বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

যা দেখলে চোখ কপালে উঠে যাবে

আয়োজনের শেষ নেই। হাইপের চোটে অস্থির। লাখে লাখে লোক। কার্নিভ্যালের থেকেও বেশি ভিড়, বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালকেও বলে কয়ে টেক্কা দেবে। পায়ের চাপে যা ধুলো ওড়ে, তা শারজার মরুঝড়ের কাছাকাছি...এ বস্তু দেখলে চোখ কপালে না ওঠাই অস্বাভাবিক

আরও পড়ুন...

নমামি বরাক উৎসব ও বন্ধ কাগজকলের গপ্পো -১

পার্থপ্রতিম মৈত্র

আজ চোদ্দমাস হতে চললো পেপার মিলের কর্মীরা মাইনে পায়না। অন্নচিন্তা চমৎকারা। চোদ্দমাসের কপর্দক শূণ্যতা সহস্রাধিক সংসারকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জনপদ ধ্বস্ত। রাঙা অধর নয়ন কালো, ভরা পেটেই লাগে ভালো। এত দিনের স্বপ্ন ভেঙ্গে চূরচূর। এক্সোডাস শুরু হয়ে গেছে। এই অশণি সংকেত সূদূর কল্পনাতেও ছিল না কাগজকল ঘিরে গড়ে ওঠা জনপদের। উজার করে তারা ভোট দিয়েছে, ক্ষমতায় এনেছে বিজেপিকে। তারপরই বন্ধ হয়ে গেল পাঁচগ্রামের মিল কর্মীদের মাসমাইনে। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি, তারপর আশার ছলনে ভুলি....। শুধু কর্মহীন স্টাফদের হিসেব নিলে চলবে? ক্যাজুয়াল কর্মী রয়েছে আরও সহস্রাধিক। তাদের উপার্জন বন্ধ ষোল মাস। তাদের ঘিরে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য দোকানী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এক্সোডাস, এক্সোডাস। রোজ শোনা যাচ্ছে মিল বিক্রী হয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট চত্বরে। তারা যে পুরোনো কর্মীদের বহাল রাখবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আর সরকারের হাতে মাসমাইনের টাকাটুকুও নাকি অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু নমামি বরাক নদী উৎসব? সেটি কীভাবে সম্পন্ন হবে?

আরও পড়ুন...

ন্যায়বিচারের রাজনীতি

শমীক সরকার

জাস্টিস বা ন্যায়বিচারের রাজনীতির বিষয়ী কে? একজন জাজ। জাস্টিস রাজনীতি মানবাধিকার রাজনীতিকে তার নিজের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। মানবাধিকার রাজনীতির ভূমিকা আমরা আগে একটু আলোচনা করেছি। মানবাধিকার রাজনীতি কোনো স্বাধীন রাজনীতি নয়। সর্বমঙ্গলের রাজনীতির যে মাতব্বরী, যে গায়ে পড়া ভাব, তার কমপ্লিমেন্টারিটি বা পরিপূরক। জাস্টিস রাজনীতির একটা অবশ্যম্ভাবী পূর্বশর্ত আক্রমণ। অভিজিত নন্দী ফেসবুকে লিখেছিলেন, “কখনো একটি মেয়ে, কোন পুরুষ দ্বারা আক্রান্ত হলে, তার পরিচয় হয়ে ওঠে সেটাই। সেই পরিচয়টা তখন তাকে ধারণ করে। মেয়েটি তার সবকিছুকেই সেই ছাঁচে ফেলতে বাধ্য হয় – অনেক সময় বাধ্য হচ্ছে না জেনেই। তার চারিপাশের পৃথিবীটা সম্বন্ধে তার ধারণা গড়ে উঠতে থাকে একটি আক্রান্ত মেয়ের প্রাসঙ্গিকতা থেকেই। যাবতীয় ব্যক্তিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা এবং সহানুভূতিও তাকে সেদিকেই ঠেলে দেয়। একই ঘটনা ঘটে যখন একটি দলিত মানুষ বা একজন মুসলমান যদি আক্রান্ত হয় কোন বর্ণহিন্দু দ্বারা। 'আক্রান্তের দর্শন' একটি অবশ্যম্ভাবী এবং বিপজ্জনক সম্ভাবনা আধুনিক পৃথিবীতে।" এইখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো একজন ব্যক্তি (বা দশজন ব্যক্তি) র 'আক্রান্ত' নামে একটা পরিচয় গড়ে ওঠা বা গড়ে তোলা এবং তার মধ্যে দিয়েযেন বা পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি হিসেবে জাস্টিস রাজনীতির অনুপ্রবেশ। কিন্তু এইবার আসল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা। আক্রান্ত কি রাজনীতির বিষয়ী? সে নিজেকে বিষয়ী মনে করলেও সে কি আদৌ বিষয়ী? নাকি এখানেও কোনো ছুপা বিষয়ী আছে?

আরও পড়ুন...

কী করে সন্দেশটা খেতে হবে, শিখিয়েছিলেন লিয়াকতদা

মুকুল দাস

বাউল-ফকিরদের তিন দিনের এক উত্সবে প্রাণের বাগান তখন জমজমাট। মনসার থানের পাশে এক গাছতলায় এক দল কিশোরকিশোরী হইহই করছে। দুপুরে খাওয়ার পর গানবাজনা তখন বন্ধ। বড়রা বিশ্রাম নিচ্ছে। এক শহুরে মা বলে উঠলেন, ‘ইস্, কী যে করছিস তোরা সব এই ধুলোময়লায়!’ বাচ্চারা খুব একটা পাত্তা দেয়নি। কিন্তু এক জিনস, ফুল শার্ট পরা ‘বুড়ো’ লোক মিটিমিটি হাসতে হাসতে সেই মা-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ধুলোকে ময়লা বলছেন কেন?’ আমার শহুরে শিক্ষা সেই মায়ের শাসনে চমকায়নি। চমকালাম লিয়াকত আলির ওই প্রশ্ন শুনে। এ ভাবেই লিয়াকত আলির সঙ্গে পরিচয়। শহুরে মানুষের অভিজ্ঞতায় ধুলো আর ময়লা এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু প্রকৃতি যেখানে এখনও ‘আধুনিকতা’র ছোবলে ক্ষতবিক্ষত নয়, সেখানকার ধুলো যে ময়লা নয়, সেটা লিয়াকতই প্রথম শিখিয়েছিল আমাদের অনেককে।

আরও পড়ুন...

সামগ্রী ও পরিষেবা কর (জিএসটি): কী এবং কেন - দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব

অমিতায়ু সেনগুপ্ত

এই রাজনৈতিক আপোষের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে ব্যবসা। কল্পনা করুন যে আপনি একজন ছোট ব্যবসায়ী যিনি অন্য কোনও রাজ্যের বিক্রেতা / ব্যাপারী / গ্রাহকদের সাথে কিছু লেনদেন করেন। আপনাকে এখন তিনটি বিভিন্ন করের হিসাব (অ্যাকাউন্ট) রাখতে হবেঃ SGST, CGST এবং IGST। আপনার চ্যালেঞ্জ এখন দুইগুণ। প্রথমতঃ আপনাকে এখন প্রতিটি লেনদেনকে রাজ্যের অন্তর্বর্তী ও আন্তঃরাজ্য হিসাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং করের দাবীওয়ালা রাজ্যগুলিকে শনাক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ, তিনটি অ্যাকাউন্ট বজায় রাখার সমস্যাটি হল যে আপনি এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে কোনও হিসাব ট্রান্সফার করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন...

এক বহিরাগত সিনেমাওয়ালা - শেষ পর্ব

মিঠুন ভৌমিক

কিন্তু এসবের আগেও বলতে হয় "কভি হাঁ কভি না"র কথা। ১৯৯২ সালেই, "বাজিগর", "ডর" রিলিজ হওয়ার আগেই নির্মিত এই ছবি তৈরির গল্প নিজেই এক ট্র্যাজিকমেডি। জনপ্রিয় সিরিয়াল হিসেবে "ফৌজি" সার্কাস" ইত্যাদির পরে শাহরুখ একটু একটু নাম করেছেন। মুম্বই এসে একে একে ছবিতে কাজ পাচ্ছেন, সইটই চলছে। কুন্দনের সাথে "ওয়াগলে কী দুনিয়া" ও "উমীদ" বলে দুটি টেলিভিশনের কাজের সুবাদে শাহরুখের পরিচয় ছিলো। কভি হাঁ কভি না'র গল্প ভালো লাগায় কথাবার্তাও চূড়ান্ত হলো। ফি ছিলো পঁচিশ হাজার টাকা। এরপর ছবি তৈরি হয়ে বসে রইলো, ডিস্ট্রিবিউটররা কিনতে রাজি হলেন না (এ একেবারেই সুধীর ও বিনোদের মত দশা)। বাজিগর, ডর ততদিনে বেরিয়ে ব্লকবাস্টার, তাও এই অবস্থা। এসে গেল ১৯৯৪ সাল। ছবিটি কোনদিন দিনের আলো দেখবেনা বুঝে শাহরুখ নিজেই মুম্বই এলাকায় ডিস্ট্রিবিউটিং রাইটস কিনলেন। কুন্দন পরে বলেছেন, ঐ লো বাজেট ছবি যতদিনে খ্যাতি পায় বা কাল্ট হয়, ততদিনে একযুগ কেটে গেছে। ঠিক যেভাবে জানে ভি দো ইয়ারোঁ যেসব কলেজের ছেলেমেয়েদের সময় বানানো হয়েছিলো, সমাদর পেয়েছিলো তার পরের প্রজন্মের কাছে, সেইরকম।

আরও পড়ুন...

সামগ্রী ও পরিষেবা কর (জিএসটি): কী এবং কেন -প্রথম পর্ব

অমিতায়ু সেনগুপ্ত

যখন রাজ্যগুলির মধ্যে এমন অর্থনৈতিক লেন-দেনের প্রতিযোগিতা চলছে, নতুন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য রাজনৈতিক বাধ্য-বাধ্যকতা তৈরি হতে থাকলো। ব্যবসা করার সুবিধার আন্তর্জাতিক অব্স্থানে ভারতের মান দুর্বল হয়ে উঠলো, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মন্দা জিডিপি (দেশের মোট উৎপাদনের একটি মুল্যবাণ সুচক) বৃদ্ধির হারকে ব্যাহত করছিলো, এবং নতুন ক্ষমতাসীন সরকার তার আগের সরকারের থেকে নিজেকে বেশি সক্ষম দেখাতে তৎপর হয়ে উঠলো; এবং ঠিক তখনই জিএসটি হঠাৎ ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এক জাদু দন্ডের স্থান নিলো। একটি অননুমোদিত আদেশ জারি করা হলো যে একটি নির্দিষ্ট সময়রেখার মধ্যে জিএসটিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যেহেতু আর্থিক দুর্বলতা যথাযথভাবে সমাধান করা সম্ভব হলোনা, তাই একটি আপসে আসা হলো।

আরও পড়ুন...

বে'গুণ' পোড়া

জারিফা জাহান

আকাশ হল অনুভব মানে অনুর সৎ ভাই। মা মারা যাওয়ার পর বাবা মামণিকে নিয়ে এলেও ওর অত রাগ হয়নি যেমন চার দেওয়ালের চৌহদ্দিতে আকাশের আবির্ভাবে হয়েছিল। তার ওপর বাবার এক্সট্রা আদিখ্যেতা বরাদ্দ আছে ভাইয়ের জন্য, দেখলেই পিত্তির মৌচাকে ঢিল ছুঁড়ছে কেউ মনে হয়। তা সে বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ হঠাৎ আকাশের শরীর খারাপ-শ্বাসকষ্টের জন্যই হবে হয়ত, কখনও ইনহেলার কখনওবা গুচ্ছের ওষুধ: কিছুতেই ব্যাটাকে বাগে আনা যায় না। তবু গুমোট গুমোট মেঘমার্কা কাশির দমকটা পর্যন্ত অনুর কোমিসারেশন কোটায় একটা পুঁট ফেলতে পারেনি কুড়ি বছরে। খাওয়ার সময় আকাশের পাতে পড়া মাংসের পিসটায় আধা ইঞ্চি মশলা বেশি উঠলেও অনুর মাথায় গুগল সার্চ কিলবিলিয়ে ওঠে, "হাউ টু প্রুভ ইওরসেল্ফ অ্যাজ আ প্যাট্রোফিল"

আরও পড়ুন...

স্টেট ব্যাংক কার হাতে ?

প্রতিভা সরকার

তাহলে কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা ? স্টেট ব্যাঙ্কের মতো বিশাল মজবুত স্বয়ংভর সংস্থার অংশীদার হবে এই গুণধর রিলায়েন্স। সরকারী অজুহাত, RLI ( reliance industries limited) আর SBI পরস্পরের দোসর হলে রিলায়েন্স জিও র লেটেস্ট টেকনোলজির দ্বারা উপকৃত হবে দুর্গম এলাকার গ্রামীণ মানুষ।
একেবারেই বাজে যুক্তি, কারণ স্টেট ব্যাঙ্ক নিজেই ১,৫০,০০০ কর্মী নিয়োগ করেছে যারা কাজ করছে প্রান্তিক অঞ্চলে। এর ফলে কর্পোরেটটির হাতে বিনা আয়াসে পৌঁছে যাচ্ছে একটা বিশাল কর্মী- নেটওয়ার্ক। কোন বাড়তি খরচ ছাড়াই।

আরও পড়ুন...

ধুকুপুকু বুক কাঁপে শুধু যে রাতে

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

হিন্দি সিনেমার গান শুনে বাঙালি কেন উলুতপুলুত হয়, আপাতদৃষ্টিতে বোঝা মুশকিল। যে ঘরানার গানের শ্রেষ্ঠ লিরিক নাকি 'মেরা কুছ সামান তুমহারে পাস পড়া হ্যায়', অর্থাৎ কিনা 'আমার কিছু মালপত্তর তোমার কাছে পড়ে আছে' আর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ লিরিক তর্কযোগ্যভাবে 'বিড়ি জ্বালাইলে', অর্থাৎ কিনা 'সিঁড়ির নিচে বিড়ির দোকান', সে গান শুনলে এমনিই ভদ্রজনের মাথা হেঁট হয়ে যাবার কথা। হিন্দি বলয়ের কথা আলাদা, ওদের এরকমই কপাল। ইউপি-বিহারে আধুনিক কালে কোনো জীবনানন্দ জন্মাননি। আর অতীতের গৌরব যা ছিল, সেসব স্টিমরোলার চালিয়ে কবেই ফ্ল্যাট করে দেওয়া হয়েছে। ব্রজবুলি বা মৈথিলির যে মাধুর্য তাকে র‌্যাঁদা মেরে বাতিল করেই আধুনিক হিন্দুস্তানির বাড়বাড়ন্ত। আর লক্ষ্ণৌ এর যে ডায়লেক্ট গায়ে -কাঁটা দেওয়া ঠুংরি গজল উৎপাদন করেছে একটানা, বাহাদুর শার সঙ্গে তাকে প্রাথমিকভাবে বার্মায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। দূরদর্শনের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এসে তৎসম হিন্দুস্তানি দিয়ে কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিয়েছে। অভাগা হিন্দিবলয়ের অধিবাসীদের দুর্ভাগ্যে তাই খোঁটা দিয়ে লাভ নেই। সবই কপাল। কিন্তু বাঙালিরা কেন "আমার কিছু মালপত্তর (ওহো আহা), তোমার কাছে পড়ে আছে (ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ)" বলে আহা উহু করে বোঝা মুশকিল।

আরও পড়ুন...

অধরাই রয়ে গেছে ‘মেক ইন ইণ্ডিয়া’র স্বপ্ন

অভিজিত মুখোপাধ্যায়

২০০৮-এর সারা বিশ্বের প্রবল অর্থসংকটের পরে দুনিয়া জুড়েই অর্থনীতি থমকে রয়েছে, এবং এখনো পর্যন্ত সেই আগের বৃদ্ধির ধারেকাছেও ফেরত আসতে পারে নি, তার মানে দাঁড়ায় বিদেশে রপ্তানি করে নিজের দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং-এ বৃদ্ধি ঘটানো খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ২০১৪ সালে এসে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং সাফল্য ভারতে “কপি-পেস্ট” করাটা অনেকটাই অসম্ভব উচ্চাকাংখা বলেই বোধ হয়েছিল কিছু অর্থনীতিবিদের, কিন্তু নতুন সরকারের সাথে সাথে নতুন আশাবাদী ভাবনাচিন্তারও জন্ম হয়েছিল বলে সেই সব মতামত খুব একটা হালে পানি পায় নি। প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে ‘মেক ইন ইণ্ডিয়া’ ঘোষণার পরে। এখন সময় এসেছে এই বহুল প্রচারিত প্রকল্পের একটা নিরপেক্ষ মূল্যায়নের

আরও পড়ুন...

রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান বিষয়ক প্রস্তাবনা-পঞ্চম ও শেষ পর্ব

স্বকৃত নোমান

শত শত বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে তাদের মধ্যে এসব স্বভাব প্রবিষ্ট হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের কর্তব্য ছিল তাদেরকে পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় পারদশী করে গড়ে তোলা। কিন্তু ঐতিহাসিক বিদ্বেষবশত তারা তা করেনি। ফলে একটা পর্যায়ে এসে এই ‘একটা অংশ’ রোহিঙ্গা তাদের জন্য বোঝা বা জঞ্জাল হয়ে দাঁড়ায়। এই অংশের দায়ভার পড়ে যায় গোটা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর। এই ‘জঞ্জাল’ সাফ করতে তারা শুরু করে গণহত্যা। এটা তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার কালিমা কোনোদিন তারা মুছতে পারবে না।

আরও পড়ুন...

আপনি কি দেশপ্রেমী? পরীক্ষা দিন

পঁচিশ বছরে দিনকাল অনেক বদলেছে। সেবার বাবরির দিন যা করেছেন করেছেন, সেসব ধুইয়ে আর চলবেনা। অবিলম্বে নতুন করে পরীক্ষা দিন, দেশপ্রেম রিনিউ করান।

আরও পড়ুন...

পহেলি ঝাঁকি ও তারপর : ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সিকি শতাব্দী

সৌভিক ঘোষাল

কমিশন উত্তর প্রদেশের তৎকালীন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংকে কড়া ভাষায় অভিযুক্ত করে। সঙ্ঘ পরিবার যা যা চেয়েছিল কল্যাণ সিং এর সরকার তাই তাই করেছে বলে কমিশন মন্তব্য করে। পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয় সেই সমস্ত আধিকারিকদের যারা সঙ্ঘের কার্যকলাপে বাধাস্বরূপ ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিলেঢালা করে তোলা হয়। তারা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট এর কাছেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। কলরাজ মিশ্র, উমা ভারতী, গোবিন্দাচার্য, শঙ্কর সিং বাঘেলা, বিনয় কাটিয়ার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ বিজেপি নেতাদেরও কমিশন এই ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করে। কমিশন অবশ্য নরসীমা রাও এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারকে এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করে নি, যা খানিকটা অবাক করার মতো ব্যাপার।

আরও পড়ুন...

লজ্জার ২৫ বছর

মহম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ

সেই কালো সময়ের উপরে লজ্জা লিখে লজ্জা পেয়ে দেশ ছাড়তে হয়ে ছিল তসলিমা নাসরিনকে। সেখানেও এমন এক পরিবারের কথা বলা হয়েছিল যারা শত বাধা পেরিয়েও দেশ ত্যাগ করে না। বাড়ির প্রধান একজন ভাষা সৈনিক এবং মুক্তিযোদ্ধাও। নিজের মেয়েকে যখন ধর্ষণ হতে দেখে তখন তাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। দেশ কাকে বলে তা নিয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায় তারা। আমরা ভদ্রলোক মানুষ, আমরা এই সব নষ্ট কথা আমরা আমাদের সাহিত্যে মেনে নিতে পারি না। লজ্জা আসলে কার এই রকম একটা কঠিন প্রশ্ন সহ্য করা আমাদের দেশের মানুষের পক্ষে সম্ভব না। লজ্জা যখন বলে - “ধার্মিকেরা কি কখনও পারে বিধর্মীর সম্পদ লুট করে নিজের ধর্ম রক্ষা করতে? এতো আসলে ধার্মিকের কাজ নয়। এ হচ্ছে গুণ্ডা বদমাশের কাজ।” তখন সম্ভবত কোন উত্তর থাকে না জিহাদি জুলুসে জ্বলতে থাকা আমার ভাইয়েদের কাছে। আর তাই দেশ থেকে বাহিরে তসলিমা।

আরও পড়ুন...

আসামের উচ্ছেদ অভিযান

দেবর্ষি দাস

হাতি পাঠিয়ে জমিদারি কেতায় যাঁদের বাড়ি ভাঙা হল সেই লোকগুলো কে? গৌহাটী হাইকোর্ট বলছে এরা বে-আইনি জবরদখলকারী। অভয়ারণ্যের জমি দখল করে বসে পড়েছে, এদের উচ্ছেদ করা আশু কর্তব্য। জমির প্রশ্নে পরে আসছি, আগে দেখা যাক লোকগুলো কারা। বিতর্কের অবকাশ নেই যে এঁদের সিংহভাগ পূর্ব আসামের জনজাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বন্যা ও ব্রহ্মপুত্রের অবিরত পাড় ভাঙার ফলে ভিটেমাটিকাজকম্মোহারা হয়ে এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে জীবিকার সন্ধানে গুয়াহাটিতে এসে পড়েছেন; কম দামের বাসস্থান খুঁজে শহরের উপকণ্ঠে আমসাং-এর হদিশ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন...

আসামে যা চলছে

নয়নজ্যোতি

অনুবাদ ঃ জারিফা জাহান

এরপরই সরকার বন্দুক ও কাঁদানে গ্যাস বের করে। ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এদের মধ্যে মালতী দাস নামে এক সমাজকর্মী, গুলির ক্ষত নিয়ে আইসিইউ তে ভর্তি। বাকি আহতরা হলেন অনিমা খাতুন, রাশিতা খাতুন, গৌতম বৈশ্য এবং উৎপল পত্গিরি। এখানেই শেষ নয়, পুলিশ, শহরের বহু প্রতিবাদী কর্মীকে হুমকি ও ধরপাকড় শুরু করেছে, এদের মধ্যে বিশেষত কেএমএসএস ( কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি) এর ওপর তাদের নেকদৃষ্টি পড়েছে।

কেএমএসএস দলনেতা ও উপদেষ্টা বেদান্ত লস্কর, যুগ্ম সাধারণ সচিব ধৈয্য কানোয়ার এবং কেএমএসএস কর্মী গোপী সাইকিয়াকে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন? কারণ তাঁরা প্রতিবাদীদের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন। বেদান্ত এবং গোপী তো ঘটনাস্থলে উপিস্থিতই ছিলেন না, বাইকে চেপে ফেরার সময় শহরের মধ্যে ওঁদের ধরা হয়। আজ তাঁদের আইপিসির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন...