বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রবিশংকর বল ও স্বপন সেন ... এক মিনিট নীরবতা

অমর মিত্র

পুজোর পর এক বন্ধু ফোন করল,তুমি কি জানো,স্বপন আর নেই। গত ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছে। নিঃশব্দে চলে গেছে। তার স্ত্রী কাউকে জানায়নি। এমনকী রবিকেও না। রবিকে আমি ফোন করলাম খবর নিতে,তুমি কি জানো রবি,স্বপন বেঁচে নেই? সে জানত না। একটু বাদে ফোন করে আমাকে বলল,সত্য। স্বপনের খবর তার জানা ছিল না। বাড়িতে ফোন করে জানল এখন। কোনো বন্ধুই জানে না। বিকাশ,সর্বজিত,ভাস্কর,অদীপ কেউই না। কাউকে জানায়নি ওর স্ত্রী। অসুস্থ সন্তান নিয়ে সে বেঁচে আছে। সেই জানার দু'মাসের মাথায় ডিসেম্বরে রবি চলে গেল। লেখক রবিশংকর বল। স্বপন সেনের সঙ্গে নিশ্চয় তার দেখা হয়েছে। অনুজপ্রতিম দুই বন্ধু চলে গেছে। বাইরে বসন্ত আসছে। নতুন পাতা ফুটছে শালবনে। চারদিকে নতুন জীবনের গন্ধ। আমি লিখছি এই শোক গাথা। হায়!

আরও পড়ুন...

প্রাকৃতজনের বিদায়

রুখসানা কাজল

তাই তো তাঁর গল্পের নায়িকা অশঙ্ক উচ্চারণে বলতে পারে, "এখানে আমি হেঁটেছিলাম- তুইও হাঁটিস এখান দিয়ে; এখানে দাঁড়িয়ে আমি মিছিল দেখেছিলাম- তুইও দেখিস এইখানে দাঁড়িয়ে, এখানে সেজানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল এখানে,এই গাছতলায়-এখানে তুইও দাঁড়াস। আর এই যে রাস্তাটা,এই রাস্তায় সেজান মিছিল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল-তুইও এই রাস্তা দিয়ে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাস,হ্যাঁরে পারবি তো?" কী পবিত্র প্রত্যয়, অকলুষিত স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষার নির্ভীক পরম্পরা। শিউরে ওঠে মন, রোমকুপে বেজে যায় সাহসি দুন্দুভি। মনে পড়ে যায় ম্যাক্সিম গোর্কির 'মা' উপন্যাসের নিলভনা ভ্লাসভকে। ট্রেনের কামরায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, পুলিশি নির্যাতনে মৃতপ্রায় রক্তাক্ত মা নিলভনা দমে যাননি ভয়ে। বিপ্লবী সন্তান পাভেল ভ্লাসভের বক্তৃতাকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দিতে নির্ভীক মা নিলভনা বলেছিলেন, ভাল মানুষের সন্তানেরা, একবার জাগো...। উপন্যাসিক শওকত আলির উপন্যাস, দক্ষিণায়নের দিন এর নায়িকা রাখী যেন ঠিক এভাবেই আলোর পথ চিনিয়ে দিচ্ছিলেন তার ভবিষ্যৎ অনাগত সন্তানকে, খোকা পারবি তো ?

আরও পড়ুন...

এক নগ্ন দেবতার সান্নিধ্যে

প্রতিভা সরকার

মণীন্দ্র গুপ্তের স্বচ্ছন্দ, অন্য গদ্যে ধরা পড়ে কবিতার জীবন - তার জন্ম, বীজ ও ক্ষেত্র, বৃদ্ধি, প্রজনন, দেহ, ব্যক্তিত্ব এবং মৃত্যু। এই পর্যায়গুলোতে পাঠকের স্বচ্ছন্দ চলনের অভাব কবিতায় প্রবেশের পথকে দুর্গম করে। লেখক তীব্র শ্লেষের সঙ্গে জানান কঠিনপ্রাণ, কঠোর আমলাতান্ত্রিকেরা কবি হবার নিশ্চয়তা থেকে চিরমুক্ত। এই দৃপ্র বলিষ্ঠতা, জ্যা মুক্ত তীরের মতো লক্ষ্যভেদী ভাষা আর বেদুইন টানের কারণে সমালোচকদের মণীন্দ্র গুপ্তকে মনে হয়েছে আদ্যন্ত এক পুরুষ, দুঃসাহসী, সংস্কারমুক্ত, তথাকথিত নারীসুলভ কমনীয়তাবর্জিত। তবু এই অনমনীয় অকাট্য বিশ্লেষণী শক্তিই তার তূণীরের একমাত্র অস্ত্রসম্ভার নয়। কেন লেখেন, এই প্রশ্নের উত্তরে একবার লিখেছিলেন, শুধু মানুষের সঙ্গ নয়, প্রকৃতি এবং বনবাসীদের দেখলে বোঝা যায় অর্থনীতির বাইরে তৃষিত প্রাণ কিভাবে তৃপ্ত হয়। চলে যাবার আগে এইসবই লিখে জানিয়ে যেতে চেয়েছেন।

আরও পড়ুন...