বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮

সূচিপত্র

উৎসব ইস্পেশাল, সম্পূর্ন সূচিপত্র।

আরও পড়ুন...

সম্পাদকীয় - উৎসব ইস্পেশাল - ২০১৮

--উৎসব সংখ্যার জন্য লিখলেন স্বয়ং জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। সুদূর ত্রিবান্দ্রম থেকে। পাণ্ডুলিপি কিঞ্চিৎ অবোধ্য হওয়ায় সম্পাদকদের সামান্য পরিমার্জনা সহ ( বানান অপরিবর্তিত) ।

আরও পড়ুন...

পয়লা আষাঢ়

ইন্দ্রাণী

রুবির বাঘের নাম শান্তনু। বাঘ যেমন হয়-পেল্লায়, ডোরা কাটা, বিশাল খণ্ড ত ল্যাজ। ভারি বলিষ্ঠ থাবা ঘিরে সাদা নরম রোঁয়া। বিষণ্ণ পোখরাজ চোখ। কানের পিছনে, থাবায় গভীর ক্ষতচিহ্ন। এখন রাত বারোটায় মোড়ের মিষ্টির দোকানের ঝাঁপ বন্ধ - দু ধাপ সিঁড়ির নিচে ভাঙা ফুটপাথ-সেখানে এক ছটাক ঘাসের দখল নিয়ে কাড়াকাড়ি স্ট্রীটলাইট আর জ্যোৎস্নার; দুটো লাল গাড়ি পর পর পার্ক করা। মিত্র সুইটস আর গাড়ির মাঝখানে ঐ জ্যোৎস্নার ওপর হিসি করছিল শান্তনু - আকাশের দিকে মুখ, সামনের দুপায়ে শরীরের সম্পূর্ণ ভর, পিছনের পা ভাঁজ করা এবং লম্বা ল্যাজ মাটির সঙ্গে সমান্তরাল-ওর পিঠের ডোরা এই মুহূর্তের চাঁদের আলোয় সিপিয়া আর সাদা। রুবির হাতে একটা বড় কালো চাদর ভাঁজ করা; সে শান্তনুর পিঠে হাত রেখে সটান দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক দেখছিল। রুবি যেন এক বন্ধ দরজার পাল্লা-যার আড়ালে বসে, প্রকৃতির ডাকে নিশ্চিন্তে সাড়া দিচ্ছিল শান্তনু- ঝাঁঝালো বুনো গন্ধ সিঁড়ির ধাপ বেয়ে পৌঁছোচ্ছিল মিত্র সুইটসের সাইনবোর্ড অবধি, ঘাসের ওপর চাঁদের আলো তরল আর হলুদ হয়ে যাচ্ছিল ক্রমশঃ।

আরও পড়ুন...

অহৈতুকী

দময়ন্তী

মঙ্গলার ওদিকে এক গোঁ কিছুতেই পণ দিয়ে বিয়ে করবে না সে। এই নিয়ে কম অশান্তি হয় নি মা বাপের সাথে। এমন এক পাত্রের মাকে মঙ্গলা বলে ফেলেছিল ‘আপনারা শহরে গিয়ে মন্দিরের সামনে আঁচল পেতে বসতে পারেন তো, শুনেছি দিনে পাঁচ ছয় হাজার রোজগার হয়। ও দুই তিন মাস বসলেই আপনার বেশ ক লাখ ...’ কথা শেষ করতে পারে নি, মায়ের ঠাস সপাটে নামে মঙ্গলার গালে। ছোট বোনটাকে ধরে সামলায় নিজেকে, শান্ত পায়ে গিয়ে মাছমাংস কোটার বঁটিটা আর একগাছা নারকেল দড়ি এনে মায়ের সামনে ধরে বলে ‘হাত পা বেঁধে গলা কাটো আমার, নাতো পণ দিলে আমি তোমাদেরই কেটে ফেলব হয়ত।’

আরও পড়ুন...

পৃথিবীর ছায়া

দীপেন ভট্টাচার্য

সে অনেক দিন আগের কথা। বছর ত্রিশ তো হবেই। আমরা থাকতাম ময়মনসিংহ শহরের আমলাপাড়া এলাকায়, তখ্নও সেই শহরে কিছু বাংলো বাড়ি অবশিষ্ট ছিল, তাদের সামনে ছিল মাঠ, পেছনে বাগান, বড় আঙ্গিনা বা পুকুর। আমরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম সে বাড়িটা ছিল দোতলা, পুরনো জমিদার বাড়ি, সামনে প্রায় বিঘাখানেক ফাঁকা জমি। ঐ শহরে অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাটবাড়ির ধারণা তখনও আসে নি, কিন্তু আমাদের বাড়িতে তিনটে পরিবার ভাড়া থাকত। ওপরে একটি, নিচে দুটি। বাড়িওয়ালা এমনভাবে নিচের তলাটি ভাগ করে দিয়েছিলেন যাতে অন্য অংশটির ভাড়াটেদের দেখা না যায়। বাড়ির সামনে একদিকে একটা বড় আম গাছ, অন্যদিকে গাঁদা আর জবার ছোট বাগান। তারকানাথ রায় রোড থেকে শুরু করে ঘাসের মধ্যে দিয়ে পায়ে চলা পথটা একটা ছোট সিঁড়ির তিন চারটা ধাপ বেয়ে উঠে এসেছে নিচু বারান্দায়।

আরও পড়ুন...

জলরং

পারমিতা দাস

রুমিকে শেখাই। দুজনে খেতে এলে মুখোমুখি বসতে হয়। কার্টেসি। এসেই ধপ করে পাশে বসে পড়ছিলো। যা যা বলি, যে সিকোয়েন্স-এ খেতে বলি, রুমি মন দিয়ে শোনে। আমার ওকে নতুন করে তোলার ইচ্ছেটাকে বুঝেই যেন শুষে নেয়। একটুও যেন বাদ না যায়, এমন অতন্দ্র হয়ে শোনে।

আরও পড়ুন...

বংশগতি

মুরাদুল ইসলাম

স্যার, এইবার আমি আমার পিতার কথা বলব, আমার মনে হচ্ছে যে মানুষের জীবনের সাথে তার পিতার জীবন জড়িত, ফলে আমার বিষয়ে বলতে গেলে আমার পিতার কথা আসবে, আমার বিষয়ে বুঝতে আমার পিতার বিষয়ে বুঝতে হবে। আপনি কি মনে করেন এই ব্যাপারে? বলব কি স্যার?

হ্যাঁ, হ্যাঁ, বলুন।

আমার পিতার নাম ছিল আরশাদ মিয়া। তবে লোকে তাকে ডাকত কাবিল কবিরাজ নামে। তিন গ্রাম গ্রামান্তরে ঘুরে বেড়াইতেন আর অনেক অনেক লতাপাতা সংগ্রহ করতেন। আর আমাদের বাড়ির পাশে ছিল সামান্য ধান্য ক্ষেত। সেখানে চাষবাসও করতেন অল্প অল্প। আচ্ছা এই মুহুর্তে, এই ধান্য জমির কথা স্মরণে আসায় আমার দাদাজির কথা মনে হলো আমার। তিনি আমার পিতার পিতা। ফলে তিনিও আমার সাথে সংযুক্ত, তাই ধান্য জমি সংশ্লিষ্ট অদ্ভুত ঘটনাটি আমার বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, বলব কি স্যার?

ওকে বলুন।

আরও পড়ুন...

চাঁদের পাথর

শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়

টুকুন কোঁচড় থেকে ডিমগুলো বের করতেই সক্কলে হাঁ হয়ে গেল!

নদীর ধারে এমন হুটোপাটির চড়ুইভাতি, তাতে আবার ডিম! তার ওপর আধাআধি ভাগাভাগি নয়, মাথাপিছু একটা করে গোটা ডিম! প্রথম চোটে আনন্দে কথা ফুটল না কারো মুখে। তারপর বিস্ময় একটু থিতোতেই হইহই করে উঠল কচিকাঁচার দল। যক্ষের ধনের মতো ডিমগুলো কোথায় রাখবে তাই নিয়ে টগবগ করতে লাগল নানান মতামত।

আজ ওদের চড়ুইভাতি। বিল্বপত্র গ্রামের একধার দিয়ে বয়ে গেছে রূপনারায়ণ। নদীতটের এই অঞ্চলটা ফাঁকা। উঁচুনিচু। এদিকে-ওদিকে ঘাসের গুছি, শুকিয়ে যাওয়া কাশ আর বেতঝোপ। ফেরিঘাটও নেই কাছাকাছি। জনহীন হওয়ায় এইখানটা ছেলেপুলেদের ভারি প্রিয়। কখনও ওরা দলবেঁধে খেলতে আসে, কখনও বা জলে ঝাঁপিয়ে সাঁতার কাটে।

আরও পড়ুন...

প্রদীপের ‘বিসর্জন’ অথবা লঘু’র লঘু’র উৎসব

ষষ্ঠ পাণ্ডব

বিরতির সময় পলাশের সাথে দুই সেকশনের কয়েক জন খেলোয়ারের মধ্যে কী কথা হয়েছে সেটা হারাধন জানে না। কিন্তু খেলা আবার শুরু হবার পর থেকে দেখা গেলো বল বার বার তার প্রান্তে চেপে আসছে। হারাধন প্রাণপনে বল ফেরাতে থাকে। একপর্যায়ে বলের দখল নিয়ে সৃষ্ট এক জটলায় কেউ একজন হারাধনকে খুব জোরে ধাক্কা মারে। তাল সামলাতে না পেরে সে পড়ে যেতে হঠাৎ কে যেন তার বাঁ হাতের উপর লাফিয়ে পড়ে। সেটা কি সেকশন-এ’র মোটকা সাদমান নাকি সেকশন-বি’র বখা বাদল সেটা বোঝা যায় না, তবে হারাধনের কবজিতে কড়াৎ করে একটা শব্দ হয়। তারপর তীব্র ব্যথায় তার আর কিছু মনে থাকে না।

আরও পড়ুন...

পুজোর কবিতা

দ্বিতীয় পর্ব

কবিতা লেখা ও পড়ার, কবিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভাবার পরেই অবশ্যম্ভাবী প্রশ্ন আসে, তার বহুমুখী অভিঘাত নিয়ে। যেহেতু কবিতা একটি মাধ্যম যেখানে একজন লেখক ও পাঠক একটি স্বতন্ত্র পথে নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করছেন, তাই এই বিষয়ে কোন সাধারণ উপলব্ধি বলে কিছু হয়না। আমরা এরকম বলতে পারিনা যে জীবনানন্দের বনলতা সেন যা বলতে চেয়েছিলেন তার "মানে" ঠিক এই। কবি ও পাঠকের কথোপথন অনেকটা দুটি মানুষের মধ্যে একান্ত নিভৃত টেলিফোনে বাক্যালাপের মত হয়ে দাঁড়ায়। আগে একটা সময় মনে করা হত এই কথোপকথনের নিজস্ব ব্যাকরণ থাকা উচিত, কালক্রমে সেই মজবুত বাঁধন অনেক আলগা হয়েছে। এখন লেখক ও পাঠক দুজনের ব্যক্তিগত যাপন ও দর্শনের প্রত্যক্ষ প্রভাব নির্দিষ্ট করে দেয় লেখায় কী থাকবে, পাঠকের সেই জিনিস ভালো লাগবে কিনা, এবং ব্যাকরণ বহির্ভূত কবিতা বলে সেইভাবে আর হয়ত কিছু নেই, যদি কবিতার সার্থকতা ভালো লাগা দিয়ে নির্ধারিত হয়। অবশ্য ভালো লাগার বাইরেও, শিল্পবোধ বা বহুদিন ধরে মানুষকে ভাবিয়ে তোলার নিরিখেও কবিতার ভালোমন্দ বিচার হয়, এবং কী সেই আশ্চর্য ভারসাম্য যা কবিতাকে কালজয়ী ও পাঠকের অন্তরঙ্গ করে, সেই কূট তর্ক আপাতত আমরা সরিয়ে রাখবো।

নাট্যমঞ্চে যেমন আলোর বৃত্ত ফেলে ফেলে ঠিক করা হয় দর্শকের কী দেখা উচিত, সেইভাবে জীবনদর্শনের ফোকাস দিয়ে কবি ঠিক করেন কী লিখবেন, পাঠক ঠিক করেন সে জিনিস তার পছন্দের কিনা। এই দ্বন্দ্ব, এই কখনও ভালো কখনও খারাপ লাগার চর্চাকেই কেউ কেউ কবি ও পাঠকের মধ্যে ঘটে চলা নিরন্তর লড়াই বলেছেন।

উৎসব সংখ্যা দ্বিতীয় পর্বের কবিতা। এই পর্বে লিখেছেন যশোধরা রায়চৌধুরী, চিরশ্রী দেবনাথ, হিন্দোল ভট্টাচার্য, সাম্যব্রত জোয়ারদার, হীরক সরকার, সোমনাথ রায়, জগন্নাথদেব মন্ডল এবং সোনালী সেনগুপ্ত।

আরও পড়ুন...

নীলপদ্ম, নাকি হরক্রাক্স

পূবালী দত্ত

“এই দ্যাখ, এমনি করে ক্যাপটা দু আঙ্গুলে ধরে দেয়ালে চট করে ঘষে দে” - চাপা একটা ফট শব্দ -মেয়েটা ভুরু কুঁচকে ধোঁয়ার রেশটা তাকিয়ে তাকিয়ে দ্যাখে। ... চেষ্টা করি? যদি আঙ্গুলে ছ্যাঁকা লাগে? না থাক বাবা ... উল্টে সে মাটিতে ক্যাপের রোলটা ফেলে হাওয়াই চটি দিয়ে পিষে দেয়, বারুদের আওয়াজ টা আরও চেপে গিয়ে কিরম ম্যাদামারা মত শোনায়। মরুক গে যাক! নতুন ক্যাপ বন্দুকটা কিনেছে কি করতে, সেই যদি হাতে-পায়ে করে ফাটাবে? গেলবার সেই যে বাপির সাথে বন্দুক কেনা নিয়ে দারুণ ঝগড়া হল- বলে কি না পুরনোটাতে তেল দিয়ে দিচ্ছি, ওটাই ফাটা! পুজোয় নতুন জামা পরে পুরনো ক্যাপ বন্দুক? এ আবার কেমনধারা কথা! বাপির মনখারাপ করছে বুঝতে পেরেও জেদ করে কথা বলেনি দু-দিন। তারপর তো সেই জ্যেঠু আর বড়দাদার হাত ধরে গিয়ে দোকান থেকে পছন্দ করে নতুন বন্দুক কেনা হল।

আরও পড়ুন...

ছবি দেখা – সুনীল দাসের শিল্পকৃতি ও কিছু অপ্রসঙ্গ

বিষাণ বসু

ছবি দেখার কি আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? (অথবা, রাগসঙ্গীত শোনার? সাহিত্যপাঠের? কিম্বা, ভালো সিনেমা দেখার? এককথায়, শিল্পবিষয়ে সচেতন চর্চার কি আদপেই কোনো যুক্তি আছে?) ভেবেছিলাম, এই প্রশ্নের অতি স্বাভাবিক উত্তরটি অস্তিবাচক। কিন্তু, কিছু আলাপ-আলোচনার শেষে বুঝলাম, এই প্রশ্নের সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর পাওয়া মুশকিল।

যেমন, আমার মনে হয়, এই অভ্যেস জরুরী। এই প্রসঙ্গেই, আগের একটি লেখায় বলেছিলাম, নান্দনিকতার বোধ গড়ে তুলতে এই অভ্যেস অবশ্যপ্রয়োজনীয়। পশ্চিমী দেশে, স্কুলের বাচ্চাদের নিয়মিত আর্ট গ্যালারী বা চিত্রপ্রদর্শনীতে নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে। এবং, শুধু দেখাই নয়, ছবি দেখে কেমন লাগলো, সেই অনুভব নিয়ে তাদের দস্তুরমতো লিখতেও হয়। এইভাবেই নান্দনিকতার বোধ তৈরী হয়, আর সাথে সাথে নিজের ভালো লাগাটিকে বিচার বা বিশ্লেষণ করার বোধটিও তৈরী হয়। সুকুমার হৃদয়বৃত্তির গঠনে এমন চর্চা বা পাঠ জরুরী, এমনই আমার ধারণা।

আরও পড়ুন...

বজ্রডঙ্কুশ এবং উদংষ্টিট্টিভ, অথবা শব্দের চাল-চলন নিয়ে একটি অসম্পূর্ণ রচনা

শুভাশিস মৈত্র

বজ্রডঙ্কুশ বা উদংষ্টিট্টিভ। এর মানে কী? শশীশেখর তাঁর ছেলের নাম রেখেছিলেন মৃগাঙ্কভূষণ। স্কুলে একদিন ছাত্রের মুখে বাবার নাম শুনে শিক্ষক বললেন,‘সেকী! শশীশেখরের ছেলের নাম মৃগাঙ্কভূষণ কেন? বাবাকে বল নাম বদলে মৃগাঙ্কশেখর করে দিতে। ছেলে বাবাকে বাড়ি ফিরে সেকথা বলতে শশীশেখরের জবাব, ‘মাস্টারকে বলিস আমার ছেলের নাম আমি বজ্রডঙ্কুশ রাখব না উদংষ্টিট্টিভ রাখব, তাতে মাস্টারের কী। এরকমই নতুন শব্দ সুকুমার রায়ের হিজবিজবিজ, কুমড়োপটাশ, কাঁকড়ামতী নদী বা ল্যাগব্যাগর্নিস পাখি। এরা কেউ বাস্তবে নেই, কিন্তু নাম থেকেই এদের কী কোনও ছবি মনে আসে? বা সুকুমার এই সব চরিত্রের চেহারার যে বর্ণনা লিখে গেছেন, মনে হয় নাকি, সেসব এক্কেবারে সঠিক! শব্দের এটাই শক্তি, এটাই জোর।

আরও পড়ুন...

ফুচকা সন্দর্ভ

সম্বিৎ বসু

ফুচকার জন্মরহস্য কেউ জানে না। এমনকি তা জানতে কারুর সেরকম আগ্রহও দেখিনা। সাবেকি ফুচকার তিনটি বাসস্থান। বম্বে, থুড়ি মুম্বাইতে তার নাম পানিপুরি, দিল্লিতে গোলগাপ্পা আর কলকাতায় ফুচকা। পানিপুরি নামটি সমগ্রতই ব্যাকরণসম্মত। যে পুরির ভেতর পানি থাকে - এরকম ব্যাসবাক্য করলে স্বয়ং পাণিনিও বোধহয় রুষ্ট হতেন না। গোলগাপ্পা অন্ততঃ আধা ব্যাকরণসম্মত। আকারে এটি গোলই বটে। গাপ্পার ব্যাকরণগত ব্যুৎপত্তির হদিশ আমার কাছে নেই। কিন্তু ফুচকা? কোন মানেই হয়না। ব্যাকরণপরীক্ষায় ফুচকা ডাহা ফেল। এমনকি মার্কেটিঙেও। গুগুল বাজার গরম করার আগে জ্ঞানসমুদ্রে যার কদর ছিল রাশভারী জ্যাঠামশাইয়ে, সেই এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার অনলাইনে চাটের এন্ট্রিতে গোলগাপ্পা ও পানিপুরির উল্লখ থাকলেও ফুচকার নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে মমতা ব্যানার্জি থেকে আমরা বাঙালি - সবাইকার যে গর্জে ওঠা উচিত, সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

আরও পড়ুন...

জীবনরেখারা

সুপর্ণা দেব

মাথায় কাপড়ের মস্ত গাঁঠরি, তাতে শুধু গোলাপি নয় আছে কতো বান্ডিল বান্ডিল নানা রঙের জামাকাপড় । সে হল আমাদের বিমলা আন্টি । আমি আন্টি বলি, বলতে ভালো লাগে । বিমলা আন্টি আমাদের পাড়ার ধোপানি । ওর একটা খিটকেল বর আছে, রামস্বরূপ। কোন জামাকাপড় তাড়াতাড়ি ইস্ত্রি করতে হলে রামস্বরূপকে ফোন করতে হয় । সে বলে এখখুনি নিয়ে আসছি । আমি বলি বিমলা আন্টি আসবে? তাকেই পাঠাও না কেন? তোমার ওই হাঁড়িচাচার মতো মুখটা কি না দেখলেই নয়?

বিমলা আন্টি এসেই তার গুছিয়ে পরা কোটা শাড়ির ঘোমটা একটু টেনে গলা তুলে বলে, কাপড়া । তারপর গাঁঠরি খুলে বলে, গিনলো। আবার নতুন কাপড় দেওয়া শুরু হয়। এবার টাকা দেবার পালা । আমি ফস করে বলে বসি, তুমি কী সুন্দর দেখতে, বিমলা আন্টি । মাথা নিচু করে টাকা গুনছে বিমলা আন্টি । আমার এই কথায় তার নিচু চোখের পাতা,বসা গাল ,টিকলো নাক, গর্বিত চিবুক, কোথাও এতটুকু পরিবর্তন দেখতে পাই না । চোখ দুটো তুলে বলে, সত্তর রুপিয়া, ইয়ে লো তিস রুপিয়া ওয়াপস ।

আরও পড়ুন...

নবমোদি

হাট্টিম

১৯৯৫ সাল নাগাদ শুরু হলো চরম উত্তেজক অধ্যায় যাকে ভালো বাংলায় ক্লাইম্যাক্স বলে। সেপ্টেম্বরে গণেশ দুধ খেয়ে জানালেন আর দেরি নেই। অক্টোবরে ডিডিএলজে মুক্তি পেলো, আর ডিসেম্বরে পুরুলিয়ায় ঈশ্বর পুষ্পকরথ থেকে অস্ত্রবৃষ্টি করলেন। অন্যান্য অস্ত্রের সাথে ইউরেনিয়ামে রাঙানো একটা জাঙিয়াও পড়েছিলো, তার রং বলার জন্য একটি টক শোয়ের আয়োজন হয়। সেই লাইভ অনুষ্ঠানে সমস্ত জাতি গলার শির ফুলিয়ে বলে "রং দে মোহে গেরুয়া"। সমগ্র জাতি জাঙিয়া পরতে শুরু করে তাই ঈশ্বরকে উলঙ্গ হতে হয়। ঈশ্বর জাঙিয়াহীন দেখে দ্যাবাপৃথিবী একত্র হয়ে এক অপূর্ব আলখাল্লা রচনা করে, যার সুতো ইতালির আর বোতাম প্যালেস্টাইন থেকে আনা।

আরও পড়ুন...

ফেক আইডি

আহমেদ খান হীরক

অণুগল্প

আরও পড়ুন...

এক মিনিট নীরবতা

অমর মিত্র

দেখুন দাদা, ওঁর প্রথম বইটির জন্যই উনি বাংলা সাহিত্যে থেকে যাবেন, খুব ইমপরট্যান্ট লেখক।

অচিন এবার কোনো মন্তব্য করল না। প্রথম বই আসলে দ্বিতীয়। তার আগের পুস্তিকায় ছিল দুটি গল্প। পুস্তিকার গল্প দুটির কথা কি জানে শুভ্রাংশু? গল্পদুটির কথা মনে পড়ল অচিনের। ত্র্যস্ত নীলিমা এবং শবযাত্রা। পুস্তিকাটি হাতে হাতে ঘুরেছিল। তারাই পুস্তিকা প্রকাশের খরচ দিয়েছিল। কী আবেগ সেই সময়! কতকাল আগের কথা। কিন্তু এখন মনে হয় ওসব ছেলেখেলা। কম বয়সের অপরিণত চিন্তা। পৃথিবীতে দুঃখ, কষ্ট, কখনো দূর হয়েছে ? দারিদ্র সভ্যতার সঙ্গে আছে। সেই পশুপালনের যুগ থেকেই তার আরম্ভ। গুহামানবের ভিতরে হয়তো সাম্য ছিল। সবই নানা ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মহাজ্ঞানীরা। তারপর সব যেমন ছিল তেমনি আছে। দীপেন কী এমন গল্প লিখেছিল ! তারপর কী করতে পারল, কিছুই না।

আরও পড়ুন...

এলারামের ঘড়ি,মই ও ছোটকুমার

জয়ন্তী অধিকারী

এলারামের ঘড়িকে রবীন্দ্রনাথ অমর করে রেখে গেছেন।ঘড়িটি না বাজা পর্যন্ত সুখশয্যা ত্যাগ করতে কর্তাবাবুর ঘোরতর আপত্তি ছিল, এমনকি ঘরে আগুন লাগলেও না!
কিন্তু আমাদের মহারানীমাতার আপাতত সমস্যা হল, ঘড়ি বেজে, বেজে, বেজে কেলান্ত হয়ে থেমে গেলেও গোবুরাজা,বড়কুমার বা ছোটকুমার কেউই নয়নপদ্ম উন্মীলন করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেন না,এমনকি গোবুরাজার নাক যেমন ইমন রাগ ও কাহারবা তালে খরবায়ু বয় বেগের সুরে ডাকছিল,তেমনই ডাকে ,ডেকেই যায়,সেই অসাধারণ গীত যে সারাদিনে থামবে ,তার কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

গোবুমহারাজ ও কেবলীরানীর সঙ্গে গুরুর অনেক পাঠিকা ও পাঠকরা পূর্ব পরিচিত।তাঁদের অবগতির জন্য বলি,এনারা আর সেই সংসার অনভিজ্ঞ যুবক যুবতী নেই।দিল্লিতে এঁরা মোটামুটি একটি সংসার পেতে বসেছেন।বন্ধুবান্ধবরা অবশ্য সর্বদাই এই সাধের ফেলাটটিকে রেলওয়ে প্লাটফর্মের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন,তাতে মহারাজ বা রানীমা কারো কিছুই এসে যায় না।চতুর্দিকে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত বই,বই এবং আরো বই,দুটি নয়নতারা,একটি কাঁঠালিচাঁপা ও সাতটি নাম না জানা গাছ,বড়কুমার ও ছোটকুমারের অজস্র ভাঙা খেলনা,একটি ছোট খাওয়ার টেবিল,বেতের সোফা ইত্যাদি নিয়ে তাঁরা দিব্যি আছেন।

আরও পড়ুন...

ছলাৎছল, মূষিকেরা এবং একটি জ্যোৎস্না

পার্থসারথি গিরি

তবে কি এইখানে দিকবলয় বাসনারহিত? নদীর পিঠের ওপর কৃষ্ণকামবারি বারিধিসম্ভূত? স্থলভাগের পদপল্লবে এই ঊর্মিমালা এই লবণাক্ত এই মীনরঞ্জিত, এ কি প্রচলিতকে প্রত্যাখ্যান করে? তবে চলুন পাঠক, এই ঘাটলায় এসে দুদন্ড বসি দুজনে।

এই সন্ধ্যাকালে স্রোতধারা মৃদুস্রাবী, পরিবৃতা। ভাঙা শাঁখার মতো দিকবলয়ের গায়ে বলয়িত হয়ে আছে চন্দ্রমা, স্ফটিকরাজির মতো তারার কুচি ছড়াবে সন্ধ্যা সমাগত হলে। উচ্চকিত আলো থেকে হঠাৎ এইখানে চোখে ধাঁধা লেগে যেতে পারে। চোখ সয়ে এলে দেখা যাবে জলের ওপর একটি পানসি। ধারালো কিরীচের মতো।

চাঁদের ক্ষতমুখ গলে গেলে রস ক্রমে গড়িয়ে গড়িয়ে নামে মাতলার জঙ্ঘা বরাবর, এইখানে মাতলা পূর্বমুখী এবং পাড়ঘেঁষা। এইবার স্পষ্ট হয়েছে পানসির ওপর দুটি স্ত্রীলোকের ছায়ামূর্তি। বাতাসের ধাক্কায় হালে কচর কচর শব্দ হয়। পানসি আলতো কেটে কেটে দিচ্ছে জোছনামাখা নদীজলকে। দাঁড় দুটি ছোট ছোট ঢেউয়ের ধাক্কায় জলের ওপর ভেসে আছে অল্প গতির কারণে। ক্রীড়াবশত একটি শুশুক দাঁড়ের গায়ে পিঠ বুলিয়ে ফের ডুবসাঁতারে অতিদূর।

আরও পড়ুন...

দেবদাসী

প্রতিভা সরকার

-কুল ডাউন বাডি। স্যরি বাঙালি বাবু, তোমার এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি আছে। এই যে এখানে যত লোক দেখছ তার মধ্যে একশও পাবে না তোমার মতো। এরা সবাই বিশ্বাসী। যে কঠিন জীবন এরা কাটায় সেখানে দৈব মহিমায় বিশ্বাসী না হয়ে কোনও উপায় নেই। সো দে বিলিভ ইন মিরাকুলার হিলিং পাওয়ার অব দেবী গডেস ইয়ালাম্মা। ব্যাঙ্গালোরের আইটি হাব কিংবা কলকাতার শপিং মল আমার দেশ নয়। এখানে যা দেখছ, ভালমন্দ মিলিয়ে সেটাই ভারতবর্ষ। তোমার আমার দেশ।

-তুমিও কি বিশ্বাস কর বালা? এই কুপ্রথায়? এত অমানবিক...বাচ্চা মেয়েগুলোকে নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা…

আরও পড়ুন...

ক্ষুধার মন্দির

রুখসানা কাজল

গলির মোড়ে সালাম থরথর করে কাঁপে আর ভাবে গরীবের জন্যে কেউ নাই । না ভগবান না আল্লাহ। আর থাকলেও তারা সবাই মন্দির মসজিদে থাকে। তাদের সময় কোথায় গরীব পাড়ায় এসে গরীবগুবরোদের অবস্থা দেখে। রামু একটু লাবড়া পেয়েছে। সালাম বুদ্ধি দেয়, খাসনা ভাই। এটুকু মা আর বোনের জন্যে নিয়ে যাই চল। আমরা ত আবার খাবো।” দুজনে হিহি করে হাসে। ওরা এবার ক্ষিতিশ মহাজনের বাড়ি যাবে। শবে বরাতের রাতেও ওরা এইভাবে রুটি হালুয়া তুলে আনে। আর মাটির ঘরের বারান্দায় ধূলো মাখা মা বোন যখন হাসি হাসি মুখ করে খায় ওদের বুকের ভেতর আনন্দের নৌকাবাইচ বয়ে যায়। ঈদের সময় দুটো তিনটে শাড়ি সে নানান ভুজুং ভাজুং করে যোগাড় করে। রাসিদাসি সেই শাড়ি পেয়ে সালামকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ভাসায়। মাঝে মাঝে কোন বড় লোক মুসলমান যখন এতিমখানায় খাবার দেয় সালাম করুণ মুখে বেশি করে চেয়ে নেয়। পলিথিনের ব্যাগে খাবার নিয়েই সে ছুটে আসে নদীপারে। সেখানে জলটানার কাজ করে রমেশ।

আরও পড়ুন...

রুমির কবিতার গহন অরণ্যে

নীলাঞ্জন হাজরা

রুমির কবিতার অরণ্যে পথ চেনার পথে আমার সামনে আর একটা বড়ো প্রশ্ন রয়েছে৷ রুমির কবিতার মর্মোদ্ধার - এখানে রসাস্বাদন আর মর্মোদ্ধরের মধ্যে একটা সতর্ক পার্থক্য করছি - কি ইসলাম ধর্মকে গভীরে না জেনে এবং তাকে সম্পূর্ণ স্বীকার না হোক তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিশ্বাস ছাড়া সম্ভব? আমার মনে হয়েছে ইসলামের শ্রদ্ধাশীল উপলব্ধি অস্বীকার করে রুমির মর্মে পৌঁছনোর দাবি নাব্যতাকে স্বীকার না করে সাঁতার কাটার মতো!

মুশকিল হল পশ্চিম থেকে, মূলত মার্কিন মুলুক থেকে যে রুমি-পাঠের প্রবল বান ডেকেছে তাতে আমরা এই প্রাচ্যেও অনেকে ভেসে যেতে শুরু করেছি৷ রসের তোড়ে ভেসে যাওয়ার একটা আনন্দ আছে বইকি, কিন্তু তাতে অবগাহন আছে কি? রুমির কবিতা থেকে কী ভাবে ইসলামকে বেছে বার করে পরিবেশন করা হচ্ছে এক শতকেরও বেশি সময় ধরে তার বেশ একটা ধারণা মেলে রো‌জ়িনা আলির লেখা প্রবন্ধ “The Erasure of Islam from the Poetry of Rumi” থেকে৷

আরও পড়ুন...

পুজোর কবিতা

প্রথম পর্ব

"কবিতার কী ও কেন" বইতে কবিতাপাঠের "প্রয়োজন" সম্পর্কে লিখতে গিয়ে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী উল্লেখ করেছিলেন আসলেই প্রয়োজনহীনতার কথা। বস্তুত, যে সৌন্দর্য্যবোধের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে পাঠক অন্য চোখে এই পৃথিবী দেখতে চান, সেই বোধের অভাবেই যাঁর বর্তমান অবস্থান, তাঁকে এই অভাব পীড়া দেবেনা, দেয়ও না। তবু প্রচুর কবিতা লেখা হয়, বিস্তর বই ছাপা হয়, এবং তার ভগ্নাংশ কেউ কেউ পড়েও থাকেন। এই নিরন্তর চর্চার একমাত্র ভালো দিক হলো, এর থেকে লেখালেখির ক্ষেত্রটি ঊর্বর ও সম্ভাবনাময় থাকে। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে কবিতার পাতা সাদা বাংলায় সাদা থাকলে তা আসলে মোটেই সুবিধের ব্যাপার না। অবজ্ঞায় নিভৃতচর্চার গভীরতর কারণ খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই কবিতারই কাছে। আটষট্টি সালের বন্যায় ছাত্র ঠেঙিয়ে ঘোর কাদা ভেঙে ঘরে ফিরতে চাওয়া সেই মাষ্টারমশাইয়ের কথা আমাদের মনে করতে হবে যাঁর -
"কাদার ভিতর থেকে কলম আঁকড়ানো হাত কনুই পর্যন্ত উঠে আছে"। ("আমাদের ছাদে এল", জয় গোস্বামী)

চলে এলো উৎসব সংখ্যা প্রথম পর্বের কবিতা। এই পর্বে লিখেছেন কোয়েলী সরকার, বেবী সাউ, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সুমন মান্না ও কল্পর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়

আরও পড়ুন...

মান্টো - বোল কি লব আজাদ হ্যায়

বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত

অমৃতসরে তিরিশের দশকের আর পাঁচটা ভাবনা চিন্তা করা যুবকরা যখন ভগত সিং এবং বলশেভিক বিপ্লবের আগুনের আঁচ অগ্রাহ্য করতে পারছেন না, সেখানে মান্টোর তৈরী হয়ে ওঠার গল্পটা আমাদের দেশের অন্যান্য ভাষা সাহিত্যের আধুনিকতার সূচনাপর্বের পর্বের ছবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রচুর পড়ছেন, অসকার ওয়াইল্ড, চেকভ, পুশকিন, মপাসাঁ, হুগো। অমৃতসরেই সমাজবাদী 'মুসাওআত' পত্রিকায় কর্মরত আবদুল বারি আলিগ নামক এক সাংবাদিকের পাল্লায় পড়ে হুগো এবং অস্কার ওয়াইল্ড অনুবাদ করছেন, এবং বারি সাহেবের উদ্যোগে অমৃতসরেই এই সব অনুবাদ কিছু প্রকাশিত হচ্ছে ১৯৩৩-১৯৩৪ এর সময়টার মধ্যে।

এর পরে টিবিতে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং আমাদের সৌভাগ্য যে সেরেও উঠছেন, কিন্তু তার পরে লাহোরে চলে যাচ্ছেন একটা পত্রিকার কাজ নিয়ে। সেখান থেকে নাজির লুধিয়ানভির আমন্ত্রনে 'মুসাবিরা' পত্রিকাটিতে কাজ করার জন্য বম্বে আসছেন ১৯৩৬ নাগাদ। এর পরে কিন্তু আবার ১৯৪২ নাগাদ দিল্লী চলে যাচ্ছেন রেডিওতে নাটক আর নানা স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ নিয়ে, মন পড়ে থাকছে বম্বের বন্ধুদের কাছে।

আরও পড়ুন...

মাই ফ্রেন্ড! মাই রাইটার!

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়

মাণ্টোকে প্রথম চিনলাম আমি ইসমত চুঘতাইয়ের অনুভূতিতে চোখ ডুবিয়ে আমার| মিথ্যে বলব না, খুব পিতৃতান্ত্রিক, খুব এলোমেলো, এ-ও মনে হয়েছিল আমার, একটা স্তরে| তারপর মাণ্টোর জীবনের বহুমাত্রিকতা, বদগন্ধ গলিপথে ভেসে-চলা নদীর মতো যে-যাপন তা একটু-একটু করে পান করলাম আমি| মাণ্টো অনুবাদের কাজে হাত দিলাম| হ্যাঁ, সংকোচবশত তো বটেই| আর হাতে লেগে গেল কাঁচা রক্ত, পুঁজ, অসুস্থের কাশি, যৌনকর্মীর হাসি, নির্যাতন ও অশ্রুচিহ্ন, তা আজও মুছল না| ও! সে ছিল রবি| রবিশংকর বল| আমাকে ঘাড় ধরে মাণ্টো চিনিয়েছিল! যেভাবে মানুষ ডেকার্স লেন, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, চাঁদনি চক, চিৎপুর.....কোলকাতার লেন, বাই-লেন চেনে আর নেশায় বুঁদ হয়ে যায়| আমার হাতে ইসমত চুঘতাইয়ের জলছবি সেঁটে দিয়েছিল সে|

আরও পড়ুন...

শিন্টুরূপেণ

প্রতিভা সরকার

সেদিন সোশাল মিডিয়াতে এক ডাক্তারবাবুর সরল স্বীকারোক্তি অনেক লাইক কুড়িয়ে ভাইরাল হল দেখলাম। তিনি স্কুলে মেয়েলি সহপাঠীকে যৌন নির্যাতনে বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন এই ছিল সেই পোস্টের বিষয়বস্তু। বিস্তর হাততালি আর তার সারল্যের প্রশংসায় কান ঝালাপালা।

এই সামাজিক নোংরামিগুলি তখনই নিজের ময়লা হাত সামলায় যখন এদের বিরুদ্ধতায় দানা বাঁধে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ। দুর্বার যৌনকর্মীদের প্রতিষ্ঠান সবাই জানে। জানে না যেটা সেটা হল এরা খুব ভালো বইও প্রকাশ করেন। সেগুলো পড়ে এবং ওদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি আগে বিনেপয়সায় ফুর্তি করতে পাড়ার গুন্ডা থেকে কাউন্সিলর কেউই বাদ পড়তো না।

আরও পড়ুন...

আজকের পুরাণচর্চাঃ মৌলিক প্রশ্ন

সুজন ভট্টাচার্য

আজকের হিন্দুধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি বৈদিক ধর্মকে বিচার করতে যাই তাহলে দুটোর মধ্যে মৌলিক মিলের বদলে পার্থক্যই খুঁজে পাব। বৈদিক ধর্মে বিগ্রহ পুজোর ব্যবস্থা নেই; অথচ আজকের হিন্দুধর্ম মূলগতভাবে পৌত্তলিক। সেই পৌত্তলিক আচরণের মন্ত্রাদি অবশ্য বেদ থেকেও সংগৃহীত। এই রূপান্তরের মিসিং লিঙ্ক হলো বিবিধ পুরাণ, যার মাধ্যমেই প্রধান দেবতা হিসাবে বিষ্ণুর উদ্ভব। রাম এবং কৃষ্ণ তাই হয়ে গেলেন তাঁরই অবতার। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়া এবং তার পিছনের চাহিদাকে না বুঝতে পারলে, পুরাণ সংক্রান্ত যে কোনও আলোচনাই তাই খণ্ড। আর যা খণ্ড সত্য, তা হয় অসত্য অথবা অর্ধস্ত্য। আজকের পুরাণ চর্চার ক্ষেত্রে প্রায়শই এই বিষয়টীকে মাথায় রাখা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন...

সিজনস অব বিট্রেয়াল – নবম পর্ব

দময়ন্তী

জামুকে দেখলে টুনুর মনে হয় ইতিহাস বইয়ের খানিক টুকরো যেন হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে। কতরকম অজানা সব গল্প যে বলে। সরলা নেমে দেখেন ছেলে বেশ পরিস্কার শার্ট প্যান্ট পরে ভব্যিযুক্ত হয়ে এসেছে। খাবার বেড়ে সামনে বসে কথা বলতে বলতে খেয়াল করলেন এও আজ একটু অন্যমনস্ক। হুঁ, হাঞ্জি আর ঘাড় নেড়েই কাজ চালাচ্ছে। ওর হিন্দিবাংলা মেশানো তড়বড়ে কথা আজ নেই। খেয়ে হাত মুখ ধুয়ে, থালা গেলাস মেজে ধুয়ে রেখে কিছু কাজ আছে কিনা জিগ্যেস করে তারপর ইতস্তত ভাবে জানায় ওর একটা আর্জি আছে মা’জির কাছে। ঢোলা শার্টের পকেটে হাত গলিয়ে তুলে আনে একটা কাগজে মোড়া পাতলা কি যেন। ঐ জিনিষটা সে সরলার কাছে রেখে যেতে চায়, ওর থাকার কোন ঠিক নেই, এটা আরেকজনের জিম্মা করা জিনিষ, চুরি হয়ে গেলে উপরওলার কাছে অপরাধী হয়ে যাবে জামু। সরলা বলেন যার জিনিষ তাকেই দিয়ে দিলে তো হয়। জামু নাকি জানেই না সে মানুষ কোথায়। আবার ওর মুখ থমথমে হয়ে যায়, চোখদুটো কেমন অচেনা।

আরও পড়ুন...

৩৭৭ ধারার প্রতীকি রাজনীতি: অপরাধিকরণের অবসান?

অনিরুদ্ধ দত্ত

৩৭৭ ধারা আংশিক ভাবে বাতিল করে শীর্ষ আদালতের বিচারকেরা নিঃসন্দেহে একটি সুদূরপ্রসারী এবং ভালো পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল যে রায়টি শুধুমাত্র চার দেওয়ালের মধ্যে ব্যাক্তিগত যৌনক্রিয়ার অধিকারেই আবদ্ধ নয়। বরং রায়টি “right to privacy” অর্থাৎ ব্যাক্তিগত পরিসরের অধিকারের মধ্যে প্রকাশ্য স্থানে নিজের যৌনতা এবং লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ করার স্বাধীনতাকেও ধরেছে। যে কারণে রায়টি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত যৌনসম্পর্কের অধিকারের ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষাক্ষেত্র এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য প্রতিরোধ করতেও কাজে আসবে। সেই হিসেবে ৩৭৭ ধারা ঘিরে যে প্রতীকি রাজনীতি গড়ে উঠেছিল তা অবশ্যই কিছু সাফল্য এনে দিয়েছে। কিন্তু ৩৭৭ ধারার অবসানকে যদি আমরা অপরাধমুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখি বা অধিকারপ্রাপ্তির ইতিহাসের সূচনা হিসেবে দেখি, তাহলে হয়ত ভুল করব।

আরও পড়ুন...

বহু দূরে সরে যাওয়া একটি কাছের দেশে যাওয়া

শুভাশিস মৈত্র

নীলাঞ্জন হাজরার ইরান ভ্রমণ। বইয়ের নাম ‘ইরানে’। ৯৫ পাতার বই। ছেপেছে দীপ প্রকাশন। ছবি, অলঙ্করণ, প্রচ্ছদ করেছেন হিরণ মিত্র।

আরও পড়ুন...

Tags :