বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

শুভাশিস মৈত্র

নীলাঞ্জন হাজরার ইরান ভ্রমণ। বইয়ের নাম ‘ইরানে’। ৯৫ পাতার বই। ছেপেছে দীপ প্রকাশন। ছবি, অলঙ্করণ, প্রচ্ছদ করেছেন হিরণ মিত্র।



কলকাতা থেকে তেহরানের দূরত্ব ৩৮৪৫ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে লন্ডনের দূরত্ব ৭৯৫৭ কিলোমিটার। কিন্তু লন্ডন আমাদের যতটা চেনা, ইরান ততটাই না-জানা। ফলে, বলাই যায়, চেনার জন্য দূরত্বটা কোনও বিষয়ই নয়। এ প্রায় সেই, দেখা হয় নাই শিশির বিন্দুর গল্প। কিন্তু গল্পটা সত্যি।

নীলাঞ্জনের ‘ইরানে’ লেখা শুরু হচ্ছে এক কবিকে দিয়ে। শেষও হচ্ছে সেই প্রতিবাদী মহিলা কবিকে দিয়ে। তার মাঝেও আরও অনেক কবির কথা এসেছে। একটু আগে আমি বললাম ‘মহিলা কবি’। আজকাল সঠিক কারণেই আর বলা হয় না কথাটা। কিন্তু, আমি সচেতন ভাবেই ‘মহিলা’ শব্দটা রাখতে চাই এই লেখায়।

ফরুঘ ফ্যাররোখজাদ সে কবির নাম। যার কবিতা পড়ে লেখক ইরানের প্রেমে পড়েন। তাঁর কবিতা দিয়েই দিল্লি থেকে তেহরান গামী বিমানে ওঠার আগে, লেখক শুরু করছেন তাঁর ভ্রমণ কাহিনী। সেই কবিতা এরকম-

‘আমি রাত্রির গভীর থেকে কথা বলি
কথা বলি অন্ধকারের গভীর থেকে
আর রাত্রির গভীর থেকে বলি

যদি আমার বাড়িতে তুমি আসো, আমার জন্য এন প্রদীপ একটা
আর একটা জানলাও এনো
যাতে আমি দেখতে পাই
আনন্দে ভরপুর রাস্তার কলকলে ভিড়’
(নীলাঞ্জনের অনুবাদ)

জানলা শব্দটা খুব জরুরি। কারণ ইরানে মেয়েদের দেখার অধিকারের উপর রাষ্ট্রের নির্দেশ লটকানো থাকে। ‘মরাল পুলিশ’ নজর রাখে হিজাব সরিয়ে কেউ কিছু দেখছে কি না? একটা বিষয় নীলাঞ্জন উত্থাপন করেছেন ওঁর লেখায়, উন্নয়ন-পরিসংখ্যানের পুরুষতান্ত্রিকতা। কী রকম সেটা বলি।

এক বিবাহিত মহিলা যিনি বাইরের কাজ সেরে বাড়ি ঢোকা মাত্র মাথার রুস্যারিটা (হিজাব) হিন্দের মুসাফির নীলাঞ্জনের সামনেই ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন। মুখে বিরক্তি। তার পর হিন্দের মুসাফিরের সঙ্গে যে কথা হয় তাঁর, তা হুবহু তুলে দেওয়াই ভাল। ‘তাকে সরসরি জিজ্ঞাসা করেছিলাম- আমি যে দেশ থেকে আসছি সেখানে মেয়েদের মাথা ঢাকতে হয় না, তারা বাইক চড়তে পারে, যে কোনো রকমের খেলাধুলো করতে পারে, মঞ্চে উঠে নেচে কুঁদে গান বাজনা করতে পারে। তোমরা পারো না।। সরকারের ‘মোরাল পুলিশ’ ধরে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমার দেশে ৩৫ শতাংশ নারী সই পর্যন্ত করতে পারে না, সম্পূর্ণ নিরক্ষর.....আর তোমার দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছরের মেয়েদের ৯৮.৫ শতাংশ সাক্ষর।বিশ্বব্যাঙ্কের ২০১৪-র রিপোর্ট বলছে তোমাদের মহিলাদের ৫৬.৫০ শতাংশ কোনো-না-কোনো মাইনে পাওয়া চাকরিতে নিযুক্ত। আমার দেশে সেই হারটা ১৪.৫০ শতাংশ। এর পর বিদেশি অতিথি তার কাছে জানতে চায়, এই যে এত এগিয়ে গেছে তোমার দেশ, তার পর যদি তোমাকে প্রশ্ন করি, যদি মেয়ে হিসেবে বড় হওয়ার সময় তোমার দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকত, তুমি কোন দেশ বেছে নিতে? ইরান না হিন্দ?

উত্তরটা আমি এখানে লিখছি না। আর সেই যে মহিলা কবি, ফরুঘ ফ্যাররোখজাদ, কবিতায় যে একটা জানলা চেয়েছিল, কিন্তু ৩২ বছর বয়েসে গাড়ি চালাতে চালাতে ১৯৬৭ সালর ১৪ ফেব্রুয়াই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন, যে কবি তাঁর শেষ সংকলন. ‘এস বিশ্বাস রাখি শীতের শুরুতে’, দেখে যেতে পারেননি, সেই কবিই এখনও ইরানের মেয়েদের কাছে প্রতিবাদের প্রতীক। ফরুঘ ফ্যাররোখজাদ একটি ছবিও করেছিলেন। ১৯৬২ সালে। নন ফিকশন ছবি। ২২ মিনিটের। নাম, ‘মাই হোম ইজ ব্যাক’। ছবির বিষয়, কুষ্ঠ রোগীদের একটি কলোনি। আর ফরুঘ ফ্যাররোখজাদ সম্পর্কে ইরানের হর্তাকর্তাদের মন্তব্য, ‘আ করাপ্ট ওম্যান’।

নতুন যুগের ইরানি কবিতা, ইরানের সিনেমায় ফরুঘ ফ্যাররোখজাদের প্রবল প্রভাব। ১৯৬৩ সালে ফরুঘ ফ্যাররোখজাদএর সাক্ষাৎকার নিতে ইরানে এলেন চলচ্চিত্রকার বের্নার্দো বের্তোলুচ্চি।, এলেন আর মুগ্ধ হয়ে বানিয়ে ফেললেন ফরুঘ ফ্যাররোখজাদের উপর একটি আধ ঘন্টার ছবি। নীলাঞ্জন লিখেছেন, তেহরানের নবীন প্রজন্মের মধ্যে চড় চড় করে বেড়ে চলেছে ফরুঘ ফ্যাররোখজাদের কবিতার সবুজ ঘাস। আর ইরান ভ্রমণের শেষ দিনে লেখক গিয়েছিলেন তেহরানে ফরুঘ ফ্যাররোখজাদের সমাধি দেখতে। এক সন্ধ্যায়। গিয়ে দেখলেন নির্জন সেই কবর ঘিরে মোমবাতি হাতে বছর কুড়ির ছ’জন মেয়ে। এক জনের হাতে ফরুঘ ফ্যাররোখজাদের কবিতার বই। সে পড়ে চলেছে, বাকি পাঁচ জন নীরবে শুনে চলেছে।

নীলাঞ্জনের ভ্রমণ কাহিনি ‘ইরানে’, অমুক জায়গা থেকে তমুক জায়গায় গেলাম জাতীয় নয়। এই লেখা আসলে নীলাঞ্জন এবং একটি সভ্যতার বাক্যালাপ। বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়ার চেষ্টা। মনে পড়ে যায় চিত্রবাণীর ফাদার গাঁস্তো রোবেজের কথা। সেই মানুষটাকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি ভারতে কবে এসেছেন? ফাদার কিছু ক্ষণ নীরব থেকে বলেছিলেন, ‘আমি তো আসিনি। আসার চেষ্টা করছি’। বোঝা যায়, কাছে যাওয়া অত সহজ কাজ নয়। লেখক সেই চেষ্টাটা করেছেন।

নীলাঞ্জনের লেখায় এসেছে মানুষ, মূর্তি, নদী, পাহাড়, মরুভূমি, মসজিদ, সমাধি, রেস্তোঁরা, খাবার-দাবার, বাজার, জীবন-যাপন-সবই। বাজার কথাটা ফারসি। লেখকের কথায়, বিদেশ থেকে এসে দিব্যি হাটের পাশে ভালো মানুষটির মতো বসে পড়ে হয়ে গিয়েছে হাট-বাজার। যে সব মোল্লা এবং হিন্দুত্ববাদীরা ভাষা জাতি এসবের শুদ্ধতার কথা বলে, তাদের মুখের মতো জবাব দেবে শত শত বছর ধরে জন্ম নেওয়া সিল্ক রুট, সিল্ক রুট ধরে জন্ম নেওয়া বাজার, ক্যারাভ্যানের ইতিহাস। সেই ইতিহাস তিল তিল করে গড়ে তুলেছে ইরানকে। কোনও রাজনৈতিক পালা বদলই যে ইরানকে শাসন করতে পারে, কিন্তু বদলাতে পারে না। এই রচনার মূল কথা এটাই। আর নীলাঞ্জনের ইরান লেখায় বাজার এমন ভাবে এসেছে, এত রং, এত প্রাণ তার, এত তার সুবর্ণ অতীত, ক্যাপিটালইজম যে বাজারের কথা বলে, এ সেই বাজার নয়। আমরা যখন বলি বাজারি লেখক (ঠিক বলি কিনা জানি না ), বাজারি সাংবাদিক, বাজারি কাগজ, নীলাঞ্জনের লেখা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, বাজার শব্দটাকে আমরা ছোট করে ফেলেছি। বাজারের আলো, রং, ইতিহাস, গন্ধ কী ভাবে মানুষের জীবনেরর নদীতে ঢেউ হয়ে ভেসে যায়, এই রচনায় তা বার বার এসেছে ঘুরে ফিরে। ইরানিদের রুটি, তাদের গালিচার ইতিহাস। নীলাঞ্জন কখনও আমাদের নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাচ্ছে পার্সেপলিসের সামনে, কখনও জায়েন্দেরুদ নদীর সামনে, যে নদীতে সকালে জল নেই, খট খটে। বিকেলে ঢেউ ওঠে। আবার কখনও আর্মেনী বসতির সামনে, যাদের গির্জার ভিতরে আঁকা অত্যাচারের ছবি, ভুলতে দেয় না অতীতকে।

জরাথুষ্ট্রবাদীদের উপাসনা গৃহ ‘চ্যাক চ্যাক’। আর সেখানে পাথরের ফাঁক দিয়ে যে জল পড়ে যায়, পাঠকের মনে হতে পারে দুঃখের জল, চোখের জল।

Tags :


1228 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ আলোচনা  বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: প্রতিভা

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

লেখাটা এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল ! ঠিক তখনই যখন আরো জানবার জন্য আগ্রহ তুঙ্গে। এই কবির কোন ইংরেজি হয়নি ?
Avatar: দ

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

এটা এইসময়ের রবিবারোয়ারিতে বেরোত। বইয়ে কি তার চেয়ে বেশী কিছু আছে?

লেখাটা কেমন হঠাৎ করে শেষ হোল।
Avatar: গৌতম বড়ুয়া

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

খুব ভালো লাগলো। মানুষ নিজেরাই নিজেদের থেকে কত দূরত্ব করে নিয়েছে বিভিন্ন অজুহাতে।
Avatar: hu

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

বইটা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হল। ইরান যাওয়ার ইচ্ছা বহুদিনের।
Avatar: পৃথা

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

কৌতূহল উদ্দীপক লেখা। কিন্তু বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল।
Avatar: Bishan Basu

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

ফরুঘ ফাররোখজাদের ইংরেজি অনুবাদ রয়েছে। শোলে ওলপে করেছেন। চমৎকার অনুবাদ, আন্দাজ করা যায় (যেহেতু ফার্সী জানি না)। অনলাইন কেনা যায়। এমাজনে।

নীলাঞ্জনদা আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দাদা-বন্ধু। এজ্জনিত বায়াসের ডিসক্লেইমার সহ বলি, ইরানে বইখানা বাংলাভাষায় লেখা শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে গণ্য হওয়ার যোগ্য।

এইটা নিছক ভ্রমণকাহিনী নয়। ইতিহাস-মানুষ-খাবার সব মিলিয়ে একখানা জমজমাট প্যাকেজ।

পড়ে দেখুন।
Avatar: Bishan Basu

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

ইন ফ্যাক্ট, প্রথম পাঠের পর (বই বেরোনোরও আগে), নীলাঞ্জনদাকে বলেছিলাম, "করেছো কী!! এ তো ইরান নিয়ে দেশেবিদেশে লিখে ফেলেছো!!!!"

আবারও বলি, বইটা পড়ে দেখুন।
Avatar: নীলাঞ্জন হাজরা

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

ফরুঘ ফ্যারোখজাদের কবিতা নিয়ে সারা দুনিয়াতেই বিশেষ ভাবে চর্চা চলছে। ইন্টারনেটেও অনেক অনুবাদ আছে। শোলে ওলপে-র অনুবাদ আধুনিকতম। অনুবাদের কথাই যখন উঠল, একটা ছোট্টো ভুল সুভাশিসদার লেখায় আছে, ফরুঘের যে কবিতা উদ্ধৃত করা হয়েছে তাতে একটি জরুরি শব্দ বাদ গিয়েছে — মেহেরবান! ওই শব্দটা কবিতাটাকে আশ্চর্য একটা মাত্রা দেয় বলে আমার মনে হয়েছে। মূলে রয়েছে ‘এয়ি মেহেরবান’

আমি রাত্রির গভীর থেকে কথা বলি
কথা বলি অন্ধকারের গভীর থেকে
আর রাত্রির গভীর থেকে বলি

যদি আমার বাড়িতে তুমি আসো, মেহেরবান, আমার জন্যে এনো প্রদীপ একটা
আর একটা জানালাও এনো
যাতে আমি দেখতে পাই
আনন্দে ভরপুর রাস্তার কলকলে ভিড়

ভালো কথা, এই কবিতাটার অনুবাদের কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য একটা পাঠও হতে পারে মূল থেক বিচ্যূত না হয়ে। কারণ মূলে ‘অজ’ (az) বলে একটি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, বলার সঙ্গে যা ব্যবহৃত হলে ‘থেকে’ হতে পারে আবার ‘এর’-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কবিতার অনুবাদের পাঠ বদলে গিয়ে হবে —

আমি রাত্রির গভীরের কথা বলি
কথা বলি অন্ধকারের গভীরের
আর রাত্রির গভীরের কথা বলি —

যদি আমার বাড়িতে তুমি আসো, মেহেরবান, আমার জন্যে এনো প্রদীপ একটা
আর একটা জানালাও এনো
যাতে আমি দেখতে পাই
আনন্দে ভরপুর রাস্তার কলকলে ভিড়

আমার বন্ধু পাকিস্তানের বিখ্যাত ‘আজ’ পত্রিকার সম্পাদক আজমল কামাল এবং পাকিস্তানের এ মুহূর্তের শ্রেষ্ঠ কবি অফজাল আহমেদ সৈয়েদ দু’ জনেই দ্বিতীয় পাঠেরই পক্ষে!!


Avatar: Besh

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

বাহঃ।

একটু ঘুরিয়ে লিখতে ইচ্ছে করছে -

আমি রাত্রির গভীরের কথা বলি
কথা বলি অন্ধকারের গভীরের
আর রাত্রির গভীরের কথা বলি —

তুমি যদি আমার বাড়িতে আসো, মেহেরবান, আমার জন্যে একটা প্রদীপ এনো
আর একটা জানালাও এনো
যাতে দেখতে পাই
আনন্দে ভরা রাস্তার কলকলে ভিড়
Avatar: Tanwi halder

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

জেনো শেশ হোএও ন হৈলো সেশ।।।।।।
Avatar: Tanwi halder

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

জেনো শেশ হোএও ন হৈলো সেশ।।।।।।
Avatar: syandi

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

এই বইটা ইনডিয়াতে অনলাইন পাওয়া যায়? ডিটেইলস (ISBN number)দিলে উপকৃত হব।
Avatar: দ্রি

Re: বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

তা এই লেখাটা ... ভালো লাগলো। পড়ে ফেললাম ফারুখজাদের সম্বন্ধে বেশ কিছুটা। ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন ভালোবেসে, তাঁর চেয়ে ১৫ বছরের বড় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে। একটি বাচ্চা হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই বিয়ে ভেঙ্গে যায়। বাচ্চার কাস্টোডিও হারান। নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়। তারপর নাকি ইওরোপে চলে যান বেশ কিছু মাসের জন্য। এতবড় ফরেন ট্রিপের জন্য পয়সা কিকরে যোগাড় হয়েছিল সেটা ঠিক ক্লিয়ার নয়। কবিতা পার্স্যু করেন প্যাশানেটলি। অটোবায়োগ্রাফিকাল কিছু কবিতাতে স্বীকার করেন খুচরো সম্পর্কের কথা। যার রেফারেন্স দিয়ে মরাল পুলিশেরা বলেন 'ইম্মরাল'। তবে তিনি যখন বিয়ে করেন, মোটমুটি সেই সময় ইরানের শা পাওয়ারে এলেন। তখন মনে হয়না হিজাবের অত কড়াকড়ি ছিল। ইন্টার্নেটে অনেক ছবিতেই ফারুখজাদের ছবিতে মাথায় কোন আবরণ নেই। সাজগোজও বেশ কেতাদুরস্ত, এবং কেয়ারফুল। ওনার এক ভাইও নামকরা আর্টিস্ট। জার্মানীতে গানটান গেয়েছিলেন। ওনারও বিয়ে ভেঙ্গে যায়। সান ফ্রান্সিস্কোর রেনবো ওয়াক ওনাকে বিশিষ্ট গে হিসেবে ওনাকে সম্বর্ধনা দেয়। এক কমেন্টেটার ওনাকে বাইসেক্সুয়ালও বলেছেন। উনি নাকি কনস্টিচিউশানাল মোনার্কিস্ট ছিলেন। ওদের ফ্যামিলিঅতে আরেকজন মহিলা কবিও আছেন -- পুরান।

দারুণ ইনট্রিগিং। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'আই পিটি দা গার্ডেন' কবিতার এই লাইনটা

I am like a schoolchild madly
in love with her geometry books.


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন