বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কোবরাপোস্ট এবং যক্ষপুরী সম্পর্কে দু’একটি কথা - দ্বিতীয় পর্ব

খবরদার

আগের পর্ব

খবরে কাগজ ও চ্যানেল মালিক এবং কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে ফরমায়েসি খবর ছাপার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এই দৃশ্য দেখে যাঁরা গণতন্ত্রের মৃত আত্মার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছেন তাঁদের আরো ফ্যাসাদে ফেলবে কোবরাপোস্টের সাথে জনপ্রিয় ডিজিটাল ওয়ালেট কোম্পানির কর্মকর্তার মিটিং-এর ভিডিওটি।পাঠক, মনে করে দেখতে পারেন ২০১৬ সালের নোটবন্দীর পরে বিভিন্ন খবরের কাগজ ও চ্যানেলে সেই কোম্পানির পাতাজোড়া বিজ্ঞাপনে সরকারের প্রধান ব্যক্তিকে দেখা যাওয়ার কথা। এভাবে কোন একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন প্রধান কীকরে একটি বেসরকা্রি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মুখ দেখাতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।আমাদের এই পর্ব সেই কোম্পানির কর্তাব্যাক্তির সাথে কোবরাপোস্টের এনইকাউন্টার নিয়েই।

কোবরাপস্টের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেই ই-ওয়ালেট কোম্পানির এক এসভিপি আমাদের পূর্বপরিচিত সাংবাদিক পুষ্প শর্মার সাথে কথা বলছেন। আগের পর্বের রি্ক্যাপ হিসাবে মনে করিয়ে দিই কোবরার প্রতিনিধি পুষ্প শর্মা “আচার্য অটল” নাম নিয়ে কোন একটি সংস্থার পক্ষ থেকে কয়েকটি নিউজ এজেন্সি এবং একটি ই-ওয়ালেট কোম্পানিকে টাকার বিনিময়ে হিন্দুত্ব এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সুবিধাজনক খবর দেখানোর ব্যাপারে অ্যাপ্রোচ করেন।এই প্রসেসেই তাঁঁর সাথে ই-ওয়ালেট কোম্পানির এসভিপি-র সাক্ষাত হয়।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এসভিপি ভদ্রলোক একথা সেকথার পরে বলছেন “Jab JK mein band huye the na pathar … toh humari personally PMO se phone aya tha kaha gaya tha ki data de do ho sakta hai ki XXXX user hon” (উক্ত কোম্পানির নামের বদলে শূন্যস্থান রাখা হল)।

এখন প্রশ্ন হল PMO-র নাম করে যে কেউ এই ইনফরমেশন চাইলেই কি কোম্পানিটি তাদের ক্লায়েন্ট/ইউজারের ডেটা দিয়ে দেবে? আজকে PMO-র নাম করে রাম শ্যাম যদু বা অন্য কেউ-ই যদি সেই কোম্পানির থেকে ইউজারদের ডেটা চায়, তাহলে এককথায় দিয়ে দেবে?গল্পটা সন্দেহজনক ঠেকছে না?মনে রাখবেন মাস খানেক আগেই ডেটা প্রাইভেসি বিষয়ে আমেরিকান সেনেটরদের বাক্যবাণের মুখে পড়তে হয়েছে ইন্টারনেটের বেতাজ বাদশা ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে।

এখন আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন ইউজারের ডেটা বলতে কী বোঝানো হয়েছে, অথবা কী এমন সেই সেন্সেটিভ ডেটা যা থার্ড পার্টির হাতে পড়লে ক্ষতি হতে পারে। এর উত্তর দিতে গেলে একটু ডিটেলে যেতে হবে। আপনি যখন আপনার ফোনে কোন অ্যাপ ইনস্টল করেন তখন নানারকম টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনকে মেনে নিতে হয় (সময় বাঁচাতে আমরা এই টার্মসগুলো না পড়ে I accept –এ ক্লিক করে ফেলি)। সংশ্লিষ্ট অ্যাপটি (উদাহরণ স্বরূপ ধরুন ফেসবুক) আপনার ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ডেটাতে অযাক্সেস পেয়ে যাইয়, যেমন আপনার লোকেশন,মেল আইডি,আপনার ক্লিকিং হ্যাবিট, বন্ধুবৃত্ত, আপনার রোজকার যাতায়াতের রুট, বাইং হ্যাবিট, ফোনের গ্যালারি এবং অবাক লাগলেও সত্যি ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনেও অ্যাক্সেস পায় কিছু কিছু অ্যাপ। অর্থাৎ আপনি কী শুনছেন, কী বলছেন বা কি দেখছেন সবই সেই কোম্পানিগুলো দেখতে/শুনতে/অ্যাক্সেস করতে পারে।এখন প্রশ্ন হল আপনি আপনার স্পাউসের সাথে কোন রেস্তরাঁয় খেতে যাবেন সেই নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন অথবা অন্য শহরে থাকা মা-বাবার সাথে তাঁদের মেডিক্লেমের টপ আপটা বাড়িয়ে নেওয়া বিষয়ে কথা বলছেন জেনে সেই কোম্পানির লাভ কী? হাজার হোক আপনি তো আর বেআইনি কিছু করছেন না। অথচ এই ফোনালাপ শেষ হবার কিছুক্ষণ পরেই আপনি যখন এল্ডারকেয়ার, কোন বিশেষ কোম্পানির মেডিক্লেম অথবা হোম টাউনে ফেরার প্লেনের টিকিটে ছাড়ের বিজ্ঞাপন দেখতে পান অবাক হন। এছাড়া ধরুন বন্ধুদের সাথে বাইরে কোথাও খাবার বিষয়ে গ্রুপ চ্যাটে কথা বলে সোশ্যাল নেটোয়ার্ক সাইট খুলেই দেখতে পেলেন নিউজফিডে নামী রেস্তরাঁর বিজ্ঞাপন। আসলে এই সমস্ত তথ্য আপনি নিজেই দিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। বিভিন্ন টেক জায়ান্ট কোম্পানি যেমন ফেসবুক সেই সমস্ত ডেটা ক্লিনজিং, সামারাইজ ও অর্গানাইজ করার পরে আপনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্ট্যাটাস সম্পর্কে একটা ধারণা করতে পেরেছে।আপনার কেনাকাটার প্যাটার্ন দেখে আপনার মাসিক রোজগার, কাজের জায়গা, কেমন মানুষজনের সাথে ওঠাবসা করেন, কী ধরণের পরিবহন ব্যবহার করেন এবং কী ধরনের পণ্য ভবিষ্যতে কিনতে পারেন –এইসমস্ত ডেটাই ছকে ফেলে কোম্পানিগুলোর ডেটা সায়েন্টিস্টরা।এরপরে আপনি যাদের সম্ভাব্য ক্রেতা সেইসব কোম্পানিগুলোকে আপনার নাম সাকিন ঠিকানা (আক্ষরিক অর্থে নয়, বত্রং আপনার ইন্তারনেট পার্সোনাটি) দিলেই কেল্লাফতে।কাজেই ফেসবুক গুগল জাতীয় কোম্পানিগুলো আপনার নিজের চাইতেও আপনাকে বেশি চেনে।এখন ধরুন, আমাদের গল্পে কোন একটি ই-ওয়ালেট কোম্পানি আপনার এইসমস্ত ব্যক্তিগত ডেটা কোন থার্ড পার্টিকে দিলে আপনার ডেটা প্রাইভেসি রক্ষিত হয় কীভাবে? মানে আপনি ধরুন আপনার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কোন গোপন খবর দিয়ে দেখলেন সেই খবরটি পাঁচকান হয়ে গেছে। মিল পেলেন?

যাই হোক , সেই ই-ওয়ালেট কোম্পানির তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোবরাপস্টের দাবি অমূলক, এবং তাঁরা তাঁদের ক্লায়েন্টের মূল্যবান ডেটা কোন অবস্থাতেই তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেবেন না। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে।উক্ত কোম্পানিটি কি কোবরার ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে তাদের এসভিপি হিসেবে আইডেন্টিফাই করছে? এক্সদি করে থাকে,তাহলে তাঁর দাবি আর কোম্পানির দাবির মধ্যে মানুষপ্রমাণ ফাঁক চোখে পড়তে বাধ্য।

এছাড়া সেই ওয়ালেট কোম্পানির অ্যাপ খুললেই সরকারের প্রধানব্যক্তির লেখা পরীক্ষা সহায়িকা বইটির বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া নিয়ে আর কথা না-ই বা বললাম। এগুলোতে আজকাল আপনি-আমি অবাক হই না।তাই না?

(ক্রমশ)



27 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  আলোচনা 
শেয়ার করুন


Avatar: কান্তবাবু

Re: কোবরাপোস্ট এবং যক্ষপুরী সম্পর্কে দু’একটি কথা - দ্বিতীয় পর্ব

এটা নিয়ে এখন কি চলছে?
মিডিয়া তো পুরোই নীরব।
Avatar: কৌশিক মাইতি

Re: কোবরাপোস্ট এবং যক্ষপুরী সম্পর্কে দু’একটি কথা - দ্বিতীয় পর্ব

কোবরা পোস্টের স্টিং অপেরেশন ভারতে সংবাদমাধ্যম বড় করে দেখায়নি। আরে, দেখাবে কি করে? প্রায় প্রতিটা বড় মিডিয়াই যুক্ত। টাকার জন্যই তো চ্যানেল খোলা। খবর দেখানোটা তো সামনের কথা। ভারতে সাংবাদিকতা বলে আর বিশেষ কিছু নেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। এ নিয়ে বিবিসি খবরও করেছে।
পেটিএম নোটবন্দীর সুফলভোগী, তারাই মূলত লাভবান হয়েছে। এখন অজুহাত দিক, সত্য চোখের সামনে। তারা মোদীর ছবি দিয়ে সংবাদপত্রের প্রথম পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন দেয়। তারা ডেটা বেচে। তারা জালিয়াতি করে। এসব কি লুকানোর উপায় আছে? শুধু পেটিএম না, ডেটা বেচে অনেক এপই। আর ওই জিও লাটের গুরু। এসব বিষয়ে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে যাবে। আমি দেশদ্রোহী হয়ে জেলে যেতে চাই না। তাই চেপে যাওয়াই ভালো।
Avatar: কৌশিক মাইতি

Re: কোবরাপোস্ট এবং যক্ষপুরী সম্পর্কে দু’একটি কথা - দ্বিতীয় পর্ব

কোবরা পোস্টের স্টিং অপেরেশন ভারতে সংবাদমাধ্যম বড় করে দেখায়নি। আরে, দেখাবে কি করে? প্রায় প্রতিটা বড় মিডিয়াই যুক্ত। টাকার জন্যই তো চ্যানেল খোলা। খবর দেখানোটা তো সামনের কথা। ভারতে সাংবাদিকতা বলে আর বিশেষ কিছু নেই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। এ নিয়ে বিবিসি খবরও করেছে।
পেটিএম নোটবন্দীর সুফলভোগী, তারাই মূলত লাভবান হয়েছে। এখন অজুহাত দিক, সত্য চোখের সামনে। তারা মোদীর ছবি দিয়ে সংবাদপত্রের প্রথম পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপন দেয়। তারা ডেটা বেচে। তারা জালিয়াতি করে। এসব কি লুকানোর উপায় আছে? শুধু পেটিএম না, ডেটা বেচে অনেক এপই। আর ওই জিও লাটের গুরু। এসব বিষয়ে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে যাবে। আমি দেশদ্রোহী হয়ে জেলে যেতে চাই না। তাই চেপে যাওয়াই ভালো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন