বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অথ বিবাহ-কথা

স্বাতী রায়

মালতীর ছোটবেলায় একটি পাড়াতুতো দিদি ছিল। ফিজিক্সে মাস্টার্স ডিগ্রি হোল্ডার, অসম্ভব সুন্দরী আর পারসোনালিটি-ওলা চেহারা – যখন শিরদাঁড়া টান টান করে সোজা হয়ে বসে ছাড়া গলায় গান ধরত, লক্ষ্মী যখন আসবে তখন কোথায় তাঁরে দিবি রে ঠাঁই, নেহাত বেরসিকেরও মনে হত সত্যিই বোধহয় মা লক্ষ্মী, মা সরস্বতী এক অঙ্গে নেমে এসেছেন। তার একদিন বিয়ে হল। অষ্টমঙ্গলায় বাপের বাড়ি এল এক মাথা সিঁদুর নিয়ে। পাড়ার অন্য মেয়েরা খুব হাসাহসি করল। ওর শ্বশুরবাড়ির নাকি নিয়ম ফুলশয্যার রাতে বরের পা ধুইয়ে মাথার চুল দিয়ে মুছিয়ে দিতে হয়। ছোট ছোট করে কাটা চুল নিয়ে পরম ব্যক্তিত্বশালিনী দিদিটিকে নাকি খুব নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে তখন। বেশ হয়েছে, যেমন ফ্যাশন করে ছোট করে চুল ছাঁটা! মালতীরই শুধু ভারী অবাক লেগেছিল! মাথার চুল দিয়ে পা মুছিয়ে দিতে হবে কেন? ওদের বাড়ীতে গামছা- তোয়ালে কিচ্ছু নেই?

এতো সবে শুরু। কিছুদিন পরে মালতীর বাড়ীতে এক তুতো দিদির বিয়ে। বিয়ে বাড়ীর লাখো কথা, হট্টগোল, খাওয়া-দাওয়া, আত্মীয়-কুটুম সে এক এলাহি ব্যাপার! কিন্তু সব ছেড়ে মালতীর চোখ পড়ল দুটো জিনিসে। প্রথমতঃ বিয়ের সব দায়িত্ব দিদির বাবা-মা’র অথচ বিয়ের কার্ডটি বাড়ীর এক অনুপস্থিত দাদুর ( বাবার জ্যাঠামশায়ের ) নামে। আশ্চর্য এই কারণে যে যৌথ পরিবার হলেও নাহয় কথা ছিল – কিন্তু সেসবের পাট চুকেছে বহুদিন আগে। এখন সব যার যার নিজের সংসার। তাই দিদির রোজকার খাওয়া-ঘুম-পড়াশোনার দুনিয়ায় তিনি কোথায়? অথচ এটাই নাকি নিয়ম! আর সেই প্রসঙ্গে শোনা গেল, দিদিকে সম্প্রদান করবেন দিদিরই আরেক প্রবাসী জ্যেঠু। এ তো আরও বড় অনুপপত্তি! একটা অত বড় ধেড়ে মেয়ে, আইনতঃ সাবালিকা, পাঁচ-ছয় বছর ধরে প্রেম করে তারপর বিয়ে করছে, আর আবার সম্প্রদান কি? এ তো আদতে গন্ধর্ব বিবাহ, মানে এসব অনুষ্ঠান-টনুষ্ঠানেরই কোন মানে হয় না! তা তোমাদের যদি পয়সা বেশী হয়ে থাকে, লোক খাওয়াতে ইচ্ছে করে সে খাওয়াও, কিন্তু সম্প্রদান আবার কি? আর যাঁর সঙ্গে পাঁচ-ছ বছর পরপর একবার দেখা হয় কিনা সন্দেহ, তিনি কেন সম্প্রদান করবেন? এক যদি ধরো, ছোটবেলা থেকে খাইয়ে-পড়িয়ে আদর দিয়ে বাঁদর করে তোলার দৌলতে কারোর সম্প্রদান করার কিছু মাত্র অধিকার জন্মে থাকে, সে তো বাবা-মায়ের। এর মধ্যে এসব থার্ডপার্টি সিঙ্গুলার-নাম্বার আসে কোত্থেকে? ... শোনা গেল এও নাকি নিয়ম! বাড়ীর অর্থাৎ পিতৃবংশের সব থেকে বড় যিনি তিনি নাকি সম্প্রদান করবেন! এতো কথাতেও দমে না গিয়ে মালতী সোজা পুরোহিতকে ধরেছিল, সম্প্রদান কেন হবে? পুরোহিত এক উচ্চাঙ্গের হাসি হেসে বলেছিলেন, সম্প্রদান ছাড়া বিয়া হয় না, এইটাই zানো না , বো-কা মাইয়া!

বাড়ীতে অনেকগুলো এমন এমন সব বিয়ে দেখে বোকা মালতীও ভারী অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছিল। নিজের বেলায় এ ঘাটে মাথা মুড়োন’র ইচ্ছে ছিল না মোটেই। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়, বইএর বোঝায় কাঁধ বেঁকে যাওয়া ঘাড় নিয়ে ল্যাগবেগিয়ে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে প্রেমিকপ্রবরকে বলত, “আমরা কিন্তু শুধু রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করব বুঝলি! শুধু গোটা কয়েক বন্ধু ডেকে নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে চলে যাব। ব্যস বিয়ে করে ফেলব। যে পয়সাটা বাঁচবে, তাই দিয়ে মজাসে বই কেনা যাবে।“ কিন্তু ওই যে, woman proposes, man disposes। বিধাতাপুরুষ সবার অলক্ষ্যে এমন এক কিস্তিমাতের চাল চাললেন যে মালতী সব প্ল্যান ভেস্তে গেল – সামাজিক ভাবে বিয়ে করাটা নেহাতই বাধ্যতামুলক রকমের দরকার হয়ে পড়ল। অগত্যা। নতুন চাকরীতে ঢুকে একটা বিশাল বই-এর লিস্টি তৈরি হয়েছিল। শেষবারের মত সেটা দেখে নিয়ে বঙ্কিম রচনাবলীর পাতার ফাঁকে ঢুকিয়ে আলমারিতে চাবি দিয়ে দিল। যা সব খরচের বহর – এ লিস্টি আগামী অনেক বছরে আর বার করা যাবে না। হ্যাঁ, বাপের পয়সায় বিয়ে করা যাবে না – এদিকে পকেটের চেহারা দেখলে মেঠো ইঁদুরও দুটো ধান ফেলে যায়। তাই ডিল হল, হিজ হিজ, হুজ হুজ। মালতীর শাড়ী-গয়না, বন্ধুবান্ধবের দায় মালতীর আর বাবা-মার যা ইচ্ছে, তার খরচ বাবা-মার। বেগতিক দেখে সেটাই বাড়ির লোক মেনে নিল।

এবার মাঠে নামল হবু শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। হবু শাশুড়ী খবর পাঠালেন, বর-কনের গোত্র এক – তাই মেয়েকে আগে একবার গাছের সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে। মালতী পড়ল মহা সমস্যায় – কি করে জানা যাবে গাছের গোত্র কি? এঁরা কি তবে গাছের ভাষা বুঝতে পারে? বাপরে কি ইনটেলিজেন্ট শ্বশুরবাড়ী! কিন্তু পরের সমস্যাটা আরো মারাত্মক! গাছকে বিয়ে করে তারপর তাকে ডিভোর্স না করে তো আর আরেকটা বিয়ে করা যায় না। এক সঙ্গে দুটো বর, বাপরে! তাই গভীর রাতে ফোন করে বলে দিল, বিয়েটা হবে- কিন্তু তোকে যে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে – এ যাত্রায় গাছের সঙ্গে বিয়ে হোক, তারপর কিছুদিন সংসার না করে কি আর বলা যায় ডিভোর্সের কথা! আর বলা যায় না, অবশ্য গাছকেই যদি ভালো লেগে যায় তাহলে তো আবার অন্য কথা! বেগতিক দেখে ফোনধারী বেচারী তাড়াতাড়ি নিজ দায়িত্বে বলে দিল, আরে না না গাছ এলো কোথা থেকে এর মধ্যে! দরকার হলে আমি চাট্টি ডালপালা মাথায় বেঁধে গাছ সেজে নেব।

ইতিমধ্যে মালতী জোর গলায় সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে যে সালংকারা কন্যা সম্প্রদান করতে হয়, খুব ভালো কথা। এতকাল দাদা-দিদিদের বিয়েতে তো গয়নাগাঁটি পরেই সেজে-গুজে ঘুরে বেরিয়েছে, না হয় হলই ইমিটেশনের গয়না। তা বলে কি ফেলনা নাকি! নিজের বিয়ে বলে তার ব্যতিক্রম করা যায় না! তবে সব গয়নার গভীর পর্যালোচনা করে খুবই দুঃখের সঙ্গে ঠিক করা গেছে যে নেহাতই সাধের অক্সিডাইজড ঝুমকোগুলো বেনারসীর সঙ্গে ম্যাচ করবে না, তাই একটা অন্য গয়নার সেট পছন্দ করতে হয়েছে। হ্যাঁ বেনারসী একটা কেনা হয়েছে। সেটাও ওই যে কারণে ধর্ম মেনে বিয়ে করতে বাধ্য হওয়া, সেই কারণে। দোকানে দাঁড়িয়ে মালতী একবার মিনমিন করে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করতে চেষ্টা করেছিল যে বিদেশে যেমন টাক্সেডো ভাড়ায় মেলে, ওঁদের তেমন কোন বেনারসী ভাড়া দেওয়ার স্কীম আছে কিনা! নেহাতই বাড়ির লোকে ধাতানি দিয়ে চুপ করিয়ে দিল।

ব্যস বিয়ের শাড়ী-গয়না রেডী যখন, বিয়ে করে ফেললেই হয়! দিনক্ষণও মিলে গেছে। একটা ছোট্ট সমস্যা দেখা গেল। বিয়ের পুরোহিতকে নিয়ে! হবি তো হ, ছেলেটি মালতীর বাবার স্কুলের ছাত্র। “ও বাবা, এ তো নিউটনের ল ভুল লিখত!” বাবা কিছু বলার আগেই মা বলে ওঠেন, “নিউটনের ল দিয়ে তো আর তোমার বিয়ে দেবে না মা, ও মন্ত্র তন্ত্র ঠিক জানে , আমি দেখে নিয়েছি। ” এবার নিশ্চিন্ত হয় মালতী। মা সংস্কৃতের ছাত্রী। মা যদি বলে, তাহলে ঠিক হ্যায়।

যথাদিনে যথাক্ষণে মালতী সেজেগুজে রেডি। এদিকে বর বাবাজীও কোন রিস্ক না নিয়ে যথাসময়ের আগেই এসে হাজির। বিয়ে শুরু হয়ে গেল। শুভদৃষ্টি কমপ্লিট। এমনকি মায় মালতী বরের দিকে লাজুক লাজুক ভাবে তাকাচ্ছে তারও ছবি উঠে গেল চারদিক থেকে খচাৎ খচাৎ করে। এই বার বিয়ে করতে বসল। খানিক পরেই ভুল বুঝল নিজের। বিয়ে করতে বসল না। তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাবা যখন বরের হাঁটু ধরে কিসব বিড়বিড় করে বলছেন, আর বরও নির্বিকার মুখে বসে রয়েছে, তখন মালতীর অহং-এর এক একটা পাক খুলতে লাগল। তারপর মালতীদের দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে পুরোহিত কিসব দুর্বোধ্য বক্তব্য বলে যেতে থাকলেন। মালতী একবার ভাবল, সবাইকে গোল করতে মানা করবে – যাতে ফুল কনসেন্ট্রেশনে মন্ত্র শুনতে পারে। তখনই মনে পড়ল একবার লোন নেওয়ার জন্য লোনের ফর্ম খুঁটিয়ে পড়ছিল। তখন লোনের এজেন্টটি বলেছিল, ম্যাডাম এই ফর্ম পড়লে আর ঠান্ডা মাথায় সই করতে পারবেন না। তার থেকে না পড়েই সই করুন। আপনার মানসিক শান্তি বজায় থাকবে। কি জানি বিয়ের মন্ত্র শুনে ফেললে যদি আর বিয়ে করতে ইচ্ছে না করে! তাই মালতী মনে মনে ভারী ভক্তিভরে যত প্রেম পর্বের গান মনে আসে তাই মনে আওড়াতে লাগল। এই বার সিঁদুরদান পর্ব। বর বাবাজী এতক্ষণ এদিক ওদিক চাইছিলেন আর হাই তুলছিলেন। এবার তিনি বেশ নড়ে চড়ে বসলেন। ভারী উৎসাহ নিয়ে তিন বার সিঁদুর পরিয়ে দিলেন। তারপর লজ্জাবস্ত্র দিয়ে ঢেকে দেওয়ার মুহুর্তে মালতীর নজরে পড়ল বরের মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি। হাসিটা কোথায় যেন ঘা দিল! মনে পড়ল জন্ম থেকে শুনে আসতে থাকা যাবতীয় উপদেশাবলী!

…. মেয়েমানুষের জন্মই বিয়ের জন্য। (ঠাকুমা)

…. বলি পড়াশোনা তো শিখছ, রান্নাবান্না ঘরের কাজকর্ম কিছু শিখছ, নাকি পরে শ্বশুরবাড়ী থেকে বলবে বাপ-মায় কিছুই শেখায় নাই ? (ঠাকুর্দা)

….. পড়াশোনা করেছ ভালো কথা, কিন্তু তোমার চাকরী করার কি দরকার? তুমি চাকরী করলে আমার ছেলের দেখভাল কে করবে ? (হবু শাশুড়ী)

… জানো তো আজকাল আর কেউ হাউস-ওয়াইফ বলে না, এখন হাউস-ম্যানেজার বলে। (হবু শ্বশুরমশাই )

… মানিয়ে চলতে শেখ মা, বিয়ে হলে মানিয়ে চলতে লাগে। (দিদিমা)

শুধু একটা ভারী চেনা গলা সেখানে এতদিন অনুপস্থিত ছিল। আজকের হাসিটা কি সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দিল?

মালতীর অহং এর শেষপাকটাও খুলে গেল। এরপর মালতী ভারী ফুর্তিতে সাতপাক ঘুরতে লাগল। এক এক পাক ঘোরে আর নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলে এই পুড়ে গেল আমার মাধ্যমিকের মার্কশীট; ওঁ স্বাহাঃ এই পুড়ে গেল আমার সঙ্গীত প্রভাকর ডিগ্রি ওঁ স্বাহাঃ এই পুড়ে গেল আমার হায়ার সেকেন্ডারীর মার্কশীট, ওঁ স্বাহাঃ এই পুড়ে গেল আমার ছবির খাতাগুলো ওঁ স্বাহাঃ এই পুড়ে গেল আমার গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট ওঁ স্বাহাঃ এই পুড়ে গেল আমার মাস্টার্সের সার্টিফিকেট ওঁ স্বাহাঃ এই পুড়ে গেল আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার ওঁ স্বাহাঃ । যজ্ঞের বেদীর থেকে খপ করে লাফিয়ে উঠে আগুন মালতীর সবটুকু আমিকে খপ করে গিলে নিল।

সেদিন গভীর রাতে বাসরঘরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পরে মালতী চুপি চুপি বরবাবাজীকে খুঁচিয়ে ঘুম থেকে তুলে বলল, একটাকার কয়েন আছে? সে বেচারী অবাক হয়ে বলল, কেন? মালতী মধুর হেসে বলল, নিয়ম। জানিস না, বিয়ের রাতে বরের থেকে টাকা নিয়ে লক্ষ্মীর ঝাঁপিতে ফেলতে হয়। বর আর কথা না বাড়িয়ে অ্যাটাচি কেস খুলে পার্স বার করে একটা টাকা বার করে দিয়ে পাশ ফিরে নাক ডাকাতে শুরু করল। খানিক শ্যেন দৃষ্টিতে সে দিকে তাকিয়ে থেকে মালতী যখন নিশ্চিত হল যে তার কাছে এখন চরাচর লুপ্ত, তখন খাটের একটা কোণার চাদর হাত দিয়ে অনেকবার টান টান করে মালতী একটা এক্সপেরিমেন্টে ব্যস্ত হল, কাল সকালে যে ঘুম থেকে উঠবে সে আসলে কে? হেড হলে আজ রাতে নবজন্ম হওয়া, “ওয়াইফ অফ অমুক” মালতী আর টেল হলে এই সব কিছুকে ছাপিয়ে, কিছুতেই দাবিয়ে রাখতে না-পারা, বেড়ালের মত নটা প্রাণ-ওলা, আদি ও অকৃত্রিম মানবী মালতী। অনেকবার ঝঁকিয়ে টাকিয়ে টাকাটাকে আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে প্রবল উৎকণ্ঠায় তার দিকে তাকিয়ে রইল মালতী।

গরাদের বাইরের আধ- খাওয়া চাঁদটাও হুমড়ি খেয়ে পড়ল টাকাটা দেখতে।



1144 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ মোচ্ছব  গপ্পো  বুলবুলভাজা  উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮ 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 30 -- 49
Avatar: pi

Re: অথ বিবাহ-কথা

আবাপরর খবরে ঐ মেয়েদের মানিয়ে নিতে শেখানোর , স্যাক্রিফাইস করতে শেখানো ইত্যাদি পড়ে একটা পুরানো প্রশ্ন মনে পড়ে গেল। এগুলো পরিবারে, সমাজে শেখানো হয় বটে, সিনেমা সিরিয়ালেও। কিন্তু স্কুলে ? পাঠ্যবইয়ে , কতটা ? ঐ রোল বিভাজনের স্টিরিওটিপিকাল ছবিপত্তর থাকা ছাড়া এরকম শিক্ষা কোথায় কীভাবে দেওয়া হয় ?
Avatar: দ

Re: অথ বিবাহ-কথা

ওব্বাবা আমাদের ছোট্ট মফস্বলে দিদিমণিরা মেয়েদের হেসেহেসে গল্প করতে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেও আচ্ছাসে কথা শোনাতেন। বাড়িতে বা রাস্তায় গার্জেনদের দেখে নালিশ করা ইত্যাদি খুব ছিল। আমার সম্পর্কে রেগুলার কমপ্লেইন ছিল আমাদের ভাগাড়পাড়ার দিদিমণিদের যে আমি 'কি উদ্ধত', রাস্তায় ওঁদের দেখে মাথা নীচু করি না। সামনে দিয়ে মাথা সোজা রেখে বেরিয়ে যাই।

এবার সে আমি বেঁটে বলেই হোক কি স্বভাবত 'উদ্ধত' বলেই হোক আমি দিব্বি মুচকি হেসে পরিচিতির ভাব করে বা ড্যবড্যাবিয়ে দেখে চলে যেতাম। আর মা মাঝে মাঝেই স্কুল থেকে এসে দুমাদ্দুম দু'ঘা দিয়ে নিত।
এই যে অকারণেই অবনত হয়ে থাকো, নমনীয় হও এগুলোই তো মগজ একেবারে ধোলাই করে ছাড়ে।

Avatar: Kaktarua

Re: অথ বিবাহ-কথা

বাবা রে Pi!! স্কুলে মগজ ধোলাই ছিল না!!! আমাদের একটা মোরাল সাইন্স ক্লাস ছিল ক্লাস ৯ অব্দি। যারা যারা হলি চাইল্ড এ পড়েছে সবাই জানে এই বিখ্যাত ক্লাস টার কথা। দুটো কাজ ছিল ক্লাস টার। এক প্রেম করা কত খারাপ বোঝানো, আর ভালো মেয়ে হওয়ার শিক্ষা। সেটা হলো ওই মুখ বুজে, মাথা নিচু করে, বেশি প্রশ্ন না করা। আমরা লাস্ট বেঞ্চে বসে খ্যাক খ্যাক করলেও কারো যে মগজ ধোলাই হয়নি সে কথা বলতে পারি না।
Avatar: Swati Ray

Re: অথ বিবাহ-কথা

বাপরে পাই ! বই নিয়েই আমার ততটা কমপ্লেন নেই; হয়তো তখন জেন্ডার স্টিরিওটাইপটা এত কমন ছিল যে বইতে আলাদা করে চোখে পড়ে নি. কিন্তু স্কুলে যে সকাল সন্ধ্যে ভাল মেয়ে হতে শেখাত! আমার ভারী ইচ্ছে হত বড় হয়ে জেরোম কে জেরোমের খুড়োমশাই হতে , কিন্তু সবাই খালি বলত সীতা, সাবিত্রী সমান হও!

তবে একটা ব্যাপারে আমি বিপের সঙ্গে একদম. আমাদের ছেলে মেয়ে দৃদলকেই কিন্তু বড্ড মানিয়ে চলা শেখান হয়. একেবারে ঠুলি পড়ান ঘোড়া হতে . মেয়েদের ক্ষেত্রে পরিমাণ টা বেশী এই যা!
Avatar: Atoz

Re: অথ বিবাহ-কথা

মরালজেঠু আর মরালজেঠিমারা পাড়ায় ভার্চুয়াল লাঠি হাতে ঘুরতেন। কোনো প্রেমিক প্রেমিকা দেখা গেলেই আর দেখতে হতো না! পাড়া শেষ হয়ে গেলে যে বিরাট ধানক্ষেত আর খোলা মাঠ ছিল, সেইখানে দূর দূর পাড়া থেকে প্রেমিক প্রেমিকারা এসে একসঙ্গে ঘুরতো, গল্প করতো, মরালজেঠুদের হাত থেকে বাঁচতে। ঐ মাঠ ধানক্ষেত ছিল অভয়ক্ষেত্র, বৃন্দাবন। আমরা বলতাম যমুনাতীর(যদিও বাস্তবে নদী নেই কিন্তু আহা, হৃদয়নদী তো আছেই! ঃ-))। তবুও যে ধরা পড়ত না তা না, কারণ বাড়ি ফিরতে হলে পাড়াগুলোর ভেতর দিয়ে ফিরতে হবে, সেখানে মরালজেঠিমাদের মুখোমুখি পড়ে গেলেই চিত্তির।
Avatar: nabanita

Re: অথ বিবাহ-কথা

ইস্কুল, কলেজ, সমাজ সব জায়গায় - বড়দের মুখে মুখে তর্ক কোরো না। আমরা যা বলছি তুমি বেশি বোঝো? এটা ছেলে মেয়ে উভয়কেই। কিন্তু মেয়েদের জোরে হাসি, জোরে কথা, দুমদাম করে চলা... আরো যে কত কিছু ছিল। সর্বোপরি "শ্বশুরবাড়ি গেলে এই মেয়ের কী হবে?"- প্রথম থেকে একটা apathy, ভয়, alienation তৈরী করা। কোন ছোট বেলায় দিদুর বলা কবিতা "যে সয় সে মহাশয়/ যে না সয় সে নাশ হয়" কে mock করে বলেছিলাম "যে সয় যে নাশ হয়/ যে না সয় সে বড় হয়", বাবা আর দাদু কাছে ছিলেন বলে পিঠ বেঁচেছে - নিন্দার বন্যা এখনো কান পাতলে শোনা যাবে।
Avatar: amit

Re: অথ বিবাহ-কথা

মেয়েদের বিয়ের পরে শশুরবাড়ি যাওয়ার কনসেপ্ট টাই তুলে দেওয়া দরকার। অর্ধেক এর বেশি সমস্যা মিতে যাবে। সিরিয়েল এর গুষ্টির মতো গণ্ডাদশেক লোক এক বাড়িতে গুতোগুতি না করে বিয়ের পরে একটা ছেলে মেয়ের নিজের আলাদা সংসার পাতা দরকার। মেয়েদের চাকরি করা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যত বাড়বে আর কাপল-রা নিজেরা সংসার করে নিজেরা সমস্যা নিজে মেটাতে শিখবে, মরাল মেসো মাসিদের উৎপাত তত বিদায় হবে।
Avatar: bip

Re: অথ বিবাহ-কথা

নিজেদের ভিক্টিম ভাবলেই সমস্যার সমাধান হবে না, যেখানে সমস্যাটা স্ট্রাকচারাল।

ভারতের স্কুলিং সিস্টেম , পরিবার সিস্টেমের লক্ষ্য মেয়েগুলো হবে গাভী, ছেলেগুলো হবে বলদ। যদি গাভী পড়াশোনাতে ভাল হয় তাহলে জার্সি গাই, আর বলদ বেশী কাজে দিলে ------

সিভিলাইজেশন বলে একটা বস্তু আছে, তা আমেরিকাতেও স্কুলে শেখানো হয়- ওরা বলে সোয়ার - সেখানেও বড়দের শ্রদ্ধা, না চেঁচিয়ে কথা বলা ইত্যাদি সবাইকেই শেখানো হয়-কিন্ত তাহা ছেলে মেয়ে সবাইকেই শেখানো হয়। কোন জেন্ডার ডেসক্রমিনেশন নেই।

জাপানে, চীনে গোটা এশিয়া জুড়েই মেয়েদের জন্য কিছু আলাদা আচরন বিধি থাকে। ওটা এশীয় সভ্যতার দান।

ভারতীয় সভ্যতার মূল সমস্যাটা হচ্ছে এই এখানে ব্যক্তি স্বতন্ত্রতাকে ভাল চোখে দেখা হয় না। সেটাও নারী পুরুষ সবার জন্যই সত্য।

আমরা মেয়ে তাই ভিক্টিমহুডের কান্না গাইলে কিস্যু হবে না- কারন সভ্যতার ভিত্তিটাই ওইরকম।
Avatar: m

Re: অথ বিবাহ-কথা

মেয়েদের বিয়ের প্রশ্নে তাদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে আমার খটকা লাগা আগেও ছিলো,এখনও আছে।সেসব মেয়েদের এই তালিকায় রাখছি না,যারা বাবামার পছন্দে বিয়ে করেছেন/করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের রাখছি না যারা সাতপাক/ছাদনাতলা ইত্যাদি নিয়ে আহ্লাদিত এবং তাতে কোনও নৈতিক আপত্তির কারণ দেখেন না। প্রশ্ন তাদের নিয়ে যারা নিজের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করার জন্যে লড়াই( বাড়ির লোকেদের সঙ্গে)করেছেন আর যাদের বাড়িতে সেই পছন্দ সাদরে গৃহীত হয়েছে।এরা সব বিষয়ে তর্ক করেছেন।কিন্তু ছাদনাতলায় না যেতে চেয়ে ততটা বাকবিতন্ডায় জড়ান নি(যতটা গেলে এই অর্থহীন রেওয়াজ বন্ধ হয়)।মনে হয় কোথাও এই ভাবে বিয়ের ব্যাপারটাতে এক ধরণের সায় মেয়েদের মনে অবশ্যই আছে।সেটা কন্ডিশানিং হতে পারে,সুপ্ত বাসনা হতে পারে।নইলে আমাদের সব বিদ্রোহ এখানে এসেই থেমে যায় কেন?এটা নিয়েও ভাবা দরকার। এমনকি চেনাজানা রাজনৈতিক মানুষদের দেখলাম,সারাজীবন বিদ্রোহ করে বিয়ের সময় টুক করে সাতপাক ঘুরে নিলেন।
এখনও দেখি,সব ব্যাপারে যিনি স্বাধীন মতমত দিয়ে বড় হলেন, সেকথা সগর্বে বলে চললেন,বিয়ের সময় তিনিও ''বাপমার'' মুখের দিকে তাকিয়ে পিঁড়িতে চড়ে বসলেন।মেলাতে অসুবিধে হয়,অবশ্য সব হিসেব মিলে যাবে এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয় নি।
বিশাস করি ততটা চেষ্টা বোধহয় করিনি/করছিনা।একটু জোরেসোরে চেষ্টা করলে আরো পাল্টানো যায়ঃ)


Avatar: pi

Re: অথ বিবাহ-কথা

দ দি, কাকতাড়ুয়া, হুম্ম। কিন্তু ছেলেদের মিশনারি মিশনের স্কুলগুলোতে এরকম অনুশাসন থাকত না?

স্বাতীদি, কিছুটা সৌভাগ্য কমলাসেনদি, প্রভাতীদি, শর্মিষ্ঠাদিদের কল্যাণে হয়েছিল, এসবকে অনেক বেশি কমপেন্সেট করে দিয়েছেন, উল্টোদিকে। আর প্রশ্ন করতে কিন্তু অনেকেই এনকারেজ করতেন।

আর অমিতবাবুর পোস্ট প্রসঙ্গে,
মনে হল, এই মেয়েদের চাকরি ইঃ নিয়ে , মেয়েদের চাকরি করা বা কোনোভাবে রোজগার করাটা কেন মেয়েদের কাছে বাধ্যতামূলক হয়না, বা সেই শিক্ষা দেওয়া হয়না?
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলেই তো শুধু না, নিজের আইডেন্টিটির জন্যও, নিজের ও সংসারের অর্থনৈতিক দায়িত্বপালন দায়বদ্ধতার জন্যেও। ম্ব্যেদের আর্থিক দায়িত্ব পালন না করলেও চলবে, এই ভাবনা মেয়েদের জন্যেই সবচে রিগ্রেসিভ মনে হয়, পিছিয়ে ্খে দেয় মনে হয়।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: অথ বিবাহ-কথা

@m এর প্রশ্নটা অনেকদিন ধরেই নিজেকে করেছি, কেন? দুটো কথা মনে হয়েছে, এক বিয়েটা হয় দুটো পরিবারের মধ্যে, যার মধ্যে একটা প্রায় অচেনা। সেখানে বিরুদ্ধ পরিবেশে অনেক সময় তর্কবিতর্ক একটা কানা গলিতে গিয়ে ঠেকে যেখানে একটা বাইনারী সিদ্ধান্ত নিতে হয়... দুই অনেকগুলো ফ্রন্ট যদি খোলা থাকে , তাহলে কাকে ছেড়ে কাকে বাঁচাবো সেটা একটা পরিস্থিতি ও মানসিকতা নির্ভর ব্যক্তিসিদ্ধান্ত হয়। তাই হয়তো যতটা জোরদার চেষ্টা করলে কাজটা হতে পারত, ততটা অবধি চেষ্টা করাও যায় না। ... আরও অনেক কারণ নিশ্চয় আছে ...

@পাই, মেয়েদের চাকরী করাটা বাধ্যতামুলক হওয়া উচিত ( যদিও আমিও খানিকটা বিশ্বাস করি ) - এই স্টেটমেন্টের অনেক গুলো দিক আছে কিন্তু। রিপোর্ট বলছে সাঊথ এশিয়ান দেশ গুলোর মধ্যে ভারতে ইনফরমাল সেক্টর সব থেকে বেশী, ৮০% র ও বেশী, আর হু হু করে বাড়ছে। ফরমাল সেক্টরে কাজ ক্রমশ কমছে। আর ইনফরমাল সেক্টর মানে বেশী এক্সপ্লয়টেশন, কম উপার্জন - উল্টো দিকে সংসার ঠিক মত না সামলাতে পারার গিল্ট, তার উপর বাড়ী ফিরে সংসারের কাজ - এত কিছু কে ব্যালান্স করাটা বেশ চাপের কিন্তু, বিশেষতঃ যেখানে মেয়েটির চাকরী ছাড়াও সংসার চলে যাচ্ছে বা বাড়ীতে চাকরী করার আপত্তি আছে।

আর চাকরী করলেই কি মানসিকতার বদল হয়? বোধহয় অতটা ঠিক সিম্পল না - অন্তত আমার অভিজ্ঞতা তা বলে না। তাহলে হয়ত আরও দশটা নতুন নিয়ম এসে জুড়ে বসবে acquired by public exposure.

Avatar: pi

Re: অথ বিবাহ-কথা

স্বাতীদি, এর সঙ্গে আরো জোড়ো, মা বাবা বলেন, ছেলে মেয়ের বিয়ে দেওয়া, নেমন্তন্ন, আত্মীয় স্বজন বলা, আয়োজন এসব তাঁদের শখ সাঅধের ব্যাপার, বিয়ের পরে নিজের মত থাক,
নিজেদের ছেলেমেয়ের বিয়ে নিজেদের মতে দাও ইত্যাদি। এবারে সে কে কতটা কম্প্রোমাইজ করবে, কার কাছে কোথায় কোনটা প্রায়োরিটি হবে, কোনটা
গ্রহণ কোনটা বর্জন, আর সেগুলোর কোনটা কোন কস্টে, সেটা বোধহয় এত জেনেরালাইজ করা যায়ইনা
। এবারে পুজোর বিতর্কে পক্ষে বা নিরপেক্ষ মতগুলো আবার পড়ছিলাম, অনেক কিছুই লেখা হয়ে গেছে, আর লিখলাম না।

আর চাকরি, মানসিকতা নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে, লিখছি একটু সময় নিয়ে।


Avatar: ম

Re: অথ বিবাহ-কথা

স্বাতী, প্রশ্নটা/ দাবিটা কেবল তাদের নিয়ে রেখেছি, যাদের মনে এটা নিয়ে সন্দেহ/জিজ্ঞাসা/খারাপলাগা ইত্যাদি আছে(একটা বিরাট অংশ প্রথমেই বাদ)।মেয়েদের লিখেছি কিন্তু ছেলেরাও এরমধ্যে সমানভাবেই অংশ নিয়ে থাকেন।দুটি পরিবারের মধ্যে তারটিতে আলাপ আলোচনার দায় তার বলে মনে করি।বিয়ে করব/করা যায়,এটা আগে তো সম্পর্কের মধ্যে থাকা দুজন ঠিক করেন।সবটা নিজেরা করলাম, কিন্তু বিয়েটার জন্যে পরিবারের কাঁধে যাবতীয় আলোচনার দায় চাপিয়ে, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা দিয়ে নিজেরা চুপ করে রইলামটা অবাক করে। আমাদের বিয়ে কিন্তু বড়রা সব ঠিক করে দিচ্ছেন। আমাদের সেখানে কোনও মতামত নেই? এতটা কঠিন জায়গায় বিষয়টা কী করে পৌঁছে যায়? নাকি আমরাও এরকমটাই চাই?
পরিবারের বড় চিন্তা লোকে কী বলবে? আমাদের আত্মীয়- পরিজন নিয়ে ঘর করতে হয়।দু বাড়ির পরিরার পরিজন আনন্দে সবাই একসাথে নেমন্তন্ন খাবেন তার জন্যে ঐসব কুৎসিত আচারবিচারের কোনও দরকার আছে কি? যুদ্ধ তারপরেও আছে, নতুন বাড়ি, পরিবেশ,মানিয়ে নেওয়া।। কিন্তু বিয়ের প্রথা,রীতিনীতির বিপক্ষে আওয়াজ তোলাটা সবার আগে দরকার। সে কাজটায় ঐ অন্যবাড়ির লোকটাকে পাশেও পাওয়া দরকারঃ)
নিজেকে প্রশ্ন করার দরকার আছে, আমি কী চাই? এত লড়াই করছি চারদিকে, এটাতে কেন হাল ছেড়ে দেব?
Avatar: amit

Re: অথ বিবাহ-কথা

পাই এর পোস্ট এর প্রেক্ষিতে:
"মেয়েদের আর্থিক দায়িত্ব পালন না করলেও চলবে, এই ভাবনা মেয়েদের জন্যেই সবচে রিগ্রেসিভ মনে হয়"। একমত, কিন্তু এটাকে বাধ্যতামূলক করাটা মুশকিল। করলেও চাকরি কোথায় ? যেটা দরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে জেন্ডার বায়াস একেবারে তুলে দেওয়া। ক্লাসে টিচার রা বহু সময় সেক্সিস্ট কমেন্ট করে থাকেন, অল বয়স স্কুল এ প্রচুর দেখেছি। কে এডুকেশন বাড়লে এগুলো কিছুটা হলেও কমবে।
তবে গেরুয়া সরকার থাকলে ওসব আশা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তেনারা তো মেয়েদের ভালো বৌ বানানোর কোর্স খুলেছেন।

ম-কে, আমার মনে হয় এই "বিয়ে মানে দুটো মানুষের নয়, দুটো পরিবারের বিয়ে" এই কনসেপ্ট টাই মূল গন্ডগোল। যেহেতু মেয়েদের এখনো বিয়ের পরে গিয়ে শশুড়বাড়িতে উঠতে হয়, তাদের ওপরেই চাপ বেশি পড়ে। গন্ডা গন্ডা লোককে এক সাথে খুশি করতে গিয়ে নিজের পার্টনার এর সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে না। এর থেকে ওয়েস্টার্ন কনসেপ্ট ভালো, যে যার পার্টনার বেছে নিয়ে আলাদা থাকো। ঝামেলা হলে নিজে মেটাও, বাকিদের ঘাড়ে ফেলোনা। আর ডিভোর্স আদৌ কিছু খারাপ জিনিস নয়, বনিবনা না হলে সারা জীবন চুলোচুলি করার থেকে শান্তিতে আলাদা থাকা অনেক ভালো।
Avatar: Atoz

Re: অথ বিবাহ-কথা

ভক্তগণ ক্ষমতায় এসে গেলে "যে যার পার্টনার নিয়ে থাকা" কন্সেপ্টটাই হয়তো লোপ করে দেবে। আর ডিভোর্স হয়তো একেবারে বেআইনিই করে দেবে। বলা যায় না, কিছুই বলা যায় না।
Avatar: দ

Re: অথ বিবাহ-কথা

Avatar: pi

Re: অথ বিবাহ-কথা

ধুর্র্ধুর, দু'বার বড় করে লিখে উড়ে গেল। একটু বড় লিখলেই স্ক্রিন অটোরিফ্রেশ কি হ্যাঙ্গ হচ্ছে, এটা কী কেস! যাগ্গে আর ধৈর্র নেই, এক দু লাইনে বলি।
মেয়েদের রোজগার করা বাধ্যমূলক করতে হবে একথা বলিনি। আমি নিজে রোজগার করার পক্ষেই ব্য়্ক্তিগতভাবে থাকলেও এবং নিজের আর্থিক দায়িত্ব অন্য কেউ নেবে এটাতে একেবারেই স্বচ্ছন্দ না হলেও
এটা যার যার চয়েজ মনে করি, কিন্তু এটাও মনে করি ছেলেদের বেলাতেও তাহলে সেটা চয়েজই হওয়া উচিত। ছেলেদের বেলায় নিতেই হবে এমন অর্থনৈতিক দায়িত্ব কর্তব্য হয়ে থাকবে, আর মেয়েদের বেলায় সেই মাস্ট ডুটা হবে ঘরে থেকে সংসার সন্তান প্রতিপালন, কাজ করলে সেটা হবে উপরি, সেকেন্ডারি, নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য বড়জোর,ছেলেদের মত অবশ্যপালনীয় কর্তব্য হবেনা, ঠিক যেমন ঘরকন্নার কাজ অবশ্যকর্তব্য হবেনা, করলে সেটা বাড়তি, উপরি, সেকেন্ডারি, মেয়েদের রোজগারের মত, চলে আসা এই প্রথা, এই মনোভাব, এই অলিখিত নিয়মের থেকে বেশি সেক্সিস্ট, রিগ্রেসিভ ডিস্ক্রিমিনেশন তো আর কিছুই হয়না! মেয়ে
হিসেবে এখানে সেকেণ্ড সেক্স মনে হয়, অপমানজনক লাগে!
শাঁখা সিঁদুর পরা। খেলা, মন্ত্র পরা, অনুষ্ঠান করে বিয়ে করা, কিছুই (আমার) এত রিগ্রেসিভ লাগেনা, বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে লোকে রুট কজ অত না দেখে এগুলো ক্যাজুয়াল রিচ্যুয়াল মাত্র বলে উড়িয়ে দেয়। যাহোক তুলনারও হয়তো মানে নেই, কিন্তু অমিতবাবু, এই চাকরি কম পয়েন্ট টা মেয়েদের চাকরি পাওয়া/করা প্রসঙ্গেই এলে সেটা এক অর্থে সেক্সিজ্ম ই মনে হয় যে!

আর হ্যাঁ স্বাতীদি, মেয়েদের বাইরে বেরোন অনেক ক্ষেত্রেই খুব ্যালেন্ন্জিঙ্গ, সন্দেহ নেই, কিন্তু এই গোড়ার ডিস্ক্রিমিনেটরি সেক্সিস্ট স্টিরিওটিপিকাল শ্রমবিভাজনের জায়গাটা না উপড়ালে এসব সমস্যা থেকেই যাবে, মূলগতভাবে। এটাই মনে হয় আর কি।


Avatar: pi

Re: অথ বিবাহ-কথা

ধুর্র্ধুর, দু'বার বড় করে লিখে উড়ে গেল। একটু বড় লিখলেই স্ক্রিন অটোরিফ্রেশ কি হ্যাঙ্গ হচ্ছে, এটা কী কেস! যাগ্গে আর ধৈর্র নেই, এক দু লাইনে বলি।
মেয়েদের রোজগার করা বাধ্যমূলক করতে হবে একথা বলিনি। আমি নিজে রোজগার করার পক্ষেই ব্য়্ক্তিগতভাবে থাকলেও এবং নিজের আর্থিক দায়িত্ব অন্য কেউ নেবে এটাতে একেবারেই স্বচ্ছন্দ না হলেও
এটা যার যার চয়েজ মনে করি, কিন্তু এটাও মনে করি ছেলেদের বেলাতেও তাহলে সেটা চয়েজই হওয়া উচিত। ছেলেদের বেলায় নিতেই হবে এমন অর্থনৈতিক দায়িত্ব কর্তব্য হয়ে থাকবে, আর মেয়েদের বেলায় সেই মাস্ট ডুটা হবে ঘরে থেকে সংসার সন্তান প্রতিপালন, কাজ করলে সেটা হবে উপরি, সেকেন্ডারি, নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য বড়জোর,ছেলেদের মত অবশ্যপালনীয় কর্তব্য হবেনা, ঠিক যেমন ঘরকন্নার কাজ অবশ্যকর্তব্য হবেনা, করলে সেটা বাড়তি, উপরি, সেকেন্ডারি, মেয়েদের রোজগারের মত, চলে আসা এই প্রথা, এই মনোভাব, এই অলিখিত নিয়মের থেকে বেশি সেক্সিস্ট, রিগ্রেসিভ ডিস্ক্রিমিনেশন তো আর কিছুই হয়না! মেয়ে
হিসেবে এখানে সেকেণ্ড সেক্স মনে হয়, অপমানজনক লাগে!
শাঁখা সিঁদুর পরা। খেলা, মন্ত্র পরা, অনুষ্ঠান করে বিয়ে করা, কিছুই (আমার) এত রিগ্রেসিভ লাগেনা, বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে লোকে রুট কজ অত না দেখে এগুলো ক্যাজুয়াল রিচ্যুয়াল মাত্র বলে উড়িয়ে দেয়। যাহোক তুলনারও হয়তো মানে নেই, কিন্তু অমিতবাবু, এই চাকরি কম পয়েন্ট টা মেয়েদের চাকরি পাওয়া/করা প্রসঙ্গেই এলে সেটা এক অর্থে সেক্সিজ্ম ই মনে হয় যে!

আর হ্যাঁ স্বাতীদি, মেয়েদের বাইরে বেরোন অনেক ক্ষেত্রেই খুব ্যালেন্ন্জিঙ্গ, সন্দেহ নেই, কিন্তু এই গোড়ার ডিস্ক্রিমিনেটরি সেক্সিস্ট স্টিরিওটিপিকাল শ্রমবিভাজনের জায়গাটা না উপড়ালে এসব সমস্যা থেকেই যাবে, মূলগতভাবে। এটাই মনে হয় আর কি।


Avatar: hu

Re: অথ বিবাহ-কথা

পাই এর কমেন্টটায় বড় করে ক। এটাই আসল।
Avatar: amit

Re: অথ বিবাহ-কথা

পাই এর কমেন্ট এর সাথে একমত। ইকুয়ালিটি আর রেসপেক্ট যেকোনো রিলেসন এ থাকা অবশ্যি দরকার। চাকরি করাটা ছেলেদের কাছে বাধ্যতামূলক আর মেয়েদের কাছে অপশনাল এটাও থাকা উচিত নয়। আমার সাথেই একটি মেয়ে কাজ করে , ও ওর ফ্যামিলির মেন্ এয়ার্নের। ওর পার্টনার ফুল টাইম কিছু করে না, জাস্ট টুকটাক পার্ট টাইম আর বাড়িতে বাচ্চা সামলায়। এতে কাওকে চোখ কপালে তুলতে দেখিনি। তবে এই উদাহরণ বেশি দেখিনি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুজনেই কাজ করে।

আমার মনে হয় দুজনে কাজ করলে একটা ইন্ডিভিজুয়াল ফিনান্সিয়াল ইন্ডেপেন্ডেন্সি থাকে আর সেই জন্য রেস্পেক্ট বেশি থাকে একটা রিলেসন এ। সংসারে কিছু খরচ থাকেই যেটা চালাতে হয়, তাই একজন এর ওপর সেই দায়িত্ব পড়লে আর একজনকে তার কাছে হাত পাততেই হয়। সেটা না হলেই ভালো। আর আমাদের দেশে যেটা হয়, বাকিদের , বিশেষ করে ছেলেদের বাবা মা বা অন্য আত্মীয় এদের ইনফ্লুয়েন্স আরো বেশি সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই বিয়ের পরে আলাদা থাকা একটা খুব ভালো অপসন। সেটা যত বাড়ে ততই ভালো। এই তথাকথিত ইন্ডিয়ান জয়েন্ট ফ্যামিলি সিকনেস থেকে যত বেরোনো যায়, তত ভালো।

আর এই লড়াইটা মেয়েদেরই শুরু করতে হবে। শুধু লিখলে হবে না, নিজের লাইফ এ সেই লড়াইটা শুরু করতে হবে। এতো বছরের জগদ্দল নিয়ম তো আর কয়েক দিনে সরবে না। কিন্তু শুরু হলে আস্তে আস্তে মোমেন্টাম গদার করবে। সব ছেলেদের সাথে পাবেন সেই আশা কম, তারা কেন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা ছাড়বে ? তবে সেনসিবল যারা তারা নিশ্চয় আসবে, পরে সংখ্যা বাড়বে।

যেমন "Me-too" এর পরে পাবলিক ডোমেইন এ প্রচুর জোকস ঘুরে বেরিয়েছে, এটা নিয়ে গুচ্ছের মেমে ছাড়া হয়েছে, অনেককে পার্সোনাল এটাক করা হয়েছে, কিন্তু সব কিছুর পরেও হ্যারাসমেন্ট নিয়ে একটা জেনারেল এলার্টনেস এসেছে, সেটা যদি প্রিডেটর দের ১ -২ % ও থামাতে পারে , সেটাও লাভ। এনিথিং ইস বেটার than নাথিং।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 30 -- 49


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন