গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

ফেমিনাজি থেকে সাবর্ণ রেপ এপলজিস্ট, ২৪ ঘণ্টায়

নিবেদিতা মেনন

অনুবাদঃ জয়ন্তী অধিকারী, অনিকেত পথিক ও রৌহিন ব্যানার্জি

শুরু করার আগে দুটো বক্তব্য।

প্রথমত, এখানে আমি যা লিখছি, বলছি, পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত মতামত। এর আগে কাফিলায় প্রকাশিত একটি আবেদনে (এর পর থেকে এই লেখায় সেটিকে শুধু 'আবেদন' বলা হবে) – যেখানে যৌন হেনস্থাকারীদের ক্রাউডসোর্সড তালিকাটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ করা হয়, এবং প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি মেনে অভিযোগ করবার কথা বলা হয় – আমি সহ অনেকজন সই করেছিলাম, কিন্তু এই লেখা তাঁদের কারুর মতামত নয়, পুরোটাই আমার নিজস্ব বক্তব্য। আমি হয়তো কয়েকবার 'আমরা' শব্দটা ব্যবহার করবো, কিন্তু সেটাকে পাঠক এক ধরণের বিচ্যুতি বলেই ধরে নেবেন। সেই সমষ্টিগত পরিচয় আসলে গত তিন দশকের আন্দোলনের ফল, তাই আমি মাঝে মাঝে অভ্যাসের বশে এহেন ব্যবহার করেই ফেলব। আমি চাইব যে এই অভ্যাস যেন আমি কোন দিন না হারাই। কিন্তু এই লেখা আমার নিজস্ব। আবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে কবিতা কৃষ্ণণ স্ক্রলে লিখেছেন, আয়েশা কিদওয়াই ফেসবুকে, নন্দিনী রাও নিজের ব্লগে – প্রত্যেকেই নিজের মতন করে আমাদের সেই ছোট্ট আবেদনের সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে লিখেছেন।

দ্বিতীয়ত, আমাদের করা আবেদনটি কোনোভাবেই 'কাফিলার' আবেদন নয়।– কাফিলায় আবেদনটিকে শুধুমাত্র প্রকাশ করা হয়েছিল। ঠিক যেমন Wire-এ প্রকাশিত কোন লেখা Wire-এর বক্তব্য বা স্ক্রলে প্রকাশিত কোন লেখা স্ক্রলের বক্তব্য নয়, যদি না সেটা পরিষ্কারভাবে আলাদা করে বলে দেওয়া হয়, ঠিক তেমন আমাদের আবেদনটিও কাফিলার পক্ষ থেকে করা আবেদন নয়। কাফিলার পিছনে জনাকুড়ি লোক আছেন, যাঁদের মধ্যে আমি একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কাফিলা কালেক্টিভের যে কেউ কাফিলায় সরাসরি পোস্ট করতে পারেন, এবং তার জন্য কালেক্টিভের অন্য সদস্যদের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। আমাদের মধ্যে বহুবার নানা বিষয়ে পক্ষ নেওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, এবং সেই বিতর্কের প্রতিফলন কাফিলার পাতাতেই দেখা যায়। কাফিলার সদস্যদের মধ্যে একমাত্র আমি আবেদনে সই করেছিলাম। আমি কাফিলায় আবেদনটি পোস্ট করেছিলাম কারণ আমি কাফিলায় পোস্ট করতে স্বচ্ছন্দ, সে আমি হিন্দু দক্ষিণপন্থীদের নিয়েই লিখি বা নারীকেন্দ্রিক বিষয় নিয়েই লিখি। বাকি আবেদনকারীদের কাছে আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম যে কাফিলায় পোস্ট আমি করতে পারি কি না। এছাড়া কাফিলায় পোস্ট করার জন্য আমারকারুর কাছে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

লরেন্স লিয়াং কাফিলা কালেক্টিভের সদস্য। লরেন্স লিয়াং কাফিলা 'চালান' না (যেটা অনেকেই অভিযোগ করেছেন) – কোন ব্যক্তি কাফিলা চালায় না। তবে আজকের এই 'র‍্যাডিকাল' রাজনীতির নতুন যুগে মনে হচ্ছে কোন রাজনৈতিক ক্যাম্পেনের ব্যক্তিগত দখলও নেতৃত্ব ধরেই নেওয়া হয়। এছাড়াও, মাহমুদ ফারুকি কাফিলা কালেক্টিভের সদস্য ছিলেন। যখন তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের একটি অভিযোগ আনা হয় (যিনি অভিযোগ করেন তিনি আমাদের কাছে তাঁর নাম প্রকাশ করেননি), কাফিলা কালেক্টিভ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রকাশ্যে, অভিযোগের তদন্ত হওয়া অবধি, সাসপেন্ড করে। কাফিলার দশ বছরে এটাই একমাত্র কালেক্টিভ স্টেটমেন্ট। লরেন্সের প্রসঙ্গে – এখনো অবধি তাঁর নাম আমরা কেবল একটা ফেসবুক লিস্টে এবং একটা এক্সেল শিটে দেখতে পেয়েছি। এক্সেল শিটে 'অভিযোগের বর্ণনা' নামক কলামটি খালি। কাফিলা এই বিষয়ে অবহিত, এবং আমরা এর পরে কী হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি।

'লিস্ট'

লিস্ট বলতে এখানে দুটো জিনিসের কথা বলা হচ্ছে। এক, ফেসবুকে রায়া সরকার সঙ্কলিত একটি তালিকা, যাতে লেখার সময় অবধি ৬৯টি নাম ও তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের কথা লেখা রয়েছে। তাঁরা কী প্রকারের হেনস্থায় অভিযুক্ত, সেই নিয়ে বিশদে কিছু লেখা নেই।

https://m.facebook.com/RxyaSxrkar/posts/1686281001419245 এছাড়াও একটি এক্সেল শিট আছে, যেটায় ৭৯টা নাম আছে এখনো অবধি। ফেসবুক পোস্টে এমন দুটো নাম আছে যেগুলো এক্সেল শিটে নেই। https://docs.google.com/spreadsheets/d/18TwXx50rzllrujA76i-r_qCvyxyh3z9nP84vAlnDG8s/edit#gid=0 এই স্প্রেডশিটে অভিযুক্তদের নাম, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম এবংঅভিযোগকারীদের সংখ্যা, ছাড়া আরও দুটো কলাম আছে - 'অভিযোগের বর্ণনা' আর 'পরিণতি'। ৭৯টা নামের মধ্যে ১৫টা নামের বিরুদ্ধে অভিযোগের বর্ণনা দেওয়া আছে, যার মধ্যে দুটো অভিযোগ শুধুই 'যৌন হেনস্থা'; বাকি ক্ষেত্রে ধর্ষণ, মলেস্টেশন, গ্রোপিং, শারীরিক আগ্রাসন, ইত্যাদির কথা লেখা রয়েছে।

এই ১৫টা ঘটনার মধ্যে ৪টে ঘটনার পরিণতি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে – ৪জনকেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দ্বারা শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ১৫টা ঘটনার মধ্যে একটা ঘটনায় বলা হয়েছে যে অভিযোগকারী, যিনি একজন প্রাক্তন শিক্ষক, তাঁর নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দিতে বলেছেন কারণ তাঁকে এই কারণে হেনস্থা করা হয়েছে।

একটা ঘটনায় লেখা হয়েছে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তবে বিষয়টা এগোয়নি।

এছাড়া বাকি সব নামের বিরুদ্ধে 'অভিযোগের বর্ণনা' আর 'পরিণতি' কলামগুলো খালি রয়েছে।

ফেসবুক লিস্ট এবং স্প্রেডশিট, দুটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরে খুব তাড়াতাড়ি।

আমাদের মধ্যে কয়েকজন, যারা প্রাতিষ্ঠানিক এবং রাজনৈতিক কারণে, বিশেষত যৌনহিংসা বিরোধী রাজনীতির কারণে, এক দশকের উপরে একসাথে কাজ করেছি, এবং সাধারণত প্রতিদিন যোগাযোগে থাকি, এই লিস্ট এবং স্প্রেডশিটের (এরপর থেকে শুধুই লিস্ট) দ্বারা বিচলিত হয়েছিলাম। কেন? এর অনেক কারণ আছে – আমি শুধু আমার কারণগুলো বলি।

আমি এই কারণে বিচলিত হইনি যে লিস্টে আমার পরিচিত মানুষজনের নাম আছে। বরং আমি এই কারণে বিচলিত হয়েছিলাম যে উপরোক্ত ১৫জন ছাড়া বাকিদের নাম শুধুই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের অপরাধ তালিকাভুক্ত করা হয়নি। আরও সমস্যাজনকভাবে, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ও বি এন রায় নামক দুই ব্যক্তি, যাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতেই শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের নামের বিরুদ্ধে 'অভিযোগের বর্ণনা' ও 'পরিণতি' কলাম দুটি খালি রেখে দেওয়া হয়েছে, অতএব তাঁদের সাথে বাকি নামগুলির আর কোনো ফারাক রাখা হয়নি।

আমরা এমন একটা সময়ে অবস্থান করছি যেখানে ভারতীয় কোর্ট মাঝেমধ্যেই গার্হস্থ্যহিংসার 'ভুয়ো' অভিযোগ এবং রেপ আইনের 'অপব্যবহার' নিয়ে মন্তব্য করছেন। এইরকম সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের আনা সমস্ত যৌন হেনস্থার অভিযোগের কন্টেক্সট ও তার যতটা সম্ভব বর্ণনা দেওয়া নারীবাদীদের কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। আমাদের আবেদনে আমরা এই ভাষাই ব্যবহার করেছিলাম। লিস্টে যদি শুধু এক সেট অনামী জবানবন্দী থাকতো, সাথে ঘটনাবলীর বিবরণ (ক্রিস্টিন ফেয়ার যেমন তাঁর লেখায় করেছিলেন – হাফপোস্ট লেখাটি সরিয়ে নিয়েছে, যা খুবই নিন্দনীয়), তাহলে আমি অন্তত তার আপত্তি না করে খুশিই হতাম। এমনকি লিস্টে যদি কী ধরণের যৌন হেনস্থা করা হয়েছে, এটুকুও লেখা থাকতো, তাহলে অভিযোগকারীদের ন্যায়ের পক্ষে দাবী জানানো সম্ভব হতো।

(লিস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সেখানে নাম আছে এমন তিনজন পুরুষ প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেন। এঁদের মধ্যে একজন, বেঞ্জামিন জাকারিয়া – তাঁকে একজন মহিলা তিনটে বিশেষ ঘটনার উদাহরণ দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। মহিলা এটাও জানিয়েছেন যে এর একটি ঘটনাও শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে হওয়া ঘটনা নয়। তবে একথা সত্য যে তাঁর জবানবন্দী যেই প্রকারের ব্যবহারের নমুনা তুলে ধরেছে, তা এই ভদ্রলোক শিক্ষক হিসেবেও করে থাকতে পারেন।)

রায়া সরকার, এই লিস্টের একমাত্র এডমিনিস্ট্রেটর, এখন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে প্রতিটি ঘটনার পূর্ণ ডকুমেন্টেশন আছে, কিন্তু তাঁর স্প্রেডশিটে অপরাধ কী প্রকারের সেটুকু পর্যন্ত উল্লেখ করা নেই।

কর্মস্থলে যৌনহেনস্থার আবহাওয়া

আমাদের আবেদনটি কোনভাবেই কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, বা নারীবিদ্বেষ ও পিতৃতান্ত্রিক সুবিধেকে (আরও অনেকরকম সুবিধে ছাড়া) অস্বীকার করে, লেখা হয়নি। আমরা যারা সই করেছি, তারা প্রত্যেকেই তাদের কর্মজীবনে এই সমস্যাগুলোর সাথে লড়াই করে কাটিয়েছি, এমন সময় থেকে যখন আমাদেরকেও 'তরুণ নারীবাদী' হিসাবেই গণ্য করা যেত। আমরা যেহেতু পিতৃতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ভিতরে থেকেও চুপ করে থাকিনি, বা তার নানান সমস্যার সাথে আপোষ করে নিতে রাজি হইনি, তাই আমরা প্রত্যেকেই নানাভাবে এর মাসুল চুকিয়েছি। আমাদের প্রত্যেকের নিজেদের কর্মপ্রতিষ্ঠান বা পেশার মধ্যে থেকে লড়াই করার ইতিহাস আছে। আমরা জানি পিতৃতন্ত্রের ক্ষমতার ভিত ধরে টানাটানি করলে তার ফল কী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বৃন্দা গ্রোভারের কথা বলতে পারি, যে কিনা এই মুহূর্তে কোর্টে পাচৌরির দায়ের করা মানহানির মামলা লড়ছে। তার অপরাধ? পাচৌরির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ যে মহিলা এনেছিলেন, তাঁর আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার।

আমরা যারা আবেদনে সই করেছিলাম, তাদের প্রত্যেকেরই সমাজের নানান স্তরেও নানান স্থানে যৌন হেনস্থার সমস্যার সুরাহা করতে পারে, এই প্রকারের পদ্ধতি তৈরি করার প্রচেষ্টার ইতিহাস আছে। এমন পদ্ধতি, যার সাহায্যে অভিযোগকারীকে মোটামুটি সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে এবং ন্যায়ের দাবী তোলা যেতে পারে, এবং একই সাথে অভিযুক্তকে 'ডিউ প্রসেসের' সাহায্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

ডিউ প্রসেস

'ডিউ প্রসেস' – এই শব্দবন্ধনীর সাথে কি আইনকে এক করে দেওয়া যায়? একেবারেই না। আমাদের আবেদন কোথাও আইনের কথা তোলেনি।

প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে বিচারের যে স্বচ্ছ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাকেই ডিউ প্রসেস বলা হয়। ফর্মাল স্তরে যে পদ্ধতি গ্রহণ করা যায় (আইনের শরণাপন্ন হওয়া এর মধ্যে একটি), তাকে ডিউ প্রসেস বলা হয়। কোন এক প্রতিষ্ঠানের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন থাকে, তার মধ্যে থেকেই নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা কিছু পন্থাকে ডিউ প্রসেস বলা হয়।

১৯৯৭ সালের বিশাখা গাইডলাইনগুলি বেরোনোর পর ভারতবর্ষের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হেনস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করার উদ্দেশে কমিটি গঠন করে, এবং তারপর অভিযোগের তদন্ত করার জন্য কমিটি তৈরি করে। আমি যতদূর জানি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় এই পদক্ষেপ নেয়। আমি এর মধ্যে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় (ডিইউ)ও জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) নীতি সম্পর্কে সবথেকে বেশি ওয়াকিবহাল। এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হেনস্থা সম্পর্কিত নীতি সেই বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব গণতান্ত্রিক ভাবধারার থেকে উঠে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন এক্ষেত্রে ক্যাটালিস্টের কাজ করে।– বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যে প্রগতিশীল রাজনৈতিক সমষ্টিগুলো ছিল, ব্যক্তিগত ক্ষমতায় বহু শিক্ষক ও ছাত্র ছিলেন, তাঁরা সকলে একত্রিত হন এই গাইডলাইনের সাহায্য নিয়ে নিজস্ব নিয়মাবলী ও পদ্ধতি তৈরি করার জন্য। যে সকল নিয়মাবলী তৈরি করা হয়, তা বহুদিনের ও বহুস্তরের আলোচনা ও বিতর্কের পরেই তৈরি করা সম্ভব হয়। ক্যাম্পেনের ভিতর থেকেই নেতৃত্ব উঠে আসে, এবং অনেক সময় সেই নেতৃত্বকে বিশ্ববিদ্যালয়ের [অথরিটির] সাথে রীতিমত সংঘাতে যেতে হয়। তাও শেষ পর্যন্ত যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি হিসেবে যৌন হেনস্থা বিরোধী কমিটিগুলি গণ্য হয়, তা কেবলমাত্র আন্দোলনের জোরে। এই ধরণের আন্দোলন ভারতবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলির একটি বৈশিষ্ট্য। এইভাবেই বহুধরণের রাজনৈতিক সমষ্টি একত্রিত হয় কোন এক বিশেষ ইস্যুকে কেন্দ্র করে। এই ধরণের আন্দোলনকে কিছুটা নৈরাজ্যবাদীও বলা যায়, কারণ এই বৃহত্তর সমষ্টিগুলো সাধারণত নেতাহীন হয়। এই সমষ্টিগুলোকে সরাসরি গণতন্ত্রের এক ধরণের রূপ বলা যেতে পারে। নানা ধরণের রাজনৈতিক মতবিরোধ এই ক্ষেত্রে ইস্যুটির হয়ে লড়াই করার উদ্দেশ্যে সরিয়ে রাখা হয়। এই ধরণের সংহতি খুবই সময়সাপেক্ষ, এবং যে সমস্যাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন, তার কোনরকমে একটা সমাধান হয়ে গেলেই তারপর সাধারণত তারা আবার যে যার নিজের পথে ফিরে যায়।

ডিইউ এবং জেএনইউ-র নীতিগুলো মোটামুটি নমনীয়, এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চরিত্র ও চাহিদা মাথায় রেখেই তৈরি। ডিইউ-র নীতিতে যেমন কমিটিতে নির্বাচিত এবং নমিনেটেড, দুই প্রকারের সদস্যদের রাখা হয়েছে, এটা মাথায় রেখে যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির যেরকম প্রয়োজন, আবার একটি পিতৃতান্ত্রিক আবহাওয়ায় নির্বাচিত সদস্যরাও যে সেই মতাদর্শের অনুগামী হবেন না, এর কোন গ্যারান্টি নেই।

নারীবাদী রাজনীতির প্রেক্ষিত থেকে আমি এর আগেও লিখেছি যে এই ধরণের নীতি তৈরি করার ফলে ব্যবহারের যে ধরণের নির্দিষ্টকরণ হয়, তার সমস্যা কী কী, বিশেষত যৌন হেনস্থা নিয়ে নানান জায়গায় ও কন্টেক্সটে যে ধোঁয়াশা রয়েছে, এবং ভারতবর্ষে যৌনতার উপর যে ধরণের নজরদারি হয় সেটা মাথায় রেখে। তবে আমি তাও বলবো যে আইনের পরিবর্তে যখন শুধুই নিয়মাবলী থাকে, তখন তার কিছু নমনীয়তা থাকে, যেটা একমাত্র এই ধরণের মুখোমুখি বসে তৈরি হওয়া কমিউনিটির মধ্যেই সম্ভব। যৌন হেনস্থার সংজ্ঞা এবং কমিটির সদস্য কারা হবেন, সেটা একাডেমিক জগতের কথা মাথায় রেখে ফাইনটিউন করা সম্ভব হয়। যেহেতু যৌন হেনস্থার ঘটনা সামনে এনে ব্যবহারের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করাটাও একটা উদ্দেশ্য, তাই, শুরু থেকেই শাস্তিমূলক না হয়ে, নানান স্তরের শাস্তি হয়। শাস্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়, এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের পক্ষে সেই কারণে অথরিটিদের উপর প্রয়োজনে জোর দেওয়া সম্ভব হয়। কমিটির গঠন বিশ্ববিদ্যালয় গোষ্ঠীর ভেতর থেকে হয়, আবার বাইরে থেকেও লোকজন মনোনীত হয়ে আসেন, যা বিশাখা গাইডলাইনের দস্তুর।

উপরন্তু এটা বর্তমানে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে একটি অভিযোগ দায়ের হওয়া থেকে তার প্রেক্ষিতে শাস্তিদানের পুরো প্রক্রিয়াটা ভীষণভাবেই রাজনৈতিক আন্দোলনগুলির ওপর নির্ভরশীল কারণ যৌন হেনস্থাকে একটা ইস্যু বলে স্বীকার করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রবল অনীহা রয়েছে। একই সাথে বাইরে থেকে মিডিয়া হাউস, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশগ্রহনকারীরা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রবল চাপ থাকে। যেহেতু এসব ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নিজেই সাধারণতঃ কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য হয়ে থাকেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ফলে আন্দোলনকারীরা তাদের সহজেই এবং দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই চিনে নিতে পারেন – তাই এই চাপ আরো তীব্রতর হয়ে থাকে স্বভাবতঃই।

বিষয়টা এরকম আদৌ নয় যে যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই ধরণের নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে সেখানে আর কোন যৌন হেনস্থা খটছে না বা সব ঘটনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া ও শাস্তিদানের প্রক্রিয়া হয়েছে। কিন্তু যেখানে এই ধরণের কোন কমিউনিটি একটি নির্দিষ্ট ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যবহারবিধি এবং উপযুক্ত শাস্তিদানের রূপরেখা তৈরী করে, সেখানে সুবিচারের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়, এটুকুই। এবং আরো বেশী করে যেটা বোঝা জরুরী যে এই ধরণের স্বশাসিত গোষ্ঠীগুলি নিজের স্বার্থেই বেশী করে সক্রিয় থাকবে এবং নিয়মিত নিজেদের আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাকে সুসঙ্ঘত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে এমনটা অবশ্যই আশা করা যায়।

২০১৩ সালে যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত নতুন আইনটি পাস হবার পরে এই স্থিতাবস্থায় নাটকীয় পরিবর্তন আসে। এই আইনের ইচ্ছাকৃত ভুল ব্যখ্যা করে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়েই পূর্বতন কমিটিগুলিকে ভেঙে প্রশাসকদের দ্বারা মনোনীত নতুন আভ্যন্তরীন অভিযোগ কমিটি তৈরী হয় – আগে ডিইউ-তে এবং সম্প্রতি জেএনইউ-তে। জেএনইউ-তে GSCASH এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গেছে এবং GSCASH কে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার লড়াই এখনো চলছে।

ডিউ প্রসেস জরুরী কেন?

অভিযোগকারীর বক্তব্য এক কথায় মেনে না নেওয়ার কারণ কি? কারণ আমরা সবাই জানি এই ধরণের অভিযোগের পিছনে এক অত্যন্ত জটিল মনস্তত্ত্ব / অনুপ্রেরণা কাজ করে থাকে – বিশেষতঃ ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের দিক থেকেই। আমরা একথা ভাল করেই জানি যে অনেক সময় ছাত্র সংগঠনগুলির নিজেদের মধ্যে রেষারেষির ফল হিসাবেও এই ধরণের যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠে আসতে পারে – অথবা ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা থেকে বা এই ধরণের অন্য কোন চিন্তাধারা থেকেও এগুলি করা হতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান পদ্ধতিগত স্বচ্ছতার সঙ্গে হওয়াটা খুব জরুরী।

অভিযোগ যদি কোন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে হয় তাহলে এই সাবধানতা আরো বেশী করে প্রয়োজন কারণ ডিউ প্রসেস অনুযায়ী না চললে অধ্যাপক-ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরী হয়, ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ডিইউ এবং জেএনইউ-তে দেখা গেছে যৌন লাঞ্ছনা বিষয়ক কেসে সমস্তরকম সাবধানতা অবলম্বন করার পরেও অধ্যাপকেরা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে গেছেন এবং সেখানে যদি দেখা গিয়ে থাকে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারপদ্ধতি অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত উভয়পক্ষের প্রতি সমদর্শী ছিলেন না বা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসৃত হয় নি, সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের রায় উলটে গেছে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই (এই স্টেটমেন্টে যারা আছেন শুধু তারাই নন) বহু বছর ধরে এই দীর্ঘ এবং পরিশ্রমসাপেক্ষ পদ্ধতিটি অনুসরণ করেছি, অভিযোগকারীর সঙ্গে প্রথম দেখা করা থেকে যার শুরু। তাকে বিভিন্ন বিকল্পগুলি সম্বন্ধে অবহিত করা, তার কাছে জেনে নেওয়া যে সে ফর্মাল অভিযোগ জানাতে চায় কি না – চাইলে তার পদ্ধতি কী ও কী কী, এবং এই পুরো পদ্ধতি জুড়ে তার পাশে পাশে থাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং অধ্যাপকেরা মিলে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর যে ব্যবস্থাটি তৈরী করেছেন সেটির সম্পূর্ণ ব্যবহার করা। এইসব উদ্যোগের ফলে বহুবার বহু ঘটনায় দোষীর চিহ্নিতকরণ এবং শাস্তিদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেছে। এই সমস্ত প্রক্রিয়াটার বিভিন্ন স্তরে নারীবাদীরা বিভিন্নভাবে জড়িত থাকেন, উকিল হিসাবে বিনামূল্যে মামলা লড়া থেকে শুরু করে নিখরচায় মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা, এমনকি নিরাপদ আস্তানার ব্যবস্থা করায় এঁদের ভূমিকা থাকে। এবং নারীবাদীরা অনেকেই জানেন যে এসবই করা হয় মূলতঃ আত্মপরিচয় গোপন রেখেই। নিজেদের মধ্যে আলোচনায় প্রায় সব মেয়েরাই (এবং ছেলেরাও) জানেন কোন কোন অধ্যাপক এই রকম ব্যবহার করতে পারেন, পাশাপাশি এটাও প্রায় সকলেরই জানা যে বিপদে পড়লে কার কাছ থেকে সাহায্য প্রত্যাশা করা যেতে পারে। অজানা নম্বর থেকে প্রথম কল অথবা কোন অচেনা ব্যক্তির কাছ থেকে ইমেলের মাধ্যমে পাওয়া মেসেজ “আমি আপনাকে খুব স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে কিছু বলতে চাই” বলে, আমরা যারা নিজেদের নারীবাদী বলে দাবী করি, আমরা সবাই জানি আমরা কী বিষয়ে কথা বলতে চলেছি। এবং বহু ক্ষেত্রে আমরা সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছতে পারি যেখানে অভিযুক্তকে চিহ্নিতকরণ এবং শাস্তিদান, এমনকি অভিযোগকারীর চাহিদা অনুযায়ী তাদের নাম প্রকাশ্যে এনে লজ্জিত করাও হয়ে থাকে।

উপরন্তু নারীবাদীরা যেসব ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গড়ে তোলেন তাদের অন্যতম বিশেষত্ব হল কমিটিগুলি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীর সংশ্লিষ্ট শ্রেণী / বর্ণ গত অবস্থান মাথায় রেখে থাকেন – বিশেষতঃ যদি উভয়েই ছাত্রছাত্রী হন এবং, যেটা আমাদের বহুত্ববাদী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হামেশাই দেখা যায়, অভিযোগকারী শহুরে / উচ্চশ্রেণী / সাবর্ণ এবং অভিযুক্ত গ্রাম্য বা ছোট শহর থেকে আসা। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ে অভিযুক্তের দোষ প্রমাণ হলেও তাকে সরাসরি শাস্তি না দিয়ে শুধু সতর্ক করে দেওয়া হয়। এরকম কিছু ঘটনায় পরে অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারী সত্যিকারের ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছে এমনটা আমি নিজেই দেখেছি।

অধিকাংশ নারীবাদীই এই যৌন হেনস্থার নিষ্পত্তিকারী ব্যবস্থাগুলিকে যত না শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা হিসাবে, তার চেয়ে অনেক বেশী করে সচেতনতা বৃদ্ধির পদ্ধতি হিসাবে ভাবেন যাতে আমাদের এই বহুধাবিভক্ত দেশের বিভিন্ন সংস্কৃতি, অঞ্চল, সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা ছাত্রছাত্রীরা যাতে আধুনিক পৃথিবীর বিভিন্ন দিকের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন।

এসবের বাইরে আরেকটি বিষয় আছে যেগুলোকে ঠিক যৌন হেনস্থা হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না – কোন অধ্যাপক এবং তার বর্তমান কোন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পরস্পরের সম্মতিক্রমে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা। এই ধরণের ঘটনাগুলি চিহ্নিত করা দরকার, কিন্তু আমরা বেশ কয়েকজন সেই চেষ্টা করেও অসফল হয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম এই ধরণের সম্পর্কগুলিকে অনাকাঙ্খিত এবং অন্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রতিকূল এই মর্মে একটি ব্যবহারবিধি চালু করতে কিন্তু সেই উদ্যোগকে কেউই গুরুত্ব দেননি। দয়া করে সমস্যাটার জটিলত্ব একটু ভালো করে বুঝুন। কার্যত আমরা এমন এক অবস্থান নিচ্ছি যে কোন একটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের তার পছন্দসই পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্মতিকে কোনভাবে প্রভাবিত করা যায় – যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই। তাই এরপরে আমরা চেষ্টা করি এই অব্যবহৃত ব্যবহারবিধিকে অধ্যাপকদের উদ্দেশে পুনর্লিখিত করতে। সেখানে এটা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে একজন অধ্যাপক এই ধরণের সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ক্ষমতাগত অবস্থান (পোজিশন অফ পাওয়ার)কে কাজে লাগাচ্ছেন এবং আরো বেশী যেটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ধরণের সম্পর্কগুলি বাকি ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য একটি প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

তবে এই ধরণের ঘটনাগুলিকে এক কথায় “যৌন হেনস্থা” বলে দাগিয়ে দেওয়া চলে না, কারণ সেটা করলে আমরা নিজেরাই নারীবাদীরা যাকে “বস্তুবাদী, যৌন সংরক্ষণশীল” বলে থাকেন, তা-ই হয়ে যাব।

অত্যন্ত ভদ্রভাষায় বললে আমাদের বক্তব্যটা ছিল মূলতঃ একটা প্রার্থনা – এই তালিকাটি তুলে নিয়ে তালিকায় যাদের নাম আছে তাদের বিরুদ্ধে ফর্মাল অভিযোগ আনা হোক – যেক্ষেত্রে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন করব। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের অধিকাংশ জুড়েই ছিল এই পদ্ধতির কি কি অসুবিধা আছে সেগুলি স্বীকার করা এবং একই সাথে তাদেরকে কার্যকর করে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে মেনে নেওয়া।

এই বিবৃতির জবাব ও আমার পাল্টা জবাব

বিবৃতিটির জন্য অভিভূত করে দেয় এমন সমর্থন পেয়েছি, তবে সে প্রসঙ্গে এখন যাচ্ছি না। সঙ্গে পেয়েছি একইরকম প্রবল আক্রমণও। তার মধ্যে কোমলতমটি হল "ইচ্ছে করে নীচে নামা" বা "লেকচার দেওয়া"। কিন্তু বিবৃতিটির আসল উদ্দেশ্য ছিল এই তালিকার নেপথ্যে যে নারীবাদীরা রয়েছেন,তাঁদের যথোচিত গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁদের স্ট্র্যাটেজি বা কর্মপন্থা আরেকবার ভেবে দেখতে অনুরোধ করা। হয়তো বিবৃতিটির চাঁচাছোলা, সংক্ষিপ্ত ও জোরালো লেখার ধরনের জন্য অনেক পাঠকের এমন মনে হয়েছে। আসলে এইসব আক্রমণ ছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে তথাকথিত নারীবাদীদের দ্বারা "কাফিলার" ওপর বর্ষিত হিংস্র গালিগালাজের এক বেড়াজাল।

গালিগালাজকারীদের দাবি ছিল এই বিবৃতিতে যাঁরা (মাসীমা, শাশুড়ী জাতীয় মহিলারা) সই করেছেন,তাঁরা নিজেদের প্রভাব বা ক্ষমতা প্রয়োগ করে "তরুণী নারীবাদীদের" চুপ করিয়ে দিতে চাইছেন, নিজেদের "দলের পুরুষ মানুষদের" সুরক্ষিত করতে চাইছেন। এই দাবির ফলে, খুব তাড়াতাড়ি আমরা পরিণত হলাম "savarna feminist" রূপে,যারা দলিত বহুজন নারীদের তাঁদের আচরণ কেমন হবে সে বিষয়ে উপদেশ দেবার দুঃসাহস করে। তাঁদের দাবি ছিল,আলোচ্য তালিকায় যে পুরুষদের নাম রয়েছে,তাঁদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কথা গোপন করা হচ্ছে, আমাদের এত ক্ষমতা যে তার জোরে রায়া সরকারের ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল (যদিও তা কয়েক ঘন্টার জন্যই বন্ধ ছিল), আমাদের এই বিবৃতি survivor বা উদ্বর্তীদের সুনাম হানির কারণ হচ্ছে।

আক্রমণের একটি নমুনা দেখুন, যদিও এটি গালাগালিভরা সমালোচনাগুলির মধ্যেই পড়ে না–

“রায়া সরকারের ফেসবুকে পোস্ট করা, এডিট করার ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করার অধিকার বন্ধ করা হয়েছে। ফেসবুককে অবশ্য কখনই সততা বা সুবিচারের প্রতীক হিসাবে ভাবা যায় না,কারণ যে কোন কর্মকান্ডের পর্দা সরালেই ফাঁস হয়ে যায় আসল কলকাঠি কার হাতে ছিল। এর থেকেই বোঝা যায় কেন এবং কিভাবে রায়াকে ব্লক করা হয়েছিল।

“কেন রায়াকে ব্লক করা হয়েছিল?

“রায়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌন উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে একটি প্রচার শুরু করেছিলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির যত বড় নামেরই হন না কেন, কাউকে ভয় করেননি। যেসব নাম নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছে,তা প্রকাশ্যে এসেছিল। survivor বা উদ্বর্তীরা রায়ার কাছে এসেছিলেন। অভিযুক্তরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন এবং তথাকথিত ব্রাহ্মণ্যবাদ "ঘেটো" নানাভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

“তবে এদের রক্ষাকর্ত্রী "আসল নারীবাদীরাও" খুব তাড়াতাড়িই মঞ্চে নেমে পড়েন। যৌন নিগ্রহের বিরোধিতা করার তাঁদের দীর্ঘ ইতিহাসের উল্লেখ করে তাঁরা বলেন , এ বিষয়ে রায়ার চেয়ে তাঁদের জ্ঞান অনেক বেশি। "সঠিক প্রক্রিয়া", "সুবিচার" ইত্যাদি শব্দ নিক্ষিপ্ত হয়। এই আসল নারীবাদীরা রায়ার নামটি উচ্চারণ করতেও ভয়ে কাঁপেন,তাঁরা কেবল "একটি তালিকার" উল্লেখ করেন। যে সব শিক্ষাক্ষেত্রে যৌন অত্যাচারের খবর পাওয়া যায়, সেখানে কী হয়,তা এই নারীবাদীরা জানেন। তাঁরা জানেন কিভাবে এক একটি কেরিয়ার নষ্ট হয়ে যায়,তাঁরা জানেন, "খাপ"দের বিষয়ে। তা সত্ত্বেও তাঁরা এদের পক্ষই অবলম্বন করেছেন। এই "আসল নারীবাদী"দের তালিকায় কবিতা কৃষ্ণণ, নিবেদিতা মেনন, আয়েশা কিদওয়াই, বৃন্দা গ্রোভার ইত্যাদি যত নামই থাকুক,আমরা রায়াকেই আমাদের নেত্রী মনে করি,কারণ আপনারা সকলেই আসলে অন্যায়ের অংশীদার, ব্রাহ্মণ্যবাদের অন্তর্গত। সুতরাং আপনারা দূর হন!!

“এতজন মানুষ প্রকাশ্যে এসেছেন, রায়ার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন,এর থেকেই প্রমাণিত হয় আপনাদের "শুনুন,আমি এই করেছি,আমি ঐ করেছি এসব বলা সম্পূর্ণ অর্থহীন। আপনারা কিছুই করেননি,প্রয়োজন নেই আপনাদের নেতৃত্বের। নতুন নেতৃত্ব এসে গেছে। আপনাদের অস্বস্তির কারণ কী? একজন দলিত নারী নেত্রী হবে এইটা কিংবা আপনারা যেসব পুরুষদের এতদিন সুরক্ষা দিয়ে আসছেন,তাদের দিকে আজ আঙ্গুল উঠছে এই বিষয়টা? জানবেন,আঙ্গুল উঠবে আরো অনেকের দিকে,এমন কি আপনাদের দিকেও,আপনাদের ভন্ডামির দিকে,মিথ্যার দিকে,প্রলাপের দিকে। আপনাদের সরিয়ে দেওয়া হবে,রায়া হবে নতুন নেত্রী,আপনারা যাই করুন না কেন।

“#unblockRayaSarkar (from Greeshma Aruna Rai)”

নারী আন্দোলনের মূল নীতি বলে, এখানে কোনও একজন বিশেষ নেত্রী নেই। তাও যদি কেউ রায়াকে নেত্রী মনে করেন,সেটি তার ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়। আলোচ্য বিবৃতিতে নারীবাদীদের অনুরোধ করা হয়েছিল,তাঁদের কর্মপন্থা নিয়ে পুনর্ভাবনা করতে। যে কারণে রায়া সরকারের নাম আমাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি, তা হল, আমাদের ধারণা ছিল ঐ তালিকাটি কয়েকজনের সম্মিলিত উদ্যোগের ফল। আমাদের তখন জানা ছিল না (এখন অবশ্য জানি) যে রায়া সরকারই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ঐ তালিকাটি নিয়ন্ত্রণ করেন, সব অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল সূত্রও তাঁরই হাতে, কোন অভিযোগটি তালিকাভুক্ত করা হবে, কোনটি অগ্রাহ্য বা বাতিল করা হবে, সেই সিদ্ধান্তও তিনি এককভাবেই নিয়ে থাকেন।

আমাদের বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে,তার সারবত্তা নিয়ে আলোচনা করা যাক- প্রথমতঃ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অনেকজন পুরুষের সঙ্গে আমাদের পরিচয়ের কথা লুকিয়ে রাখার কোন প্রশ্নই নেই - এটি স্পষ্ট যে ভারতে শিক্ষা জগতের পরিধি খুব বড় নয়। খুবই স্বাভাবিক যে তালিকাভুক্ত অনেক পুরুষের সঙ্গেই আমাদের অনেকে কাজ করেছি, বা পেশাগত কারণে যোগাযোগ করেছি, বা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অথবা তালিকাভুক্ত কেউ আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুস্থানীয়। এই ব্যাপারগুলো সকলের কাছে এত সুবিদিত এবং একজন অন্ধের কাছেও সুস্পষ্ট যে এগুলো আলাদা করে প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে আমরা ভাবিনি।

কোন পুরুষমানুষকে আড়াল করার উদ্দেশ্য কখনই আমাদের ছিল না, বরং আমরা চেয়েছিলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির sexist (castiest / English hegemonic / classist) বাতাবরণের পরিবর্তন আনা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কার্যপ্রণালী, তাকে রক্ষা করতে, শক্তিশালী করে তুলতে।

কোন পুরুষকে রক্ষা করার চেষ্টাই যদি আমরা করতাম,তাহলে আমাদের বিবৃতিতে পরিষ্কার করে এই কথাগুলি লেখা থাকত কি?

"দয়া করে নিয়মানুযায়ী আবেদন করুন, আমরা আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করব।"

বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে তথাকথিত ব্যবধানের কথাটি একেবারেই অবাস্তব। Sexism এবং বয়েসের প্রতি কটাক্ষ করে হীন মন্তব্য, যেমন "মাসীমা / পিসীমা নারীবাদী বা শাশুড়ী" ইত্যাদি ছেড়ে দিলেও, অনেক, অনেক অল্পবয়সী মহিলারা আছেন যাঁরা আমাদের বিবৃতিতে বর্ণিত অবস্থান বা সমস্যাগুলো নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন। একটি সাম্প্রতিক প্রবন্ধে নিশিতা ঝা লিখেছেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে অল্পবয়স্কা মেয়েরা তাঁকে লিখেছেন – আন্তর্জালে সাহায্যের জন্য আবেদন না করে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করাই তাঁরা শ্রেয় মনে করবেন। এঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই বলেছেন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাঁরা GSCASH জাতীয় সংস্থার মাধ্যমেই প্রতিবিধান চান। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এঁরা আবার এইসব সংস্থাগুলোর কাজের ধরণ বা নিষ্ক্রিয়তা দেখে খুবই হতাশ। অনেকে আবার বলেছেন কেবল পদাধিকার বা শক্তি দেখেই এখানে সদস্য নির্বাচন করা হয়। একজন মহিলা বলেছেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রছাত্রীরা মিছিল করে ২৭শে অক্টোবর "University Grants Commission" এর দিল্লি অফিসে গিয়ে প্রতিবিধান কমিটি গঠন করার দাবি জানাবেন, যেমন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিগ্রহের বিরুদ্ধে "Gender Sensitisation Committee" তৈরী করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, “প্রতি কলেজে আমরা এমন কমিটি চাই, কেবল কয়েকটি বিশেষ কলেজে নয়। একমাত্র তখনই যৌন নিগ্রহ বন্ধ করা যাবে।”

বনজ্যোৎস্না লাহিড়ি একজন তরুণী নারীবাদী ও গবেষিকা। তিনি ফেসবুকে কী লিখেছেন দেখুন (প্রসঙ্গক্রমে, আমাদের বিবৃতিটিকে তিনি নিম্নগামী ও পিঠ চাপড়ানো আখ্যা দিয়েছেন) –

“আলোচিত "তালিকার" প্রবক্তাদের প্রতি আমার একটি সরল প্রশ্ন আছে। এরপর আমরা কী করব? আমি আরও কয়েকটি তালিকা বানানোর কথা বলছি না, আপাতত এইটিকেই আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করা যাক। ধরে নিচ্ছি "তালিকায়" যাঁদের নাম আছে, তাঁরা সকলে সত্যিই যৌন নিগ্রহের মত কুকর্ম করেছেন। এখন, সোশ্যাল মিডিয়াতে চূড়ান্ত অবমাননা হওয়ার পর এঁদের মনের পরিবর্তন হতে পারে ও তাঁরা নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারেন। অথবা তাঁরা অত্যন্ত কদর্যভাবে অভিযোগকারিণীদের ওপর চড়াও হতে পারেন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, পরেরাটি ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং "তালিকাটি" কাউকেই সুবিচার দিতে পারল না, এটি কেবল কয়েকটি মানুষের নাম প্রকাশ করেছে ও তাঁদের লজ্জা দিয়েছে। এঁদের অধিকাংশই উচ্চপদাধিকারী ও শক্তিধর। সুবিচারের কথা ভুলে যান, কিভাবে আমরা নিশ্চিত করব যে অভিযোগকারিণী নিরাপদ থাকবেন? তিনি কারও সমর্থন পাচ্ছেন কি না তা কিভাবে নিশ্চিত হবে?

“আসুন আমরা দেখি, কিভাবে GSCASH (জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়) কাজ করে। অভিযোগ পাওয়ার পর এদের অফিস অভিযুক্তকে জানিয়ে দেয় যে তাঁর নামে একটি অভিযোগ এসেছে। তারপর এদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়। অভিযুক্ত কোনভাবেই অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না, কোন তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমেও নয়। যদি GSCASH প্রয়োজন বোধ করে বা কেউ তাঁদের অনুরোধ করে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর কায়িক নিয়ন্ত্রণ জারি হতে পারে, অর্থাৎ তিনি অভিযোগকারীর ৫০ মিটারের মধ্যে আসতে পারবেন না। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত – দুপক্ষই confidentiality clauseএর আওতায় থাকবেন, যাতে গুজব, মিথ্যা রটনা, চরিত্রহানি ইত্যাদি রোধ করা যায়। যতবার এই নিয়ম ভঙ্গ করা হবে, ততবার অভিযোগকারী GSCASHকে রিপোর্ট করবেন, এবং তা অভিযুক্তের অপরাধের তালিকায় যোগ হবে,শাস্তির পরিমাণও সেইমত বৃদ্ধি পাবে।

“GSCASH একটি quasii legal সংস্থা , তাই তাঁরা অভিযুক্তের ওপর এই সব নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন, এবং সাক্ষীদের বা অভিযুক্তকে ভয় দেখানো বন্ধ করতে পারেন। এখন, প্রতিটি যৌন নিগ্রহের ক্ষেত্রেই কি এত স্বচ্ছভাবে কাজ হয়? নিশ্চয়ই না। বিশেষতঃ যখন GSCASH দুর্বল বা তাকে শক্তিহীন করা হয়েছে অথবা সে কোন আন্দোলনের সহায়তা পায়নি তখনই এমন ঘটে। কিন্তু GSCASHএ কর্মচারীর সংখ্যা কম, বা শাসকমন্ডলীর অন্তরঙ্গ লোকজন ঢুকে পড়েছে, নির্বাচিত ও নীতিপরায়ণ প্রতিনিধিরা পরিচালনা করছেন না, এমন হয়না। আমার বক্তব্য হল – এইসব বিধান বা ব্যবস্থা দেশে রয়েছে, এবং quasi legal সংস্থা হওয়ার কারণে GSCSAHএর ক্ষমতা আছে এগুলো প্রয়োগ করার। যদি কেউ এই সংস্থাকে মসৃণভাবে ও শক্ত হাতে চালানোর অতি শ্রমসাধ্য কাজটি করেন, সদাসতর্ক থাকেন, রাজনৈতিক আন্দোলন গঠন করেন (হ্যাঁ, বছরের পর বছর GSCASHএর প্রাক্‌নির্বাচনী পুস্তিকায় আমরা এইসবেরই উল্লেখ দেখে আসছি) তাহলে প্রকৃত সুবিচার,অন্যায়ের প্রতিবিধান, লিঙ্গ সংবেদনশীলতা এবং অভিযোগকারীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা – সমস্তই খুব ভালভাবে হতে পারে।আমি কিন্তু একবারও বলছি না যে এইসব ইতিমধ্যেই করা হয়ে গেছে, কিন্তু এটা ঠিক যে করা যেতে পারে। প্রশ্ন হল, আমরা কি বলতে পারি, যেকোন ভাবে করা হোক? আমি নিশ্চিত নই।

“যাঁরা GSCASHএর দায়িত্ব নিয়েছেন, রোজ রোজ নতুন নতুন হ্যাশট্যাগ বা নিত্যনতুন উত্তেজনাময় জীবন কাটানোর বিলাসিতা তাঁদের জন্য নয়। নিজ নিজ অ্যাকাডেমিক কাজের পাশাপাশি ঘন্টার পর ঘন্টা এই পরিশ্রমসাপেক্ষ কাজটি তাদের করে যেতে হয়। যথেষ্ট কাজ করেছেন ওঁরা? না। কারণ আমরা যথেষ্ট কাজ করিনি। চর্বিতচর্বন আর কিছু প্যাম্ফলেট বাদ দিলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুবিধ সংগঠনগুলি GSCASHকে আরও শক্তিশালী, কার্যকরী,গতিশীল এবং অপেক্ষাকৃত কম শাসনতান্ত্রিক করে তোলার জন্য যথেষ্ট কাজ করে উঠতে পারিনি। GSCASH এবং এই জাতীয় সংস্থাগুলি কি তাহলে সম্পূর্ণই ব্যর্থ বলতে হবে? তা যদি হত, তাহলে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ তাকে বন্ধ করে দেবার চেষ্টা করতেন না। GSCASH কিন্তু প্রশাসনের অবদান নয় – একথা মনে রাখা দরকার। বিশাখা রায়ের পর বহু মানুষ, সক্রিয় কর্মী, নারীবাদীদের দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে খুব জোর পাঁচটার মত বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরণের সংস্থা তৈরী হতে পেরেছে। আমার তরফ থেকে এটুকু বলতে পারি যে আমি ভবিষ্যতে GSCASH এর মত সংস্থা – যা লিঙ্গ সাম্য এবং লিঙ্গ সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক বলে আমি মনে করি, তাদের গঠন / শক্তিবৃদ্ধিতেই বেশী মনোযোগী থাকব। এখনো অবধি তেমন কিছুই করে উঠতে পারিনি এটা আমি স্বীকার করি – কিন্তু সে সবই আমার “অসম্পূর্ণ কাজে”র তালিকায় যুক্ত হয়েছে মাত্র। এখন এই তালিকাটি সত্যিই দীর্ঘ, কিন্তু আমরা সবাই জানি লড়াইয়ের কোন শর্টকাট হয় না, কখনো ছিল না”।


অন্যদিকে আমাদের প্রজন্মের বহু নারীবাদী ব্যক্তিত্ব (যেমন ধরুন মেরী জন, ভি গীতা প্রমুখ) কিন্তু এই তালিকাটি কোন ক্রোধ এবং হতাশার জায়গা থেকে তৈরী হয়েছে তা বুঝেছেন এবং তালিকাটিকে সমর্থন জানিয়েছেন। অতএব বলা যায়, এ প্রসঙ্গে কোন সাধারণ প্রজন্মভাগ একটি মিথ মাত্র।

অতি সহজে গালি হিসাবে ব্যবহৃত হওয়া এই “সাবর্ণ” শব্দটি, এই প্রসঙ্গে যার আসলে কোন পূর্বপ্রেক্ষিত নেই, সম্ভবতঃ এই তীব্র বিতর্কের মধ্যে থেকেই উঠে এসেছে। আমাদের বিবৃতিতে সাক্ষরকারীদের মধ্যে অন্ততঃ দুজন আছেন যারা সাবর্ণ হিন্দু নন, কিন্তু তাঁদের পরিসরের হিসাবে তাঁরা অবশ্যই সাবর্ণ শ্রেণীভুক্ত বা তাঁদেরকে যথাক্রমে সাবর্ণ মুসলিম ও সাবর্ণ খ্রীষ্টান বলা যেতে পারে। কিন্তু কথাটা হল, আমাদের জাতিগত পরিচয় এই প্রসঙ্গে কেমনভাবে জড়িত হয়ে পড়ল? আমরা কালক্রমে জানতে পেরেছি যে এই লিস্টের প্রথম প্রকাশক এবং নিয়ন্ত্রক রায়া সরকার দলিত গোষ্ঠীভুক্ত – যদিও বিবৃতিটি লেখার সময়ে এই তথ্য আমাদের জানা ছিল না। অবশ্যই, এই তথ্যটি জানা থাকলেও আমরা তাতে আলাদা করে কোন গুরুত্ব দিতাম না – একমাত্র যদি না তালিকার ৮১ জন অভিযোগকারীই দলিত বহুজন গোষ্ঠীভুক্ত হতেন। এই তালিকা যদি দলিত বহুজনদের কোন নারী সংগঠন বানাতেন এবং তাতে বিশেষ করে দলিত বহুজন নারীদের অভিযোগই থেকে থাকত, তাহলে সাবর্ণ নারীবাদী সংগঠন হিসাবে আমাদের তেমন কিছুই বলার থাকত না কারণ সেক্ষেত্রে আমাদের কথা বলার অধিকারই থাকত না। এরকম একটা পরিস্থিতির রাজনৈতিক গুরুত্ব আমরা বিলক্ষণ বুঝি। কিন্তু আমরা বরং দেখতে পেলাম এমন একটি তালিকা যা জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে বহু নারীর অংশগ্রহণে পুরুষের অন্যায় সুবিধালাভের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলছে। আমরা নিজেরাই যে সাবর্ণ উত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে আগাগোড়া কত মামলা লড়েছি সে কথা এখানে বলাই বাহুল্য।

গতকাল দলিত উদ্যোগ বিষয়ক একটি নতুন জার্নালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমার একজন দলিত শিক্ষাবিদের সঙ্গে পরিচয় হল যিনি দিল্লীর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ডাঃ ভ্যালেন্টিনা আমাকে জানান তিনি এই বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন করেন এবং এই তালিকাটির ধরণের ক্যাঙ্গারু কোর্ট বিচার কেন বিপজ্জনক বলে মনে করেন তা নিয়ে ফেসবুকে তিনি ইতিমধ্যেই বিশদে লিখেছেন। তিনি সেখানে লিখেছেন যে যদি “ডিউ প্রসেস” সঠিকভাবে মেনে না চলা হয় তবে খুব শিগগিরই এই ধরণের তালিকাগুলি, যাদের কোনরকম বিশ্বাসযোগ্যতার প্রয়োজন হচ্ছে না, তারা প্রান্তিক সমাজের পুরুষদের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ ব্যবহৃত হতে থাকবে। তার পর থেকেই এই বিবৃতির স্বাক্ষরকারীদের মতই তিনিও বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ দেখাই যাচ্ছে যে যারা এই আপন স্টাইলসর্বস্ব রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন, তারা নেহাৎ “দলিত বহুজন” অথবা “যুবতী” বলে কাউকে ছেড়ে কথা কইবেন না যদি কোনভাবে তাঁরা ওদের এই জীবনযাপন রাজনীতির সমালোচক হয়ে থাকেন। ওঁদের যা ঘোষিত পথ, সেই পথেই আপনাকে চলতে হবে, সেই সুরেই গাইতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা “ক্ষমতাশালী” নারীবাদী? আমাদের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্কটা ঠিক কোথায় ও কিভাবে? কেন আমরা “ক্ষমতাশালী নারীবাদী” বলে চিহ্নিত? প্রত্যেক স্বাক্ষরকারী শিক্ষাবিদ হিসাবে তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গন, সংস্থা বা কর্মক্ষেত্রের ক্ষমতাশালী পুরুষ (এবং নারী) সহকর্মীদের প্রভাবের সঙ্গে যুঝেছেন এবং এখনো রাষ্ট্র, ক্ষমতা, পুরুষতন্ত্র প্রভৃতির তীব্র আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। না, যারা এই তালিকা বানিয়েছেন, অন্ততঃ নারীবাদী হিসাবে তাদের কারো থেকেই আমরা কোনভাবেই অধিক ক্ষমতাশালী নই। হয়তো শিক্ষক হিসাবে আমাদের ছাত্রীদের ওপরে বা সেরকম আরো কিছু অল্পবয়সী মেয়ের ওপরে আমাদের কিছু প্রভাব রয়েছে, কিন্তু তা সীমাবদ্ধ এবং তার কোনরকম ব্যবহার করে থাকি না আমরা। বলা হচ্ছে আমরা নাকি এতই ক্ষমতাশালী যে আমরা একটা ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দিত পারি – অথচ আমাদের এই ভয়ঙ্কর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেই পেজ আবার বহাল তবিয়তে স্বমহিমায় হাজির হয়। একথা কি এখানে বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবে যে রায়া সরকারের পেজ কখন এবং কিভাবে কাদের দ্বারা বন্ধ হয়েছিল সে বিষয়ে আমার বা আমাদের ন্যুনতম ধারণাও নেই? এই তালিকাটি তৈরীর সময়ে ওঁরা কি আশা করেননি যে এর ফলে “প্রভাবিত” ব্যক্তিদের মধ্যে যে কেউ অভিযোগ করে এই পেজ বন্ধ করিয়ে থাকতে পারেন? এবং সর্বোপরি এটা কি স্পষ্ট নয় যে এই তালিকার সমর্থকদের মধ্যেও কম “প্রভাবশালী” ব্যক্তিবর্গ নেই যারা মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া পেজটি আবার চালু করিয়ে দিতে পারেন? “ক্ষমতা” শব্দটি আর কত লঘু এবং অর্থহীনভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারতো?

নারীবাদী সংগ্রামে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির বিপদ

তাহলে এই তালিকা এবং এই ধরণের রাজনীতি, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা এবং পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মুখ খোলার প্রশ্নে এর বিপদটা ঠিক কি – পুরুষের জন্য নয়, নারীবাদী সংগ্রামের জন্য?

এই ধরণের একটি ক্রমবর্ধমান গণতালিকা যাতে একে একে প্রায় সমস্ত বাম-লিবারেল শিক্ষা/সংস্কৃতিবিদের নাম ঢুকে পড়ছে (এবং উল্লেখযোগ্যভাবে প্রায় কোন দক্ষিণপন্থী নামই তালিকায় নেই, এমন কি যারা JNU GSCASH দ্বারা আগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন তারাও নেই), এবং যাতে অপরাধের কোনরকম বিবরণ পর্যন্ত নেই, তা শেষপর্যন্ত শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে ঘুরে বেড়ানো “মেয়েদের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা” বা “নারীবাদীদের কল্পনা” জাতীয় গুজবকেই হাওয়া দেয়, সমর্থন করে।

উপরন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দক্ষিণপন্থী রাজনীতি সহজেই এ কথা বলার জায়গা পেয়ে যায় যে সমস্ত “অ্যান্টি ন্যাশনাল”রাই আসলে যৌন হেনস্থাকারী। উদাহরণ হিসাবে opindia.com অথবা mandir wohi banayenge র মত সুপরিচিত হিন্দুত্ববাদী সাইটগুলো দেখতে পারেন যারা অনেকেই তালিকাকারীদের নাম এবং প্রোফাইল সানন্দে তুলে আনছেন, যদিও এদের অনেকেই কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আরএসএস বা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়েছেন। এইসব সাইটগুলি দেখলে বা কাফিলার প্রতি হওয়া বিভিন্ন মন্তব্যগুলি পড়লে সহজেই বোঝা যায় যে এরা দাবী করছেন দেশদ্রোহিতা এবং যৌন হেনস্থা পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলে থাকে। উদাহরণ হিসাবে, একটি নিউজ চ্যানেল যখন প্রচার করল যে জেএনইউতে যৌন হেনস্থার রিপোর্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী, তখন তার স্বাভাবিক মানে এটাই দাঁড়ানো উচিৎ ছিল যে দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার প্রচারের ফলে জেএনইউতে এই বিষয়ে সচেতনতা সবচেয়ে বেশী, কিন্তু তার বদলে দক্ষিণপন্থীরা প্রচার করতে শুরু

যারা সত্যি সত্যিই যৌন হেনস্থা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং শাস্তিলাভ করেছেন তাদের পাশাপাশি এই তালিকাটিতে যাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন জোরালো প্রমাণ বা এমনকি অভিযোগও নেই, তাদের নাম পাশাপাশি একই সাথে রয়েছে। ফলতঃ ইতিমধ্যেই, যেমনটা হতে পারে বলে আগেই ভাবা গিয়েছিল, তালিকাভুক্ত একজন দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তি (যার দোষের কোন বিবরণ এক্সেল শিটে দেওয়া নেই) তাকে দোষী সাব্যস্ত করায় অংশ নিয়েছিলেন এবং বর্তমান তালিকায় কোন নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া নাম আছে এমন একজনের কাছে গিয়ে বলেছেন যে “দেখেছেন তো কিভাবে আমাদের ফাঁসানো হয়? আপনি কি আমার সঙ্গে যৌথভাবে একটা মামলা লড়তে রাজী?” অবশ্যই সেই দ্বিতীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ডাকে কোনরকম সাড়া দেননি – কিন্তু এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে এই ধরণের তালিকা কিভাবে প্রকৃত ও প্রমাণিত দোষীদের কেসকে লঘু করে দিতে সাহায্য করে এবং সেইসব অভিযুক্তকে একটা সহজ অ্যালিবাই দিয়ে দিতে পারে।

এই তালিকার সমর্থনকারীরা মূলতঃ এই ধারণা থেকে সমর্থন জানিয়েছেন যে অভিযোগকারিণীরা চূড়ান্ত রাগ এবং হতাশার শিকার হয়েই এই ধরণের চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। বহু ক্ষেত্রেই বিষয়টা সত্যিই তাই, কিন্তু রায়া সরকার নিজেই জানিয়েছেন যে এই তালিকার সবকটিই সরাসরি অভিযোগকারিণীর করা নয়। নারীবাদী বিচারধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল একেবারে চরম পরিস্থিতি (যেমন অভিযোগকারিণী মারা গেছেন অথবা বন্দী আছেন) ছাড়া যতটা সম্ভব সরাসরি অভিযোগকারিণীর কথাই শোনা, তাঁর নিজের ব্যক্তিগত পরিসরের স্বার্থেই। অন্য কেউ আরেকজনের হয়ে অভিযোগ করলেন, এবং এমনকি তারপরে তার বিবরণটুকুও দিতে অস্বীকার করলেন, আমি অন্ততঃ এতে কোন নারীবাদী আদর্শের খোঁজ পাই না। এখানে মূল কথাটাই হল অভিযোগকারিণীর কাছ থেকে তার নিজের অভিজ্ঞতাটুকু শোনা, তাকে তা বলার জন্য সম্ভাব্য সবরকমের সহযোগিতা করার জন্য যা যা করণীয়, তাতে যদি দেড়-দুই বছরও লেগে যায়, তা নিশ্চিত করা। এবং আমাদের নিজেদেরকে একথা মনে করিয়ে দেওয়া নেহাৎই বাহুল্য যে তৃতীয় ব্যক্তির অভিযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে কিভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং বিশেষতঃ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রান্তিক গোষ্ঠীভুক্ত পুরুষদের বিরুদ্ধে তার কিরকম অপব্যবহার হয়ে থাকে।

ফেসবুকে আমি এরকম বেশ কিছু পোস্ট দেখেছি যেখানে বলা হয়েছে যে “আমি বলছি যে X (তালিকাভুক্ত) একজন যৌন হেনস্থাকারী।” একজন দ্বিতীয় ব্যক্তি সেখানে লিখলেন “আমিও জানাচ্ছি যে X একজন যৌন হেনস্থাকারী।” এরপরে আরেকজন লিখে দিলেন “এখানে দুজনকে পাওয়া গেল যারা Xএর অপরাধের সাক্ষ্য দিচ্ছেন।”

এই আক্রমণগুলি এখন খুব পরিষ্কারভাবেই হয়ে দাঁড়িয়েছে যে “ক্ষমতাশালী সাবর্ণ” নারীবাদীরা “তরুণী নারীবাদী”দের চুপ করানোর চেষ্টা করছেন। হোয়াটস্‌অ্যাপে সম্প্রতি একটি নামহীন ব্লগ ঘুরছে যেখানে পরিষ্কার বলা আছে যে আমি এবং কবিতা কৃষ্ণণ নাকি তেহলকা কেসের অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে তরুণ তেজপালকে বাঁচানোর জন্য দালালী করছি এবং অভিযোগকারিণীকে পুলিশে না গিয়ে তরুণের কাছ থেকে একটা ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি গ্রহন করার পরামর্শ দিয়েছি। মজার বিষয়, এই পোস্টটির মূল বক্তব্য খুবই ধোঁয়াশায় ভরা – একবার যেখানে পরিষ্কার বলা হল যে কবিতা এবং আমি দালালী করেছি, পরক্ষণেই বলা হচ্ছে আমরা কী করেছি তা পরিষ্কার নয়। এরপরেই এখানে “আমাদের” কিছু ইমেলের অংশ তুলে দেওয়া আছে যেখানে নাকি আমরা অভিযোগকারিণীর সঙ্গে একটি ক্ষমাপত্রের বিষয়ে আলোচনা করছি। যে কেউ এটা পড়লে প্রথমেই জানতে চাইবেন – এগুলি জেনুইন কি না বা এগুলি আদৌ কোন ইমলের অংশ কি না। এবং যদি হয়ে থাকে তবে এই নামহীন ব্লগার সেগুলি পেলেন কোথা থেকে? এবং এই তথাকথিত মেলগুলিতে যা বলা হয়েছে তা থেকে কিভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যায় যে আমরা অভিযোগকারিণীকে পুলিশের কাছে যেতে বিরত করার চেষ্টা করেছি তিনি চাওয়া সত্ত্বেও?

সবথেকে খারাপ ব্যপার হল এই সময়ে, যখন আর কিছুদিনের মধ্যেই তেজপাল মামলার শুনানি আবার কোর্টে শুরু হতে চলেছে, এই ধরণের একটা বেনামী ব্লগ শেয়ার করে আমাদের বিপ্লবী বন্ধুরা ঠিক কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছেন?

সাবর্ণ (উচ্চবর্ণের) নারীবাদীদের ওপর আক্রমণের মধ্যে চোরাগোপ্তা হিন্দুত্ব সংক্রমণঃ

কবিতা কৃষ্ণণ যে টুইটে বলেছেন যে ‘নেম অ্যান্ড শেম’ নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই, সেটা এখন তাঁর দ্বিচারিতার উদাহরণ হিসেবে ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু ওই টুইটে তিনি আসলে বলেছিলেন হিন্দুত্ববাদী দস্যুদের (Hindutva trolls) কথা। টুইটটা শেষ হয়েছিল RSS Sanghis! এই হ্যাশট্যাগ (#) দিয়ে। যারা লিঙ্গবৈষম্যমূলক গালাগাল আর ধর্ষণের হুমকি দিতে অভ্যস্ত সেই কঠোর হিন্দুত্ববাদীদের পরিচয় গোপন রাখতে তিনি রাজী ছিলেন না। এই হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে সাবর্ণ (উচ্চবর্ণের / অভিজাত) নারীবাদীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে উৎসাহ দেখাচ্ছেন, তা দেখে মনে হচ্ছে সত্যিই এইসব আক্রমণে সঙ্গে যুক্ত তথাকথিত নারীবাদীদের নিয়ে একটু ভেবে দেখার দরকার আছে।

এই লেখার শুরুতে আমি একটা বক্তব্যের স্বপক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহের কথা বলেছিলাম। এই স্বাক্ষরকারীদের বিরুদ্ধে যে প্রচার সেটাই হল আর এস এস-এর চুপিচুপি ছড়িয়ে পড়ার (infiltration) সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ। আমার ইদানীংকালে JNUর এক শিক্ষক নির্বাচন কমিটিতে থাকার অভিজ্ঞতাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বলে রাখি, JNU-র উপাচার্য নিজে আমাকে ওই কমিটির মুখ্য নির্বাচকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন কারণ আমি সেই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধিভঙ্গের বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান নিয়েছিলাম। উপাচার্যের মনোনীত যে প্রার্থীকে ওই তালিকায় যোগ্যতম বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিনি তিনজন বিচারকের কারও প্রাথমিক তালিকাতেও ছিলেন না।

অভিনব প্রকাশ নামে ABVP র এক সদস্য, যিনি ওই নির্বাচন কমিটিতে উপস্থিতই ছিলেন না, তিনি দাবী করেছেন যে আমি দলিত প্রার্থীদের ‘অপদার্থ সঙ্ঘী ভূত’ এবং আরও যা নয় তাই বলে গালি দিয়ে অনেক নাটক করেছি। আমি এই অভিযোগ সর্বৈবভাবে অস্বীকার করেছি কিন্তু আমার প্রশ্ন হল কমিটিতে কি হয়েছিল তা উনি জানলেন কি করে ? কর্তৃপক্ষ কি তাঁকে জানিয়েছে এসব কথা ? এই পদটা দলিত প্রার্থীদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল আর কয়েকজন খুব ভালো দলিত প্রার্থী ছিলেনও। কিন্তু কি করে যে তাঁদের নাম উপাচার্যের বানানো তালিকার একেবারে শেষে জায়গা পেল তা শুধু তিনিই জানেন। এইসব নিয়মবহির্ভূত কাজকর্মের প্রতিবাদ করা যদি একজন ABVPর একজন উচ্চপর্যায়ের পদাধিকারীর কাছে আমার দলিত-বিরোধী অবস্থানের সূচক হয় তাহলে কি আর কোনও সন্দেহ থাকে যে RSS সাবর্ণ (উচ্চবর্ণের) নারীবাদীদের বিরুদ্ধে আক্রমণের মূলমন্ত্রটা JNU প্রশাসনের মধ্যে দিয়ে সংগোপনে ছড়িয়ে দিচ্ছে আর তাকে শক্তিশালী করে তুলছে !

আগেকার ‘ফেমিনাজি’ সমলোচনা

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার যেটা, সেটা হল রায়া সরকার এবং আরও কয়েকজন, যারা মেহমুদ ফারুকি আর খুরশিদ আলম ধর্ষণ মামলায় সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের ভোল বদলানো বা পালটি খাওয়া। কিছু স্বাক্ষরকারীর মতে উভয় ক্ষেত্রেই যেহেতু বিশেষভাবে ধর্ষণের অভিযোগই করা হয়েছে, তাই তার বিচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতেই এগোন দরকার। মেহমুদ ফারুকির মত খুরশিদ আলমও আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত ছিলেন। উভয়ক্ষেত্রেই যে নারীবাদীরা অভিযোগ সমর্থন করেছিলেন, উদার বামপন্থী নারীবাদী বৃত্তের ভেতর থেকেই তাঁদের ‘ফেমিনাজি’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। ‘ফেমিনাজি’ অর্থাৎ কোনও প্রমাণ ছাড়াই যারা পুরুষের বিরুদ্ধে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু আমাদের অবস্থানটা হল এইরকম যে যেকোন অভিযোগকে বিচার পাওয়ার দিকে এগিয়ে দেবার আগে আমরা তার ‘প্রমাণ’ চাইব না কিন্তু আশা করব যে কি ধরণের অভিযোগ জানানো হছে সে বিষয়ে অভিযোগকারীর যেন পরিষ্কার ধারণা থাকে। আমরা জানি খুরশিদের ক্ষেত্রে অভিযোগকারিণী মধু কিশওয়র অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর একটা ভিডিও রেকর্ডিং বানিয়েছিলেন আর প্রথামাফিক অভিযোগ জানানোর আগেই সেটা গণমাধ্যমে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এঁরা যখন অন্য নারীবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তখন তাঁরা এইভাবে এগোনোর বদলে সঠিক পদ্ধতিতে অভিযোগ দায়ের করতে উৎসাহিত করেছিলেন। দুঃখজনকভাবে খুরশিদ আত্মহত্যা করায় এই মামলা বন্ধ হয়ে যায়। যে নারীবাদীরা এই দুই ক্ষেত্রে অভিযোগকারিণীদেরসমর্থন করেছিলেন, তাদেরই ফেমিনাজি বলা হয় কারণ তাঁরা গণমাধ্যমের বিচারে (মিডিয়া ট্রায়ালে) আগ্রহী, যার সবটা তাঁদের আয়ত্তে থাকে না। আশ্চর্যজনকভাবে রায়া সরকার, যিনি একদিন কবিতা কৃষ্ণণকে সাম্প্রদায়িক আর ফেমিনাজি হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত করেছিলেন (সেই সব পোস্ট অবশ্য পরে ডিলিট করে দিয়েছেন), তিনিই আজ কোনও প্রেক্ষিত বিচার না করেই যেকোনও পুরুষের ওপর যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। অন্য নারীবাদীরা যারা সেই সময় আমাদের আক্রমণ করেছিলেন আশ্চর্যজনকভাবে তাঁরাও দিক বদলে অন্য দিকে চলে যাচ্ছেন অতি দ্রুত। তাহলে কে এই দুই বিপরীত পক্ষ তৈরী করে তাদের লড়িয়ে দিল আর কোন দিকটাই বা বেশি ক্ষমতাবান!

রায়ার ফেসবুক পোস্ট আর পারস্পরিক বিশ্বাসের মৃত্যুঃ

রায়া সরকারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে গতকালের ফেসবুক পোস্টে যেখানে লেখা হয়েছে, “আপনি যদি যৌন হেনস্থার শিকার হন তাহলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। কোনও অভ্যন্তরীণ কমিটির ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই, সোজা কোর্টে চলে যান। বন্ধুরা, আমি আপনাকে আইনজীবীদের একটা তালিকা পাঠাচ্ছি যাঁরা এই কেসগুলো বিনা পারিশ্রমিকে নিতে রাজী হয়েছেন। এছাড়াও সাবর্ণ নারীবাদী আইনজীবী / সংস্থাগুলোর কাছেও গিয়ে দেখতে পারেন যদি তারা আপনাকে সাহায্য করে। তারা যদি ধর্ষণ বা হেনস্থার কথা স্বীকার করে বা ক্ষমা চায় (rape apologia) তাহলেও আসুন আমাকে জানান। তাদের কথাবার্তা রেকর্ড করুন (অ্যান্ড্রয়েড আর আইফোনে অনেক অ্যাপ আছে এসব কাজের জন্য)। তাদের যেন বলবেন না যে আমি আপনাকে এসব করতে বলেছি। সাক্ষ্যপ্রমাণই হল আসল জিনিস। এই ভয়েস রেকর্ডিং এর জেরেই উইন্সটাইন পেছনে একটা জোর লাথি খেয়েছিল। পারলে বরং ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখুন। আমি আপনাকে বিশ্বাস করি। আমি আপনাকে বিশ্বাস করি। আমি আপনাকে বিশ্বাস করি।”

বারম্বার উত্তম পুরুষ একবচনে একই কথা বলে যাওয়া ছাড়াও এই পোস্টটা দুটো কারণে মনে রাখার মত। প্রথমতঃ, সাদামাটা তালিকা বানানো থেকে সরাসরি পুলিশ স্টেশনে ও আইনের কাছে যাওয়া, মানে সেই শাসনযন্ত্রের কাছে যাওয়া যা এফআইআর না নেওয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছে নানা সময়ে। এরা হল সেই পুলিশ আর আইন যারা প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে যৌন হেনস্থার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য সাক্ষ্য আর প্রমাণ দাখিলের নিয়ম তৈরী করেছে। যে কোন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ / তদন্ত কমিটিগুলো নিঃসন্দেহেই খুব ঝামেলার হয়, যেকথা ওপরে বলেছি। কিন্তু আমাদের উচিৎ GSCASH ধরণের ব্যাবস্থাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা, যে পুলিশ আর আইন ভয়ানকরকমের লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণে অভ্যস্ত, কোনও ভাবেই যৌন হেনস্থার ভুক্তভোগীদের তাদের দয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়। কখনও কখনও আমাদের আইনের কাছে অবশ্যই যেতে হয়, বিশেষভাবে যৌন হেনস্থার বর্ণনা যদি ২০১৩ সালের অপরাধ আইনের নতুন ধারায় ধর্ষণের আওতায় পড়ে যায়; এই ক্ষেত্রে আমাদের হাতে অন্য কোনও উপায় নেই। কিন্তু এইভাবে প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার তদন্ত পদ্ধতিকে এড়িয়ে সরসরি পুলিশের কাছে যাওয়ার এই আহ্বানের অর্থ কি? আর সরাসরি নাম ধরে ধরে ফাঁস করা, যাকে ‘নেমিং অ্যান্ড শেমিং’ বলা হচ্ছে, তার থেকে এটা আলাদাই বা হচ্ছে কোথায়?

দ্বিতীয়তঃ, লক্ষ্যণীয় হল কয়েকটা বাক্যে রায়া সরকার কিভাবে দীর্ঘদিনের নারীবাদী রাজনীতিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। “সাবর্ণ (উঁচুতলার) নারীবাদী আর আইনজীবিদের কাছে যান, আর.তারা যদি ধর্ষণ বা হেনস্থার কথা স্বীকার করে বা ক্ষমা চায় তাহলেও আসুন আমাকে জানান। তাদের কথাবার্তা রেকর্ড করুন (অ্যান্ড্রয়েড আর আইফোনে অনেক অ্যাপ আছে এসব কাজের জন্য)। তাদের যেন বলবেন না যে আম আপনাকে এসব করতে বলেছি।” “ধর্ষণের জন্য ক্ষমা চাওয়া” আর তারপর ‘আমাকে জানান’। রায়া সরকার একাই ঠিক করে ফেলেছেন কারা যৌন হেনস্থাকারী আর কারা অভিজাত (ধর্ষণ) ক্ষমাপ্রার্থী। এই কি নারীবাদী রাজনীতির দুঃসাহসী নতুন পৃথিবী?

এখন কথা হল ‘ধর্ষণ স্বীকারোক্তি বা ক্ষমাপ্রার্থনা’ বলে কোনটাকে ধরা হবে? আমরা জানি বক্তব্যটাকেই ধরা হবে, সেইরকমই ঠিক হয়েছে। কিন্তু যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কাজ করার কথা আমি ওপরে লিখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি এটা একটা দীর্ঘ পদ্ধতি, ধীরে ধীরে যার জট খোলে। একেবারে শুরুতে আর কাজটা চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে সে ঘটনার কিরকম সমাপ্তি চাইছে সেটা অনেক গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতে হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এমন হতে পারে সে আলোচনার শুরুতে বলল যে সে সর্বসমক্ষে অপরাধির মুখোশ খুলে দিতে চায় আবার পরে কোনও সময় বলল যে সে প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চায়।

উল্টোটাও হতে পারে। শুরুতে হয়তো মেয়েটি আইনি বা প্রতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ চাইল, পরে তার মন বদলে গেল আর সে অপরাধীর অন্য কিছু শাস্তি চাইল। সে এমনও বলতে পারে যে পুলিশের কাছে গিয়ে আমার কি লাভ হবে ! সেক্ষেত্রে আমাদের যতটা সম্ভব সৎভাবে ও যত্নের সঙ্গে তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে যত কঠিন, যত বিরক্তিকর, যত লজ্জাজনক ঘটনাই হোক, সেই অনুভূতিকে বোঝানো যত কঠিনই হোক, আমরা তোমার সঙ্গে থাকব।

রেকর্ড করে রাখা কথোপকথনের কোন অংশগুলো স্বীকারোক্তি / ক্ষমা চাওয়া (rape apology) হিসেবে সবাইকে জানানো হবে? কিভাবে আমরা সাহায্য করতে চাওয়া একজন তরুণকে আবার বিশ্বাস করতে পারব?

নানা কারণে আমরা নারীবাদী রাজনীতিকে সমালোচনার করেছি। সংখ্যালঘু অর্থাৎ দলিত বহুজন নারীর কণ্ঠরোধ করার / বাদ দেওয়ার জন্য, দলিত নারীবাদী ও যৌনকর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরিত / রূপান্তরকামী রাজনীতিকে যুক্ত না করার জন্য নারীবাদী রাজনীতিকে সমালোচনা করার পদক্ষেপে নেওয়ার আগে আমাদের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্ক, তীক্ষ্ণ বাদানুবাদ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এগুলো প্রকৃত অর্থে আলোচনা পর্যায়েই থেকেছে, যার ফল হিসেবে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান একটু একটু করে বদলেছে; পরিপ্রেক্ষিত বিহীন তালিকাসর্বস্ব রাজনীতি যে ধ্বংসাত্মক মেরুকরণ ঘটাচ্ছে, সেই রকম নয় কোনোভাবেই।

বস্তুতঃ নারীবাদীদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকা উচিত। একটা কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করার আবেদনের প্রথম প্রতিক্রিয়াই যদি হয় সেটাকে নস্যাৎ করা আর তার চূড়ান্ত অপব্যবহার যার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভ্রমহীন লিঙ্গবৈষম্যমূলক পিতৃতান্ত্রিক গালাগালিও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তারপর আর সুস্থ আলোচনার আশা করা ভন্ডামির মত শোনায়।

হ্যাঁ, প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি আমাদের হারিয়ে দিয়েছে মাঝে মাঝেই। কিন্তু নারীবাদী রাজনীতি দাবী করে যে এই পদ্ধতিগুলোকে আরও শক্তপোক্ত করে গড়ে তোলার জন্য আমাদের সংগ্রাম চলবেই। আমি আবারও বলছি যে আমি বিশ্বাস করি সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করা নিঃসন্দেহে একটা নির্ভরযোগ্য নারীবাদী কৌশল, কিন্তু কোনও প্রেক্ষিত বা ব্যাখ্যার তোয়াক্কা না করে কেবলমাত্র নাম তুলে অভিযোগ জানানোটা কোনও পদ্ধতি নয়। এত সহজে কোনওকিছু হয় না। নারীবাদী সংস্কৃতির গড়ে ওঠার জন্য অনেক লম্বা লড়াইয়ের দায়িত্ব নেওয়ার, একাত্মতা গড়ে তোলার দরকার আছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নিয়ম-নীতি সংশোধন করারও দরকার আছে।

যে বিশ্বাসটা এত শোচনীয়ভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, তা খুব সহজে আবার গড়ে উঠবে বলে আমি আর ভরসা রাখতে পারি না।

------ মূল লেখা ঃ https://kafila.online/2017/10/28/from-feminazi-to-savarna-rape-apologi
st-in-24-hours/
থেকে অনুমতিক্রমে অনূদিত।

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: ফেমিনাজি থেকে সাবর্ণ রেপ এপলজিস্ট, ২৪ ঘণ্টায়

ভাল লেখা
Avatar: প্রদোষ ভট্টাচার্য্য

Re: ফেমিনাজি থেকে সাবর্ণ রেপ এপলজিস্ট, ২৪ ঘণ্টায়

তিন অনুবাদককে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
Avatar: Du

Re: ফেমিনাজি থেকে সাবর্ণ রেপ এপলজিস্ট, ২৪ ঘণ্টায়

এই লিস্টি ছাপানোয় দুটো হয়েছে। এক) বিশ্বাসযোগ্যতা তলানীতে, মেয়েরাই বলছে এইসব ধান্দাবাজি। দুই) সত্যি~ই লোকে সুযোগ নিতে ভয় পাবে এর ফলে। আবার এক নম্বর প্রিভেল করলে লজ্জার ভয়্টা চলে গিয়ে সিচুয়েশন্টা সেম হয়ে যাবে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন