বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

GKCIET আন্দোলন- এই মুহূর্তে

সুজন ভট্টাচার্য

মালদার GKCIET -র অবস্থানরত প্রতারিত ছাত্রছাত্রীরা আজ কলেজ ক্যাম্পাসেই আবার নিগৃহীত হয়েছে। শুনলাম, এমনকি মেয়েদের গায়েও হাত দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত কলেজের অনুগৃহীত যে সব শিকশকেরা এর আগে 'সিসি টিভি না থাকলে রেপ করে' দেবার হুমকি দিয়েছিল, তারাই এর উদ্যোক্তা। এত উত্তেজিত কেন এরা? ৮০০ ছেলেমেয়ে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কায় পড়ে রাস্তায় নেমেছে। কেউ যদি মনে করে, আশঙ্কাটা ভুল, তাহলে সে সেটাই প্রকাশ্যে বলুক না কেন। জবরদস্তি করতে গেলেই তো বরং অন্য গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে।

সম্ভবত, এই দলের মোদ্দা বক্তব্য, ২৯ আগস্টের গেজেট নোটিফিকেশনের পরে GKCIETর সমস্যা সব মিটে গেছে। তাই আর আন্দোলনের কোনও প্রয়োজন নেই। এই যুক্তি নিয়ে পরে বলছি। যদি ধরেও নিই ২৯ অগস্টের গেজেট বিজ্ঞপ্তির পরে আর কোনও সমস্যা নেই, তাহলে এটাও মেনে নিতে হবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সমস্যা ছিল। তার মানে ৮০০ ছেলেমেয়ে দিনের পর দিন মিথ্যে কথা বলেনি।

২০১০ সালে যে মড্যুলার সিস্টেম চালু করা হয়েছিল, তার কোনও মান্যতা ছিল না। আট বছর ধরে যে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বে-আইনি ভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে অ-অনুমোদিত কোর্সে ছাত্রভর্তি করিয়ে যাচ্ছিল, তার কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকদের সাফাই গাইবার ধৃষ্টতা হয় কোত্থেকে? এরা সবকটা জালিয়াত। প্রতারিত ছাত্ররা যে এদের বিরুদ্ধে ফৌজিদারি মামলা করেনি, সেটাই এদের চোদ্দপুরুষের কপাল।

এবার দেখা যাক, সমস্যা সত্যিই মিটল কিনা। ২৯ আগস্টের গেজেট নোটিফিকেশন মড্যুলার সিস্টেমকে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে কতগুলো প্রশ্নও উঠে আসছে –

১/ ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ভোকেশনাল কোর্সের সার্টিফিকেট (প্রথম ২ বছরের পরে), পলিটেকনিক ডিপ্লোমা (দ্বিতীয় ২ বছরের পরে) এবং বি টেক ডিগ্রী (তৃতীয় ২ বছরের পরে) কে দেবে? GKCIET কোনও অটোনমাস সংস্থা নয়, ডিমড বা সেল্ফ ইউনিভার্সিটি নয়। যতক্ষণ না তাকে সেই মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে, তার সার্টিফিকেট দেবার এক্তিয়ারই নেই। আর যদি দেয়ও, সেগুলো মূল্যহীন। ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রদেয় বিভিন্ন স্তরের সার্টিফিকেট কোন প্রতিষ্ঠান দেবে, সেটা কিন্তু এখনো বলা হয়নি।

২/ ২০১৮র জুন মাসে MAKAUT এই কলেজের ডিগ্রী কোর্সকে অনুমোদন দিয়েছে। সেটা কিন্তু ৪ বছরের রেগুলার কোর্স, যা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হওয়া যায়। MAKAUT কিন্তু মড্যুলার সিস্টেমের ডিগ্রী দেয় না। তাহলে কি মড্যুলার সিস্টেম উঠে গেল? অথচ ২৯ আগস্টের নোটিফিকেশন দেখে তেমনটা মনে হচ্ছে না। তাহলে?

৩/ একই কথা WBSCTE র দেওয়া অনুমোদনের ক্ষেত্রেও সত্য। তাদের তো ২ বছরের কোর্স নয়, ৩ বছরের। সবথেকে বড় কথা, যদি আর মড্যুলার সিস্টেম না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় মডিউল যারা পাস করেছেন, তারা ডিগ্রীতে কোন ইয়ারে ভর্তি হবেন? প্রথামাফিক সেকেন্ড ইয়ারে? সেই ভর্তিটা এই কলেজে হলেই তো সমস্যা মিটে যায়। কারণ MAKAUT র অধীনে এই কলেজে সবে প্রথম বর্ষের ভর্তি হয়েছে। একই কথা জেক্সপোর মাধ্যমে পলিটেকনিকে ভর্তির ক্ষেত্রেও সত্য।

যতক্ষণ না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ GKCIET র সমস্যা কিন্তু মিটছে না। যারাই চোখ রাঙান না কেন, তারা সহজে কিছু করে উঠতে পারবেন না। এরা মাসের পর মাস লড়ছে, এখনো লড়ে যাচ্ছে। কাজেই সমাধান না মেলা পর্যন্ত যে লড়ে যাবে, সেটা নিশ্চিত। মাসলম্যানরা হাত ঘোরাতে এসে বরং এদের সংগ্রামী মানসিকতাকে আরো উশকে দিচ্ছেন। তাদের তাই ধন্যবাদই প্রাপ্য।



209 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ টাটকা খবর 
শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন