থাকলেই ভালো। উনি আবার নাটুকে অট্টহাসি হেসে আপনার আবেগকে টেনে নিয়ে যাবে ভোট বাক্সে, আর ড্যাং ড্যাং করে "কুর্শি" দখল করে আপনার জীবন ভরিয়ে দেবে "খোয়াবনামা"য়!!

সাধু সাবধান।



556 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: সুতপা

Re: যুদ্ধের_ধুয়ো_এবং_ধো৺য়া

যে সরকার নিজের ভূখন্ডে নিজের সেনা কে হামলার পূর্বাভাস থাকা সত্বেও রক্ষা করতে পারে না, তাদের , অভিনন্দনীয় মেলোড্রামা প্রয়োজন লজ্জাবস্ত্র হিসেবে, অভিনন্দনের বীরত্বকে এ্যত্তোটুকু খাটো না করেই বলছি। দেশের ঊনকোটি ছত্তিরিশ সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষের আর উপায় কি দেশপ্রেমের লবঞ্চুস দেখানো ছাড়া? সামান্য এক গৃহবধু মিতা সাঁতরা স্বজনহারা হয়ে যে সংযম দেখিয়েছেন , তাও দেশপ্রেমী আঁতেলদের কাছে চরিত্রদোষ বলে বিবেচিত হয়েছে, ভাবুন কি অশিক্ষিত অশ্লীল জনগণ এদের সমর্থন করে? রইল বাঁত ডিসলেক্সিয়ার, মাননীয় প্র:মন্ত্রীর মগজ সম্ভবত সহমর্মী শব্দটি বিশ্লেষন করতে পারেনা , ডিসলেক্টিক, নতুবা প্রশ্নটি শুনে অমন প্রতিক্রিয়া দেখাতেন না অথবা মিতা সাঁতরার প্রতি চরিত্রহীনতার অভিযোগ তোলা ফেসবুক সেনানীর বিরুদ্ধে সরকারী উদ্যোগে সাইবার মানহানির অভিযোগ আনতেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন