বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অন্য মেটিয়াবুরুজ - ২

সেখ সাহেবুল হক

পুরকাইতদার স্কুলের দোতালায় আড্ডা জমে উঠলো। দেশ, সমাজ, নোটবাতিল, গোরক্ষার পাশাপাশি ফেসবুকের বিভিন্ন মানুষ আলোচনায় উঠে আসতে লাগলেন। পুরকাইতদা শুধু ভোজনরসিক নন, কিংবা চরম অতিথিবৎসল বললেই তাঁর মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয় না। ক্রমশ ‘সামসুদ্দিন পুরকাইত’ সাহেবের কর্মকান্ডের আঁচ পাওয়া গেলো। বেশ কিছু বছর আগে বাচ্চাদের স্কুল গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন পুরকাইতদা। কিন্তু পর্যাপ্ত পয়সার অভাবে তা বাস্তবায়িত হতে পারছিলো না। এমন সময় দেবী লক্ষ্মীর মতো নিজের বিয়ের গহনা বন্ধক দিয়ে স্বামীর হাতে পয়সা তুলে দিয়েছিলেন পুরকাইতভাবী। সেই সুমহান সিদ্ধান্তের ফসল এই স্কুল। স্কুলঘরের দোতালায় বসে কথাগুলো বলতে বলতে পুরকাইতদার চোখে কিছু করতে পারার পরম তৃপ্তির জলকণা চিকচিক করে উঠছিলো। আচমকা ফ্যাকাসে হাসি সহযোগে বলে উঠলেন - “এই যে স্কুল, আপনাদের ভাবী ছাড়া সম্ভব হতো না।

আরও পড়ুন...

কোবরাপোস্ট এবং যক্ষপুরী সম্পর্কে দু’একটি কথা -প্রথম পর্ব

খবরদার

কোবরাপোস্টের দাবী অনুযায়ী তাদের সাংবাদিক পুষ্প শর্মা কালনিক একটি সংস্থা শ্রীমদ্ভগবতগীতা প্রচার সমিতির কর্মকর্তা জনৈক আচার্য সেজে দেশের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংবাদ সংস্থার (যার মধ্যে খবরে চ্যানেল, নিউজ পেপার এবং ওয়েব পোর্তাল সবই আছে) কর্তাব্যাক্তিদের অ্যাপ্রোচ করেন টাকার বিনিময়ে একটি বিশেষ আইডিওলজিকে প্রোমোট করতে। এটি তিনটি ফেজে বিভক্ত। প্রথম ফেজে গীতার বাণী প্রচারের মাধ্যমে, দ্বিতীয় ফেজে বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের রিডিকিউল করার মাধ্যমে এবং তৃতীয় ফেজে সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি রাজনৈতিক দলের সুবিধামতো অ্যাগ্রেসিভ প্রোমোটিং করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন...

আইনত হযবরল-প্রথম পর্ব

সরসিজ দাশগুপ্ত

আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন আলোচনায় বারবার উঠে আসছে জুডিশিয়ারি বা বিচারব্যবস্থার ভূমিকা বা কাজ কী , সেই প্রসঙ্গ। কিন্তু, এই আলোচনা করতে গেলে, এই ভূমিকা এবং কর্মপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে কার হাতে, তাও তো বুঝতে হবে। আর তার জন্য, বুঝতে হবে, বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া। বুঝতে হবে, আমাদের বিচারব্যবস্থায়, হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির গুরুত্ব ঠিক কতটা। তবে, তার আগে সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক, ভারতবর্ষে আইন তৈরির প্রক্রিয়া দুটির ব্যাপারে। আমাদের দেশে আইন দুইভাবে তৈরি হয়। সংসদে নেতা মন্ত্রীরা যে আইন পাশ করেন, সেই আইন এর রূপকর মূলত আমলারা। আইনসভায় পাস্ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে ও সরকারি গেজেটে পাবলিশ হলে, তবেই তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি মেলে। আমার বা আপনার যদি সেই আইন বা তার কোনো বিশেষ অংশ নিয়ে কিছুমাত্র আপত্তি থাকে, তাহলে আমরা সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতেই পারি, এই যুক্তিতে যে, নতুন তৈরি আইনটি সংবিধানের কোনো বিশেষ ধারার পরিপন্থী। আমাদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হলে, আদালত সেই আইনটিকে অসংবিধানিক বা আলট্রা-ভাইরিস ঘোষণা করতে পারে, ঠিক যেমনটি হয়েছিল, সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট একট, ২০১১'র ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, আইন সব কিছুর ঊর্ধ্বে না, বরং, আইন মাত্রই প্রশ্নসাপেক্ষ, আইনের ঠিক, ভুল, কম, বেশি ইত্যাদি সবই তর্কসাপেক্ষ। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।

আরও পড়ুন...

অপমানের ইতিবৃত্ত

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

চারটে বাচ্চা হয়েছিল। সাদা কালো পশমের বলের মতন। ভাল করে হাঁটতেও পারত না। দাঁড়াতে গেলে পা বেঁকে যেত। তুরতুর করে ছুটে ছুটে গলির এই ধার থেকে ঐ ধার করত তারা। তাদের নেড়ি-মা ডাস্টবিন, হোটেলের আশপাশ, হাসপাতালের ময়লা জঞ্জাল আবর্জনা ঘেঁটে যদি কিছু পেত, মুখে করে নিয়ে আসত। রাত্রিবেলায় মায়ের পেট ঘেঁসে ঘুমোত চারখানা চোখ সবে ফোটা বাচ্চাগুলো।

গতকাল একটা তীব্র স্পিডে ছুটে আসা সুইফট ডিজায়ার দুটো বাচ্চাকে মাড়িয়ে দিয়ে গেল । রাস্তার ওপরেই খেলা করছিল তারা। গাড়ির আওয়াজ বুঝে সাবধানী এবং সচকিত হবার মত অভিজ্ঞতা ছিল না। গাড়িটাও, চাইলে স্পীড কমাতেই পারত। গলির মধ্যে আর কত স্পিডেই বা গাড়ি চালানো সম্ভব! দেখতে পায়নি এমনও নয়, কারণ তখন দুপুরবেলা। হয়ত, দেখতে পেয়ে গতি হালকা কমিয়ে দুখানা হর্ন দিতে পারত। অথবা স্টিয়ারিং হালকা বাম দিকে ঘুরিয়ে দিলেও কাজ চলে যেত হয়ত। কিন্তু, সম্ভবত দাঁড়াতে চায়নি। সম্ভবত, তার অনেক তাড়া ছিল।

আরও পড়ুন...

মাওবাদীর জন্ম ও মৃত্যু

প্রতিভা সরকার

এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিচালক নির্বাচিত সরকার। সে সংবিধান এবং আইন মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্র আইনী প্রতিষ্ঠান, ফলে দেশের বিপথগামী বা সুপথগামী নাগরিকদের কোন কাজে শাস্তি দিতে হলে সে আইনী সীমা লঙ্ঘন করতে পারবে না। মাওবাদীদের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়, কারণ তারা দেশের সংবিধানকে অস্বীকার করে এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ও কার্যকলাপ ঘোষিতভাবে বেআইনি । তারা যদি দেশের শত্রু হয়ে থাকে , তাহলে দেশদ্রোহ আইনে তাদের সাজা দিতে হবে। মিথ্যে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা চলবে না , আত্মসমর্পণ করতে চাইলে বুলেটে তার জবাব দেওয়া যায় না । এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং বা বিচারবহির্ভূত হত্যা যদি সবক শেখাবার সহি রাস্তা হতো তাহলে পঞ্চাশ বছর ধরে এই সমস্যা চলে আসছে কিভাবে ?

আরও পড়ুন...

জামাল মোমিন এবং ভদ্রলোকেরা

রৌহিন ব্যানার্জি

এই অ্যালিয়েনেশন, নিজেদের পৃথক ভাবার প্রবণতা বহু প্রজন্ম ধরেই আমাদের মধ্যে পালন করে চলেছি আমরা – এখন খালি ওই যাকে বলি অনুকুল জল হাওয়া, তার সুবাদে এগুলি প্রকাশ্যে আনতে দ্বিধাবোধ করিনা, জানি এটা সামাজিকভাবে গৃহিত এখন। প্রতিবাদ করতে গেলে, জামালদের হয়ে কথা বলতে গেলে আপনাকে “পাকিস্তানে চলে যান” শুনতে হতেই পারে। তবে কিনা শুনলাম তো অনেক – এবার মনে হয় পালটা বলা দরকার যে না, আমি পাকিস্তান যেতে রাজি নই। এই দেশ, এই মাটি, এই সংস্কৃতিকে তোমাদের চেয়ে অনেক বেশী ভালবাসি, বুঝি, আমি, আমরা। অতএব যেতে হলে তোমরা যাবে – আমাদের জলজমিন ছেড়ে, যেখানে খুশী, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট যে চুলোয় চাও। আমরা এখানেই থাকব, জামালরা এখানেই থাকবে, সুলতানারা থাকবে।

আরও পড়ুন...

একটি অরাজনৈতিক প্রতিবেদন ও আবেদন

সুতপা দাস

দেড়শো শিক্ষকের মধ্যে নাকি ভিডিও দেখে সত্তর জনকে সনাক্ত করা গেছে। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলা প্রশাসন তাদের বেতন বন্ধ করেছে এবং তারা গ্রেফতারের অপেক্ষায়। রাজকুমারবাবুর পোলিং অফিসার বয়ান দেওয়ায় তিনি সহ আরও দুজন শিক্ষককেও অ্যারেস্ট করেছে পুলিশ, হেফাজতে নিয়েছে অপরাধীর মতো, অথচ প্রয়াত প্রিসাইডিং অফিসারের হত্যাকারীদের ধরবার কোনো তৎপরতা তো নেইই, বরং প্রশাসন আত্মহত্যার তত্ত্বে সীলমোহর লাগাতে ব্যস্ত!

এমতাবস্হায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এক শিক্ষক গ্রুপে মতবিনিময়ের মাধ্যমে পুনরায় কলকাতায় এক প্রতিবাদমিছিল আয়োজন করা হয়েছে আবারও সম্পূর্ন অরাজনৈতিক ব্যানারে, আগামী ২৮/০৫/১৮ তারিখ বেলা দেড়টায়। খবরটি ক্রমাগত চর্চা হতে থাকায় পাল্টা ‘খবর’ হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তর থেকে নাকি শিক্ষক গ্রেফতার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে খবরের যাথার্থ্য অবশ্য যাচাই করা যায়নি!

শিক্ষকসমাজের ত্রুটিবিচ্যুতি ফলাও করে প্রচার করে যে বাজারী সংবাদমাধ্যম, শিক্ষকসমাজের ন্যায়প্রতিষ্ঠা, নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি ও অনর্থক প্রতিহিংসামূলক হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা ঘন্টাখানেক তো নয়ই, মিনিটখানেকের প্রচারের আলো ফেলতেও রাজী নয়!

আমরা আপোষ করেছি সমাজের নাগরিক তৈরীর ক্ষেত্রে, তাই আজ এ লড়াই আমাদের ভবিতব্য।

আরও পড়ুন...

বৃত্তের মধ্যে বৃত্ত

রফিক

মা একটু একটু করে বুঝতে শুরু করল কিন্তু আব্বু আরও রেগে যেতে লাগল। বলতে লাগল, আমি না কি বেশি শিক্ষিত হয়ে গিয়েছি। এখানে একটা কথা বোঝা দরকার। আমাদের গ্রামে আমিই প্রথম যে সায়েন্স নিয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে হয়তো জনা দশেক গ্র্যাজুয়েট পাওয়া যাবে। তাই আব্বুর মুখের এই কথাগুলোর প্রেক্ষাপটটা বুঝতে পারতাম। আচ্ছা, শিক্ষাও কি কাউকে সংখ্যালঘু করে দেয়?

আর এই ক্রমাগত চাপ সহ্য করতে পারছিলাম না। একসময় বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে পালালাম। কোথায় যাব জানি না। কিভাবে যেন গিয়ে পৌঁছলাম মুম্বাই। কন্সট্রাকশন ওয়ার্কারের কাজ নিলাম বেঁচে থাকার জন্য। সেখানে খুব কাছ থেকে দেখলাম শোষণের আরেক রূপ। তবে সেইসব গল্প তোলা থাক অন্য আরেকদিনের জন্য।

আরও পড়ুন...

ঠাঁইনাড়া

ষষ্ঠ পাণ্ডব

আলী যখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে তখন সে প্রথম বারের মতো কলকাতা যায়। সেবার হুগলী নদীর উপর বিশাল লোহার ব্রীজ হয়েছে। আজব সে ব্রীজ! তার তলায় থাম নেই, উপর দিয়ে বাস-ট্রাম-ট্যাক্সি চলে, লোকে পায়ে হেঁটে যায়, আর নিচ দিয়ে লঞ্চ-স্টীমার যায়। আলীদের বাড়ির সবাই গোটা ব্রীজ হেঁটে হেঁটে পার হয়। ওপাড়ে গিয়ে আরও হেঁটে ময়দান, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হাইকোর্ট সব ঘুরে দেখেছিলো। নিউ এম্পায়ার থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে দেয়ালের ছবি দেখেছিলো। মামীদের খুব ইচ্ছে ছিল থিয়েটার দেখার, কিন্তু এতগুলো মানুষের টিকিট কেনা সম্ভব ছিলো না। এই দিন আলী জীবনে প্রথম বারের মতো দোকানে বসে কাবাব-রুটি আর কুলফি খেয়েছিলো। অমন খুশবুদার আর মাখনের মতো মোলায়েম কুলফি আলী আর কোনদিন খায়নি। দোকানে আরেকটা খাবার দেখেছিল, তার নাম ‘ফালুদা’। নানা রকমের ফল, বাদাম, সিরাপ, ক্ষীর, বরফ দিয়ে বানানো। কি লোভনীয় দেখতে, আর কি তার খুশবাই!

আরও পড়ুন...

নাগরিকত্ব বিল বিভাজনের হাতিয়ার, তবে নাগরিকত্বের আলোচনাটা জরুরি

দেবর্ষি দাস

‘তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতার কী হল?’ কোশ্চেনটা জরুরি, কিন্তু আপাতত তা মুলতুবি থাক। আগে এই নীতির ফলাফল কী হতে পারে দেখা যাক। আসামের দিক থেকে দেখলে ‘ভারত হিন্দু আশ্রয়স্থল’ নীতির বিশেষ তাৎপর্য আছে। ২০১৪-এর নির্বাচনের সময়ে মোদিজি অর্ণব গোস্বামীকে সাক্ষাৎকার দেন। অর্ণব জিজ্ঞেস করেন বাংলাদেশে দেড় কোটি হিন্দু আছে। আপনারা দেড় কোটি লোককে ভারতে (পড়ুন আসামে) চলে আসার আমন্ত্রণ দিচ্ছেন না তো? মোদিজি স্বভাবসিদ্ধ প্রাজ্ঞতায় জানান হিন্দু কোনও ধর্মই নয়, জীবনশৈলী। সাংবাদিকদের বাংলাদেশে গিয়ে হিন্দুদের ওপর গবেষণা করা উচিত। ফিজি নিয়ে বলছেন না কেন? ইত্যাদি। হিন্দুদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি মোদি সরকার বলবৎ করবে এ নিয়ে সন্দেহ থাকে না।

আরও পড়ুন...

সুলতানা বিচার পাবেন ?

জুবি সাহা

সুলতানার গ্রামের মানুষ তার প্রতিবশীরা অবশ্য বলেছিলেন, সরল,পরিশ্রমী এই মেয়েটির ন্যায়বিচারের জন্য যতদূর প্রয়োজন, তাঁরা যাবেন। সেই কথা তাঁরা রেখেছেন। এরপরই সুলতানার ধর্ষণ আর হত্যার বিচার আর দোষীদের শাস্তির দাবিতে সুলতানার গ্রামের মানুষ রাস্তায় নামেন। তাঁদের সাথে আমরা যাই সোনারপুর থানায়। সুলতানার দুই সন্তানও সেদিন বিচার চাইতে গিয়েছিল সোনারপুর থানায়। যেভাবে গোটা ঘটনাটার ক্ষেত্রে পুলিশ প্রথম থেকে অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছে, সুলতানার ধর্ষণ হয়েছে কিনা তার থেকেও বড় হয়ে উঠেছে মেয়েটি মদ খেয়েছিল কি খায় নি, সোনারপুর থানায় যাওয়ার পর যেভাবে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা এলাকার মানুষদের ভয় দেখাতে শুরু করে,প্রায় এক ঘণ্টা তাদের সাথে উত্তপ্ত বাগবিনিময়ের পরই একমাত্র থানায় ঢোকা সম্ভব হয়। আমাদের শুনতে হয় যে, এলাকার মেয়ে,আমরা বুঝে নেবো,যদিও এত বড় নৃশংসতার পরও তাদের কাউকে কোনভাবে পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় নি।

আরও পড়ুন...

হাওয়ার কথা, অথবা যা হওয়ার কথা ছিল

মৌসুমী ভৌমিক

শ্রী অশোক কুমার মুখোপাধ্যায় যে ‘নিবন্ধের’ কথা লিখেছেন, এবং লীলা মজুমদারের ওপর বেরনো যে বইটির কথা এখানে উঠেছে, আমার এই লেখাটি আমি সেই প্রসঙ্গেই লিখছি। ৬ মে সকালে রবিবাসরীয়তে অশোকবাবুর লেখা পড়ার পর দুপুরবেলায় আমি আনন্দবাজারের সম্পাদককেও একটি ইমেল লিখেছিলাম। তিনি তখন তখনই উত্তর দেন, এবং বলেন যে, বিষয়টির কথা তিনি জেনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমি আমার ইমেল এবং সম্পাদকের বক্তব্য প্রসঙ্গে একটি পোস্ট লিখেছিলাম ফেসবুকে। দু’দিন পর অশোক মুখোপাধ্যায়ের এই ঋণস্বীকার। আমি এই কথাটাই আনন্দবাজারের সম্পাদককে লিখেছিলাম, যে, আপনারা একটা লাইন ছেপে দেবেন দুঃখ প্রকাশ করে। ব্যাস, আপনাদের দিক থেকে আপনারা পরিষ্কার হয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন...

অন্য মেটিয়াবুরুজ - ১

সেখ সাহেবুল হক

পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া মেটিয়াবুরুজে সেই প্রথম পা রাখা। তার আগে ধারণা ছিলো মেটিয়াবুরুজ মানে শুধুই হিন্দির দাপাদাপি, গুটখার আস্ফালন, হইহল্লা আর প্রকাশ্যে মাফিয়ারাজ। মেটিবুরুজের কিছু অংশে এটি সত্য হলেও কিছু মানুষের বাংলা ভাষায় দখল, মার্জিত ব্যবহার এবং সর্বোপরি দিলদরিয়া ভাব কবেই আকৃষ্ট করেছিলো আমাদের। অনেক অবাঙালি এতো নিখুঁত বাংলা বলেন তা বহু হিন্দিপ্রেমী বাঙালীকে লজ্জায় ফেলে দিতে পারে।

আরও পড়ুন...

ভারতে আদিবাসী-সম্পর্ক

কুমার রাণা

এর সংগে আছে মৌলিক অধিকার হনন। সারা দেশ জুড়ে আদিবাসীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মনিয়োজনের অধিকাগুলো থেকে বঞ্চিততো হনই। এর চেয়ে বড়ো অধিকার হনন ঘটে তাঁদের সাংবিধানিক মর্যাদার বঞ্চনায়। যেমন আসামেঃ এখানকার চা-বাগান, এখানকার শস্যক্ষেত্র, এবং আর্থনীতিক সমৃদ্ধিতে ঝাড়খণ্ড সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রা থেকে আসা আদিবাসীদের অবদান বিপুল। অথচ, এ রাজ্যে তাঁরা তফসিলি জনজাতি (এস-টি) মর্যাদা পাননা। কারণটা শ্রেণিগত – এ মর্যাদা পেলে সাংবিধানিক রক্ষা কবচগুলো ব্যবহার করে অন্তত একটা অংশের আদিবাসী নিজেদের জীবনযাত্রার মান বাড়াবার সুযোগ পাবেন, কিন্তু সেটা পেলে অবিশ্বাস্য সস্তা মজুরিতে চা-বাগানে কাজ করবে কে? সরকার, স্পষ্টত, অসমিয়া শাসকশ্রেণির পক্ষে, বা তাদেরই প্রতিভু। এর উপর আছে কথায় কথায় ঝাড়খণ্ডী আদিবাসীদের উপর সরকারি মদতে আসামেরই বোডোদের মতো কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর অকল্পনীয় হিংসা – গত শতাব্দীর ভারতে আসামের কোকরাঝাড় জেলায় লক্ষ লক্ষ সাঁওতাল বোডো জঙ্গীদের হাতে প্রাণ হারান, গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে লোকেরা পালাতে বাধ্য হন শরণার্থী শিবিরে।

আরও পড়ুন...

অশোক মিত্র (১৯২৮-২০১৮)

বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত

প্রাথমিক মুগ্ধতা কেটে যাওয়ার পরে, আমার অশোক মিত্রের লেখা খুব ভালো লাগতো না। তবে এটুকু স্বীকার করে নিচ্ছি, আমি তাঁর লেখাতেই সঞ্জয় ভট্টাচার্য্য, অরুণ কুমার সরকারদের কথা পড়েছি। শুধু এই জন্যেই তাঁকে মনে রাখা যায়। পরে যোগাড় করে কিছুটা পড়েছি, কিন্তু আধুনিক সমসাময়িক সাহিত্য চর্চা মানেই যে একেবারেই বহুল প্রচলিত পাঠকের রুচি নির্মাণে আগ্রহী সাহিত্য পত্রিকা, কিম্বা শুধুই ক্রুদ্ধ, সমান্তরাল অন্তর্মুখী অতি নাগরিক জগত তৈরি করে নেওয়া ছোটো পত্রিকার লেখা পাঠ নয়, তার যে একটা খোঁজ আছে, ইতিহাস আছে, এবং আধুনিকতা জিনিসটা যে একেবারে টুপ করিয়া পড়িল গোছের কৃষ্ণপ্রেমে নিবেদিত কদম্ব পুষ্প না, এই বোধটা যে কজনের লেখা পড়ে তৈরি হয়েছিল, অশোক মিত্র তাঁদের মধ্যে একজন।

আরও পড়ুন...

ধর্ষণ সংখ্যালঘুর ওপর ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার

দোলন গঙ্গোপাধ্যায়

এখন কথা হল, নারী কোন একমাত্রিক পরিচিতি নিয়ে চলে না। যোনিগত পরিচিতি ছাড়াও মেয়েদের বংশ, জাত, ধর্ম, শ্রেণী ইত্যাদি নানা পরিচয় থাকে।যত জীবন চলতে থাকে ততই মৌলিক পরিচয়গুলির সঙ্গে যুক্ত হয় তার প্রথাগত শিক্ষার তকমা, পেশার পরিচয়, তার রাজনৈতিক অথবা সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কজনিত পরিচয়।আর এই যে লিঙ্গ, জাতপাত, ধর্মীয়, শ্রেণীগত, যৌনতা অথবা শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বিষয়ে মেয়েদের পরিচিতি, এর মধ্যে কোন পরিস্থিতিতে কোন পরিচয়ের কারণে তাকে ধর্ষিত, নির্যাতিত হ’তে হবে, তা নির্ভর করে তার পরিচিতিগত অবস্থানের প্রান্তিকতার ওপর।অনেকসময় একাধিক প্রান্তিক পরিচিতির কারণেও মেয়েদের ওপর অত্যাচার নেমে আসে।

আরও পড়ুন...