বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমার কোনো উৎসব নেই

জিনাত রেহেনা ইসলাম

আমার জীবনে কোনো উৎসব নেই।
বিয়েটাও মৌলালিতে রেজেষ্ট্রি করেছিলাম। 'বেজাতে' বিয়ে বলে নিজ মহল্লায় দামামা বেজেছিল। পাত্র ডাক্তার এই কথাটা কর্পূর হয়ে 'হিন্দু ছেলে' এটাই প্রচার হয়েছিল। তো, এই কালী পুজো নিয়ে আমার এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কালীমা আমার প্রতিদিনের। ছাত্রজীবন থেকে কলেজ টানা সময় জুড়ে আমায় 'মা কালী' বলে পথে ঘাটে ডেকে দিত কেউ। অবশ্যই পুরুষকণ্ঠ। কখনো পেছন ফিরে দেখিনি। দেখতে নেই এটাই ছিল পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা। তখন অবশ্য আমি খুব ভয় পেতাম এই ডাকে। লজ্জা হত খুব। কী এমন আছে এই চেহারায়? নিজের মাও মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলতেন, আমার পেটের মেয়ে এমন কালো কীকরে?বুঝতাম না এই সমাজে মেয়েদের কেন কালোরঙ হওয়া বারণ ? কেন এত নেগেটিভ? তারপর মাথায় সিঁদুর চড়ানোর পর আমায় কেউ কোনদিন 'মা কালী' বলে ডাকেনি। সিঁদুর ছাড়ার পরও। জানিনা, বিবাহিত মেয়েদের বুঝি সব মাফ। ধীরে ধীরে নিজের গায়ের রং ও চেহারার সঙ্গে কম্ফর্টেবল হয়ে গেলাম। নিজেকেই ভালবেসে ফেললাম।

বিয়ের আগেই জানতাম আমার স্বামী কালীভক্ত। বিয়ে রেজেষ্ট্রির আগের দিনই সে নিয়ে যায় আমায় দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি পুজো দিতে। সেখানেই লাইনে দাঁড়িয়ে সে জানায় আমার কাছে তার একটিই দাবি। মন্দিরে তার পাশে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে ও প্রসাদ খেতে হবে। তার এই ভক্তি একইভাবে সন্তানের মধ্যে জন্ম নিল । প্রতিদিনই ড্রাইভার অভিযোগ করত মেয়ে স্কুলের পথে যেখানেই মন্দির দেখছে গাড়ীর কাচ নামাতে বলছে। নেমে পড়ে প্রণাম করছে। এরপর আমার নিজের বাড়িতে মেয়ের পছন্দের কালী মায়ের ওয়াল হ্যাঙ্গিং লাগানো হল। তার নিজের পূজা করার জায়গা ক'রে দেওয়া হল। আনা হল লাল কাপড়,ঘণ্টা,কর্পূর, সিদুর,গঙ্গাজল,ধূপকাঠি। কাছের মন্দিরের পুরোহিতের কাছে গিয়ে লিখে আনা হল মন্ত্র। আমার মা এখানেই কখনো কখনো কোরান পাঠ করতেন, নামাজ পড়তেন। আমার বাবা কালীপুজোর জন্য চারটে করে জবাফুল এনে দিতেন বাজার থেকে প্রতিদিন।

প্রতিবছর কালীপুজোর দিনে আমার মেয়ে উপোস করে পুজো দিতে যায় বিষ্ণুপুর কালীবাড়ি। মা জানতেন, আগের দিনের রাত বারোটার আগে থেকে । সকালেই কুককে জানিয়ে দেওয়া হত যে মেয়ের জন্য খাবার বানাতে হবে না। প্রতিবার আমি তার সঙ্গে যাই পুজো দিতে। অসম্ভব ভিড় ঠেলে পূজার থালি সংগ্রহ করে ভেতরে যাওয়া। আমি ঠিক জানিনা কোনটা আমাদের নেওয়া উচিত। ১৫১ টাকার থালি, যেটার স্রেফ দাম বেশি তাই সেটাই উপযুক্ত ভেবে হয়ত মেয়ে পছন্দ করত। আমি তার কথামত সেটাই নিতাম। মন্দিরের ভেতরে গিয়ে সেখানে নিজের নাম বলার পরই পুজো দেওয়া শুরু। মেয়ে সেখানে বসার পর বার বার পেছন ফিরে আমায় খুঁজত। তাই আমি নিজে সবার সঙ্গে পুজোয় বসে পড়তাম। পরে দেখতাম আমার অকারণ জায়গা দখলের জন্য অনেক ভক্তদের দরজার বাইরে দাঁড়াতে হচ্ছে। শেষে আমি সরে যেতাম। আমি তো ঠিক ভক্ত নই। ভক্তদের সম্মান করি। একজন সাধারণ মানুষ। আমি কোনও নিয়ম জানিনা, হয়ত সেও জানেনা। তবে সবাই যা করতো দেখে দেখে মেয়েও শিখে গিয়েছিল । পুজো শেষে মাথায় লাল রঙের তিলক কেটে দিতেন ঠাকুরমশাই । আমি দেখতাম এক অদ্ভুত পরিবেশ। ধূপের গন্ধ,মোমাবাতির আলো আর ঘণ্টার শব্দে আমি কিছুক্ষণের জন্য আমার নিজের মধ্যে থেকে চলে যেতাম অন্য কোথাও। আরাধনার সত্যি কোনো ভাষা হয় না।

আমি অবাক হয়ে দেখতাম, মেয়ে প্রার্থনার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ আমার থেকে লুকোতে থাকে। হয়ত ভক্তির একটা পর্যায় এটা। তখন আরাধনার সাথে কান্নাও আসে। কিজানি, দূরে দাঁড়িয়ে থেকে আমার তখন সবকিছু কেমন জানি খুব ফাঁকা লাগত। মনে হত আমায় ধরার মত যদি এমন কেউ এই ত্রিভুবনে থাকত ! সন্ধ্যেবেলায় পুজো দিয়ে ফেরার পথে মেয়ের কপালের লাল তিলক আমার চোখে বার বার আটকে যেত। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী নই। কিন্তু মেয়ের কারণে কোথাও যেন কয়েক্মুহূর্তের মধ্যে অন্য এক জগত ঘুরে ফিরতাম। পথে সে আবার মিষ্টি,ফল কিনে নিত । রাত্রিবেলায় একটা নিদির্ষ্ট সময়ে আবার পুজো করত। স্রেফ মিষ্টির লোভে আমিও অপেক্ষা করতাম। মেয়ে বলত মায়ের প্রসাদ। আমি আর মা বলতাম খুব ভাল মিষ্টি খেলাম। কিন্তু আমার মাকে লক্ষ্য করতাম আমাদের বাড়ির ল্যব্রাডর জোজো অন্যান্য খাবারের মত প্রসাদের জন্য লাফালে মা তাকে কিছুতেই দিত না। মেয়েকেও খুব ভালো করে নিষেধ করতেন মায়ের প্রসাদে যেন জোজো মুখ না দেয়। আমার মায়ের এই ভাবনাকে স্যালুট করতে ইচ্ছা হত। মানুষ তো এইজন্যই মহান।

ধর্মের যাবতীয় আচার,নিয়মকানুন নিয়ে যারা পাকামি করে, ফতোয়া দেয় তাদের আমার ওই তুবড়িবাজির মত ওড়াতে ইচ্ছে হয়। এই ধর্মের কারণেই আমি আমার পছন্দের জায়গায় ফ্ল্যাট পাইনি,শ্বশুরবাড়ি কখনো দেখা হয়নি আমার, কিন্তু আমার কোথাও কোনো খেদ নেই। সকলকেই ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেছে। কারণ ধর্মের শেষ কথা দেখেছি নিজের বাড়িতে। এখানেই মন্দির,এখানেই মসজিদ,এখানেই সব। শুধু মানিয়ে আর মেনে নেওয়ার সমস্যা। সেটা একান্তই আমাদের। বাড়ি এক ঘর জুড়ে মাকালী,গণেশের ছবি। মেয়ের ঠাকুরঘর সবার কাছেই খুব পবিত্র জায়গা। কতবার মেয়ের সাথে আমারও দুই হাত প্রণামের মত করেই মাথায় ঠেকেছে। ঝেড়ে আনতে হয়েছে লাল শালু। কখনো মনে হয়নি আমি কিছু হারালাম। বরং পেয়েছি অনেক । ভক্তির এক অসাধারণ পাঠ নিজের চোখের সামনে দিনে দিনে উপলব্ধি করেছি। মন ভরে গেছে সাধনার মহিমায়। শিখেছি প্রতি মুহূর্তে। জয় মা কালী বলার পরও আমি সেই মানুষ ছিলাম, যা আছি বা যা থাকবো। এ নিয়ে আমার মনে কোথাও এককণা দ্বিধা নেই। বিশ্বাসকে সম্মান করা মানুষের ধর্ম। আমি তা মাথা নত করে পালন করি। নাহ, কোথাও কারো কাছে আমার এ কথা বলতে লজ্জা হয় না।



715 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ মোচ্ছব  বুলবুলভাজা  উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮ 
শেয়ার করুন


Avatar: Samir Das

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

ভালো লাগলো পড়ে।
Avatar: aranya

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

ভাল লেখা
Avatar: সিকি

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

ভালো লাগল না। এই বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীতে আমার অবস্থান, সেইজন্য।
Avatar: খ

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

সিকি দুঃখ দেবার জন্য বলে নি। আধ্যাত্মিকতা , পূজার্চনা পদ্ধতি সম্পর্কে হয়তো শ্রদ্ধা করা ওর পক্ষে মুশকিল তাই বলেছে। লেখিকা যেন আরো লেখেন। ডিসকারেজড না হন, কারণ ট্রমা টা ক্লিয়ারলি বিট অফ আ বার্ডেন। লিখুন। কারণ লেখাটা জরুরী। খ

Avatar: de

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

যার যার উপলব্ধি তার তার নিজস্ব -

আজকাল উপলব্ধিগুলোকে নোট করি - এতো ভ্যারাইটি আছে বলেই তো এতো সুন্দর!

আমার ভালো লেগেছে -
Avatar: Kaushik

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

আপনাদের মতন মানুষ গুলো এখনো আছে বলেই তো ভরসা! নইলে আজ বড় বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ।

ধর্মে বিশ্বাস আমারো নেই। কিন্তু অপরের ধর্ম কে যে অশ্রদ্ধা করতে নেই, এই শিক্ষাটাই তো ভুলতে বলেছি সকলে!!
Avatar: তাপস

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

আমি ধর্মবিশ্বাসী নই, ঈশ্বরবিরোধী। ফলে ধর্মসংক্রান্ত ব্যাপারে এই লেখায় আমার আপ্লুত হওয়ার মতো কিছু নেই। কিন্তু Jinat Rehena Islam এর এই অভিজ্ঞতার দলিল অন্য প্রেক্ষিত থেকে মূল্যবান। অন্যের ধর্মবিশ্বাসকে অসম্মান না করা একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ - অপরের/বিরুদ্ধ মতকে সম্মান করার মতো মানবিক শিক্ষা ও ম্যচ্যুরিটি যে প্রক্রিয়ার মেরুদন্ড বিশেষ। সেই দৃষ্টিতে লেখাটি পড়ে বড়ো ভালো লাগলো।
Avatar: শক্তি

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

উদার মানসিকতার উদ্ভাসে আলোকিত লেখা । বিশ্বাসকে সম্মান করা মানুষের ধর্ম --ঠিক ।কিন্তু ক'জন বোঝে ।লেখিকার কলম আপন গতিতে চলুক ।
Avatar: দ

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

আমার কথাটা তাপস বলে দিয়েছেন। ধর্মবিশ্বাস এবং ধর্মাচরণের একদম উল্টোদিকে দাঁড়িয়েও জিনাতের লেখা আমার কাছে অন্য তাৎপর্য্য বহন করে। করল।

তোমার কথা আরো লিখো জিনাত। লড়াকু অস্ত্বিত্ব ছাড়াও মানুষ জিনাতের আরো কথা, অনুভব শুনতে চাই।
Avatar: রুখসানা কাজল

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

লেখাটা ত এমনও হতে পারত, সব উৎসবই আমার উৎসব !
এ ধরণের বিয়ের একটা মস্ত অসুবিধে আছে বা ছিল। মুহুর্তমাত্র আত্মীয়রা ত্যাগ করে দেয়। দুই পরিবারের সদস্যরা বিপদে পড়ে যায়। সে এক অমানুষিক নির্যাতন।
আমরা শিরদাঁড়ায় শান দিয়ে পাশে ছিলাম। ঈদে এসো বা পূজাতে যাবে --বারণ ছিলনা কোনো। বোনের মেয়ে মুসলিম বিয়ে করেছে । ছেলে হিন্দু।
কিন্তু ইদানীং দেখছি , জিজা অন্য মানসিকতায় উদ্ভাসিত । বিজেপির ফান্ডে হেলদি চাঁদা দিচ্ছে। মোটা করে সিঁদুর এবং শাখা পলা না পরলেই ঝগড়া করছে। মেয়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে।
আর কিছু বললাম না। শুভেচ্ছা জিনাত।
Avatar: aranya

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

একটা প্রশ্ন জাগে। যে কোন হিন্দু দেব-দেবী, মুসলমানের আল্লা - সবই তো আদতে কল্পিত ধারণা। অবৈজ্ঞানিক এই সব ধারণার তো বিরুদ্ধাচারণ-ই করার কথা।
এবার ধরুন, খুব ভদ্রভাবে বিরুদ্ধতা করলাম, যেমন 'গাঁজাখুরি' না বলে 'কল্পিত' শব্দ-টা ব্যবহার করলাম, তাও তো অন্যের বিশ্বাসের অসম্মান-ই করা হল।
তাহলে নাস্তিক লোকেদের কি করা উচিত - অপরের ভিত্তিহীন, অবৈজ্ঞানিক সংস্কার-কে, বিশ্বাস-কে সম্মান জানিয়ে চুপ করে থাকা?



Avatar: Atoz

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

এটা পড়তে ভালো লাগলো এইজন্যই যে এতে বহু দর্শনের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তাটি জোরালো ভাবে আছে। গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে এটাই তো প্রথমে বলা হয়, সকলে তাদের নিজস্ব রীতিনীতি আচারব্যবহার বিশ্বাস অর্চনা প্রার্থনা ইত্যাদি স্বাধীনভাবে অনুসরণ করতে পারবেন যতক্ষণ না তা অন্যের উপরে প্রত্যক্ষভাবে কোনো অধিকারভঙ্গ বা অন্যরকম ক্ষতি করছে।

অরণ্যদা র পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে একটা কথা মনে হল, বহু লোকজ বিশ্বাসই তো সেভাবে দেখতে গেলে "ভিত্তিহীন" "অবৈজ্ঞানিক", কিন্তু সেইসব বিশ্বাস ও তৎসংক্রান্ত রীতিনীতি সংশ্লিষ্ট জনজাতির কাছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত দামী আর মান্য, তাঁরা সেসব পালন করেন সুগভীর নিষ্ঠায়। তাঁদের ক্ষেত্রে কী করা হবে? নিষেধ করা হবে? বাধা দেওয়া হবে?
Avatar: Du

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

বললেই বা শুনছে কে? তার চেয়ে চুপ করে রেফারিগিরি করা শ্রেয়।বা ছোটদের বলা। আমার ছেলে ছোটবেলায় গড কে জিগানোয় বলেছিলাম ওটা একটা আইডিয়া। দেখলাম আর মাথা ঘামালো না। আমি আবার নিজেই এক সিউডো। বিশ্বাস করতে পারি না কিন্তু খুব আবেগ। সে তোমারো অসীমে , শ্যামাসঙ্গীত, মওলা, মানব্পুত্রের গল্প সবেতেই উথলে উঠি। এগুলো বোধ হয় টাইপ। অনুকুল পরিবেশ পেলে খুবই ধার্মিক হয়ে উঠতাম।
Avatar: শিবাংশু

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

স্বধর্ম, বিধর্ম,অধর্ম, ঈশ্বর, নিরীশ্বর, অস্তি, নাস্তি বিষয়গুলি নিয়ে নিজস্ব ধারণাটি তৈরি হয়েছে প্রায় অর্ধশতক জুড়ে। কাকে সম্মান করবো সেটা নিজস্ব নির্বাচন। কিন্তু কাউকেই অসম্মান করবো না সেটা ধ্রুব। কোনও দিনই ছিলনা, কিন্তু প্রতিদিনই প্রাতিষ্ঠানিক 'আধ্যাত্মিকতার' প্রতি বিরাগ-বিসম্বাদ যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে, তাতে দ্বিধায় থাকি। এদেশে কতদিন আমাদের জায়গা থাকবে, বুঝতে পারিনা।

যাবতীয় শ্রদ্ধা-ভালোবাসা এখন রাখা থাকে নিছক ইতিবাচী পার্থিবতার পক্ষে। এই লেখাটি ইতিবাচী, তাই ভালো লাগলো।
Avatar: aranya

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

'কিন্তু কাউকেই অসম্মান করবো না সেটা ধ্রুব' -

শিবাংশু-দা, আল্লা-র অস্তিত্বের প্রমাণ নেই - এটা বললেও অসম্মান হয়ে যায়। মহম্মদ-কে নিয়ে যুক্তিসঙ্গত কিন্তু নেতিবাচক কিছু বলাই যায় না, বললেই অসম্মান।
অসম্মানের পুরস্কার কল্লা কেটে নেওয়া, অনেক মুসলিম দেশেই, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর বাবু-দের পরিণতি স্মরণ করুন। অথবা ব্ল্যাসফেমি আইনে জেলবাস।

ভারত-ও সেই দিকে এগোচ্ছে। বাংলা অপেক্ষাকৃত সুস্থ আছে, অনেক রাজ্যেই হিন্দু দেব-দেবী বা পবিত্র কোন আইকন যেমন গোমাতা কনসেপ্ট, এসবের সামান্য বিরুদ্ধাচারণ করা মানেই অসম্মান এবং, আইন স্বহস্তে লইয়া শাস্তিপ্রদান।

অন্যের মতবাদ/বিশ্বাস/ভাবাবেগ-এর অসম্মান না করে বিরুদ্ধাচারণ করা কি আদৌ সম্ভব? এটাই আমার প্রশ্ন।

আর একটা কথা মনে হয়, এই যে 'প্রাতিষ্ঠানিক আধ্যাত্মিকতা'-র প্রতি বিরাগ, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আধ্যাত্মিকতা কিন্তু হাত ধরাধর করে চলে এবং একে অপরকে মজবুত করে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই।

ধরুন, যারা মন্দির, মসজিদে যান, তারাই নিজগৃহে ধর্মাচরণ করেন অ্যান্ড ভাইসি ভার্সা - এটাই কি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্য নয়?

একটার বিরোধিতা করব, অন্যটার ক্ষেত্রে সম্মান জানিয়ে নিশ্চুপ থাকব - এটা কি ঠিক?
Avatar: aranya

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

এবং দু-এর কথা একেবারে ঠিক - 'বললেই বা শুনছে কে?'।
বরং বললে কল্লায় কোপ না পড়লেও তিক্ততা বাড়ে। আলোচনার মাধ্যমে মন পরিবর্তন - এ যেন একটা প্রায় আকাশকুসুম স্বপ্নের মত। যত আলোচনাই হোক, যে যার মতে অনড় থাকে
Avatar: Du

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

গৌরী লংকেশ, দাভোলকর
Avatar: aranya

Re: আমার কোনো উৎসব নেই

হ্যাঁ, অবশ্যই - গৌরী, দাভোলকর।
সংখ্যাটা ভারতে এখনও কম, প্রতিবেশী বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের চেয়ে, এবং বিজেপি-র মসনদারোহণের পরবর্তী ঘটনা, তবে সেটা কোন সান্ত্বনা নয়


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন