বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

১।
১৯৩৮ সালে সুভাষচন্দ্র বসু প্রথমবারের জন্য ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ওই বছরই গান্ধির সঙ্গে তাঁর বিবাদের শুরু। কোনো আশ্চর্য কারণে অনেক মহল থেকেই এই বিবাদকে ব্যক্তিগত, আবেগজাত, ইত্যাদি নানারকম ঢাকনা দিয়ে পরিবেশন করতে ভালবাসেন, কিন্তু আদতে বিষয়টি ছিল তীব্রভাবে রাজনৈতিক, ভীষণভাবে তিক্ত, ভারতীয় রাজনৈতিককে মহলকে আড়াআড়িভাবে দুই ভাগে ভেঙে ফেলার উপক্রম করেছিল। প্রায় জয় হয়ে আসা যুদ্ধটি সুভাষ নিজের দায়িত্বে ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন। সেটি তাঁর মহত্ব না ব্যর্থতা সে নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, চালানো উচিতও, কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে এই বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় আসেইনা, যদিও অবিভক্ত ভারত, বিশেষ করে বাংলার ভবিষ্যতের জন্য গান্ধি-সুভাষ বিতর্ক অতীব গুরুত্বপূর্ণ, সম্ভবত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল।

এই বিতর্কটিতে ঢোকার আগে ১৯৩৭-৩৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর একবার নজর বুলিয়ে নেওয়া দরকার। ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘনিয়ে এসেছে, শুরু হবে বছর খানেকের মধ্যে, কিন্তু তার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এর পাঁচ-ছয় বছর আগে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসকের উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক সাম্প্রদায়িকতার সূচনা হয়েছে, ১৯৩২ সালের ম্যাকডোনাল্ডস সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা ঘোষণার মাধ্যমে। ওই বছরই গান্ধি-আম্বেদকরের মধ্যে সাক্ষরিত হয়েছে পুনা চুক্তি। ১৯৩৫ সালে বাঁটোয়ারার পরের ধাপ হিসেবে পাশ হয়েছে ভারত সরকার আইন, যাতে ভারতীয়দের দ্বারা কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আইনসভা কংগ্রেস বা লিগ কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি, কিন্তু প্রাদেশিক নির্বাচনে তারা উভয়েই অংশগ্রহণ করেছে। ১৯৩৭ সালেই হয়েছে এই নির্বাচন এবং বাংলা সরকারের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কৃষক প্রজা পার্টির নেতা ফজলুল হক।

সুভাষ-গান্ধি বিতর্কে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই জন্য সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা/ভারত সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাচনের ব্যাপারটি এখানে ছোটো করে দেখে নেওয়া দরকার। নির্বাচন এবং সরকার বলতেই আমরা এখন সার্বজনীন ভোটাধিকারের কথা ভাবি। কিন্তু ১৯৩৭ এর নির্বাচনে সার্বজনীন ভোটাধিকার তো ছিলই না, এমনকি বেশিরভাগ ভারতবাসীরই ভোট দেবার অধিকার ছিলনা। ভোটদানের অধিকার ছিল মূলত অবস্থাপন্ন এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীরই এবং সংখ্যার বিচারে সেটা সামগ্রিক জনসংখ্যার ১৩%র মতো। এবং বৃটিশ ধর্মীয় বিভাজনের পদ্ধতি অনুযায়ী মুসলমান, হিন্দু এবং ইউরোপিয়ান জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট সংরক্ষিত আসন ছিল। অবিভক্ত বাংলার ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান জনসংখ্যার অনুপাত কমবেশি আধাআধি হলেও ২৫০ টি আসনের আইনসভায় ১১৫ টি আসন বরাদ্দ ছিল মুসলমানদের জন্য, হিন্দুদের জন্য ছিল ৮০ টি। ইউরোপিয়ানরা সংখ্যায় নগণ্য হলেও তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ টি আসন। এই বাঁটোয়ারার কথা প্রথম ঘোষণা হয় ১৯৩২ সালে, এবং ওই বছরই আম্বেদকরের সঙ্গে তফশিলী জাতিদের সংরক্ষণ নিয়ে গান্ধি পুনা-চুক্তি করেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী এই ৮০ টির মধ্যে মাত্র ৫০ টি বরাদ্দ হয় বাংলার বর্ণহিন্দুদের জন্য। বলাবাহুল্য পুনা-চুক্তির সবচেয়ে বেশি প্রভাব বাংলায় পড়লেও চুক্তির আলোচনায় কোনো বাঙালি নেতাকে ডাকা হয়নি।

স্বভাবতই বাঙলার ভদ্রলোক সমাজে এই নিয়ে তীব্র আলোড়ন ওঠে। সেটি অন্যায্যও ছিলনা। এই ভাগাভাগি একেবারেই সংখ্যানুপাতিক ছিলনা। তার কিয়দংশ ম্যাকডোনাল্ডসের অবদান, কিছুটা গান্ধির। কিছুটা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উপরে টেনে তোলার শুভাকাঙ্খার ফসল, কিছুটা রাজনীতি-সক্রিয় বাঙালি ভদ্রলোককে সমঝে দেবার চেষ্টা, বাকিটুকু দ্বিজাতিতত্ত্বের ফলিত প্রয়োগ। কোনটি কত শতাংশ বলা মুশকিল, তবে অন্য সবকিছুর সঙ্গে এর যে একটি তীব্র সাম্প্রদায়িক অভিমুখ ছিল, তা অনস্বীকার্য। সেই সাম্প্রদায়িক অভিমুখ বেশ কিছুটা সাফল্যলাভও করে। ভদ্রলোক প্রতিবাদের এর একটি অংশ সরাসরি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গীতে চলে যান। উল্টোদিকে মুসলমান বুদ্ধিজীবিদের একটি অংশও একই ভাবে সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয় নেন। বর্ণহিন্দুদের কাছে এই ভাগাভাগি ছিল ইচ্ছাকৃত বঞ্চনা। মুসলমান এবং তফশিলীদের কাছে যা আত্মপরিচয় ঘোষণার সুযোগ। ফলে ভাগাভাগি গভীরতর হয়। স্পষ্টতই বৃটিশের একটি লক্ষ্য তাইই ছিল। অদ্ভুতভাবে দলগুলিও এই বিভাজনে ইন্ধন দেয়। নির্বাচনে মুসলিম লিগ কেবল মুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে। বিভাজন আরও বাড়িয়ে গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেস অংশগ্রহণ করে কেবলমাত্র হিন্দু আসনগুলিতে। প্রাতিষ্ঠানিক সাম্প্রদায়িকতার দরজা হাট করে খুলে দেওয়া হয়।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এত বিরাট উদ্যমের পরেও বাংলায় সাম্প্রদায়িকতা জয়ী হয়নি। বর্ণহিন্দু আসনগুলিতে কংগ্রেস বিপুলভাবে জিতলেও, মুসলমান আসনে মুসলিম লিগ একেবারেই ভালো করেনি। বেশিরভাগ আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পার্টি হয় মূলত মুসলমান চালিত কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ দল, ফজলুল হকের কৃষক-প্রজা পার্টি ( মুফাফফর আহমেদ এবং নজরুল ইসলাম উভয়েই এই পার্টির ঘনিষ্ঠ ছিলেন)। ফজলুল হক কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সরকারের প্রস্তাব দেন। ১৯০৫ সালের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলায় হিন্দু-মুসলিম উভয়ের প্রতিনিধিত্বে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এবং শুনতে আশ্চর্য লাগলেও গান্ধির নেতৃত্বে ধর্মনিরপেক্ষ দল কংগ্রেস দ্বিতীয়বার ধর্মনিরপেক্ষতার পিঠে ছুরি মারে (প্রথমটি ছিল কেবলমাত্র হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত)। কংগ্রেস জানায়, তারা জোট সরকারে অংশগ্রহণ করবেনা, সমর্থনও দেবেনা। ফজলুল হক বাধ্য হন মুসলিম লিগের সঙ্গে জোটে যেতে।

২।
সাম্প্রদায়িকতার এই অবাধ চাষবাসের মধ্যে দীর্ধ নির্বাসন/অসুস্থতার পর্ব কাটিয়ে সুভাষ দেশে ফেরেন। ১৯৩৮ এর শুরুর দিকে নির্বাচিত হন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে। লক্ষ্য হিসেবে তিনি ঘোষণা করেন সম্পূর্ণ স্বরাজ। তাঁর সামনে ছিল এই লক্ষ্যে জনসমষ্টিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ। ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় যে সাম্প্রদায়িক গোলযোগ ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নিজ দায়িত্বে পাকিয়ে তুলেছিল, সেই গোলমালের সমাধান করার বিপুল কাজও তাঁর কাঁধে চেপেছিল। কংগ্রেসের পূর্বতন ভুল সংশোধনের কাজটি সহজ ছিলনা। ১৯৩৮ সালে সুভাষ ও তাঁরা দাদা শরৎ বাংলায় কংগ্রেসের সমর্থনে কৃষক প্রজা পার্টির সরকার গঠনের একটি পরিকল্পনা করেন। সরকার থেকে মুসলিম লিগকে সরিয়ে সেখানে কংগ্রেস আসবে, এবং হিন্দু-মুসলমান যৌথ নেতৃত্বে তৈরি হবে নতুন সরকার -- এটাই ছিল লক্ষ্য। কৃষক-প্রজা পার্টির ভিত্তি ছিল গরীব এবং মধ্য কৃষকরা। কংগ্রেসের হিন্দু জমিদার ও 'সর্বভারতীয়' ভিত্তির সঙ্গে সেটা ছিল স্পষ্টই আলাদা। সুভাষ চিত্তরঞ্জন দাশের শিষ্য হিসেবে মুসলমান জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর একটি র‌্যাডিকাল বাম ঘরানার আদর্শও ছিল, যেটা কৃষক-প্রজা পার্টির লক্ষ্যের সঙ্গে সুসমঞ্জস । সুভাষ বাম ও র‌্যাডিকাল গোষ্ঠীকে সঙ্ঘবদ্ধ করতেও সক্ষম হয়েছিলেন। এবং পরিকল্পনায় বহুদূর এগিয়েও গিয়েছিলেন। পরিকল্পনার শেষ ধাপে তিনি ওয়ার্ধায় গিয়ে (গান্ধি তখন ওয়ার্ধায় ছিলেন) গান্ধির সঙ্গে আলোচনা করে অনুমোদনও নিয়েছিলেন। ব্যাপারটা জরুরি ছিল, কারণ সুভাষ সভাপতি হলেও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিতে তখন গান্ধি-প্যাটেলের একাধিপত্ব।

এরপরই ঘটে অদ্ভুত সেই ঘটনা, যা, অসাম্প্রদায়িক বোঝাপড়ার সম্ভাবনাকে আবারও সম্পূর্ণ উল্টোদিকে ঠেলে দেয়। আলোচনা করে কলকাতায় ফিরে আসার পরই, কলকাতার একচেটিয়া ব্যবসায়ী মহলে সুভাষের অ্যাজেন্ডা নিয়ে বিরূপতা দেখা যায়। কীকরে এই পরিকল্পনা ফাঁস হল তার বিশদ বিবরণ পাওয়া না গেলেও, যা জানা যায়, যে, এর পরই হক মন্ত্রীসভার সদস্য নলিনীরঞ্জন সরকার (পরবর্তীতে এই শিল্পপতি হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের মধ্যে যাতায়াত করবেন), যিনি তখনও কংগ্রেসের কেউ নন, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ও এক বিশিষ্ট সর্বভারতীয় শিল্পপতিকে নিয়ে গান্ধির সঙ্গে দেখা করেন। সেই শিল্পপতির নাম ঘনশ্যামদাস বিড়লা। এবং অবিলম্বে গান্ধি মত বদলে সুভাষকে চিঠি লেখেনঃ "নলিনীরঞ্জন সরকার, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এবং ঘনশ্যামদাস বিড়লার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা আমাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, যে, বাংলার বর্তমান মন্ত্রীসভা ( মুসলিম লিগ এবং কেপিপির আঁতাত) বদলানো উচিত নয়" । চিঠিটি সুভাষের হাতে পাঠানো হয় ঘনশ্যামদাস বিড়লার হাত দিয়েই। বজ্রাহত (বজ্রাহত শব্দটি আলঙ্কারিক নয়, সুভাষ স্বয়ং ইংরিজিতে 'শক' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তারই বাংলা) সুভাষ উত্তরে যা লেখেন, তা মূলত এই, যে, আপনার সঙ্গে এত আলোচনার পর আপনি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বদলালেন, এই তিনজনের কথায়? বোঝাই যাচ্ছে বাংলায় যারা কংগ্রেস চালায়, তাদের চেয়ে এই তিনজনেরই গুরুত্ব আপনার কাছে বেশি।

এই চিঠিটিতে সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে সুভাষের দৃষ্টিভঙ্গী এবং চিরাচরিত কংগ্রেসি ঘরানার সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের সুস্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। চিঠিতে সুভাষ লিখছেনঃ
"সিন্ধের ব্যাপারে মৌলানা সাহেবের সঙ্গে অমি সহ ওয়ার্কিং কমিটির আরও কিছু সদস্যের মতপার্থক্য হয়। এবং এখন বাংলার ক্ষেত্রে আমাদের মতামত সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে।
মৌলানা সাহেবের মত, যা মনে হয়, বাংলার মতো মুসলমান প্রধান প্রদেশগুলিতে সাম্প্রদায়িক মুসলমান মন্ত্রীসভাগুলিকে বিব্রত করা উচিত নয়.... আমি উল্টোদিকে মনে করি যথা শীঘ্র সম্ভব জাতীয় স্বার্থে হক মন্ত্রীসভাকে ফেলে দেওয়া উচিত। এই প্রতিক্রিয়াশীল সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে বাংলায় পরিবেশ তত সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠবে।"

এখানে অবশ্যই হক মন্ত্রীসভা বলতে কেপিপি বা ফজলুল হকের কথা বলা হচ্ছেনা, বরং সামগ্রিক মন্ত্রীসভাটির কথা বলা হচ্ছে, যেখানে কিছু সাম্প্রদায়িক শক্তিও ঢুকে বসে ছিল। স্পষ্টতই সুভাষ অসাম্প্রদায়িক একটি সরকার গড়তে চেয়েছিলেন, হিন্দু-মুসলমানের প্রতিনিধিত্বই যার ভিত্তি, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা যেখানে বর্জনীয়। এবং স্পষ্টই মৌলানা বা গান্ধির এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিলনা, যদি না উল্টো দিকে যাওয়াটাই তাঁদের অঘোষিত লক্ষ্যের অন্তর্গত হয়ে থাকে।

এই চিঠিতে সুভাষের আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন গান্ধি এবং মৌলানা। মৌলানার সঙ্গে তাঁর বিরোধের কথা সুভাষ চিঠিতে স্পষ্ট ভাবেই লিখেছেন, যদিও গান্ধির আকস্মিক মত বদল সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। সে সম্পর্কে একটি কৌতুহলোদ্দীপক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় শরৎ বসুর তৎকালীন সচিব নীরদচন্দ্র চৌধুরির বয়ানে, যিনি সেই সময় সুভাষেরও চিঠিপত্রের দায়িত্ব বহন করতেন। নীরদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুভাষ বিশ্বাস করতেন, যে কেবল মৌলানা নয়, গান্ধির মত পরিবর্তনের জন্য ঘনশ্যামদাস বিড়লাও দায়ি। তার কারণ একটিই। ঘনশ্যামদাসের ধারণা ছিল, যে, যদি হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য স্থাপিত হয়, তৈরি হয় কংগ্রেস এবং কেপিপির যৌথ সরকার, তাহলে কলকাতার অর্থনীতি এবং ব্যবসায় মারোয়াড়ি প্রাধান্য বিপদের মুখে পড়বে।

সুভাষের লিখিত চিঠিপত্রে এই সন্দেহের কোনো উল্লেখ অবশ্যই পাওয়া যায়না। তবে বিশ্লেষণের বিচারে নীরদের পর্যবেক্ষণটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রথমত, গান্ধির উপর 'ঘনশ্যামদাসের প্রভাব অনস্বীকার্য ছিল। তিনি ছিলেন গান্ধির প্রধান অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষক। এবং তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মনে করার কোনো কারণ নেই। দেখা যাচ্ছে, এর চার বছর পর ১৯৪২ সালে তিনি মহাদেব দেশাইকে বলছেন "আমি (বাঙলা বিভাগের পক্ষে"। মনে রাখতে হবে এটি বলা হচ্ছে, ১৯৪২ এ। তখন ভারত ছাড় আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং বাংলার বিভাজন তখনও রাজনৈতিক ভাবে আলোচ্যও নয়। দ্বিতীয়ত, গোষ্ঠীগতভাবে অবাঙালি শিল্পপতিরা পরবর্তীতে(৪৫-৪৬) বাংলা ভাগের উদ্যোগের পুরোভাগে ছিলেন। বিড়লা, জালান, গোয়েঙ্কা এবং বহুআলোচিত নলিনীরঞ্জন সরকার উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে থেকে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করতেন। প্রদেশের সব এলাকা থেকে মারোয়াড়ি ব্যবসায়ীরা সংগঠিতভাবে কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানানও যে তাঁরা বাংলা বিভাজনের সমর্থক।

সুভাষের চিঠিতে এই সব প্রসঙ্গের কোনো উল্লেখ নেই। এর অনেককিছুই ঘটবে ভবিষ্যতে, ফলে জানার কোনো উপায়ও ছিলনা তাঁর। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে তাঁর উচ্চারিত বাক্যগুলি পরবর্তীতে অমোঘ ভবিষ্যৎবাণী হিসেবেই দেখা দেয়। তীব্র ভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর বিরুদ্ধেও তিনি সওয়াল করেছিলেন। কিন্তু এই আবেগী উচ্চারণের কোনো ফল, বলাবাহুল্য হয়নি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে বসু ভ্রাতৃদ্বয়ের কার্যকরী পরিকল্পনাকে বাতিল করা হয়। কংগ্রেস-কেপিপি সরকারের সম্ভাবনায় তৃতীয়বারের মতো ছুরি মারা হয়। বাংলার সাম্প্রদাহিকতার উত্থানে যাকে, এক কথায় কংগ্রেস কথা গান্ধির সক্রিয় উদ্যোগ বলা যায়। এবং সুভাষ ও গান্ধির তিক্ততার ভিত্তিভূমি প্রস্তুত হয়।

৩।
বিরোধের পরবর্তী এবং তিক্ততম অধ্যায়টি শুরু হয় এর অব্যবহিত পরেই। আগেই বলা হয়েছে সুভাষের র‌্যাডিকাল এবং বাম ঘরানার একটি অ্যাজেন্ডা ছিল। তার মূল কথা ছিল পূর্ণ স্বরাজের দাবী। কৃষকের অধিকার, শ্রমিকের অধিকার, এই পরিপূর্ণ বাম অ্যাজেন্ডাগুলিও তাঁর বৃহত্তর লক্ষ্যে ছিল। কংগ্রেসের নেতৃত্বে একটি 'পরিকল্পনা কমিটি'ও তিনি তৈরি করেন, যে ধারণাকে পরে নেহেরু ব্যবহার করবেন তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বে। কৌতুকজনক ব্যাপার এই, যে, সেই ৩৭-৩৮ সালে সুভাষ ও নেহেরুকে একই সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীর ধরা হত। সেই কারণেই নেহেরুকে সুভাষ এই পরিকল্পনা কমিটির দায়িত্ব দেন। মেঘনাদ সাহাও এর সগে যুক্ত ছিলেন। হরিবিষ্ণু কামাথের মতো ব্যক্তিকেও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখেছিলেন সুভাষ। মজা হয় এরপর। ডিটেলের প্রতি, সত্যিকারের পরিকল্পনার প্রতি বিমুখতা দেখিয়ে নেহেরু বিষয়টির পতনের সূচনা করেন এবং কামাথ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। এই ডিটেলহীন আলগা আদর্শবাদ পরবর্তীতে নেহেরুর প্রধানমন্ত্রীত্বের সম্পদ হয়ে উঠবে, পরিকল্পনার আড়ালে কংগ্রেসঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের দেওয়া হবে লাইসেন্সরাজের অভয়ারণ্য, যা প্যাটেলের দক্ষিণপন্থার সঙ্গে চমৎকার খাপ খেয়ে যাবে। শিল্পপতিরাও এতদিনের পৃষ্ঠপোষকতার বিনিময়ে পাবেন বিভক্ত কিন্তু রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জহীন অখন্ড একটি বাজার, যা তাঁদের কাম্য ছিল। স্বাধীনতা-উত্তর সেই ঘটনা এখানে আলোচ্য নয়, আপাতত বিষয়টা এই, যে, সুভাষ চিরাচরিত দক্ষিণপন্থী কংগ্রেসি পৃষ্ঠপোষকতার বদলে একটি র‌্যাডিকাল বাম ঘরানার মুখ হয়ে উঠতে সক্ষম হন। তাঁর দাবী ছিল আসন্ন ইউরোপিয়ান সংকটকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণ স্বরাজের দিকে এগিয়ে যাওয়া। ফলে গান্ধির সঙ্গে তীব্রতম সংঘাত অনিবার্যই ছিল।

বৃটিশের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামের প্রশ্নে এই তিক্ত বিরোধ শুরু হয় ১৯৩৮ এর শেষের দিকেই। আসন্ন ইউরোপীয় সংকটের প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বরের এআইসিসি অধিবেশনে রাজাগোপালাচারি একটি ধোঁয়াটে প্রস্তাব আনেন, যেখানে ব্রিটিশের শুভবুদ্ধির প্রতি একটি আবেদন জানানো হয়, যে, যদি যুদ্ধ আসে, তবে ব্রিটেন যেন ভারতের প্রতি যথার্থ ব্যবহার করে। এই প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যেই বাম ও দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে দ্বৈরথ শুরু হয়। এক অর্থে এটি বৃটিশের সঙ্গে আপোষের উদ্যোগ, স্পষ্টতই সুভাষ বা র‌্যাডিকালরা, বিষয়টিকে সেইভাবেই দেখেন। তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতা নীহারেন্দু দত্ত মজুমদারের ভাষ্য অনুযায়ী, বামরা এই প্রস্তাবের একটি সংশোধনী আনেন, কিন্তু তা ওয়ার্কিং কমিটিতে গৃহীত হয়নি। সোমনাথ লাহিড়ি ও পিসি যোশি সহ ৭৩ জন প্রতিনিধি ওয়াক আউট করেন। সুভাষ তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। সেই দিনই তাঁরা সুভাষের কাছে প্রস্তাব দেন, যে আশু কংগ্রেসের মধ্যে একটি যথার্থ মেরুকরণের প্রয়োজন।

গান্ধি এই পুরো ব্যাপারটিতেই অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ছিলেন। কিন্তু তাঁর চোখের সামনেই এইভাবে একটি বৃহৎ বাম জোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। স্পষ্টতই সুভাষ নিজেও এই ঘরানার চিন্তা পোষণ করতেন। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আপোষহীন সংগ্রামের স্বার্থে একজন বাম ঘরানার নেতার ক্ংগ্রেস সভাপতি হওয়া উচিত, সুভাষের এই চিন্তার সঙ্গে জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো নেতারা একমত হন, এবং বাম জোট ক্রমশ বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যায়। সুভাষ কংগ্রেস সভাপতি পদে নিজের প্রার্থীপদ ঘোষণা করেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি জানান "বহু লোকে বিশ্বাস করেন, যে, আসন্ন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সামনের বছর কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী এবং ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে একটি আপোষের সম্ভাবনা আছে। স্বভবতই দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী কংগ্রেস সভাপতি পদে এমন কোনো বামপন্থীকে চায়না, যে আপোষ এবং দরকষাকষিতে পথের কাঁটা হতে পারে।"

এর চেয়ে স্পষ্ট কথা আর হওয়া সম্ভব নয়। এবং এরপর যা হয়, তা ইতিহাস। গান্ধী আপোষহীন বাম ঘরানার কোনো র‌্যাডিকালকে সভাপতি পদে মেনে নিতে রাজি হননা। পূর্ণ স্বরাজের ডাক দিতেও না। পূর্ণ স্বরাজপন্থী কাউকে সভাপতি করতেও তাঁর তীব্র অনীহা দেখা দেয়। আচার্য নরেন্দ্র দেবের মতো একজন আপোষে অরাজি মধ্যপন্থীর নামও প্রস্তাব করা হয়, কিন্তু গান্ধিশিবির অনড় থাকে। গান্ধি পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিজের (এবং অবশ্যই প্যাটেলের) পক্ষের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন। স্পষ্টতই দক্ষিণপন্থী শিবির গান্ধি ম্যাজিকের উপরেই সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় গান্ধির আশীর্বাদধন্য সীতারামাইয়ার জয়লাভ অনিবার্য ছিল। কিন্তু ১৯৩৮ সাল ঠিক স্বাভাবিক সময় ছিলনা। ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথমবার র‌্যাডিকাল এবং বামপন্থীদের জোটকে সুভাষ ঐক্যবদ্ধ করতে সমর্থ হন সেই বছর। সঙ্গে ছিল তাঁর নিজের ক্যারিশমা ও র‌্যাডিকাল অ্যাজেন্ডা। ফলে ভোটাভুটিতে কংগ্রেস সোশালিস্ট পার্টি এবং কমিউনিস্টরা একযোগে সুভাষের পক্ষে ভোট দেন। এবং গান্ধির প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবার র‌্যাডিকাল অ্যাজেন্ডার একজন নেতা কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। এই জয় কোনো ব্যক্তিগত লড়াই ছিলনা, ছিল ডান ও বামের রাজনৈতিক যুদ্ধের ফলাফল।

৪।
কিন্তু এই আখ্যান, সকলেই জানেন, সুভাষের জয়ের কাহিনী নয়। বরং সুভাষ ও তাঁর অ্যাজেন্ডার হেরে যাবার গল্প। গান্ধির নেতৃত্বে দক্ষিণপন্থী প্রত্যাঘাতের কাছে সেই চূড়ান্ত পরাজয়ের গল্পের সূচনা হয় এর পরেই। আপাতদৃষ্টিতে সভাপতিত্বে জয়লাভের পর সুভাষের সামনে আর বড় কোনো বাধা থাকার কথা নয়। গণতান্ত্রিক পথে জয়লাভের পরে র‌্যাডিকাল অ্যাজেন্ডার অগ্রগতির রাস্তা খুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বভাবতই গান্ধি ও প্যাটেল এত সহজে জমি ছেড়ে দিতে রাজি হননি। গান্ধি সুভাষের জয়কে নিজের ব্যক্তিগত পরাজয় বলে ঘোষণা করেন। জবাবে সুভাষ আবার আবেগী হয়ে পড়েন ('যদি অন্য জনতার আস্থা অর্জন করেও আমি ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটির আস্থা অর্জন না করতে পারি, তবে তা আমার পক্ষে খুবই বেদনাদায়ক') এর পর খুব তুচ্ছ একটি টেলিগ্রামকে কেন্দ্র করে সুভাষ এবং শরৎ বাদ দিয়ে গোটা ওয়ার্কিং কমিটি পদত্যাগ করে। এই জটিল পরিস্থিতিতে সুভাষের পুরোনো অসুস্থতাও আবার মাথা চাড়া দেয়। একেবারে অসময়ে। কিন্তু এইসব চাপে সুভাষের ব্যক্তিগত অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া ছাড়া আর রাজনৈতিক কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ কংগ্রেস সভাপতিকে পদচ্যুত করার কোনো বন্দোবস্তো কংগ্রেস সংবিধানে ছিলনা। এবং পদ্ত্যাগীদের বাদ দিয়ে সভাপতি নিজের মতো ওয়ার্কিং কমিটি গড়ে নেবারও অধিকারী।

এই ভাবে ১৯৩৯ সাল চলতে থাকে। সুভাষ যে ইউরোপীয় সঙ্কটের পূর্বানুমান করেছিলেন, তা আর মাত্র কয়েক মাস দূরে। মার্চ মাসে ত্রিপুরীতে কংগ্রেস অধিবেশন স্থিরীকৃত হয়। সুভাষ তখনও অসুস্থ। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তিক্ততা, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, অবিশ্বাস চরম জায়গায় পৌঁছেছে। এতটাই, যে, অসুস্থ সুভাষকে স্ট্রেচারে করে সভাস্থলে আনলে বিপক্ষশিবিরের কেউকেউ কটাক্ষ করেন, যে, তিনি বগলে রসুন নিয়ে জ্বর বাধিয়েছেন। আর এই অধিবেশনেই দক্ষিণপন্থী শিবির তাদের অভাবনীয় চালটি চালে। ত্রিপুরী অধিবেশনে গোবিন্দবল্লভ পন্থ আসন্ন ওয়ার্কিং কমিটি গঠন সম্পর্কে একটি অভূতপূর্ব প্রস্তাব আনেন। আসন্ন ওয়ার্কিং কমিটি কীভাবে গঠিত হবে? পন্থ প্রস্তাব অনুযায়ী, সভাপতি নিজে নিজে করবেননা, "গান্ধিজির ইচ্ছানুসারে সভাপতি তাঁর ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি করবেন"। অর্থাৎ, নির্বাচিত সভাপতি নয়, আসল কথাটি হল গান্ধির ইচ্ছা। এই অদ্ভুত ব্যাপারটির মানে বোঝাতে, লেনিন, মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গে গান্ধিকে তুলনা করে বলেন, "আমাদের গান্ধি আছেন", তো সেই সুবিধে নেওয়া হবেনা কেন? রাজাজি প্রস্তাবের পক্ষে বলতে গিয়ে বলেন, যে, সুভাষের ভরসায় কংগ্রেসকে অর্পণ করার অর্থ হল ফুটো নৌকোয় নর্মদা নদী পার হওয়া। বিতর্ক চলাকালীনই, গান্ধীজি যে এই প্রস্তাবের পক্ষে রাজকোট থেকে টেলিফোনে সম্মতি দিয়েছেন, সেই মর্মে স্থানীয় খবরের কাগজে একটি রিপোর্টও বার হয়। ফলে গান্ধির অনুগামীরা সকলেই এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

উল্টোদিকে সুভাষের ছিল বৃহৎ র‌্যাডিকাল জোট। তার একটি বড় অংশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও, কোনো অজ্ঞাত কারণে কংগ্রেস সোসালিস্ট পার্টি তাদের বিরোধিতার সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বাতিল করে এবং ভোটদানে বিরত থাকে। ফলে পন্থ প্রস্তাবটি পাশ হয়ে যায়। এবং সুভাষের হাত থেকে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের অধিকার বস্তুত কেড়ে নেওয়া হয়। এক ধাক্কায় বামপন্থীদের জয়কে পরিণত করা হয় পরাজয়ে। প্রসঙ্গত সুভাষ সন্দেহ করেন, আরেক সমাজতন্ত্রী নেহেরু তাঁর পিঠে ছুরি মেরেছেন, এবং এরপরই তাঁদের বহুমাত্রিক তীব্র তিক্ততার শুরু।

এর পরে বাকিটুকু বাম অ্যাজেন্ডার পরাজয়ের শেষাংশ মাত্র। সুভাষ নেহেরুর সঙ্গে তীব্র পত্রবিতর্কে জড়ান। গান্ধির সঙ্গে ওয়ার্কিং কমিটি নিয়ে বাদানুবাদে জড়ান। সবই তাঁর চিঠিপত্রে পাওয়া যায়। সে অতি চিত্তাকর্ষক উপন্যাসোপম ব্যাপার। সুভাষ জেদি যুবকের মতো গান্ধিকে অভিযোগ করছেন, জবাবে গান্ধির কাটাকাটা আবেগহীন স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান, এবং সঙ্গে অব্যর্থভাবেই সুভাষের শুভকামনা। সুভাষ লিখছেন পন্থ প্রস্তাবের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, তিনি সভাপতি হিসেবে পুরোটাকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন, কিন্তু করেননি, কারণ তীব্র ভেদাভেদ তাহলে দুনিয়ার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। একই কারণে তিনি পদত্যাগ করতে চাননা, কারণ সেটা খুব খারাপ একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। গান্ধি জবাবে প্রায় ঋষির মতই নিস্পৃহ। বাকি যা হয় হোক, তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অটল থাকছেন । ফলে কোনো আপোষ হয়না। পরবর্তীতে কলকাতা অধিবেশনে সুভাষ পদত্যাগ করেন, কংগ্রেসের ইতিহাসে যা খুব খারাপ উদাহরণ হিসেবেই থেকে যায়, যতদিন না খারাপতর উদাহরণরা এসে ব্যাপারটি ভুলিয়ে দিতে পারে। বৃহৎ বাম নেতৃত্বের বদলে গান্ধী-প্যাটেল রাজত্বের রাস্তা নিষ্কন্টক হয়। নেহেরু পোশাকি সমাজতন্ত্রী হিসেবে এই জোটের অংশ হিসেবে থেকে যান, যা কংগ্রেসের ভাবমূর্তির পক্ষে খুবই ভাল হয়েছিল পরবর্তীতে। দক্ষিণপন্থী জোটের নেতৃত্বে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস ইউরোপীয় সংকটে নিষ্ক্রিয় থাকে। সুভাষের ভবিষ্যৎবাণীকে যথার্থ প্রমাণ করে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী প্রতিরোধই গড়ে তোলেনি ওই তিন বছর। একমাত্র সুভাষ জার্মানি থেকে ফ্রি ইন্ডিয়া রেডিও সম্প্রচার শুরু করার পরই ভারত-ছাড় আন্দোলন শুরু হয়। হয়তো ঘটনাচক্র, হয়তো নয়। কংগ্রেস এবং লিগ রাজনীতির ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে সাম্প্রদায়িকতা বাংলা তথা গোটা উপমহাদেশে তার কালো ছায়া বিস্তার করে, যে ঘরানাকে সুভাষ ভাঙতে চেয়েও পারেননি। বা কংগ্রেসের ভাঙন এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবেই ভাঙেননি। কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে পন্থ প্রস্তাবকে পদাধিকারবলে অসাংবিধানিক হিসেবে নাকচ করে দিলে কী হতে পারত, তা নিয়ে বড়জোর এখন জল্পনা হতে পারে। ইতিহাস তাতে বদলাবেনা।


১. Bengal Devided The unmaking of a Nation -- Nitish Sengupta p 61-62
২. Congress President: Speeches, Articles, and Letters January 1938-May 1939 Subhas Chandra Bose (Author), Sisir Kumar Bose & Sugata Bose (Eds) p. 123 (নীতীশ সেনগুপ্তর পূর্বোক্ত বইয়েও এই চিঠির উল্লেখ আছে, কিন্তু অর্থগত ভাবে এক হলেও চিঠির বয়ান সামান্য আলাদা , এই লেখায় এই বইয়ের বয়ানটির অনুবাদই ব্যবহার করা হয়েছে)
৩. Nitish Sengupta p. 63
৪. Raj, Secrets, Revolution: A Life of Subhas Chandra Bose -- Mihir Bose p. 151
৫. Bengal Divided: Hindu Communalism and Partition -- Joya Chatterji p. 291
৬. Joya Chatterji p. 291
৭. Mihir Bose p. 153
৮. Mihir Bose p. 154
৯. Mihir Bose p. 158 (পন্থ এবং রাজাজির বক্তৃতাংশ দুটিই এখান থেকে নেওয়া)।



4103 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5]   এই পাতায় আছে 75 -- 94
Avatar: দ্রি

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

খানুদা, কেম্ব্রিজ স্কুলের দু একটা ভালো বইপত্র সাজেস্ট করুন না।
Avatar: দ্রি

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

কংগ্রেস পার্টির ফাইনান্সের সোর্স তো বোঝা গেল। নেতাজী ফাইনান্সটা ঠিক কোথা থেকে পেতেন তার কোন ডকুমেন্টেশান ঈশেন পেয়েছো কি? পেলে দিও তো।
Avatar: দ

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

ব্রিটিশ মোটিভ অব পার্টিশান? নরেন্দ্র সারিলা ঘেঁটে দেখতে পারেন। সোসেন আমাকে একটা ভারী চমৎকার ইপাব যোগাড় করে দিয়েছিল। ওয়ার্থ রিডিং।
Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন


নেতাজীর চিফ ফাইনান্সর ছিলেন, অন্তত '৪১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর আপন মেজদাদা শরৎচন্দ্র বসু।
Avatar: দ্রি

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

বিদেশে পড়তে গেছিলেন সেটা নিশ্চয়ই বাবার টাকায়। তখন অবশ্য তিনি খুবই ছোট। তারপর ... শরৎ বসুর টাকায়? ব্যাস? ওতে একটা আস্ত ইলেকশান জিতে গেলেন?

আমার তো মনে হয় আরো কোন টাকার সোর্স ছিল। জার্মানী পালালেন, জাপান গেলেন। এতদিন থাকলেন খচ্চা নেই? নিশ্চয়ই পয়সার কোন সোর্স ছিল। তখনকার দিনে এনারাইরা পয়সা দিত?
Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন


ইংল্যান্ডে আই সি এস পড়তে পাঠিয়েছিলেন জানকীনাথ বসু, কাজেই অর্থ তাঁর। জানকীনাথ সত্যিই ভাল রোজগার করতেন বলেই মনে হয়। সাত পুত্রের চার- পাঁচ জনই বিলেত ফেরত।

'২১ এ সুভাষচন্দ্রের আই সি এস ত্যাগে একমাত্র শরৎচন্দ্র ছাড়া পুরো পরিবার প্রচণ্ড আশাহত হয়েছিল। শরৎচন্দ্র স্বেচ্ছায় ভাইয়ের ভার গ্রহণ করেছিলেন বলেই জানা যায়।

শিশিরকুমার বসু লিখেছেন '৩৪ এ মান্দালয় থেকে যখন মুক্তি পেলেন, একটা শর্তে যে ভারতের মাটি না ছুঁয়ে তাকে রেঙ্গুন থেকে ইউরোপ চলে যেতে হবে, তখন সেই যাত্রা, ভিয়েনায় থাকা, চিকিৎসা সন দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই মেজদা। '৩৪- '৩৬ সুভাষচন্দ্র শুধু অষ্ট্রিয়া নয়, ইউরোপের ১১ টি দেশ ঘুরেছিলেন এবং প্রায় সব জায়গায় গিয়ে সেখানকার উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

সুইটজারল্যান্ডে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল বিঠলভাই প্যাটেলের যিনি বল্লভভাইয়ের দাদা। অকৃতদার এই মানুষটি সুভাষচন্দ্রকে খুব পছন্দ করে ফেলেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে উইলে তার আজীবনের সঞ্চয় তাকে দিয়ে যান। কিন্তু সুভাষচন্দ্রের জীবনীকারদের মতে সে টাকা তিনি কোনোদিন পাননি। বল্লভভাই মামলা করে দাদার সব টাকা আত্মাসাৎ করে।

বোম্বাইয়ে নেতাজীর আরেক পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এক পারসি হিরা ব্যবসায়ী ন্যাথানল পারেখ। May be he is one। Marine Drive র একটা অংশ এখন এর নামে।



Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন


@দ্রি

আপনি আর কদিন আগে জিজ্ঞেস করলে এই অতি ভাল প্রশ্নটির উত্তর পেতাম। এবার 'ব্রদারস অ্যাগেস্ট দ্য রাজ' র লেনি গর্ডনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে। ওকেই জিজ্ঞেস করতে পারতাম।

উনি এই জাস্ট বেরিয়ে গেলেন।
Avatar: Atoz

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

প্যাটেলদের টাকা বাঙালির পক্ষে পাওয়া খুব কঠিন। ঃ-)
Avatar: Atoz

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

ভাইয়ের ব্যক্তিগত খরচ হয়তো শরৎ বসু দিতেন, কিন্তু ইলেক্শন ? সে তো দলগত ব্যাপার! অত খরচ কি সম্ভব দাদার একার পক্ষে দেওয়া?
শরৎ বসু কী পেশায় ছিলেন?
Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন


ব্যারিস্টার ছিলেন। বাংলার 'বিখ্যাত পাঁচ' (ফেমাস ফাইভ) র একজন।
Avatar: Atoz

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

হুঁ, আমাদের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনও তো আইনজীবী ছিলেন। তবে এঁদের সম্ভবতঃ আইনজীবীর পেশা ছাড়াও অন্য আয়ের উৎস ছিল, জমিজমা ইত্যাদি নির্ঘাৎ ভালোরকম ছিলই। ছোটোখাটো জমিদারিও হয়তো ছিল কারুর কারুর।
Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন


ফেমাস নয় 'বিগ ফাইভ'।

স্বদেশী ব্যবসায়ীরা ছিলেন। কলকাতায় তখন তো বাঙালীরাই জমিয়ে ব্যবসা করছে!
Avatar: খ

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

জীবনের অন্তত ত্রিশ মিনিট নষ্ট করলাম এটা বোঝানোর জন্য যে কেম্ব্রিজ স্কুলে 'ভালো' কিসু নাই, এখন বলে ভালো বই বলো, এরা মানুষ না, অনেক টা ই এককের মত উন্নততর। ঃ-(((((((☺☺☺☺☺☺
Avatar: Ishan

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

কংগ্রেসে থাকাকালীন সুভাষের ফান্ডিং এর উৎস কী ছিল সে নিয়ে বিশেষ কোনো আলোকপাত কোথাও নেই। সুভাষকে নিয়ে লেখা বইগুলিতেও খুব সামান্য। ব্রাদারস এগেনস্ট রাজ এ যতদূর মনে পড়ছে কিছু নেই। তবে মিহিস বোসের বইতে পড়েছি ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরের নথি ছিল। তাতে বলা আছে সুভাষের ফান্ডিং এর উৎস ছিল ছোটো ব্যবসায়ীরা। এক লাইনে। গোয়েন্দা নথির কোনো সোর্স দেওয়া নেই। থাকলেও অবশ্য ভেরিফাই করা মুশকিল ছিল।
এছাড়া বিদ্যুৎ চক্রবর্তী আগাপাশতালা পড়া নেই, মার্কোভিতস ও না। পড়ছি। কিছু পেলেই জানাব।
Avatar: Ishan

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

আর কংগ্রেসের হিন্দু ভদ্রলোক নেতাদের একটা সাধারণ টাকার উৎস ছিল জমিদারি। বস্তুত এইটাই জয়া চ্যাটার্জির লেখার বড় পয়েন্ট। সেটা ঠিকই আছে। কিন্তু জমিদারির টাকায় সর্বভারতীয় কংগ্রেসের ক্যাম্পেন বা ফান্ডিং হয়না, এও ঠিক। এই টাকার অঙ্কটা জমিদারি দিয়ে কভার করা যাবেনা।
একটা উদাহরণ দিই, কুড়ির দশকের একদম শেষে বা তিরিশের শুরুর দিকে, বিড়লার চিঠিচাপাটিতে দেখছি এক বছরে অন্তত ষাট লাখ টাকা তিনি দিয়েছেন গান্ধিকে। সালটা মাথায় রাখলে, টাকার অঙ্কটা অসম্ভব বেশি। শুধু বিড়লা নয়, গান্ধির এই মাপের আরও বড়ো বড়ো ফাইনান্সিয়ার ছিলেন। যেমন বাজাজ। এর সঙ্গে ফাইট দেবার মতো টাকা জমিদারি থেকে হওয়া সম্ভব না।

এইটা অর্জিন অভিষেককে বললাম।
Avatar: খ

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

"Rেঃ সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন
Comment from দ্রি on 30 January 2019 22:55:59 IST 9003412.99.89900.191 (*) #
জয়া চ্যাটার্জিতে হিন্দু ভদ্রলোকের দায়ের ডকুমেন্টেশান পেলাম। মুসলিম ইন্টারেস্টগুলোর কিছু ডকুমেন্টেশান রয়েছে। যদিও বেশী করে দায়ী করা হয়েছে হিন্দু ভদ্রলোকদের।

যেটা একদম পেলাম না সেটা হল বৃটিশ মোটিভস। ক্লিয়ারলি দেয়ার ইজ পলিটিক্স অফ ওমিশান অফ ফ্যাক্টস। এটা কি কেম্ব্রিজ থেকে কাজটা ফাইনান্সড হয়েছে বলে?
আভতরঃ দ্রি
Rেঃ সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন
Comment from দ্রি on 30 January 2019 22:57:54 IST 9003412.99.89900.191 (*) #
খানুদা, কেম্ব্রিজ স্কুলের দু একটা ভালো বইপত্র সাজেস্ট করুন না।"

এতক্ষনে দ্রি এর কোশ্চেন টা বুজেছি। প্রশ্নের পারম্পর্য্য মোটামুটি এরকম তাহলে,
ইশান (একটা বিশেষ অর্থে, পরে ক্ল্যারিফাই করেছে হৈমন্তি রায় কোট করে, এবং যেটা অ্যাকচুয়ালি বেশ ভালো বই) বলেছিল জয়া চ্যাটারজি কেম্ব্রিজ স্কুল, আমি বলেছিলাম এটা বোধহয় বলা যায় না আর বলেছিলাম কেম্ব্রিজ স্কুলের মূল সমালোচনা টা সোর্স সংক্রান্ত, দ্রি বলছ যে জয়া চ্যাটার্জি হিন্দু ভ্রদ্রলোক দের কন্জারভেটিজম কে আর মুসলমান ইনটারেস্ট কে দায়ী করেছেন বেশি। এবং ব্রিটিশ ইন্টারেস্ট কে ততটা দায়ী করেন নি। আর জানতে চাইছো কেম্ব্রিজ স্কুলের ভালো বই আছে কিনা।

দ্বিতীয় প্রশ্ন টা বেশি সহজ, কেমব্রিজে স্কুল তখনি দেখা ভালো যখন ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরির কি কি দেখতে চাও তার তালিকা করার জন্য এই প্রসঙ্গে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রসঙ্গে ইত্যাদি। আর কোন বিশেষ কাজে লাগার কথা না। ইংরেজি শেখা জেতে পারে। আর ঐ কিভাবে হিস্টরিয়ান রা বিশাল সোর্স হ্যান্ডল করে, কোন যুক্তি কখন ক্লিঞ্চিং আর্গুমেন্ট হিসেবে ইউজ করে ,বা তোমার ভাষায় অমিশনের কি প্যাটার্ন, সেটা খেয়াল করে নিজের ক্রাফ্ট শার্পেন করতে পারো। ইতিহাস জানার কাজে শুধু কলোনিয়াল পেপার্স তো দেখলে হয় না, আমাদের দেশের, প্রতিবেশি শেয়ার্ড দেশ গুলোর পেপার্স দেখতে হবে নানা দেশের নানা ভাষায় সোর্স দেখতে হবে। সোর্স সোর্স এবং সোর্স। এই কদিন আগে অব্দি প ব র রিফিউজি এক্সপেরিয়েন্স এর কম্পেয়ারেটিভ স্টাডি অন্য রাজ্যের রিফুজি এক্সপেরিয়েন্স এর সঙ্গে হয় নি, এখন সবে একেবারে অল্পবয়সীরা করছেন। আমি এমন ভাবে কথা বলছি যেন আমি ঐতিহাসিক, তা না, আমি বাল, আমি শুধু পর্যবেক্ষক মাত্র, কোন কোন বিশেষ বিষয়ে ফ্রম ক্লোজ কোয়ার্টার্স। শুধু পুঁটির মা নন আরো কয়েকজনের বাজার সরকারের কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। লেবার হিস্টরি, কমিউনিস্ট ইনসারজেন্সী হিস্টরি এবং কালচারাল আর আর্বান হিস্টরি তে, ভালো অভিজ্ঞতা ঃ-)))

তবে কয়েকটা কথা আছে। একটা স্কুল অফ থট এর সঙ্গে সে দেশের ফরেন পলিসির বা স্টেট পলিসির সরাসরি যোগাযোগ সব সময় এক্সপ্লিসিট কিনা বলা মুশকিল। কারণ আর কিছু না, কারণ ব্যক্তি ঐতিহাসিক। তার ক্রাফ্ট, তার ট্রেড। সবটা পুরোটা কনট্রোল্ড হওয়া মুশকিল, যদি না অথরিটারিয়ান স্টেট হয়। এবার যেটা হয়, একটা অকাডেমিক স্কুলে ডন রা হয়তো সেই ডিপার্টমেন্ট কে ভীষন মহান রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য বা ঐ টাইপের ব এ হস্যি এক্সটেনসন মনে করেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও নানা ধরণের কাজ হয়। বিশেষত বেসিক ডেমোক্রাসি যদি সে দেশে থাকে। স্কুল অফ আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ, এটা হয়তো ব্রিটিশ কলোনিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দের পড়াতো একটা সময়ে, পরে লেপ্ট লিবেরেল এ ভর্তি হয়ে যায়। একেক্টা ডিপারটমেন্ট একেক্টা গতিতে, ইকোনোমিক্স মার্কসিস্ট প্রোফেসর পেল কিন্তু তার ছাত্ররা তার চাপে সকলেই ওপেন মারকেট পন্থী হয়ে গেলঃ-)))) কিন্তু ইতিহাস হয়তো অক্স-কেম কনজারভেটিজম থেকে বেরোতে পারলো না কিন্তু লিবেরেল ছত্র দের ট্রাবল দিলেও একেবারে ফেল করিয়ে দিল এরকম হল না। ইত্যাদি।

ধরো, কেম্ব্রিগে ইতিহাস বিভাগে তো ক্রিস্টোফার হিল পড়াতেন, মার্ক্সবাদী হিস্টরিয়ান , হতেই পারে, তিনি কলোনী বিষয়ে কাজ করতেন না বলেই চাকরি পেয়েছিলেন নইলে পেতেন না ঃ-))) কিন্তু এটা মনে করার কারণ নেই, ইংলিশ হিস্টরি যেটা মেন কাজ হিলের , সেখানে কন্টেস্ট কিছু কম ছিল। আবার ধরো ইউরোপিয়ান হিস্টরি র জায়ান্ট হবসবম কোনদিন অক্স কেম এ চাগরি ই পান নি, আউটসাইডার থেকে গেছেন , বার্কবেকে চাগরি করেছেন। একেবারে শেষ বয়সে এসে এস্টাবলিশমেন্ট ফিগার হয়েছেন, সেটা একেবারেই নিজের কল্পনাতীত স্কলারশিপের জন্য।

মার্ক্সবাদীদের শুষ্কং কাষ্ঠং ইতিহাস লেখার দুর্নাম তো ওঁর এখা পড়লে কখনো কখনো মনে হবে কবিতা পড়ছ। ভারত প্রসঙ্গে ক্রিসটোফার বেলি, একেবারেই মার্ক্সবাদী নন, কিন্তু অসভব ভালো সোর্স, স্মল টাউনের কমারশিয়াল ডেটা দেখছেন।

অতএব স্টেট পলিসি বা পজিশন এর ডিরেক্ট ইনফ্লুয়েন্স আকাডেমিক স্কুলে প্রথমে থাকতো না তা না, পরে মনে হয় বিষয় গুলো আলগা হয়েছে। যদিও ৬০স এর পর থেকে মারকিউজ, ইগলটন রা, (এবং আমাদের ট্রেনিং এ সেটা আছে অ্যাকচুয়ালি ) রা ইউনি মাত্রেই তাকে মিলিটারি ইনডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স এর একটা কখনো ইচ্ছুক কখনো অনিচ্ছুক অংশ হিসেবে দেখেছেন। এবং তার আভ্যন্তরীন ডেমোক্রাটাইজেশন প্রসেস টা কে জোর করার পক্ষে থেকেছেন, এবং এটা এখন আমাদের ও ডিবেট। হায়ার এডুকেশন প্রাইভেটাইজেশনের পরে তীব্রতর মাত্রা পেয়েছে। তবে বিষয়ের উপরে নির্ভর ও করে। নিয়ন্ত্র অথবা স্বেচ্ছা প্রতিনিধিত্ত্ব এবং ফান্ডিং, কখন কোনটায় রাষ্ট্রের ইন্টারেস্ট বেশি।

ধরো কথার কথা বলছি, মডার্ন হিস্টরি, বা রিসেন্ট হিস্টরি বা জায়গা বিশেষে এরিয়া স্টাডিজ এখন স্টেট পলিসির দ্বারা বিশেষ যদি ইন্টারেস্ট এর জায়গায় থাকে, তাহলে এটা মোর দ্যান লাইকলি, যে হিস্টরিয়ান রা জিনিস্টা থেকে সরে আসবে, এবং আস্তে আস্তে পোলিটিকাল সাইন্টিস্ট রা বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ হিস্টোরিয়ান বা মিলিটারি মেমোয়ার্স বা ডোমেস্টিক হলে কনস্টিটুশনাল এক্সপার্ট রা, লিগাল এক্সপার্ট রা সেই জায়গা টা নিয়ে নেবে। ধরো এলফিনস্টোন যখন ইতিহাস লিখছেন, তখন সাম্রাজ্যের প্রয়োজনে লিখছেন, কিন্তু সেই কাজটা এখন হিস্টরিয়ান রা করার সুযোগ কতটা পাবেন বলা মুশকিল, রুলিং ক্লাস কনজারভেটিজম বা ওয়ার অ্যাপ্রোচ রিফ্লেকট করা আর ডিরেক্ট একটা পলিসি রিফ্লেক্ট করা কাজে শুধুই ফাইনান্সিং এর জন্য দুটোর মধ্যে তো পার্থক্য আছে, এটা অনেক ক্ষেত্রে হলেও একসেপশন থাকে।

আর আছে সোর্স এবং সোর্স এবং সোর্স। নতুন হিস্টোরিয়ান (একেবারে বিজেপি মার্কা না হলে) রা যারা সরাসরি স্টেট ফান্ডিং এ কাজ করেন না, সোশাল সায়েন্সে কমেও এসেছে ফান্ডিং, তারা বিচিত্র সোর্স দেখবেন এটা মোটামুটি আশা করা যায়। এছাড়া যে কোন প্রফেসনেই নানা কনজারভেটিজম আর ট্রেড এর সমস্যা থাকে। দুটো উদা দেই, ধরো নেতাজি ভক্ত ন্যাশনালিস্ট হিস্টোরিয়ান কেম্ব্রিজে গিয়ে কেম্ব্রিজ স্কুলের কলোনিয়াল এনটারপ্রাইজের ডিফেন্ডার দের প্রিয় ছাত্র হয়ে কাজ করে এসে, আবার পুনরায় নেতাজি ভক্ত ন্যশনালিস্ট হ্যে গেলেন এবং কেম্ব্রিজের সার্টিফিকেট থাকায় তাড়াতাড়ি ইনফ্লুয়েন্শিয়াল প্রফেসর হয়ে অনেকের ইন্ডিপেন্ডেন্ট থিংকিং এ কাঠি করলেনঃ-))))। এতে ব্যক্তির দোষ বা পুয়োর জাজমেন্ট বা আইডিওলোজিকাল কম্প্রোমাইজ কতট জানি না, চাকরির ধরণ টা হল, বড় ওয়েল ফান্ডেড স্কল যেটা দিয়ে বড় আর্কাইভ্স দেখার সুযোগ আছে, সেখানে এনটারপ্রাইজিং ছাত্রকে যেতে হবে, তাতে তার দেশপ্রেম কমে গেছে অভিযোগ করাটা ঠিক না। বড়জোর রসিকতা করা যায়। এই ধরো সাব অলটার্ন স্টাডিজ, রণজিত গুহের সেই বজ্রনির্ঘোষে শুরু হল, তার পরে সকলেই সাম্রাজ্যবাদী দের চক্রান্ত ধরে ফেলতে বিদেশে প্রফেসর হয়ে গেলেন বা বড় ইউনি র বড় জায়গায় ডন গোছের হলেন। এটা গোটাটাই চক্রান্ত কিছু না, চাকরি তাঁদের ইনটেলেকচুয়াল ইন্টিগ্রিটি কে সব সময়ে চুড়ান্ত প্রভাবিত করেছে এটা পুরো জেনেরালাইজ করে বলতে পারবো না। আউটসাইডার দের অ্যাডভানটেজ আছে। কিন্তু আউটসাইডার মানে তো চাঁদে কেউ আছে এমন না। আবার এটাও ঘটনা, হিস্টরি ডিস্প্লিন থেকে না এসেও, অশোক সেন, আশীশ নন্দি, পার্থ চট্টোআধ্যায় রা অনেকেই অ্যামেজিং মাথ ঘুরিয়ে দেবার মত কাজ করেছেন, আউটসাইডার বলে প্রি একসিস্টিং লিটেরেচা কম দেখেছেন, বা তাতে নিজেকে শিক্ষিত করেন নি তা না। আমি তো এক ইঞ্জীনিয়ার এর কথা সেদিন ই শুনছিলাম উনি মেডিয়েভাল ইঞ্জীনিয়ারিং এ আপাতত গবেষণারত।

আউটসাইডার ডিবেট টার আমার মতে আসল ডাইমেনসন টাও অ্যাকচ্যালি আমাদের পরাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। তুমি বল আমরা এক বেঁটে কালো ভারতীয় রা, আমরা এত পশ্চিমী স্কলার দের সাবজেক্ট, আমাদের কটা স্কলার বিলেতে গিয়ে বা আমেরিকায় গিয়ে সে দেশের ইতিহাস নিয়ে কাজ করে গ্লাস সিলিং ভাঙ্গে । খুব কম। সবে হচ্ছে।অভিবাসনের ফলেই অল্প স্বল্প হচ্ছে। আমি একজন কে জানি তিনি শুনেছি, একেবারে অল্প বয়স, জার্মানীতে গিয়ে গম্ভীর ভাবে জার্মান ফ্যাসিজম এর নানা দিক নিয়ে বই লিখেছেন, এটা গণতান্ত্রিক দেশে তাত্ত্বিক বাধা না থাকা সত্ত্বেও এত অল্প কেন, কারণ আমরা শুধুই নিজেদের বিষয় হিসেবে ভাবছি। সাবজেক্ট শব্দটার দুটো বিচিত্র মানে। আমি বলছি না, যাই গিয়ে সায়েব দিয়ে বুট পালিশ করাই বা বিদেশী গরীবের ছবি তুলে ফে বু তে দি, বোকা বোকা কথা, বা সমস্ত ভালো ছাত্র দের রাগবি আর টেনিস এর স্পোর্ট হিস্টরি করা উচিত, আমি বলছি, উই শুড নট ওনলি রিমেন অ্যাজ অ্যান এরিয়া অফ রিসার্চ। এটা ভাবার আছে একটু।

জয়া চ্যাটার্জির এক্সপ্রেস্ড অপিনিয়ন প্রসঙ্গে যেটা বলা যেতে পারে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শুরু র সময়ে হিন্দু এলিট এর একটা বড় প্রতিক্রিয়া ছিল, মুসলমান এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে, এটা তো ফ্যাক্ট, এবং ভেবে দেখো, ইউরোপিয়ান পিরিয়ডাইজেশনের মডেলে আমাদের দেশের পিরিয়ডাইজেশন তৈরী কিন্তু কলোনিয়াল হিস্টোরিয়ান আর ন্যাশনালিস্ট হিস্টরিয়ান দের হাতে। গ্লোরিয়াস হিন্দু যুগ অন্ধকার ইসলামিক পিরিয়ড, অবশেষে আধুনিক ব্রিটিশ (খ্রীষ্টান না) পিরিয়ড , ইত্যাদি হাস্যকর। মানে এটার জন্য আর নতুন টই এ বক্তৃতার দর্কার নেই, পার্টিশনের ভাগ বাঁটোয়ারা র সময় এই অবস্থান টার পরিবর্তন জয়া চ্যাটার্জি বিশেহ্হ দেখেন নি। এই আর কি। তাই বলে বিলিতি শাসকের আমাদের সারা জীবনের জন্য সাবজুগেট করার শয়তানি র অপরাধ মুছে যায় না। ত্ছাড়া জয়া চ্যাটার্জির আর দুটো বক্তব্য হল এলিট অংশের মধ্যে বেঙ্গল প্ল্যান কতটা পপুলার তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তবে সব ধারণের মানুষের মধ্যে পার্টিশনের পক্ষে অদৌ মত ছিল কিনা সেটা নিয়েই প্রশ্ন করেছেন হৈমন্তী রায় একেক্জনের একেকটা এম্ফাসিস। আর ওঁর যেটা ওপেনিং স্টেটমেন্ট, সেটার বক্তব্যই ছিল পার্টিশন নিয়ে মুশলমান দের দায়ী করা হয় ন্যাশনালিস্ট ডিসকোর্সে, তাঁর কাজ টা ওটাকে সমালোচনা করাই নিজের স্কোপ হিসেবে ধরেছেন। জয়া চ্যাটার্জি কে ডিফেন্ড আমি কি মরতে করতে যাবো বুঝছি না, তাঁর বিবলিওগ্রাফি, সোর্সের বিভিন্নতা তার কিছুটা ডিফেন্স বাকি টা তিনি নিজে দেবেন বা দিয়েছেন, পরবর্তী পেপার্স পড়ে দেখতে পারো, আমার শুধু বক্তব্য ছিল স্কুল নিয়ে।
কিন্তু আমরা মূল উত্থাপিত প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি, মানে আমি গেছি তুমি যাও নি, আবার পরে হবে ঃ-))))

(আমার শুধু একটু ইন্দোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ছিল, সে কি আমার জন্যই লেখা বন্ধ করলো, আমি একটু সিরিয়াস গোছের গাম্বাট এবং কম্পালসিভ ডিবেটার মাত্র , লেখায় বাধা তৈরি করা আমার আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল না)।
Avatar: খ

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

স্টেট ফান্ডিং এর নানা মজা আছে, ধরো নেট পাওয়া জে আর এফ স্কলার কে এইচ আর ডিপারটমেন্ট পয়সা দেবা বন্ধ করে দেবে একেবারে তার মনাত কাজ না হলে সেটা অ্যাবাসার্ড, কিন্তু হয়তো সেরকম জায়্গায় শুধু সরকারী দালাল গোছের প্রফেসর দের চেনা গোছের লোকেরা সাবসিকোয়েন্ট পজিশন গুলো পেলো, কিন্তু সেট পজিশনাল কোরাপশন রাদার দ্যান প্রোপাগেশন অফ আইডিয়াজ। এটা আর এস এস আমলে বদলাবে অবশ্য। বিষয়টা ডেমোক্রাসি টা কত শক্ত পোক্ত তার উপরে। এই ধর প্রভাত পটনায়েকের সব বড় ছাত্র ই তাত্ত্বিক দিক থেকে তাঁর বিপরীতে, ইরফান হাবিবের ছাত্র/ঘনিষ্ঠ কোলাবরেটর রা রা সব সময়ে তাঁর মতের সংগে মিলে চলেন নি।
Avatar: খ

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

তবে এই স্টেট পলিসির প্রোজেকশন নিয়ে একটা সিরিয়াস দুঃখের জায়্গা আছে আমর। স্যাম হান্টিংটন। এত পন্ডিত লোক, ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশন হিসেবে ই কেন গোটা ইতিহাস টাকে দেখলেন, জানি না। এবং ইরাক যুদ্ধের আইডিওলোগ ওঁকে বলতে ইচ্ছে করে না, কিন্তু আইডিওলোগ রা ওনার দ্বারা যতটা প্রভাবিত, আলবার্ট হুরানি দ্বারা কি ততটা প্রভাবিত? এটা একটা সমস্যা, খুব দুঃখের।
Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন


ধন্যবাদ @ঈশান

আমার বক্তব্যটা পরে জানাব।
Avatar: দ্রি

Re: সুভাষ, গান্ধি ও ত্রিপুরী অধিবেশন

"জয়া চ্যাটার্জির এক্সপ্রেস্ড অপিনিয়ন প্রসঙ্গে যেটা বলা যেতে পারে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শুরু র সময়ে হিন্দু এলিট এর একটা বড় প্রতিক্রিয়া ছিল, মুসলমান এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে, এটা তো ফ্যাক্ট ...
ত্ছাড়া জয়া চ্যাটার্জির আর দুটো বক্তব্য হল এলিট অংশের মধ্যে বেঙ্গল প্ল্যান কতটা পপুলার তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তবে সব ধারণের মানুষের মধ্যে পার্টিশনের পক্ষে অদৌ মত ছিল কিনা সেটা নিয়েই প্রশ্ন করেছেন হৈমন্তী রায় একেক্জনের একেকটা এম্ফাসিস। আর ওঁর যেটা ওপেনিং স্টেটমেন্ট, সেটার বক্তব্যই ছিল পার্টিশন নিয়ে মুশলমান দের দায়ী করা হয় ন্যাশনালিস্ট ডিসকোর্সে, তাঁর কাজ টা ওটাকে সমালোচনা করাই নিজের স্কোপ হিসেবে ধরেছেন।"

এসব তো ঠিকই আছে। জয়া চ্যাটার্জি যে যে পয়েন্টগুলো করেছেন সেগুলো এনাফ সাবস্ট্যানশিয়েট করেছেন। কিন্তু ওনার পুরো স্টোরিতে বৃটিশরা একেবারেই এক্সনারেটেড। দিস উইল নট এস্কেপ দা নোটিস অফ অ্যান অ্যাটেন্টিভ রীডার। এর কী কারন সেই নিয়ে নানারকম স্পেকুলেশান থাকতে পারে, কিন্তু এটা হল ফ্যাক্ট। একে ডজ করা মুস্কিল।

অন দা আদার হ্যান্ড, নরেন্দ্র সিং সারিলা তাঁর বইয়ের প্রথম প্যারাতেই বলছেন, ১৯৪৭ এর তেসরা জুন বৃটিশ লেবার পার্টির অ্যানুয়াল কনফারেন্সে বৃতিশ ফরেন সেক্রেটারী আর্নেস্ট বেভিন বলেন, ডিভিশান অফ ইন্ডিয়া উড হেল্প টু কনসলিডেট বৃটেন ইন দা মিডল ইস্ট। (এই দুর্দ্ধর্ষ বইটা রেফার করার জন্য দমদিদিকে ধন্যবাদ।)

কেসটা হল, গ্রান্টেড মাদুরোর সরকার এখন খুবই উইক গ্রাউন্ডে, গ্রান্টেড এখন ভেনেজুয়েলায় ক্ষোভ প্রচুর, কিন্তু এখন থেকে তিরিশ বছর পরে যদি ইতিহাস বইতে দেখি, ভেনেজুয়েলার ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার জন্য কে বেশী দায়ী -- মাদুরো না গুয়াইদো এই নিয়ে আকচা আকচি হচ্ছে উইদাউট এ মেনশান অফ দা রোল অফ ইউ এস, আই উড হ্যাভ টু সে দ্যাট দা স্টোরি ইজ ইনকমপ্লিট।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5]   এই পাতায় আছে 75 -- 94


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন