বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

একটি পরীর মৃত্যু

দীপ্তেন

ছােট্ট পরী বড় বড় চোখ করে তাকায় 'তােমার মন খারাপ?'

'আমার আর চাকরি নেই। আজ থেকে... ছুটি।'

'বাঃ । কী ভালাে হলাে। আমরা আরাে গল্প করবাে। না?'

'কোথায় থাকবে পরী। আমাকে তাে এই অফিস ছেড়ে চলে যেতে হবে।'

'ওহ' একটু চিন্তায় পড়ে পরী। যখন চিন্তা করে পরী তখন তার রং হয় বেগেনেটে আর কেমন একটা সামুদ্রিক সৌগন্ধে ভরে যায় অশােকের কামরা। থির থির করে কাঁপতে থাকে পরী -অশােকের মুঠি ভরে ওঠে মখমলী ভায়ােলেট রঙে। চোখে মুখে ছিটে লাগে আর কানের কাছে শােনে গভীর সমুদ্রের দীর্ঘশ্বাস। কোন অলৌকিক বেলাভুমিতে আছড়ে আছড়ে পড়ছে ঢেউ'র ব্যার্থ ছোবল। শ্যাওলার আঁশটে গন্ধ।

'তােমার ব্যাগে থাকবাে আর রাত্রিবেলা, যেমন নিয়ে যাও আর নিশুত রাতে আমাকে বারান্দায় নিয়ে যাবে - আমরা কালাে আকাশের নীচে দাঁড়াবো আর মিটমিটে তারাদের ঝিকমিকি আলাে পান করবাে। কেমন?'

আরও পড়ুন...

গোবরের টেরাকোটা

নলিনী বেরা

নদীতে মৎস্য শিকার, অন্ধকারে নদীজলে টর্চের আলো ফেলে মাছ ধরার সে এক অদ্ভুত কৌশল। টর্চের নীলাভ আলো মাছের চোখে পড়লে জলেও খালবিলে মাছ স্থির হয়ে যায়। নড়তে চড়তেও পারে না আর। তখন ঝোপ বুঝে কোপ মারলেই হলো। কেউ কেউ তো তলোয়ারের কোপ মেরেই মাছটাকে করে ফেলে দু'টুকরা, নদীজলে রক্তারক্তি কাণ্ড। শশাঙ্ক বেহেরা অতোটা আবার নিষ্ঠুর নয়। টর্চের ফোকাস মাছের উপর ফেলে রেখে অন্য হাতে মাছটাকে খপ করে তুলে নেয় সে। তার যে জীবন্ত ধরাতেই আনন্দ। এই কিছুদিন পূর্বেও সুবর্ণারেখা নদীতে ইলিশ উঠত। খান্দারপাড়া গ্রামের ঝড়েশ্বর পানী আর মাধব পানী দুই ভাই, নদীবুকে পাটায় দাঁড়িয়ে দিবারাত্রি অষ্টপ্রহর জাল ফেলত। দিনে তাদের গড়ে বত্রিশটা ইলিশেরও রেকর্ড আছে। এখন সে দিনকাল আর নাই। জিজ্ঞাসা করলে তারাও তেরচা করে বলে "আঘু তভু অনেক ইলশা উঠতায় সুবনরেখায়। অখন সে ইলশা কুবে আছে জানু?কলকাতায়!"

আরও পড়ুন...

মরণখোর

মাহবুব লীলেন

কেউ কেউ প্রায় ভিডিও করে বসে প্রত্যেকটা ফ্রেম। একেক ক্লিকে দশ বারোটা ছবি। অন্তত একটা হলেও শার্প ফোকাস তো পাওয়া যাবে। কেউ সাবজেক্টের ডানে বামে উপরে নিচে নড়েচড়ে ফ্রেম ঠিক করতে না পেরে যেন গাছকেই বলে বসে- বাবা একটু ডান দিকে সরলে আলোটা ভালো করে পাবি। কেউ পাখির ছবি তোলার জন্য পাখির কাছে যেতে যেতে পাখিটাই উড়িয়ে দেয়। কেউ সতর্কভাবে খেয়াল রাখে অন্যদের আবিষ্কার করা পজিশন আর ফ্রেমে; তারপর সেখানে গিয়ে মারে কয়েকটা ক্লিক। কেউ কনফিউজড। কারো দৃষ্টি সুন্দরবনের ক্ষুদ্রপ্রাণ; ক্ষুদ্র কীট- এক আংটাওয়ালা ক্ষুদ্র লাল কাঁকড়া- লাফানো মাছ- শামুক। কেউ বারবার এর তার মনিটরে চোখ দিয়ে মিলিয়ে নেয় অন্যের ছবির সাথে নিজের ছবির ভালোমন্দত্ব। কারো ক্যামেরা বিশাল বনকে ঝাপসা রেখে শুধু তুলে আনে কয়েক ইঞ্চি দৈর্ঘ্য প্রস্থের একেকটা টুকরা...

শুধু নয়নের কোনো তাড়াহুড়া নেই। ফ্রেম খোঁজে না। সাবজেক্ট খোঁজে না। ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে সে আশপাশে তাকায়। দেখে। হাঁটে। তার চোখে ধরা পড়ে গাছের পাতার ফাঁকে বসে থাকা ছোট পাখি। তার চোখে ধরা পড়ে দূরে কেওড়া গাছের নিচে হরিণের নড়াচড়া। তার চোখে ধরা পড়ে কাদার মধ্যে মিশে থাকা থাবা খাওয়া হরিণের রক্ত। ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে নয়ন শুধু দেখে আর হাঁটে আর কী যেন খোঁজে...

আরও পড়ুন...

যে গল্পগুলো ঘরে ফেরে না

মোজাফফর হোসেন

ধ্যান করার প্রথম ও প্রধান কারণ হল নিজের চারপাশে ভ্যাকুয়াম বলয় সৃষ্টি করা। নিজের সত্তাকে ট্রানসেন্ড করানো মানেই হচ্ছে তাকে শব্দের জগত থেকে বের করে আনা। এবং আত্মা যখন ট্রানসেন্ড করে তখনই তো আমরা শরীর ধরে কান্নাকাটি করি! আমরা যাকে মৃত্যু বলি সে শুধু দেহেরই ঘটে। আমাদের ভালোবাসা কেবলই বস্তুকে ঘিরে। মানুষের যদি বাদুড়ের মতো দৃষ্টি না থাকতো তাহলে দৃশ্য বা বস্তুর আবেদন অনেকখানি কমে যেত; এক্ষেত্রে সৃষ্টির সেরা জীব হত বানর গোছের কিছু একটা।

আরও পড়ুন...

মামা ফকিরের কেরামতি

রুমা মোদক

কবে থেকে মামা ফকিরের এই কেরামতি , গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক বৃদ্ধ মানুষটি জানান, যেদিন নোয়াখালিতে বাবুজি মহাত্মা গান্ধী আসেন আর মালগাড়ী কামরাভর্তি করে মরা মানুষ এনে ভৈরবের মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার খবর বাতাসে উড়তে উড়তে এই গ্রাম পর্যন্ত এসে পোঁছেছিল সেদিন কাকডাকা ভোরে মামা ফকির প্রথম আগুন আগুন! বলে চিৎকার করে। তার দৃষ্টি ছিল রায়বাড়ি বরাবর। গ্রামবাসী পরদিন ভোরে অবাক বিস্ময়ে দেখে রায়বাড়ির উত্তরাধিকার বাবু মহেন্দ্র নারায়ণ রায়, (এমএ ডিস্টিংশন, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)-এর রক্তাক্ত দেহ তুলসিতলায় পড়ে আছে আর নাটমণ্ডপ সিন্দুক ভর্তি কাঁসার বাসন-কোসন, লক্ষনৌ থেকে আনা সেতার সব সুসজ্জিত রেখে তার পরিবারটি রাতের অন্ধকারে ভারত পালিয়েছে।

আরও পড়ুন...

তুমিও

সৃজিতা সান্যাল শূর

প্লেটে রুটি দিয়ে চেয়ার টেনে বসতে বসতে অদিতি বলল, "সত্যি কথা! এরকম হবে আমি ভাবিনি, কি করে করছে বলো তো মেয়েগুলো ? এরকম তো আকছারই হয়ে এসেছে। এত বাড়াবাড়ির সাহস পাচ্ছে কি করে এরা?" "এটাই তো ! দ্যাখো, কাউকে ভাল লাগলে তো আমরাও অ্যাপ্রিশিয়েট করি টরি। তোমাকে বলে না কেউ? বৌদি কি দারুণ লাগছেন। ছেলেপুলে একটু আধটু কবে ফ্লার্ট করেছে, তাতেও তুমিও তুমিও করে লাফাচ্ছে।" প্রবাল একটা চামচ তুলে নেয়।

"হ্যাঁ। আমিও এটাই ভাবছিলাম জানো। " অদিতি মুখ খোলে। " তোমার শিপ্রাকে মনে আছে? সেই যে আমার মণিপিসির মেয়ে। ঝুনুর বিয়েতে তোমরা দেখেছিলে। অনেক বছর আগে। ভোলোনি হয়ত। অমন চটকদার চেহারা আমাদের কারো ছিল না। বিয়ের দিন , তুমি আর জামাইবাবু খুব অ্যাপ্রিশিয়েট করেছিলে ওকে। চওড়া পিঠের ব্লাউজ পরেছিল আর টপনট। ঘন্টাখানেক পরে দেখলাম চুল খুলে পিঠে ছড়ানো। তোমাদের টানা অ্যাপ্রিশিয়েশানে বেচারির একটু সমস্যাই হয়েছিল। কেঁদে অস্থির হয়ে গেছিল। ছেলেমানুষ তো, মানে লেগে্ছিল ওর। কিন্তু দ্যাখো , কেউ কিছু জানতে পেরেছে?

আরও পড়ুন...

পুজোর কবিতা

তৃতীয় পর্ব

মঞ্চে প্রবিষ্ট অভিনেতার ওপর কবি তো আলো ফেললেন, সে আলো পাঠককে চিনে নিতে সাহায্যও করলো কী সেই অদম্য প্রকাশবাসনার উৎস, কী সে বক্তব্য যা না বলে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে কবির পক্ষে। কিন্তু সেখানেই কি কাজ শেষ হলো? এই জায়গায় এসেই সম্ভবত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় আত্মজিজ্ঞাসা। সাধারণভাবে কবিতা কেন লেখা হচ্ছে এই বিষয়ে আমরা কথা বললেও এখনও পর্যন্ত একটি বিশেষ কবিতা কেন লেখা হচ্ছে সেকথায় আসিনি। "নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ" সৃষ্টি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন চোখের ওপর থেকে পর্দা সরে যাওয়া, লিখেছিলেন "বিষাদের আচ্ছাদন" ভেদ করে আলোর প্রবেশের কথা (জীবনস্মৃতি)। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই ঘটনার উল্লেখ করে লিখেছিলেন ঐ বিষাদের আবরণ বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া - কবির এই উপলব্ধির কথা মনে রাখলে “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের” বিস্ফোরণ বহুগুণে স্পষ্ট হয়। এই চমৎকার উদাহরণে আমাদের কাছে দুটো ব্যাপার স্পষ্ট হয়। কবিতা লেখার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা আমাদের চোখ খুলে দেয় অন্যতর অর্থের দিকে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আত্মজিজ্ঞাসা ও সততা। যে বিষাদ বা আনন্দের প্রকাশে কবিতা লেখা হচ্ছে, সেই প্রকাশ কতখানি কবির নিজস্ব, কতখানি আরোপিত সেই অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি না হয়ে তাঁর উপায় নেই। উপায় নেই কবিতা যে ব্যাপ্তি দাবি করে তা এড়ানোর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যে কবিতা নিয়ে উদ্বেল হবে সেই কবিতা লিখতে গেলে নিজের মধ্যে যেমন ডুব দেওয়া চাই, তেমনি নিজের বাইরে বেরোনোরও দরকার আছে। দরকার আছে আবেগের সাথে দূরত্ব তৈরী করে, ধীরভাবে সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশের। আমাদের আশা প্রথম দুই পর্বের মত তৃতীয় পর্বের কবিতা সংকলনেও সেই বহিঃপ্রকাশ পাঠক আবিষ্কার করবেন।

লিখেছেন - শৌভ চট্টোপাধ্যায়, মজনু শাহ, বোধিসত্ত্ব সেন, রামিজ আহমেদ, শাকিলা তুবা, তনুজ সরকার, ঈশিতা ভাদুড়ী, অনিকেত মৃণালকান্তি, অর্পিতা আচার্য্য, বুবুন চট্টোপাধ্যায়, দুর্জয় আশরাফুল ইসলাম, রুদ্রদীপ চন্দ, মাজুল হাসান, শ্ব, মিঠুন ভৌমিক।

আরও পড়ুন...

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় সামাজিক কুপ্রথার পালন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা, উদযাপন

গুরুচণ্ডা৯র বিতর্কসভা

উৎসব টুৎসব মিটল, এবার কথাটা বলা যাক। প্রতি বছর পুজো এলেই দুমদাম করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় মহালয়া থেকে। হরেক রকম বিষয়ে। যেমন ধরুন, পিতৃপুরুষের তর্পণের দিনকে শুভ মহালয়া বলা উচিত কি উচিত না। ঐতিহ্যগতভাবে কেউ শুভ মহালয়া বলেননি কখনও, কিন্তু হতেও পারে, ধর্মীয় চিহ্নগুলিকে বাদ দিয়ে উৎসব স্রেফ ফুর্তিতে পরিণত হচ্ছে। তার পরই আসে কুমারী পুজো। বাচ্চা একটি মেয়েকে সাজিয়ে গুছিয়ে পুজো করার মধ্যে অনেকে পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছু দেখতে পাননা। উল্টোদিকে এর তীব্র বিরোধীরা ধর্মীয় কুপ্রথার পুনর্নবীকরণ দেখতে পান। পুজো গড়ায়, বিতর্কও গড়ায়, এবং দশমীতে এসে চরমে পৌঁছয়। দশমীর পেট টপিক সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলা কি স্রেফ নান্দনিক ফূর্তি, নাকি নারীর বশ্যতার প্রতীক? এইসব নানা ব্যাপার।

মজা হচ্ছে, রেডরোডের কার্নিভ্যালের সঙ্গে এইসব বিতর্কও গঙ্গা পদ্মার জলে ভেসে যায়। দশমীর পর আবার সব ভাব-ভাব-ডাব-ডাব। দেখলে মনে হয়, এই খুচরো বিতর্কও যেন পুজোরই অংশ। হতেই হবে, নইলে মজা মাটি। তা, বেশ ক বছর ধরে দেখে দেখে আমরা আর এই হুজুগকে ফসকে যেতে দিতে রাজি নই। যথেষ্ট হয়েছে, আমাদের চাই পিঠের ভাগ। বিশেষ করে পুজো সংখ্যায় নানা লেখা আমাদের যখন বেরিয়েই চলেছে।

এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যেই গুরুচণ্ডা৯ আয়োজন করেছে এই বিতর্কসভার। পাঠকেরা জানিয়েছেন তাঁদের মতামত, যারা পক্ষে, যারা বিপক্ষে, এবং যারা মেরুকরণের বিপ্রতীপে কোন নির্দিষ্ট পক্ষ নিতে অনাগ্রহী।

প্রকাশিত হলো নির্বাচিত লেখাগুলি।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক

আরও পড়ুন...

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় সামাজিক কুপ্রথার পালন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা, উদযাপন

পক্ষে

মতামত দিয়েছেন - পূবালী দত্ত, সায়ক দত্ত, দ্বৈপায়ন মজুমদার, মৃণালকান্তি দাস এবং জারিফা জাহান।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক

আরও পড়ুন...

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় সামাজিক কুপ্রথার পালন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা, উদযাপন

বিপক্ষে

মতামত দিয়েছেন - যশোধরা রায়চৌধুরী, জয়া চৌধুরী, রৌহিন ব্যানার্জ্জি, অচল সিকি, সৌভিক ঘোষাল।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক

আরও পড়ুন...

বিতর্ক - আমাদের উৎসব ধর্মীয় কুপ্রথার উদযাপন নয়, এ নেহাত নান্দনিক ফূর্তিফার্তা

অপাক্ষিক

উৎসব টুৎসব মিটল, এবার কথাটা বলা যাক। প্রতি বছর পুজো এলেই দুমদাম করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় মহালয়া থেকে। হরেক রকম বিষয়ে। যেমন ধরুন, পিতৃপুরুষের তর্পণের দিনকে শুভ মহালয়া বলা উচিত কি উচিত না। ঐতিহ্যগতভাবে কেউ শুভ মহালয়া বলেননি কখনও, কিন্তু হতেও পারে, ধর্মীয় চিহ্নগুলিকে বাদ দিয়ে উৎসব স্রেফ ফুর্তিতে পরিণত হচ্ছে। তার পরই আসে কুমারী পুজো। বাচ্চা একটি মেয়েকে সাজিয়ে গুছিয়ে পুজো করার মধ্যে অনেকে পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছু দেখতে পাননা। উল্টোদিকে এর তীব্র বিরোধীরা ধর্মীয় কুপ্রথার পুনর্নবীকরণ দেখতে পান। পুজো গড়ায়, বিতর্কও গড়ায়, এবং দশমীতে এসে চরমে পৌঁছয়। দশমীর পেট টপিক সিঁদুর খেলা। সিঁদুর খেলা কি স্রেফ নান্দনিক ফূর্তি, নাকি নারীর বশ্যতার প্রতীক? এইসব নানা ব্যাপার... মতামত দিয়েছেন - শুচিস্মিতা, সুমন মান্না, সৃজিতা সান্যাল শূর এবং সম্রাট আমীন।
পক্ষে | বিপক্ষে | অপাক্ষিক

আরও পড়ুন...

অথ বিবাহ-কথা

স্বাতী রায়

মালতীর বাড়ীতে এক তুতো দিদির বিয়ে। বিয়ে বাড়ীর লাখো কথা, হট্টগোল, খাওয়া-দাওয়া, আত্মীয়-কুটুম সে এক এলাহি ব্যাপার! কিন্তু সব ছেড়ে মালতীর চোখ পড়ল দুটো জিনিসে। প্রথমতঃ বিয়ের সব দায়িত্ব দিদির বাবা-মা’র অথচ বিয়ের কার্ডটি বাড়ীর এক অনুপস্থিত দাদুর ( বাবার জ্যাঠামশায়ের ) নামে। আশ্চর্য এই কারণে যে যৌথ পরিবার হলেও নাহয় কথা ছিল – কিন্তু সেসবের পাট চুকেছে বহুদিন আগে। এখন সব যার যার নিজের সংসার। তাই দিদির রোজকার খাওয়া-ঘুম-পড়াশোনার দুনিয়ায় তিনি কোথায়? অথচ এটাই নাকি নিয়ম! আর সেই প্রসঙ্গে শোনা গেল, দিদিকে সম্প্রদান করবেন দিদিরই আরেক প্রবাসী জ্যেঠু। এ তো আরও বড় অনুপপত্তি!

আরও পড়ুন...

ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য

ওঝা যদি ভূত ঝাড়ায়, তো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পুলিশকে দেখতে হবে যে সে টাকা নিয়েছিল কিনা (সে ক্ষেত্রে ৪২০ ধারা চলবে) বা মারধোর করেছে কিনা (সেক্ষেত্রে হয়ত ৩২৩ ধারা দেওয়া যাবে)। কারণ, 'ভূত ছাড়ানো' ব্যাপারটাতে তো আর এমনিতে কোনও আইনি বাধা নেই!

আরও পড়ুন...

যেমন করে নিষেক হয়

বিপুল দাস

অ্যায় ফুলো কে রানি বাহারো কে মালকা। পশ্চিমে পি ডাব্লুর পেছনে মহানন্দার জলে ঝপ করে সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ আলো থাকে। সেই আলোতে সব দেখা যায়, কিন্তু ছায়া পড়ে না। গান শেষ হলেও সুরটা জড়িয়ে কথাগুলো কিছুক্ষণ আধো আলো আধো অন্ধকারে ভেসে বেড়ায়। আমরা সবাই অস্পষ্ট দেখি সাধনার কপালের সামনে ঝুরো চুল বাতাসে উড়ছে।

আরও পড়ুন...

মহাভারত ও ইন্টারনেট বিপ্লব - একটি অসম্পূর্ণ প্রস্তাবনা

অনমিত্র রায়

এইভাবে হাজার লেখালিখি ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং-উত্তর চক্রাকারে একই যুক্তির বারংবার সম্মুখীন হয়ে চলার হতাশাতেই অর্জুনপুত্র অভিমন্যু নিজের কুরুক্ষেত্র অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভেট করতে বাধ্য হয়। তার পর মনের দুঃখে সে অধুনা হরিয়ানার আমিন গ্রামের কাছে দুর্গ বানিয়ে একা একা থাকতে শুরু করে। আর কোনোদিন সে কোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রোফাইল খোলেনি।

আরও পড়ুন...

আমার পুজো

অরুণকান্তি দাস

আমি যখন অষ্টম বা নবম শ্রেণীর ছাত্র তখন আমাদের গ্রামে প্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো হয়। আমাদের কাজ মূলত: ছিল কর্মকর্তাদের ফরমাশ খাটা - বাজারের জিনিসপত্র বয়ে আন রে, মণ্ডপঘর পরিষ্কার কর রে, আঙিনা ঝাঁট দে রে ইত্যাদি । এতে ঠিক পুজোর আমেজ ছিল না । মনে এই ভাব জাগতো, "পুজো তো বড়দের ব্যাপার। আমাদের কি?" তবে ওই দূর্গাপুজোর দুটো ব্যাপার মনে আছে এখনো । এক, পদ্মফুল আনার গল্প । দুই কাকুর সাথে আমরা কমবয়েসী দুজন গিয়েছিলাম ধোয়া চাদর নিয়ে পদ্ম তুলতে । চাদরে পোটলা বেঁধে ফুল ভর্তি করে নিয়ে এসেছিলাম। আর মনে আছে আমার এক পিসতুতো বোন, নাম ছিল ডলি, প্যান্ডেলের সামনে আরতি নেচে আরতি করেছিল। দুটো পদ্ম ফুলের মধ্যেকার পদ্মচাকি ফেলে দিলে একটা ঝুমকোর মতো দেখায়। ওর সাজগোজ হয়ে যাবার পর দুটো পদ্মের ঝুমকো ও কনুই-এর ওপরে পদ্ম দিয়ে একটা গয়নার মতো বেঁধে দিয়েছিলাম।

আরও পড়ুন...

আত্মানং বিদ্ধি

মাভৈঃ

যে লোকালয়ে তোমার বাস, গ্রামে বা নগরে, যেখানে তোমার সামাজিক পরিচিতি বিদ্যমান, সেইখানে তুমি পিঞ্জরাবদ্ধ শের। অনিশ্চয়তা বিহীন সেই কৌমজীবনে তুমি আবাল্য অভ্যস্ত। অতএব তোমার হারাইবার ভয় নাই। চিন্তা নাই। এই চিন্তার অভাব তোমার পরিধি নির্ণয় করে, তোমাকে সীমার মাঝে বাঁধিয়া ফেলে, ক্রমে তুমি অসীমকে ভুলিয়া যাও, নিজেকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করিতে করিতে জন্মসংসারের নাগপাশে আবদ্ধ হইয়া গোলকধাঁধায় ঘুরিয়া মর। মুক্তির স্বাদ যে ভুলিয়াছে, মোক্ষ তাহার রুচিবে কেমনে?

আরও পড়ুন...

সিঙ্গালিলা ন্যাশানাল পার্কে স্বনির্ভর অভিযান

গৌতম মিস্ত্রি

কিন্তু একমাত্র পায়ে চলার পথে বরফের প্রলেপ সুখকর নয় মোটেই। পা পিছলে যায়, পথের কাদায় জুতো ভিজে যায়। তার উপরে অসভ্য ইয়াকের যাওয়া আসার ফলে রাস্তাটা সভ্য মানুষের উপযুক্ত নেই। আমরা কাদা বাঁচিয়ে, আছাড় খাওয়া সামলে, হাঁপাতে হাঁপাতে উপর-পানে গুটি গুটি চলেছি। সেই ক্লেশের পথে মনোহরণ বিরাম হিসাবে পথের দু'ধারে লাল হয়ে যাওয়া রডোডেন্ড্রনের সারি না থাকলে হিমালয়ের অন্দরমহলে পাগল পানা লোকজন আধপেটা খেয়ে ঘুরে মরত না।

আরও পড়ুন...

রুপিন নদীর পাশ দিয়ে, রুপিন পাস্ পেরোনো

সরসিজ দাসগুপ্ত

তিনদিন হাঁটবার পর, এমনস্থানে পৌঁছনোর কথা, যেখানে খচ্চরের পক্ষেও রাত্রিবাস সম্ভব নয়। অতএব, ওই প্রচন্ড শীতকে মোকাবিলা করবার মতন শীতবস্ত্র আমাদের সঙ্গে রাখতেই হবে। মোটের ওপর এইসমস্ত বিষয়, এবং, এর সাথে সাথে, কিছু হাঁটবার, বিশ্রাম নেওয়ার, ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার ব্যাপারে অবগত হওয়ার পওকে উনিশে অক্টোবর দশমীর সকালে, আরম্ভ হলো, আমাদের রুপিন পাস্ ট্রেক। এবং, ওই তখন থেকেই, সভ্যতার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ!

আরও পড়ুন...

তাগাথাং, মূলখারকা

স্বাতী রায়

আমরা ঝটপট শহুরে ক্লেদাক্ত জামাকাপড় ছেড়ে ফেলে টুপি-মোজা-জ্যাকেট সম্বলিত হয়ে চল্লুম রান্নাঘরের পানে, সেখানে তখন অপেক্ষা করছে গরমাগরম মোমো আর কফি। সেই সন্ধ্যায় আমরা দু'রকম জায়গার চারজন মানুষ গল্প করতে করতে কখন একাত্ম হয়ে গেছিলাম টের পাইনি। হুঁশ ফিরলো জীবন দা, যে কিনা এই হোমস্টের মালিক তার কথায়। 'এখানে অনেক গেস্ট আসেন, কিন্তু সেরকম কোনো সাইট সিইং, বাজার-মল, সিনেমা হল এসব কিচ্ছু না থাকায় ফিরে চলে যান একদিন বাদেই।' হায়রে Mall, Hall ও কোলাহল প্রেমী বাঙালী, প্রকৃতির কাছে এসেও প্রকৃতিকে না ছুঁয়ে সেই গতানুগতিক "এখানে দেখার কী আছে"?

আমাদের এখানে একদিন থেকে পরদিন মূলখারকা চলে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তাগাথাং ঢুকেই আমরা ঠিক করে ফেলেছিলাম একদিনে আমাদের মন ভরবে না।

আরও পড়ুন...

বিনায়করুকুর ডায়েরি

বিনায়করুকু

আমি রুকু বিনায়ক। সবাই বলে আমি বুদ্ধু। ভোঁদাই। মা আমাকে গাধা বলে না মুনা বলে। পাপা বলে পুচাই। আমার দুটো হাত,দশটা হাতের আঙ্গুল,দুটো চোখ আছে,যা দিয়ে আমি ছবি আঁকা। পাপা মা বলে আমার অটিজম আছে। অটিজম কী আমি জানিনা। তবে আমি একটু কেমন যেন।
আমার গাড়ীর চাকা,টেবিল ফ্যান,ছোট ছোট রবারের পুতুল ,রং,তুলি পেন্সিল ভালো লাগে। আমি লাফাতে ভালোবাসি। এ দেয়াল থেকে ও দেয়াল। সব দেয়ালে হাতের চাপ,সব দেয়ালে সর্দি,নাকের পোঁটা লাগে। মা বলে যাতা। আর মোছে।
এই শিশুদিবসে বিনায়করুকু গুরুচণ্ডা৯কে ছাপতে দিয়েছে তার ডায়েরির কিছু পাতা, বেড়ানোর গল্প, আর ছবি। বিনায়করুকুর সঙ্গে একটু বেড়িয়ে আসি এদিক ওদিক।

আরও পড়ুন...

কালীপ্রসাদী হাঙ্গামা : কলকাতা কাঁপানো কেচ্ছা

দীপাঞ্জন ঘোষ

বাঙালিরা, বিশেষ করে শহর কলকাতার উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত বাঙালি নিজেকে উদার এবং সহিষ্ণু বলে গর্ব অনুভব করে। সেটা খুব একটা মিথ্যেও নয়, কারণ অন্য জাতে বা ধর্মে বিয়ে করার মতো যেসব কান্ড ভারতের অন্যান্য জায়গায়, বিশেষ করে তথাকথিত গোবলয়ের মতো জায়গায় হলে গোলযোগের চূড়ান্ত হত, সেসবও কলকাতায় হামেশাই হয়ে থাকে। এই উদাতার অনেকটাই আসলে বাঙালি নবজাগরণের ফল, যার নেতৃত্বে ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং রাজা রামমোহন রায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা| স্বাধীনতা-উত্তর যুগেও বিশেষ করে ৩৪ বছরের নাস্তিক, কমিউনিস্ট শাসনও রাজনীতিতে জাত-পাত যাতে না ঢোকে তার শক্তপোক্ত বন্দোবস্তো করেছিল। কিন্তু, বলাবাহুল্য, অবস্থা চিরকালই এমন ছিল না| উনবিংশ শতকের শুরুতে, কলকাতা যখন টানা পশ্চিমী প্রভাবের আওতায়, তখনও, হিন্দু সমাজ, এমনকি কলকাতার হিন্দু সম্প্রদায়ও ছিল ভয়ংকরভাবে রক্ষণশীল। আর এই সময়েই ঘটেছিল শহরের বৃহত্তম কেচ্ছাটি। কালীপ্রসাদী হাঙ্গামা নামে কুখ্যাত এই কেলেঙ্কারিটির জল গড়িয়ে গিয়েছিল বহুদূর। এতে জড়িয়ে গিয়েছিল শহরের অনেক নামীদামী পরিবার, জল গড়িয়েছিল নানা ধর্মের উপাসনাস্থলে, যার মধ্যে কলকাতার বিখ্যাত হিন্দু মন্দির কালিঘাটও ছিল|

আরও পড়ুন...

কলকাতার পুজোর ইতিবৃত্ত

অরিজিৎ গুহ

বাংলায় দুর্গাপুজোর প্রচলনের ইতিহাস বহু পুরনো। মোগল আমল থেকেই। রমেশ শাস্ত্রী মহাশয়ের পরামর্শে রাজশাহী জেলার তাহেরপুরে রাজা কংসনারায়ণ ষোড়শ শতাব্দীতে সাড়ে আট লক্ষ টাকা ব্যয় করে প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রচলন করেন। পরে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজশাহী জেলারই ভাদুড়িয়ার রাজা জগৎনারায়ণ প্রায় ন'লক্ষ টাকা ব্যয় করে বাসন্তী দুর্গোৎসব করেন। তারপর থেকে বিভিন্ন হিন্দু রাজা ভুঁইয়ারা এই দুই পুজো আরম্ভ করেন। আস্তে আস্তে শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলার গ্রামসমাজের একটা লোকোৎসবে পরিণত হয়। সেই সময়ের যৌথ পরিবারের একটা মিলনোৎসব ছিল এই দুর্গা পুজো। যেখানে যারা যারা থাকত সবাই এসে মিলিত হত এই পুজো উপলক্ষ্য। প্রথমে হত পারিবারিক মিলন সমাবেশ, তারপর গ্রামের সকলেরই সেই পুজোতে সারা পড়ে যেত। প্রত্যেকেই কেউ না কেউ কোনো না কোনো কাজের দায়িত্ব নিয়ে নিত তা পুজো যার বাড়িতেই হোক না কেন। উৎসবের সেই পরিবেশে ওই একটা দিনের জন্য যেন জাতপাতের বাধনটা কিছুটা হলেও শিথিল হয়ে যেত। পরবর্তীতে এই যৌথতা থেকেই বারোয়ারি পুজোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়।

আরও পড়ুন...

বাজি-বেত্তান্ত

তাপস দাস

ভুঁইপটকা ছিল দেওয়ালে বা মেঝেয় ছুঁড়ে মারার জন্য - জোর আওয়াজ। কম্বাশন বাই প্রেশার, অর্থাৎ ভুঁইপটকা আর পেটোর মশলায় তফাৎ ছিলো না কোনো, পুলিশ তাই বেআইনি করে দেয়। এবছরে, আশ্চর্য, আবার সেগুলিকে বাজারে দেখছি, তা প্রায় তিরিশ বছর বাদে। চপেরই মতো, পেটো ইন্ডাস্ট্রিও কি কুটির শিল্প হিসাবে সরকারি তকমা পেলো তাহলে?

আরও পড়ুন...

শাকান্ন কথা

পার্থসারথি গিরি

রঞ্জনরা ফিরে আসার পর বাবুর বাড়ির ছেলে দুপুরে খেতে বসেছে। হ্যাঁ ঠিক, এ একেবারে ধ্রুব যে, জীবনের শেষ সুখাদ্যটি আমি সেদিন রঞ্জনের জননীর হাতে খেয়েছিলাম। অথচ গৃহস্বামীর কী কুণ্ঠা!
"এ মানুষে খায় নাকি? এ তো আমরা খাই। এ তুমি কী করিকি খাব গো?"

কাদা কাদা ভেজা মাটির ওপর পেতে দেওয়া রঞ্জনের মায়ের পরণের শাড়ির ওপর খেতে বসেছে তিনটি মানুষ। সামনে গালে হাত রঞ্জনের মা।

লাল আকাঁড়া ডুমোচালের ফেনাভাত। ঝড়ে ভেঙে পড়া পেঁপেগাছের ডগার কোঁড়ের তরকারি। তেঁতুলফুল পাতার চচ্চড়ি আর ডোবা-ভাসা ধেনো চিংড়ির টক। এই মাত্র খাদ্যতালিকা। চিরজাগরুক অমৃতের জিহ্বাস্নান।

স্বাদ কী বস্তু? রন্ধনশৈলী কেমন হলে স্বাদকে জাপটে ধরা যায়? রন্ধন কাকেই বা বলে?

আরও পড়ুন...

আমার কোনো উৎসব নেই

জিনাত রেহেনা ইসলাম

'বেজাতে' বিয়ে বলে নিজ মহল্লায় দামামা বেজেছিল। পাত্র ডাক্তার এই কথাটা কর্পূর হয়ে 'হিন্দু ছেলে' এটাই প্রচার হয়েছিল। তো, এই কালী পুজো নিয়ে আমার এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কালীমা আমার প্রতিদিনের। ছাত্রজীবন থেকে কলেজ টানা সময় জুড়ে আমায় 'মা কালী' বলে পথে ঘাটে ডেকে দিত কেউ। অবশ্যই পুরুষকণ্ঠ। কখনো পেছন ফিরে দেখিনি। দেখতে নেই এটাই ছিল পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা। তখন অবশ্য আমি খুব ভয় পেতাম এই ডাকে। লজ্জা হত খুব। কী এমন আছে এই চেহারায়? নিজের মাও মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলতেন, আমার পেটের মেয়ে এমন কালো কীকরে?বুঝতাম না এই সমাজে মেয়েদের কেন কালোরঙ হওয়া বারণ ? কেন এত নেগেটিভ? তারপর মাথায় সিঁদুর চড়ানোর পর আমায় কেউ কোনদিন 'মা কালী' বলে ডাকেনি। সিঁদুর ছাড়ার পরও। জানিনা, বিবাহিত মেয়েদের বুঝি সব মাফ। ধীরে ধীরে নিজের গায়ের রং ও চেহারার সঙ্গে কম্ফর্টেবল হয়ে গেলাম। নিজেকেই ভালবেসে ফেললাম।

বিয়ের আগেই জানতাম আমার স্বামী কালীভক্ত। বিয়ে রেজেষ্ট্রির আগের দিনই সে নিয়ে যায় আমায় দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি পুজো দিতে। সেখানেই লাইনে দাঁড়িয়ে সে জানায় আমার কাছে তার একটিই দাবি। মন্দিরে তার পাশে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে ও প্রসাদ খেতে হবে। তার এই ভক্তি একইভাবে সন্তানের মধ্যে জন্ম নিল । প্রতিদিনই ড্রাইভার অভিযোগ করত মেয়ে স্কুলের পথে যেখানেই মন্দির দেখছে গাড়ীর কাচ নামাতে বলছে। নেমে পড়ে প্রণাম করছে। এরপর আমার নিজের বাড়িতে মেয়ের পছন্দের কালী মায়ের ওয়াল হ্যাঙ্গিং লাগানো হল। তার নিজের পূজা করার জায়গা ক'রে দেওয়া হল। আনা হল লাল কাপড়,ঘণ্টা,কর্পূর, সিদুর,গঙ্গাজল,ধূপকাঠি। কাছের মন্দিরের পুরোহিতের কাছে গিয়ে লিখে আনা হল মন্ত্র। আমার মা এখানেই কখনো কখনো কোরান পাঠ করতেন, নামাজ পড়তেন। আমার বাবা কালীপুজোর জন্য চারটে করে জবাফুল এনে দিতেন বাজার থেকে প্রতিদিন।

আরও পড়ুন...

আমার কালীপুজো

জারিফা জাহান

এরপরে এল আমার টিউশনকাল। কালীপুজোর দিন সব ক্লাসই ছুটি থাকত। অতএব পরের দিন থেকে ভাই-ফোঁটা অব্দি ফিরতি পথে চলত আমাদের টো-টো সফর। তবে সমস্যা হল, বারাসত আজও যে কারণে বি(?)খ্যাত, উন্নয়নের মত যেখানে সেখানে দাঁড়ানো মাতাল আর কন্যাশ্রী হারে উড়ে আসা ইভটিজিং, এসবের কল্যাণে মায়ের টেনশন এবং সে চক্করে রাতে প্যান্ডেল ঘোরা প্ল্যান ছিল এক্কেরে নট অ্যালাউড।

আরও পড়ুন...

উৎসবে অনুভবে

সেখ সাহেবুল হক

দীপাবলীতে পরিচিতদের বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে ছাদে কচিকাঁচাদের নিয়ে ফানুশ ওড়াতে ওড়াতে পরিবারের একজন হয়ে যাওয়ার মধ্যে যে প্রাপ্তি, জমিয়ে খাওয়াদাওয়ায় যে আত্মীয়তা, তা ধর্মের উর্ধ্বে অবস্থান করে। ভাতৃদ্বিতীয়ার মঙ্গলফোঁটা যমের দুয়ারে সত্যিই কাঁটা না দেয় কিনা সেই তর্ক উসকে দেওয়া আড্ডায় বসে দেখেছি, এইসব রীতি-রেওয়াজ সামাজিক মেলবন্ধনের জায়গা তৈরী করে দিয়েছে অজান্তেই। অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মীয় চিন্তাভাবনার পৃথক অবস্থানের মধ্যেই রুনুরা নিজের বোনের মতো হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন...

চতুর্দশীর চাঁদ

তন্বী হালদার

চান্দু ঠাকুমা সুন্দরবন লােকালে যখন ভােরবেলা ওঠে, তখন ভিড় একেবারেই নেই বললেই চলে। বিশেষ করে লেডিজ কম্পার্টমেন্টে। চান্দুটা আজও খুব বায়না ধরেছিল-আমি তাের সঙ্গে কলকাতা যাব। কিন্তু এক বস্তা শাকপাতা ঘাড়ে করে, নাতির হাত ধরে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানাে চাট্টিখানি কথা না। তাই আসবার সময় জিলিপি আনবাে, ব্যাটবল আনবো এই সব প্রলােভন দেখিয়ে কোনােরকমে ঠেকিয়ে রেখে এসেছে। একটানা ভুগতে ভুগতে চান্দুর স্বভাবটাও বড় খ্যান খ্যান হয়ে গেছে। চার মা মােমিনার এক কথাপ্রতিদিন ঐসব ঘতামাতার শাক-পাতা গিলিয়ে গিলিয়ে ছেলেটার আমের ধাত কাটতে দেয় না বুড়িটা। মােমিনা যখন মুখ ছােটায়, তখন ঠিক একইভাবেই বলে। শয়তান বুড়ি, ভাতার খেয়েছিস।

আরও পড়ুন...

বিছে

অভিজিৎ মজুমদার

 প্রায় এক সপ্তাহ সেই ফোনের অপেক্ষা করেছিল শতদ্রু। আসে নি। 

 আর এই এক সপ্তাহে ধীরে ধীরে ওই অজানা অবয়বটা আকৃতি নিয়েছিল ওর মাথায়। সেই অবয়বটার দেহ সুগঠিত ও পিচ্ছিল, দুটো বাড়ানো সরু হাতের শেষে আঁকশির মত দাঁড়া, ঘন ভুরুর নীচে দীঘল চোখে মায়া ও মোহ, আর শ্রীলেখা মিত্রর মত ভারী ঠোঁঠের তলায় তীক্ষ্ণ মাদকভরা একটা লুকোনো হুল। 


শতদ্রু এরপর আর দেরি করে নি। বহুদিন ধরে লুকিয়ে রাখা সেই বিছের ছবিগুলো এয়ারমেলে পাঠিয়ে দিয়েছিল কলকাতায় রাজীব ঘোষের অফিসের ঠিকানায়। এক ঝটকায় বিছেটার সমস্ত চিহ্ন মুছে দিয়েছিল নিজের জীবন থেকে। 

 তখন কে জানত, আবার ন বছর বাদে এভাবে বিছেটা ওর সামনে এসে দাঁড়াবে? এই রকম করুণ, থ্যাঁৎলানো, মৃতপ্রায় অবস্থায়? 

আরও পড়ুন...

আশ্চর্য ডায়রি

কল্লোল লাহিড়ি

ফোন করতে যাবে ঠিক সেই সময়ে ধড়মড় করে উঠে বসলো কাক ভিজে হওয়া চিমসে একটা লোক। সামনের লুকিং গ্লাসে ঠিক মতো মুখটাও দেখতে পেল না বল্টু। গাড়ি বুকিং হয়েছে খাল পাড় পর্যন্ত। “দাদা একদম ভিজে গেছেন। আমার কাছে একটা পরিষ্কার তোয়ালে আছে। একটু মুছে নেবেন?” বল্টুর কোন কথার উত্তর দেয় না লোকটা। বল্টু নিজেও কোন কথা বাড়ায় না। একেই অনেক রাত। চারপাশে গাড়ির সংখ্যা কম। নেশা-টেশা করে আছে কিনা সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। যাক তার চেয়ে তার নতুন গাড়ির সিট ভিজুক। কিছুক্ষণ পরে শুধু হাওয়ার মতো ফিসফিস করে লোকটা বলে “আপনার বইটা একটু দেখতে পারি?” বল্টুর মনেই ছিল না তার সিটের পাশেই রাখা বই। ‘কলকাতার গোলকধাঁধা’। কিন্তু এই অন্ধকারে বৃষ্টি আর বিদ্যুতের মাঝে লোকটা বইটা দেখতে পেল কী করে?

আরও পড়ুন...