বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মানবিকতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

হর্ষ মন্দার, অনুবাদ - স্বাতী রায়

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ মনিটর হিসাবে, আক্টিভিস্ট হর্ষ মন্দার জানুয়ারিতে দুটি আটক শিবিরে যান। এই লেখাটি তাঁর অভিজ্ঞতার হাড়-হিম করা বিবরণ। প্রথম প্রকাশঃ ২৬ শে জুন, ২০১৮। লেখক ও স্ক্রোলের অনুমতিক্রমে প্রকাশিত।


ছড়িয়ে দেওয়া পরিবারগুলি
গত দশ বছর ধরে কোকড়াঝাড়ে হালিমা খাতুন নামে এক মধ্যবয়সী মহিলাকে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর চারটি সন্তান তাঁর স্বামীর সঙ্গে থাকে, স্বামী নওগাঁ জেলার একটি সরকারি স্কুলে চৌকিদার হিসেবে কাজ করেন। তার সকল সন্তান, বাবা-মা এবং ছয় ভাই বোন সবাই ভারতীয় নাগরিক - শুধু তাঁকে একা অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। যখন তাঁকে আটক করা হয়, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় ছেলের বয়স ষোল বছর। তাঁর কোলের ছেলেটি কিছুদিন তার সাথে আটক শিবিরে ছিল। এতে তাঁর একাকীত্ব কিছুটা কম ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কিছুদিন পরে ছেলেকে তার বাবার হাতে তুলে দেয়। খাতুনের পরিবার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এমনকি টাকার বন্দোবস্ত করে তাঁরা উকিল দিয়েছেন, গুয়াহাটির হাইকোর্টে আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনো তাঁর স্বাধীনতার স্বপ্ন অধরাই রয়েছে।

আরেকজন হালিমান বেওয়া, একজন বয়স্ক বিধবা। বিদেশিদের ট্রাইব্যুনাল তাঁকে একজন অবৈধঅভিবাসী বলে ঘোষণা করে এবং তাঁকে আটক শিবিরে পাঠানো হয়। তাঁর একমাত্র ছেলে তাঁদের ছোট্টএকটি বাড়ি শুদ্ধ সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে মামলা লড়ছে।তিনি এখনও উচ্চ আদালতে একটি আপিল ফাইল করে ঊঠতে পারেন নি।

নওগাঁর আরতি দাস এই আটক শিবিরে আছেন গত তিন বছর ধরে – আর তাঁর স্বামী আটকে আছেন তেজপুরে। কিন্তু তাঁর দুই সন্তান ভারতীয়। দাসদের একজন উকিল লাগিয়ে মামলা লড়ার মত পয়সা নেই।

বত্রিশ বছরের জালিমা খাতুনকে যখন আটক করা হয়, তাঁর ছেলে তখন মাত্র ১৪ দিনের। তার পর থেকে চার বছর কেটে গেছে – বাচ্চাটি একবারও বাইরের জগত দেখেনি।

গোয়ালপাড়ার পুরুষের আটক শিবিরে আমরা সাতাত্তর বছরের অনন্ত শর্মাকে দেখলাম। অনন্ত শর্মা একটি রাস্তার ধারের খাবারের দোকানে, সাধারণত যাকে "লাইন হোটেল" বলে, রান্নার কাজ নিয়ে ত্রিপুরা থেকে আসামের নলবাড়ি জেলায় আসেন। তাঁর পরিবার, সন্তানাদি সহ, ত্রিপুরাতেই ছিলেন। তিনি আসামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং আরেকটি পরিবার স্থাপন করেন। ছয়বছর আগে, বিদেশিদের ট্রাইব্যুনালের একটি একপাক্ষিক আদেশের ভিত্তিতে শর্মা ও তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। শর্মা বলেন যে তিনি আদৌ জানেনই না কীভাবে এবং কখন মামলাটি দায়ের হয়েছিল এবং কোর্টে উঠেছিল।তিনি পুলিশ বা ট্রাইবুনাল থেকে কোনও নোটিশ পাননি। তিনি এও বলেন যে গ্রেফতারের পর, পুলিশ ধুবরি জেলার মানকাছারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের নিয়ে যায় এবং তাদের বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিতে চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনী তাদের হটিয়ে দেয়। তাঁদের ফিরিয়ে এনে আলাদা করে দেওয়া হয় আর আটকশিবিরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় - তাঁর স্ত্রীকে পাঠানো হয় কোকড়াঝাড়ে এবং তিনি থাকেন গোয়ালপাড়াতে। শর্মা জানিয়েছেন যে, এই ছয় বছরে, কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতিক্রমে কোকড়াঝাড় কেন্দ্রে তিনি একবার কয়েক মিনিটের জন্য তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। তিনি অন্যদের চেয়ে বেশী ভাগ্যবান। যখন শর্মা ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তাঁদের সন্তানেরা কিশোর- ছেলেটির ১৪ বছর বয়স এবং মেয়েটির বয়স ১৭; সেই থেকে তাঁদের আর সন্তানদের সঙ্গে দেখা হয়নি; এমনকি সন্তানেরা কোথায় আছে বা কি করছে তাও তাঁরা জানেন না।

৬৩ বছরের নূর মোহাম্মদ অসুস্থ এবং কানে শোনেন না। তাঁকে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে আটক করা হয়। তিনি খুব দুর্বল এবং মানসিকভাবে ঘেঁটে ছিলেন – এমনকি আমাদের সাথে স্পষ্টভাবে কথা বলতেও পারছিলেন না এবং তাঁর সঙ্গী বন্দীদের তাঁকে সাহায্য করতে হচ্ছিল। পেশায় দিনমজুর এই মানুষটি একদিন গোয়ালপাড়ায় নিজের বাড়ীতে তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য একটি নোটিস পান। তিনি দাবি করলেন যে তিনি তার ভারতীয়নাগরিকত্ব প্রমানের জন্য যথেষ্ট নথিপত্র জমা দিলেও বিদেশি ট্রাইব্যুনাল তাতে সন্তুষ্ট হয় নি । তাঁর ধারনা তিনি উকিল দিতে পারেননি বলেই ব্যর্থ হয়েছেন। আটক হওয়ার পর থেকে, তাঁর সঙ্গে আর পরিবারের কারোর দেখা হয় নিএবং তাঁর উচ্চ আদালতে মুক্তির আবেদন করারও কোন উপায়নেই।

মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে আমার প্রধান সুপারিশ ছিল সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই আটক-হওয়া মানুষদের অবস্থা নির্ণয় করার জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি ব্যবস্থা জলদি চালু করা। ২১ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সরকার একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতে এবং বন্দীদের জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারকে সম্মান জানাতে বাধ্য। আটকে থাকা অবস্থাতেও তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকারের প্রশ্নে কোন আপোস করা যায়না। আইনি প্রতিনিধিত্ব, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এই সব সাধারণ সুবিধা না দিয়ে, সাধারণ অপরাধী হিসাবে তাঁদের জেলের চৌহদ্দিতে আটকে রাখা আদতে তাঁদের মর্যাদাসহ জীবনযাপনের পরিপন্থী এবং তাঁদের আইনগত ন্যায্য অধিকারের লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক আইনও স্পষ্টভাবে বলেছে যে অভিবাসীদের জেলে আটকানো যাবেনা, এবং তাঁরা অপরাধী নন। জাতিসংঘের শরণার্থীদের নির্দেশনার হাইকমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত আটক শিবির গুলিতেই কেবল কাউকে আটকে রাখা যাবে। নির্দেশনাগুলি বলে যে, সরকার “শরণার্থী বা অভিবাসীদের, অপরাধ আইনের অধীনে বন্দী ব্যক্তিদের থেকে আলাদা করে কোন জায়গায় রাখতে” বাধ্য। ২0১২ সালে প্রকাশিত জাতি সংঘের নির্বিচারে আটকদশার বিষয়ে কার্যনির্বাহীপরিষদের (UN Working Group on Arbitrary Detention) রিপোর্টে, নয় নং নীতিতে বলা হয়েছে "শরণার্থী বা অভিবাসীদের রক্ষণাবেক্ষণ, এই উদ্দেশ্যটির জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পাবলিক জায়গায় করা দরকার; তবে বিবিধ বাস্তব কারণে যদি সেটা করা সম্ভব নাও হয় সেক্ষেত্রেও তাঁদের অবশ্যই আইনতঃ অপরাধীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কোন জায়গায় রাখা উচিত।" UNHRC এও বলে যে আটক-আদেশ কোনভাবেই শাস্তি্মূলক নয়। জেলখানা, কারাগার এবং কারাগার বা জেলের মত ু’রে যেসব জায়গা ব্যবহার করা হয় সে সব জায়গাগুলিকে এ বাবদে ব্যবহার করা উচিত না।

মানবিক বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এও বাধ্যতমূলক যে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবারকে কোনও পরিস্থিতিতেই আলাদা করা যাবেনা। ফলে জেলের মধ্যে নয়, এমন খোলা সপরিবার আটককেন্দ্রের প্রয়োজন।

ভারতীয় কিশোর ন্যায়বিচার আইন (Indian juvenile justice laws )-এ প্রযোজ্য শিশুরা নিজেরা বা তাদের বাবা-মারা বিদেশি বলে পরিগণিত হলে, তাদের নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ কিশোর ন্যায়বিচার আইনের অধীনে তৈরি শিশুকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনটি যে শিশুদের আটক করে রাখা হয়েছে তাদের এবং যে শিশুরা স্বাধীন কিন্তু যাদের বাবা-মা রা আটক হয়ে আছেন উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

যে সব আটক হওয়া মানুষেরা মানসিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন, তাঁদের ভারতীয় মানসিক অক্ষমতা আইন অনুসারে সাহায্য করতে হবে। মানসিক প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে রাষ্ট্রের বাধ্যতার ধারণাটি আসে সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদের থেকে, যেটা জাতীয়তা নির্বিশেষে, এমনকি বিদেশিদেরও ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এছাড়াও, নির্দিষ্ট বয়সের উপরে কাউকে আটক করে রাখা উচিত নয়।

অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক করে রাখা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দুইয়েরই পরিপন্থী। জাতিসংঘের নির্বিচার আটকদশার বিষয়ে কার্যনির্বাহীপরিষদ জানিয়েছে যে আটকদশা কোনমতেই "সম্ভাব্য অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়"।UNHRCএর নির্দেশিকা ৪.২ বলছে যে যদি নিতান্ত প্রয়োজনীয়, সর্ব পরিস্থিতির বিচারে যুক্তিসঙ্গত এবং ন্যায্য উদ্দেশ্যেরসঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়, একমাত্র তখনই আটকদশার পথটি নেওয়া যেতে পারে। উদ্দেশ্যসাধনের জন্য নিতান্ত দরকার মনে না হলে, কর্তৃপক্ষের এ বাবদে কোন পদক্ষেপনেওয়া উচিত না। UNHRC-এর মতে, আটকের প্রাথমিক আদেশ এবং পরবর্তীকালে তার যে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের ক্ষেত্রেই এই সামঞ্জস্য থাকছে কিনা তা বিচার করা দরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চোখে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট-কালের জন্য বন্দীকরে রাখাটা স্বেচ্ছাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ধরনের খামখেয়ালি আচরণের প্রতিকার হিসেবে, জাতীয় আইনে এই ধরণের আটকে রাখার সর্বাধিক সময়সীমা কী হবে, সেটা জানানো উচিত। তা না হলে যা হচ্ছে, তাই হবে, আটকদশা লম্বা হতে পারে এবং কখনো কখনো তার শেষ, হ্যাঁ, মৃত্যুতে।

প্রয়োজন: একটিস্পষ্ট, সমবেদনামূলকনীতি
আমাদের সংবিধানযে জীবনের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করেছে, তা শুধু নাগরিকদের জন্যেই নয়, যাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি বা যাঁদের নাগরিকত্বের বিরোধিতা করা হয়েছে, তাঁদের প্রতিও প্রযোজ্য। ন্যায়বিচার এবং পর্যাপ্ত, বিনামূল্যে আইনি প্রতিনিধিত্ব ছাড়া আটকে রাখা তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। বিদেশি বলে গণ্য হওয়া মানুষদের কি ভাবে দেখা হবে এবং কাউকে বিদেশি ঘোষণা করার ফল কী হবে সে বাবদে উচিত ভারতীয়রাষ্ট্রকে একটি পরিষ্কার দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়ন ও ঘোষণা করতে বাধ্য করা কোর্ট এবং মানবিক জনমতের কর্তব্য। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি যদি হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ লোককে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করে, তবে রাষ্ট্র কি তাঁদের সবাইকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকেরাখতে চাইবে? যাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হল, তাঁদের কী হবে, সেটাও নীতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ তাঁদের নিতে অনিচ্ছুক– তাহলে কি তাঁরা আজীবন এই ক্যাম্পে কোনরকম পরিত্রাণের সম্ভাবনা ছাড়াই আটকে থাকবেন? এ কি আদৌ আইনসঙ্গত, সংবিধানসম্মত এবং ন্যায়সম্মত?

আমি যে ধরণের আশংকা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানিয়েছিলাম, সেরকমই কিছু সংশয় প্রকাশ করে জাতিসংঘের চার বিশেষ প্রতিনিধি ১১ই জুন ভারত সরকারকে একটি চিঠি লেখেন। তাঁদের চিঠিতে তাঁরা আসামের এক মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, "আসামে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করতেএনআরসি করা হচ্ছে" এবং "যাদের নাম এনআরসিভুক্ত হবে না, তাদের অবশ্যই দেশ ছাড়তে হবে"। তাঁরা বলেন, "আসামের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যাঁদের মুসলমান এবং বাঙ্গালী বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষভাবে বিরূপ বলে মনে করা হয়, তাঁরা বহু প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে পরিবর্তিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য , নাগরিকত্ব যাচাইএর কাজে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারেন"। জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধিরা এও দেখেছে্ন যে "আসামে বাঙালি মুসলমান সংখ্যালঘু মানুষদের তাঁদের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুত্বের কারণে নাগরিক-সুবিধা পেতে এবং উপভোগ করতে অনেক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এই বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে "।

ভারতের নীতিগুলিকে কিন্তু অনেক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। এদের মধ্যে প্রথমটি হলো ভারতের সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন। কিন্তু সবার আগে এই নীতিগুলির সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। বিপুল সংখ্যক দরিদ্র, ক্ষমতাহীন মানুষ, যাঁদের রাতারাতি নিজের জায়গায় বিদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হল এবং অন্য দেশেও যাঁরা অনভিপ্রেত, তাঁদের প্রতি জনতার সহানুভূতি এবং তাঁদের ন্যায়বিচারের অধিকারকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আসামের আটক শিবিরের বন্দীরা যে দশা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, হাজার হাজার মানুষকে সেই একই দুর্দশায় পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে হবে। শুধুমাত্র নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারেননি বলে, বা বলা ভাল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় নি বলে নারী, পুরুষ, শিশুদের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের থেকেও খারাপ অবস্থায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবাস আদতে ভারতকেই খুব ছোট করে দেয়, সরকার ছোট তো হয় বটেই, তার থেকেও বেশি মাথা হেঁট হয় এই আমাদের, ভারতবর্ষের মানুষজনের।

প্রথম পর্ব



9 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক 
শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: মানবকিতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

গ্রুপে পড়লাম এখুনি।আসামে এনয়ারসিতে ছেলে এবং মায়ের না ওঠায় দুজন আত্মহত্যা করেছেন। বিনয় চাঁদ,দেবেন বর্মন। আরো কত যে এমন হবে! এই ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর বিবরণ পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, এই ক্যাম্পে জীবন কাটানোর চেয়ে লোকে জীবন শেষ করে দেওয়াই ভাল কেনই বা মনে করবেনা? এটাও কোন জীবন? মেক্সিকো ট্রাম্প নিয়ে কত হইচই, হয়ত আরো খারাপ দশা বলা চলে একে। সেই হইচই কই?


Avatar: pi

Re: মানবকিতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

উপরের জন আমি।
Avatar: দ

Re: মানবকিতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

এটা প্রথম পর্বেই জিগ্যেস করব ভেবেছিলাম এই লেখাটায় "মানবিকতা' বদলে মনবকিতা লেখা হয় কেন? হ্রস্ব-ইকার একঘর ডানদিকে সরে যাওয়াটা কি আসামী ভাষার শব্দ?
Avatar: দ

Re: মানবকিতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

'মানবিকতা'র বদলে মানবকিতা
Avatar: মানব

Re: মানবকিতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

এই যাহ, দাঁড়াও ঠিক করছি ঃ/
Avatar: Du

Re: মানবিকতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

কাছাড়কে অসমের থেকে আলাদা করে দিয়ে প্রবলেমটার কমপ্লিকেশনটা কিছুটা কমবে মনে হয়। এই প্রস্তাবের রিয়াকসন অসমীয়াদের দিক থেকে খুব একটা নেগেটিভ হবে বলে আশা করি না।


Avatar: স্বাতী রায়

Re: মানবিকতা ও বৈধতার অন্ধকার চেহারা : আসামের 'বিদেশি' আটক-শিবিরের ঝাঁকি-দর্শন - দ্বিতীয় পর্ব

ওই 'ই'কারের ভুল টা আমার করা টাইপো - চোখেই পড়ে নি। স্যরি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন