বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

দেবর্ষি দাস

(এই প্রবন্ধ লেখা হয়েছিল দিন তিনেক আগে। তখনও এন আর সি বা নাগরিকপঞ্জির দ্বিতীয় বা চূড়ান্ত খসড়া বেরোয়নি। দ্বিতীয় খসড়া বেরোনোর পর জানা গেল গোটা আসামে ৪০ লক্ষ মানুষ নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। বাম মহলের নিস্তব্ধতা আরো মুখর হয়ে উঠেছে।)

নাগরিকপঞ্জি বা এন আর সি’র নবায়ণ নিয়ে, বন্দি শিবিরে হাজার খানেক সন্দেহজনক বিদেশিকে আটকে রাখা নিয়ে, বাম মহলে কোনো প্রতিবাদ নেই। ওঁরা কি জানেন না যে খাঁটি, বৈধ, ষোল আনা ভারতীয়দের ভুয়ো অভিযোগে বছরের পর বছর আটকে রাখা হচ্ছে ? বা, নাগরিকপঞ্জিতে নাম ওঠানোর কাগজপত্তর খুঁজে না পেয়ে লোকে উন্মাদের মত ছোটাছুটি করছে, উৎকণ্ঠায় অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে? এটা সত্যি যে, যাদের বন্দি শিবিরে আটক করা হয়েছে তাদের ৭০% মুসলমান। বাকিদের মধ্যে হিন্দুরা থাকলেও তারা বেশিরভাগ বাংলাভাষী। কিন্তু ধর্ম বা ভাষার হিসেব তো করে ভূমিপুত্র রাজনীতি করনেওয়ালা দক্ষিণপন্থীরা। বাম রাজনীতির কাছে প্রাথমিকতা হওয়ার কথা কে নিপীড়িত, কে নয়। যদি বামপন্থীরা ভুলও করে, সে ভুল ক্ষমতাহীনের পক্ষ নিয়ে করলে জায়েজ থাকে, ক্ষমতাবানের পক্ষে করলে নয়। মানে, এরকমই হওয়ার কথা ছিল। যা দেখা যাচ্ছে আসামে, বাম ও দক্ষিণের কে কোনটা তফাত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এই আজব নিষ্করুণ নিস্পৃহতার কারণ কী?

ভেবে চিন্তে গোটা চারেক কারণ খুঁজে পেলুম, আরও বেশিও থাকতে পারে।

এক, পুরো রাজনীতি আজকে দক্ষিণ দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দেশে বলুন বা আন্তর্জাতিক স্তরে, দক্ষিণপন্থী প্রবণতা হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সাহেব থেকে বৃটেনের ব্রেক্সিটওয়ালারা থেকে আমাদের খাঁটি স্বদেশি মোদি সরকার – হক্কলে ভূমিপুত্র রাজনীতির ডালে দক্ষিণমুখী বাসা বেঁধেছেন। আসাম ব্যতিক্রম নয়। আসাম আন্দোলনের সময়ে কিন্তু ছবিটা এরকম ছিল না। বামপন্থীরা হিংস্র জাতীয়তাবাদীর স্রোতের প্রতিকূলে গিয়েছিলেন, নিজের রাজনীতি রাখার ধক দেখিয়েছিলেন। বিনিময়ে পার্টি (সি পি আই, সি পি এম – দুই পার্টিই) বহু কমরেডের শাহাদত স্বীকার করেছিল। আজ বছর চল্লিশ পরে দলগুলোর সেই তাত্বিক বা ব্যবহারিক ক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না যে একটা ঠিকঠাক রাজনৈতিক লাইন নিতে পারে। ধর্ম, ভাষা, জাতির রাজনীতির যাকে পরিচিতির রাজনীতি বলব (আইডেন্টিটি পলিটিকস), তার ফাঁদে না পড়ে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে। দলের বাইরের সাধারণ বামমনস্ক মানুষদের অবস্থা তথৈবচ। বামপন্থীরা এক সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কাছে নিজেদের বিশ্বাস বন্ধক রেখেছেন। এই জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ক্ষমতাধরদের ঘাঁটায় না। রাষ্ট্র ও তার সামরিক গা-জোয়ারিকে সয়ে নেয়। পুঁজির আগ্রাসনকে প্রশ্নই করে না। বরঞ্চ অঞ্চলের অনুন্নয়নের জন্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, স্থানীয় সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করে অভিবাসী শ্রমজীবীদের। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। জোটের শীর্ষে আছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সাথে আছে অসম গণ পরিষদ, বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট, রাভা জাতীয় ঐক্য মঞ্চ ইত্যাদি ভূমিপুত্রস্বার্থ রক্ষাকারী দল । জোটের মূল স্লোগান হল স্থানীয়কে রক্ষা কর। এই স্থানীয়তা হিন্দুধর্ম দিয়ে হতে পারে, অসমিয়াভাষা বা অন্য জনজাতি গোষ্ঠীর পরিচয় দিয়েও হতে পারে। জোট কাদের হাত থেকে স্থানীয়কে রক্ষা করছে? স্পষ্টত, বহিরাগতদের থেকে। জোট সহজেই জিতেছিল। কংগ্রেস সরকারের দুর্নীতি, অপদার্থতা অবশ্য বিজয়ের রাস্তা সুগম করে দিয়েছিল।

দুই, নিস্তব্ধতার কারণ হয়তো উগ্র জাতীয়তাবাদীদের ভয়। মনে রাখা যাক নাগরিকপঞ্জি নবীকরনের বুদ্ধি মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের মাথায় আসে নি। ২০০৫ সালে তরুণ গোগোইয়ের কংগ্রেস আমলে নবীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, পাইলট ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়। তৃণমূলস্তরে বিশেষ করে অভিবাসীদের মধ্যে নবীকরন নিয়ে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। আমসু’র (অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) প্রতিবাদে পুলিশ গুলি চালিয়ে চার যুবককে মেরে ফেলে । এসব দেখে সরকার নবীকরন মুলতুবী রাখে । ২০১৪ সালে যখন সুপ্রীম কোর্ট নবীকরনের আদেশ দিল তখন কিন্তু প্রতিবাদ বিশেষ দেখা গেল না। কেন গেল না? একটা কারণ হয়তো ভয়, সংখ্যালঘুর সংখ্যাগুরুর প্রতি ভয়। এ কথা সত্যি, যে সংগঠনগুলো একসময় আসাম আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল আজকে তাদের করুণ হাল। ছাত্র সংস্থা বা অগপ কারোরই আর নতুন করে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলার বা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এরা ভাজপা’র লেজুড় হয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে চাইছে, বা সুপ্রীম কোর্টের খড়কুটো সম্বল করছে। তবে, এদের পেছনে আছে গোটা প্রতিষ্ঠান, আর প্রতিষ্ঠান সরে যাচ্ছে ডানদিকে। ফলে জাতীয়তাবাদীদের হেলাফেলা করা যাচ্ছে না।

তিন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নিচুতলার দূরত্ব বাড়ছে। গোটা দুনিয়াতে আর্থিক অসাম্য বাড়ছে, ভারতে তো বটেই। যাঁরা সরকারি নীতি টীতি নিয়ে চর্চা করেন, খবরের কাগজে প্রবন্ধ লেখেন, টিভিতে বিতর্ক করেন তাঁদের থেকে আম জনতার দুনিয়া দূরে চলে যাচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের জীবনে তুঘলকি ফরমান কী ভীষণ নাড়াচাড়া ফেলে দিতে পারে তা নিয়ে এঁদের ধারণা অস্পষ্ট। শহুরে বুদ্ধিজীবীবর্গ থাকেন নাগরিকদের দুনিয়ায়। ইন্টারনেট, আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের খাতা ইত্যাদি বৈধতার দস্তাবেজে সুরক্ষিত দুনিয়া। বৈধ নাগরিকদের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পাওয়ার অনির্বচনীয় উদ্বেগ এই দুনিয়াবাসীরা আঁচ করতে পারেন না। বিদেশি আদালত (আসামে দেশি-বিদেশি বিচার করার বিশেষ আদালত) শমন পাঠালে কী যন্ত্রণা জনখাটা মুসলমান কামলাকে গ্রাস করে তা এঁদের বোধের বাইরে। খুদা না খাস্তা, যদি এনারা ভুলেও শমন পান, মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা চটপট মিটে যায়। কেননা এনারা এমনিতেই বৈধ। অবৈধতা এঁদের গা থেকে হাঁসের পিঠের জলের মত ঝড়ে পড়ে। “বাংলাদেশি যদি না হয়, প্রমাণ করে দেখাক না।” – বৈধ বুদ্ধিজীবীদের থেকে এমত নিষ্পাপ প্রশ্ন প্রায় শোনা যায়। ওনাদের দুনিয়ায় সব কিছু প্রমাণ করা যায়। সব কিছু প্রমাণ করার দরকারও থাকে।

চার, আদালতকে ঠাকুরের আসনে বসিয়ে পুজোআচ্চা। ক্ষমতাবান লোকের, ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠানকে সশ্রদ্ধ নমো নমো আমাদের ভারতীয়দের মজ্জায় আছে। গণতান্ত্রিক বোধ ছড়ায় নি, গুরু দেখলে গড়াগড়ি দিই। আদালতপুজো, বা সাধারণভাবে বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত (টেকনোক্র্যাট) পুজোর পেছনে কিন্তু দলীয় রাজনীতির অধোগতিও আছে। বৃটিশ উপনিবেশ-বিরোধি লড়াইয়ের দরুন দলীয় রাজনীতি একটা সম্মানের জায়গায় পৌঁছেছিল। তার পর থেকে রাজনীতির মান সমানে নিচের দিকে যাচ্ছে। জনমানসে রাজনীতির প্রতি সম্মান তলানিতে পৌঁছেছে। এই পতনের পেছনে ন্যায্য কারণ বিলক্ষণ আছে। কিন্তু রাজনীতির শূন্যস্থান কে পূরণ করবে? নাগরিক সমাজ আমাদের দেশে দুর্বল। তার না আছে ক্ষমতা জনমতকে তুলে ধরার, না আছে জনমতকে নীতির মারফৎ বলবৎ করার। অন্যদিকে নয়া-উদারবাদী অর্থনীতির ভাগ্যবিধাতাদের কাছে গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুরুত্ব কোনোকালে ছিল না। গণতন্ত্র পুঁজির গতিবিধিকে আইনের জালে আটকে দেয়, আজেবাজে জনমোহিনী কাজে টাকা নষ্ট করে। পুঁজির ব্যাপারীদের কাছে গণতান্ত্রিক রাজনীতি তলিয়ে গেছে মানে আপদ বিদেয় হয়েছে। রাজনীতির বদলে নয়া-উদারতাবাদীরা তোল্লা দেয় বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতদের, মানে টেকনোক্রাটদের। কারা এই পণ্ডিতরা বা বিশেষজ্ঞরা? যাদের কাছে আছে বিশেষ জ্ঞান। এই জ্ঞান অনেক সময়ে রহস্যজনকও, আম আদমির সাধ্যি নেই তা বোঝার। আরও সুখের কথা, পন্ডিতরা আম জনতার কাছে কৈফিয়ত দেয় না। আদালতের প্রতি বিগলিত সম্মানবশে, বা পন্ডিতদের মহিমাকীর্তন করতে গিয়ে আমরা নিজেদের বুদ্ধিশুদ্ধি বন্ধক রেখে দিই। ১৯৭৫-এর আতৎকালীন ঘোষণায় সুপ্রীম কোর্টের পণ্ডিতরা সীলমোহর লাগিয়েছিলেন ভুলে যাই। অভিযুক্তকে প্রমাণ করতে হবে সে বাংলাদেশি নয়, বা নাগরিকপঞ্জির নবায়ণ – এই দুটো সিদ্ধান্তই আদালত থেকে এসেছে। দুটোই বিস্ময়কর রায়। প্রথমেই ধরে নেওয়া হচ্ছে যে অভিযুক্ত দোষী। এখন অভিযুক্তর দায় সে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুক। ন্যাচরাল জাস্টিস, বা স্বাভাবিক ন্যায় বিচারের ধারণাকে উলটো করে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুটো রায়ই সংখ্যাগুরুর দাদাগিরিকে ন্যায্যতা দিচ্ছে। দুটোকেই বিনা প্রশ্নে মেনে নিচ্ছি কেননা আমরা পন্ডিতদের মহিমাকীর্তনে বিশ্বাসী।

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  অপার বাংলা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 14 -- 33
Avatar: সৌভিক

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

এই লেখাটির ছয় বছর পর ১৯৮৫ সালে আমরা আসাম চুক্তিকে কীভাবে দেখেছিলাম, সেই আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় মুখপত্র লিবারেশন এ প্রকাশিত লেখাটি এখানে তুলে দিলাম।
Liberation November 1985

The Assam Accord and After



To analyse the Assam accord, it is necessary to have a clear understanding of the definite perspective behind it. In the wake of the 1983 elections the national, religious and linguistic divisions among the people of Assam assumed a more definite shape and the role of AASU as the rallying centre of the Assamese nationality became rather weak. While not rejecting the demand for dissolution of the traitorous Saikia government, installed at the point of the gun, the movement leadership refused to build up a powerful democratic movement on a wider scale on this question. Agitation on the original question, too, died down after the ’83 elections. Despair and confusion prevailed among the masses as the leadership moved away from the path of concentrate all its energy on the ‘diplomatic tussle’ of negotiations, patiently waiting for a ‘dignified’ settlement.

On its part the Saikia government, while continuing with repression, also initiated some economic reliefs and reforms with a view to engaging the unemployed youth more and more in economic activities as well as some steps in the field of culture. In this way, the Saikia government strove to expand its social base. And formal negotiations apart, several representatives of the Central government continued to have informal talks with the movement leadership.

Besides, the national political situation changed drastically after Indira assassination and the new government of Rajiv Gandhi came up with the 'new' method of solving long-standing problems through formal accords and agreements.

In other words, the Assam accord was signed at a time when both the ‘warring’ sides had already undergone a lot of changes and a formal agreement had become an end in itself for both. Again, years of movement had made the masses somewhat tired and also more aware of the limitations of the demands, and with growing communal tensions, an uneasiness prevailed in the situation. Thus the masses were also looking forward to some agreement. However, they remained pretty sensitive on some questions that touched their genuine nationality sentiments and democratic values. And to be sure, both sides have tried their level-best to make sure that these sentiments of the broad masses are reflected in the accord.

So we cannot agree with those who see this accord as a great victory of the people and defeat of the ruling classes (which would have been the case had the accord been signed by Indira government at the height of the movement). Neither do we agree with those who do not see any reflection of the people’s actual sentiments in the accord and reject it outright. In other words, unconditional support for the accord as well as outright opposition to it without any concrete analysis—both these reactions stem from an abstract and subjective approach.

As far as the settlement on the foreign national issue is concerned, the agitation leaders have certainly shown some flexibility and the people have in general welcomed it. Only a handful of die-hard ultra-nationals within the movement are opposed to this settlement for they consider this a ‘major deviation from the fundamental stand of 1951 as the cut-off year’. And there is an equally fanatic section within the minorities which refuses to recognise this element of flexibility for it views the entire foreign national question as nothing more than sheer conspiracy against the Bengalis or Muslims in Assam. Again, some political forces, particularly the left parties oppose the accord on the ground that it violates the Indira-Mujib Pact as well as the Indian constitution and so on.

Now, going by logical arguments surely it can be proved that the most logical step at this moment would have been to concentrate on preventing further infiltration, without disturbing those who have already settled in Assam. But since the resentment of the Assamese people against the backwardness of Assam could not find any better expression than the issue of foreign nationals, we will have to start from the satisfaction of the Assamese people and gradually give more developed expressions to their resentment. And it is in this way that we can also better safeguard the interests of the minorities. Again one can certainly argue against the disenfranchisement of the immigrants of ’66-’71 period because, since they are being allowed to stay back in Assam anyway, disenfranchisement would only obstruct the process of their integration with the mainstream of life in Assam. But raising a hue and cry over this question would only help perpetuate the foreign national issue and thereby benefit only the communal forces in both the camps. It is true that henceforth the minorities in Assam will face certain new problems and new complexities would arise. Not only ultra-nationalist and communal forces but the administration and the state machinery also will cause greater harassment and let loose further repression. And hence we should stand firmly by the side of the minorities. Lenin has taught us, “Insofar as the bourgeoisie of the oppressed nation fights the oppressor, we are always, in every case, and more strongly than anyone else, in favour, for we are the staunchest and the most consistent enemies of oppression. But insofar as the bourgeoisie of the oppressed nation stands for Its own bourgeois nationalism, we stand against. We fight against the privileges and violence of the oppressor nation, and do not in any way condone strivings for privileges on the part of the oppressed nation”.

(Collected Works, Vol. 20, pp 411-412).

Now (he question is how to stand by the side of the minorities most effectively ? We will have to link this question with the accord. That is to say, we will have to resist any harassment inflicted on the minorities beyond the frame-work of the accord. Concretely speaking, we will have to make firm attempts to ensure that the immigrants of ’66-’71 period continue to enjoy all rights other than franchise. And for deportation of the post-’71 immigrants we will have to oppose any harassment and inhuman treatment and for this we will have to demand necessary official steps. For instance, we may demand that the Central government must first convince the Bangladesh government to take back and properly rehabilitate those who came from that country after 1971 and make an agreement to this effect before deporting anybody to Bangladesh. If the Central government fails to reach such an agreement, it must itself make proper arrangements for rehabilitation — may be in Cachar district, in which case the Centre must immediately take up proper developmental projects in that district. In defending the minorities our main method should be to mobilise the democratic forces (particularly among the Assamese People) in Assam.

Secondly, let us analyse the accord in its relation to democratic values. During the whole period of Assam movement these values came under the severest of attacks when the elections were held at gunpoint and consequently the attack was institutionalised in the imposition of the Saikia government By accepting the continuation of the Saikia government in the form of the so-called Caretaker Ministry, the agitation leaders have certainly betrayed the cause of democratic values.

Further, the accord does not insist on the unconditional withdrawal of all repressive measures adopted in the course of the movement.

And finally, the socio-economic measures enumerated in the accord are not only limited but also not in conformity with the objective economic situation in Assam or even with the interests of the local bourgeoisie. The proposal of an oil refinery in the private sector goes against the existing industrial policy of keeping these areas reserved for the public sector. Other measures declared, including some educational and cultural ones, are rather superficial. The accord is conspicuously silent about how to develop agriculture, the source of all backwardness, or about how to improve the lot of the tribals and tea-workers in Assam.

Nevertheless, these measures do testify to the fundamental socio-economic basis of the Assam question beyond the issue of foreign nationals.

Thus on the whole we are not going to dismiss the Assam accord as something inconsequential, rather we should make every attempt to utilise it to liberate the movement from the confines of the foreign national issue. At the same time we shall boldly expose the limitations and inconsistencies of the accord while laying stress on mobilising the democratic opinion in Assam to resist any probable attack on the minorities.

With the accord, the atmosphere of confrontation in Assam between the Central ruling clique and regional sentiments and forces has now been pushed into the background. Confrontation has given way to compromises, and accordingly, the movement leaders have now come up with new slogans of “unity, progress and nation-building”. Thus Assam too failed to counter what has now become the ruling classes standard way of dealing with all just struggles of the people. Once again, confrontation between the masses and the ruling classes has been followed by clashes within the ranks of the people, ultimately leading to new compromises and new alliances between the effective leadership of the struggle and the government.

Some small regional forces within the movement (particularly PLP) and some terrorist groups have opposed the accord. But basing on their political bankruptcy and military amateurishness it is impossible for them to mobilise public opinion against this piece of compromise. All-India opposition parties, whether supporting or opposing the accord, are also not able to generate any living political atmosphere vis-a-vis this climate of compromise. Consolidation of this climate of compromise remains the single political goal before the Indian ruling classes and the effective regional and national leadership of Assam in the forthcoming election. This is how they propose to gradually crush the democratic and revolutionary values and forces within the state. So challenging this arch-reactionary atmosphere of compromise and upholding the true democratic values have become the immediate task before the forces of revolutionary democracy in Assam.

Assam in January 1983 was a testing ground for revolutionary democrats when in the defence

of democratic values they had joined hands with the self-asserting Assamese nationality to resist an election forced on the people at gun-point. Together with other national-regional and democratic forces they had then correctly concentrated all their strength in resisting the elections and combating communal flareups. And today, the coming elections in Assam have become yet another testing ground for

revolutionary democracy. The demand of the day is to actively intervene in the election process so as to pose a strong challenge before the ruling classes’ designs of consolidating the trend of

compromise, the trend that aims at rooting out all democratic values within the movement ; the

trend that aims at forging an alliance with Assamese ultra-nationalism and chauvinism; the trend that paves the way for fresh harassments and attacks on the minorities ; the trend that says nothing on how to develop agriculture, the source of all backwardness ; the trend that supports the interests

of private monopoly capital in all the industrial affairs and above all, the trend that is bent on

silencing all class struggles.■
Avatar: সৌভিক

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

লেনিনের এই প্রাসঙ্গিক কথাগুলো পড়ুন। অনুধাবন করুন।
“Insofar as the bourgeoisie of the oppressed nation fights the oppressor, we are always, in every case, and more strongly than anyone else, in favour, for we are the staunchest and the most consistent enemies of oppression. But insofar as the bourgeoisie of the oppressed nation stands for Its own bourgeois nationalism, we stand against. We fight against the privileges and violence of the oppressor nation, and do not in any way condone strivings for privileges on the part of the oppressed nation”.

(Collected Works, Vol. 20, pp 411-412).
Avatar: ddt

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

do not in any way condone strivings for privileges on the part of the oppressed nation

আপনারা প্রকারান্তরে নিপীড়িত জাতির প্রিভিলেজকে কনডোন করছেন। এটাই সমস্যা। এখানে নিপীড়িত জাতি পীড়কের সাথে লড়ার কথাই বলছে না। সে দিব্যি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে। তার রাগ প্রান্তিক শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ওপর। এটা ওপরে প্রবন্ধেই লিখেছি (পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান)।

আরেকটা কথা, এন আর সি আসাম চুক্তি থেকে আসে নি। http://sanhati-india.org/2018/08/03/the-logic-of-nrc-and-what-next/

Avatar: ddt

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

ও, পুরোনো লেখাপত্তরগুলোর জন্য থ্যাঙ্কু। পড়ে দেখব'খন।
Avatar: সৌভিক

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

এন আর সি সংক্রান্ত বিতর্কে যারা একে সম্পূর্ণ বাতিল করাই শ্রেষ্ঠ সমাধান বলে মনে করছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কথপোকথনের দরকার আছে। কেন এন আর সির বিশাল বিশাল ত্রুটিগুলি সমাধান করার ওপরেই আমরা জোর দিতে চাইছি এবং সেটাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে জরুরী কাজ বলে মনে করছি, তার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন আছে। কেন এন আর সিকে সম্পূর্ণ বাতিল করাই শ্রেষ্ঠ সমাধান না হয়ে নতুন নতুন অনেক সঙ্কটের জন্ম দিতে পারে, সে সম্পর্কেও ইতিহাসকে পাথেয় করে আলাপ আলোচনার প্রয়োজন আছে।
আসাম আন্দোলনকে যারা কেবল আশি বা নব্রবই এর দশকের মূলত পুরোনো ঘটনাবলী বলে মনে করছেন, যাদের মনে হচ্ছে আসাম চুক্তির রূপায়ণ কেবল অতীত খুঁড়ে আনা, তারা ভুলে গেছেন গত কয়েক বছরে কীভাবে বারবার আসামে জাতিসত্তার আন্দোলনগুলি মাথা তুলেছে। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে। বছর পাঁচেক আগে আসামে বোড়ো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে অভিবাসীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও সেই সংক্রান্ত উত্তেজনার কথা নিশ্চয় অনেকেরই মনে আছে। সাম্প্রতিক একটি ইতিহাস স্মরণ করে এন আর সি সংক্রান্ত বিতর্কে আসা যাক।
আসামের কোকরাঝার এলাকা ও সংলগ্ন অঞ্চলে উদ্বেগজনক জাতিদাঙ্গার ঘটনায় সে বছরেই প্রায় ৬০ জন মারা যান, গৃহহারা হন ৪ লক্ষেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে তিরতির করে বয়ে চলা উত্তেজনা ২০১২ র ১৯ জুলাই থেকে ক্রমশ সেখানে জাতিদাঙ্গার চেহারা নেয়। এর আগেই অবশ্য কোকরাঝার এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল, যখন জুলাইয়ের প্রথম দিকে দুজন বাঙালি মুসলমান ওই এলাকায় খুন হন। ১৯ জুলাই আরো দুজন মারা যান। ২০ জুলাই বোড়ো লিবারেশন টাইগার এর চার প্রাক্তন সদস্য খুন হন। এর প্রতিক্রিয়ায় বোড়োরা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় প্রত্যাঘাত করলে দাঙ্গা শুরু হয়।
১৯৭১ সালের আগে, বাংলাদেশ গঠনের আগেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান থেকে আসা বাঙালি মুসলিম অভিবাসীদের সঙ্গে বোড়ো আদিবাসীদের এই সংঘর্ষর প্রাথমিক কারণ জমি ও জীবিকার অধিকার নিয়ে বিরোধ। বোড়োদের পক্ষ থেকে প্রচারে বলা হয় ৯০ এর দশক পর্যন্ত কোকরাঝার এবং চিরাং এ বোড়ো আদিবাসীদের সংখ্যাই ছিল বেশি। কিন্তু গত দুদশকে এখানে অভিবাসী মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে, যারা মূলত ক্ষেতমজুর এবং দিনমজুর। বিশেষত গোঁসাইগাঁও মহকুমার বিভিন্ন গ্রামে অভিবাসী মুসলিম জনসংখ্যার তুলনায় বোড়োরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। ধীরে ধীরে কোকরাঝার শহর এলাকাতেও অভিবাসী মুসলিমদের একাংশের প্রবেশ ঘটেছে। অন্যদিকে ‘বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ায় এখানকার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে’ – এই জনপ্রিয় প্রচারের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন জানিয়েছেন ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকেই তারা এখানে আসা শুরু করেন। বস্তুতপক্ষে ব্রিটিশদের আগ্রহেই ব্রক্ষ্মপুত্রের তীর বরাবর অভিবাসনের এই প্রক্রিয়াটি চলে। ব্রহ্মপুত্রের চর এলাকার জমি অত্যন্ত উর্বর, কিন্তু বন্যার জন্য সে জমিতে চাষাবাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা দরকার ছিল। জলের মধ্যে চাষের প্রযুক্তি ময়মনসিংহ অঞ্চলের চাষিদের আয়ত্তে ছিল। ব্রিটিশ শাসকরা ওই এলাকাকে রাজস্ব আদায়ের যোগ্য করে তোলার জন্য ময়মনসিংহ ও অন্যান্য জেলা থেকে মুসলমান চাষিদের নিয়ে আসে। বিশ শতকের গোড়ার দিক থেকে এই অভিবাসনের মাত্রা আরও বাড়ে। আজকের অসমে ব্রহ্মপুত্রের চর এলাকায় কৃষি-সমৃদ্ধির পেছনে এই মুসলমান চাষিদের অবদান অসামান্য।এদেরই একটা অংশকে আবার বন্যার কারণে উত্তরে-দক্ষিণে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় সরে যেতেও হয়েছে। ফলে রেল লাইনের উত্তরেও কিছু মুসলমান বসতি গড়ে উঠেছে।এটা নিয়ে বোড়োরা আপত্তি জানিয়েছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক বোড়োরাজ্যের দাবী নিয়ে বোড়ো লিবারেশন টাইগার নামক বোড়োদের জঙ্গী সংগঠনের নেতৃত্বে চলা বোড়ো আন্দোলনের সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমঝোতা সূত্র হিসেবে ২০০৩ সালে বোড়োল্যাণ্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) তৈরি হয়। আসামের চারটি জেলা, কোকরাঝার, চিরাং, বকসা এবং উদালগুরু এর অন্তর্ভূক্ত হয়। সে সময়েই সংশ্লিষ্ট এলাকার অ-বোড়ো মানুষজন বিটিসি তৈরির বিরোধিতা করে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল এর ফলে এই এলাকায় অবোড়োদের নানা সমস্যর মুখোমুখি হতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য ২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ওই এলাকায় বোড়ো ও অন্যান্য তফসিলি উপজাতির কিছু মানুষ মিলিয়ে উপজাতিদের মোট সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ। বাকি ৮২ শতাংশ মানুষের মধ্যে ছিলেন বাঙালি হিন্দু, বাঙালি মুসলিম ও ভালো সংখ্যক সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ।
বিটিসি তৈরির পর বোড়ো লিবারেশন টাইগার তাদের কার্যকলাপ গুটিয়ে নেয়। কিন্তু তাদের একদা প্রধান হাগ্রামা মাহিলারি একটি রাজনৈতিক সংগঠন তৈরি করেন এবং বোড়োকাউন্সিলের নির্বাচনে বিজয়ী হন। অ-বোড়োদের অভিযোগ কাউন্সিল তাদের প্রতি উদাসীন। অন্যদিকে বিটিসি তৈরির পরেও এই বিটিসি এলাকায় মুসলিম অনুপ্রবেশের সূত্রে বোড়োদের জমির অধিকার কমে যাওয়া এবং গোঁসাইগাঁও মহকুমার মতো অনেক জায়গায় তাদের তুলনায় বোড়োদের সংখ্যালঘু হয়ে পড়া তাদের মধ্যে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাতাবরণই সাম্প্রতিক জুলাই দাঙ্গার মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য এর আগেও এই অঞ্চল মারাত্মক কিছু জাতি দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেছিল। ১৯৮৩র ১৮ ফেব্রুয়ারী সংগঠিত নেল্লি গণহত্যায় ছয় ঘন্টার মধ্যেই দুহাজারের বেশি মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়াও মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ও চাপা উত্তেজনা এখানকার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
এরকম সংবেদনশীল অঞ্চলে বকেয়া সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ফেলে রাখার অর্থ বারবার এরকম সমস্যার মুখোমুখি হওয়া। ইতিহাস এর স্বাক্ষ্য দিচ্ছে। অসমের জাতিসত্তা আন্দোলনের প্রশ্নের মুখে অসম চুক্তি হয়েছিল। এই নাগরিক পঞ্জী সেইখান থেকেই বেরিয়ে আসা।
নাগরিক পঞ্জীকে এককথায় বাতিল করে দেওয়া জটিলতার সামগ্রিক সমাধান বলে মনে করা যায় না। দরকার ছিল নাগরিক পঞ্জীকে যতদূর সম্ভব ইনক্লুসিভ করে নেওয়া। তা না করার ফলে চল্লিশ লক্ষের মতো মানুষ এর বাইরে থেকে যান এবং আতঙ্ক ক্ষোভ বাঙালি অসমিয়া বিতর্ক বহ্নিমান পরিস্থিতি তৈরি করে।
দেশভাগের রক্তাক্ত ইতিহাস যেখানে রয়েছে সেখানে বহিরাগত প্রশ্ন এবং জাতিসত্তার নিজস্ব দাবিদাওয়ার প্রশ্নকে মেলানো ও জনগণের মধ্যেকার সম্প্রীতি বজায় রাখা একটি অতীব সংবেদনশীল ভারসাম্যের প্রশ্ন।
বিজেপির মতো উশকানি দাতা দল এ বিষয়ে যথেষ্ট সমস্যার জন্ম দেবে, এটা অনুমিত। কারণ বিভাজনের ভিত্তিতে মেরুকরণ সৃষ্টিই তাদের নীতি।তৃণমূল নেত্রীর যখন যেমন তখন তেমন নীতি এর মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। বাঙালিদের পাশে দাঁড়াবার আছিলায় আসাম এর জটিলতা প্রসঙ্গে তার মন্তব্য শুধু সেখানকার বাঙালিদেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় নি, তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সহ প্রায় সমগ্র ইউনিটটি দল ছেড়ে দিয়েছেন। উত্তেজনা প্রশমন ও সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার বদলে বিজেপির মতোই পরিস্থিতিকে উশকে দেওয়ার খেলা তিনি খেলে চলেছেন। ২০০৫ সালে কেন তিনি সংসদের ভেতরে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এত সরব হয়েছিলেন, আর আজ কেন একেবারে উলটো কথা বলছেন - গোটা দেশের গণমাধ্যম সেই প্রশ্নকে আজ তার সামনে ছুঁড়ে দিয়েছে। এর কোনও জবাব তার বা তার দলের নেই। কেন নাগরিক পঞ্জী পরীক্ষা করে তার সরকার ও প্রশাসন লক্ষাধিক মানুষের নাম পাঠাল না, যা করলে লক্ষাধিক বাঙালির নাম তালিকায় উঠত, তার কোনও জবাব তিনি দিতে পারেন নি।
মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বিভিন্ন পক্ষ বামেদের কাছে জবাব চাইছে।
পরিশেষে বলি এন আর সি তৈরির একটি ইতিহাস আছে। সেটি আসাম চুক্তি জাত। আসাম চুক্তির পেছনেও আসামের জাতিসত্তা আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। জাতিসত্তা আন্দোলনকে আমরা স্বীকৃতি দিই। আসামের বা পৃথিবীর নানা জায়গাতেই জাতিসত্তা আন্দোলনের ইতিহাসে কিছু অতিরেক আছে। পীড়াদায়ক ঘটনাবলী আছে। সেগুলি সম্পর্কে সমালোচনা করেও আমরা জাতিসত্তা আন্দোলনকে সার্বিকভাবে বাতিল করে দেওয়ার পক্ষে নই। এন আর সি কে আরো অনেক অনেক ইনক্লুসিভ করা হোক। ইনক্লুসনের যথাযথ প্রক্রিয়ার পর কি চেহারা দেখা যায় তা দেখা হোক। শেষমেষ যারা ইনক্লুডেড হবেন না, তাদের বিষয়টি এবং আসামের জাতিসত্তার দাবির বিষয়টির মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে কীভাবে মেটানো হবে - সেই নিয়ে আলাপ আলোচনা তখন শুরু করা যাবে। কিন্তু কোনওভাবেই দেশভাগের ইতিহাস ও রক্তাক্ত বাস্তবতা যেখানে রয়েছে, সেখানকার মানুষকে বঞ্চিত করা চলবে না। আগামীদিনের দ্বন্দ্বকে নানা দিক খতিয়ে দেখে মেটানো হবে। জীবন জীবিকার তাগিদে যারা আসামে এসেছেন তাদের মানবিক দাবি এবং আসামের জাতিসত্তা আন্দোলনের নিজস্ব দাবিকে যৌথভাবে সমাধান করা এবং জনগণের মধ্যেকার ঐক্যকে বজায় রাখার জন্য আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সেই প্রচেষ্টার সামনে বিজেপির বিভাজন মেরুকরণ প্রচেষ্টাকে সর্বাগ্রে খারিজ যেমন করতে হবে, তেমনি যখন যেমন তখন তেমন চলনে বলনে অভ্যস্তদের হঠকারী কার্যকলাপগুলো জটিলতার অকুস্থলে উত্তেজনা প্রশমন না বৃদ্ধিতে ভূমিকা নিচ্ছে তাও খতিয়ে দেখতে হবে। পরিস্থিতি সংবেদনশীল এবং জনগণের ঐক্য রক্ষার প্রশ্নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সেই সংবেদনশীল সমস্যার মোকাবিলার দিকে এগোতে হবে।
Avatar: সৌভিক

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

NRC কে বাতিল করলে যে আসাম জ্বলবে, তা নিয়ে কি কারো সন্দেহ আছে ? যারা পুরোপুরি এন আর সি বাতিলের কথা বলছেন, তাদের আছে কী ? তাই সমাধানের অন্য পথ না ভেবে কোনও উপায় নেই। আমি আপনি একটা গিভন সিচুয়েশনের মধ্যে আছি। এটা শুধু আইডিয়াল অবস্থান পেশ করার বিষয় নয়। ১) পঞ্জীকরণকে যতদূর সম্ভব ইনক্লুসিভ করে তোলা। ২) যারা ইনক্লুডেট হলেন না তাদের জীবন জীবিকার বাধ্যবাধকতাকে স্বীকার করা এবং দেশভাগের ইতিহাসের ফলে সীমান্ত পেরনো যাতায়াত এর বাস্তবতাকে বোঝা ৩) অসমীয়া এবং আসামের অন্যান্য জনজাতিদের, যেমন বড়ো, জীবন জীবিকার মানোন্নয়ন এবং জমির অধিকারকে সুরক্ষিত করা, যেন অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তাদের আশঙ্কা ও ক্ষোভ ক্রম প্রশমিত হতে পারে ৪) আসাম আন্দোলন প্রায় চার দশকের পুরনো বিষয়। ফলে তার চটজলদি একটিমাত্র সমাধানের দিকে না হেঁটে আলাপ আলোচনার সমস্ত রাস্তা খোলা রাখা এবং তার মধ্যে উন্নয়নের ব্যাপক কাজ চালিয়ে সব ধরনের মানুষকে নিরাপত্তা ও স্বস্তির বোধে যতটা সম্ভব নিয়ে আসা ৫) সমস্ত ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হঠকারী রাজনৈতিক কার্যকলাপকে বন্ধ রাখা।
Avatar: দেব

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

"২) যারা ইনক্লুডেট হলেন না তাদের জীবন জীবিকার বাধ্যবাধকতাকে স্বীকার করা এবং দেশভাগের ইতিহাসের ফলে সীমান্ত পেরনো যাতায়াত এর বাস্তবতাকে বোঝা"

অসমীয়ারা শুনবেন না। সংখ্যালঘু হয়ে যাওয়ার ভয় বড় ভয়। এবং সে ভয় সম্পূর্ণ বোধগম্য।

সবকিছু পড়ে এখনও অবধি যা বুঝছি -

১। সরকার কাউকে দেশ থেকে তাড়নোর মতলবে নেই।

২। কাউকে ক্যাম্পে পাঠাবে না।

৩। NRCর তালিকা সম্পূর্ণ চূড়ান্ত হলে যাদের নাম তাতে উঠল তারা তক্ষুনি অনুপ্রবেশকারী বলে ঘোষিত হবেন না। প্রতিটি কেসের জুডিসিয়াল স্ক্রুটিনি হবে। তারপর সিদ্ধান্ত।

৪। যদি সেই সিদ্ধান্তে স্থির হয় যে কেউ অনুপ্রবেশকারী, তখন পরের স্টেপ।

৫। কি স্টেপ সেটা এখনও ঘোষিত হয় নি। যা হবার, উপরের প্রথম দুটো পয়েন্ট বাদ দিয়ে হবে। পেটে লাথি মারবে না।

সুতরাং মোটের উপর সৌভিক উপরের ২ নম্বর পয়েন্টে যা লিখেছেন, সরকারও সেই সিদ্ধান্তেই এসেছেন।

কিন্তু অসমীয়ারা সেটা শুনবেন না। টুইটারে যেটুকু দেখছি আম অসমবাসীর ধারণা এদেরকে অসম থেকে তাড়ানো এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভারত সরকার খোলাখুলি ভাবে এদেরকে সত্যিটা বোঝাননি।

৪ আর ৫ নম্বর স্তর ছেড়েই দিলাম, এদেশের বিচারবিভাগের যা গতি, এত লক্ষ মানুষ, ৩ নম্বর স্টেপটা পেরোতেই কয়েক দশক, হয়তো শতাব্দী লেগে যাবে।

ধাক্কা লাগা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Avatar: ddt

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

এন আর সি বাতিল করলে আসামে আগুন জ্বলবে। এটা বাজারে শুনছি বেশ। এই প্রসঙ্গে গুটি কয় কথা।

(১) পাকিস্তান না হলে দেশে আগুন জ্বলবে এমন দাবির সাক্ষী উপমহাদেশ আছে। ফলাফল কী আমরা জানি। এখনও ভুগছি। অস্যার্থ, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকিতে নতিস্বীকার করা কাজের কথা নয়।

(২) বাতিল দুম করে করার কথা বলা হচ্ছে না। টপ ডাউন জিনিসপত্র করলে গোলমাল বাড়ে, কাজের কাজ হয় না। ভোট করাবই -- ইন্দিরা গান্ধী এই জেদের খেসারত আসাম আন্দোলনের সময়ে লোকে জানমাল দিয়ে চুকিয়েছে। নিচের স্তর থেকে বাতিল করার দাবিটাকে তুলতে হবে। পাবলিকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। ব্যাপারটা রাজনীতির মারফৎ করতে হবে। তাছাড়া উপায়ও নেই কেননা এন আর সি'র পেছনে আছেন খোদ মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে তোলপাড় ফেলার চেষ্টা জাতীয়তাবাদীরা করছেন, সেরকম প্রচেষ্টা। এন আর সি'তে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গরীব শ্রমজীবীরা -- বড় সংখ্যায় খিলঞ্জীয়ারাও আছেন।
Avatar: Pi

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

এন আর সি বাতিল করলে আসামে আগুন জ্বলবে।

মানে, এটা ধরে নেওয়াই হল কেন, আর হলে আন্তর্জাতিক সীমানাওয়ালা সব রাজ্যেই তো তাই হতে পারে, নয় কেন!

বাবরি মসজিদ ভাঙা না হলে আগুন জ্বলবে জাতীয় কুযুক্তি শুনছি মনে হল।
Avatar: PT

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

এসব খেলা আগেও তো দেখা গিয়েছিল ছোট স্কেলে। তাতে লোকসভার একটা আসনও পাওয়া গিয়েছিল-তখনকার মত।
"BJP vice president and nominee for the Darjeeling LS seat, SS Ahluwalia today voiced support to the formation of a separate state of Gorkhaland."

এখন ১৪-টার ১৪ টাই চাই। তাই মূল্য কিছু বেশীই দিতে হবে। যদি এট্টু দুষ্টু-মিষ্টি স্বাদের নিয়ন্ত্রিত পেটাপেটি হয় তো চলবে। ভোটের পরে দেখা যাবে।

তবে আপাততঃ হিসেব খুব জটিল নয়।
BJP wrested the Congress-NCP-ruled Sangli-Miraj-Kupwad and Shiv Sena-controlled Jalgaon municipal corporations on Friday.

আর এদিকে ৪২-টার ৪২ টাই চাই। তাই বিমানবন্দরে র‌্যাবেল রাউসিং!!

কথা হচ্ছে যে ছাগলেরা কোনটা খাবে!!

Avatar: ddt

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

দেব, হতে পারে আপনি যা বলছেন তা হতে চলেছে। অসমিয়া লিবারালরা এমন কথাই বলছেন। শেষমেশ কিছু হবে না, দীর্ঘসূত্রী মামলা মোকদ্দমার পরে দেখা যাবে কেউ বাইরে গেল না।

হতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, সরকার কী ভাবছে জানি না। এই প্রবন্ধটা পড়ে দেখতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়াতে অন্য এথনিসিটি, ধর্মের লোকদের অ-নাগরিক বানানোর প্রচেষ্টা নতুন নয়। https://www.nybooks.com/articles/2018/01/18/rohingya-murderous-majorit
ies/


অন্য দেশে না পাঠালেও নাগরিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে অ-নাগরিক করে দিতে পারে। সে বড় সুখের কথা নয়। বন্দীশিবিরে রেখে দিতে পারে। ইতিমধ্যে হাজার খানেক লোক আছেন। অনেকে আছেন স্রেফ গরিব ও অন্য ধর্ম ভাষার বলে, বাংলাদেশি বলে নয় (http://raiot.in/everyday-life-of-assams-foreigners-tribunals/)। সোজা বের করে দেওয়া আর সাধারণ নাগরিকের মধ্যে একটা ধূসর জায়গা আছে। ওনারা সেখানে নির্বাসিত হতে পারেন।

গোয়ালপাড়াতে ৩০০০ ক্যাপাসিটির শিবির বানানোর কাজ চলছে। কেননা যে ১০০০ জন বন্দি আছেন তারা আসলে জেলে আছেন, ডিটেনশন ক্যাম্পে নেই (https://scroll.in/article/883936/assam-citizens-register-detention-centres-for-foreigners-offer-a-glimpse-of-the-looming-tragedy)।

না তাড়ালেও রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব সুদূরপ্রসারী পড়বে। এই ২০ লক্ষ লোককে নিয়ে ফুটবল খেলা চলবে (ধরে নিলুম ৪০ থেকে কমে ২০তে নামল)। আসু ও ভাজপার কাছে এরা হচ্ছে পুঁজি, পুরো দুইয়ে নিতে চাইবে। ভিজিলান্টে গ্রুপগুলো 'বাংলাদেশিদের' সীমানা পার করার চেষ্টা করলে অবাক হব না।

বাতিল করলে এই সম্ভাবনাগুলো থাকে না।
Avatar: h

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

এই বিচিত্র সিনিকাল খেলায়, শাসক এবং অত্যাচারিত দু পক্ষের স্বার্থেই অত্যন্ত আজগুবি শোনালেও, কোন ফাইনাল সলিউশনে আপাতত কিছুই না পৌছনই শ্রেয়, অন্ততত টানাপোড়েন টা টিকলে, ফাক ফোকর দিয়ে এক দুইটা হলেও মানুষ বাঁচে।
Avatar: pi

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

সৌভিকের যুক্তি জাস্ট বুঝছিইনা। একদিকে বলছে সবাইকে ইন্ক্লুড করতে চায়, ঐক্য প্রসারিত করতে চায় তো, এন আর সি মেনে নিলে ৭১ এর পরে আসা লোকজনকে ইনক্লুড করার কথা কীকরে বলা হয়?এন আর সি মেনে নেওয়া, মেনে না নিলে আগুন জ্বলবে বলা আর ঐক্য প্রসারিত করার কথা একসাথে বললে অক্সিমোরন হয়, সেই স্বাভাবিক যুক্তিপরম্পরাও কি দেখতে পাচ্ছনা?

এন আর সি মেনে নিলে, তাকে ভাল বললে বল, কিন্তু তার সাথে এইসব ইন্ক্লুশন, ঐক্যর কথা আর যায়না, সেগুলোরও বিপক্ষেই বলছ, এটাও মেনে নেওয়াই ভাল।


Avatar: তাপস

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

সৌভিক সব জায়গায় একই লেখা পেস্ট করে যাচ্ছে। অর্থাৎ একই তির নিয়ে সব ফ্রন্টে লড়ে যাচ্ছে। আমার নিজের প্রস্ন পেস্ট করতে বিরক্তি লাগে।

১) সৌভিকদের আগুন ভীতি স্পষ্ট ভাবেই আসামে পার্টি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, প্রয়োজনে জাতীয়তাবাদীদের সাথে হাত মিলিয়ে।
এটা সৌভিক খুব স্পষ্ট জানে। প্রশ্নের মুখে পড়লে স্পষ্ট অস্বস্তির কথা বলছে।

২) দেয় পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে আছি, আমরা কী করব, এটা একটা ন্যাকাবোকা যুক্তি। এই ন্যাকাবোকামো খুব হাস্যকর হয়ে উঠছে। গিভেন সিচুয়েশনকে প্রশ্ন করতে শিখুন ভাই। মার্ক্স "এবার সময় হয়েছে পাল্টানোর" বলে যে বক্তব্য রেখেছিলেন, দেখুন, সেটা এ প্রেক্ষিতেও খাটে। মানে একটু তলিয়ে দেখুন। মার্ক্স বললাম, যদি ইষ্ট দেবতার নাম শুনে হৃদয়বদল হয়, সেই কারণে।



Avatar: PT

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

ভীতি কি কারো একার?

#রাজীব গান্ধী গোলমালটা পাকিয়েই ফেললেন ১৯৮৫-তে নিজের দলকে বাঁচানোর জন্য।
#তিনোদের এমন-ই হাঁটু কেঁপে গিয়েছে যে তার জন্যে শিলচর বিমানবন্দরে গিয়ে মিনি বিপ্লব করতে হল। এখন বোধহয় মুখে কালো কাপড় বেঁধে নিজেদের রাজ্যেই চড়কি খাচ্ছে।
#বিজেপিও দেশের এধার থেকে বেশী সংখ্যায় আসন পাওয়ার জন্যে ৪০ লাখ টুঁটি চেপে ধরেছে। হয়্ত এই ইন্ভেস্টমেন্টে ভালই ডিভিডেন্ট পাবে।

এমতাবস্থায় বামেদের ছাড়া আর কাকেই বা গাল দেওয়া যায়? সেতো বটেই! সেতো বটেই!! একমাত্র বামেরাই এমতবস্থায় "ন্যাকাবোকা"!! তারা কেন দুচারটে গরম গরম বৈপ্লবিক বাক্য ঝেড়ে হাউই-এর মতন পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে না!!

আরে বাপু ছাগলেরা বামেদের বিদেয় করেছে অন্য কিছু পাওয়ার আশায়। তো বামেরা গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লামি করলেই বা শুনছে কেডা?
Avatar: লোল

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

অ্যান্ড ন্যাকাবোকাজ স্পিক!

ঃ-)
Avatar: দেব

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

একটু ফিরে আসা যাক। বাংলাদেশ সীমান্ত ৯০%+ কাঁটাতারে ঘেরা হয়ে গেছে। তিন থাকের তার। মাঝখানেরটা বিদ্যুতায়িত। কাজ শেষ হয়ে গেছে প্রায় বছর পাঁচেক হল। পুরোটা রাতের বেলায় ফ্লাডলাইটে আলো দেওয়ার কাজ চলছে। সেও প্রায় শেষের মুখে। পাকিস্তান সীমান্তে বছর কুড়ি আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।

এরপরেও যদি লক্ষ লক্ষ লোক প্রতি বছর ঢোকে, তাহলে বিএসএফ কি ঘোড়ার ঘাস কাটছে সেখানে?

দ্বিতীয়ত এই NRC আর শুধু আসামেই সীমিত নেই। আসামে একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু পবয় নেই। হ্যাঁ কিছু লোকে প্রসঙ্গটা তোলে কিন্তু সে সামান্য। অন্যান্য রাজ্যে আরো কম। কিন্তু আসামকে দেখে এইবার সিজোফ্রেনিয়াটা অন্যান্য রাজ্যেও ঢুকলো। ভেড়ার দল সর্বত্র ব্যা ব্যা করতে শুরু করেছে - "এ জিনিস আমাদেরও চাই! এ জিনিস আমাদেরও চাই!"

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় জনবিন্যাস নিয়ে ভয়ের রাজনীতি করে এসেছে। তার কাছে এই নতুন ডেভেলপমেন্টটা প্রোপাগ্যান্ডার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। আরিশ্লা! এতো দারুণ জিনিস। মন্দিরটা তেমন আর বাজারে কাটছে না। নতুন প্রোডাক্টের দরকার। এহেন 'সেকুলার' প্রোডাক্ট শহুরে লোকজনও খাবে। (ইন ফ্যাক্ট গ্রামের থেকে বেশী খাবে)। হয়ে গেল। প্রতিবার ইলেকশনের আগে এবাই এই কুমিরছানা বেরুবে। সুদূর কর্ণাটকে NRCর বাদ্যি বাজবে। এমন নয় যে বিজেপি এটা সত্যি সত্যি অন্যান্য রাজ্যে করবে। বিজেপি আর যাই হোক গান্ডু নয়। অলরেডি আসামেই সেমসাইড হয়ে বসে আছে। ৪০ লাখের মধ্যে ১৩-১৪ লাখ হিন্দু। তাদের মধ্যে ১ লাখ গুর্খা। বিনয় তামাং মমতা 'দিদি'র সাথে জোট বেঁধেছেন এখন। পরিস্থিতি স্ট্রেঞ্জ বেডফেলো তৈরী করে। সুতরাং বিজেপি আর রিস্ক নেবে না। কিন্তু ভোটের আগে প্লেয়িং টু দা গ্যালারী করতে কিছু নেই। মন্দির নিয়ে যেমন হয়। অপোজিশন যদি প্রতিবাদ করে তালেই ব্যাটা দেশদ্রোহী।

আর কর্ণাটকই বা কেন বলি। পবর হিন্দু বাঙ্গালীরাই তো লাফাচ্ছিলেন এই কিছুদিন আগে অবধি। এখন পোঙায় ক্যাঁত খেয়েছেন। এ কি রে! ৪০ লাখের মধ্যে ১৩-১৪ লাখ হিন্দু বাঙ্গালী!!! এ কি করে হল! এমন তো হবার কথা ছিল না। আমরা তো শুধু মুসলমান বাঙ্গালীদেরকে বাসের চাকার নিচে ছুঁড়ে ফেলতে চেয়েছিলাম। বিদ্রোহ!

আগুনে বোধহয় এরকম মাঝে মধ্যে হাত একটু পোড়া দরকার। চোখটা খুলে যায় তাহলে। দিলীপ আর রাহুল তো আর মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেননি।
Avatar: দ

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

বিপ্লব দেবের অলরেডি কাপড়ে চোপড়ে হয়ে গেছে দেখছিলাম।

আর এই ফাঁকে ONGC রিলায়্ন্সের কাছে হেরে গেল কোর্ট কেসে। ফেকু আম্বানি আরো জোরে হাগবে নে।
Avatar: দেব

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

@দ - হ্যাঁ ঐটা পড়ে চমকে গেছিলাম। বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী খোদ নিজেই NRCর সংজ্ঞানুযায়ী অনুপ্রবেশকারী!

হাহাহাহা!....হাহা!.....হা?

@ddt - আপনি শেষ প্যারায় যা লিখেছেন সেটাই হতে চলেছে। যে কটা শিবির আছে সেগুলোর ধারণক্ষমতা সর্বমোট কয়েক হাজার। সিন্ধুতে বিন্দু। আর ব্যাপার অতদূর যাওয়ার আগে ট্রাইব্যুন্যাল আছে। তারও আগে স্বপ্নভঙ্গ আছে। "আমরা তো ভেবেছিলাম এই সবকটাকে তাড়ানো হবে। এখন এরা বলছে বাংলাদেশকে জোর করা সম্ভব নয়! ব্যাটাদের মেরে তাড়া।" বিজেপি/অগপ এই তাৎক্ষণিক বিপদটা প্রশমিত করতে পারলে হয়।
Avatar: b

Re: বামেরা এন আর সি নিয়ে চুপ কেন?

মণিপুর/মেঘালয়ে রাস্তায় ছাত্র সংগঠনগুলি ব্যারিকেড গড়ে বাস গাড়ি থামিয়ে, যাত্রীদের মধ্যে যাদের চেহারা ট্রাইবালদের মতো নয়, তাদের কাগজপত্র চেক করছে, পাছে এন আর সি-র ফাঁক গলে কেউ তাদের এলাকায় ঢুকে পড়ে। এদিকে শিলচর থেকে গৌহাটি বাই রোড আসতে গেলে, মেঘালয়ের মধ্যে দিয়েই আসতে হয়।



মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 14 -- 33


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন