বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিনায়করুকুর ডায়েরি

বিনায়করুকু

আমি বিনায়করুকু

আমি রুকু বিনায়ক। সবাই বলে আমি বুদ্ধু। ভোঁদাই। মা আমাকে গাধা বলে না মুনা বলে। পাপা বলে পুচাই। আমার দুটো হাত,দশটা হাতের আঙ্গুল,দুটো চোখ আছে,যা দিয়ে আমি ছবি আঁকা। পাপা মা বলে আমার অটিজম আছে। অটিজম কী আমি জানিনা। তবে আমি একটু কেমন যেন।
আমার গাড়ির চাকা,টেবিল ফ্যান,ছোট ছোট রবারের পুতুল ,রং,তুলি পেন্সিল ভালো লাগে। আমি লাফাতে ভালোবাসি। এ দেয়াল থেকে ও দেয়াল। সব দেয়ালে হাতের চাপ,সব দেয়ালে সর্দি,নাকের পোঁটা লাগে। মা বলে যাতা। আর মোছে। ।



ছানার পায়েস
গরম কাল ভালো। ছাদে ক্যাম্প খাট পাতা হয়। মা,পাপা,আর রুকু ভোঁস ভোঁস ভোঁস আর তারা দেখা।
প্লেন,ই টি E, T, স্যাটেলাইট সবাইকে দেখতে পাই। আমি science পড়িনা আকাশ দেখি। গরম কালে মোটা অন্য সময় সরু।
পেঁচা আর কাক ও ওড়ে। শুধু মশার ধূপ টা বিচ্ছিরি।
তারাও দপ দপ মোবাইল টাওয়ার দপ দপ দপ। সিগনাল সিগনাল খেলে যায়।
আমি অনেক তারার নাম জানি।
একটা থালায় এক সাথে থাকলে সীতাভোগ।
আলাদা থাকলেই ওই জিলিপি আর চন্দ্রপুলি।
Galaxy টা ছানার পায়েস।
পাপা কে বলবো।


ডায়েরি ৩
মামারবাড়ি একটা Scare crow আছে।
কুট্টিমামার ছেঁড়া জামা পরে।
ওটা কাকতাড়ুয়া।
গাছ বাঁচায়া।
ওর জামা change হয়না।
মাটির হাঁড়ির দাঁত গুলো গুঁড়ো গুঁড়ো।
সবুজ পুকুরে কালো তেলাপিয়া।
জলের নিচে মাটির কলসিটা
মাছতাড়ুয়া।
দাঁত গুলো শ্যাওলা।

ডায়েরি ৪
সাউন্ডে আমার ভয় করে। বাজে একটা ফ্যা করে আওয়াজ হয়, বিরক্ত লাগে। কোন কিছু ল্যাগড্যাগ করলে, নখ কাটলে,চুল কাটলেই।
ফ্যা,কচ কচ।
লোডশেডিং হলে আমি চিৎকার করি মায়ের হাত ঝাঁকাই। মা বলে বিহেব, বিহেব। আর বলে ও গড।
বিহেব হবোনা আমি রুকু হবো।
মা দিওয়ালি দিওয়ালি খেলে । উঠোনে মোম। (আমরা সারা উঠোনে মোম জ্বালিয়ে রাখি)
সম্রাট,ছোটু, মন্টু বলে খেপেছে খেপেছে।
আমি সবার নাম ধরে
ডাকি। ছেলেটা তাড়া করে । সাইকেল এর ঝুড়িতে থান ইট দিয়ে দেয়।
আমি নেমশেক নেমশেক খেলি। চ্যাটার্জি,চারটে পিনচে,মলয়দা, সব এক নাম।
মামাবাড়িতে পল্লব দোস্ত (বিনায়করুকু র মাতামহ) এর সাথে মাছ ধরি।
লাল ফুটো ফুটো বাক্সে মাছ থাকে জলের মধ্যে ডোবানো।
লজ্জাবতী(কুকুর)আর লালমোহন টিয়া ওপরে চলে গেছে।
মা গান গায়, দিল তো বাচ্চা হ্যায়ে জি।
রূপ তেরা মাস্তানা, মা গায় না।
হামা হাম্মা গান হলে আমরা তিন জনে নাচি।
রাত্রি বেলা মা বাজু বন্ধ্য খুলে যায় শোনে।


ডাইরি ৫
বাড়ি,ছাউনি, শহর পেরোলেই মাঠ
তাঁতি পাড়ায় ডিসে ,ডিসে, ডিসে, চ্যায়ে।
হলদে কুকুর পাপার গাড়ির পিছনে লাফায়।
রেল লাইনের উপর কাঠবিড়ালি।
মা র সানগ্লাস চকচকে।
মাঠে মোবাইল টাওয়ার, ত্রিশূল।
খর খরে শুকনো ঘাস,স্পেয়ার পার্টস।

ডাইরি ৬
সারি সারি মোমবাতি জ্বলে।
শ্যামা পোকার পোড়া গন্ধ।
উঠানে চরকি ঘোরে।
আসমান গোলা,
আকাশ থেকে আগুন পড়ে।
পাপার চোখে টুনি বাল্বের আলো।
কচুবনে ঝিঁ ঝিঁ পোকা জোনাকি জ্বালে।
পুকুরে "ডেপ চার্জ"জল ছেটায়।
পেপসি খাটের তলায়।

ডাইরি ৭
আমি যা ইচ্ছে তাই ছবি আঁকবো।
ঘড়ি দিয়ে সূর্য।
রেল গাড়ি টা ভাগছে।
কাগজ দিয়ে Papyrus।
রেলগাড়ি দিয়ে মেঘ বেরোবে।
বেশ ইচ্ছে করেছি।
জিনাত আমন পুকুরে।
সাঁতারে।
বিনায়করুকু।


কেদারনাথ ডাইরি ১
গুপির গাধার মত আমাকে ঘোড়া চাপিয়ে
কেদারনাথ নিয়ে যায়
রমেশ ডানিয়া সহিস।
আমার ভয় করছিল।
সহিস বললো ভাইয়া মাত বোল,
'কিদার" বাবা কি জয় বোল।
দুনিয়ার লোক কে বলছিলাম
হঠ যাও মাসি। হঠ যাও চাচা।
ঘোড়া থেকে নেমে "মানুষ পিঠে " উঠে
GMVN এ গেলাম।
পিঠে চড়ে আকাশ দেখলাম।
লোকটা মুখে হুঁ হুঁ আওয়াজ করছিল।
দুপুরের পাহাড়ের রং সাদা।
বিকেলে নীল গোলাপি।
রাতে সাদা কালো হলুদ।
একা পাহাড়।
একা নদী।

কেদার ডাইরি ২
সব পাহাড় গুলোতে শিব ঠাকুর আর কিং কং
ঘুমোচ্ছে।
মুখের কাছে মেঘ মেঘ মেঘ সিগারেট।
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ,ধোঁয়া ধোঁয়া।
রাতে একা নদী মার মত চ্যাঁচায়।
জ্বর হয়েছে।
কালো পাহাড় টা ভেজে।
চাঁদ টা সবাই কে আলো দেয় নি।
পাপা আর রুকুর আঙুল জোড়া।
Unit হয়ে ঘুমায়।
শিব ঠাকুরের শীত করে।
শিব ঠাকুরের পাপা নেই।
শীত করে।

কেদারনাথ ডায়েরি ৩
সূর্য উঠলে পাহাড় টা দাঁত মাজে।
সাদা থেকে হলুদ হয়ে যায়।
নীল রঙের বৃষ্টিটা মাউথওয়াশ।
হলুদ ফুল গুলো জিলিপির মত,
সুতো দিয়ে বাঁধা।
ব্রেকফাস্ট এ পোহা আর মেঘ।
বদ্রিনাথে নীলকণ্ঠ পাহাড় সিঙাড়া।
নদীটা এক কাপ চা।
রুকু চা খায়।

ডাইরি - কেদারনাথ বদ্রিনাথ যাত্রা
পাহাড়ে কচুবন নেই।
পাইনের বন।
পাথর গুলি,আর উলের বল,ছক্কা।
উলের বল গড়ায়।
এই পাহাড় ওই পাহাড় জোড়া ,জোড়া,জোড়া।
রাস্তা আর ব্রীজ দিয়ে,
শিব ঠাকুর লুডো খেলে।
বাসে বসে রুকু হাসে।
বাস টা গরম বাইরে ঠান্ডা।
জানালার কাঁচে
পাতার ধাক্কা চিরিক চিরিকি।
রুকুর হাতে ছোট পাথর
ছক্কা পাঞ্জা।



রুকুর মায়ের কথা ঃ

আমি একজন স্পেশাল মানুষের মা।বিনায়করুকু আমার পুত্র।তার অটিজম আছে। তার 16 বছর বয়েস। রুকু অনেক কিছু পারেনা।গুছিয়ে কথা বলতে পারেনা,গুছিয়ে লিখতে পারেনা,জগৎ টাকে নিজের মত করে দ্যাখে।যা ভাবে তাই লেখে। লেখে নিজের শর্তে বাঁচে নিজের শর্তে। বিচারের ভার পাঠকের উপর। রুকুকে নিয়ে আমাদের জার্নির কিছু কথা ধরা আছে, এখানেঃ http://www.guruchandali.com/blog/authors/sumongb78



2380 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  ছবিছাব্বা  উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮ 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 25 -- 44
Avatar: পারমিতা

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

আহা ছোট বেলায় এমন ভাবতাম।
Avatar: দ

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

ভীষণ ভাল। ভীষণ
Avatar: vikram

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

বাপরে কি ভালো
Avatar: i

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

এবারের উৎসব স্পেশালের লেখালেখিতে বিনায়ক রুকুর ডায়েরি আমার সেরা প্রাপ্তি। রুকুর মা লিখলেন, 'গুছিয়ে কথা বলতে পারেনা,গুছিয়ে লিখতে পারেনা,জগৎ টাকে নিজের মত করে দ্যাখে।যা ভাবে তাই লেখে'। আমি ভাবছি, গুছিয়ে লিখলে এই একস্প্রেশন পেতামই না। গ্যালাক্সিটা ছানার পায়েস-পাথর গুলি,আর উলের বল,ছক্কা-উলের বল গড়ায়-রুকুর হাতে ছোট পাথর ছক্কা পাঞ্জা- মাথার মধ্যে ঘুরছে এখন। ঘুরবে বহুদিন ।
হ্যাট্স অফ, বিনায়ক রুকু।

ছোটাই
Avatar: Atoz

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

অপূর্ব!!!! অপূর্ব!!!!!!
লেখাগুলো আর ছবিগুলো অন্য জগতে নিয়ে গেল যেন। খুব সুন্দর, খুব সুন্দর।
Avatar: দিলীপ ঘোষ

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

রুকু বিনায়ক এবং তার মা কে অনেক শুভেচ্ছা। রুকুর ডায়েরি পড়তে খুব ভালো লাগলো।
Avatar: aranya

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

রুকুর 'শিবঠাকুরের শীত করে'। অরণ্য-রও খুব শীত করে, একা লাগে, মনে হয় কেনই বা বেঁচে আছি।
তখন এই লেখা, ছড়া আর ছবিগুলো - বিশেষ করে শেষ দুটো ছবি ..
নাঃ, পৃথিবীটা ভাল। রুকু, ভাল থাক, ভাল মানুষ হও বলার দরকার নেই, তুমি একজন ভাল মানুষ - ছবি আর লেখাই তার প্রমাণ।

ছবি আঁকা ছেড়ো না কখনো
Avatar: খ

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

ফেনোমেনাল👍👍👍👍🎂💐💐
Avatar: soumitra

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

আঁকার হাত বেশ পরিণত , দেখার চোখও অসাধারন।
Avatar: nsg

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

খুঊব ভলো লেখা। আরো লেখা পড়তে চাই।
Avatar: দেবরাজ গোস্বামী

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

লেখাগুলো সব ছবির মত ... আর ছবিগুলো ... আমার মতামত আজ থাক ... আমার ছেলে দেখে বলল 'দুর্দান্ত' ।
Avatar: b

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

দুর্ধর্ষ।
Avatar: Kakali Sinha Roy

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

আহা! অদ্ভূত সুন্দর শব্দ বন্ধ, ছেলেবেলায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েদিলে। গোছানো কথা গোছানো লেখার থেকেও অনেক বেশী আকর্ষণীয় এ লেখা। আর ছবি দুর্ধর্ষ সুন্দর।
Avatar: Tim

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

অপূর্ব সব ছবি আর চমৎকার লেখা! ছবিগুলো অনেকবার দেখলাম।
Avatar: কুশান

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

মুগধ এই ডায়েরি পড়ে। ছবিগুলোর থেকে চোখ ফেরানো যায় না।
আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি পড়ে মুগধ হয়েছিলাম। রুকুর ডায়েরি কবিতা, ছবিগুলো মায়াময়।

আপনি, যিনি রুকুর মা, আপনি ও রুকু ভালো থাকবেন।
গুরুকে ধন্যবাদ এমন আশ্চর্য লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
Avatar: sarmistha

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

ছবি দেখে তাক লেগে গেলো। অসাধারণ। আমি মুগ্ধ।
Avatar: জি

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

দুর্ধর্ষ!!! ছবিগুলো এত অপূর্ব!
Avatar: আয়নামতি

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

রুকুর হাত ধরে ওর বর্ণালী দারুণস্য দারুণ আঁকাআঁকি আর ডায়রি পাতার লেখালেখিতে মুগ্ধ হলাম। অনেক দূর থেকে রুকুর জন্য বিগ বিয়ার হাগ পাঠাচ্ছি সাথে অনেকক অনেক শুভকামনা ভালোবাসা।
Avatar: রাসেল

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

রুকুকে আমার ভীষণ পছন্দ হলো। ওর ভাবনাগুলোর মতো অনেকটা একই রকম আমিও ছোটবেলায় ভাবতাম।

সূর্য উঠলে পাহাড় টা দাঁত মাজে।
সাদা থেকে হলুদ হয়ে যায়।
নীল রঙের বৃষ্টিটা মাউথওয়াশ।
হলুদ ফুল গুলো জিলিপির মত,
সুতো দিয়ে বাঁধা।
ব্রেকফাস্ট এ পোহা আর মেঘ।
বদ্রিনাথে নীলকণ্ঠ পাহাড় সিঙাড়া।
নদীটা এক কাপ চা।
রুকু চা খায়।

রুকুর এই কবিতাটি মনে হচ্ছে আমারই ছোটবেলায় লেখা কোন এক কবিতা, যা আমি লিখতে পারি নি। রুকু পেরেছে। জানি না, রুকু আমার এই লেখা দেখতে পাবে কিনা! যদি দেখতে পায়, তবে আমার নতুন বন্ধুর নামটি আমি রুকুকে কানে কানে গোপনে বলতে চাই। নতুন বন্ধুটির নাম "রুকু"। বন্ধুটিকে পেয়ে আমি দারুণ খুশি।

আবার কথা হবে কোন একদিন বন্ধু, ততক্ষণ তুমি ভালো থেকো আর সুন্দর সুন্দর কবিতাগুলো লিখতে থাকো।

বায় বায়।
Avatar: Kakali

Re: বিনায়করুকুর ডায়েরি

অপূর্ব লাগলো! এই ছবিও রুকুর আঁকা? ছবি ও লেখা দুই ই অসাধারণ এবং মন কে ভীষণ নাড়া দেয়। আরো অনেক লিখুক রুকু, আর এই অদ্ভুত সুন্দর আঁকার কথা কি বলবো!

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 25 -- 44


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন