বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রজনীগন্ধা ফুলটি যেদিন ফুটেছিল

কুলদা রায়

খোয়াবের কথাতেই মুহাম্মদ আব্দুস সামাদের ভ্যাল লেগে যায়। তার খোয়াব দেখার বাই আছে। সে কারণে তাকে বাল্যকালে বেশ ভুগতে হয়েছে। বাপে ক্ষেত খামারের কাজে লাগাতে পারেনি। কাঁচি হাতে পাঠালেই হয় তার হাত কাটত। অথবা কাকপায়া ঘাসের বদলে ধান গাছ কেটে ফেলত। এমন কি মাঝে মাঝে তার সন্ধানই পাওয়া যেত না। পাওয়া যেত, বটতলার ঝুরির ভেতরে চিত হয়ে সে ঘুমিয়ে আছে। মুখে মিটি মিটি হাসি। এই করেই শেষ পর্যন্ত পাঞ্জু শাহর দলে ঢুকে পড়েছে।

পাঞ্জু শাহর কাজই ছিল খোয়াব দেখা মানুষজন নিয়ে কায় কারবার। কপালে তর্জনী রেখে তিনি বাক্যি দেন, এই যে তোর বাপো ছিল, ছিল কিনা কে জানে। হাছা হইল, তোর বাপে ছিলই না। ছিল তোর খোয়াবে। এই যে তুই আছিস, এটাও তোর খোয়াব। আর একদিন নাই হবি, সেইটাও মস্ত খোয়াব।

--আর বিবিজান?

-- আহ হা হা, সেইটা হইল গিয়া আসল খোয়াব।

তবে আজ খোয়াব দেখেছে বলে তার মনে হয় না।

বেচারাকে গভীর চিন্তিত দেখে শরিফুন্নেসা তেল গামছা এগিয়ে দেয়। বলে, গোসল সাইরা আসেন। ভাত বাইড়া রাখছি।

গোসল করতে করতে তার যদ্দুর মনে পড়ে, লোকটা এসেছিল বটে। বসেওছিল বটতলায়। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো বাতচিত করেনি।

আরও পড়ুন...

ছবি ও ছড়া

বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী

আগরতলা বইমেলাতে বিমলেন্দ্র চক্রবর্তীর কাছে ছবি ও কবিতার দাবী জানাতেই পাওয়া গেল দুটি ছড়া ও তাঁর অলঙ্করন। পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হলো এখানে!

আরও পড়ুন...

খুচরো হিসেব

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী

পাঁচ মিনিট নয়, আধ ঘণ্টার মতো লাগল। জমাদার যখন রাস্তা থেকে রক্তের শেষ বিন্দুটি মুছে ফেলেছে, তখন অমিত বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিমি মতো দূরে। অনেকটা হাঁটা হয়েছে। আজ বাস চলবে না কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাবে এই রাস্তা ধরে। আধ ঘণ্টা আগের থেকে প্রাইভেট গাড়ির যাতায়াতও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাথের খোঁদলে পা পড়ল অমিতের এবং মুখ থেকে চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এল একটা। গোড়ালির কাছে একটা ব্যথা, খুব পুরনো ব্যথা - বছর তেরোর পুরনো চোট। পায়ে পা জড়িয়ে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করতে গিয়ে বেকায়দায় গোড়ালি মচকে গিয়েছিল। দলের হয়ে একটা পেনাল্টি আদায় হয়েছিল বটে, গোলটাও হয়েছিল কিন্তু ব্যাথাটা ভুগিয়েছিল অনেকদিন। আজ দীর্ঘদিন পর আবার সেটা জানান দিয়েছে। গাছের তলায় একটা বেদীর মতন, সেখানে বসে পড়ল অমিত। একটু জিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন...

শক্তি হয়ে এসো হে বৈশাখ

রুখসানা কাজল

হো হো হাসিতে তলিয়ে যায় সন্দেহবাজ লোকগুলো। আলোর দিকে পেছন দিয়ে বসে থাকে ওরা। অন্ধকারে মিশে যায় ওদের সাম্প্রদায়িক অসুন্দর মন। বাগানের অন্যদিকে তখন গান গাইছে দিভাই আপুলিরা, আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ , মায়ার কুঞ্ঝটিজাল যাক দূরে , যাক যাক যাক --
কোনো এক নদীগন্ধমাখা শহরের তরুণ প্রাণরা বৈশাখকে বরণ করে নিতে কত কিছুই না বানাচ্ছে। পোস্টানো ছবিতে আমি ওদের হাত দেখি, হাতের আঙুল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রঙ, কাগজ। উদ্ভাসিত আলো এসে ছুঁয়ে গেছে ছেলেমেয়েদের চোখ মুখ। ওদের হাসি, হাসিতে বৈশাখী হাওয়া, ঝড়, বৃষ্টি , রোদ্দুরের জন্যে অনাবিল আহবান। কেউ কেউ ডাকে, ম্যাম আসুন। আসুন না প্লিজ। এ তো আপনারও শহর। দীর্ঘ রাস্তা জুড়ে আলপনা হবে। রঙ কেনা হয়ে গেছে। আপনিও আল্পনা আঁকবেন আমাদের সাথে। কি যে ভালো লাগবে ম্যাম!

আরও পড়ুন...

একা থাকার অসুখ থেকে

মোজাফফর হোসেন

এই ঝড় সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না আমার। জানতাম কেবল, এই ঝড় সৃষ্টির পেছনে আমার কোনো হাত নেই। জানতাম, আমাকেই খোঁজা হচ্ছে এখন। যতক্ষণ ঝড়ো বাতাস বইতো, ততক্ষণ আমি ঘামতে থাকতাম এই জানালাবিহীন গুমোট কক্ষে। এত ঝড় বাইরে অথচ এখানে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো বাসাটুকুও কষ্ট করে সঞ্চয় করতে হয়। মাথার ওপর দিয়ে কয়েকটি চামচিকা অনবরত যায়-আসে। ভয় হয়, ওরা শেষমেশ এই গোপন আস্তানার খবরটা ঝড়ের কাছে ফাঁস করে না দেয়। টিকটিকিটাকেও চোখ শাসিয়ে বারণ করে দিই। মাকড়সা দেখলেই মনে পড়ে যায় স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের কথা। আচ্ছা, ব্রুস যদি ঐ মাকড়সার প্রচেষ্টাকে গুনুত্ব দিয়ে না দেখতেন, কিংবা মাকড়সা যদি সত্যি সত্যি সেদিন না থাকতো ওখানে, তাহলে কি তিনি জয়ী হতে পারতেন? একটা মাকড়সার কারণেই কি তিনি তার রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারলেন--বদলে গেল একটা দেশের ইতিহাস?

আরও পড়ুন...

এই সব সন্দেহ

বিপুল দাস

একটু বাদেই শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অয়্যারলেসে খবর চালাচালি শুরু হয়ে যায়। হ্যালো চার্লি, নাম্বারপ্লেট ছাড়া একটা রহস্যজনক ওভারলোডেড ট্রাক কিছুতেই ধরা যাচ্ছে না। কোনও শব্দ না করে মুহূর্তে গাড়িটা ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে। ওভার। হঠাৎ গুছাইতবাড়ি থানায় কারও মোবাইল থেকে একটা ফোন আসে। ভদ্রলোকের কালো মারুতি, শহরের বাইরে আম্বেদকর পার্কের সামনে উনি গাড়ির ভেতরে বসে ছিলেন। স্ত্রীকে স্টেশনে পৌঁছে দেবার জন্য ভদ্রলোক নিম্বার্ক হাউজিং কম্‌প্লেক্স থেকে রওনা হচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখতে পান একটু দূরে ঝাঁকড়া শিরীষ গাছের নীচে মস্ত বড়, যেন অনেকটা অন্ধকার জমাট বেঁধে রয়েছে, যেন কালো প্লাস্টিকে-মোড়া একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভদ্রলোক তার নিজের গাড়ির হেড-লাইট জ্বালাতেই আলো গিয়ে সেই গাড়ির সামনে পড়ল। তখনই তিনি দেখতে পান অনেক উঁচুতে ঝকঝকে দুটো আলো জ্বলে উঠল। কোনও শব্দ হল না, কিন্তু গাড়িটা এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে উধাও হয়ে গেল।
-- হুঁ, ভালো নামিয়েছে। এলিয়েন-এলিয়েন গন্ধ আছে। তারপর?
-- পরে সেই ভদ্রলোক স্বরাষ্ট্রবিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিককে জেরার মুখে জানিয়ে ছিলেন যে, অবশ্য খুব একটা জোর দিয়ে বলতে পারছিলেন না – অন্ধকারে প্রথমে সেটা ওভারলোডেড ট্রাক মনে হলেও তার গাড়ির আলোয় এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে তার একটা প্রকান্ড ইঁদুর মনে হয়েছিল। অবশ্য তিনি কনফার্ম হয়ে বলতে পারেননি। বারে বারে বলছিলেন – আমার যেন কেমন সন্দেহ হয়েছিল ...

আরও পড়ুন...

দ্বিতীয় পুরুষ

আহমেদ খান হীরক

তুমি হড়বড়িয়ে বলো, আমি নিয়াজকে খুঁজছি। নিয়াজের বিরাট প্রবলেম… ঢাকার ঝড় নিয়াজের গ্রামেও হানা দিছে! নিয়াজ আছে কি আপনার ওখানে?
নারীকণ্ঠটা জানায় সে কোনো নিয়াজকে চেনে না। তবে না… একটা নিয়াজকে সে চিনত। অনেক দিন আগে। কিন্তু ওই নিয়াজকে গত বছর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন অনেক দিন হয়ে যাওয়ায় নিয়াজকে এখন কেউ আর খোঁজেও না। আপনি কি সেই নিখোঁজ নিয়াজকে খুঁজছেন?
তুমি বোধশূন্য হয়ে থাকা অবস্থাতেই বলে, আমি সবগুলো নিয়াজকেই খুঁজছি! ঢাকা শহর থেকে হাজার হাজার নিয়াজ বোধহয় নেই। আমি সবগুলো নিয়াজকে খুঁজছি!
নারীকণ্ঠটায় এবার সন্দেহের ঘোর—কে আপনি আসলে বলেন তো? সত্যি করে বলেন তো?
তুমি তোমার পরিচয় দিতে যাও, কিন্তু নিজেকে আবার সংবরণ করে নাও। অপরিচিত কারো কাছে নিজের পরিচয় এখন কোনোভাবেই প্রকাশ করা যায় না। তুমি তখন বলো, আমি নিয়াজ!

আরও পড়ুন...

পাড়াতুতো চাঁদ

ইন্দ্রাণী

অষ্টমঙ্গলার ঠিক কুড়ি বছরের মাথায় ক্যান্সার ধরা পড়েছিল লতিকার। বহুদিনই একটা লাম্প পুষেছিল বুকে। যখন বোঝা গেল, অনেকটাই ছড়িয়ে গেছে রোগ। ডাক্তার খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছিলেন লতিকাকে, অশোককে। বলেছিলেন, ভ্গবানকে ডাকুন। মির‌্যাকল তো হয়ও।
বাড়ি ফিরে খিলখিল করে হেসেছিল লতিকা- 'একদম মিলি । পুরো মিলি। জয়া ভাদুড়ির সেই সীনটা মনে আছে?'
অশোক পাগল হয়ে গিয়েছিল যেন- লতিকার ওপর রাগ করেছিল, খ্যাপার মত বলেছিল, 'শুধু সিনেমা , না? শুধু সিনেমা? তুমি মিলি হতে চেয়েছিলে , তাই বলো নি। আমি জানি। সিনেমাই সব তোমার। আমি, বাবলু -কেউ না?'
লতিকা শান্ত চোখে তাকিয়েছিল। বলেছিল-'কেঁদো না।' ওকে নন্দিনী মালিয়ার মত লাগছিল অশোকের । যেন ওরা দুজনে ভ্রমর আর অমল। যেন ওদের জোর করে কেউ সিনেমার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে-অভেদ্য এক পর্দায় আটকে গিয়েছে লতিকা আর ও- দম আটকে যাচ্ছে, কিছুতেই বেরোনো যাচ্ছে না - 'ছুটি'র লাস্ট সীন চলছে। সিনেমার থেকে বেরোতে না পেরে অশোক ভাবল, তবে সিনেমাই দেখা যাক।

আরও পড়ুন...

আত্মজা

প্রতিভা সরকার

সেদিন দেখলাম স্টিয়ারিং একহাতে ধরে আর এক হাত দিয়ে বুকপকেট থেকে মোবাইল বার করল ড্রাইভার। কিন্তু কিছু বলব কি, খুব জোর একটা ধাক্কায় মাথা ফেটে গেল আমার, আর সেটা ভাল করে বোঝবার আগেই জল উঠে এল ঠিক আমার নাকের তলায়। এক সেকেন্ডের খুচরোতে দেখলাম ঘোলা জল রঙ বদলালো লালে। পাঁকের বিশ্রী গন্ধ, দু পা ওপরে, জলের ভেতর মাথা নিচের দিকে করে পড়ছি তো পড়ছি, যেন একটা বিরাট অন্ধকূপ, যার শেষেও আলো নেই। কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কী করলে মুক্তি পাব এই তীব্র শ্বাসকষ্ট থেকে ভাবতে ভাবতে আরও অন্ধকারে জড়িয়ে গেল চুল, পরনের শাড়ি উধাও হল। মামাবাড়িতে দেখা ছোটবেলার অনেক ঘটনাই মনে আছে। যে ঘটনাটা ঠিক এখন উঠে এসে লটকে রইল চোখের পাতায় তা হল লোহার শিকে চারদিক বন্ধ একটা ছোট খাঁচা। ভেতরে একটা নেংটি ইঁদুর। ছোটমামা খাঁচাশুদ্ধ সেটাকে চুবিয়ে ধরেছে পুকুরের জলে। সেটা বার বার খাঁচার ছাদের দিকে উঠে আসছে, কিন্তু পুরু সরের মতো জমা জলে থৈ না পেয়ে আবার নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন...

একলা বৈশাখের কবিতা - দ্বিতীয় পর্ব

১ বৈশাখ ১৪২৫

এসে পড়েছে ১৪২৫ নববর্ষ সংখ্যার বকেয়া কবিতা। এই পর্বে লিখেছেন মিতুল দত্ত, চিরশ্রী দেবনাথ, সোনালী সেনগুপ্ত, চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, কল্পর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়, হিন্দোল ভট্টাচার্য।

আরও পড়ুন...

একলা বৈশাখের কবিতা

১ বৈশাখ ১৪২৫

পয়লা একলা - ঐ একই হলো, এমনিতেও পয়লা হলে সচরাচর একলা হয়। সে যাই হোক, সংক্রান্তি পেরিয়ে গেল, আজ কবিতার শুভ হালখাতা মহরৎ।

কবিতার ভৌগোলিক গন্ডী হয়না, কিন্তু সাহিত্যের ভূগোল কিছু থাকে তো। ক'দিন আগেই আলোচনা হচ্ছিল বাংলা সাহিত্যের কলকাতা-কেন্দ্রিকতা নিয়ে। সেই ভূগোলের সীমানা ভাঙার চেষ্টা করছি, আপাতত তার সামান্য ছোঁয়া এখানেও থাকবে। হুগলী কপোতাক্ষ আড়িয়াল খাঁ বুঢ়া লুঈ ছুঁয়ে সুদিন আসুক, নতুন বছরের কবিতা পড়ি আমরা।

এই পর্বে লিখছেন যশোধরা রায়চৌধুরী, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, মিঠুন ভৌমিক, সোমনাথ রায়, জারিফা জাহান, সায়ন কর ভৌমিক, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সুমন মান্না।

প্রকাশিত হল নববর্ষ ১৪২৫ সংখ্যার প্রথম পর্বের কবিতাগুলি। খুব শিগ্গিরই বেরুবে আরো কবিতা, এই সংখ্যার পরের পর্বে।

আরও পড়ুন...

ছুঃ মন্তর ফুঃ

তন্বী হালদার

নতুন অফিসার জয়েন করার পর এই প্রথম আমার সঙ্গে তার চার চক্ষুর মিলন হল। মানে সাক্ষাৎ হল। তারপর থেকেই ভদ্রলোক আমার পেছনে কাঠি করা শুরু করলো। বিষয়টা ইউনিয়নের কানে তুললাম। কিন্তু সেখানে দেখলাম সবটাই ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’। আমি একজন বছর বিয়াল্লিশের গোলগাল ভদ্রমহিলা। বত্রিশ চৌত্রিশ সাইজের ব্লাউজ দেখলে দোকানেই বলে ফেলি বাবা একসময় এগুলো আমার গায়ে কি ঢিলা হত। মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করি ইস আবার যদি কখনও গায়ে হয়। আমি জানি বামফ্রন্টের ভারতবর্ষে সমাজতন্ত্র নিয়ে আসার মতো এ আমার ভ্রম স্বপ্ন। যাই হোক আমি জন্ম থেকেই প্রায় সকল সম্পর্কের মানুষের কাছ থেকে ল্যাং খেতে খেতে এখন আমি লেংরে লেংরে হাঁটি। সুতরাং অফিসার এহেন আচরণ করবে এটাই যেন স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন...

স্টিফেন হকিঙের চিঠি

অমর মিত্র

শ্রদ্ধেয় বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মহাশয়,
আমার নাম নীলাভ। ডাক নাম নীল। আমার কিছু জিজ্ঞাসা আছে আপনার কাছে। হ্যাঁ, আগে বলে নিই, আমার বয়স চোদ্দো। ক্লাস এইট। আমার দাদার কুড়ি। ফিজিক্স পড়ে। দাদার জন্মদিনে দাদাকে একটি বই দিয়েছিল বাবা – এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম- সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। দাদার কাছ থেকে নিয়ে বইটা আমিও পড়েছি। সবটা ধরতে পারিনি , কিন্তু পড়তে খুব ভাল লেগেছে। বুঝিনি সবটা বলেই কিছু কিছু প্রশ্ন জেগেছে আপনার লেখা ওই বইটি নিয়ে, বলা যায় সময় নিয়ে। তা রাখছি।
১) বড় হতে কত সময় লাগে স্যার?
২) আমার কাছে সময় সবসময় কম মনে হয় কেন? কারোর কারোর কাছে যে সময় আর ফুরোয় না, যেমন অভিরূপ। তার কথা পরে বলছি।

আরও পড়ুন...

শঙ্কু পাঁজার খোয়াবনামা

শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য

কিন্তু আজ আর শেষরক্ষা হল না। দানীবাবুর গলা থেকে সাঁই সাঁই আওয়াজ উঠছে। চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। গ্যাঁ গ্যাঁ করে কিছু একটা বলতে গিয়েও বলতে পারলেন না। পালঙ্কের একটা কাঠের ময়ূরের গলা শক্ত করে চেপে ধরলেন। শঙ্কু জল খাওয়াতে গেল, গলা দিয়ে নামল না। জলের গেলাস পাশের টেবিলে নামিয়ে রেখে শঙ্কু কর্তার মুখে ইনহেলারটা ধরল। প্রবল যন্ত্রণায় মাথা সরিয়ে নিলেন কর্তা। বোঝা গেল, নাকে লাগানোর ক্ষমতাটুকুও আর নেই।

শঙ্কু মোবাইল ফোন খুলল। দুর্বল সিগনাল দেখাচ্ছে। এই দুর্যোগ, তার মধ্যে আজকেই এমন বিপদে পড়তে হল?

আরও পড়ুন...

অথৈ

কেকে

“তোমাকে আমি ঠকাবো না।এটা জেনে রেখো” ।নাচো বলেছিলো।কথাটা বিশ্বাস করার অবশ্য কোন কারণ নেই।নাচো যেসব জিনিষ বিক্রি করে তার মধ্যে মিথ্যে কথাও একটা।না করলে ওর সংসার চলবেনা।শুধু একরকম জিনিষ বিক্রি করলে কারুরই সংসার চলেনা আজকালকার দিনে।নাচো মিথ্যে কথা বিক্রি করে, বেনামী বারুদ(অনেক আগে থেকে বলে কয়ে,অনেক দাম দিলে তবে পাবেন)বিক্রি করে,পুরোনো হাতফেরতা মণি-মানিক বিক্রি করে(পাতা ছেঁড়া হলুদ বই,রং ফিকে হয়ে যাওয়া ছবি,আর কি কি চান?)।নাচো পাতা বিক্রি করে।সরল ভালোমানুষ ন্যাকাচন্ডী পাতা নয়... যা পুড়িয়ে ধোঁয়া দিলে ভুত পালায় সেই পাতা।ভুতের উপদ্রব খুব আজকাল সর্বত্র।খারাপ স্বপ্নের ভুত, অস্বপ্নের ভুত, ভুতেরই বাড়বাড়ন্ত!
নাচো'র কাছ থেকে আমি পাতা কিনি।শুকনো রঙের, উনোবুনো গন্ধের পাতা।খারাপ স্বপ্নদের দূরে রাখতে লাগে।অস্বপ্নদেরও।

আরও পড়ুন...

তৃতীয়া

দীপেন ভট্টাচার্য

বন্ধুত্বের একটা পর্যায় তুমি থেকে তুই-তে উত্তরিত হয়, আর কিছু বন্ধুত্ব তুমিতেই থেকে যায়, তাতে তার গাঢ়ত্ব কিছুমাত্রায় লঘু হয় না।

সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরের নানাবিধ বিপণনীর উজ্জ্বলতায় রকমারি জিনিস কিনছিলাম, কাঁধের ওপর একটা হাত পড়লে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি বাঙালি চেহারার লোক, আমার মতই বয়স হবে।

'অমল না? কী হল, চিনতে পারলে না, আমি হানিফ।'

স্মৃতি শক্তি আমার কোন সময়ই প্রখর ছিল না, আর আজ সময়ের অদৃশ্য আঘাতে সেই স্মৃতির আধার – আমার মস্তিষ্ক – আরো খণ্ডিত, আরও ভঙ্গুর। আমার চোখে কোন উজ্জ্বলতা না দেখে হানিফ বলল, 'আমি দুলাল, এবার চিনতে পারলে তো?'

আরও পড়ুন...

সহযাত্রী

মুরাদুল ইসলাম

এরপর আমার কেন জানি মনে হল তাকেও জিজ্ঞেস করা দরকার কোথায় যাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
ভদ্রলোক বললেন, রশিদপুর। এখানে এই জগন্নাথপুরে আসছিলাম এক কাজে কিন্তু কাজটা হয় নাই। বাবা, আপনার বাড়ি কি এই জায়গায়?
জ্বি। আপনার বাড়ি?
আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
গাড়ি চলতে শুরু করল।
ভদ্রলোক নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলেন। কী করি, দেশের বাইরে যাচ্ছি কি না, ইত্যাদি। দেশের বাইরে যাবার প্রশ্নটা তিনি করলেন কারণ ভদ্রলোক জানেন জগন্নাথপুর একটি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা।
তার প্রশ্নের কারণে আমাকেও প্রশ্ন করতে হল, আপনি এখানে এসেছিলেন কোথায়?
ভদ্রলোক বললেন, সে এক লম্বা কাহিনী। একটা গল্প বলি?
বললাম, বলেন।

আরও পড়ুন...

প্রজেক্ট, কুতুব মিনার ও নাকছাবি

জয়ন্তী অধিকারী

“পুরানা কেল্লায় তালাকি দরওয়াজা দেখেচ?" "না।" "হুমায়ুনের লাইব্রেরি,যেখানে উনি সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পট--সরি ,মারা যান?" "না"। "ইন্ডিয়া গেট?" "না।" (অস্পষ্ট কিড়মিড়কিড় আওয়াজ সহ )"ক্যানো ও ও? "কেননা,আমি কোনদিন দিল্লি যাই নি।"

আরও পড়ুন...

সিজনস অব বিট্রেয়াল – ষষ্ঠ পর্ব

দময়ন্তী

জামু ছেলেটা খায় খুব তৃপ্তি করে, যাই দেন সব চেটেপুটে খেয়ে নেয় শুধু মাছটা ছাড়া। মাছ দিলে কেমন যেন খিমচে খিমচে মাছ ছাড়ায় কাঁটা থেকে, খেয়াল করে দেখলে ওর অস্বাচ্ছন্দ্য নজরে পড়ে বৈকী। তা হিন্দী কথা যারা বলে, তারা অনেকেই মাছটাছ মোটে খায় না জানেন সরলা। কিন্তু এ ছেলে ঠিক নিরামিষাশি তো নয়। একদিন মাংস হয়েছিল, ইতস্তত করে জিগ্যেস করেছিলেন মাংস খাবে কিনা? শুনে মুখটা খুশিতে ঝলমলিয়ে উঠেছিল, খেয়েওছিল ভারী তৃপ্তি করে। মাংস খায় যখন নিশ্চিন্তেই মাছ দিয়েছিলেন সরলা। হয়ত ওদের কানপুরে মাছ পাওয়া যেত না, তাই খেতে শেখে নি ভাবেন আর চেষ্টা করেন ডাল তরকারি বেশি করে দিতে। মাছটা নাহয় আর দেবেন না ওকে, ভাবতে নিজের কাছেই মাথা হেঁট হয়ে যায় তবু না ভেবে পারেন না – ছেলেটা মাছ না খেলেও একটু সাশ্রয় হয় বৈকি। বাড়ির কথা কিছুই বলতে চায় না ছেলে, জিগ্যেস করলেই ওর চোখ মুখ কাঁদোকাঁদো হয়ে যায় আর খুব অস্থির হয়ে ওঠে, একদিন না খেয়েই দৌড়ে চলে গেছিল, তারপর থেকে খুব সাবধানে ওর সাথে গল্প করেন। ঝুনু টুনুকেও বলে দিয়েছেন বাড়ির কথা জিগ্যেস না করতে। তা বাদে কতশত গল্পও যে জানে ছেলে! দিল্লীতে থাকার সময় রোজ নাকি সকালে উঠে স্টেশানে চলে যেত, সেখানে গিয়ে ট্রেনে উঠে জায়গা রাখত। পাকিস্তান থেকে আসা ট্রেন ফিরতি যাবার জন্য ছাড়ত অনেক পরে – ততক্ষণ জামুরা দলবেঁধে উঠে জায়গা দখল করে বসে থাকত। পরে পাকিস্তানযাত্রী সব ‘রহিস আদমী’রা এলে তাদের কাছে পাঁচ টাকা করে নিয়ে সিট বিক্রি করে দিত।

আরও পড়ুন...

এক ট্রাঙ্ক গপ্পো

অভিজিৎ মজুমদার

কলকাতা টেলিফোন ভবন। ডালহৌসি স্কোয়ার, যাকে এখন বিবাদী বাগ বলা হয় সেইখানে লালদীঘির পাড়ে সুউচ্চ অট্টালিকা। তার সাত তলায় ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জ। যে সময়ের কথা বলছি তখন কলকাতা থেকে দুবরাজপুর কথা বলতে হলেও ট্রাঙ্ক কল বুক করে অপেক্ষা করতে হত কখন টিলিফোনের ঘন্টি বাজবে। আবার কানেকশন লাগলেও শান্তি ছিল না, কেন না যান্ত্রিক গোলযোগে প্রায়ই লাইন কেটে যেত। সেইসব দূরবর্তী ফোন ও মনের কানেকশন জোড়ার কাজ যারা দিনে রাতে ২৪ ঘন্টা করতেন তাঁদের পোষাকি নাম ছিল টেলিফোন অপারেটরস। কোনো এক অজ্ঞাতকারণবশত: তাঁরা সবাই ছিলেন মহিলা। যার মধ্যে আমার মা ছিলেন একজন। তাই সেইসব অপারেটররা সবাই ছিলেন আমার অমুক মাসি, তমুক মাসি। সংখ্যায় প্রায় তিনশো ছুঁই ছুঁই। অজস্র নাম আর তাঁদের জীবনের অজস্র গল্প। হাসি-কান্না-লড়াই। জয়ের গল্প। হারেরও। সেই সব গল্পই মায়ের মুখে শোনা। মায়ের তেত্তিরিশ বছরের চাকরি জীবনে, অর্থাৎ বিংশ শতকের শেষ তৃতীয়াংশে টেলিফোন ভবনের ট্রাঙ্ক এক্সচেঞ্জে কাজ করা মানুষীদের জীবনের সেই সব সিনেমাকে হার মানানো টুকরো-টাকরা সত্যি গল্প নিয়ে এই সিরিজঃ "এক ট্রাঙ্ক গল্প"। পাত্রপাত্রীদের নাম পরিবর্তিত।

আরও পড়ুন...

দলিত ও বিচারব্যবস্থা

প্রতিভা সরকার

যেটুকু বুঝেছি, বাবু ডঃ সুভাষ কাশিনাথ মহাজন ভার্সেস স্টেট অব মহারাষ্ট্র মামলাটি শুধু সুপ্রিম কোর্টের রুলিং নয়, নিজস্ব গতিপ্রকৃতির কারণেও খুব কৌতূহলদ্দীপক। দলিত চাকুরের কনফিডেনসিয়াল রিপোর্টে ভিত্তিহীন খারাপ কথা লেখার অপমান সহ্য করতে না পেরে দলিত মানুষটি যখন দলিত নিপীড়ন আইনের সাহায্যে মামলা দাখিল করতে চায় তখন তার বড় সাহেব সুভাষ মহাজন সেই অনুমতি দিতে অস্বীকার করে দিনের পর দিন। তখন মহাজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, অথচ তার কিন্তু আগাম জামিন পেতে কোন অসুবিধে হয়না। আগাম জামিনের প্রসঙ্গ মহাজনের আবেদনে ছিলই না, সে চেয়েছিল কেবল মামলা প্রত্যাহার। কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, শেষ অব্দি এই মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে আদালত আর্টিকেল ২১, যা কিনা ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলে, সেই ধারা বিচার করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে দুমদাম গ্রেপ্তারির আগে সবারই আগাম জামিনের অধিকার থাকা উচিৎ। সরকারের সরবরাহ করা তথ্য নাকি দেখিয়েছে দলিত ক্লেশ নিবারণী আইনেরও অনেক অপব্যবহার হয়। তাই সুপ্রিম কোর্টের মতে, প্রথমে দলিত অভিযোগের একটি প্রাথমিক তদন্ত জরুরী, তারপর এফ, আই,আর এবং চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে শেষে দরকার নিয়োগকর্তার অনুমতি। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই অনুমতি আসবে পুলিশের সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট (SSP)কাছ থেকে। এরপর আদালতে মামলা উঠবে। ভারতীয় বিচারব্যবস্থা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখনই জগদ্বিখ্যাত। এরপর সে খ্যাতি অন্য গ্রহেও পৌঁছবে এই আশঙ্কা কি সত্যিই অলৌকিক ?

আরও পড়ুন...