বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

প্রতিভা সরকার

পুরুলিয়াতে বেরো পাহাড় ধ্বংসের ছবি অন্তর্জালে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দিব্যি একটা বিরাট পাহাড় দাঁড়িয়েছিল, জীবজন্তু গাছপালা, টেরাকোটার মন্দির সব নিয়ে। পাহাড়ের ছায়ায় মেলা বসতো, পাহাড়ের গায়ে পর্বতারোহণ শেখানো হতো। হঠাৎ বহুমূল্য গ্রানাইট পাথর এবং অন্যান্য খনিজের লোভে গোটা পাহাড়টাকেই কে বা কারা উড়িয়ে দিল। রীতিমত ক্যাম্প করে ভাঙাভাঙির পর এখন পড়ে আছে খানকতক বড় পাথর।

বীরাঙ্গনা মেরি কমের প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয়েও এই ব্যাপারটা ঘটছে অনেক বড় পরিসরে। সেখানেও লড়ছেন কিছু বীরাঙ্গনা, প্রতিপক্ষের বেদম মার খাচ্ছেন, তবুও রিঙ ছাড়ছেন না। যেমন অ্যাগনেস খারশিং এবং তার সঙ্গিনী অমিতা সাংমা। এরা দু’জন উত্তরপূর্ব ভারতের সেই ১৮জন রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে অন্যতম, যারা পাহাড়-মাফিয়াদের হাতে খুন হয়েছেন অথবা আক্রান্ত হয়েছেন। এইখানে বলা যায় বিজেপিরাজ শুরু হবার পরই সবচেয়ে কম সময়ে সবচেয়ে বেশি হুইসল ব্লোয়ারদের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে।

গত ৮ই নভেম্বর কয়লা এবং চুনাপাথরের ঐশ্বর্য্যে বোঝাই জয়ন্তিয়া পাহাড়ের কাছে এই দু’জন ভয়াবহ শারীরিক নিপীড়নের শিকার হন। এই একই জায়গায় গত মার্চ মাসে খুনীরা ওৎ পেতে বসেছিল আরেকজন আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট পইপিনেহান মাজাওয়ের (Poipynehun Majaw)জন্য। খুন হয়ে যাওয়া মাজাউয়ের বয়েস হয়েছিল মাত্র আটত্রিশ, এবং তার অপরাধ ছিল সিমেন্ট কোম্পানীর সঙ্গে লোক্যাল ট্রাইবাল কাউন্সিলের ম্যাজিক-আঁতাতে কী করে বিরাট বিরাট পাহাড় ডানা মেলে উড়ে যায় সেই ব্লুপ্রিন্ট ফাঁস করে দেওয়া।



আসুন, অ্যাগনেসকে জানি

অ্যাগনেস খারশিংএর বয়স আটান্ন বছর এবং তিনি মেঘালয়ের আরটিআই অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে অগ্রগণ্যা। খ্যাতনামা পরিবারের শিক্ষিত মেয়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষিত তাকে ভয়াবহ শারীরিক আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। অথবা এই অসময়ে কংগ্রেসী নেতা হিসেবে তার ভাইদের পরিচিতি তার আরও ক্ষতিই করেছে। না হলে কীভাবে দীর্ঘদিন যাবত নিজের অরাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম এই সমাজসেবী, যিনি প্রান্তিক গ্রামে গার্হস্থ্য হিংসা, শিশুর অধিকার , যৌন নিপীড়ন এবং সব ধরণের বঞ্চনা নিয়ে কাজ করে এসেছেন, তার জন্য পাহাড়ের ছায়ায় লাঠিসোটা এবং মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে পরিবেশ-রাক্ষসেরা !

অ্যাগনেসের লড়াই সেখানে শেষ হয়নি। তিনি সিভিল সোসাইটি উইমেনস অর্গানাইজেশন নামে সংস্থা গড়ে সার্বিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন এবং রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টগুলি সম্বন্ধে গ্রামীণ মহিলাদের শিক্ষিত করে তুলতে থাকেন। মেঘালয়ের গ্রামগুলির অনেকক’টিতে আরটিআই অ্যাক্টিভিস্টদের অবাঞ্ছিত বলে মনে করা হয়। এই লোকগুলি ঝামেলা পাকায়, তথাকথিত উন্নয়ন বন্ধ করে দেয়। তাদের উপস্থিতিতে পাহাড়ের পর পাহাড় ভ্যানিশ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যদিও চুনাপাথরের লোভে সিমেন্ট কোম্পানীর সঙ্গে লেনদেন হয়ত ততদিন সম্পূর্ণ। কিন্তু অ্যাগনেসের সাহস এবং স্বকীয়তা কাউকে ছেড়ে কথা বলছিল না। দুহাজার চৌদ্দ সালে ন্যাশন্যাল গ্রিন ট্রাইবুন্যাল আদেশ জারি করে যে অবৈজ্ঞানিক র‍্যাট-হোল পদ্ধতিতে খনিজ উত্তোলন এবং সেইভাবে কয়লা তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অ্যাগনেস এই অবৈধ কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান, যদিও তার অস্ত্র বলতে ছিল শুধু একটি ক্যামেরা। ওটা দিয়েই তিনি প্রমাণ রাখতে শুরু করেন অবৈধ খনির মধ্যে চলা কার্যকলাপের। দেখিয়ে দেন কীভাবে ট্রাকের পর ট্রাক কয়লা বেআইনিভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে সারা রাজ্য জুড়ে।

র‌্যাট-হোল মাইনিং এবং কোল বেল্ট কি?

মেঘালয়ের পাহাড়ে প্রায় ৬৪০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুদ আছে। এদের মধ্যে বেশীরভাগই ভূসম্পত্তির অধিকারীদের দ্বারা যথেচ্ছ উত্তোলিত হয়। অবশ্যই এদের আঁতাত থাকে বড় কোল মাফিয়া, নামী সিমেন্ট কম্পানীগুলো এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। গ্রামের পর গ্রাম জনগণ, কোনও ধনী ভূস্বামী যার জমির অন্তর্গত পর্বতশিরায় কয়লা লুকিয়ে আছে, তার অধীনে অল্প পয়সার বিনিময়ে এই খননকার্য চালিয়ে যায়। দিন দিন ভূস্বামীর কোষাগার স্ফীত হয়, হয়তো চেরাপুঞ্জি মৌসিনরামে বিলাসবহুল পান্থশালার সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু অদক্ষ খনি শ্রমিকের সন্তানরা হামাগুড়ি দিয়ে ইঁদুরের গর্তের মত পাহাড়ের ভেতর কেটে রাখা অসংখ্য সুড়ঙ্গে ঢুকে খালি হাতেপায়ে কালো হীরের খোঁজ চালায়। এদের জন্য বা অন্য শ্রমিকদের জন্য কোন সুরক্ষার ব্যবস্থা হয় না। পাহাড়ের পেটের ভেতর নিকষ কালো কয়লাপিট। সেখানে ওঠানামার জন্য নড়বড়ে বাঁশ বা কাঠের মই। বৃষ্টি তো খুবই হয়, এছাড়াও অন্তঃসলিলা পাহাড়গুলির ছাদ থেকে সর্বক্ষণ চুইয়ে পড়ে জল। ইঁদুরের গর্তের মতো অজস্র সুড়ঙ্গ এঁকেবেকে চলে গেছে চতুর্দিকে। পা ফসকে গেলে অনিবার্য মৃত্যু। পেছল, অন্ধকার, দমবন্ধ হয়ে আসা এই বিপজ্জনক পরিবেশে গোটা এলাকার মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে কাজ করে। কিন্তু অনেক জীবনের বিনিময়েও সার্বিক বা ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক বা সামাজিক অবস্থারও কোন উন্নতি হয় না। এই র‍্যাট মাইনারদের সংখ্যা হাজারে হাজার। তেহেলকার পুরোনো ইস্যু ঘাঁটলে দেখা যাবে একসময় শুধু শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৭০,০০০ ছাড়িয়েছিল। শিলং থেকে জয়ন্তিয়া যাবার পথে রাস্তার ধারেই স্তূপ করা থাকে কয়লা, বেশিরভাগই অবৈধ খাদান থেকে তোলা। এমনকী প্রতিবেশী অসম থেকেও অনেক মানুষ এই র‌্যাট-হোল মাইনিংয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে যোগদান করে। ওভারলোডেড ট্রাকে কয়লা যে শুধু অন্যান্য প্রদেশে যায় তাই নয়, বাংলাদেশেও মেঘালয় থেকে এভাবে কয়লা পাচার হয়। এইভাবে প্রত্যেক বছর রাজস্ব হিসেবে সরকারের ক্ষতি হয় ৩০০ কোটি টাকা। ন্যাশন্যাল গ্রিন ট্রাইবুন্যাল অবৈধ কয়লা খাদানগুলি সিল করে দেবার এবং কয়লা খনন নিষিদ্ধ করার আদেশ দিলেও ৩.৪ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে রেখেছে। এছাড়াও কীভাবে এখনও গত চার বছরে মেঘালয়ের পাহাড়ে পাহাড়ে চলছে অবৈধ খনন এবং কয়লা পাচার, অ্যাগনেসের ক্যামেরা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। ফলে কয়লা মাফিয়াদের শত্রু তালিকায় অ্যাগনেস খারশিংয়ের নাম এক নম্বরে।

পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয় এর ফলে তা সঙ্গের ছবিগুলো কিছুটা বলবে। পাহাড়ের পর পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। সামনে ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে দেখে একটু কাছে গেলেই দেখা যায় কতোগুলো ফোপরা ঢিবি। ভেতরে কিছু নেই। আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গে ভর্তি। আর টপ টপ জল পড়ছে ওপর থেকে। যেন ক্ষয়রোগ-ধরা পাহাড়টা কাঁদছে। কয়লা, লাইম স্টোন বা মোটা মসৃণ দানার বালির লোভে পাহাড়কে পাহাড় ধ্বংস করে দিচ্ছে মানুষের লোভ।

অতএব এই আক্রমণ

অ্যাগনেস এবং অমিতা পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড়ে গত ৮ই নভেম্বর কয়লা উত্তোলন সম্পর্কিত খোঁজখবর নিতে যাচ্ছিলেন। একটি বাঁক ঘুরতেই জঙ্গলাকীর্ণ অন্ধকার জায়গা থেকে এক মহিলা ছুটে এসে তাদের গাড়ি থামায়। তারপরেই হঠাৎ গাছের ছায়া, ঝোপের আড়াল থেকে জনাচল্লিশেক দোপেয়ে বেরিয়ে আসে এবং তাদের ওপর ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানতে থাকে। তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গলের মধ্যে। জ্ঞান ফিরে এলে অমিতা সাংমা হামাগুড়ি দিয়ে রাস্তার ধারে এসে রক্তাক্ত শরীরে সাহায্য ভিক্ষা করতে থাকেন। পুলিশ আসে এবং অচেতন অ্যাগনেসকে শিলংয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। মুখ্যমন্ত্রী কনরাড, কে, সাংমার কাছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে অনুরোধ যায় সিবিআই অথবা এনআইএ-র হাতে এই কেসের তদন্তভার তুলে দেবার। তাতে অবশ্য উল্লসিত বা আশান্বিত হবার কিছু নেই কারণ স্বয়ং অ্যাগনেস এর আগে বহুবার মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন সাব-ইন্সপেক্টার পি জে মারবানিয়াংয়ের কেসটিকে সিবিআইয়ের হাতে দিতে। ওই সাব ইন্সপেক্টার নিজের পুলিশ আউটপোস্টে বত্রিশটি কয়লাভর্তি ট্রাকের খুঁটিনাটি লিপিবদ্ধ করার কয়েকঘন্টার মধ্যেই ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে খুন হয়ে যান। সে কেসটাও তিমিরাশ্রয়ী, খোদ অ্যাগনেসের কেসও তিমিরাশ্রয়ী হবে এই সম্ভাবনাই বেশী।

অ্যাগনেস কি তবে তিমিরবিনাশী?

অ্যাগনেস খারশিংয়ের ওপর এই আক্রমণে মেঘালয় হাইকোর্ট সরকারকে আদেশ দিয়েছে তার চিকিৎসার সব খরচ বহন করতে এবং তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে। যে কংগ্রেস সরকার মার্চ মাসে ক্ষমতা হারাবার আগে অ্যাগনেসের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, তারাই এখন অ্যাগনেসের স্বপক্ষে সোচ্চার। সমঝদাররা বলছেন এই কয়লা উত্তোলন নিষিদ্ধকরণ গত নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। পাহাড়ে কর্মসংস্থানের অন্য ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ রুটি রুজির কারণেও স্থিতাবস্থা চায়। পরিবেশের প্রশ্ন পেটের জ্বালার কাছে তুচ্ছ। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই বর্তমান বিজেপি-সমর্থিত সরকারের আগমন। এগনেসের কারণে শাসক মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন, কারণ কয়লাখনি গুলোকে আবার সক্রিয় করবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছিল। ডিফেন্স মিনিস্টার নির্মলা সীতারামন খুল্লমখুল্লা জানিয়েছিলেন সরকার গঠন করবার ১৮০ দিনের মধ্যে কোল মাইনিং স্বমহিমায় ফিরে আসবে। সেটা নাকি করা হবে পরিবেশ বান্ধব উপায়ে এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে।

দুর্জনে বলে আসলে ওই কালোহীরে তছনছ করার টাকাতেই নাকি রাজনীতিকরা মেঘালয়ে নির্বাচন পরিচালন করেন।

এই পরিস্থিতিকে অ্যাগনেসের মতো তিমিরবিনাশীরাও পাল্টাতে পারবেন বলে ভরসা হয়না।



1406 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: স্বাতী রায়

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

মেঘালয়ের ঘটনাগুলো জানতাম না। জানানর জন্য প্রতিভাকে ধন্যবাদ। জানতে ইচ্ছে করে ওখানে এই অবৈধ খাদানের ইতিহাস কতদিনের? পেটের দায় থাকলে সত্যিই পরিবেশ নিয়ে কেউ ভাববে না - কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে হঠাত এই পেটের দায়টা বড় হল কেন? জন - বিস্ফোরণ ? নাকি চাহিদার বৃদ্ধি? নাকি পরিবেশ মেনে বাঁচার পুরোন ধারণা গুলো অবসোলিট হয়ে যাওয়া?


Avatar: প্রতিভা

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

না স্বাতী, এই পরম্পরা বেশ প্রাচীন। 😊 তেহেল্কা খুব সম্ভব ২০০৭ সালে জয়ন্তিয়াতে স্টিং অপারেশন চালায় ও শিশু শ্রমিকদেরঅবস্থা তুলে ধরে। মুকুল সাংমার নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার বেশ কয়েক বছর বেআইনী উত্তোলনের বিরুদ্ধে গ্রীন ট্রাইব্যুনালের আদেশ মেনে চলছিল। সেটাই নাকি হারের কারণ। কিন্তু বিজেপি উল্টো আশ্বাস দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। কি যে অবস্থা পাহাড়গুলোর না দেখলে প্রত্যয় হয়না।
Avatar: কুশান

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

ধন্যবাদ প্রতিভাদি। আপনার অন্যান্য দায়বদ্ধ লেখার মতই চোখ খুলে দেওয়া লেখা।
পড়ে মন খারাপ হলো খুব।
সব লুঠ হয়ে যাচ্চে। এরা প্রকৃতিকে ছিবড়ে করে দিচ্ছে।
কিন্তু, স্যালুট এই মানবাধিকার কর্মীদের, যাঁরা প্রাণ দিয়ে লড়ছেন।

কিন্তু, আরো যেন অপরাধবোধ বেড়ে যাচ্ছে।
Avatar: পার্থসারথি

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

কত অজানা জানাচ্ছেন আপনি। এত লোভ এত ধ্বংস দেখে পড়তে অসাড় হয়ে যেতে হয়।
অত্যন্ত দরকারি কাজটি আপনি করছেন।
Avatar: সিকি

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

প্রতিভাদির অসামান্য লেখনী। জানতাম না কিছুই। ধন্যবাদ প্রতিভাদি।
Avatar: খ

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

খুব সুন্দর কম্প্রিহেনসিভ লেখা।জ্জিও প্রতিভা।
Avatar: দ

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

পড়তে পড়তে দম বন্ধ হয়ে আসে। মহারাশ্ট্রের পাহাড় কেটে কেটে হাউসিং বানিয়ে শেষ করছিল, এখন একটু ধীরগতি, হয়ত বা রিয়েল এস্টেট ধাক্কা খাওয়াতেই।

দ্যাখো এইবার কেউ এসে তোমাকে 'ব্যগড়াবাদী' বলে যাবে।
Avatar: Tim

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

খুবই স্পষ্ট প্রতিবেদন। সোজা সাপটা, যেমন প্রতিভাদি লেখেন।

বালি আর পাথর খাদান খুব লাভজনক ব্যবসা মনে হয়, অন্তত মেদিনীপুরে যাতায়াতের সময় কাঁসাইয়ের চর দেখে তাই মনে হতো।

পেটের দায়টা বড়ো হলো কেন এর উত্তর মনে হয় একমাত্রিক না। কারো কারো সত্যিই সংসার চলছে, কিন্তু সেজন্যে এতকান্ড হচ্ছে বলে মনে হয়না। আসল কথা কারো কারো অট্টালিকা হচ্ছে, সেই তাদের পয়সায় আবার কেউ ভোটে জিতছে। এসব পেরিয়ে কিছু ট্রিকলড ডাউন হাস্যকর অ্যামাউন্টে কটা পেটের দায় মিটছে। সুতরাং পেটের দায় মনে হয় না। ভোটের দায়।
Avatar: শঙ্খ

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

দরকারি লেখা।
Avatar: Prativa

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

টিম, আমার মনে হয়, ভোট আর রুজি এই দুটোকে মিলিয়ে দেওয়া, কখনো নেওয়া, যে যার সুবিধে মতো করে যায়। বর্তমানের ফরাসী আন্দোলনের কারণগুলো খতিয়ে দেখলে এটা আরো স্পষ্ট। ফরাসী জনগণ কি পরিবেশের বিপক্ষে !? অথচ এই বিক্ষোভের ইমিডিয়েট কারণটা দ্যাখো।
Avatar: Tim

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

প্রতিভাদি, ফরাসী কার্বন ট্যাক্স নিয়ে যেটা হচ্ছে তো? হ্যাঁ ব্যাপারটা একেবারেই এরকম না যে ফরাসী জনগণ পরিবেশের বিপক্ষে, কিন্তু তাও এই বিক্ষোভটা সেইরকম একটা কাজই করছে। এই ঘটনাগুলো খানিকটা জেনেরেলাইজ করা যায় (সম্ভবত)। আমার মনে হয়, এই ধরণের বদল আনতে গেলে জনগণকে সাথে না নিয়ে করা যাবেনা। আজকের পৃথিবীতে মানুষ মেটেরিয়ালিস্টিক লাভক্ষতি নিয়ে খুব সেনসিটিভ। এরও নানা কারণ আছে, তবে মূল কারণ মনে হয় জীবন ও জীবিকা সব মিলিয়ে এত অনির্দিষ্ট হয়ে গেছে, নিরপত্তার অভাবে সবাই প্যারানয়েড। এই যেমন ফরাসী বিক্ষোভকারীরা বলছে গত তিরিশ বছর ধরে খালি ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে ইত্যাদি। ফ্রান্সে এমনিতে চাকরিবাকরির হাল খুব খারাপ বলেই জানি, গোটা ইউরোপ জুড়েই প্রায় তাই। তো, একদিকে সরকার যথেষ্ট চাকরি তৈরী করতে পারছেনা আর অন্যদিকে সেই সরকারই আরো বেশি ট্যাক্স চায় --- এসব দেখে লোকে খেপে গেছে মনে হয়। আর একবার খেপে গেলে তখন ভোটিং ও মব সেন্টিমেন্টেই হয়ে যাচ্ছে তাই সরকারও খুবই বেকায়দায়। এই প্যাটার্ন এখন প্রায় সব দেশে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
যাই হোক, এই ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তাই হওয়ার চান্স আছে। ঠিকই বলেছো।
Avatar: Prativa

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

তেহেলকার একটা লিংক থাকলো।


http://old.tehelka.com/where-is-the-coal-child/
Avatar: Prativa

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

Avatar: i

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

এস বিএসের একটা ডকুমেন্টারিতে মেঘালয়ের র‌্যাটহোল মাইনিং এর কথা জেনেছিলাম মনে হয়। কিন্তু আমার ধারণা ছিল তা বন্ধ হয়ে গেছে। এত কিছু জানা ছিল না।
মাইনিং নিয়ে কত যে দুর্নীতি... অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিবেশের ক্ষতি বা জনজাতির সংকট-পৃথিবী জুড়েই সম্ভবতঃ।

প্রতিভা সরকারকে ধন্যবাদ। অতীব সুলিখিত প্রতিবেদন। লেখকের যা লেখা পড়েছি-প্রতিবেদন, প্রবন্ধ কি গল্প- এক পরিব্রাজককে দেখতে পাই যেন। নমস্কার ও ধন্যবাদ জানবেন।
Avatar: aranya

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

মারাত্মক :-(
Avatar: প্রতিভা

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

i কে এবং অন্যদেরকে অনেক ধন্যবাদ লেখাটি পড়বার জন্য, সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য। কৃতজ্ঞ রইলাম।
Avatar: i

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

সব কাগজেই আছে। একটি লিংক দিলাম-https://timesofindia.indiatimes.com/city/shillong/13-miners-trapped-in-meghalaya-coal-pit-rescue-on/articleshow/67089016.cms
Avatar: সুকি

Re: পুরুলিয়া আর জয়ন্তিয়া

খুব ভালো লেখা.


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন