গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

শৈবাল দাশগুপ্ত

আগের পর্বে লেখক তাঁর আরএসএসের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের সাথে আলাপচারিতার বিশদ অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন। দ্বিতীয় এবং শেষ পর্বে লিপিবদ্ধ হল আরএসএস পরিচালিত সরস্বতী শিশু মন্দিরের কর্মপরিচালন পদ্ধতির বিষয়ে কথোপকথনের আংশিক অনুলিপি। এই পর্বটি মূল ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছে ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকায়। তাঁদের অনুমতিক্রমে লেখাটির অনুবাদ এবং ছবিগুলি এখানে প্রকাশ করলেন অচল সিকি


আগের পর্বের পর

হিন্দু সংহতি আসলে আরএসএসের বাঁ হাতের নাম

আমি আর কালীদাস ভট্টাচার্য কথা শুরু করলাম। প্রথমে দুজনেই নিজেদের সম্পর্কে দু চার কথা জানালাম, একটা ঘরের দিকে যেতে যেতে। জানলাম, ইনি ১৯৭৭ সাল থেকেই আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত এবং মূলত উত্তরবাংলার শিলিগুড়ি শহরে ইনি প্রচারকের কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এর পরে কোনও একটা কেসে ইনি অভিযুক্ত হন। কী কেস, কী ধরণের অপরাধ, সে বিষয়ে উনি কিছু খোলাখুলি জানালেন না, আর আমিও খুব বেশি চাপ দিলাম না ওঁকে বলবার জন্য, পাছে ওঁর মনে কোনও সন্দেহ তৈরি হয়। উনি শুধু এইটুকু জানালেন যে সে মামলা আজও চলছে। ইনি আপাতত কলকাতার উপকণ্ঠে, হাতিয়াড়ার এই সরস্বতী শিশু মন্দিরের দায়িত্বে আছেন।


কালীদাস ভট্টাচার্য

পরবর্তী এক ঘণ্টায় আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথন চালিয়ে গেলাম, যেগুলো, অন্যদের মতই আমি রেকর্ড করে রেখেছি। পুরো কথোপকথনটা না দিয়ে আমি তার কিছু বিশেষ অংশ এখানে প্রশ্নোত্তরের বিন্যাসে হুবহু তুলে দিলাম।

হিন্দু সংহতি নামে একটা দলের কথা আমি আজকাল খুব শুনি আর দেখতেও পাই যে ওরা খুব জোর গলায় প্রচার করে বেড়ায় যে বাঙালিরা নাকি ভীরু জাতি ...
দ্যাখো, বাঙালিরা জাতি হিসেবে সত্যিই ভীরু প্রকৃতির। ওদের দলের সভাপতি তপন ঘোষকে আমি খুব ভালো করে চিনি। কয়েক বছর আগে, গঙ্গাসাগরে এক মাড়ওয়ারি সোসাইটির গেস্টহাউসে থাকাকালীন, হিন্দু সংহতির কয়েকজন সদস্যের সাথে স্থানীয় মুসলমানদের খুব ঝগড়াঝাঁটি হয়। মুসলমানরা ওদের আক্রমণ করে। সঙ্ঘের লোকেরা তখন তাদের বাঁচায়। কিন্তু সঙ্ঘেরও কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা আছে, সঙ্ঘ সব কিছুতে জড়াতে পারে না। এমনিতে হিন্দু সংহতির মত দলগুলোর দরকার আছে ঠিকই। ওদেরকে (মুসলমানদের) ধরে পেটানো খুবই দরকার। একবার তপনদা আমাকে অনুরোধ করেছিল কয়েকজন হিন্দু সংহতি সদস্যকে আশ্রয় দেবার জন্য। কিন্তু আমি ওদের তাড়িয়ে দিয়েছিলাম, কারণ আমি শুনতে পেয়েছিলাম ওরা সঙ্ঘের নামে খারাপ খারাপ কথা বলছে।

আমার মনে হয় কিছু ভুলভাল লোক সঙ্ঘের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
তোমার কি মনে হয় বিজেপি আর সঙ্ঘে সবাই ভালো লোক? বিজেপি তো দুর্নীতিবাজ লোকজনে ভর্তি। এই পার্টি অনেক ভালোভাবে কাজ করতে পারত কিন্তু সম্প্রতি একগাদা নিচু জাতের লোকজন বিজেপি আর আরএসএসে ঢুকে পড়েছে।

রামকৃষ্ণ মিশনের (বকলমে, সঙ্ঘের) কী বক্তব্য এ ব্যাপারে?
বিবেকানন্দ পশ্চিমী দুনিয়ায় হিন্দুত্বের প্রসার ঘটিয়েছিলেন - কিন্তু অনেক সন্ন্যাসী আছেন যাঁরা তা স্বীকার করতে চান না। তাঁরা মনে করেন তাঁরা হিন্দুত্ববাদের থেকে আলাদা একটা ধর্মীয় গোষ্ঠী। তবে ইদানিং রামকৃষ্ণ মিশনের মধ্যেই একটা দল ধীরে ধীরে হিন্দুত্বে ফিরে আসছেন।

শিশু মন্দিরে শিক্ষকদের কী ভাবে নিয়োগ করা হয়?
তাঁরা পদের জন্য আবেদন করেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তারপরে অনুশীলনে যোগ দিতে হয়। এই অনুশীলন আর সঙ্ঘের বুদ্ধীজীবিদের যে অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, দুটো একই।

এঁরা কি বেতন পান কিছু?
খুব বেশি কিছু নয়, ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা মাসে।

কী ধরণের কোর্স পড়ানো হয় এই স্কুলে?
আমরা সরকার-প্রস্তাবিত সিলেবাস একেবারেই অনুসরণ করি না। আমাদের নিজস্ব বই আছে, নিজস্ব সিলেবাস আছে। আমরা আমাদের বাচ্চাদের সঙ্ঘের মহান ব্যক্তিত্বদের বিষয়ে শেখাই, আর সঙ্ঘে যে যে দিনগুলো উৎসবের মত পালিত হয়, এখানেও সেই সেই উৎসবের দিনগুলো পালন করি।

ইতিহাসের বিতর্কিত বিষয়গুলো আপনারা কীভাবে বাচ্চাদের সামনে তুলে ধরেন - ধরুন বঙ্গে মারাঠা আক্রমণ, যেখানে তারা একাধিক মন্দির লুঠ আর ভাঙচুর করেছিল?
এটা প্রাথমিক স্কুল, চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। সুতরাং, মারাঠা আক্রমণ এখানে পড়ানোর সুযোগই নেই। তবে যাই হোক, সঙ্ঘের বিরুদ্ধে যায়, এমন কিছুই আমরা পড়াই না। বাচ্চাদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে সঙ্ঘ যেটুকু প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, সঙ্ঘ তার থেকে লাভবান হবে, সেটাই কাম্য।

এটা তো মুসলমানদের এলাকা, ওরা কোনও সমস্যা করে না?
না। বড় রাস্তা পর্যন্ত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, কিন্তু এই স্কুলের আশপাশের সমস্ত বাড়ি হিন্দুদের। প্রসঙ্গত, এখানে এক সময়ে কিছু মুসলমান ছাত্রও ছিল, তাদের মধ্যে একজনের আবার মা ছিল হিন্দু। বাচ্চাটা স্কুলের সমস্ত পূজা-প্রকরণে অংশ নিত।

মুসলমানরা জানে এই স্কুল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সাথে যুক্ত?
না। একেবারেই জানে না।

শিক্ষকেরা কি সবাই সঙ্ঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত?
সবাই নয়। কয়েকদিন আগে, মোহন ভাগবতজির শহরে আগমন উপলক্ষ্যে হওয়া একটা অনুষ্ঠানে, একজন শিক্ষক যেতে চাইছিলেন না। কিন্তু আমরা তাঁকে গণবেশ (সঙ্ঘের ইউনিফর্ম) কিনতে বাধ্য করে, মিছিলে যোগদান করিয়েছিলাম।

কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে আমি জানতে পারছিলাম সঙ্ঘ কীভাবে চলে, কী আদর্শে পরিচালিত হয়। এগুলো শোনার পরে আমার যা যা মনে হল, সেগুলো আমি নিচে তালিকাবদ্ধ করে দিলামঃ
  • আরএসএস আর বিজেপি হিন্দু বা হিন্দুত্বের ব্যাপারে একেবারেই মাথা ঘামায় না। তাদের কাছে হিন্দু তাসটা স্রেফ বিজেপির রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
  • জাতিগত এবং জাতগত বৈষম্য সঙ্ঘ পরিবারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে আছে।
  • বিপরীত মত সঙ্ঘ একেবারে বরদাস্ত করে না।
  • স্থানীয় নেতাদের মোটামুটি উঁচু পদ দেওয়া হলেও, সিদ্ধান্ত নেবার মত গুরুত্বপূর্ণ পদ বা ক্ষমতা একমাত্র সঙ্ঘের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে থাকে। ম্যানেজমেন্টের ভাষায় যাকে বলে সম্পূর্ণ 'সেন্ট্রালাইজড সিস্টেম'।
  • শাখাদের আড়ালে সঙ্ঘের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যকে লুকিয়ে রাখা হয়।
  • সঙ্ঘের হিন্দুত্বের আদর্শ আর সাম্প্রদায়িকতার নকশার ব্যাপারে আস্তে আস্তে নতুন সদস্যদের জানানো হয়, ধাপে ধাপে।
  • বিভিন্ন স্তরে সঙ্ঘ তার সদস্যদের নানা রকমের পরীক্ষা নেয়, কেবলমাত্র উত্তীর্ণ সদস্যদেরই তারা বেছে নেয় তাদের সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডা ছড়ানোর কাজে।
  • শাখা যদিও দিনের বেলায় অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু বাছাই করা সঙ্ঘের সদস্যরা প্রতি শনিবার সন্ধ্যেবেলায় আলাদা করে মিলিত হয়, যার সরাসরি দায়িত্বে থাকেন আরএসএস শীর্ষনেতৃত্বের সাথে যুক্ত স্থানীয় কর্মকর্তারা। উত্তর কলকাতার ক্ষেত্রে এই মীটিংটা হয় কেষ্টপুরের একটা বাড়িতে।
  • এই সব মীটিংয়ে, মূলত সাম্প্রদায়িক কাজকর্মের বিষয়সূচী আলোচনা করা হয়, তৈরি করা হয়, নকশা বানানো হয়।
  • সাম্প্রদায়িক হিংসা জনগণের মধ্যে ছড়াবার জন্যে সঙ্ঘ তার পদাধিকারীর ক্রম বা হায়ারার্কি কঠিনভাবে মেনে চলে এবং পুরো ব্যাপারটা সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়।



কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 2 -- 21
Avatar: aranya

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

দুটো পর্বই পড়লাম। সিকি, হ্যাটস অফ, খুবই ভাল কাজ করছ
Avatar: de

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

ভালো কাজ - কিন্তু যেসব লোকেদের ফটো এখানে দেওয়া হচ্চে তা অনুমতিসহকারে কি? নাহলে কিন্তু পরে অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। এমনিতেই এই গোটা আর্টিকলটা নিয়েই আরেসেস মামলা করতে পারে - প্রস্তুত থাকা ভালো!
Avatar: সিকি

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

ওব্বাবা - স্টিং ফাঁস করার সময়ে কি অনুমতি নিয়ে ফাঁস করতে হয় নাকি?

আরেসেস মামলা করবে? করুক না!
Avatar: de

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

ম্যাথু স্যামুয়েলের নামে মামলার কথা ভুলে গেলে?
Avatar: অ্যান্ডালগ্যালর্নিস

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

জানিয়ে করলে আর স্টিং হবে কী করে? রাণা আয়ুব নিজের নামে গেলে গুজরাটের বড় বড় অফিসাররা আসল কথাগুলো বলতো কি আদৌ? বা ম্যাথু আগেই "আমি কিন্তু রেকর্ড করছি" বললে?
Avatar: de

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

তা অবিশ্যি! ঋতব্রতও তো স্টিং করেছিলো ঃ))

স্টিং হোক - মামলাও হবে - আমাদের কি - আমরা তো দর্শক!
Avatar: সিকি

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

হ্যাঁ হ্যাঁ, মামলা হোক। আমি বাদাম্ভাজার দোকান খুলব।
Avatar: দ

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

ভ্যাট! ঋতব্রত আবার স্টিং কোথায় করল? ? স্টিং সিরিয়াস ব্যাপার, কোনও দলের ভেতরের কোঁদল আর খেয়োখেয়ির জন্য কে কার হাঁড়ির খবর কোথায় গিয়ে উগরে আসছে তাকে স্টিং বলে না।

স্টিং মোটামুটি জান হাতে নিয়েই করে। রাণা আয়ুবও তাই করেছিল গুজরাট ফাইলস লেখার জন্য, কেউ চাপতে রাজী হয় নি শেষে নিজেই পাবলিশ করেছে, নিয়মিত রেপ আর খুনের হুমকী পায়। ম্যাথুর বিরুদ্ধে তো ইতিমধ্যেই কেস হয়েছে, কলকাতায় তাকে আনার নানারকম চেষ্টা হয়েছে নারদ মিথ্যে বলেও লাভ হচ্ছে না। শৈবালও ডেফিনিটলি হুমকী পাবেন। কারণ এই অ্যাদ্দিনে মোদী উত্তরাখন্ড না কোথায় একটা ন্যশনাল হেরাল্ডের নাম করে ক্ষোভ উগরেছে। ইন ফ্যক্ট শৈবাল হয়ত অলরেডি হুমকী পেয়েওছেন। না পেলেই অবাক হব।

কিন্তু .... বটম লাইন হল স্টিং অপারেশানে অনুমতি নিলে সেটা হয় "আপনার ছবি তুলতে পারি?" কিন্তু মশাই অপানি অমুক তমুক করেছেন এই মর্মে ছবি ছাপাতে পারি বলে অনুমতি চাইলে চাবি কেউ দেবে এমন আশা না করাই ভাল, সেক্ষেত্রে খুবই কপিবুক স্টাইলে অনুমতি নেওয়া হবে বটে, কিন্তু কাজের কাজ কিস্যু হবে না।

আর হুমকী টুমকী গুরুও কিসু কম পায় নি। নন্দীগ্রাম এপিসোডের সময় আমিই তো ছিঃপিএম সমর্থকদের থেকে বেনামে রেপথ্রেটওলা মেল পেয়েছি গুরুতে লেখার অপরাধে।


Avatar: দ

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

*ছাপতে রাজী হয় নি
*মশাই আপনি অমুক
* ছবি কেউ দেবে
Avatar: AD

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

পড়তে পড়তে আমার শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছিল। এতদিন ধরে এরকম একটা স্কুল চলছে, আর সিপিএম তার খবর রাখে নি? যেখানে আমার বাড়ীতে কজন লোক কবে এসেছে সেটাও লোকাল কমিটিতে রিপর্ট হোত। আর যদি জেনেও থাকে তবে জেনে বুঝেও......। ব্রুটাস তুমিও>>>
Avatar: SS

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

যে কোনো প্রফেশনের মত জার্নালিজমেও কিছু এথিকস আছে। জার্নালিস্টরা কাউকে ইন্টারভিউ করার আগে কোন অংশ 'অন দ্য রেকর্ড' আর 'অফ দ্য রেকর্ড' সেটা ক্লিয়ার করে নেন। সেটা না করা হলে সেটা সিরিয়াস ব্রিচ অফ এথিকস। দুটো পর্বই পড়লাম আর যা বুঝ্লাম এই লেখাটা একটা হিট জব হতে পারে, কিন্তু জার্নালিস্টিক ওয়ার্ক নয়। অবশ্য লেখক প্রথম পর্বেই ডিসক্লেমার দিয়েছেন যে উনি জার্নালিস্ট নন, বই লেখার জন্যে মালমশলা খুঁজছেন।
আর হিট পিস বা স্টিং অপরেশান যাই হোক, তার জন্যেও রিগরাস এডিটোরিয়াল ওভারসাইট দরকার। আমার মনে হয়নি সেই ওভারসাইট এতে ছিল। মানে কোনো স্টিং অপারেশান করার আগে এডিটর, পাবলিশার, লইয়ার প্রত্যেকে পুরো ব্যাপারটা খুঁটিয়ে দেখে তবে স্টিং অপারেশানের অনুমতি দেন। আই মে বি রং, কিন্তু আমার যা মনে হয়েছে, লেখক কিছু তথ্য জোগাড় করেছেন। এবার এডিটরের কাছে গিয়ে প্রকাশ করলেন আর তা ছাপা হয়ে গেল। এরকম হলে আমার এডিটরের রোল নিয়েও প্রশ্ন আছে। ঠিক মত ফ্যাক্ট চেক করা হয়েছে কি? কে করল? ইন ফ্যাক্ট, এই পদ্ধতিতে স্টিং অপারেশন করলে কোনো মেনস্ট্রিম কাগজ, যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, তারা এই পিস ছাপবে না।

আর দেখা গেছে স্টিং অপারেশান যতই ইন্টারেস্টিং মনে হোক না কেন, লং টার্মে খুব একটা কাজ দেয় না। এন্ড্স ডু নট জাস্টিফাই দ্য মিনস। সেই জন্যে ঠিক ঠাক নিউজপেপারে খুব একটা স্টিং অপারেশান দেখা যায় না। রেয়ারলি, যেখানে হয়ত অনেক লোকের জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন কি ন্যাশনাল সিকিওরিটি জড়িত, সেই সব ক্ষেত্রেই স্টিং অপারেশান করা হয়।
Avatar: SS

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

ভারতে স্টিং অপারেশান নিয়ে লেখা খুঁজছিলাম - হিন্দুতে পাবলিশ হওয়া এই লেখাটা পেলাম -
http://www.thehindu.com/opinion/Readers-Editor/the-dilemmas-of-sting-j
ournalism/article5463068.ece


এই আর্টিকল থেকে -

Does The Hindu prohibit its journalists from indulging in sting operations? How does it respond to stories emanating from sting? Is there a written policy to deal with this increasing practice that has consumed a section of the media? Acknowledging the moral dilemma and the ethical quagmire posed by sting journalism, Editor-in-Chief N. Ravi explained three issues that influence the editorial judgment of this newspaper.

First is the difficulty in verifying the authenticity and factual accuracy of material gathered by an editorial process of which the paper has little knowledge, much less any control. Second, in his view, sting operations involving some deception could be used only when justified by an overwhelming public interest involving such questions as prevention of crime, some grave risk to the public, preventing people from being misled by public personalities, and so on. Thirdly, he felt that the drastic lengths to which one can go in conducting a sting operation — some forms of enticement including payments of money and dubious hospitality — would seem to vitiate the operation. He said: “For instance, waving money in someone’s face to test his integrity is to be seen as entrapment, and there are specific guidelines even in the case of traps set by law enforcement agencies in the case of corruption — they can only become part of an existing tendency to corrupt practices, they cannot initiate one where it does not exist.”
Avatar: Pathak

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

অনেক আশা করে হতাশ হলাম । RSSএর স্কুলে হিন্দুত্ব শেখায় বা বিজেপিতে বাঙালিবিদ্বেষ আছে - এগুল কি এমন নতুন খবর? আর মাস্টাররা ইউনিফর্ম পরে মিছিলে যাচ্ছে অথচ কেউ জানে না সঙ্ঘের স্কুল - এটাই বা কেমন? সব মাস্টার ত ইচ্ছুকো না। ওই সাধুসন্ন্যাসির ফেক প্রোফাইলগুল রিপোর্ট করা উচিৎ। বাংলার জন্যে বিজেপির যে অনেক গোপন প্ল্যানের কথা বলেছিলেন, সেগুল লিখলে পারতেন। যাইহোক, চেষ্টাটা ভাল।
Avatar: ABC

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

লেখাটা ন্যাশনাল হেরাল্ড এ বেরিয়েছে দেখলাম যেন। ওটার মেজর স্টেকহোল্ডার দেড় মধ্যে তো রাহুল আর সোনিয়া গান্ধী আছেন শুনেছি । লেখাটায় কিরকম একটা গন্ধ বেরোচ্ছে ।
Avatar: সিকি

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

নাকে চাপা দিয়ে পড়ে ফেলুন।
Avatar: Sudipta Nandy

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

Advut lekha. Amar mone hoy RSS er Bangla vidyes protistha korar pechane je somoy lekhok apochoy korechen, sei somoy Bangalir itihas orthat jeguli Bangali ra hoy jane na athoba vule gachen jemon Deshbhag ba Durvikher boli hoechilen je Bangalira, tar pichone ekti scientific research korte parten. Bangalir kichu upokar hoto tate. Aar sottikotha bolte, bartaman bangali ba bengal er ja poristhiti prothome marxism aar bortomane didiism er kole pore, eta jodi sottyi RSS er dristivongi hoy (Bangali ke nichu nozor e dekha) tate aschorjer kichu nei. Je jati nijer gourav moy itihaas vule sudhu petty Rajneeti sorbosyo hoye benche thake tader sthan emniteo vobisyoter astakunre chara aar kothao hote pare na.
Avatar: দ

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

^ আপনি একটু কষ্ট করে বাংলায় লিখলে পড়তে পারি আর কি। এত বড় বাংলিশ পড়তে চোখ ব্যথা করে, ফলে কাটিয়ে দিতে হয়।
Avatar: b

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

নন্দীবাবুকে সাপোর্ট করলাম। দেখুন

"আমাদের সেনা যুদ্ধ করেছে সজ্জিত চতুরঙ্গে
দশাননজয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহের সঙ্গে"

আর সেই বাঙালী এখন দুর্গাপূজোর সময় এগরোল খায়। এতটা দুরবস্থা ভাবা যায়?


Avatar: dc

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

আমার তো দুর্গাপুজোর সময়ে পাঁটা না হলে চলেই না। নবমীর রাতে কটা লুচি আর একটু কষা করে পাঁটার মাংস, দিনের বেলা খানিকটা কাবাব, এসব খেয়ে বাঙালির গর্বের ইতিহাস স্মরন করি আর হেউ করে ঢেকুর তুলি।
Avatar: Herald

Re: হিন্দুত্বের রঙ গেরুয়া - আর সেই গেরুয়া রঙের আড়ালে বাংলায় আরএসএসের কীর্তিকলাপ (দ্বিতীয় পর্ব)

কেন আপনি জানেননা ওঁয়ারা এই ন্যাশনাল হেরাল্ড কেসে ফেঁসে আপাততঃ জামিনে ছাড়া পেয়ে আছেন। যে টাকাগুলো মেরেছিলেন সেগুলো এভাবে ছড়াচ্ছেন। আর কুড়িয়ে নেওয়ার লোকেরও যে অভাব নেই সেতো বুঝতেই পারছেন ঃ)

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 2 -- 21


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন