বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রেনবো জেলির দু'চার কথা

সৌকর্য্য ঘোষাল

রেনবো জেলির জন্য যে কটা দিন বা রাত আমরা স্বপ্ন দেখে কাটিয়েছি অতগুলো সময় সম্ভবত এত সিরিয়াসলি কোনোকালে পার করিনি কোনো কিছুর জন্য। সিরিয়াসনেস কাকে বলে? এই প্রশ্নের জবাবে এখন ভগবানকেও বলতে পারি, রেনবো জেলি বানানোর অভিজ্ঞতাকে এক কথায় সিরিয়াসনেস বলে বোঝানো হয়। যখন স্ক্রিপ্ট লেখা চলছিল তখন আমি বিড়বিড় করে প্রতিটা চত্রিত্রের ডায়লগ আউড়াতাম, সঠিক এক্সপ্রেশনটা পাওয়ার জন্য। আমার স্ত্রীর মনে হয়েছিল মাথার ব্যারাম হচ্ছে আমার। সিনেমা আমার মনের পরে মগজটাকেও গিলে খাচ্ছে। কিন্তু হয়ত গিলে খেয়েওছে। আর খাওয়ার পর সাত স্বাদের তৃপ্তিতে যে পেল্লায় ঢেঁকুর তুলেছে তা দিয়ে তৈরী হয়েছে রেনবো জেলি। এগুলো হল আগডুম বাগডুম কথা, কোনো মানে নেই। এ ধরণের লেখা লিখে শুরুতেই একটা চমক দিয়ে অ্যাটেনশন ধরা গেলেও রেনবো জেলির আত্মাকে ছোঁয়া যাবে না। তাহলে কিসে যাবে? যাবে। চুপ করে খানিক ক্ষণ বসে থাকলে যাবে। আকাশের অনেক ওপর থেকে ধীরে ধীরে নেমে আসবে যখন সাতরঙা সত্য, মাথার ভেতর থেকে গিয়ে বাসা বাঁধবে বুকের মধ্যে, তখন যাবে। রেনবো জেলি আমার বুকের ভেতরকার গলিগুলো চুপচাপ ঘুরে, ফুল কোড়ানোর মত নরম আর রঙীন। এই ছবিটা বানানোর প্রক্রিয়া বা অভিজ্ঞতা নিয়ে পত্রপত্রিকায় কথা বলেছি বিস্তর। কীভাবে মৌসুমী ভৌমিকের রেফারেন্সে মহাব্রতকে পাওয়া, কিভাবে তিনমাস অক্লান্ত পরিশ্রমসাধ্য ওয়ার্কশপের পর মহাব্রতর ঘোঁতন হয়ে ওঠা, কিভাবে পুরো স্ক্র্যাপ দিয়ে রোবট বানানো, কীভাবে ধার করে আর স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে প্রোডাকশন করা, সাড়ে চোদ্দ দিনের শিডিউলে পুরো ছবিটা শ্যুট করা...সব। কিন্তু যেটা বলা হয়নি সেটা হ’ল এই গোটা যুদ্ধটায় আমার বুকের ভেতরের ঘোঁতনকে আমি সামলেছি কী করে। সকালবেলা ঘুম ভাঙা প্রতিদিন, তাকিয়ে দেখতাম আলো হয়ে রয়েছে চারধার। বুকের ভেতরকার ঢিপঢিপ বলত আরো একটা দিন বয়ে গেল, ইন্টারেস্ট বাড়ল লোনের। কবে শ্যুট জানিনা, কারণ ডেট দেয়নি সবাই। কম টাকার ছবি বলে সবার ডেট পাওয়ার প্রেফারেন্সও কম হয়। বুকের ভেতর থেকে ঘোঁতন বলত, “কী হবে রে রাজন?” আমি বালিশটা জড়িয়ে ধরে বলতাম, “কিছু হবে না, সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে, দ্যাখ আর তো কটা দিন”। ভয় যে করতে না তা নয় তাই ওয়াসেরপুর ২ -এর ‘মুরা’ গানটা লুপে শুনতাম, শুনেই যেতাম কয়েকশো বার –“ যো ভি রঙওয়া হ্যায় উসে, সেট রাইটওউয়া করোজি, নাহি লুজিয়েজি হোপ থোড়া ফাইটওয়া করোজি, থোড়া ফাইটওয়া করোজি মুরা”।

সেই ফাইটওয়াটা এখনও জারি রয়েছে। যখন ২৭টা হল থেকে ২টো হলে চলে আসে রেনবো জেলি, চার হপ্তা পরও যখন নন্দন মেলেনি কপালে...তখনও স্বপ্ন দেখেছি জুবিলির। রেনবো জেলির হাসি মুখ আমার কাছে সেই সুদিনের স্বপ্ন যা জয় করে এনে দিতেই হবে মনের ভেতরকার দেশটাকে। যেখানে ঘোঁতন বসে আছে এই বিশ্বাস নিয়ে যে সব ‘রাইটওয়া’ করার প্রতিশ্রুতিটুকু সূর্যের মত উজ্জ্বল ও পূর্ণ বৃত্ত হয়ে উঠবে একদিন। খুব শিগগিরি। কারণ সব রূপকথা মিথ্যে হয় না। মাক্কালি।



কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  আলোচনা 
শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

বাঃ। দেখতে হবে সিনেমাটা
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

ইশশশিরে! এরোপ্লেন উড়ে গেলে স্বপ্ন সত্যি হয়!

https://youtu.be/-cjmjh7FKIk
Avatar: ফুটকি

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

অনেক ধন্যবাদ সিনেমাটি বানানোর জন্য। এত ভাল আমার বহুদিন পয়সা দিয়ে সিনেমা দেখে লাগেনি।
Avatar: Ratri

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব কলকাতায় কি দেখতে পাওয়া সম্ভব হবে?
Avatar: প্রতিভা

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

লেখাটা পড়ে মনে হল দেখতেই হবে।
Avatar: দ

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

হইচই বা নেটফ্লিক্সে আসার চান্স আছে কোন?
Avatar: Du

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

নন্দন মেলেনা কেন?
Avatar: Anamitra Roy

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

❤❤❤
Avatar: গবু

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

Bookmyshow তে কলকাতার দুটো হল দেখাচ্ছে, আজই শেষ।

সিনেমাটি কি চলে গেল? অন্য কিভাবে দেখা যেতে পারে?
Avatar: Soukarya Ghosal

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

Nandan1 - 3:45pm
South City Inox- 12:10pm
Hiland Park Inox-2pm
Avatar: i

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

আজই কাগজে পড়লাম, চার সপ্তাহ পূর্ণ হয়েছে। আজ থেকে নন্দনে দেখানো হবে। হায়দ্রাবাদ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও দেখানো হবে।
পড়েছি, মহাব্রত কে নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা, বমি র দৃশ্যের অভিজ্ঞতা; পড়লাম এ সিনেমা ফুড ফ্যান্টাসির । কিন্তু এসবই কাগজে পড়া । সিনেমাটি দেখা থাকলে, পরিচালক কে নানা প্রশ্ন করা যেত। পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তো আসে না এভাবে।
দেখার অপেক্ষায় রইলাম আপাতত।

Avatar: কুমু

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

হইচইতে আসবে?দিল্লির কোন হলে দেখানো হবে?
Avatar: পাতি বাঙালি

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

এই ছবির গল্প তো ফেব্রুয়ারি মাসে । ঘোতনকে দেখলাম গায়ে সোয়েটার । কিন্তু আর কারো কি শীত করে না?
পরিপিসি এসে সাত রং নিয়ে যে আঁতলামো করল তা কোন শিশুর মাথায় ঢুকবে?
আর ঐ সিনটা, ঘোতন ছাদ থেকে পপিন্সের লজেন্স ছুঁড়ে দিচ্ছে । তা ছাদে সেটা গিয়ে বদলে গেল কেন? অনেক বাজে পরিচালক আছে এই টালিগঞ্জে । তারাও এত কাঁচা কাজ করে না । কন্টিউনিটি ভুল। আর সারা ছবি জুড়ে যে অসঙ্গতি রয়েছে সেটা আর বললাম না ।
তবে এর পর যা বানাবেন সেটা যেন নন্দন আর মাল্টিপ্লেক্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে । তার না হলে সব সময় হাসনাবাদ থেকে নন্দনে এসে সিনেমা দেখা সম্ভব নয় । আর খুব গরীব। মাল্টিপ্লেক্সে এত দাম দিয়ে ছবি দেখাও সম্ভব নয় ।
Avatar: দ

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

যা বুঝলাম এই সিনেমাটা দেখতেই হবে।
(রিমেকওয়ালাদের হেব্বি আঁতে লেগেছে। )
Avatar: pepe

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

মুম্বাই তে আসার কোন সম্ভাবনা আছে কি?
Avatar: দেখলাম

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

ভাল লাগেনি। বেশ বোরিং। সত্যি হলে এরোপ্লেন উড়ে যাবে বলে প্রায় প্রত্যেকটা কথাতেই এরোপ্লেন উড়তে থাকে। বাড়িতে খাট নেই। মামা ইজিচেয়ারে ঘুমোয়। কিছু করেও না। ছবি শেষ করতে দুম করে মরেও যায়। পরিপিসি দিব্যি চেঁচামেচি করে লুকিয়ে থাকে। স্ক্রিপ্ট খুবই দুর্বল। লীলা মজুমদারকে না টানলে ভাল হত।
Avatar: পাতি বাঙালি

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

দেখলাম বাবু,
আমিও তো বলছি, অনেক অসঙ্গতি । দ বাবু ভাবল আমি বুঝি রিমেক সিনেমা না হলে গালাগালি করি । এখন বাংলায় অরিজিনাল কটা ভালো ছবি হচ্ছে? শিক্ষিত বাঙালি রিমেক ছবি হলে "গেল গেল " করে ওঠে। তা ভালো অরিজিনাল কটা ছবি হচ্ছে দেখে বাবু বলুক । আমি তো ফি সপ্তাহে অরিজিনাল ছবি দেখে ক্লান্ত । " রেনবো জেলি " ও দেখলাম । এই কিনা আমাদের অরিজিনাল ছবি ?
Avatar: দেখলাম

Re: রেনবো জেলির দু'চার কথা

রিমেকের খবর রাখি না। হিন্দিতে নাকি শোলে ডন এসবের রিমেক হয়েছিল। বাংলাতেও কি রিমেক হচ্ছে? ভাল ছবি সবসময়ে সব ভাষাতেই কম হয়। নতুন আর কি?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন